সামির ফোনে আরিয়ানকে বলল, এবার ঈদে আমরা মুন্সিগঞ্জ যাব। ওখানে আমার বান্ধবী মউ থাকে। ওর বাসায় উঠবো।
আরিয়ান বলল, একটা মানুষের বাসায় গেলে তো খালি হাতে যাওয়া যায় না। ১হাজার টাকার মিষ্টি ও দই নিয়ে যাব।
সামির বলল, আচ্ছা। তুই ৫শ টাকা দিস।
আরিয়ান বলল, আমি টাকা দিতে পারব না। আমার বান্ধুবীর বাসায় গেলে দিতাম। যেহেতু তোর বান্ধবী তুই সব খরচ দিবি।
হঠাৎ সামির এর পাশ থেকে সামিরের দোকান এর কর্মচারী রিসাদ বলল, ভাই আপনারা কই যান? আমিও যাব।
সামির বলল, আচ্ছা। বুঝলি আরিয়ান। রিসাদ কাজ পারে না। আমার কাপড়ের দোকানে নতুন ছেলে রাখসি রিসাদ। সালায় ফাঁকি বাজ। খালি ফোনে মুভি দেখে আর কাস্টমারের সাথে কথা বলতে পারে না।
আরিয়ান বলল, বাদ দে। এখন বল কবে যাবি মুন্সিগঞ্জ?
সামির বলল, এবারের ঈদেই চল।
আরিয়ান বলল, আচ্ছা। ঠিক আছে।
২য় ঈদের দিন সামির, আরিয়ান, রিসাদ মিলে ঢাকা থেকে বাসে করে চলে গেল মুন্সিগন্জ।
বাস থেকে নেমে সামির মউকে কল করলো। টু টু রিং হচ্ছে ফোন ধরছে না। এদিকে গরমে ঘামছে তারা ৩জন।
আরিয়ান বিরক্ত হয়ে বলল, আমি আগেই জানতাম এসব ফেসবুকের ফ্রেন্ড বলবো দেখা করো। যখন তুই লোকেশনে আসবি দেখবি ফোন ধরে না।
তখনই মউ ফোন ধরে ওপাশ থেকে হ্যালো বলল।
সামির ঈশারায় আরিয়ানকে চুপ থাকতে বললো।
সামির বলল, আমরা তো এখন মুন্সিগঞ্জের। এটা কই? ওই যে সাইনবোর্ডে লেখা *** এই জায়গাতে আছি।তুমি কই?
ফোনের ওপাশ থেকে মউ বলল, এখন একটা অটোরিকশায় উঠো। ওখান থেকে ১০টাকা ভাড়া আমাদের বাসার সামনে নামাবে। চেয়ারম্যান বাড়ি বললেই একনামে চিনে।
সামির বলল, আচ্ছা। ঠিক আছে।
ফোন কেটে সামির বলল, চল অটোতে উঠি। চেয়ারম্যান বাড়ি।
আরিয়ান বলল, দই মিষ্টি কে কিনবো?হু।
তারা মিষ্টির দোকান থেকে ৫কেজি দই, ও ৫ কেজি মিষ্টি কিনলো। তারপর অটোরিকশা করে তারা ৩ জন চেয়ারম্যান বাড়ি পৌছাল।
আরিয়ান অবাক হয়ে বলল, এই গ্রামে ২তলা পাকাবাড়ি জাস্ট ওয়াও।
রিসাদ বলল, চেয়ারম্যান বাড়ি বলে কথা। নাইস।
তখনই ঘরের ভেতর থেকে লুঙ্গি পড়া মোটা একলোক বের হয় আসলো। উনার হাতে চাপাতি।
রিসাদ ভয়ে বলল, ভাই দেখ চাপাতি নিয়ে আসতাসে। আমি ভেতরে ঢুকব না। তোরাই যা।
লোকটা চাপাতি হাতে তাদের সামনে এগিয়ে এসে হাসিমুখে বলল, আপনারাই তাহলে মেহমান? আমি মউয়ের বাবা। যান ভেতরে যান। আপনাদের জন্য গাছ থেকে ডাব পারব তো তাই হাতে চাপাতি।
নার্ভাস গলায় সামির বলল, ও আচ্ছা।
তারপর মউয়ের বাবা ডাব গাছ থেকে নামাতে গেল। আর তারা ঘরে ঢুকলো।
মউ টিভিতে গান চালু করলো। রবীন্দ্রনাথ এর গান, মম চিত্তে কে যে নাচে তা তা থৈ থৈ।
মউ নৃত্য করছে এমন সময় তার ঘরে আসলেন তার মা (আসমা)।
আসমা বললেন, তোর বন্ধুরা এসে পড়েছে ওইরুমে বসে আছে।
টিভি বন্ধ করে দিল মউ।
মউ বলল, তুমি যাও আমি আসতেসি।
আরিয়ান খাটে বসে বলল, ঘরটা ভালোই। দেখ বালিশটা কত নরম।
সামির বলল, রাখ বালিশ। এটা মউয়ের বালিশ।
রিসাদ খাটে বসে মোবাইল টিপসে।
রিসাদ বলল, আমারে তো একটা মেয়েও পছন্দ করে না। মউয়ের লগে প্রেম করাই দে।
সামির বলল, তুই আমার খাওয়া মাল কেন খাবি?
রিসাদ বলল, খাওয়া মাল তো কি হইসে? সমস্যা নাই।বন্ধুদের মুখেরটা খাওয়া যায়।
আরিয়ান বলল, তুই ওরে কবে খাইলি সামির?
সামির বলল, ঢাকা গেছিল। তখন ওরে ধানমন্ডি ঘুরি বাইক দিয়ে। তখন হোস্টেলে নিয়ে খাই।
৩টা গ্লাসে করে ডাবের সরবত নিয়ে হাজির হলেন আসমা বেগম।
রিসাদ বলল, আরে আন্টি আপনার কষ্ট করার কি দরকার ছিল?
তারপর গ্লাস হাতে নিয়ে নিজেই আগে খাওয়া শুরু করলো।
এরকম সময় দরজার কাছে মউ এসে দাড়ালো। আরিয়ান দেখলো চোখে কাজল দিয়েছে মউ।
আরিয়ান সামিরের কানে কানে বলল, ভাই। অনেক হট লাগসে ওরে।
সামির বিরক্ত হয়ে বলল, হায়রে। তুই ও ওরে নজর দিতাসোস।
আসমা পেছনে তাকিয়ে নিজের মেয়েকে দেখে বললেন, যাও মউ নিজের ঘরে যাও।
সামিরের তাকিয়ে মুচকি হাসি দিয়ে মউ চলে গেল।
রাতেরবেলা বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে গেছে। ঘড়িয়ে ২টা বাজে। সামির মউয়ের সাথে ফোনে কথা বলছে। আর আরিয়ান ও রিসাদ ঘুমাচ্ছে।
সামির বলল, আরে। তুমি আমাদের রুমে আসো।
মউ বলল, না। আব্বু আম্মু দেখলে মাইর দিব।
সামির বলল, আরে কিছু হবে না। তুমি একবার আসো। না হলে বলো আমি আসতাসি।
মউ বলল, ঠিক আছে। তুমি আসো রুমে।
সামির বলল, ওয়েট।
তারপর ফোন কেটে দিল। সামির আরিয়ান কে ডাক দিল, এই ভাই ওঠ। চল ওর রুমে।
ঘুমের ঘোরে আরিয়ান বলল, কি হইসে ঘুমাতে দে।
এদিকে ঘুমের ঘোরে রিসাদ বলসে, মউ আরেকটু কাছে আসো উম্মাহ। আহ। উহ।
সামির রেগে বলল, সালা লুইচ্চা।
তারপর এদিক ওদিক তাকালো। টেবিল এর ওপর দেখলো পানির জগ। সেটা নিয়ে ঢেলে দিল রিসাদের ওপর।
ভয় পেয়ে লাফ মেরে উঠলো রিসাদ।
রিসাদ চিৎকার দিয়ে বলল, ও মাগো ভুত ভুত।
রিসাদের গালে থাপ্পড় দিয়ে মুখ চেপে ধরে সামির।।সামির বলে, চুপ। ভুত না আমি। চিল্লালে সবাই জেগে যাবে।
আরিয়ান তখন জেগে খাটে বসে বলল, তোগো চিল্লাচিল্লিতে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেছে।
তাদের পাশের রুমে বসে গল্প করছিল মউয়ের বাবা (বরকত) ও তার মা।
বরকত বলল, শুনলে চিৎকার করলো?
আসমা বলল, হয়তো ব্যথা পাইসে। ওদের ছেলেদের কাজকাম সুবিধার না। একটা আরেকটার শরীরে যেভাবে ঘষাঘষি করে। ছিঃ।
বরকত বললেন, আমি ভাবতেসি যে ঘরে তো গহনা আছে। ওরা কি গহনা চুরি করতে আসছে?
আসমা বলল, গহনার চেয়ে দামী জিনিস আছে তোমার মেয়ে। দেখো ওরে চুরি করে কি না।
বরকত বললেন, তাই তো এভাবে তো ভেবে দেখিনি। দাড়াও দাদার বন্দুকটা বের করি। তুমি ঘুমায় যাও। আজ রাতে আমি পাহারা দিব।
আসমা বলল, আইচ্ছা।
এবার তাদের পাশের রুমে মউ। মউ আয়নায় নিজেকে দেখে তারপর একটা লাল নাইটি ড্রেস পড়ে নিল। সামিরের অপেক্ষা করছে সে। তবে সামির এখনও আসছে না কেন?
এদিকে সামির রিসাদের শার্টের কলার ধরে বলল, তুই ঘুমের মধ্যে কেন মউ মউ করিস?
লজ্জা পেয়ে রিসাদ বলে, আরে ভাই ভুল হইসে মাফ করে দে।
এদিকে আরিয়ান নিজের মতো একটা সিগারেট ধরায়।
সামির এবার আরিয়ান এর দিকে তাকায় বলে, আর তুই আরিয়ান।
আরিয়ান অবাক হয়ে বলে, আমি আবার কি করলাম?
সামির বলল, বিছানায় বসে সিগারেট খাস? জানালা খোল। সব ছাই জানালা দিয়ে বাইরে ফেলবি। আমার গার্লফ্রেন্ড এর বাসা আমি যা বলবো তাই হবে। ওকে?
রিসাদ বলে, ওকে।
ভয়ে আরিয়ান জানালা খুলে দিল।
তখনই পাশের রুম থেকে লোহার দরজা খোলার শব্দ পেলেন বরকত মিয়া।
বরকত বললেন, শব্দ পাইলা? কে যেন সাদের গেট খুললো। স্পষ্ট শব্দ পেলাম। মনে হয় চোর ঢুকছে বাসায়।
আসমা ঠোঁট বাকিয়ে বললেন, এত ভয় পান কেন? আপনার কাছে তো বন্দুক আছে। চোর আসলে গুলি করবেন।
ভয়ে হাত কাপ'ছে বরকত এর। কারন বরকত বন্দুক চালাতে জানে না।
এদিকে সাদের ওপর চোর খোকা তখন সবেমাত্র দড়ি বেয়ে সাদে উঠেছে। খোকা সরিষার তেল মাখাচ্ছে পুরো শরীরে। খোকা মনে মনে বলল, ঘরে শান্তি নাই। বউ বলে ভা না দিলে যাইব যা। কেন যে চোর হলাম। এখন রাতের বেলা বের হইসি চুরি করতে। আফসোস। বউয়ের জন্য চোর আমি।
তারপর পায়ে তেল মাখতে থাকে খোকা। তারপর লুঙ্গি কোমড়ে পেচায়। তার হাটু দেখা যায়। সাদের লোহার দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে সাবধানে। আর তখনই শব্দ হয় লোহার গেটে। ক্যাচ ক্যাচ ক্যাচ।
সামির মউয়ের দরজার সামনে দাড়ালো। দরজা খুলতে যাবে তখনই তাকে পেছন থেকে ডাক দিল বরকত মিয়া।
বরকত মিয়া অবাক হয়ে বললেন, এতো রাতে তুমি মউয়ের ঘরের সামনে কি করো?
সামির পেছন ফিরে তাকায়। ভয়ে তার গলা শুকিযে আসে। এখন সামির কি জবাব দিবে?
চোর খোকা সাদের দরজা খুলে সিড়ি বেয়ে নিচে নামলো। তার হাতে জুতা। জুতা খুলে পায়ে নিয়েছে যাতে হাটার শব্দ না আসে। সিড়ির একেবারে নিচে আসতেই কথার শব্দে থমকে দাড়ায় খোকা। আস্তে করে জুতা নামিয়ে পড়ে নেয় পায়ে। তারপর দেয়ারের চিপা দিকে উকি দিয়ে দেখে বরকত ও সামির কথা বলছে। বরকত এর লুঙ্গির পেছনে একটা বন্দুক। ভয়ে খোকা ঢেউক গিলল।
সামির বলল, আ আমি আসলে হিসু করতে যাচ্ছি।
বরকত অবাক হয়ে বললেন, কিন্তু টয়লেট তো বাইরে।
সামির বলল, ও ভুলে গেছিলাম।
বরকত এর চোখে সন্দেহ দূর হয় না। উনি বুঝে যান সামির ও মউয়ের মধ্যে কিছু চলছে। এদিকে সামির ভাবছে, উনাকে বোকা বানালাম।
ঘরের ভেতর থেকে এসব কথা শুনে মউ। তাড়াতাড়ি করে নাইট ড্রেস পাল্টে একটা থ্রি পিছ পড়ে নেয়।
সামির অসহায় হয়ে বাড়ির বাইরে যায়। তারপর কলাগাছের সামনে দাড়ায়। এমন ভান করে হিসু করছে। পেছনে তাকিয়ে দেখে যে বরকত কি দেখছে কি না।
বরকত মউয়ের দরজার কাছে চেচিয়ে বলেন, রাত হইসে ঘুমা।
মউ চুপ করে থাকে। কোন উত্তর দেয় না। বরকত বাইরের লাইট অফ করে দেন। পুরো বাড়ি এক নীরবতায় ডুবে যায়। খোকাকে দেখা যায় আবার সাদে উঠে এসেছে। এখানে দাড়িয়ে আকাশে তাকালো ভাবলো চলে যাবে কি না। আকাশে আজকে পূর্ণিমার চাদ। সেই চাদ দেখে বিড়ি খাচ্ছে খোকা। খোকা মনে মনে বলল, কেন যে চোর হলাম।লাইফটাই নষ্ট। কেউ বিয়ে করবেন না। বিয়ে করলেও চোর হবেন।
এদিকে ঘরের ভেতর রিসাদ আরিয়ানকে বলল, ভাই আমার হিসু ধরছে।
আরিয়ান বলল, তো আমি কি করব?
রিসাদ বলল, আমার ভয় লাগে। একটু বাইরে আসো।
আরিয়ান বলল, জানালা খোলা আছে। নুনু বের করে হিসু করে দাও।
রিসাদ বলল, দূর ভাই। চলেন বাইরে যাই।
সামির হিসু করে সাদে চোখ যেতেই দেখলো কালো কুচকুচে এক ছায়ামানব সিগারেট টানসে। সামির বলল, এটা আবার কি?
তখনই নিচে থাকা খোকার নজর পড়লো সামিরের দিকে। খোকার হাত থেকে সিগারেট পড়ে গেল মাটিতে। সামির দৌড়ে বাড়িতে প্রবেশ করে সিড়ি বেয়ে উপড়ে উঠলো। খোকা সিড়ির গেট বন্ধ করে দিল। তারপর লুঙ্গি উচু করে ২য় তলা থেকে ঘাষের ওপর লাফ দিল। এই দৌড়ে জঙ্গলে ঢুকে গেল। সামির সিড়ির মেইন গেটে এসে দেখলো বাইরে থেকে লাগানো। সামির বলল, শিট চোর ধরতে পারলাম না।
এদিকে মউ দেখলো বাইরে থেকে চুপচাপ। মউ বুঝলো তার বাবা ঘরে চলে গেছে। তাই আস্তে করে দরজা খুললো।
রিসাদ তখন একাই বের হয়েছে হিসু করতে। অন্ধকারে মউ রিসাদকে সামির ভেবে ঈশারায় ডাক দিল। রিসাদ খুশি হয়ে গুটিগুটি পায়ে মউয়ের এর ঘরে ঢুকে গেল।।মউ দরজা লাগিয়ে দিল।
খোকা এখনও পালায়নি। খোকা ভাবছে ঘরে বউ না খেয়ে আছে জঙ্গলে দাড়িয়ে থাকলে চলবে না। ১ঘন্টা পর সবাই ঘুমিয়ে গেলে আবার প্রবেশ করতে হবে।
এদিকে ঘরের ভেতর থেকে বরকত মিয়া মউয়ের দরজা খোলার শব্দ ও লাগানোর শব্দ পেলেন। উনার সন্দেহ হলো তাই বাইরে বের হয়ে লাইট জ্বালালেন। তখনই সিড়ি বেয়ে সামির নিচে নামলো। উনি সামিরকে দেখে সস্তি পেলেন। তার মানে সামির মউয়ের ঘরে ঢুকেনি। হয়তো মউ এমনেই দরজা খুলেছিল।
এদিকে আরিয়ান স্বপ্নে দেখলো একটা অজগর সাপ তাকে গিয়ে খাচ্ছে। ভয়ে আরিয়ান এর ঘুম ভেঙ্গে গেল। জোরে জোরে নিঃশ্বাস ফেলতে লাগলো।
অন্ধকারে ঘরে মউ রিসাদের ঠোঁটে চুমু দিল। তারপর তার শার্ট খুলে ফেলল। রিসাদ জীবনে কখনও চুমু দেয়নি। তাই তার কেমন যেন অন্যরকম অনুভব হচ্ছ। রিসাদ ডান হাত দিয়ে মউয়ের স্তন চেপে ধরলো জামার ওপর।
এদিকে বরকত সন্দেহের নজরে সামিরকে বলল, তুমি সিড়িতে দাড়িয়ে আছো কেন?
সামির বলল, এই বাড়িতে চোর আসছে। এইমাত্র সাদে আমি ধরতে গেলাম। বাইরে থেকে আটকানো। তাই ধরতে পারলাম না।
বরকত মনে মনে বললেন, চোর তো তোমরা ৩ বন্ধু। সেটা আমি ভালো করেই জানি।
মুখে বরকত বললেন, চোর আসলেও সমস্যা নাই।
তারপর কোমড়ের পেছন থেকে পিস্তল বের করে দেখলেন। পিস্তল দেখে সামিরের গলা শুকিয়ে গেল।
বরকত বললেন, এটা আমার দাদার পিস্তল। এটা দিয়ে কত পাখি মেরেছেন। এটা দিয়ে চোরকে গুলি করব।
তারপর পিস্তলে একটা চুমু দেন বরকত।
বরকত বলেন, রাত হয়েছে। ঘুমিয়ে পড়ো।
সামির ঘরে এসে দেখে ঝিম মেরে মুর্তির মতো খাটে বসে আছে আরিয়ান।
সামির বলল, কি হইসে?
আরিয়ান গম্ভীর হয়ে বলে, একটা ভয়ানক স্বপ্ন দেখসি।
সামির বলল, স্বপ্নের কথা বাদ দে। এই চেয়ারম্যান বাড়িতে চোর ঢুকসে। রিসাদ কই?
আরিয়ান বলল, রিসাদ হিসু করতে গেসে।
সামির বলল, আমি তো বাইরে ছিলাম আমার সাথে দেখা হলো না। কতক্ষন হইসে গেছে?
আরিয়ান বলল, ১০/১৫ মিনিট হবে।
সামির ভাবলো রিসাদের মনে হয় বিপদ হয়েছে চোর তাকে কিছু একটা করেছে। তাই দৌড়ে বাড়ির বাইরে আসলো। কোথায়ও রিয়াদ নাই। চারিদিকে অন্ধকার ঝিঝি পোকার ডাক ছাড়া কিছু শোনা গেল না।
দৌড়ে ঘরে এসে সামির অস্থির হয়ে বলল, রিসাদ তো বাইরেও নাই।
আরিয়ান বলল, আমি কি করব?
সামির বলল, চোর হয়তো ওরে মেরে ফেলসে নয়তো কোন বিপদ হইসে। কেন যে ওরে নিসে আসলাম৷ সব আমার দোষ।
আরিয়ান বলল, এতো অস্থির হচ্ছিস কেন? আমরা কি ১০০% সিওর যে চোর ওকে মেরে ফেলসে?
সামির বলল, তাহলে তুই বল কি হইসে? তোর তো অনেক লজিক।
আরিয়ান একটা সিগারেট ধরিয়ে বলল, আমার মতে, রিসাদ হিসু করতে গেছে বাইরে থাকা কলাগাছ এর সামনে। তারপর শাকশুন্নি ভুত এসে ওরে নিয়ে গেছে।
সামির বলল, হোয়াট দা ফাক৷ এসব গল্প না। বাস্তবে ফিরে আয়। রিসাদকে খুজতে হবে। নয়ত ওর মা আমাকে মেরে ফেলবো। বলবো আমার ছেলেকে নিয়ে গুম করে ফেলসে।
আরিয়ান মন খারাপ করে বলল, যার কাছে আমার স্বপ্নের দাম নাই। তার হেল্প করি না আমি।
সামির বলল, বুঝসি তুই রাগ করসোস। আচ্ছা ক কি হইসে?
এদিকে জঙ্গলে গাছের পেছনে বসে আছে খোকা। এখান থেকে পুরো চেয়ারম্যান বাড়ি দেখা যায়। মশার কামড় খেয়ে খোকা ভাবছে, ঘরে বউ আছে৷ ৬মাসের বাচ্চা শিশু আছে। খালি হাতে ফেরা যাবে না ঘরে। বাচ্চার দুধের টাকা টা হলেও চুরি করতে হবে না হলে আমার বাচ্চা না খেয়ে মরবে।
বাচ্চার কথা মনে পড়তেই খোকার ভেতরে সাহস আসে আবার চুরি করার পরিকল্পনা করে।
সামির বরকত এর দরজায় টোকা দিতেই দরজা খুলে দেয়।
বরকত বিরক্ত হয়ে বলে, কি হইসে?
সামির বলে, রিসাদকে পাওয়া যাচ্ছে না। ওর মনে হয় কিছু হইসে।
বরকত বলে, এক মিনিট।
তারপর বরকত ২টা টর্চলাইট নেয় কারন রিসাদকে জঙ্গলে খুজতে যাবে।
বরকত বলে, চলো যাই।
সামির বলল, আমি আরিয়ানকে বলি আমাদের সাথে যেতে।
তাই বলে সামির ঘরে আরিয়ানকে ডাক দিতে যায়। তখনই বরকত এর নজর পড়ে মউয়ের ঘরের দিকে। কেমন যেন শব্দ হচ্ছে থাপ্পড় মারার শব্দ হচ্ছে। বরকত মউয়ের দরজার থাপ্পড় দেয়।
তখন মউ চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে তার শরীরের ওপরে রিসাদ। শব্দ শুনে মউ রিসাদকে সড়িয়ে উঠে বসে। মউ বলে, তুমি খাটের তলায় লুকায়।
রিসাদ বলে, আচ্ছা।
তখনই মউয়ের মাথা ঘুরিয়ে যায়। মউ অবাক হয় এটা তো সামিরের কন্ঠ না। এদিকে জামা প্যন্ট নিয়ে রিসাদ খাটের তলায় ঢুকে। মউ তাড়াতাড়ি জামা পড়ে। তবে মনের সন্দেহ দূর হয় না।
দরজার বাইরে বরকত বলে, কিরে এতো সময় লাগে কেন? তাড়াতাড়ি দরজা খোল।
মউ বলে, দাড়াও।
জামা পড়ে ঘরের লাইট অন করে মউ দরজা খুলে দেয়। তার চুলগুলো এলোমেলো। চেহারা ঘামে ভেজা।
বরকত বলেন, কিরে ঘামাচ্ছিস কেন?
মউ এর গলা শুকিয়ে আছে ভয়ে।
মউ বলে, ঘরে ঘুম গরম তাই।
বরকত বলে, রিসাদকে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমি, সামির, আরিয়ান তাকে বাইরে খুজতে যাচ্ছি। অপরিচিত কেউ এলে দরজা খুলবি না।
কপালের ঘাম মুছে মউ বলে, আচ্ছা।
তারপর দরজা ছিটকিনি লাগিয়ে ধীরে ধীরে খাটের কাছে যায়। খাটের নিচে উকি দিতেই থমকে দুপা পেছায়। চোখে ভয় নিয়ে মউ বলে, এটা হতে পারে না। রিসাদ তুৃমি আমার ঘরে।
রিসাদ বলে, তুমি ই আমাকে ঘরে ডাক দিলা।
মউ বিরক্ত হয়ে বলে, আমি অন্ধকারে ভাবছি তুমি সামির।
রিসাদ বলে, তো এটা কি আমার দোষ? খালি আমারে দোষ দেয় সবাই।
মউ বুঝে না এখন সে কি করবে? মউ বলে, খাটের নিচ থেকে বের হও। যা হওয়ার হইসে কাউকে বলার দরকার নাই।
রিসাদ অভিমানে বলে, আমার কি ঠেকা পড়ছে সবাইকে বলে বেড়াবো।
মউ বলে, আল্লাহ কথা বুঝে না খালি কথার প্যাচ ধরে। আমার প্লান ছিল সামিরের সাথে কট খাব। তারপর বিয়ে করে ঢাকায় যাবো। সব প্লান ফেইল।
তারপর কপালে হাত দিয়ে খাটে বসে মউ। খাটের নিচ থেকে বের হয়ে আসে রিসাদ।
রিসাদ বলে, তো এখন আমাকে বিয়ে করো।
মউ বলে, দূর। পাগল নাকি। আব্বু আমাদের ব্যপার জানলে তোমাকে কোপাইয়া মারবো।
রিসাদ বলে, আর সামিরের সময় কি ওরে ছাইড়া দিত।
মউ জোরে নিঃশ্বাস ছেড়ে বলে, দূর ভাল্লাগে না তর্ক করতে। এখন আমাকেই মাথা ঠান্ডা রেখে ভাবতে হবে কিভাবে পরিস্থিতি সামলানো যায়।
এদিকে জঙ্গলে থাকা খোকা অবাক হয়ে দেখে বরকত, সামির ও আরিয়ান তারা ৩জন মেইন রাস্তা দিয়ে দৌড়াচ্ছে। সামির চেচাচ্ছে, রিসাদ রিসাদ কই তুই?
তারা ৩জন মেইন বাড়ি হতে অনেক দূর চলে গেছে। এটাই চুরির আসল সময়। তাই মেইন গেট দিয়ে ঘরে ঢুকে খোকা।
এরকম সময় রিসাদ মউয়ের দরজা খুলে বাইরে আসে। আর তার সরাসরি চোখাচোখি হয় খোকার সাথে।
রিসাদ অবাক হয়ে বলে, আপনি কে?
খোকার ঠোঁটের কোনায় মুচকি হাসি। খোকা দৌড়ে এসে রিসাদের ঘাড়ে একটা ঘুষি মারে। রিসাদ অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। খোকা মউয়ের ঘরের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে।
দেখে মউ শুয়ে আছে বিছানায়। আস্তে আস্তে মউয়ের কাছে এসে খোকা তার বাম হাত দিয়ে মউয়ের চুপ চেপে ধরে।
হঠাৎ আসা বিপদে মউ চোখ খুলে দেখে খোকা তার পেটের ওপর বসে আছে। খোকা ঠোঁটে আঙুল দিয়ে মউকে চুপ থাকতে বলসে।
চোর খোকা মউয়ের পেটের ওপর বসে কোমড় থেকে ছুড়ি বের করে মউয়ের গলায় ধরে আছে। ভয়ে মউ ঘামছে। ভয়টা তাকে খুন করবে সেটা না। এটা এক অজানা ভয় যে তার সাথে খুব খারাপ কিছু হবে। তবে সেটা কি সে নিজেও জানে না।
খোকা ফিসফিস করে বলল, চুপ কথা বললে গলা কেটে ফেলব। আমি কারো ক্ষতি করতে আসিনি। আমার ৬মাসের বাচ্চা ৩দিন ধরে দুধ পায় না। সেই টাকা জোগার করতে আসছি। তুই আমাকে হেল্প কর। বল এই বাসায় টাকা কোথায়? আমি তোর মুখের ওপর থেকে হাত সরাচ্ছি উত্তর দে। চিল্লালে গলা কাটবো।
এদিকে ঘুষি খেয়ে মাটিয়ে পড়ে থাকা রিসাদ এর জ্ঞান ফিরে। চোখ খুলে তাকায় সবকিছু ঝাপছা দেখে শরীর তুলতে যায় যেন অবশ হয়ে গেছে। রিসাদ দেখে খোকা মউয়ের পেটের ওপর বসে আছে।
রিসাদের খুব পানির পিপাসা পায়। রিসাদ যে চেচাবে সেই শক্তিও নেই। যেন গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।
খোকা আস্তে করে মউয়ের মুখের ওপর থেকে হাত সড়ায়।
মউ ফিসফিসিয়ে বলে, আমার ঘরে আলমারীতে শুধু ১হাজার টাকা আছে। আম্মুর ঘরে আলমারীতে কিছু সন্নের গলার হার, ও টাকা আছে। আর চাবি আম্মুর কাছে।
খোকার ঠোঁটের কোনায় হাসি। মউয়ের ওড়না দিয়ে মউয়ের মুখ বেধে ফেলে। মউকে গলায় ছুড়ি ধরে আলমারীর কাছে আনে। একহাতে ছুড়ি আরেক হাত দিয়ে আলমারী খুলে খোকা। সেখানে জামার ভেতর থেকে একটা পাজামা দিয়ে মউয়ের দু'হাত পেছনে নিয়ে বেধে ফেলে।
তারপর মউকে কোলে করে খাটে শুইয়ে দেয় খোকা। তার উদ্দেশ্য এখন পাশের ঘর থেকে আলমারীর গহনা ও টাকা চুরি করা। তখনই তার নজরে পড়ে দরজার কাছে রিসাদ গলায় হাত দিয়ে বসে আছে। জোরে জোরে নিঃশ্বাস ফেলছে। খোকার মাথায় একটা আইডিয়া আসে।
ছুড়ি হাতে খোকা রিসাদের কাছে আসে। রিসাদ কোন মতে বলে, একটু পানি খাব।
এদিকে তারা ৩জন গ্রামের অনেক পথ হেটে গিয়েও রিসাদকে পেল না। একটা টিনের ঘরের সামনে থামলো। ঘরের ভেতর থেকে ৬মাসের বাচ্চার কান্নার শব্দ হচ্ছে।
বরকত বললেন, কই তোমার বন্ধু রিসাদকে তো পাওয়া যাচ্ছে না।
সামির বলল, সব দোষ আরিয়ানের ছেলেটা ভীতু বলেছিল একটা হিসু করতে ভয় পায়। তোর উচিত ছিল ওর সাথে যাওয়া।
আরিয়ান গম্ভীর হয়ে বলে, আমি বুঝতে পারছি তোর মাথা গরম তাই আমাকে দোষ দিচ্ছিস। তোর জায়গায় আমি হলেও এমনই বলতাম। তবে এখন ঝগড়া না করে সমাধান করি।
তারা ৩জন শুনলো টিনের ঘর থেকে কথা ভেসে আছে। বাচ্চার মা বলল, তোর বাবা তো কাজে গেছে। এখন তোর দুধের টাকা কই পাব? আর এতরাতে কার কাছে দুধ আনতে যাব। প্রতিবেশি আকরামরা তো ফ্রিতে গরুর দুধ দিবে না।
সামির বলল, শুনলি কিছু?
আরিয়ান একটা সিগারেট ধরিয়ে বলল, দুনিয়া খুব নিষ্ঠুর একটা ৬মাসের শিশু না খেয়ে আসে তাতে আমরা কি করব?
বরকত বলল, আমার বাবা চেয়ারম্যান ছিল। তো উনি প্রতিরাতে বের হতেন নিজ গ্রামের মানুষদের দুঃখকষ্ট দেখে হেল্প করতেন।
আরিয়ান বললেন, আপনি কি সেই ৬মাসের শিশুকে হেল্প করতে চান?
বরকত বলল, হ্যা। লাইফে কখনও ভালো কাজ করেছি কি না জানি না। তবে আজ কেন জানি ইচ্ছা হচ্ছে।
তারা ৩জন সেই টিনের ঘরের দরজার টোকা দিতেই খোকার বউ মরিয়ম দরজা খুলে দিল। শাড়ি পড়া একটা মেয়ে ঘোমটা দিয়ে আছে কোলে ৬মাসের শিশু।
মরিয়ম বলল, আমার স্বামী বাড়িত নাই। আপনারা দিনে আইসেন।
মরিয়ম ভেবেছিল হয়তো তার স্বামীর কোন পাওয়াদার এতোরাতে টাকা নিতে আসছে।
বরকত বলল, আমি কোন পাওনাদার নই। আমি সাহায্য করতে আসছি।
তারপর বরকত লুঙ্গি থেকে মানিব্যাগ বের করলো। সেখানে সব ৫০০, হাজার টাকার নোট। আরিয়ান উকি মেরে মেরে গোনার চেষ্টা করলো কত টাকা পারলো না। আরিয়ান ভাবলো এইলোক কি সবসময় মানিব্যাগ নিয়ে ঘুরে এর কি চোরের ভয় নাই। নাকি নিজের গ্রাম বলে?
বরকত ৫হাজার টাকা মরিয়ম এর হাতে ধরিয়ে দিল। ভেবেছিল টাকা নিবে না।
মরিয়ম টাকা নিয়ে বলল, আপনি আমার অনেক উপকার করলেন ভাই। আমার বাচ্চা ৩দিন ধরে না খেয়ে আছে। আল্লাহ হয়তো আপনাদের কে ফেরেশতা হিসেবে পাঠিয়েছেন।
এদিকে খোকার হাতে পানির গ্লাস তার হাত কাপছে ভয়ে। কখন তারা ৩ জন ফিরে আসে আবার।
খোকা পানির গ্লাস এগিয়ে রিসাদকে বলল, নে পানি খা।
রিসাদ পানি খাচ্ছে। খোকা ভয়ে বলল, এবার চল।
পানি খাওয়া শেষে রিসাদের গলায় ছুড়ি ধরলো খোকা। তারপর তাকে মউয়ের মায়ের দরজার সামনে আনলো।
খোকা বলল, আমার কন্ঠ শুনলে দরজা খুলবে না। তুই বল বিপদ হয়েছে বাইরে বের হন। তাহলে দরজা খুলবে আর আমি ভেতরে চুরি করব। কারো ক্ষতি করব না।
রিসাদ দরজায় টোকা দিয়ে বলল, আন্টি গেট খুলেন আংকেল এর বিপদ হয়েছে।
ঘুৃম থেকে উঠে দরজা খুললেন মউয়ের মা। যখন দেখলেন খোকা রিসাদের গলায় ছুড়ি ধরে আছে। তখনই বুঝলেন এটা চোর। তাই খোকাকে একটা লাথি দিলেন। লাথি খেয়ে খোকা রিসাদকে ছেড়ে পড়ে গেল মাটিতে। তার ছুড়িও মাটিতে পড়লো।
মউয়ের মা খোকাকে শায়েস্তা করার জন্য এগিয়ে গিয়ে বসে থাকা খোকার চুল টেনে ধরলেন। ঘুষি মারতে যাবেন খোকার মুখে। তখনই খোকা মাটি থেকে ছুড়ি নিয়ে মউয়ের মায়ের পেটে ঢুকিয়ে দিলেন।
চারিদিক হঠাৎ চুপ হয়ে গেল। রিসাদ অবাক হয়ে দেখল ভীতু তাই কিছু করছে না৷ বাইরে ঝিঝির ডাক ও শোনা গেল না। যেন প্রকৃতি এক নীরবতা পালন করছে। রিসাদ দেখলো টপ টপ করে পেট থেকে রক্ত বের হচ্ছে মউয়ের মায়ের। তার মাথা খানিকটা চক্করও দিল। রক্ত দেখে তার অভ্যাস নেই।
এদিকে খোকার বউকে ৫হাজার টাকা দেওয়ার পর বরকত খোকার ৬মাসের শীশুর মাথায় বুলিয়ে এবার বিদায় নিলেন। তারা ৩জন এবার বাসার দিকে রওনা হলেন। তারা জানে না এটা চোরের বউ আর বাড়িতে কি হচ্ছে। সেটাও অজানা।
খোকার চাকু থেকে রক্তের ফোটা পড়ছে। খোকার মনে ভয় নাকি তার বিবেক নাড়া দিল সেটা বোঝা গেল না। মউয়ের মা পেটে হাত দিয়ে মাটিতে বসে পড়লেন। রক্তক্ষরণ হচ্ছে এটা দেখে রিসাদ ওনার পাশে বসলো।
মউয়ের মা কি যেন বলতে চান। তবে প্রচন্ড ব্যথায় উনি কথা বলতে পারছেন না।
খোকা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে নিজেকে শান্ত করে। খোকা রিসাদকে রক্তমাখা চাকু দেখিয়ে বলে, তুই উঠে দাড়া। ঘরের ভেতর দেখ কত টাকা আছে। সব এনে দে আমায়।
রিসাদ রাগি কান্নাভরা চোখে তাকায়। তার চোখ দেখে খোকার হাতটা একটু কাঁপতে থাকে। তবে রিসাদ নিজেকে বলে, সে খুনি হতে পারে। তবে আমি তো খুনি না। আমি একটা ভদ্রঘরের ছেলে। কখনও মারামারি ও করি না। এখানে আরিয়ান ও সামির থাকলে ভালো হতো। তারা কোথায়?
এদিকে মউ বিছানায় গড়াগড়ি করে চেষ্টা করে নিজের হাতের ও মুখের বাধন খুলতে তবে ব্যর্থ হচ্ছে।
এদিকে ৩জন বাড়ির দিকে রওনা দিল।
বরকত বললেন, খুব ভালোলাগসে। মনটা কেমন শান্ত লাগছে। প্রথমবার কারো হেল্প করলাম। আসলে মানুষের উচিত সবার হেল্প করা।
আরিয়ান একটা সিগারেট ধরালো।
সামির বলল, ভাই এতো সিগারেট খাস কেন? একটার পর একটা সিগারেট ধরাস। আমাকে দেখ আমি একটাও সিগারেট খাই না সব ছেড়ে ভালো হয়ে গেছি।
আরিয়ান বলল, তুই ছেড়ে দিসোস ভালো। এর মানে এই না আমাকেও ছেড়ে দিতে হবে। এটা আমার ব্যক্তিগত ব্যপার নাক গলাস কেন?
সামির বলল, ঠিক আছে অর্ধেক সিগারেট টানার পর আমাকে দিস।
বরকত মনে মনে বললেন, এসব ঢাকার পোলাপান রা বড়দের সম্মান করে না। আমি তাদের কত সিনিয়র আমার সামনে সিগারেট খায়। মন চায় থাপ্পড় মেরে দাত খুলে ফেলি। তবে মেহমান তাই কিছু বলি না।
আরিয়ান বলল, আমরা যে আপনার সামনে সিগারেট খাই। আপনি কি মাইন্ড করেন আংকেল?
বরকত মনে মনে বলল, আরিয়ান আমার মনের কথা জানলো কিভাবে?
বরকত বলল, এখনকার যুগে সবাই ফ্রি মাইন্ডের খাও তোমরা নো পবলেম।
আরিয়ান অর্ধেক সিগারেট সামিরকে দিল।
সামির বলল, আপনি কখনও প্রেম করেছেন?
বরকত মনে মনে গালি দিল। মুখে বলল, আরে না। আমাদের এড়িয়াটা ধার্মিক এখানে প্রেম করে না। সবাই বিয়ের পর প্রেম করে।
সামির বলল, তবে আমি অনেক প্রেম করছি অনেক মেয়েকে খেয়ে দিসি। এখন এসব ভালোলাগে না। ঠিক না আরিয়ান?
আরিয়ান জবাব দিল না।
বরকত কেন জানি এখন আর সামিরকে পছন্দ করছে না। এমনকি কথাও বলছে না। উনি আরিয়ান এর ব্যপারে খোঁজখবর নিলেন প্রশ্ন করে। আরিয়ান বুঝলো না কেন হঠাৎ তার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে উনি?
___(>>><[[__>
বালিশের নিচ থেকে চাবি নিয়ে আলমারী খুললো রিসাদ। রিসাদ টাকা ও গহনা বের করে একটা ব্যগে ভরছে সব ১০০,২০০ টাকার নোটের বান্ডিল।
রিসাদ বলল, আন্টিকে হাসপাতালে নিতে হবে না হলে উনি মারা যেতে পারে।
খোকা বলল, উনি আমাকে আক্রমন করছে নয়তো কখনই আমি ছুড়ি মারতাম না।
রিসাদ চোখে জল নিয়ে বলল, আপনি কেন ছুড়ি মারলেন?
তারপর দু'হাত দিয়ে খোকাকে ধাক্কা দিল।
খোকা বলল, তুই বুঝিস না? নিজে বাচার জন্য এটা করেছি। আমার জায়গায় তুই হলে বুঝতি জীবন কত কষ্ট। আমার ৬মাসের বাচ্চার জন্য করছি।
রিসাদ বলল, চুরি না করে চাকরী করলেও তো পারেন?
খোকা রেগে বলল, আমি চাকরীর জন্য সবার দুয়ারে ঘুরেছি।।কেউ আমাকে কাজ দেয় না। কারন আমি নাকি চোর। এই সমাজ আমাকে চোর বানাইসে। সবাই চায় সুন্দর জীবন।
এরকম জানালা দিয়ে বাইরে চোখ পড়লো খোকার। মেইন রাস্তায় ৩জন আসছে। খোকা মনে মনে বলল, তার মানে ওরা ৩জন ফিরে আসছে।
খোকা বলল, তাড়াতাড়ি ব্যাগটা দে আমাকে পালাতে হবে।
গহনা ও টাকা ভরা ব্যাগ এর চেইন লাগালো রিসাদ। তারপর মাটি থেকে ব্যাগটা তুলেই খোকার মুখের ওপর সজোরে আঘাত করলো রিসাদ। খোকা হঠাৎ আক্রমনে ছিটকে গিয়ে খাটের ওপর পড়ে। তার হাত থেকে চাকু মাটিতে পড়ে। ধপাস করে চাকুটা হাতে তুলে নেয় রিয়াদ। রিসাদের হাতে চাকু তবে খোকা দেখলো তার হাত কাপছে।
রিসাদ অশ্রুভরা চোখে আবেগি হয়ে বলল, খাটের ওপর থেকে উঠলে চাকু মেরে দিব।
খোকার ঠোঁটে হাসি।
খোকা বলল, আমি জানি তুই কখনও চাকু চালাসনি। আমাকে ভালোই ভালো যেতে দে আমি কারো ক্ষতি করব না।
পাশের রুমে মউ স্টিলের সাথে হাতের কাপড়ের বাধনটা ঘষতে ঘষতে খুলে ফেলে। তারপর মউ নিজের মুখের বাধন খুলেও ফেলে।
মউ নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে দেখে ওর হাতেও ঘষে লেগে খানিকটা চামড়া উঠে লাল হয়ে আছে।
খোকা খাট উঠে রিসাদ এর হাতে থাকা চাকুতে বুক ঠেকায়।
খোকা বলে, আমার ৬মাসের শিশুর কসম আমাকে মেরে ফেল। নয়তো যেতে দে বাসায়। আমার বউ বাচ্চা অপেক্ষা করছে।
মউ হাতের বাধন খুলে ঘর থেকে বের হলো। দরজার কাছে দেখলো তার মা পেটে হাত দিয়ে বসে আছে। মউ দৌড়ে গেল তার মায়ের কাছে। তার মা নিশ্বাস ফেলছে জোরে জোরে।
মউ তার মায়ের ঘরে তাকিয়ে দেখলো রক্তমাখা ছুড়ি হাতে রিসাদ বসে আছে।
মউ একটু সন্দেহ নিয়ে রিসাদ এর কাছে এগিয়ে গেল।
রিসাদ খাট থেকে উঠে আবেগী হয়ে মউকে জড়িয়ে ধরলো আর কান্না করতে লাগলো।
রিসাদ বলল, আমি আন্টিকে বাচাতে পারলাম না। আমি একটা অপদার্থ। আমি চোরকে মারতে পারলাম না। আমার সামনে ছিল আমি তাকে ছেড়ে দিসি। এখন সে চলে গেছে।
মউ রিসাদের মাথায় হাত বুলিয়ে বাচ্চাদের মতো আদর করে বলে, কোন সমস্যা নাই। সব ঠিক হয়ে যাবে।
মউয়েরও মন খারাপ। তবে সে অনেক শক্ত মেয়ে, সহজে ভেঙ্গে পড়লেও বুঝতে দেয় না।
এমন সময় ঘরে প্রবেশ করলো আরিয়ান, সামির ও বরকত।
সামির দেখলো মউয়ের মা মাটিতে বসে আছে পেটে হাত দিয়ে জোরে জোরে নিঃশ্বাস ফেলছে। সামির দৌড়ে এসে অস্হির হয়ে বলে, আয় হায়। কি হইসে আন্টি। কেউ ৯৯৯ এ কল দে।
আরিয়ান ৯৯৯ এ কল দিল। এম্বুলেন্স এসে পড়লো ৩০ মিনিটের মধ্যে। একটা এম্বুলেন্স খাটে করে মউয়ের মাকে তোলা হলো এম্বুলেন্সে। তখনও ফজরের আজান দিচ্ছে। চারিদিকে পাখির কিচিরমিচির শব্দ। ভোর হতে শুরু করেছে।
ড্রাইভার বরকতকে বললেন, এম্বুলেন্সে শুধু ২জন রোগীর সাথে যেতে পারবেন। বাকিরা হেটে অথবা অন্য গাড়িতে আসুন।
বরকত বললেন, আমি আর আরিয়ান এম্বুলেন্সে যাই। তোমরা ৩জন ভোর হলে অটোতে করে হাসপাতালে এসো।
তারপর এম্বুলেন্সে উঠে পড়লেন আরিয়ান ও বরকত।
এদিকে খোকা বাড়িতে ফিরে এসে দেখে দরজা খোলা। ঘরে ঢুকে কাধে থেকে চুরি করা ব্যাগ মাটিতে রাখে। খাটে তার বাচ্চার মুখে ফিটার দুধ খাচ্ছে। খোকা তার বাচ্চাকে কোলে নেয়। তখন খোকার বাচ্চা খোকার আঙুল ধরে ফেলে আর হাসে। তখনই ঘরে তার বউ মরিয়ম এসে হাজির।
খোকা বলল, দুধ কেনার টাকা পাইলা কই?
মরিয়ম বলল, রাতে এক ভদ্রলোক এসে ৫হাজার টাকা দিয়ে গেছে।
খোকার তখন সন্দেহ হয়। বাচ্চাটাকে কোলের থেকে নামিয়ে আবার খাটে শুইয়ে দেয় খোকা। হঠাৎ খোকা রেগে যায় তার দু হাত মুস্তিবদ্ধ করে ফেলে। ভয়ে মরিয়ম এর চোখ বড় বড় হয়ে যায়।
খোকা বলে, কোন ছেলের সাথে শুয়েছিস রাতে? এটা হারামের টাকা না হলে কে তোকে এতো টাকা দিল? ফ্রিতে কেন দিবে এতোগুলো টাকা?
মরিয়ম বুঝে এখন সত্য বললেও তার স্বামী বিশ্বাস করবে না। তবু কেঁদে মরিয়ম খোকার পা ধরে বলে, বিশ্বাস করেন আমাকে।
খোকা মরিয়ম এর চুলের মুঠি ধরে তারপর সব কিছু নিরবতা। তার বাচ্চা হঠাৎ চিৎকার দিয়ে কান্না করতে থাকে। হয়তো নিজের বাবা-মায়ের ঝগড়ার প্রতিবাদ করছে। তবে কান্নার শব্দ তার বাবা মায়ের কানে পৌছায় না। খোকা যে এখন আর কারো বাবা না, স্বামী না। এক নরপিশাচে রুপ নিয়েছে।
এম্বুলেন্স চলছে বরকত তার ওয়াইফ এর হাত শক্ত করে ধরে আছে।
বরকত বললেন, এইরকম পরিস্থিতি হবে কখনও কল্পনাও করিনি। তবে হয়তো এটাই আল্লাহর পরীক্ষা। এরকম পরিস্থিতিতে তোমাকে একটা কথা বলতে চাই। জানি বলা উচিত না।
আরিয়ান ভাবলো তাকে আবার কি বলতে চায়?
বরকত আরিয়ান এর হাটুতে হাত রেখে বলল, তোমাকে আমার ভালোলাগসে। ফ্যমিলি বেকগ্রাউন্ড ভালো। আমি চাই তুমি আমার মেয়ে মউকে বিয়ে করো।
আরিয়ান একটু ঢেউক গিলল। মনে মনে বলল, এইটা কোন কথা। আর কোন ছেলে পেল না।।শেষমেশ আমাকে বিয়ে করতে হবে মউকে? এইটা কোন কথা?
আরিয়ান কি বলবে ভেবে পেল না।
বরকত বিষয়টা বুঝলেন। বরকত বললেন, তুমি হয়তো ভাবছো আমি ঠাট্টা করছি বা হঠাৎ এসবে আমার মাথা খারাপ হয়েছে। আসলে না, মেয়ে বড় হয়েছে এখন তো বিয়ে দিতে হবে। আর গ্রামের ছেলেগুলো এতো স্মার্ট না৷ বুঝতেই তো পারো।
আরিয়ান বলল, আমি ই কেন? সামির বা রিসাদ কেন নয়?
বরকত বলল, সামির? ও একশটা মেয়ের সাথে রাত কাটিয়েছে আবার সেটা নিজের মুখে বললো। আমার মেয়েকে হয়তো পছন্দ করে। তবে কোথায় কি বলতে হয় সেটা জানে না। ওভারস্মার্ট। আর রিসাদ তো বেকুব ওর সামনে চোর ছিল হাতে ছুড়ি। ওর উচিত ছিল চোরকে খুন করা। পরে বিচার নালিশ আমি নিজে করতাম। এরকম বেকুব কখনও আমার মেয়ের জামাই হওয়ার যোগ্য না।
আরিয়ান বলল, আমিও তো জানি না কোথায় কি বলতে হয়। আমিও তো বেকুব এর মতো কাজ করেছি আপনার সামনে সিগারেট খাই।
বরকত বলল, তোমার বিষয়টা আলাদা। তুমি একটু চুপচাপ শান্ত টাইপের ছেলে গম্ভীরতা আছে। এজন্য ভালোলাগে।
হাসপাতালে এম্বুলেন্স পৌছে গেল। আকাশ পুরো পরিষ্কার। চারিদিক অন্ধকার কাটিয়ে এখন পরিষ্কার আলো হয়ে উঠেছে।
আরিয়ান ও বরকত এম্বুলেন্স থেকে নামলেন।
বরকত কে দেখা গেল হাসিখুশি ওনার ওয়াইফের ছুড়ি লেগেছে এতে উনার চিন্তিত থাকার কথা।
বরকত বললেন, ওরা এম্বুলেন্স নিয়ে যাক অপারেশন করুক। আমরা দুজন চলো চা খাই।
আরিয়ান বুঝলো না এই লোকটা কি পাগল? উনার ওয়াইফ অসুস্থ উনি চা খাওয়ার কথা বলসে? নাকি এখনই আমাকে জামাই ভাবা শুরু করছে তাই জামাই আদর করছে? তবে আরিয়ান তো বিয়ে করতে চায় না। ভদ্রতার খাতিরে এটা বলতেও পারছে না।
হাসপাতালের নিচে চায়ের দোকানে চা খাচ্ছে আরিয়ান ও বরকত।
বরকত দোকানদারকে বলল, একটা সিগারেট দেন তো। কি সিগারেট খাও আরিয়ান?
আরিয়ান বুঝলো না এখন আবার সিগারেট খাওয়াতে চাচ্ছে। উনার মতলব কি?
আরিয়ান বলল, আমার কাছে সিগারেট আছে লাগবে না।
তবুও বরকত একটা সিগারেট কিনে আরিয়ান এর ঠোঁটে দিয়ে গ্যাসলাইট দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিল।
এখনও আরিয়ান কনফিউজড আছে। এই লোকটার মতলব কী?
বরকত চা শেষ করে বললেন, ভালো লাগলো সকালবেলার চা খাই না। আজ তোমার জন্য খাওয়া হলো বুঝলে?
এদিকে সারারাত ঘুমায়নি আরিয়ান। তাই অপারেশন রুমের বাইরে চেয়ারে বসে কখন যে তার চোখ লেগে আসলো তা সে নিজেও জানে না।
আরিয়ান ঘুম ভাঙ্গলো সকাল ১১টায়। ফোন বের করে দেখে সামির ২০টা মিস কল দিয়েছে। আরিয়ান কল বেক করলো।
ওপাশ থেকে সামির বলল, কই তুই কল ধরোস না কেন?
আরিয়ান বলল, কথা বুঝা যায় না। তুই কি গাড়িতে? এখনও হাসপাতালে পৌছাস নাই কেন?
সামির বলে, আরে আমরা ৩জন রিসাদ, আমি আর মউ তো হাসপাতালে না ঢাকায় যাচ্ছি।
আরিয়ান অবাক হয়ে বলল, ঢাকায় যাচ্ছিস কেন হঠাৎ। আমি হাসপাতালে কি করি?
সামির বলল, আবারও ভুলার নাটক করতাসোস? মজা কম ল। তাড়াতাড়ি হাসপাতাল থেকে বের হ। ঢাকার দিকে রওনা দে।
আরিয়ান বলল, কিন্তু কেন? কি হইসে? সেটা তো বলবি?
সামির বলল, আমি আর মউ পালিয়ে বিয়ে করছি।
আরিয়ান বলল, হোয়াট। কিন্তু কেন? তুই না বললি তুই ওরে লাভ করোস না হ্যন ত্যন। এখন হঠাৎ কি হলো?
সামির বলল, এটা মুখে বলসি বাট অন্তরে আমার শুধু মউ মউ করে।
তারপর সামির তার পাশে বসা মউয়ের কপালে একটা চুমু দিল। তাদের বাস ঢাকার দিকে যাচ্ছে। সিটের পেছন থেকে রিসাদ হেসে বলল, বিয়ের আগেই চুমাচুমি শুরু হয়ে গেছে বাহ ভাই তোমাদের ই দিন। ফোন টা দাও আমি আরিয়ান এর লগে কথা কমু।
সামির রিসাদকে ফোন দিল।
রিসাদ একেবারে বাসের পেছনের সিটে এসে পড়লো।
রিসাদ বলল, সামির তো মউকে বিয়ে করতাসে। তবে আমি গতরাতেই মউকে খাইয়া দিসি। এইটা সামির জানে না।
আরিয়ান অবাক হয়ে বলল, কেমনে কি হলো? তারপর তুমি রাতে মউয়ের ঘরে ছিলে। আর আমরা সারা পৃথিবী খুজেও পাইনি। এতো বড় কাহিনি আর আমরা কিছুই জানি না।
রিসাদ হেসে বলল, বিয়ের পর যখন সামির কাজে বাইরে যাবে। তখন আমি মউয়ের সাথে উলুলু করবো।
আরিয়ান এর মাথা হ্যাং হয়ে যাচ্ছে। কোন মতে আরিয়ান বলল, এখন আমি কি করব?
রিসাদ বলল, বরকত মিয়া জানার আগে পালিয়ে যাও হাসপাতাল থেকে। উনি যদি জানে উনার মেয়ে নিজে সামির পালাইসে তাহলে তোমার খবর আছে। আচ্ছা বায় ঢাকা গিয়ে কল দিব। আর জামাই রাজা হচ্ছে সামির। হাহাহাহা।
ফোন কাটার পর পেছন থেকে বরকত বললেন, কার সাথে কথা বলছিলে আরিয়ান?
আরিয়ান বলল, আহ। বাসার থেকে কল দিসিলো আব্বু।
বরকত বললেন, ও আচ্ছা সামিরকে কল করে বলো এখনও আসছে না কেন? কতক্ষণ লাগবে? ওরা কি গাড়ি পাচ্ছে না।
আরিয়ান মনে মনে বলল, শিয়ালের কাছে মুরগি রেখে আসছেন। শিয়াল তো মুরগি নিয়ে পালাইসে।
বরকত বললেন, হ্যা। কল দাও।
আরিয়ান বলল, ফোনে টাকা শেষ। ওয়েট টাকা ভরে কল দেই।
এই বাহানায় আরিয়ান হাসপাতালের থেকে বের হয়। তারপর পেছনে তাকিয়ে দেখে বরকত আসছে কি না। না বরকত নাই। তারপর একটা অটোতে উঠে বাসস্ট্যান্ডে আসে। তারপর বাসে উঠে পড়ে।
তবে বাস এখনও ছাড়তে না। পুরো সিট ভরে গেলে বাস ছেড়ে দিবে। কি হবে যদি এখন হঠাৎ বরকত এসে তাকে বাসে দেখে ফেলে।
এদিকে বরকতের খানিকটা সন্দেহ হয় আরিয়ান এর ওপর। তাই তার প্রতিবেশি বাড়িতে কল দেয় খোজ করার জন্য। তার প্রতিবেশি ভাবী বলে, আপনার মেয়ে আর ২ টা পোলা দেখলাম অটোতে করে কই গেছে তাও আরো ৩ঘন্টা আগে বের হইসে ওরা।
বরকত এর চোখ বড় বড় হয়ে যায়। উনি পুরো ব্যপারটা বুঝে যায়। উনি রাগে দাত দাঁত চেপে ধরে। হাতে থাকা বাটন ফোনটা এতো শক্ত করে চাপ দিতে থাকে যে একটা সময় ভেঙ্গে যায় ফোন।
(সমাপ্ত)
#জামাই_রাজা
#সম্পূর্ণ_গল্প
#রুদ্র_সিয়াম
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন