সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

যৌদ্ধা (থ্রিলার গল্প) রুদ্র সিয়াম

 

খালতো বোন নুসাইবা কল করে বলল, নানী মারা গেছে। তুই কই তাড়াতাড়ি আয়।

রিয়াদ তখন ঘুমাচ্ছি। এই মৃত্যুর সংবাদ শুনে তার ঘুম চলে গেল৷ চাদরের ভেতর থেকে বের হয়ে কালো শার্ট ও কালো জুতো পড়ে নিল। ঘড়ির দিকে একনজর তাকিয়ে দেখলো দুপুর ১টা বাজে। উবারে বাইক ভাড়া করলো তাড়াতাড়ি যেতে হবে তাই। অনলাইন কাজের জন্য রিয়াদ শুরু ল্যপটপ টা নিল আর কিছু না। আর তার প্রিয় গান শোনার জন্য ব্লুটুথ এয়ারফোন।

১ঘন্টায় বাইক রিয়াদের গ্রামে এসে পৌছায়। রিয়াদ পকেট থেকে সেন্টার ফ্রেশ বের করে চিবুতে থাকে। চোখে সানগ্লাস পড়ে নেয়। কারন রাত জাগতে জাগতে চোখের নিচে কালি পড়ে গেছে।

গেটের কাছে আসতেই কান্নায় ভিড় পড়ে গেল। রিয়াদের ২ খালা ও তাদের ছেলেমেয়েরা কাদছে। ২খালার দুইছেলের নাম ইরান ও মকবুল। দুজনই ১ বছরের বড় ছোট। আর রিয়াদের মা ছোটবেলায় মারা যায়। তারপর আর রিয়াদ গ্রামে আসেনি। আজ ২০বছর পর আসলো।

রিয়াদ তার নানীর লাশের সামনে দাড়ালো। দূর থেকে তাকে ইরান ও মকবুল দেখে ফেলল।

ইরান বলল, দেখ রিয়াদ আসছে৷ ওর উদ্দেশ্য এখন নানীর জায়গার ভাগ নিবে। ওকে আজ রাতেই বেহেশতে পাঠিয়ে দিতে হবে।

মকবুল বলল, কোন সমস্যা নাই। রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে যাবে। তখনই একটা গামছা আর মাংস কাটার চাপাতি নিব। প্রথমে গামছা নিয়ে ওর গলায় ফাঁস দিব। তারপর ওকে মেরে চাপাতি দিয়ে কেটে বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে দিব। দরকার হলে পরে পুলিশকে টাকা খাওয়াবো।

ইরান এগিয়ে গেল রিয়াদের দিকে। ইরান বলল, ভালো আসিস ভাই। এতো বছর পর আবার দেখা। যেহেতু এসেছিস ২দিন থেকে যা।

রিয়াদ বলল, অবশ্যই। অনেক হিসাব নিকাশ বাকি আছে।

হিসাবের কথা শুনে ইরানের মুখ মলিন হয়ে যায়। ইরান ভাবে এখানে হয়তো রিয়াদ জায়গা জমিন হিসাব করার কথা ভাবছে।

ইরান বলে, তুই কি জায়গা জমিন এর কথা বললি?

রিয়াদ মজা করে বলে, হ্যা। আম্মুর ভাগের জায়গা আমার চাই। এজন্যই আমি আসছি দরকার হলে রক্ত দিয়ে হলেও এই জায়গায় ভাগ ছাড়বো না।

গ্রামের ছেলে ইরান রিয়াদের কথা গভীরতা বুঝে না বরন্চ আরো সিরিয়াস হয়ে যায় রিয়াদের ব্যপারে।

ইরান ভেতরে সিরিয়াস হলেও বাইরে নরমাল থেকে বলে, এই জামাকাপড় চেন্জ করে নে। গোসল করে লুঙ্গি পড়ে জানাজায় চল।

রিদায় বলে, অবশ্যই।

রাত ২টা বাজে। সারাদিন মানসিক ভাবে টায়ার্ড রিয়াদ। তাই এখন ল্যপটব রেখে বিছানায় শুয়ে পড়েছে। তখনই লক্ষ্য করলো দরজায় বাইরে কার যেন ছায়া। সঙ্গে সঙ্গে রিয়াদ সতর্ক হয়ে গেল। খাটের নিচের থেকে হাত দিয়ে দেখে নিল রিয়াদ কুড়াল আছে কি না। দেখলো হ্যা আছে। একটু নিশ্চিত হলো রিয়াদ।

এদিকে দরজার বাইরে চাপাতি ও গামছা হাতে ফিসফিস করে কথা বলছে তুই ভাই ইরান ও মকবুল৷

ইরান বলল, রিয়াদ এখনও ঘুমায়নি। আরেকটু অপেক্ষা করি।

মকবুল বলল, তুমি হুদাই ভয় পাও। ও যে চিকন আমি একাই ওরে শক্তিতে হারাই দিব।

ইরান বলল, শুনেছি রিয়াদ নাকি নেশাপানি করে। যারা নেশাপানি করে তাদের কৃত্রিম শক্তি থাকে। আরেকটা কথা শত্রুকে কখনও দুর্বল ভাববি না।

মকবুল বলে, আচ্ছা ভাই।

রিয়াদ বিছানা থেকে উঠে বসে। তার ব্লুটুথ ইয়ারফোনটা নেয় কানে গুজে সেখানে গান প্লে করে। তারপর খাটের নিচ থেকে কুড়াল হাতে নিয়ে বসে৷

এদিকে আজকের আবহাওয়া ভালো নয়। প্রচুর বিজলী চমকাচ্ছে বৃষ্টি আশার পূর্বাভাস।

রিয়াদ তার পকেট থেকে ইয়াবার পোটলা বের করে ১০টা ইয়াবা সেখানে। ডেইলি মিল্ক চকলেট এর প্যকেট খুলে চকলেট টা ফেলে দেয় ডাস্টবিনে। তারপর প্যকেটটা জিহ্বা দিয়ে সরু করে ছিড়ে ফেলে।

চকলেট এর প্যকেট দিয়ে ফুয়েল বানায়। সেটার ওপর একটা ইয়াবা ট্যবলেট রাখে। ১০০টাকার কচকচা নোট দিয়ে রিয়াদ বাশি বানায়। এবার ফুয়েলের এর নিচে আগুন ধরতেই ইয়াবা ট্যবলেট গলে ধোয়া বের হয়। তখন সেই বাশি ঠোটে দিয়ে সেই ধোয়া মুখ দিয়ে ভেতরে নিচ্ছে রিয়াদ। তখনই রিয়াদের অতীতের একটা ঘটনা মনে পড়ে।।যেটা তার মাথায় ঘুরতেই থাকে। তাকে গাগল বানিয়ে দেয়। যেই ঘটনা ভুলতে রিয়াদ নেশা করছে।

(ঘটনাটি হলো। তখন ২০২৩ সাল।  সৌদী আরব থেকে রিয়াদ ও ইসাক। ইসাক তার ছোটবেলার বন্ধু। দুজনে আর্মি ট্রেইনিং নিয়ে রাশিয়া চলে যায় যুদ্ধ করতে। এর আগে কখনও তারা যুদ্ধ করেনি। সেখানে এক রাশিয়ান মেয়েকে রিয়াদ পছন্দ করে তারপর বিয়ে করে। কিন্তু একদিন রিয়াদ দেখে ইসহাক ও তার রাশিয়ান বউ একই কম্বলের নিচে শুয়ে আছে। এরপর রিয়াদ বাংলাদেশ চলে আসে আর এই ঘটনা ভুলার জন্য সবাই কে বলে বেড়ায় ইসহাক যুদ্ধে মারা গেছে গুলি খেয়ে)

এদিকে দরজার বাইরে বসে আছে মকবুল ও ইরান।

ইরান বলল, আকাশের অবস্থা ভালো না। বৃষ্টি আসবে। সকাল হওয়ার আগেই রিয়াদকে মেরে ফেলতে হবে।

মকবুল বলে, ভাইয়া। তুমি শুধু ওরে ধরবা আমি ওর গলায় গামছা পেচিয়ে মারবো।

মকবুল হলুদ গামছা দেখিয়ে বলল, এটা আমার বিয়ের হলুদের গামছা।

ইরান বিরক্ত হয়ে বলল, জানি। এই চাপাতিটা রাখ। আমি হিসু করে আসি।

ইরান মকবুলের হাতে চাপাতি দিয়ে হিসু করতে চলে যায় গাছের সামনে।

১টা ইয়াবা খাওয়ার পর। যখন আরেকটা ইয়াবা খাবে তখনই রিয়াদের ফোনে নুসাইবার কল আসলো। কানে যেহেতু ব্লুটুথ হেডফোন তাই কল রিসিভ করতে অসুবিধা হলো না।

নুসাইবা বলল, তুই যে গ্রামে আসলি আমার সাথে দেখা করলি না কেন?

রিয়াদ কোন উত্তর দিল না। আবার ইয়াবার ধোয়া নিতে লাগলো ঠোঁটে বাশি দিয়ে।

নুসাইবা বলল, আমাকে ভুলে গেসিস৷ এখন তো আর ভালোবাসিস না। তুই তো নানীর মৃত্যুর জন্য আইসোস। আমার জন্য তো আসোস না।

রিয়াদ শুধু কোনমতে বলল, হু।

নুসাইবা বলল, কেমন লাগে?  এখন কথাও বলতাসোস না।  তুই কি ঘুমাস?

মুখ থেকে বাশি বের করে রিয়াদ বলল, পরে কল দাও ব্যস্ত আছি।

নুসাইবা রেগে বলল, হ। আমি কল দিলেই খালি ব্যস্ত আর ব্যস্ত। আমাকে একটুও সময় দেস না তুই। এখন আমি জোর করে কথা বলবো। তুই ফোন কাটলে তোর ঘরে চলে আসবো।

রিয়াদ আবার ঠোঁটে বাশি নিয়ে ফুয়েলে আগুন লাগিয়ে ইয়াবার ধোয়া নেয়। ইয়াবা খাওয়ার পর। টাকার বাশিটা ছিড়ে ডাস্বিনে ফেলে চকলেট এর কাগজও ফেলে। কোন প্রমান রাখতে চায়না রিয়াদ।

নুসাইবা রেগে বলল, তুই কি হুনোস না। তুই কি বয়রা?

রিয়াদ আস্তে করে ফোন কেটে দেয়। তারপর এয়ারপ্লেন মোড অন করে।

এবার রিয়াদ দরজার কাছে এসে দাড়ায়। বাইরে মকবুল চাপাতি নিয়ে বসে আছে দরজায় হেলান দিয়ে। রিয়াদ দরজা খুলে দেয়। তখনই মকবুল তাল সামলাতে না পেরে ঘরের ভেতর পড়ে যায়।

রিয়াদ বলে, এতো রাতে আমার ঘরের বাইরে কি করছো?

মকবুল তাড়াতাড়ি চাপাতি লুকায় গামছায়। এদিকে গাছের সামনে হিসু করছে ইরান। বিপদ বুঝতে পেরে সে অন্ধকার ছায়ায় মিলিয়ে যায়।

রিয়াদ বলে, তোমার হাতে চাপাতি কেন?

মকবুল বলে, আরে ভাই যে ডাকাতি হয় আজকাল। আমাদের গোয়াল ঘরের সব গরু চুরি হয়ে গেছিল। তাই রাত জেগে পাহাড়া দিচ্ছি।

রিয়াদ বলল, তাহলে আমার ঘরের সামনেই কেন?

মকবুল বলল, কারন যদি ডাকাত আসে তখন আপনাকে ডাক দিব তাই।

রিয়াদ আর কথা বাড়ায় না। গাছের সামনে হিসু করে ঘরে এসে দরজা বন্ধ করে শুয়ে পড়ে।

মকবুল জোরে নিঃশ্বাস ছেড়ে বলে, যাক অনেক বড় বাচা বাচলাম। রিয়াদ বুঝে নাই।

এদিকে রিয়াদ তখনও ঘুমায়নি। চোখ খুলে ফেলে রিয়াদ। খাটে বসে পড়ে। খাটের নিচে হাত দিয়ে দেখে কুড়াল আছে কি না।

তখনই হঠাৎ জানালার কাছে তাকাতেই রিয়াদের বুক ধ্বক ধ্বক করে উঠে। কে যেন জানালায় ভেতর লোহার সরু তার ঢুকিয়ে জানালা খোলার চেষ্টা করছে।  কে সে?

হঠাৎ জানালার কাছে তাকাতেই রিয়াদের বুক ধ্বক ধ্বক করে উঠে। কে যেন জানালায় ভেতর লোহার সরু তার ঢুকিয়ে জানালা খোলার চেষ্টা করছে।  অবশেষে জানালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলো নুসাইবা। তারপর ভেতর থেকে দরজা লাগিয়ে দিল।

রিয়াদ একপলক তাকিয়ে নিল নুসাইবার দিকে। মনে মনে, এবার নাটক করতে আসছে এতো রাতে।

তারপর ঘুমানোর ভান করে চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়লো।

নুসাইবা রিয়াদের কাছে এসে রেগে চাদর টান দিয়ে ছুড়ে ফেলে দিল ফ্লোরে।

রিয়াদ বলল, কি করছো?  ঘুমাতে দাও।

নুসাইবা রেগে বলল, সারাদিন খালি ঘুম আর ঘুম আমাকে সময় দিবা কখন?

রিয়াদ বলল, সকালে সময় দিব এখন যাও।

নুসাইবা বলল, যাবো না। সরো আমিও তোমার সাথে ঘুমাবো।

রিয়াদ বলল, কেউ দেখে ফেললে।

নুসাইবা বলল, দেখলে দেখুক। আই ডোন্ট কেয়ার।

তারপর নুসাইবা ফ্লোরের থেকে চাদর নিয়ে ছড়িয়ে ফেলল বিছানায়। রিয়াদকে পুরো ঢেকে দিল চাদর দিয়ে। তারপর নিচেও খাটে উঠে চাদের ভেতর ঢুকে শুয়ে পড়ে রিয়াদের পাশে।

রিয়াদ একটা কোলবালিশ তাদের মাঝখানে রাখে। নুসাইবা রেগে কোলবালিশটি ফ্লোরে ফেলে দেয়। তারপর রিয়াদের হাত ধরে নিজের বুকে ওপর রাখে।

রিয়াদ এক অদ্ভুত অনুভূতি পায়। নরম উষ্ণতায় হাত সড়িয়ে নেয় রিদায়।

রিয়াদ বলে, ঘুমাও তুমি আমার হাত নিয়ে ঘুমাতে হবে না।

নুসাইবা বলে, হাতটা দাও। না হলে আমি কিন্তু রেগে যাবো।

রিয়াদ বলে, রেগে গেলে যাও আমার কী?

নুসাইবা রেগে বলে, তোর গার্লফ্রেন্ড হই আমি শুয়োর।

রিয়াদ বলে, তো?

নুসাইবা বলে, তোর ওপর শুধু আমার অধিকার।

রিয়াদ বলে, বাট আমার জড়াজড়ি পছন্দ না।

কথাটা বলে রিদায় অন্যপাশ ফিরে ঘুমানোর ভান করে।

এবার নুসাইবা রিয়াদকে ধাক্কা দিয়ে সোজা করে রিয়াদের বুকের ওপর উঠে পড়ে।

রিয়াদ বলে, নামো। তুমি খুব ভারী।

নুসাইবা বলে, এবার উচিত শিক্ষা হয়েছে। এবার এভাবেই ঘুমাও। আর হাতটা দিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরো।

রিয়াদ বলে, কখনও না।

নুসাইবা রেগে রিয়াদের নাক টান দিয়ে বলে, সালা খেত। একটু রোমান্টিক হ।

রিয়াদ বলে, হবো না।

নুসাইবা জোরে নিঃশ্বাস ফেলে। তারপর ঘরের বাতি নীভে যায়। পুরো ঘর অন্ধকার হয়ে যায়। (বুদ্ধিমানরা বুঝে নিবে, লাইট অফ মানে কী?) 

ভোর ৫টায়। নুসাইবা জানালা দিয়েই চলে যায়। রিয়াদ দরজা খুলে দেখে মকবুল দরজার বাইরে হেলায় দিয়ে ঘুমাচ্ছে।

রিয়াদ বলে, বেচারা মকবুল৷

তারপর রিয়াদ মকবুল এর হাতের থেকে চাপাতি টা নিয়ে সড়িয়ে ফেলে কেউ দেখার আগেই৷ রিয়াদ জানে তার খালতো ভাই মকবুল ও ইরান তাকে মারার পরিকল্পনা করছে। তবে রিয়াদ বুঝেও না বোঝার ভান করে।

রিয়াদ পাকের ঘরে আসে। দেখে তার শিউলি খালা সকালবেলা রংচা বানাচ্ছে।

রিয়াদ বলে, খালা একটু চা হবে?

শিউলি খালা রিয়াদকে প্লাস্টিকের কাপে চা দেয়।

রিয়াদ চা খেয়ে বাড়ির পেছনে জঙ্গলে এসে সিগারেট ধরায়। আর ব্যয়াম করতে থাকে।  এরকম সময় ইরান তাকে দূর থেকে দেখছিল। ইরান ভাবে এটাই আসল সময় রিয়াদকে মেরে ফেলার।

ইরান লুকিয়ে ছিল গাছের পেছনে। তারপর গামছা দিয়ে নিচের মুখ ও চুল সম্পূর্ণ ঢেকে ফেলে শুধু চোখটা খোলা রাখে। তারপর হাতে চাকু নিয়ে রিয়াদকে মারতে যায়।

রিয়াদ তখন একটা গাছে ঝুলছিল আর ব্যায়াম করছিল। তার ঠোটে ঝলন্ত সিগারেট। তখনই ইরান চাকু দিয়ে রিয়াদের পিঠে একটা টান দেয়। সঙ্গে সঙ্গে রিয়াদের কালো শার্ট ছিড়ে রক্ত বের হয়। রিয়াদের পিঠ ব্যথায় শির শির করে। তবে রিয়াদ কোন রিয়েক্ট করে না।

গাছ থেকে নেমে পেছনে তাকায়। চোখ দেখেই রিয়াদ চিনতে পারে ইরানকে। তবুও না চেনার ভান করে। কারন এখানে জায়গা জমিনের যুৃদ্ধ চলছে।

ইরান আবার চাকু চালায় রিয়াদের কাধে। সঙ্গে সঙ্গে শার্ট ছিড়ে চামড়া কেটে রক্ত দেখা যায়।

রিয়াদ একটু মুচকি হাসে। তারপরই ইরানের হাটুর ওপর পা ঢুকিয়ে ইরান কে শূন্যে তুলে মাটিতে আছাড় মারে। ইরান আছাড় খেয়ে হাত থেকে চাকু পড়ে যায় একটু দূরে রিয়াদের পায়ের কাছে। ভয়ে ইরান উঠে দাড়ায় আর দৌড় দেয়।

রিয়াদ পায়ের কাছ থেকে চাকু নিয়ে ছুয়ে মারে ইরানের দিকে। তবে তার লক্ষ্য ছিল গাছ। চাকু ইরানের পাশ কাটিয়ে গাছে গিয়ে গেথে যায়। তবে ইরান যে খুব ভয় পেয়েছে তা বোঝা যায়।

একটু থেমে ইরান ভাবে আমাকে পালালে চলবে না। গাছের থেকে চাকুটা খুলে ছুড়ে মারে রিয়াদকে নিশানা করে। তারপর....?

(দুপুর ৩টা, খাবারের টেবিলে)

ভাত মুখে দিয়ে পিঠের ব্যথায় কুকিয়ে উঠলো ইরান।

রিয়াদের ঠোটে হাসি। রিয়াদ ইরানের কাহিনী দেখলে। বেচারা তাহলে সেই ব্যথা পেয়েছে। আছাড়টা তো সেই দিয়েছি।

ইরান ব্যথায় কুকিয়ে বলল, ও মা গো৷ ব্যথা করে।

রিয়াদ বলল, কিভাবে ব্যথা পেলে কোমড়ে?

( রিয়াদ ইরানের কাটা গায়ে নুন ছিটিয়ে দিল।)

ইরান বলল, আর বলিস না। পুকুরের সিড়িতে পড়ে গেছিলাম।

রিয়াদ আরেক চামচ ভাত নিল প্লেটে।

রিয়াদ বলল, আজকে তো তুমি গোসল ই করোনি।

ইরানের গলায় হঠাৎ খাবার আটকে যায়। উ উ করতে থাকে পানির জন্য।

রিয়াদ টেবিলে থাকা কাচের গ্লাসে পানি ঢালে।  তারপর নিজেই পানিতে চুমুক দিয়ে খেতে থাকে। তার সামনে তার খালতো ভাই পানির জন্য ছটফট করছে। এটা দেখে ভালো লাগছে রিয়াদের।

কিছুক্ষণপর হঠাৎ ইরানের বউ (আফরীন) বিষয়টা লক্ষ্য করে তার স্বামী কে পানি ঢেলে খাওয়ায়।

আফরীন একটু রাগ করে বলল, কেমন ভাই আপনি?  আপনার সামনে ভাই পানির জন্য মরে যাচ্ছে আর আপনি খেয়াল ই করেননি।

আঙুল চেতে চেতে রিয়াদ বলে, সরি! ভাবী খেয়াল করিনি।

ইরান আফরীনকে বলে, আর ভাত খাব না। হাতে পানি দাও। হাত ধুবো। আর কোমড়া ব্যথা করছে। আমি বিছানায় যাই তুমি একটুপর আসো তেল নিয়ে।

তারপর ইরান চলে যায় বিছানায় বিশ্রাম নিতে আর তার মাথায় চলে নানান টেনসন। ইরান ভাবে মুখোশ পড়ে যে রিয়াদকে মারতে গেলাম। রিয়াদ আছাড় মারলো আমাকে। রিয়াদ কি বুঝে গেছে যে আমি তার শত্রু?

এদিকে রিয়াদ খাবার শেষ করে।

রিয়াদ আফরীনকে  বলে, যাও ভাবী। তেল মাখামাখী করো।

আফরীন হেসে বলে, যা দুষ্টু।

রিয়াদ বলে, ভাবী। তোমার কিন্তু নাভীটা সেই।

আফরীন তাড়াতাড়ি নাভী থেকে ফেলে। তারপর রিয়াদের কান ধরে মচকে দিয়ে বলে, খুব দুষ্ট হয়েছে।

রিয়াদ ভাবীর কোমড়ে চিমচি মেরে দৌড় দেয়। তখনই তার ধাক্কা লাগে মকবুল এর সাথে। মকবুল রাগি চোখে তাকায় তার দিকে।

মকবুল মনে মনে বলে, ওর কি ভয় নাই বুকে? ও এখনও গ্রাম থেকে পালায় না কেন? ওর পেছনে তো অনেক শত্রু। ইরান ভাই এবার গুন্ডা ভাড়া করেছে। যারা বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করছে। একদম বের হলেই গাড়ি তুলে খালি মাঠে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করবে। আর ও কত রিল্যক্স।

রিয়াদ  নিজের কানে হাত রেখে বলে, সরি ভাই খেয়াল করিনি।

দরজায় বাইরে খোলা রোদে দাড়াতেই রিয়াদের মনে হলো যাই চা সিগারেট খেয়ে আসি। রিয়াদ যখন তাদের বাড়ির মাঠে আসলো। তখনই একটা কালো প্রাইভেট গাড়ি দেখতে পেল। গাড়ীর ভেতর ৪ জন বয়স্ক পুরুষ। যারা সবাই জীম করে বডি বানিয়েছে। সবগুলোই মোটা শক্তিশালী।  রিয়াদ বুঝে গেল ওরা রিয়াদের জন্যই অপেক্ষা করছে।

রিয়াদ গাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময়  এমন ভান করলে যেন সে তাদের চিনেই না। তখন  কালো গাড়ি থেকে একটা লোক বের হলো রুমাল হাতে নিয়ে। রিয়াদ অজ্ঞান হওয়ার নাটক করে মাটিতে পড়ে গেল।

গুন্ডাদের লীডার কোপা শামসু বলল, কি রে ওরে তো অজ্ঞান করার আগেই অজ্ঞান হয়ে গেছে। এই পিপড়াকে মারার জন্য পাঠাইতে।

এটা বলে মাথা চুলকাতে লাগলো। তার ৩ চামচা। ঝন্টু, মন্টু, টিংকু।

ঝন্টু বলল, এখন কি করি?

শামসু বলল, আরে বোকা। কেউ দেখার আগে গাড়িতে উঠা। আজকে ওরে সাইজ করে দিব। অনেকদিন মানুষ কোপাই না।

একটা বস্তায় তারা ভরে ফেলল।  ঝন্টু বস্তা উঠাতে গিয়ে পারলো না। ওজন বেশি।

ঝন্টু বলল, ভাই অনেক ভারী।

মন্টুর মাথায় থাপ্পড় দিয়ে শামসু বলল, আরে ওই হেল্প কর ওরে।

মন্টু বলল, জি বস।

তারপর মন্টু ও ঝিন্টু মিলে বস্তাটা তুললো গাড়িতে।

টিংকু গাড়ি স্টার্ট দিল। তারপর মরুভূমির মতো খোলা বালির স্তুপে এসে গাড়ি থামালো।

শামসু বলল, এই জায়গায় কেউ আসবে না। তোরা বস্তা খুলবি। আর আমি কোপ দিয়ে।

শামসু লুঙ্গি ঠিক করে চাপাতি নিয়ে বালির ওপর দাড়ালো। চারিদিকে কেউ নাই। শুধু বালি আর বালি। দূরে একটা ঘর দেখা যায়।

মন্টু ও ঝিন্টু মিলে বস্তাটা নামায় গাড়ি থেকে।

শামসু বস্তা খুলতেই অবাক। এইটা কী?

মন্টু ও ঝিন্টু  বস্তার ভেতর তাকিয়ে দুজনেই অবাক। এটা কিভাবে হলো?

বস্তার ভেতরে রিয়াদ নাই। সেখানে একটা বড় পাথর রাখা।

শামসু সিগারেট ধরিয়ে মাথা চুলকে বলল, সালায়। পোলাডাকে সোজা ভাবছিলাম৷ অনেক চালাক। এখন থেকে সতর্ক থাকতে হবে। এই গাড়ি স্টার্ট দে মাথা গরম হয়ে গেছে পানি ঢালতে হবে। পানি দে হবে না গাড়ি থেকে মদ দে মদ ঢেলে মাথা ঠান্ডা করবো।

শামসু মদ ঢেলে মাথা ঠান্ডা করে। তারপর বলে, সালায় কামডা করলো কী?

এদিকে রিয়াদকে দেখা যায় নুসাইবার সাথে। দুজনে জানালার কাছে। ঘরে কেউ নাই। দরজা ভেতর থেকে লাগালো।

নুসাইবা বলল, ছাড়ো তো কেউ এসে পড়বে।

রিয়াদ নুসাইবার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে, ছাড়ার জন্য তো জড়িয়ে ধরি।

নুসাইবা রিয়াদকে দুষ্ট ধাক্কা দিয়ে বলে, আরে যাও।

রিয়াদ বলে, একটা চুমা দাও চলে যাব।

নুসাইবা বলে, না দেব না।

রিয়াদের ব্যপারটা খারাপ লাগে। রিয়াদ না বলা পছন্দ করে না। তার রাগ হয়। তবে নিজেকে শান্ত রাখে সে।

তখনই নুসাইবার মা এসে দরজায় নক দিতে থাকে।

নুসাইবা ভয়ে কাপতে থাকে।

নুসাইবা বলে, আম্মু আইসা পড়ছে। তুমি খাটের নিচে লুকাও।

রিয়াদ বলে, আগে চুমা দাও।

নুসাইবা বিপদে পড়ে যায়। এদিকে তার মা বার বার দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে।

নুসাইবার মা বলল, কি রে এতোক্ষন লাগে কেন?

নুসাইবা বলল, আম্মু আমি ওয়াশরুমে আছি।

তারপর রিয়াদকে বলে, হাত জোর করি খাটের নিচে ঢুকো।

রিয়াদ নুসাইবার ঘাড়ে একটা কামড় দেয় 'লাভবাইট' দেয়। নুসাইবা 'আ' চিৎকার করে উঠে।

নুসাইবা বলে, শয়তান এতো জোরে কেউ কামড় দেয়।

রিয়াদ ঘরের ওপরে তাকায়। তারপর ড্রেসিং টেবিলে পা দিয়ে ওপড়ে উঠে যায়। সাদের ছোট খোপ দিয়ে রিয়াদ বের হয় টিনের ১তলা ছাদে। তারপর লাফ দিয়ে আমগাছ বেয়ে নিচে নামে।

রাত ১০টা বাজে।

ইরান সামশুকে বলল, আজকে রাতেই রিয়াদকে খতম করে দিবে। যেভাবেই হোক। সবাই নানীর ৩ দিনের মৃত্যুর  রাতের খাবার খেতে ব্যস্ত থাকবে। সেই সুযোগে তোমরা রিয়াদকে ধরে জঙ্গলে নিয়ে খুন করে দিব।

সামশু বলল, আপনি কেন আপনার খালাতো ভাইকে খুন করতে চান?

ইরান রেগে বলল, সাধারন যেকেউ ভাবছে এটা শুধু জায়গা-জমিন এর জন্য আসলে না। রিয়াদ ছোটবেলায় আমার আম্মুকে আম্মু বলতো। এমনকি ওর মা ছিল না। তাই আমার আম্মুই ওর দুধমা ছিল। আমার আম্মু শুধু আমার অন্যকারো না। এটা সেই ছোট মনে আমাকে কষ্ট দিত। আর আম্মু সবচেয়ে বেশি আদর করে রিয়াদ। এটা আমার পছন্দ না।

সামশুর চোখে জল। জল মুছে সামশু বলল, দয়া মায়া আমার ভেতরও আছে। কসাই বলে গরু কাটি। প্রচুর মায়া হয়। তবে কি করব এই কাজ করেই পেট চালাই। মাঝে মাঝে দুই, একটা খুন করে। পরে দুধ দিয়ে গোসল করে পবিত্র হই।

ইরান বিরক্ত হয়ে বলল, এসব কি শুনতে চাইসি? হুদাই বক বক করোস।

তারপর ইরান বালিশের নিচ থেকে ৫০ হাজার টাকার ২টা বান্ডিল বের করে সামশুকে বলল, এই নেন কাজ যাতে হয়ে যায়।

দরজার বাইরে দাড়িয়ে এসব কথা শুনে ফেলে নুসাইবা৷ দৌড়ে রিয়াদের কাছে আসে।

রিয়াদ তখন ঘুমাচ্ছিল। রিয়াদকে ধাক্কা মেরে উঠায় নুসাইবা।

ঘুম ঘুম চোখে রিয়াদ বলে, কি হয়েছে?

নুসাইবা খাটের নিচ থেকে পানির বোতল বের করে। বোতলের পানি হাতে নিয়ে রিয়াদের মুখে ছুড়ে মারে।

রিয়াদ মুখের পানি মুছে রেগে বলে, আহা। কি হইসে? বিরক্ত করতাসো কেন?

নুসাইবা বলে, শোনো।  ইরান ভাই তোমাকে মারার জন্য লোক ভাড়া করছে। উনি মনে হয় জেনে গেছে আমরা প্রেম করি।

রিয়াদ খাটে হেলান দিয়ে বসলো। বিছানার পাশ থেকে সিগারেট বের করে ধরালো।

রিয়াদ কি যেন ভাবছে।

নুসাইবা বলল,তুমি প্লিজ ঢাকা চলে যাও। কসাই সামশু অনেক খারাপ। অনেক ভয়ানক। আর তুমি বিপদে আছো।

রিয়াদ মুখ দিয়ে সিগারেট এর ধোয়া বের করে বলে, আমি বিপদে নাই। আমি ই বিপদ। আই এম দ্যা ডেন্জার।

রাত ১১টা বাজে। উঠানে অনেক মানুষ সবাই খিচুরী খেতে আসছে। শিউলি খালা রিয়াদের ঘরে খিচুরী দিয়ে গেল। রিয়াদ তখন মরার মতো ঘুমাচ্ছে। শিউলি খালা তাকে ডিস্টার্ব করলো না।

এদিকে খিচুরী খাওয়ার জন্য সামশুর ৮ বছরের মেয়ে (রিশিকা) বায়না ধরলো।

রিশিকা বলল, বাবা আমি খিচুরী খেতে যাই?

সামশু মেয়েকে ধমক দিয়ে বলল, দরকার নাই। জীবনে খিচুরী খাস নাই? তোরে বিরানী আইনা খাওয়ামু। অন্যের বাড়ির খিচুরী খাওয়ার দরকার নাই।

রিশিকা বলল, আমার সব বান্ধবীরা যাবে ওখানে। আমি গেলে সমস্যা কী?

সামশু চাপাতি লোহায় ঘষতে ঘষতে বলল, দরকার নাই। ওরা গরীব মানুষ। এজন্য মাইনষের বাসায় যায় ভিক্ষা করে খায়।

রিশিকা বলল, আমিও তো গরীব। একটু যাই এমন করো কেন?

সামশু মেয়ের জিদের সাথে মানিয়ে নিতে পারে না। আবার কিছু বলতেও পারে না। কারন রিশিকার বাবা-মা নাই। সামশু তাকে দত্তক নিয়েছিল যখন রিশিকার বয়স ৩বছর। তারপর নিজের সন্তানের মতো মানুষ করছে। কখনও বাবা মায়ের অভাব বুঝতে দেয়নি। সামশুর কাছে একটাই জীবন সেটা রিশিকা। মেয়েকে ছাড়া সে অসম্পূর্ণ।

রিয়াদ স্বপ্ন দেখলো সে আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে। মেঘ ধরার চেষ্টা করছে পারছে না। যেন তার শরীরে কোন শক্তি নাই। হঠাৎ সে দেখলো এক কালো মুর্তি তাকে মারার জন্য মেঘের ওপর ভাসছে। মুর্তিটা রিয়াদের গলা চেপে ধরলো৷ দম বন্ধ হয়ে আসছে রিয়াদের। রিয়াদ নিজেকে বলল, এসব স্বপ্ন আমি জানি। আর আমি এই স্বপ্ন দেখতে চাই না। স্বপ্ন চেন্জ করো।

মূহুর্তের মাঝে স্বপ্ন পরিবর্তন হয়ে গেল। রিয়াদ দেখলো সে একটি ফুলের বাগানে। চারিদিকে লাল গোলাপ ফুল। একটা ফুল ধরতে গিয়েই তার হাতে কাটা গেথে গেল। রিয়াদ স্বপ্নেই মাঝেই বলল, এই ফুল আমি নুসাইবা কে দিব। তারপর পকেটে ভরে নিল।

হঠাৎ স্বপ্ন পরিবর্তন হয়ে গেল। রিয়াদ দেখলো সে রাশিয়ায় যুদ্ধের ময়দানে। তার হাতে রাইফেল পাশে তার বন্ধু ইসহাক। চারিদকে ধোয়া। একটা ট্যাংক সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। তখনই একটা গুলি এসে ইসহাক কে হেটশট করে দিল।

রিয়াদের ঘুৃম ভেঙ্গে গেল। রিয়াদ খাটের ওপর বসে পড়ে। তারপর পানি পান করে নিজেকে শান্ত করে। ঘরের চারদিকে তাকায়। উপড়ে সাদা ফ্যান ঘুরছে। গাড়ির কাটা টিকটিক শব্দ করছে।।ঘরের বাহিরে কোলাহল। সবাই খিচুরী খেতে আসছে। রিয়াদ দেখলো তার ঘরেও এক প্লেট খিচুরী রাখা।

তখনই ঘরের ভেতর চাপাতি হাতে ঢুকলো সামশু। রিয়াদ সামশুকে দেখে চুপচুাপ।

সামশুর ঠোটের কোনায় একটা হাসি। রিয়াদ বলল, আজকে তুই আমাকে মেরে ফেল। কারন এমনিতেই আমি  মরে গেছি। শুধু শরীরটা জীবিত।

সামশু চাপাতি হাতে খাটের ওপর লাফ মেরে উঠলো। রিয়াদ চাপাতির কোপ খাওয়ার জন্য প্রস্তুত।

তখনই সামশুর ফোনে একটা কল আসলো। তার মেয়ে রিশিকা তাকে ফোন করেছে।

সামশু অবাক হয়ে ফোন ধরে কানে দেয়। ওপাশ থেকে নুসাইবা বলে, তোর মেয়ে আমার কাছে বন্দি। যদি রিয়াদের কিছু হয়। তাহলে তোর মেয়েও বাচবে না।

এদিকে ভয়ে রিশিকা কান্না করতে থাকে। কারন রিশিকার গলায় চাকু ধরে আছে নুসাইবা।

রিশিকা কেদে কেদে বলে, আন্টিকে আমাকে ছেড়ে দেন। পাপা বাচাও।

নুসাইবা রিশিকাকে চড় দিয়ে বলে, চুপ। তারপর ফোন কেটে দেয়।

সামশুর বুক ধ্বক ধ্বক করতে থাকে। মাথা এলোমেলো হয়ে যায়। সামশু একটা কথাই বলে, আমার মেয়ে।।আমার মেয়ে।

রিয়াদ কিছু বুঝতে পারে না হঠাৎ সামশুর কি হলো। সামশু দৌড়ে বের হয়ে যায় রিশিকাকে বাচানোর জন্য তার বাড়ির দিকে রওনা দেয়। সময় যেন থেমে গিয়েছে সামশুর জন্য। এখন রিশিকার কিছু বলে পিতা হিসেবে সামশু নিজেকে কখনই ক্ষমা করতে পারবে না।

নুসাইবা রিশিকার গলা চাকু দিয়ে টান মেরে দেয়। গলা কেটে রক্ত বের হতে থাকে। রিশিকা মাটিতে পড়ে যায়। তারপর মুরগির মতো ছটফট করতে থাকে। এদিকে নুসাইবা রক্ত মাখা চাকু বেসিনে পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে। তারপর বাসায় চলে আসে। বাড়ির পেছন সাইড দিয়ে জঙ্গলের রাস্তায় বাসায় চলে আসে।

নুসাইবা চলে যাওয়ার পরই দৌড়ে ঘরে প্রবেশ করে সামশু। তার মেয়েকে এভাবে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে নিজেও ভেঙ্গে পড়ে। তারপর রিশিকার রক্তমুখে মাখে সামশু। সামশুর ভেতরে তখন আগ্নীয়গিরি চলছে। সামশু মনে মনে বলল, এই কাজটা নুসাইবা করেছে। তার পুরো পরিবারকে আমি ধ্বংস করে দিব।

রাত ৩টা বাজে। ঘড়ির কাটা টিকটক শব্দ করছে। রিয়াদের ঘুম ভাঙলো। রিয়াদ এবার হিরোইন ভরলো সিগারেটে। তারপর ফ্রিজ থেকে জুস বের করলো। এবার জুস দিয়ে সিগারেট এর ফিল্টার ভিজিয়ে নিল। তারপর সিগারেটে আগুন ধরিয়ে নেশা করতে লাগলো। তখনই রিয়াদের মনে হলো নুসাইবা কোথায়? আর সামশু কেন তাকে মারলো না বাড়ি চলে গেল? এক অজানা বিপদে রিয়াদের বুক ধ্বক ধ্বক করতে লাগলো। হতে পারে সেটা নেশার কারনেও তা রিয়াদ কারনটা ধরতে পারলো না।

নুসাইবার ঘরের সামনে সামশু দাড়িয়ে আছে অন্ধকারে কলা গাছের নিচে। সামশু তার মেয়ে হত্যার প্রতিশোধ নিতে এসেছে। আজ সে নুসাইবাকে খুন করবে। তার হাতে কুড়াল। সামশু রাগে কুড়ালটা কলাগাছে মেরে  গেথে ফেলল।

রিয়াদ লুঙ্গি পাল্টে প্যন্ট পড়লো। যুদ্ধ নামতে হবে। তারপর ঘরের এক কোনা থেকে চাকু বের করলো। রিয়াদ বলল, এটা দিয়েই হবে।

এদিকে নুসাইবা প্রথমবার খুন করার রক্ত দেখে বাসায় বেসিনে বমি করছে। তার ব্রেইন পুরো এলোমেলো। চুলগুলো এলোমেলো। নিজেকে সামলাতে চায় সে। তবে পারছে না। একটু অসুস্থ অনুভব করছে। তারপর বাথরুমে ঢুকে নুসাইবা জামা খুলে ফেলল। একটু গোসল করতে হয়তো শান্তি পাবে সে। তবে মাথায় পানি ঢাললে কি আর মন শান্ত হয়?

এদিকে মকবুল চাপাতি হাতে বের হয়েছে। উদ্দেশ্য রিয়াদকে খুন করবে। মকবুল এর চাপা রাগ। যে ইরান ভাই পারলো না কেন একটা সাধারন কাজ করতে। সে করে দেখিয়ে দিবে সে কত বড় পালোয়ান।

রিয়াদ তখন নিজের ঘরে চাকুর কতটা নিখুত ধারালো তা আঙুল দিয়ে দেখতে লাগলো। তখনই ঘরে ঢুকলো মকবুল। রিয়াদ পেছন ফিরে তাকিয়ে মকবুলকে দেখলো। মকবুলের হাতে চাপাতি।

রিয়াদ মনে মনে বলল, আবারো মারামারি?

মকবুল চাপাতি নিয়ে দৌড়ে আসলো। রিয়াদ চুপচাপ দাড়ানো। হাতদুটো পেছনে রাখা। একহাতে চাকু। যা মকবুল জানে না।

মকবুল চাপাতি উচু করে যখনই মকবুলকে কোপ দিবে। তখনই রিয়াদ মকবুল এর গলায় চাকু ঢুকিয়ে দিল।

গক গক করতে লাগলো মকবুল। মকবুল এর নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে লাগলো। রক্ত ছিটকে পুরো মাটিতে ভরে গেল। মকবুল এর হাতে থাকা চাপাতি পড়ে গেল মাটিতে। মকবুল তার গলায় হাত দিয়ে গলায় থাকা চাকু বের করে মরার আগে রিয়াদের ডান হাতের কব্জিতে চাকু মেরে দিল। তারপর ধপাস করে মাটিতে পড়ে গেল।

রিয়াদ এমন ভান করলো যেন এরকম একটা চাকু কব্জিতে ঢুকে যাওয়া কিছুই না। কোন রিয়েকশন নাই রিয়াদের চোখে মুখে। আয়নার সামনে দাড়িয়ে রিয়াদ বা হাত দিয়ে কব্জিতে থাকা চাকুটা খুলে ফেলল। ক্ষতস্থানে সাবান মেখে সাদা কাপড় দিয়ে পেচিয়ে বেন্ডেজ করে ফেলল।

তারপর মকবুল এর দিকে তাকিয়ে রিয়াদ বলল, সালা গরীব কোথাকার। এবার মরে স্বর্গে যা।

নুসাইবা তখন গোসল করছিল। ঘরের দরজা ছিল খোলা। জানালা ছিল খোলা। আর সে গোসলখানায় দরজা আটকায় না। কারন তার দম বন্ধ হয়ে আসে।

তখনই হাতে কালো ঘড়ি পড়া এক লোক আসলো সেই ঘরে৷ জানালা দিয়ে ঢুকলো সেই লোক। লোকটার হাতে ছুড়ি।

হঠাৎ নুসাইবা লক্ষ্য করলো তার পেছনে কে যেন দাড়িয়ে আছে। নুসাইবা ভয়ে ভয়ে পেছনে তাকালো। তখনই লোকটা তাকে ছুড়ি দিয়ে ঘাড়ের ওপর কোপ মারলো। ১ না, ২ টা, না একেবারে গুনে গুনে ১০টা স্টেপ। নুসাইবা ভয়ে চিৎকার দিল। লোকটা তবুও থামলো না। নুসাইবা ঘাড় বেয়ে পুরো দেহে রক্তে ভরে গেল।।কিছু রক্ত ছিটে পড়লো লোকটার মুখে।

এই নুসাইবার চিৎকার বাইরে থেকে কুড়াল হাতে সামশু শুনতে পেল। তবে ভয়ে সেখান থেকে পালালো।।কারন সে তো খুনি না।

তাহলে  সেদিন রাত ৩টায় নুসাইবা কে?  কেন খুন করলো? আর খুনিটা কে?

রিয়াদ তার ঘরের মাটি খুড়ছে। খাটটা সড়িয়ে তার নিচে কোদাল দিয়ে মাটি খুড়ছে। কারন মকবুল  এর লাশ দাফন করতে হবে। তার ভোর হওয়ার আগে। ঘড়িতে এখন ৪টা ১০ বাজে( এ.এম)।

রিয়াদ ২ হাত মাটি গর্ত করার পর একটা সিগারেট ধরালো। তারপর ব্লটুথ হেডফোন কানে লাগিয়ে গান ছাড়লো। আবার কোদাল নিয়ে মাটি খোড়া চল।

🎵  This is the end
Hold your breath and count to ten
Feel the Earth move and then
Hear my heart burst again
For this is the end
I've drowned and dreamt this moment
So overdue, I owe them
Swept away, I'm stolen 🎵

গান শুনে আর মাটি খুড়ে রিয়াদ। এদিকে তার ধারনাই তার গার্লফ্রেন্ড নুসাইবাকে কে যেন চাকু দিয়ে খুন করে পালিয়েছে। নুসাইবার দেহ এখনও গোসলখানায় পড়ে আছে। কেউ জানেই না যে সে মারা গেছে।

রিয়াদ সকালবেলা দরজা খুলে দেখলো দুজন পুলিশ এসেছে। এদিকে রিয়াদের খাটের নিচে মকবুলকে গতরাতে রিয়াদ কবর দিয়ে দিসে। যা কেউ জানে না।

রিয়াদ পুলিশের পোষাকে নাম দেখে নিল। একজনের নাম মামুন, আরেকজন ইলিয়াস।

মামুন বলল, দুঃখিত। ঘুমাচ্ছিলেন বুঝি। অবশ্য সকাল ১০টা বাজে। অসময়ে ডিস্টার্ব করলাম।

রিয়াদ ঘুমের ভান করে হাই তুললো। যেন মাত্র ঘুম থেকে উঠেছে।

মামুন বলল, আপনি কি জানেন গতরাতে নুসাইবাকে তার গোসলখানায় মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে? আমাদের সন্দেহ মকবুল এই কাজ করেছে। কারন গতরাত থেকে মকবুল নিখোঁজ।  আমরা আপনার ঘর তল্লাসি করলে কিছু মনে করবেন না তো?

রিয়াদ খাটের নিচ থেকে মানিব্যাগ বের করে নিজের আর্মি আইডি কার্ড দেখালো।

আইডি দেখে মামুন বলল, ও আপনি তাহলে এক্স-আর্মি। তবে স্যার। আমাদের ডিউটি আমরা আপনার ঘরটাও তল্লাসি করতে বাধ্য। সবার ঘর তল্লাসি করা হয়েছে। শুধু আপনারটা বাকি।

রিয়াদ ভেবেছিল নিজের পরিচয় দিলে পুলিশরা তল্লাসি করবে না। তবে তার প্লান ফেইল হলো। এদিকে তার পকেটে ৮ পিস ইয়াবা। পকেটে হাত দিলেই ধরা খাবে।

মামুন ইলিয়াসকে ঈশারা করতেই। ইলিয়াস ঘর তল্লাসি করা শুরু করলো। রিয়াদের চোখ খাটের নিচে খাট সড়ালেই সে ধরা খাবে। তখন রিয়াদ কি করবে?

ইলিয়াস আলমারীর সকল কাপড় ফেলে দিল মাটিতে। আলমারীতে কিছু পেল না। তারপর তার নজর পড়লো খাটের ওপর। খাটের তোষক উঠাতেই দেখলো ১প্যকেট মারবোরো সিগারেট।  সেই সিগারেট এর প্যকেট খুলেও চেক করলো। সব সিগারেট বের করে তোষকের ওপর রাখলো ভেতরটা ভালোভাবে চেক করে একবার রিয়াদের দিকে তাকালো।

রিয়াদ নিজেকে বাইরে নরমাল রেখেছে। যেন এসব নরমাল বিষয়। সিগারেট খায় সে। আর  এটা আইনীভাবে নিষেধ না।

হঠাৎ ইলিয়াসের নজর পড়লো খাটের নিচে মাটিগুলোর দিকে। ইলিয়াস খাটের নিচে লাইট মারলো।

ইলিয়াস বলল, স্যার। মাটি খোড়া হয়েছিল।  মনে হয় মাটির নিচে কিছু পুতে রাখা।

মামুনের ঠোঁটে হাসি যেন অপরাধী ধরে ফেলেছে। মামুন পকেট থেকে সিগারেট বের করে ধরালো। তারপর মামুন বললেন, খাট সড়াও। ওই জায়গাটা খুড়ে ফেলো কোদাল দিয়ে। আমার মনে হয় ওখানেই নুসাইবার মৃতদেহ পাবে।

তারপর সিগারেটে টান দিয়ে ধোয়া ছাড়লেন মামুন। উত্তেজনায় উনার হাত হালকা হালকা কাপছে। এই প্রথমবার এতো সহজে ক্যাস সলভ হবে।

খাট সড়িয়ে মাটি খোড়া হচ্ছে। এদিকে রিয়াদ কে দেখা গেল টেনসন ফ্রি। রিয়াদ গোসলখানায় ঢুকে দাত ব্লাশ করলো। তারপর গোসল করে কালো শার্ট পড়ে নিল। খাবার টেবিলে বসে শিউলী খালাকে বলল, নাস্তা দিতে। শিউলি খালা নাস্তা দিল।  রিয়াদ পরোটা দিয়ে ডিমবাজি খাচ্ছে। যেন তার কোন টেনসন ই নাই।

শিউলি খালা বললেন, আমি জানি তুই নুসাইবার সাথে তোর সম্পর্ক ছিল রিয়াদ।

রিয়াদ এমন ভান করলো যেন কিছু শুনলো না। সমস্ত জগৎ থেকে সে আলাদা এক অন্যজগতে তার ব্রেইন চিন্তাভাবনা করছে।

শিউলি খালা বললেন, তুই কি নুসাইবাকে খুন?

রিয়াদ বলল, ভালোবাসি তাই বলে কি খুন করবো না। হাহাহা।

শিউলি খালা বললেন, তোর পাগলামি এখনও গেল না। ৪দিন আগে নানী মারা গেল তোর। এখন আবার তোর প্রিয় মানুষ। তবুও তুই এতো শান্ত কিভাবে?

রিয়াদ রেগে গেল। ভাজির ওপর চামচটা ছুড়ে ফেলল মাটিতে। তারপর বলল, তাহলে কি করবো? কান্না কাটি করব? আমার চোখের জল শুকিয়ে গেছে। আমার বন্ধু যুদ্ধে আমার চোখের সামনে সে গুলি খেয়ে মারা যায়।।আমি কিছু করতে পারিনি। কারন আমি একটা অপদার্থ।

কথাগুলো বলে খাবার টেবিল থেকে উঠে পড়ে রিয়াদ। তারপর নিজের রুমে আসে। দুজন কৃষক ঘরের মাটি খুড়ছে। রিয়াদ সেদিকে মনোযোগ দিল না।  খাটের ওপর থেকে মালবোরো সিগারেট নিয়ে ধরিয়ে দিল পুলিশের সামনেই। মামুন একবার তাকালো রিয়াদের দিকে তবে কিছু বললো না।

হঠাৎ কৃষক বলল, স্যার দেখেন এটা কী? সাদা কাপড়ে মোড়ানো?

মামুন আগ্রহ নিয়ে দেখলো সবাই অবাক হয়ে দেখলো। কিছুক্ষণ পর রিয়াদও উকি মেরে গর্তে তাকিয়ে দেখলো।

রিয়াদকে জেলখানায় এনে রিমান্ডে দেওয়া হয়েছে৷  তারপর তাকে একজন মহিলা অফিসারের সামনে আনা হয়েছে। মহিলার নাম মারজান চৌধূরী। তাদের সামনে একটা টেবিল। টেবিলের একপাশে চেয়ারে বসা মারজান। আরেকপাশে মার খাওয়া ঠোট কেটে রক্ত পড়তে হ্যন্ডকাপ অবস্থায়  রিয়াদ। মারজান ৬মাসের প্রেগন্যন্ট। তবুও সিগারেট টানছেন।

মারজান বলল, কেন মকবুলকে খুন করলেন?

রিয়াদ শুধু তাকিয়ে আছে মারজানের দিকে। কোন উত্তর দিল না।

মারজান হাতের ঘড়ির দিকে তাকালেন। আর বিরক্ত হলেন।

মারজান বললেন, মকবুল কে যদি আপনি মারেন? তাহলে নুসাইবাকে কে মেরেছে?

রিয়াদ বলল, আপনারা গোয়েন্দা এসব আপনাদের কাজ। আমি কি করে বলবো?

মারজান বলল, নুসাইবার সাথে আপনার কি সম্পর্ক কী?

রিয়াদ বলল, আপনার হাতের সিগারেট টা দেন।

মারজান তার হাতে থাকা জলন্ত সিগারেট দিল না। প্যকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে রিয়াদকে দিল। রিয়াদ সিগারেট ধরালো।

রিয়াদ বলল, রাশিয়া_ইউক্রেনের যুদ্ধ আমরা সৌদী আরব থেকে ট্রেনিং নিয়ে আমি আর ইসহাক। যাই তারপর আমি ফিরে আসলেও বেস্টফ্রেন্ড ইসহাক ফিরেনি সেদিন।হয়তো সেই ট্রমা থেকেই এমন হয়েছি।

মারজান বলল, ইন্টারেস্টিং।

দুপুরে ভাত দেওয়া হলো রিয়াদকে। সেই ভাতের চাল ইটের মতো শক্ত। একটু মুখে দিয়ে চাবাতেই রিয়াদ আর গিলতে পারলো না। ফেলে দিল সব খাবার।

হঠাৎ তার মাথায় আইডিটা আসলো। প্লাস্টিকের প্লেট টা ভেঙ্গে ফেলল। পুলিশ গার্ড এসে চেচিয়ে বলল, প্লেট ভাঙলেন কেন?

রিয়াদ বলল, হাত থেকে পড়ে গেছে।

এদিকে রিয়াদ তখন প্লেটের একটা অংশ রেখে দিল নিজের কাছে। তারপর সবাই যখন গুমিয়ে যেত। রিয়াদ তখন দেয়ালে গর্ত করতে লাগলো। এভাবে ৭দিন কেটে গেল। গর্তের ওপর একটা ক্যরেন্ডার দিয়ে দিয়েছিল রিয়াদ। তাই কোন পুলিশের নজরে পড়েনি।

এই ৭দিনে রিয়াদ শুধু লাইব্রেরির বই পড়ে কাটিয়েছে। দিনটা ভালোই কেটেছে।

আজ শুক্রবার। বিকেলবেলা সবাই মাঠে খেলছে ক্রিকেট। রিয়াদ বই পড়া রেখে এগিয়ে গেল। দুজন কয়েদী ছেলে গাজা খাচ্ছে। রিয়াদ তাদের থেকে গাজা চাইল। তারা টাকা চাইলো। রিয়াদ টাকা দেওয়ায় তাকে গাজা দিল।

রাতের বেলা ১২ টা বাজে রিয়াদ সেই গর্ত দিয়ে পালিয়ে গেল। কেউ জানলো না।

সকালবেলা পুলিশগার্ড চর্টলাইট মারলো রিয়াদের জেলে। দেখে রিয়াদ নাই। তবে বাইরে তালা ঠিকই ঝুলছো। মারজানকে ডাকা হলো। উনি তালা খুলে ভেতরে ঢুকলেন। তারপর ক্যলেন্ডার সড়াতেই বুঝলেন। রিয়াদ সেখানে সুড়ঙ্গ করে পালিয়েছে।

মারজান এর ঠোঁটের কোনে হাসি। মারজান বললেন, খুব স্মার্ট ইম্প্রেস হয়ে গেছি। তবে আমাকে চ্যলেন্জ করলে রিয়াদ। তোমাকে দেখে নিব। আমার কারাগার থেকে পালাইসো৷ কাজটা ঠিক করোনি।

রিয়াদ বাইরে রাস্তায় মানবতার দেয়ালে ঝুলানো জামা কাপড় দেখলো। তারপর কয়েদীর পোষাক পাল্টে সেগুলো পড়ে নিল। তারপর সেখানেই ঘুমিয়ে পড়লো রাস্তায়।

রাত ৩টায় রিয়াদের ঘুম ভাঙলো। রিয়াদ  বুড়িগঙ্গা ব্রিজের ওপর থেকে  ২০০০টাকায় সেকেন্ড হ্যন্ড ফোন কিনলো। এই টাকা সে লুকিয়ে রেখেছিল তার কাছে।

রিয়াদ জানে পুলিশ তার ফোন ট্রাক করছে। এমনকি তার ব্যংকে ৫০ লাখ টাকা আছে। এটা উঠাতে গেলেও সে ধরা পড়বে পুলিশের কাছে কারন লোকেশন তাদের কাছে চলে যাবে।

রিয়াদ তার ফোন বের করে অন্যসিম ঢুকায়। তারপর রাশিয়ান সৈনিক বন্ধু দা গামা কে কল দেয়।

রিয়াদ সব খুলে বলে। কেন সে মকবুল কে খুন করেছে। তারপর জেল থেকে পালিয়েছে। এখন তার হাতে টাকা নেই ব্যাংকে রয়েছে কিভাবে বের করবে তাও পুলিশের চোখে ফাকি দিয়ে?

সব শুনে দা গামা বলল, কিপ্টোকারেন্সি।

রিয়াদ বুঝে গেল। রিয়াদ কল কেটে দিল। রিয়াদ তখনই ব্যাগ গুছিয়ে বের হয়ে পড়লো রাস্তায়। চারিদিকে কুয়াশা পড়েছে। আগামীকাল ইন্ডিয়া চলে যাবে রিয়াদ। সেখানে পরিচয় পাল্টে থাকবে সে।

রিয়াদ কখনই প্লান করে চলে না, হুটহাট যা প্লান আসে করে ফেলে। আর সেগুলোই তাকে বিপদে ফেলে।

রিয়াদ সেকেন্ড হ্যন্ড ফোনে ক্রিপ্টো এর একাউন্ড খুললো। তারপর সেখানে বাইনান্সে ডলার কিনলো টাকা দিয়ে। এখন ধরা পড়বে সেই বাইনান্স এর লোক। যেহেতু বাংলাদেশে এসব অবৈধ। তাই সেই বাইনান্স এর লোক কখনই ধরা পড়বে না। আর সে ধরা না পড়লে রিয়াদও ধরা পড়বে না। টাকা প্রথমে আমেরিকা গেল। সেখান থেকে ডলার হলো। এবার এটা টাকা নয় ডলার। সো এবার রিয়াদ সেই ডলার নিজের অন্য একাউন্টে সেন্ট করলো টাকায় রুপান্তর করে। এবার কেউ জানবেই না রিয়াদের টাকা কোথা থেকে কিভাবে কি হলো?

তারপর রিয়াদ ঢাকার একটা হোস্টেলে উঠলো রাতটা কাটানোর জন্য। আগামীকাল বর্ডার হয়ে ইন্ডিয়া চলে যাবে চোরাই পথে মাত্র ১০হাজর দিলেই কাজ হয়ে যায়।

এদিকে ইন্সপেক্টর মারজান কম্পিউটার এর সামনেই বসে ছিলেন। আজকে উনার নাইট ডিউটি। উনি দেখলেন। রিয়াদ এর একাউন্ট থেকে ৫ লাখ টাকা উদাও। তবে লোকেশন দেখাচ্ছে আমেরিকা। মারজান অবাক হলেন রিয়াদ এতো তাড়াতাড়ি আমেরিকা পৌছাল কিভাবে? নাকি রিয়াদ গেম খেলছে।

মারজান হোয়াইট হ্যাকার জসিমকে বলল সব ডিটেইলস বের করছে। উত্তেজনায় মারজান এর গলা শুকিয়ে গেল। উনি কফির মেশিন থেকে কফি ঢেলে পান করছেন।

মারজান জসিমকে বললেন, ব্যপারটা কি হলো? টাকা আমেরিকা গেল কিভাবে?

জসিম একটু ঘাটাঘাটি করে সব বুঝে গেল। জসিম বলল, কিপ্টোকারেন্সি। রিয়াদ খুব চালাক। বাইনান্স থেকে ডলার কিনে উইড্রো করেছে অন্য একাউন্ডে।

মারজান কফিতে চুমুক দিয়ে বলল, কার থেকে ডলার কিনেছে। তার লোকেশন বা অন্যকিছু। ওই লোকের নাম কি?

জসিম বলল, এসব আমাদের কন্ট্রোলের বাইরে।  বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যে ১০০ কোটি চুরি হলো। ওইটাই তো কে করছে ধরতে পারেনি। কারন কিপ্টোতে করেছে।

মারজান হতাশ হলেন। তারপর একটা সিগারেট ধরালেন। এমন সময় ডক্টর বোস তার কাছে আসলেন নুসাইবার চুলের স্যম্পল নিয়ে।

বোস বললেন, নুসাইবার খুনির সাথে রিয়াদের ডিএনএ মিল নাই। মানে রিয়াদ তাকে খুন করেনি।

মারজান বললেন, তাহলে খুনি কে?

বোস বললেন, তবে মকবুলকে রিয়াদ খুন করেছে।

মারজান বললেন, এই একটা খুনের দ্বায়েই তাকে আবার ধরতে হবে। কত বড় সাহস আমার জেল থেকে পালায়। এবার ধরলে তাকে দ্বীপের জেলে পাঠাবো। চারিদিকে পানি পালানোর পথ নেই।

বোস বললেন, নুসাইবার চুলে আমরা একটু কালো ধাতু পাই। যা কি না রোলেক্স ঘড়ির। মানে খুনি অবশ্যই ধনী ঘরের এবং কালো ঘড়ি ব্যবহার করে।

মারজান বললেন, এই ক্লু টা খুব কাজে আসবে।

রিয়াদ ২হাজার টাকায় 'মমতাজ হোস্টেল' এর ২য় তলায় ২৮ নম্বর রুম ভাড়া করলো। সেখানে গোসল করে টিভি অন করলো রিয়াদ। টিভিতে সিআইডি চলছে ইন্ডিয়ান শো। সেখানে এসিপি বললেন, খুনি আমাদের চোখের সামনেই থাকে। তবে আমরা কখনও তা ধরতে পারি না।

এরকম সময় রিয়াদের দরজায় কে যেন নক করলো। ঘড়িতে তাকিয়ে রিয়াদ দেখলো ভোর ৪টা বাজে। দরজা না খুলে লুকিং গ্লাসে চোখ রাখলো রিয়াদ। বাইরে একটা লোক দাড়ালো। হাতে খাবার। তবে রিয়াদ তো খাবার অর্ডায় দেয়নি।

রিয়াদ বলল, কে আপনি?

দরজার বাইরে থেকে লোকটা বলল, আপনার জন্য খাবার এনেছি।

রিয়াদ বলল, আমি তো অর্ডার দেই নি।

লোকটা বলল, এটা হোস্টেল এর থেকে ফ্রি সার্ভিস ।

রিয়াদের সন্দেহ কাটলো না।তবুও গেট খুলতে যাবে৷ তখনই রিয়াদের নজর পড়লো লোকটার পেছনে একটা লাশ পড়ে আছে। শুধু পা দেখা যাচ্ছে। রিয়াদ বুঝে গেল আসল ওয়েটার কে মেরে এইলোক ছদ্মবেশ ধারন করেছে। তবে এই লোকটা কে? লোকটার হাতের দিকে রিয়াজ লক্ষ্য করলো সেখানে রোলেক্স এর কালো ঘড়ি পড়া।

রিয়াদ বলল, আমি খাব না। আপনি চলে যান।

তখনই লোকটা খাবারের ঢাকনা খুললো। দেখা গেল সেখানে কোন খাবার নেই বরং একটা পিস্তল রাখা। রিয়াদ লুকিং গ্লাসে এসব দেখে ফেললো।

লোকটা পিস্তল নিয়ে লুকিং গ্লাসে গুলি করে দিল রিয়াদের চোখ বরাবর। রিয়াদ সরে গেল। অল্পের জন্য গুলি লাগেনি। তবে রিয়াদ বুঝে গেছে বিপদ এসে গেছে তার দরজায়। গুলিটা তখন টিভিতে গিয়ে লাগলো সঙ্গে সঙ্গে টিভি ব্লাস্ট হয়ে আগুন ধরে গেল। টিভির আগুন ঘরের পর্দায় লেগে গেল। তখনই ঘরে আগুন ছড়িয়ে যেতে লাগলো।

লোকটা এবার দরজার বাইরে থেকে লকের মধ্যে গুলি করে লক খুলে ফেলে। তারপর ঘরে প্রবেশ করে দেখে রিয়াদ নাই। এই কয়েক সেকেন্ডে রিয়াদ কোথায় লুকিয়েছে?  লোকটা ফোনের এ্যাপে ঢুকলো। এখানে দেয়ালের পেছনে কি আছে সব দেখা যায়। গ্রীন রংয়ের। মানুষ দাড়িয়ে থাকলে দেখা যাবে।

লোকটা পুরো ঘরে মোবাইলের ক্যমেরা দিয়ে দেখলো। আগুন ছাড়া কিছু দেখা গেল না। রিয়াদ তখন দেয়ালের ওপড়ে দুহাত ও দুপা টান করে ব্যলেন্স করে ঝুলে আছে। লোকটা ওপরে তাকালেই রিয়াদকে দেখতে পাবে। তবে রিয়াদ সে সুযোগ দিল না।

ওপর থেকে লাফ মেরে লোকটার ওপর পড়লো। লোকটা ফ্লোরে পড়ে গেল। হাতে থাকা মোবাইলটা ছটকে আগুনে গিয়ে পড়লো। এদিকে বাইরে তখন মানুষের চিৎকার। তারা আগুন নেভাতে ব্যস্ত।

লোকটা উঠে দাড়ালো। রিয়াদ ও রেডি। তবে লোকটা এবার তার পিস্তল ইউজ করলো না। সেটা ফেলে দিল। লোকটা বলল, মশা মারতে পিস্তল ইউজ করব না।

রিয়াদের ঠোঁটের কোনায় হাসি। একটা ঘুষি দিল রিয়াদ লোকটা নাক বরাবর। এক গুষিতেই শেষ। ফ্লোড়ে পড়ে গেল নাক গিয়ে রক্ত বের হচ্ছে আর অজ্ঞান হয়ে গেছে।

রিয়াদ বলল, মজা পেলাম না। দুর্বল শত্রু।

রিয়াদ চাইলেই লোকটাকে আগুনের মধ্যে ফেলে চলে যেত পারতো। তবে রিয়াদ এটা করলো না কারন অনেক প্রশ্নের উত্তর জানতে হবে।

রিয়াদ লোকটাকে কাধে নিয়ে বাচিয়ে আনলো রাস্তায়। পুরো হোস্টেলে আগুন লেগে গেছে সবাই নিভাতে ব্যস্ত। এদিকে রিয়াদ লোকটাকে কাধে করে একটা সিএনজি থামিয়ে জঙ্গলের দিকে নিয়ে গেল। সিএনজি ওয়ালা যাতে সন্দেহ না করে তাই রিয়াদ বললো এটা তার ভাই অসুস্থ হয়ে গেছে আগুন দেখে তাকে বাসায় নিয়ে যাচ্ছি। একটু ফার্মেসিতে থামাইয়েন ঔষধ কিনবো। রিয়াদ ফার্মেসি থেকে মরফিন কিনলো।

তারপর জঙ্গলের কাছে সিএনজি থামলো। রিয়াদ ড্রাইভারকে বলল, এই জঙ্গলে আমাদের বাসা। আপনাকে আর যেতে হবে না।

ড্রাইবার টাকা নিয়ে চলে গেল। রিয়াদ লোকটাকে জঙ্গলে এনে গাছের সাথে বেধে ফেলল। দুহাত পেছনে নিয়ে বাধলো আবার পেটের ওপর গাছের শিকড় দিয়ে বাধলো।

রিয়াদ মরফিন ইনজেকশন পুশ করে লোকটার বডিতে দিতেই লোকটা জেগে উঠলো। এবার জিজ্ঞেস করার পালা। কেন লোকটা রিয়াদকে খুন করতে চায়?

এদিকে ইন্সপেক্টর মারজান কম্পিউটার এর কাছে বসে আছেন। হ্যকার জসিমকে বলা হলো রিয়াদের শেষ লোকেশন বের করতে।

জসিম বলল, রিয়াদ সর্বশেষ ওয়াইফাই ইউজ করেছে ঢাকার তাজমহর হোটেল এর আশেপাশে লোকেশন জঙ্গলে দেখাচ্ছে।

মারজান বললেন, ৫জনের একটা টিম নিয়ে যাচ্ছি আমি রিয়াদকে ধরতে হেলিকপ্টার বের করতে বলো।

জসিম বলল, আমি সামান্য হ্যাকার ম্যডাম। হেলিকপ্টার কিভাবে বের করব?

মারজান বললেন, তোমাকে বলিনি। আমি ফোনে কথা বলছিলাম।

জসিম নিজের ভুল বুঝে দাত দিয়ে জিহ্বা কাটলো।

মারজান জসিমকে নিয়ে আরো ৫ জন সোয়াট টিম নিয়ে হেলিকপ্টার উড়ানো হলো আকাশে গন্তব্য রিয়াদ।

লোকটার জ্ঞান ফিরে এসেছে। লোকটা ভয়ে বললে, আমাকে কিসের ইনজেকশন দিয়েছেন?

রিয়াদ বলল, মরফিন। এবার আসল কথায় আসি। কে তুমি? আর আমাকে কেন খুন করতে চাও?

লোকটা বলল, আমি আপনাকে আগে থেকেই চিনি। নুসাইবা আপনার খালতো বোন। আমরা প্রেম করতাম। তবে নুসাইবা কিভাবে পারলো আপনার সাথে ফিজিক্যাল করতে?

রিয়াদ বুঝলো এই ছেলেটার মনে অনেক কষ্ট। এজন্যই ছেলেটা নুসাইবাকে খুন করেছে। এখন সবকিছু ক্লিয়ার রিয়াদের কাছে।

রিয়াদ বলল, আমি সৈনিক ছিলাম। সেখানে আমাদের রাশিয়া পাঠানো হয়। তখন আমার  সাথে ইসহাক বন্ধু সেখানে আমার চোখের সামনে মারা যায়। সেই ঘটনা আমি এখনও ভুলতে পারিনি।

তারা দুজনই বুঝে তারা ভাঙ্গা রিদয়ের মানুষ। আর তাদের ভালবাসা ছিল একজন নুসাইবা। যে এখন আর নাই।

রিয়াদ বলল, তা ভাই নাম কি তোমার?

লোকটা বলল, আমার নাম আসাদ চৌধূরী। গ্রামের চেয়ারম্যানের ছেলে আমি।

রিয়াদ বলল, আসলে আমি জানতাম না নুসাইবা তোমাকে ভালোবাসে।

আসাদ বলল, আসলে ও আমাকে ইউজ করছে। ওকে যখন কলেজ যেতে দেখি তখন প্রপোজ করি। পাট্টা দেয়নি। প্রায় ৭দিন ওর পেছনে ঘুরে ওটাইসি। তাও অবহেলা করতো সম্পর্ক থাকাকালীন। একটা চুমুও দেয়নি। সেখানে আপনার সাথে ফিজিক্যাল।।এটা আমি মেনে নিতে পারিনি।

রিয়াদ আসাদের কষ্ট নিজে অনুভব করলো। রিয়াদ বলল, আসলে নুসাইবা কখনও তোমায় ভালোবাসেনি। তুমি জোর করে ব্লাকমেইল করে তাকে পেয়েও তার মন পাওনি।

আসাদ এর চোখে জল।।আসাদ বলল, ঠিক বলেছেন। জোর করে মেয়েদের মন পাওয়া যায় না।

রিয়াদ বলল, তবে তোমার ভালোবাসা সত্যি ছিল। আজকাল এমন ভালবাসা পাওয়া যায় না।

আসাদ বলল, ভাই।।আপনি কখনও কাউকে মন থেকে ভালোবাসছেন?

রিয়াদ বলল, আমরা সৈনিক মানুষ খুন করেছি। মনে দয়া মায়া নাই। ভালোবাসা বলতে ডিকশনারীতে কোন শব্দ নাই।

এরকম সময় আকাশে হেলিকপ্টার দেখা গেল। হেলিকপ্টার লাইট মারছে জঙ্গলে। মারজান মাইকে বলছে, রিয়াদ নিজেকে সেলেন্ডার করো।

আসাদ বলল, ওরা আপনাকে ধরতে আসছে কেন? আপনি তো নুসাইবাকে খুন করেননি।

রিয়াদ বলল, আমি মকবুল কে খুন করেছি।

আসাদ বলল, তাহলে আমরা দুজনই অপরাধী।

রিয়াদ বলল, সেটাই বলা যায়।

হেলিকপ্টার দিয়ে ৫ জন সোয়াট টিম জঙ্গলে নামলো। তাদের হাতে রাইফেন। লেজার লাইট মেরে তারা এগোচ্ছে জঙ্গলের দিকে।

রিয়াদ এদিকে আসাদের হাতের বাধন খুলে তাকে মুক্ত করে দিল। তখনই রিয়াদ দেখলো আসাদের বুকের ওপর লেজার লাইট। তারপর ই রিয়াদ বুঝে গেল সোয়াড টিম তাদের পেছনে দাড়ানো।

রিয়াদ পেছনে ঘুরে তাকালো। ৫জন সোয়াট টিম রাইফেল হাতে দাড়ানো। তাদের ওপর রাইফেল তাক করা। লেজার লাইট মেরে তাদের নিশানা করে।

সোয়াট টিমের একজনের কপালে ঘাম কানে হেডফোন। হেডফোনে কথা বলছেন মারজান হেলিকপ্টারে বসে। সোয়াট টিমের লোক  বললেন, ম্যডাম ওদেরকি কি  গুলি করে দিব? রিয়াদের সাথে আরেকটা ছেলে তাকেও কি গুলি করে দিব?

মারজান বললেন, গুলি করে দাও।

রিয়াদ চোখ বন্ধ করে ফেলল। তার পাশে থাকা  আসাদ দাড়ানো। আসাদ অবাক হয়ে আছে?

যখনই সোয়াড টিম গুলি করবে। তখনই দেখা গেল ভিন্ন ঘটনা। হঠাৎ ৫টা গুলির শব্দে রিয়াদ চোখ খুলে দেখলো তার শরীরে একটাও গুলি লাগেনি। এমনকি আসাদের শরীরেও না। সামনে তাকিয়ে দেখলো সোয়াড টিমের ৫ জন পিঠে গুলি খেয়ে মাটিতে পড়ে আছে।

দূরে ২ টা লোক আসছে হেটে হেটে তারাই গুলি করেছে। কিন্তু কেন তারা রিয়াদকে বাচালো।

আসাদ বলল, এই ২ জন কে আসছে?

রিয়াদ উত্তর দিল না।

লোক দুজনের নাম ইসহাক ও সামির। রিয়াদ তাদের চিনে। ইসহাক তার বেস্টফ্রেন্ড।

ইসহাক ও সামির তাদের সামনে মুখোমুখি হলো। ইসহাক বন্দুক তাক করলো রিয়াদের দিকে।

রিয়াদ বলল, ভালো আসিস ইসহাক?

ইসহাক এর চোখে ঘৃনা। ইসহাক বলল, ব্যাংক থেকে হ্যাক করে ৫০ লাখ চুরি করেছিলাম ৩জন মিলে তুই,আমি,সামির। তাহলে তুই কেন টাকা নিয়ে একটা পালিয়ে গেলি?

রিয়াদ বলল, টাকা আমার কাছে নাই। বিশ্বাস না হলে আমার একাউন্ট চেক করো। (আসলে রিয়াদ অন্য একাউন্টে টাকা রেখেছে)।

আসাদ বলল, এইটা কি সেই ইসহাক যেকিনা রাশিয়ায় গুলি খেয়ে মরে গেছিল? তাহলে ও জিবীত হলো কিভাবে? আমি তো কিছু বুঝতে পারছি না।

ইসহাক বলল, রিয়াদ এই পোলাডা কে? ওরেও হয়তো মিথ্যা কোন গল্প বলসোস। তারপর ওই ওইসব বিশ্বাস করছে।।তবে আমাকে মিথ্যা গল্প বলে লাভ নাই।

রিয়াদ বলল, মিথ্যা না। তুই যখন হ্যাক করে টাকা পাঠাস। তখন সেটা আমার একাউন্টে আসেনি। আর আমি জানি তুই আমাকে ভুল বুঝবি।

এদিকে ইন্সপেক্টর মারজান হেলিকপ্টারে বসে অপেক্ষা করছে কখন রিয়াদ কে ধরে আনবে সোয়াড। তবে এখনও তারা আসছে না? এদিকে প্রেগন্যন্ট মারজান এর হঠাৎ  ব্যথা শুরু হয়ে গেল।

মারজান পাইলটকে বললেন, মিশন বাদ। আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাও।

তাদের হেলিকপ্টার চলে গেল হাসপাতালে।

এদিকে ইসহাক রিয়াদ কে বন্দুক পয়েন্ট করে রাখসে। এবার রিয়াদের সামনে গিয়ে রিয়াদের পেটে একটা ঘুষি মারলো। রিয়াদ ব্যথা পেল তবে রিয়েকশন করলো না।

ইসহাক বলল, তাড়াতাড়ি বল টাকা কই? না হলে খুন করে বলবো। তোর লগের পোলারে গুলি করে দিব।

তারপর ইসহাক ভয় দেখানোর জন্য আসাদের হাটু তে গুলি করে দিল। ব্যথায় কুকড়ে উঠলো আসাদ। দুহাত দিয়ে হাটু চেপে ধরলো। হাটু থেকে রক্ত বের হচ্ছে।

আসাদ বলল, আমাকে কেন গুলি করলেন?

ইসহাক বলল, চুপ কর তুই।তোরে মারলেই ও টাকা ফেরত দিবে।

রিয়াদ বলল, ওকে মেরো না।।আমি লোকেশন বলছি। তোমরা ওখানে গেলেই টাকা পাবে।

ইসহাক বলল, তোরে বিশ্বাস করে কোন হালায়? তুই আমাদের সাথে চল।

তাদের গাড়িতে উঠানো হলো। ইসহাক গাড়ি চালাচ্ছে তার পাশে আসাদ বসা। পেছনে সামির ও রিয়াদ বসা।

খোকা একটা কাপড় দিল আসাদকে। খোকা বলল, এটা দিয়ে পা টা বেধে নে।

রিয়াদ সামিরকে বলল, আমি টাকা লুকাইনি বিশ্বাস কর।

সামির বলল, তোর মতো মিথ্যুক কে বিশ্বাস করি না।

রিয়াদ বলল, আমি আগে মিথ্যা বলতাম এখন বলি না।

রিয়াদ তাদের নিয়ে একটা বন্ধ ফ্যক্টরীর সামনে আসলো। আসলে এটা রিয়াদের ই প্লান করা ছিল। রিয়াদ জানতো একদিন না একদিন সে ধরা পড়বে। তখন তাদের এই ফ্যক্টরীতে আনবে। পুরো ফ্যক্টরীতে বোমা লাগানো। তার সুইচ রিয়াদের পকেটে। সো পুরো গেমটা এবার রিয়াদ কন্টোল করবে।

রিয়াদ মনে মনে বলল, মাঝে মাঝে বোকা সাজতে হয় অন্যকে বোকা বানানোর জন্য। আর আমাকে বোঝা সম্ভব ই না 😂

ইসহাক গাড়ি থেকে নেমে বলল, আমি আগে যাই।তুই বাইরেই থাক। এই ফ্যক্টরীতেই টাকা আছে। আর টাকা না পেলে রিয়াদকে খুন করে দিবি।

তারপর ইসহাক ফ্যক্টরীর গেটের কাছে যেতে থাকে।

গাড়িতে বসা রিয়াদ সামিরের বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে সামিরকে পেটে গুলি করে দিল। আসাদ সামনের সিটে বসা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।

বন্দুকের শব্দ শুনে আর সামিরের চিৎকার শুনে ইসহাক এর সন্দেহ হলো। ইসহাক বন্ধ ফ্যক্টরীর সামনে গেটে দাড়িয়ে পড়লো। তারপর পেছনে তাকালো গাড়ির দিকে। গাড়ির  কালো উইন্ডো গ্লাস লাগানো। ভেতরে কি হচ্ছে দেখতে পেল না। তবুও সন্দেহ কাটলো না ইসহাক এর। ইসহাক কোমড়ের পেছন থেকে পিস্তল বের করে লোড করলো। তারপর গাড়ির কাছে এগিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে গাড়ির ভেতরে থাকা রিয়াদ আসাদকে বলল, গাড়ি স্টার্ট দাও।

আসাদ তাড়াহুড়া করে গাড়ি স্টার্ট দিল। ইসহাক দৌড়ে গাড়ি ধরতে আসলো। তবে ৫হাত দূরে থাকতেই গাড়ি তার সামনে দিয়েই চলে যাচ্ছে। ইসহাক পিস্তল দিয়ে গাড়ির টায়ারে নিশানা করে গুলি করলো। সঙ্গে সঙ্গে টায়ার ফেটে গেল।

রিয়াদ বলল, গাড়ি থামানোর দরকার নাই।

এদিকে গাড়ির টায়ার রাস্তায় ঘষা খেয়ে আগুনের ফুলকি বের হচ্ছে। ইসহাক বিরক্ত হয়ে বলল, শিট। শিট শিট।

তখনই রিয়াদ পকেট থেকে সুইচ বের করে টিপ দিতেই পুরো ফ্যক্টরী ব্লাস্ট হয়ে গেল। ইসহাক ফ্যক্টরী থেকে অনেকটা দূরে তাই একটুর জন্য বেচে গেল। তার পেছনে পুরো ফ্যক্টরী আগুনে ঝলছে।।ইসহাক পকেট থেকে সিগারেট বের করে জ্বালায়।

চলন্ত গাড়ি থেকে গেট খুলে  সামিরকে ধাক্কা মেরে রাস্তায় ফেলে দেয় রিয়াদ। কয়েকটা ডিগবাজি খেয়ে রাস্তায় সামির দূরে গিয়ে পড়ে।

আসাদ বলল, আপনি চাইলে তো ওরে পুরো ই খুন করে পারতেন?  করলেন না কেন?

রিয়াদ কোন উত্তর দেয় না। গাড়ি চলতে থাকে গন্তব্যহীন।

ইসহাক এর ভাগ্য ভালো৷ হঠাৎ সেই জায়গা দিয়ে এক ইয়ং ছেলে বাইক চালিয়ে যাচ্ছিল। ইসহাক ছেলেটাকে পিস্তল এর ভয় দেখিয়ে বাইক থামায়। তারপর সেই বাইকে উঠে পড়ে ছেলেটাকে মাটিতে ফেলে দেয়।  এবার কিছুদূর বাইক টানার পর সামনে সামির কে পড়ে থাকতে দেখে ইসহাক রাস্তার একপাশে ঘাষের ওপর। ইসহাক নিজের ফোনটা ছুড়ে সামিরকে দিয়ে দেয়।  একটুও বাইক থামায় না। কারন রিয়াদকে ধরতে হবে। সামির এখন ৯৯৯ এ কল করে এম্বুলেন্স ঢেকে হাসপাতালে চলে যেতে পারবে।

এদিকে রিয়াদ আসাদকে বলে, ইসহাক আমাকে ধরতে আসবে। তুমি ওকে গাড়ি দিয়ে উড়িয়ে দিও।

আসাদ বলল, আপনারা তো বেস্টফ্রেন্ড ছিলেন। শত্রু হলেন কিভাবে?

রিয়াদ বলল, রাশিয়ায় যখন আমি আর ইসহাক যুদ্ধে যাই সৈনিক হয়ে। তখন এক রাশিয়ানকে আমার ভালোলাগে। দা গামা নামের রাশিয়ান সৈনিক এর বোন ছিল মেয়েটা নাম গালগাডর। গালগাডর কে আমি ভালোবাসতাম। আমরা বিয়েও করেছিলাম। তবে মেয়েটা ছিল বোকা। প্রসংশা শুনলে পটে যেত। ইসহাক সেদিন আমার সামনে ওকে প্রশংসা করতো। আমি বুঝতাম ফ্লাট করছে নিজের ভেতর ভয় হতো। এই বুঝি আমার স্ত্রী ওর প্রতি দুর্বল হয়ে যায়। হলোও তাই। একদিন বাসায় এসে দেখি ইসহাক ও গালগাডর এই বিছানায়, একই চাদের নিচে।

কথা শেষ না হতেই গাড়ির পেছন থেকে পিস্তলের গুলির শব্দ পাওয়া গেল। ইসহাক গুলি করছে গাড়িতে।

একটা গুলি এসে গাড়ির পেছনের কাচ ভেঙ্গে গেল।

আসাদ বলল, আপনার হাতে তো বন্দুক আছে ওরে গুলি করে দেন। আপনি কেন তাকে মেরে ফেলছেন না?

রিয়াদ বলল, আমি তাকে তরপিয়ে তরপিয়ে মারতে চাই। তাকে বোঝাতে চাই আমার স্ত্রী ধোকা দিসে।।সেটায় দুঃখ পাইনি। তবে বেস্টফ্রেন্ড এর ধোকায় দুঃখ পেয়েছি। এটা আমি কখনও ভুলতে পারিনি। তাই সবমসয় বলি ইসহাক মারা গেছে যুদ্ধে। কারন এরকম বন্ধু থাকার চেয়ে না থাকা ভালো।

আসাদ বলল, সেটা তো বুঝলাম। তবে ব্যাংকে সিস্টেম হ্যাক করে ৫০লাখ চুরি। সেটা তো বুঝলাম না।

রিয়াদ বলল, সবে এসএসসি দিয়েছি ছোটবেলা থেকে সৈনিক হওয়ার ইচ্ছা। তবে বাংলাদেশে ৬ ফুট উচ্চতা না হলে সৈনিক নেয় না। আব্বু বলল, সৌদী আরব পাঠাবেন। তবে টাকার সমস্যা। তখন সামির ছিল হ্যাকার। ও হ্যাক করে ব্যাংক আর আমার একাউন্টে সব টাকা চলে আসে। তখন আমি আর ইসহাক সৌদী চলে যাই। সেখান থেকে সৈনিকের চাকরী পাই। তবে ইসহাক এর বিশ্বাস ঘাটকতায় আমি চলে আসি বাংলাদেশ সব টাকা আমার কাছে। এখন ইসহাক এর কথা সম্পর্ক না রাখ আমার টাকা আমাকে দিয়ে দে।

আসাদ বলল, এতো প্যাচ। আমার মাথা হ্যাং হয়ে গেছে।

রিয়াদ বলল, গাড়ি থামাও।

আসাদ গাড়ি ড্রাইরেক্ট ব্রেক করলো। পেছনে ইসহাক ছিল। ইসহাক ব্রেক করতে পারলো না বাইক। আসাদের গাড়ির পেছনে বাইক লেগে বাইকটা তখন উড়ে গিয়ে আসাদের গাড়ির সামনে এসে পড়লো ধপাস করে। তাদের সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় বাইকে পড়ে আছে ইসহাক।

আসাদ বলল, ইসহাক এর ওপরে বাইক উড়িয়ে দিব?

রিয়াদ বলল, দরকার নাই। তাকে পাশ কাটিয়ে চলে যাও।

তারা পাশ কাটিয়ে চলে আসলো। গন্তব্যহীন ভাবে তাদের গাড়ি চলছে।

আসাদ বলল, আপনাকে ইসহাক মারতে চায়। তো সবচেয়ে নিরাপদ হবে আমার বাসা। আর আমার বাসা আপনার নানী বাড়ি থেকে ১০ কি:মি: দূরে। আর পুলিশ আপনাকে খুজছে। যেহেতু আমার চাচা চেয়ারম্যান। তো আমাদের বাসা থেকে কেউ আপনাকে ক্ষতি করতে পারবে না।

রিয়াদ বলল, তোমার বাসায় কে কে আছে?

আসাদ বলল, আমি,চাচা  তবে চাচা কানে শোনে না আর ছোটবোন কাবেরী।

রিয়াদ বলল, কাবেরী। সুন্দর নাম।

আসাদ বুঝলো রিয়াদ হয়তো তাার বোনের প্রেমে পড়বে। তবে আসাদ নিজের মনকে বোঝাবো এসব নিচু মনের চিন্তাভাবনা তার মনের উচিত না।

গাড়ি ছুটে চলেছে আসাদের বাড়ির দিকে। এদিকে রিয়াদ গাড়ি থেকে ছুড়ি নিয়ে গ্যাসলাইট দিয়ে আসাদের হাটুর থেকে ইসহাক এর গুলিটা বের করলো।

এদিকে ভোর হতে শুরু করেছে রিয়াদ গাড়িতে শুয়েই কখন যে ঘুৃমিয়ে পড়লো তা সে নিজেও জানে না।

(সকাল ১০টা বাজে।)

হাসপাতলের ২য় তলায় ইন্সপেক্টর মারজান এর একটা কন্যসন্তান হয়েছে। উনি সেটার নাম রাখলেন মরিয়ম। মারজান কে চিন্তিত দেখা গেল। উনি জসিমকে বললেন, রিয়াদকে কি ধরা হয়েছে?

জসিম বলল, না।

এদিকে সেই হাসপাতালেই ইসহাক কে স্থানীয় লোকেরা ভোরবেলা হাসপাতালে ভর্তি করালো। ইসহাক দেখলো তার পাশের বেডে সামির শুয়ে আছে পেটে ব্যন্ডিজ করা। ইসহাক এর পুরো শরীরে ব্যন্ডেজ লাগানো।

ইসহাক পা টেনে টেনে বেড থেকে নেমে বাইরে এসে সিগারেট ধরালো। তখনই তার নজর পড়লো তাদের পাশের রুমে। সেখানে ইসহাক মারজানকে দেখতে পেল।

সিগারেট ফেলে ইসহাক এগিয়ে গেল মারজান এর সামনে। মারজান এর কোলে বাচ্চা।

ইসহাক বলল, কেমন আছেন ইন্সপেক্টর।

মারজান বলল, তুৃমি কে?

ইসহাক বলল, আমি রিয়াদের বন্ধু।

মারজান সতর্ক হয়ে গেলেন। এক হাতে বাবু ধরে বালিশের নিচ থেকে আরেক হাতে পিস্তল বের করে ইসহাকের মুখ বরাবর ধরলেন।

ইসহাক হেসে বলল, ভয় পান কেন? আমরা এখন শত্রু। আমি রিয়াদকে ধরিয়ে দিব আপনার কাছে। প্রমিজ।

ইসহাক হ্যন্ডশেক এর জন্য হাত বাড়িয়ে দিল। মারজান হ্যন্ডশেক করলেন। দুজনের ঠোঁটের কোনায় হাসি।

<<>দৃশ্য পরিবর্তন>>

আসাদ ও রিয়াদ গাড়ি থেকে নেমে ১তলা বিল্ডিংয়ের সামনে আসলো।

আসাদ বলল, এটাই আমাদের বাড়ি। এখানে আমার চাচা আমি আর বোন থাকি। চাকর আছে ২জন রান্না বান্না করে রাতে থাকে না চলে যায়। আমার চাচাই আমাদের ছোটবেলা থেকে মানুষ করছেন। কখনও বিয়ে করেননি।

হাটতে হাটতে মেইন দরজায় আসাদ  কাবেরী কে দেখিয়ে বলল, এই হচ্ছে আমার বোন কাবেরী।

রিয়াদ বলল, ও আচ্ছা।

কাবেরী তখন কানে হেডফোন দিয়ে গান শুনছিল আর চোখের পাতা না ফেলে রিয়াদের দিকে অপলক ভাবে চেয়ে ছিল। কাবেরী মনে মনে বলল, হ্যন্ডসাম ছেলে। একে পটাতে হবে।

আসাদ কাবেরীর হেডফোন খুলে দিয়ে বলল, সারাদিন খালি গান শুনোস। যা পড়তে বস।

কাবেরী আসাদের পিঠে থাপ্পড় মেরে বলল, তো তোর কী গান শুনলে? তুই পড়তে বস।

রিয়াদ মনে মনে বলল, খুব ডেঞ্জারাস মেয়ে সাবধানে থাকতে হবে এখানে।

আসাদ ঘরের ভেতরে ঢুকলেই দেখা গেল তার চাচা নাস্তা করছেন চুপচাপ। দুজন চাকর পাশে দাড়ানো।

আসাদ পরিচয় করিয়ে দিল। আসাদ ইশারায় বলল, এই রিয়াদ আমার বন্ধু।।কয়েকদিন বেড়াতে এসেছে।

আসাদ রিয়াদকে বলল, ভাই হাত তুলে সালাম দেন চাচাকে?

রিয়াদ বলল, আমি নাস্তিক। ধর্ম বিশ্বাস করি না।

আসাদ বলল, আরে ভাই ফর্মালিটি।

রিয়াদ বলল, হোয়াটস আপ। ভালো আছেন চাচা।

চাচা হতবাক। রিয়াদকে দেখে ভাবলেন এ কোথাথেকে এলো? কোন আদব কায়দা নাই।

আসাদ বলল, চলেন নাস্তা করে ফেলি।

রিয়াদ কোন কথা বলল না এমনিতেও তার অনেক ক্ষুদা লেগেছিল। তাই নাস্তা করে নিল।

রিয়াদকে আসাদ নিজের রুমে নিয়ে গেল। আসাদ বলল, আপনি থাকেন এখানে। কোন সমস্যা হলে জানাবেন।

রিয়াদ বলল, আচ্ছা। আমাকে কেউ বিরক্ত না করলে খুশি হবো।

আসাদ চলে যায়। রিয়াদ দরজা চাপিয়ে ফোনে টিকটক দেখতে হবে শুয়ে। এমন সময় দরজা খুলে প্রবেশ করে কাবেরী।

রিয়াদ তাড়াতাড়ি উঠে বসে।

কাবেরী বলে, কি করেন?

রিয়াদ মনে মনে, এই মেয়েটা মিশুক প্রকৃতির। সবার সাথে সহজে মিশতে পারে। তবে আমি কেন পারি না?

রিয়াদ বলল, এইতো টিকটক দেখি।

কাবেরী বলল, খেলবেন?

রিয়াদ একটু কেশে বলল, কি খেলবো?

কাবেরী বলল, ফোনের মধ্যে লুডু খেলি চলেন।

রিয়াদ বলল, আচ্ছা ঠিক আছে।

ফোনে লুডু খেলছে কাবেরী ও রিয়াদ।

কাবেরী বলল, আপনার গার্লফ্রেন্ড নাই?

রিয়াদ হাসলো। উত্তর দিল না।

কাবেরী বলল, তার মানে আপনি সিঙেল। আমাকে অনেক ছেলে প্রপোজ করে পাট্টা দেই না।

রিয়াদ বলল, ভালো।

কাবেরী বলল, আপনার হাসিটা সুন্দর।

রিয়াদ বলল, জানি।

কাবেরী বলল,আচ্ছা আমি কি আপনাকে বিরক্ত করছি? করলে বলবেন। চলে যাবো।

রিয়াদ কোন উত্তর দিল না।

কাবেরী বলল, আমি আসলে ইচ্ছাকৃতভাবে লুডু খেলায় হেরে গেছি।

রিয়াদ বলল, খেলা না পারলে সবাই এমন ই বলে।

<<দৃশ্য পরিবর্তন >>>

এদিকে রিয়াদ এর খালতো ভাই ইরান এর কাছে খবর এলো চেয়ারম্যান বাড়িতে রিয়াদ লুকিয়ে আছে।

ইরান কোপা সামশুকে খবর দিয়ে ডাকলেন।

ইরানের সামনে বসে আছে কসাই সামশু।

ইরান বলল, ও আমার ভাই মকবুলকে খুন করেছে। তোমাকে টাকা দিলাম অর্ধেক কাজের। তবুও রিয়াদ কে খুন করলে না কেন?

সামশু বলল, আমি ভাই খুব মানসিক কষ্টে আছি। আমার মেয়ে মারা গেল। এজন্য এখন এসব ছেড়ে দিতে চাই।

ইরান বলল, অবশ্যই ছেড়ে দিবে। তবে তোমার সাথে যে আমার ডিল টা হলো ওইটা কম্পিলিট করো। তারপরের টা পরে।

সামশু বলল, আচ্ছা দেখবোনে।

ইরান বলল, কোন দেখাদেখি নাই। আজ রাতেই তুমি চেয়ারম্যান বাড়ি গিয়ে রিয়াদকে খুন করো। না হলে রিয়াদ চেয়ার ম্যান সাহায্যে নানীর জায়গায় ভাগ বসাতে আসবে। আর এই জায়গা আমি একা খাবো কাউকে দিব না।

সামশু বলল, আচ্ছা। ঠিক আছে। কাজ হয়ে যাবে।

<<দৃশ্য পরিবর্তন >>

এদিকে হাসপাতালে ইসহাক ইন্সপেক্টর মারজান এর সাথে কথা বলছেন। এমন সময় সেখানে সামির আসলো।

ইসহাক সামিরকে বলল, এই ইন্সপেক্টর ম্যাডাম  রিয়াদকে খুজছে মকবুলকে নাকি রিয়াদ খুন করছে।

জসিম বলল, রিয়াদ এর লোকেশন পেয়ে গেছি। ও এখন ওর নানীর বাড়ির ১০ কি.মি. দূরে চেয়ারম্যান বাড়িতে আছে।

ইসহাক বলল, চেয়ার ম্যান বাড়িতে আপনাদের পুলিশরা কিছু করতে পারবেন না। আমি আর সামির সামলে নিব।

সামির বলল, আচ্ছা ম্যডাম আপনি কেন রিয়াদ মতো ছোট আসামির জন্য এতো কষ্ট করছেন?

মারজান বলল, আমার বড় মেয়ে সাবিনা তখন কলেজে পড়ে রিয়াদের সাথে। ওরা প্রেম করতো। তবে রিয়াদ ওর সাথে ফিজিক্যাল করে পরে বিয়া না করে সৌদী আরব পালিয়ে যায়। তারপর আমার সাবিনাকে দেখি সিলিং ফ্যান এর ওপর তার মৃত দেহ ঝুলছে।

কথাটা বলে গলায় আটকে উঠে মারজান। যেন এখন মৃত সাবিনার দেহ তার চোখের সামনে ভেসে উঠে। উনি ভুলতে পারেন না।

ইসহাক বলে, সেখান থেকে আমি সাবিনার মা হিসেবে ইন্সপেক্টর কে আগে থেকেই চিনতাম।

সামির বলল, রিয়াদ সবাইকে ধোকা দিসে। অনেক খারাপ। তো আমরা ওকে মেরে ফেলবো।

ইসহাক সামিরকে ইশারায় চুপ হতে বলল। কারন ইসহাক জানে পুলিশের লোক চাইবে রিয়াদকে জীবিত ধরতে। তবে তাদের প্লান ভিন্ন। যা সামিরও বুঝে গেল।

ইসহাক বলল, তো আজ রাতে আমরা রিয়াদের ওখানে যাচ্ছি। দোয়া করবেন। আর পুলিশ চেকপোস্ট এ পিস্তল দেখলে যাতে আমাদের ছেড়ে দেয় সেই দ্বায়িত্ব আপনাদের।

মারজান এর মনের ভেতর খুশি ও দ্বায়িত্ব একসাথে কাজ করছে।।উনি চান রিয়াদকে খুন করতে। তবে ইন্সপেক্টর বলে সরাসরি বলতে পারেন না। কারন এটা আইনের বিরুদ্ধে।

<<<দৃশ্য পরিবর্তন >>

রাত ১২টা বাজে। বাইরে কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দ। গামছা দিয়ে মুখ ঢেকে সামশু চাপাতি হাতে ঘাষের ওপর হেটে চলেছে গন্তব্য চেয়ার ম্যান বাড়ি।

এদিকে পিস্তল নিয়ে বাইকে ইসহাক ও সামির ও চেয়ারম্যান বাড়ির দিকে আসছে।

ঘরের ভেতর শুয়ে শুয়ে আসাদ ফোন টিপসে ফ্রি ফায়ার গেম খেলছে। এদিকে রিয়াদকে দেখা গেল চিন্তিত, মন খারাপ।

আসাদ বলল, ভাই মন খারাপ কেন?

রিয়াদ বলল, একটু মদ খেলে ভালো হতো।

আসাদ বলল, এই ব্যপার। আসাদ খাটের নিচের থেকে ফরেইন মদ বের করলো। এক চুৃুমুকে পুরো বোতল খালি করে ফেলল রিয়াদ।

মদ খাওয়ার পর রিয়াদের মুড চ্যন্জ হয়ে গেল। রিয়াদ বলল, একটা ডিজে গান বাজাও নাচবো।

আসাদ হেসে বলল, মদ খেয়ে কি পাগল হয়ে গেলেন? এতো রাতে গান বাজালে বাড়ির সবাই উঠে পড়বে। ওয়েট। এই নেন হেডফোন দিয়প গান শোনেন।

রিয়াদ হেডফোনটা নিল। তারপর গান প্লে করলো।

দেয়ারের ওপাশে ঘরের বাইরে তখন সামশু দাড়িয়ে আছে। ভেতরের কথা শোনার চেষ্টা করছে।

আসাদ বলল, আমি একটু ওয়াশরুম থেকে আসি।

দরজা খুলে আসাদ বাইরে বের হলো। তখনই দেখলো দূরে একটা বাইক দাড়িয়ে আছে। আসাদ পাট্টা না দিয়ে একটু দূরে গিয়ে হিসু করতে লাগলো।

এই সুযোগে খোলা গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকলো সামশু। তার হাতে চাপাতি।

নাচতে নাচতে হঠাৎ রিয়াদের মনে হলো কে যেন পেছনে দাড়ালো। রিয়াদ পেছনে তাকিয়ে দেখলো একটা লোক দাড়িয়ে আছে গামছায় মুখ পেচানো।

রিয়াদ বলল, কে তুই? ডাকাত নাকি?

সামশু গামছা মুখ থেকে সড়িয়ে বলল, আমি আজরাইল।

রিয়াদ তাকে চিনে ফেলল।

এদিকে সামির ও ইসহাক বাইক থেকে নেমে আসাদের সামনে আসলো। ইসহাক বন্দুক ধরলো আসাদের কোমড়ে।

#যৌদ্ধা
#রুদ্র_সিয়াম

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পিচ্চি বউ - পর্ব ২৯

 আমি জেরিনকে বললাম, আবারো তুমি প্যন্টে হিসু করে দিয়েছো?  জেরিন ঘুমঘুম চোখে বলল, এটা হিসু না। লাইট অন করেন। আমি লাইট অন করলাম। আর অবাক হয়ে তার সাদা পাজামার দিকে তাকালাম। তার সাদা পাজামা পুরো লাল হয়ে আছে। আমার  আন্ডারওয়ারেও কিছু লাল দাগ লেগেছে।  আমি ভয়ে আতংকিত হয়ে জেরিনের গালে দুহাত হাত রেখে  বললাম , ও মাই গড। তোমার রক্ত বের হচ্ছে কেন? জেরিন বলল, এমন নাটক করতাসেন কেন? ড্রয়ার থেকে প্যাড এনে দেন।  আমি ড্রয়ার থেকে প্যাড এনে দিলাম।  আমি বললাম, তোমার কি কোথাও কেটে গেছে। না হলে রক্ত বের হচ্ছে কেন? জেরিন রেগে বলল, ফাজিল কোথাকার বুঝেন না আমার পিরিয়ড হচ্ছে। এই কথা শুনে আমি জেরিনকে জড়িয়ে ধরলাম। তারপর কানে কানে বললাম, তোমার কি খুব কষ্ট হচ্ছে? পেট ব্যথা করছে?  <amp-auto-ads type="adsense"         data-ad-client="ca-pub-9645388120151436"> </amp-auto-ads> এদিকে জেরিন দেখি খুব নরমাল আছে। যেন কিছুই হচ্ছে না তার। ইরা যখন বলেছিল তার মিন্স হচ্ছে। তখনই ইন্টারনেটে সার্চ দিয়েছিলাম যে মিন্স হলে মেয়েদের কেমন ফিল হয়। সেখানে পড়লাম মিন্স হলে মে...

খালাতো বোনের সাথে প্রেম / রোমান্টিক প্রেমের গল্প / Rudro Siyam

মা যখন বললেন যে আমার বিয়ে হবে আমার খালাতো বোনের সাথে। সে কথা শুনেই আমি ভয়ে বাসে করে কক্সবাজার চলে আসলাম। এখানে একটি হোটেলে উঠেছি নিজেকে লুকিয়ে রাখার জন্য।  আমাকে পেলেই মা-খালা মিলে বিয়ে দিয়ে দিবে। তাই কয়েকদিন লুকিয়ে থাকি। যখন সুরভীর বিয়ে হয়ে যাবে। তখন আমি আবার বাড়ি চলে যাবো। হ্যা! সুরভী ই আমার খালাতো বোনের নাম। এবার ক্লাস টেনে উঠেছে আর তাকে বিয়ে দিয়ে আমার ঘাড়ে চাপানোর প্লান করছে আমার মা আর খালা।  হোটেল রুমে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ কলিংবেলের শব্দে তড়াক করে উঠে। দরজা খুলতেই দেখি একটা ফুলের তোড়া হাতে কে যেন দাড়িয়ে আছে। ফুলটার গন্ধ নিতেই আমি অজ্ঞান হয়ে গেলাম। জ্ঞান ফিরলে দেখি আমার হাত,পা বাধা করে আমাকে গাড়িতে করে কোথায়ও যেন নিজে যাওয়া হচ্ছে। তার মানে কি আমাকে কিডন্যাপ করা হয়েছে। গাড়ি যে চালাচ্ছে। সে রাকিব। আমার বন্ধু! রাকিব: দোস্ত! টেনসন করিস না! লাইফে একবার না। একবার তো বিয়ে করতেই হবে। বিয়ে থেকে পালালে হবে?  আমাদের ধর্মে তো বিয়ে করা ফরজ। তাহলে তুই পালিয়ে বেড়াচ্ছিছ কেন? আমি: তুই কিভাবে জানলি যে আমি কক্সবাজারের হোটেলে আছি? তোকে কে খবর দিল? রাকিব: আরে! বেটা! এখন ইন্টারনেটের যুগ। তুই...

প্লেবয় লাভ স্টোরী) রোমান্টিক প্রেমের গল্প/ রুদ্র সিয়াম

শামীম: রুদ্র। তুই একটা প্লেবয়। তুই এতো মেয়েকে কিভাবে পটিয়ে ফেলিস বুঝি না। যেখানে আমাকে কোন মেয়েই পাট্টা দেয় না। দোস্ত। মেয়ে পটানোর টিপস গুলো আমাকে একটু বল। আমিও তোর মতো প্লে বয় হতে চাই। আমি মোবাইলের স্ক্রিন থেকে চোখ সড়িয়ে তাকালাম শামীমের দিকে। বেচারা এতোবার রিজেক্ট খেয়েছে। এখন আমার কাছ থেকে মেয়ে পটানো শিখতে চায়। আমি: দেখ একটা মেয়ের পেছনে কম হলেও ৪/৫ টা ছেলে ঘোরে। এখন যদি তুইও ঘুরিস। তাহলে সেই ৪টা ছেলে আর তোর মধ্যে কি তফাত থাকলো? তোকে হতে হবে স্পেশাল। তাহলেই দেখবি মেয়েরা তোর প্রতি আগ্রহ দেখাবে আর তোর পেছন পেছন ঘুরবে। বুঝলি? শামীম: আচ্ছা। চেষ্টা করে দেখব। আর কোন টিপস নাই।  আমি: মেয়েদের পাট্টা দিবি না। তাহলে মেয়েরা তোকে পাট্টা দিবে। যত সুন্দর মেয়েই হোক। এমন ভান করবি তোর সামনে কিছুই না। শামীম: কিন্তু আমার তো মেয়েদের সামনে গেলেই হাত পা কাপে। আর টয়লেট লাগে বার বার।  আমি: এরকম হলে তুই কখনই মেয়ে পটাতে পারবি না। আজীবন সিঙেল ই থাকবি। এরকম সময় আমাকে সুনেরাহ কল দিল। আমি কল রিসিভ করলাম। আমি: (ধমক দিয়ে) এই সময়ে কল দিয়েছো কেন? জানো না আমি ব্যস্ত থাকি। তোমাকে বলেছি রাত ১২ টার পর কল দিবা। কত ম...