সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আদম পরিবার (সিজন ৩) রুদ্র সিয়াম

 ফাদার তলোয়ার উচু করে ধরলেন আকাশে। জনগনের ভিড়কে লক্ষ্য করে বললেন, লিসা ও এন্টোনি আপনাদের সামনে এরা চোখ ও হাত বাধা অবস্থায় বসে আছে। কারন এরা পাপ করেছিল। তাই আমি এদের শাস্তি দিব। 


ভিড়ের মাঝে ড্যনিয়েল দাড়িয়ে আছে। আর ভাবছে জনগন কেন এটার প্রতিবাদ করছে না। সবার সামনে ফাদার মেরে ফেলার কথা বলছে জনগন বলছে, তাদের মেরে ফেলো। তাদের মেরে ফেলো।


কেন এতো ঘৃনা?


ফাদার বলতে লাগলেন, আন্টোনি কে সবাই চিনেন। তার বাবা মা ছিল না।।আমি তাকে চার্চে এনে বাপ্টিজম করাই। তাকে সাধু বানাই। তার পবিত্রতা নষ্ট করেছে এই মেয়ে লিসা। আপনারা কি চান? এর সাথে কি করা উচিত?


ভিড়ের জনগন রাগে চিৎকার করতে লাগলো, লিসা কে তলোয়ার দিয়ে মাথা দু'ভাগ করে দাও। তাকে মেরে ফেলো।


এই প্রচন্ড ভিড়ের মাঝে ড্যনিয়েল ঘামতে লাগলেন। ড্যনিয়েল চাইছে এরকম কোন অলৌকিক কিছু হোক। যেখানে লিসাকে মাফ করে দেওয়া হবে।


ফাদার বললেন, সবার প্রথমে আমি আন্টোনির গলা কাটবো।


জনগন চেচিয়ে হাত উচু করে বলল, তাকে মেরো না। তাকে মেরো না। তারা কান্নায় ভেঙে পড়লো।


তারা বলতে লাগলো, আন্টোনির দোষ নাই। ওই ডাইনি ওকে দিয়ে অপবিত্র কাজ করিয়েছে।


ফাদার ভাবলেন এখন আন্টোনিকে মেরে ফেলছে পুরো জনগন ওনার বিপক্ষে চলে যাবে। তাই উনি আন্টোনি কে পারলেন না।


ফাদার ইশারা করতেই  কালো কাপড় পরা লোকরা আন্টোনিকে নিয়ে চার্চে প্রবেশ করলো। 


এবার ফাদার লিসার সামনে আসলো। লিসার ঘাড়ে তলোয়ার রেখে ফাদার বললেন, তোমার কি কোন শেষ কথা আছে?


লিসা কোন উত্তর দিল না।


ফাদার তলোয়ার আকাশে উচু করে এক কোপে লিসার মাথা ঘাড় থেকে আলাদা করে দিল। এটা দেখে ভিড়ের মাঝে ড্যনিয়েল অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলেন। নিজের মেয়েকে নিজের চোখের সামনে খুন হতে দেখা কোন বাবাই হয়তো নিতে পারতো না।


>>>>><<<<<<<


স্তব্দ নীরব হয়ে গফুর খাটের ওপর বসে আছে। একনজরে তাকিয়ে আছে ঘরের কোনায়। কোন কথা বলছে না যেন পাথর হয়ে গেছে। তখনই ঘরে প্রবেশ করলো আনোয়ার পীর।


আনোয়ার বললেন, কেমন আছো গফুর?


গফুর নিজের শুকনো মুখটায় চাইলো একনজর। তার চোখে ছিল বিশাদ ও হতাশাময়। 


আনোয়ার বলল, তুমি এখন আইনের চোখে খুনি হলেও আমি জানি তুমি আসলে খুনি নও। তোমার এখন মস্তিষ্কে চাপ তৈরি হবে। সেটাই নরমাল। কারন কেউই তার মেয়েকে খুন করে শান্তি পায় না।  তবে তুমি তো এই কাজটা তার জন্য করেছে।


গফুর হঠাৎ মেয়ে মানুষের মতো ফুপিয়ে কেদে উঠে। আনোয়ার তার মাথায় হাত বুলিয়ে মাথায় চুমু খায়। 


আনোয়ার পীর বলেন, সব ঠিক হয়ে যাবে। তুমি সুস্থ হবে। তোমাকে এখনও অনেক কাজ করতে হবে। আমরা যারা আদম পরিবার এর অংশ হই। তারা কখনই এর থেকে বের হতে পারি না। এটাই আমাদের আশীর্বাদ। কারন ইহুদী পরিবাররা তাদের ধর্ম নিয়ে গর্ব করলে। আমরাও তো আদমধর্মের মানুষ। 


আস্তে আস্তে গফুর শান্ত হয়। বাইরে তাকিয়ে দেখে বৃষ্টি পড়ছে। ঝুম বৃষ্টি বলা চলে। তবে গফুর এখনও সেই রাতের ঘটনা ভুলতে পারে না। 


>>>>>><<<<<<<


টিনের চালে বৃষ্টির শব্দে ঘুম ভাঙে সাদিকের। কতক্ষণ ঘুমিয়ে ছিল জানে না। এখন কয়টা বাজে সেটাও জানে না সে। হয়তো দুপুর ২টা হবে। তাতে কি আসে যায়?


গতরাতে 'আদমধর্ম' বইটা পড়েও কোন লাভ হয়নি৷ তাই সাদিকের একটু মন খারাপ। ওই যে টেবিলে এখনও বইটা পড়ে আছে। ফালটু একটা বই মনে মনে বলে উঠলো সাদিক। ভেবেছিলে বইতে অনেক ক্ষমতা তবে টাইম ওয়েষ্ট ছাড়া এখন কিছুই মনে হচ্ছে না সাদিকের।


দরজার কাছে এসে দাড়ায় সাদিক। বৃষ্টি দেখতে থাকে আনমনে ভাবতে থাকে গফুরের কথা। গফুরের কি অবস্থা কোথায় আছে? নিজের পরিবার এর কাছে কি ফিরবে না সে?


তখনই হঠাৎ সাদিকের মনে হয় কে যেন তাকে পেছন থেকে নাম ধরে ডাকলো স্পষ্ট শুনলো সে। 'সাদিক'। 


পেছনে ফিরে তাকালো সাদিক। একটা হালকা বাতাস ঘরময় ছড়িয়ে গেল। তারপর সব নীরব। বাইরে বৃষ্টির শব্দ ছাড়া পুরো ঘরময় আর কিছুই দেখলো না সাদিক। 


আবারো আনমনে সাদিক বৃষ্টি দেখতে লাগলো আর একটা সিগারেট ধরালো ভাবতে লাগলো।  এককাপ গরম চা হলে মন্দ হতো না। আর জ্বীনভুত যদি থাকে তাহলে তার সাথে চা খেতে খেতে আড্ডা দেওয়া যেত। এটা ভাবতেই সাদিকের হাসি পেয়ে গেল। 


কে যেন পেছন থেকে বলে উঠলো, আমার সাথে আড্ডা দিতে চাও তুমি? সাদিক। এই সাদিক।


ভয়ে সাদিকের হাতে থাকা সিগারেট টা কাপতে লাগলো। আকাশে তখন বর্জ্যপাত শুরু হয়ে গেল। মেঘেরা গর্জন করে ডাকতে লাগলো। ঘরের কারেন্ট চলে গেল। পুরো ঘর অন্ধকার। আকাশ কালো মেঘে ঢাকা। যেন দুপুরে সন্ধা নেমেছে।



<<>>>


আনোয়ার পীর গফুরের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, আজরাতে পার্টি হবে গফুর। তুমি কি সেখানে যাবে না? এমনি আনমনে থাকলে হবে? পার্টিতে আদম পরিবার এর লোকেরা আসবে। আমরা মদ খাব, ইনজয় করবো। তুমি আমার ছেলের মতো গফুর। আমি চাই তুমি আমাদের সাথে পার্টিতে যোগ দাও।


গফুর এদিক ওদিক তাকাচ্ছে যেন মনোযোগ দিতে পারছে না। তার মাথায় কি চলছে সেটাও বোঝা যাচ্ছে না। মুখ শুকিয়ে গেছে মনে হচ্ছে সে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। 


আনোয়ার পীর বললেন, গফুর সব ঠিক হয়ে যাবে। চিন্তা করো না।


এমন সময় এক খাদেম এসে বলল, ৪টা কালো ছাগল আনা হয়েছে। 


আনোয়ার বললেন, রাতের উৎসবের জন্য সবকিছু তৈরি করো। আর কোন মেহমান এর যাতে অসুবিধা না হয় সেদিকে খেয়াল রেখো।


খাদেম বলল, জি পীরসাহেব।


<<<>>>>>>


সাদিক অবাক হয়ে দেখলো 'আদমধর্ম' বইটার পেছনের মলাটে লেখা যে এইসব বিশ্বাস করে না। তার সাথে কোন রহস্য হবে না। তাকে স্বপ্নপদ্ধতিতে নিষিদ্ধ অন্ধকারে যেতে হবে। (চ্যপ্টার ১০)। 


আঙুল দিয়ে ঠোঁট ঘষলো সাদিক। গভীর চিন্তায় মগ্ন হয়ে গেল। সাদিক একবার বাইরে তাকালো এখনও বৃষ্টি হচ্ছে বাইরে। কারেন্ট চলে এসেছে মাথার ওপর ফ্যান ঘুরছে। হাল্কা শীত শীত ভাব লাগছে।


সাদিক ভাবলো, সে তো এসব বিশ্বাস করে না  ভুতপ্রেত এজন্যই হয়তো মন্ত্র পড়ার পরও এ্যরন বা লুসিফার তার সামনে আসেনি সরাসরি। তাহলে তাকে স্বপ্নের মাধ্যমে তাদের ডাকতে হবে। 


'আদমধর্ম' চ্যপ্টার ১০ এ লেখা, তোমরা স্বপ্নের মাধ্যমে লুসিফারকে ডাকবে। তার সাথে যোগাযোগ করবে। সেজন্য ঘুমানোর আগে এই মন্ত্রটি একটা কাগজে লিখে বালিশের নিচে রেখে দিবে। নিচে মন্ত্রটি দেওয়া হলো: 


לוציפר, בוא, אני ישן. בוא אל חלומי וקח אותי לעירך. בוא נדבר שם, נשב ונשוחח יחד בגיהנום.

​উচ্চারণ (লিপ্যন্তর):

Lucifer, bo, ani yashen. Bo el chalami ve-kach oti le-ircha. Bo nedaber sham, neshev ve-neshocheach yachad be-geihinnom.


সাদিক একটা কাগজে মন্ত্রটা লিখে ফেলল। তারপর সেই কাগজটা বালিশের নিচে রাখলো। দরজা বন্ধ করে দিল ভেতর থেকে ঘরের লাইট অফ করে দিল। এই সন্ধাবেলা ঘুমানো একটু কঠিন। তবে সে চেষ্টা করবে ঘুমিয়ে যেতে।


<<<>>>>>


ড্যনিয়েল চাদর দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলেছেন একটা জাহাজে উঠে পড়লেন। উদ্দেশ্য আবার বাংলাদেশ রওনা দিবেন। এখনও অনেক কাজ বাকি আছে।


জাহাজে উনার খুদা লেগেছিল৷ তখন নিচে এসে এক মগ মদ গিললেন আর স্যুপ খেলেন। তারপর কেবিনে চলে গেলেন। এখন ঘুমাবেন তিনি। জাহাজ রওনা করেছে বাংলাদেশে। পৌছাতে কতদিন লাগবে কেউ জানে না৷ 


>>>><<<<


রাত ১১টা বাজে। বৃষ্টির কারনে আনোয়ার পীরের এখানে মাত্র ২টা পরিবার এসেছে। মরিয়ম বুড়ি এসেছেন নিজের ১৩ বছরের নাতিকে নিয়ে। আরেক পরিবার এসেছে রাজ্জাক ও তার ১২ বছরের ছেলেকে নিয়ে। তারা দাড়িয়ে আছে আনোয়ার পীর এর সামনে।


মরিয়ম এসে আনোয়ার এর হাতে চুমু দিলেন। তারপর হাত টা চোখে ছুইয়ে দিলেন।  


আনোয়ার বললেন, তোমাদের এখানে আসতে কোন অসুবিধা হয়নি তো?


মরিয়ম বললেন, যে বৃষ্টি আমার নাতনি ঝর্ণা আসতে চায়নি। আমি বললাম যেতে হবে যতই বৃষ্টি হোক। তারপর ওরে নিয়ে আসলাম আপনার কাছে।


আনোয়ার তাকালেন ১৩ বছরের কিশোরী নাতনীর দিকে একটা গোলফলক পড়ে কেমন মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে।


আনোয়ার ইশারা করলেন তার কাছে আসতে। ভয় পেয়ে গেল মেয়েটা। 


মরিয়ম রেগে বললেন, কাছে ভয় পাস কেন ঝর্ণা? উনি আমাদের পীর।


ঝর্না কাছে আসলো। আনোয়ার ঝর্নার হাত ধরে উনার হাটুর ওপর বসালেন৷ তারপর গালে চুমু দিতেই ঠোঁট সরিয়ে ফেলল ঝর্না। 


রেগে গেলেন মরিয়ম বললেন, উনি আদর করতে চাইলে করুক। তুই এমন করোস কেন? বাপ মা মরা মাইরা যাওয়ার যাইগা নাই। এরকম করলে তোরে ঘর থেকে বের করে দিমু।


আনোয়ার শান্ত হয়ে বললেন, বাচ্চামেয়ে ওর সাথে খারাপ ব্যবহার করো না। এখনও পিচ্চি তাই বুঝে না বড়দের সম্মান করা। 


এটা বলে আনোয়ার ঝর্নার গাল ধরে ঠোঁটে চুমু খায়। ঝর্না দুহাত দিয়ে শক্ত করে নিজের জামা চেপে ধরে ভয়ে কিছু বলে না।


আনোয়ার এবার রাজ্জাকের দিকে চেয়ে বলেন, তোমরা বাবা ছেলে এসেছো খুব খুশি হয়েছি। রাত গভীর হলেই আমরা উৎসব শুরু করবো।


<<<>>>_


ঘুমের মাঝে সাদিক দেখে চারিদিকে শুধু অন্ধকার। সে কোথায় সেটা বুঝতে পারে না। ভয় পেতে থাকে সে। সাদিক ঘুমের মাঝে নিজেকে প্রশ্ন করে এটা কোথায় এলাম। এখানে আলো নেই কেন? আমি কি অন্ধ হয়ে গেছি। 


হাটতে থাকে সাদিক। তবে অন্ধকার শেষ হয় না। কিছুদূর যাওয়ার পর সাদিক দেখে আলো একটা গাছের নিচে কে যেন বসে বাশি বাজাচ্ছে। কৌতুহল হয়ে সাদিক এগিয়ে যায় সেদিকে।


গাছের কাছে আসতেই সাদিক দেখে একটা সাধারন মানুষ বসে আছে। সাদিক অবাক হয়ে  বলে, আপনি ই লুসিফার? আমি তো ভেবেছিলাম আপনার দুটো শিং থাকবে, চোখ দিয়ে আগুন বের হবে। তারপর ভয়ংকর দাত থাকবে।


লুসিফার হেসে বলে, মানুষ আমাকে যেমন কল্পনা করে আমি সেরকম রুপেই হাজির হই। তুমি আমাকে সুন্দর যুবক হিসেবে কল্পনা করছো। তাই সেই রুপে হাজির হলাম।


তারপর আবার বাশি বাজাতে থাকে। এমন সুর যে পৃথিবীতে নেই, আগে কখনও সেই সুর সাদিক শোনেনি।


লুফিসার বলে, বসো আমার পাশে।


ভয়ে ভয়ে সাদিক লুফিসার পাশে বসে। 


সাদিক বলে, আচ্ছা। আপনি বাশি বাজান কেন?


লুফিসার বাশি বাজানো থামিয়ে মুচকি হাসে। কোন উত্তর দেয় না। 


লুসিফার বলে, তুমি কি চাও সেটা বলো?


সাদিক অবাক হয়ে বলে, আমি কি চাই আমি নিজেও জানি না।


লুসিফার বলে, তাহলে সেটার খোজ করো। সবারই কিছু চাহিদা আছে৷ তোমারও থাকার কথা। নারী, টাকা, ক্ষমতা। কোনটা চাও?


সাদিক বলে, আমি এসব কিছুই চাই না।


লুফিসার বলে, কেন চাও না?


সাদিক বলে, জানি না। আচ্ছা।।আপনি কেন মানুষকে দিয়ে খারাপ কাজ করান?


লুফিসার মুচকি হেসে বলে, আমি খারাপ কাজ করাই? নাকি তারা সেগুলো নিজেরা করে ও আনন্দ পায়। আর পরবর্তীতে আমার নামে দোষ চাপায়?


>>>><<<<<<<


ড্যনিয়েল এর জাহাজ হঠাৎ দুলতে থাকে। যেন ভূমিকম্প শুরু হয়ে গেছে। কেবিন থেকে বের হয় সে। তারপর ২য় সমুদ্রে দেখে বিশাল বিশাল ঢেউ জাহাজে এসে আছড়ে পড়ছে। জাহাজের সামনের অংশ ঢেউয়ে উপড়ে উঠে মূহুর্তের মধ্যেই সমুদ্রে আছড়ে পড়ছে। চারিদিক ঘনকালো মেঘ করে বিজলি চমকাচ্ছে। চারিদিকে শুধু সমুদ্র আর ঢেউ কোন লোকালয় নেই। 


ভয়ে গলা শুকিয়ে আছে ড্যনিয়েল এর। এখন যদি জাহাজ ডুবে যায়। তাহলে তো আর তার গন্তব্যে পৌছানো হবে না।


<<>>>


ঝর্ণা জামা খুলে নগ্ন হয়ে শুয়ে পড়লো স্টারচিন্হের ওপর। সবাই কালো জামা পড়ে আছে।  আকাশে চাদ এখন পূর্ণ আলোয় আলোকিত হয়ে রয়েছে। সবাই উঠানে এসে জড়ো হয়েছে। ২জন লোক ঢোল বাজাচ্ছে। উৎসব শুরু হয়ে গেছে। আনোয়ার পীর চেয়ারে বসে সব দেখছে। 


মদ খাওয়ার পর আনোয়ার পীর সবকিছু ঝাপছা দেখতে লাগলেন৷ চোখ পিটপিট করে তাকাচ্ছেন পাশে থাকা মরিয়ম এর দিকে। 


আনোয়ার বললেন, তোমার নাতনী ঝর্নার শরীরটা খুব সুন্দর। 


মরিয়ম খুশি হয়ে বললেন, আপনার ভালোলাগাতেই আমগো ভালোলাগা। 


আনোয়ার বললেন, গফুরকে বললাম উৎসবে জয়েন করতে করলো না এতো সুন্দর নগ্ন উৎসব মিস করে দিল। বোকা বোকা। 


মরিয়ম বললেন, তিনি কখন আসবেন? 


আনোয়ার পীর বললেন, রাত আরো গভীর হলেই তিনি আসবেন। ওই ছেলেটাকে ডাক দাও রাজ্জাকের পোলারে।


ছেলেটা দাড়িয়ে এসব দেখছিল। তাকে ডাক দিতেই কাছে চলে আসলো। 


আনোয়ার তাকে নিজের হাটুতে বসালেন তারপর বললেন, নাম কি তোর?


ছেলেটা বলল, আমার নাম রাজ। 


আনোয়ার বলল, উৎসব কেমন লাগছে?


রাজ বলল, ভালো। 


আনোয়ার বললেন, তুই এতো চুপচাপ আর কম কথা বলিস কেন?


রাজ চুপ করে রইলো ভয়ে।


আনোয়ার বললেন, কখনও কোন মেয়েকে চুমু খেয়েছিস?


রাজ জবাব দিল না। 


আনোয়ার বলল, ওই যে মাটিতে যে ঝর্না শুয়ে আছে। ওকে গিয়ে চুমু দিয়ে আয়। 


অসহায় চোখে রাজ তার বাবার দিকে তাকায়। রাজ্জায় মাথা নেড়ে সম্মতি দেয়। ঝর্ণা মাত্র ১৩ বছরের মেয়ে, আর রাজ ১২ বছরের। রাজ আনোয়ার এর কোল থেকে উঠে দৌড়ে ছুটে যায়। 

 

আনোয়ার খাদেমকে বলেন, এখন সময় হয়েছে ছাগলগুলো নিয়ে আসো বাফোমেট এর নামে ছাগলগুলো জবাই দাও। তারপর মেহমান ছাগলের রক্ত দাও। আমাকেও দাও।


খাদেম মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়। আর ঘরে চলে যায়। যেখানে ছাগলগুলো রাখা রয়েছে। 


আনোয়ার বললেন, মরিয়ম। ঝর্ণা কে ট্যবলেট খাইয়েছো তো? ও কি বাফোমেটকে খুশি করতে পারবে? 


মরিয়ম বলেন, অবশ্যই পারবে। তা নিয়ে আপনাকে চিন্তা করতে হবে না। 


৪টা ছাগল আনা হয় উঠানে। তারপর এক কোপে তাদের হত্যা করা হয় বাফোমেট এর নামে। রিচুয়ালটা করার আগে উনারা ছাগলের মাথায় গরম লোহা দিয়ে স্টারের চিন্হ করে দেয়। তারপর ছাগল হত্যা করে সবাইকে রক্তপান করতে দেওয়া হয়।


রক্তের গ্লাসে চুমুক দিয়ে আনোয়ার খুশি হয়ে বললেন, এই সময়ের জন্যই তো আমরা অপেক্ষা করি। এই আনন্দের জন্যই তো আমরা বেচে থাকি।  ঝর্ণাকেও রক্ত পান করাও আর ওই রাজকেও। ওরা এখন থেকেই শিখুক। 


মদ ও রক্তে খাওয়ার পর আনোয়ার এর কিছুটা বুজে আসে ঘুমে। ঘুম ঘুম চোখে তিনি তাকিয়ে থাকেন। তখন দেখেন আকাশ থেকে সে নামছে বাফোমেট নামছে।


আনোয়ার বিড় বিড় করে বলে, তিনি আসছেন।


মরিয়ম সামনে তাকিয়ে কাউকেই দেখতে পায় না। শুধু ঢোলের শব্দ পান কানে। 


মরিয়ম বলেন, আমি দেখতে পাচ্ছি না কারন হয়তো আমার অন্তর দৃষ্টি নাই। 


হঠাৎ আনোয়ার চেয়ার থেকে উঠে দাড়ায়। ভয়ে ২জন লোক ঢোল বাজানো বন্ধ করে দেয়। সবাই তাকিয়ে আছে উনার দিকে। কারন আনোয়ার এর চোখ পুরো কালো বর্ণ ধারন করেছে। আর উনি বুড়োলোক। তবে এখন দাড়িয়ে আছে একজন যুবক বয়স্কদের মতো। স্ট্রং ও শক্তিশালী মনে হচ্ছে।


আনোয়ার ঢোলওয়ালার দিকে তাকাতেই। ঢোলওয়ালা ভয়ে ঢোক গিলে। ইশারা করতেই তারা ২জন আবার ঢোল বাজাতে শুরু করে। 


আনোয়ার গম্ভীর গলায় বলেন, উৎসব শুরু হয়ে গেছে। 


মরিয়ম এর ঠোঁটের কোনায় হাসি। উনি বুঝেন বাফোমেট দূরে কোথায়ও নয়, আনোয়ার এর মাঝেই।


আনোয়ার নিজের জামা কাপড় খুলে সবার সামনে নগ্ন হয়ে যায়। তারপর আস্তে আস্তে এগিয়ে যায় ঝর্ণার দিকে। ঝর্ণার শরীরের ওপর তখন রাজ শুয়ে ছিল। 


রাজকে এক হাত দিয়ে তোলে আনোয়ার। তারপর ছুড়ে মারে পাশে। যেন এখন এটা কোন আনোয়ার নয়, জীবন্ত জংলি পশু।


মেহমানরা মদ খেতে থাকে। আর উল্লাস করে তালি দিতে থাকে। আনোয়ারকে উৎসাহ করতে থাকে।


আনোয়ার শুয়ে পড়ে ঝর্ণার শরীরের ওপর। ঝর্ণা তাকে চাইলেও তাকে বাধা দিতে পারে না। কারন মরিয়ম ঝর্ণাকে একটা ট্যবলেট খাইয়েছিলেন। 


এদিকে রাজ্জাক এর চোখ যায় মরিয়ম বুড়ির দিকে। তারা একে অপরের কাছে আসে। ঠোঁটে ঠোঁট রেখে চুমু খায়। 


সবাই এই নগ্ন উৎসবে মেতে উঠে। যেন এটাই স্বাধীনতা। এটাই তাদের মুক্তির একমাত্র পথ। 


ব্যথায় চিৎকার করতে থাকে ঝর্ণা তবে ঢোলের শব্দে সেই চিৎকারগুলো যেন চাপা পড়ে যাচ্ছে। আকাশের উজ্জল চাদটি তখন কালো মেঘে ঢেকে গেল। যেন সেও এই নিষ্ঠুরতম জিনিসগুলো আর নিতে পারছে না। তাই নিজেকে লুকিয়ে নিয়েছে মেঘের মাঝে। অন্ধকার রাত, আর একটি আদিমতম উৎসব। 


>>>>>><<<<<<<<


সাদিক ঘুম থেকে উঠে জোরে জোরে নিঃশ্বাস ফেলতে থাকে। যেন চোখের সামনে সবকিছু দেখছিল আনোয়ার পীর, ঝর্ণা, মরিয়ম সবাইকে চোখের সামনে স্পষ্ট দেখলো। 


ঘড়িতে তাকিয়ে দেখলো রাত ৩টা বাজে। সাদিক নিজেকে শান্ত করতে পানি পান করলো। তারপর একটা সিগারেট ধরিয়ে ভাবতে লাগলো।যে এসব স্বপ্ন নাকি বাস্তব?


আনোয়ার পীরকে সে চিনে, তবে সে কেন তার স্বপ্নে আসলো। লুফিসার এর সাথেও দেখা করেছে সাদিক স্বপ্নে। বালিশ উঠাতেই সাদিক সেই মন্ত্রলেখা কাগজটা দেখলো।


সাদিক ভাবলো তাহলে কি আসলেই এইসব মন্ত্র সত্য? তাহলে কি এই মন্ত্রের কারনেই সে ওসব দেখেছিল আর লুসিফার এর সাথে সাক্ষাৎ করেছিল স্বপ্নে? তাহলে এসবের লজিক্যাল ব্যাখ্যা কী?


মাথা ব্যথা করতে থাকে সাদিকের তবে কোন উত্তর পায় না। তবে এইটুকু বুঝে যে সে যেকোন জায়গায় যেতে পারবে। সে না, তবে আত্মা। যেকোন জায়গায় ট্রাভেল করতে পারবে। হয়তো তার আত্মা আনোয়ার পীর এর ওখানে গিয়েছিল।


এটা ভাবলেই সাদিকের আইডিয়া আসে। তার মা কে দেখে না কতদিন হলো। যদি ঘুমের মাঝে তার মাকে একনজর দেখে আসে। তাহলে কি মন্দ হবে? 


সিগারেট ফেলে আবার চাদর মুড়ি দিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করে সাদিক। চোখ বন্ধ করে আছে। তবে ঘুম আসছে না, ঘড়ির কাটার টিক টিক শব্দ হচ্ছে। ঘরের বাইরে জোনাকির শব্দ কানে আসছে। তবে ঘুম আসছে না।


সাদিক বুঝে জোর করে ঘুমানো যাবে না। তাই খাটে উঠে বসে। সাদিক ভাবে স্বপ্নে যা দেখলো তা যদি সত্যি হয়। তাহলে আনোয়ার পীর এর লোকেশন টা কই? সেখানে গিয়েই তো এসব থামানো যাবে? ঝর্ণা মেয়েটাকে এই নরক থেকে বাচাতে হবে। কি মায়াময় মুখ, যেকারো মায়া হবে। তবে মেয়েটার বাবা মা নাই এতিম। তাই তার দাদী মরিয়ম  তাকে দিয়ে এসব কাজ করাচ্ছে। ভাবতেই ঘৃনায় মন ভরে উঠে সাদিকের। কতটা খারাপ দাদী। মনে মনে গালি দেয় সাদিক।


তবে গালি দেক, আর যাই করুক। নিজেকে ব্যর্থ মনে হয়। কারন এতো কিছু জেনেও সাদিক থামাতে পারছে না। তার দম বন্ধ হয়ে আসতে থাকে। যেন তার চিন্তাগুলো তাকে কুড়ে কুড়ে খায়। 


ঘরের দরজা খোলে সাদিক। পুরো উঠান দেখা যাচ্ছে আমগাছটাও দেখা যাচ্ছে। আকাশে চাদের আলো এসে পড়েছে সেখানে। হঠাৎ সাদিক দেখলো কে যেন আসছে খালি পায়ে। এতো রাতে তার ঘরের দিকে কে আসবে? সাদা শার্ট পড়া একলোক।


কাছে আসতেই সাদিক লোকটার চেহারা দেখে ভয়ে আতকে উঠলো। তার পিঠ বেয়ে শির শির করতে লাগলো।।লোকটা আর কেউ না। ম্যাক। তবে ম্যাক তো মারা গিয়েছিল।


সাদিক বলল, তুমি তো মারা গিয়েছিল?


ম্যাক আরো কাছে আসতেই সাদিক দেখলো ম্যাক এর দুচোখ কে যেন উপড়ে বের করে দিয়েছে। সেখানে কোন চোখ ছিল না। ভেতরের গর্তা দেখা যাচ্ছি। ভয়ে ঘৃনায় অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো সাদিক।


ম্যাক ঠোঁটে একটা হাসি দিয়ে সাদিক এর গলা চেপে ধরলো। সাদিক চেষ্টা করতে লাগলো ম্যাক এর কাছ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার পারছে না।।তার দম বন্ধ হয়ে আসছে। সে দেখলো ম্যাক এর ঠিক পেছনে দাড়িয়ে আছে লিসা ও ডেভিড। 


সাদিক নিজেকে বললো, এটা বাস্তব না। আমি এখনও স্বপ্নে আছি। আমাকে জাগিয়ে দাও লুসিফার। আমি এই স্বপ্ন দেখতে চাই না।।আমাকে জাগিয়ে দাও লুসিফার। 


সাদিক নিজের ব্রেইনের সর্বশক্তি দিয়ে নিজেকে জাগানোর চেষ্টা করতে লাগলো। এদিকে তার গলায় চাপ পড়ে রগগুলো ফুলে উঠেছে। দম বন্ধ হয়ে আসতে লাগলো তার।


তখনই অনেক কষ্টে বাস্তবে ফিরে এলো সাদিক। চোখ খুললো সে। উপড়ে ফ্যন ঘুরছে। ঘড়িতে ৪টা বাজে। সাদিকের সন্দেহ হলো এটা কি স্বপ্ন না বাস্তব। তাই নিজের হাতে কামড় দিল। তবে কোন ব্যথা অনুভব করলো না। ভয় পেয়ে গেল সাদিক।


সকালবেলা আনোয়ার পীর বৈঠকে বসে কথা বলসেন। মরিয়ম, ঝর্ণা, রাজ্জাক, রাজু ও একদম খাদেম সেখানে তারা কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনছেন।


আনোয়ার বললেন, আমরা হইলাম আদম সন্তান। আদম যুগে মা, বোন, ভাইদের সাথে বিয়ে করা হতো।।আমার প্রশ্ন হইলো এখন কেন করা যাইবো না? আমার আফসোস আমি আমার মায়ের সাথে করতে পারি নাই। বোনের সাথে করতে পারি নাই।


তখনই হঠাৎ সেখানে সাদিক এসে আনোয়ার গালে স্বজোরে একটা থাপ্পড় দিল। এক থাপ্পড়ে আনোয়ার পীর গালে হাত দিয়ে খানিকটা পড়ে যায়। উনার গাল লাল হয়ে রয়েছে।  উনি আশেপাশে তাকিয়ে কাউকে দেখলেন না। কোন এক অদৃশ্য শক্তি যেন তাকে থাপ্পড় দিয়েছে। ভয় পেতে লাগলেন আনোয়ার।


মরিয়ম বুড়ি বলল, আপনার গাল দেখি লাল হয়ে আছে।


লজ্জা ঢাকতে আনোয়ার বললেন, আজকে কোন কথা হবে না। আপনারা বাসায় চলে যান। আর ঝর্ণাকে আমার কাছেই রেখে যায়। এখন থেকে ওর দ্বায়িত্ব আমার।


ঝর্ণা মন খারাপ করে দাড়িয়ে আছে। তার পুরো শরীর ব্যথা করছে গতরাতের ঘটনা তার কিছু মনে নেই। তবে শরীরের একটা নিদিষ্ট জায়গা প্রচন্ড ব্যথায় ফুলে উঠেছে। 


ঝর্ণা বলল, আমি এখানে থাকব না দাদী। তোমার সাথে বাসায় যাবো।


মরিয়ম রেগে বললেন, তোরে কে বসায় বসায় খাওয়াবে বাপ মা মরা এতিম কোথাকার। যা বলসি ওইটাই কর। না হলে কেটে নদীতে ভাসায় দিব।


কথাগুলো শুনে ঝর্নার চোখে জল চলে আছে। সবার সামনেই সে ফুপিয়ে কাঁদতে থাকে।


আনোয়ার পীর এটা দেখে বিরক্ত হয়ে বলেন, এরকম কান্নাকাটি আমার পছন্দ না। খাদেম ওরে অন্যঘরে নিয়ে যাও।


দরজায় দাড়ানো খাদেম ঝর্ণাকে অন্যঘরে নিয়ে গেল।


মরিয়ম বললেন, তাহলে বাবা। আমি বিদায় নিচ্ছি। আসি তাহলে।


আনোয়ার গম্ভীর গলায় বললেন, ঠিক আছে।


মরিয়ম চলে গেলেন। 


এবার রাজ্জাক বললেন, আমার ছেলে রাজকেও আপনি রেখে দিতে পারেন।


আনোয়ার বললেন, না না। ওকে রেখে কি করব? ওরে নিয়ে যাও তুমি।


রাজ্জাক বললেন, ওরে আদমধর্ম শিখাবেন।


আনোয়ার বললেন, এখনও ওর বয়স হয়নি। যাও সাবধানে বাড়ি যাও।


হতাশ মুখে রাজ্জাক মাথা নিচু করে ফেলে। তারপর ছেলের হাত ধরে বাড়ির দিকে রওনা হয়।


<<<>>>>.


চোখ পিটপিট করে তাকায় সাদিক। সে শুয়ে আছে খাটে। তার ওপর মাথা ঝুকে চুলগুলো দুপাশে ছড়িয়ে একটি মেয়ে তাকিয়ে আছে। এই মেয়েটা আবার কে? আর সাদিক এখন কোথায়। কিছুই বুঝতে পারছে না সে। এটা কি তাহলে স্বপ্ন?


সাদিক অবাক হয়ে বলে, আপনি কে?


মেয়েটা হেসে হাত দিয়ে মুখ ঢেকে বলে, আমাদের বাড়িতে এসে আমাকে জিজ্ঞেস করছেন আমি কে? আমি নিজুম এর বড়বোন নাজমা। আপনি গত ২দিন ধরে দরজা আটকায়ে ঘুমায় রয়েছেন। আমরা ভাবছি আপনার কিছু হলো নাকি ডাকাডাকি করেও আপনি সারা দেননি।


সাদিক এবার দরজার দিকে তাকালো। দরজা ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। সাদিক বুঝলো এই ২দিন সে ঘুমের মধ্যে ছিল। তবে এটা যে স্বপ্ন না তার কি গ্যরান্টি?


সাদিক বলল, আপনি কখনও স্বপ্নের মাঝে আটকা পড়েছেন?


নাজমা বলল, স্বপ্নে আবার আটকা পড়ে কিভাবে?


সাদিক বলল, আচ্ছা বাদ দেন। এগুলো যদি সব স্বপ্ন হয়। তাহলে আপনি কি করতেন?


নাজমা বলল, আমার খেয়ে দেয়ে কাজ নাই। আপনার স্বপ্নে আসবো।


সাদিক লজ্জা পেল কারন নাজমা কথাগুলোকে অন্যভাবে নিচ্ছে। 


সাদিক বলল, ও সরি। আপনার বাবা কি ফিরে এসেছে বাসায়?


নাজমা বলল, না। তবে আমার ভাই ফিরে এসেছে। যে মালয়েশিয়া থাকতো। আমরা তাকে ফোন করে নিজুম এর ঘটনা বলি ও বাবা যে কোথায় পালিয়ে গেছে সেটা বলি।


সাদিক অবাক হয়ে বলল, আপনার আবার ভাইও আছে। সেই এমে হয় ঘরের দরজা ভাঙসে। তাই না? 


নাজমা বলল, হ্যা। আর সাকিব ভাইয়া আপনার সাথে কথা বলতে চায়। দাড়ান আমি ডেকে দিচ্ছি।


কিছুক্ষণ পর ঘরে সাকিব এসে চেয়ারে বসলো। তারপর ভাব নিয়ে একটা সিগারেট ধরালো। কোর্টপ্যন্ট পড়ে আছে এই গরমের মধ্যে। 


সাকিব বলল, আপনি নাকি সাংবাদিক । তয় আপনি এখানে কেন আসছেন?


সাদিক তার কথার স্টাইল শুনেই বুঝলো লোকটা মোটেও সুবিধার হবে না।



সাদিক বলল, আমি এসেছি 'আদম পরিবার' এর খোঁজে। 


সাকিব চোখে চোখ রেখে বলল, তাহলে আমাদের বাসায় কিভাবে আসলেন? এতো বাড়ি থাকতে আমাদের বাড়িতেই কেন? আর একটা জিনিস আপনি আসার পরই আমার বাবা, আমার বোনকে হত্যা করলো। তাহলে কি আপনিও এর সাথে জড়িত?


দাঁতে দাত চেপে রাগ ধরে আছে সাদিক বলল, যদি তাই হতো তাহলে আমি সেরাতে নিজুমকে বাচাতে যেতাম না। তাকে বাচাতে গিয়ে ম্যাক মারা গেছে।


ভুরু কুচকে তাকালো সাকিব। সাকিব শান্ত হয়ে বলল, কিছু মনে করবেন না। আসলে আমি একটু অতিরিক্ত চিন্তার অভ্যাস তো তাই আর কি। আপনি রেস্ট নেন। যতদিন ইচ্ছা থাকেন সমস্যা নাই। তয় 'আদম পরিবার' বিষয়টা কি একটু বলবেন?


সাদিকের ঠোঁটের কোনায় হাসির রেখা ফুটে উঠে। সাদিক প্রথম থেকে পুরো বিষয়টা খুলে বলে। সে যে দ্বীপে গিয়েছিল সেখানে ড্যনিয়েল পরিবার তারপর, টিভিতে দেখলো ময়মনসিংহ এর একই পরিবার এর ৯জন আত্ম** সবই বলবো। 


সবশুনে সাকিব গম্ভীর হয়ে উঠে পড়লেন।


যাওয়ার আগে বললেন, তাহলে এসব 'আদমধর্ম' বইটার কালো যাদুর জন্য হচ্ছে?


সাদিক বলল, বিষয়টা এতো সহজ না বুঝিয়ে বলার মতো না।


সাকিব কেমন অন্যমনস্ক হয়ে গেল। হয়তো আবার ওভার থিংকিং এ ডুবে গিয়েছে। চোখে সানগ্লাস পড়ে ঘর থেকে বের হয়ে গেল।


সাদিক তোষকের নিচে হাত দিয়ে দেখলো 'আদমধর্ম' বইটা আছে কি না। অবাক হয়ে গেল সাদিক হাত দিয়ে কোন বই পেল না। তোষকটা তুলে ফেলল। বইটা নাই। এখানেই তো রেখেছিল। তাহলে বইটা কোথায় হারিয়ে গেল? নাকি কেউ চুরি করেছে? তাহলে সেই বা কে? 


ভয় পেয়ে গেল সাদিক। যদি কেউ বইটা চুরি করে আর সেটার ভুলভাবে ইউজ করে। তাহলে তো নিজের অজান্তেই সে অনেক বড় ক্ষতি করে ফেলবে। 


বিকেলবেলা সাদিক নিজ ঘরে পায়চারি করছিল আর ভাবছিল 'আদমধর্ম' বইটা কে চুরি করতে পারে? সেটা কি সাকিব নিয়েছে তাহলে কেন নিয়েছে? নাকি নাজমা মেয়েটা নিয়েছে? সন্দেহ তো সবার ওপরই যায়। তবে প্রমান ছাড়া তো কাউকে কিছু বলাও যায় না।


এমন সময় দরজার কাছে এসে দাড়ালো নাজমা হাসিমুখে বলল, আপনি কি ফ্রি আছেন?


পেছন ফিরে তাকালেন সাদিক। বিশ্লেষণ চোখে চেয়ে দেখলেন নাজমার হাতে খাবারের বাটি। 


সাদিক বললেন, কেন? কি দরকার?


নাজমা বলল, সাকিব ভাইয়া বাজারে গেছে। আর আমি মরিয়ম নানীর বাড়ি যাবো এই খাবার নিয়ে। ফিরতে সন্ধা হবে একা ভয় পাই। তাই আপনি কি যাবেন আমার সাথে?


সাদিক এর কোন ইচ্ছেই ছিল না যাওয়ার তবুও ভদ্রতার খাতিরে তাকে যেতে হবে।


সাদিক বলল, আচ্ছা। চলুন।


গ্রামের মাটির রাস্তায় দুজনে পাশাপাশি হাটছে তারা। সাদিক ভাবছে নাজমার ছোটবোন হত্যা হলো কয়েকদিন আগে তার বাবা নিখোঁজ। সে এতো কুল কিভাবে? নাকি মেয়েরা এমনই হয়? নাকি কিছু মেয়েকে দুঃখ কষ্ট ছুতে পারে না। 


নাজমা হঠাৎ বলল, আচ্ছা। আপনি সারাদিন ঘরে থাকেন কেন? আমি যদি ছেলে হতাম তৈ তৈ করে ঘুরে বেড়াতাম।


সাদিক বলল, আমার রোদ পছন্দ না। আর গ্রামের রোদ মারাত্মক এফেক্ট করে স্ক্রিনে পুড়ে কালো হয়ে যায়।


নাজমা এবার আসল কথা বলে, আচ্ছা আপনার কি কোন গার্লফ্রেন্ড নেই?


সাদিক অবাক হয়ে বলে, গার্লফ্রেন্ড?  আমার? মেয়ে মানুষের মাঝে আমি একটা জিনিস ই দেখি সে কতটা বুদ্ধিমান। আমাকে মেয়েদের চেহারার চেয়ে বুদ্ধি বেশি আকর্ষন করে। তবে বেশিরভাগ মেয়েই বুদ্ধিমান। তবে তারা বোকা সেজে থাকে। তাই কখনও তেমন মেয়ে পাইনি, আর প্রেম এর প্রশ্নও আসে না। 


মুচকি হেসে নাজমা বলল, আশা করি পেয়ে যাবেন।


সাদিক হাসলো। সাদিক বুঝার চেষ্টা করলো এটা কি নাজমা নিজেকে ঈঙ্গিত করে বলসে? এই কথার মাঝে কি কোন লুকানো সংকেত ছিল? তা ধরার চেষ্টা করেও পারছে না সাদিক।


দরজায় টোকা দিতেই মরিয়ম দরজা খুলে দিলেন। ভুরু কুচকে তাকালেন সাদিকের দিকে। যেন উনার ভাবটা এই ছেলেটা কে? 


নাজমা বলল, নানী তোমার জন্য আম্মু খাবার পাঠাইসে।


মরিয়ম বললেন, আয় ঘরে আয়। 


তারা দুজন ঘরে ঢুকে খাটে বসলো। টিনের ছাউনি ঘর। সাদিক ওদিক ওদিক তাকালো কোন আসবাবপত্র নেই। দড়িতে ঝুলছে জামাকাপড়। ঘরেই মাটির চুলো। 


নাজমা বলল, ঝর্না কই গেছে? ওরে তো দেখছি না।


মরিয়ম বললেন, ওরে এতিমখানায় দিয়ে আসছি। আমি গরীব মানুষ এর ওর কাছ থেকে টোকাইয়া চলি। ওর বাবা মা নাই। ওরে চালানোর মতো সামর্থ্য আমার নাই। 


নাজমা বলল, ভালো করছো। আর তুমি কেন কষ্ট করবা ওর জন্য। ওইখানের বড় হোক। ভালো থাকুক।


এদিকে সাদিক ভাবতে থাকে এই মরিয়ম বুড়িকে আগে কোথায় যেন দেখেছে। তবে মনে করতে পারছে না। আর ঝর্না নামটা শুনেছে তবে কোথায়?  কখন? কিছুই মনে পড়ছে না। 


নাজমা বলল, উঠি নানি। সন্ধা হইয়া যাইব। 


মরিয়ম বলল, ভাত খাইয়া যা।


সাদিক ভাবলো ভাত? মেহমান দের কি গ্রামের মানুষ ভাত খেতে বলে? চা নাস্তা তো দিবে আশা করেছিল সাদিক।


নাজমা বলল, না। থাক।


তারা দুজন আবার রাস্তায় বেরিয়ে পড়লো। আকাশে তখন লাল হয়ে আছে। সূর্য ডুবে যাচ্ছে। 


সাদিক বলল, উনি তোমার আপন নানী?


নাজমা বলল, আরে না। দূরসম্পর্কের নানী হয়। আমার আম্মু উনাকে মাঝেমধ্যেই খাবার পাঠায়। গরীব মানুষ তো তাই হেল্প করে।


সাদিকের তখনই মনে পড়লো মরিয়ম কে তিনি স্বপ্নে দেখেছিল এই মহিলা নিজের নাতনী ঝর্নাকে কোন এতিমখানায় দিয়ে আসেনি। উনি আনোয়ার পীর এর কাছে গিয়েছিল। এখন সাদিকের কাছে সব পরিষ্কার হয়ে গেল।


সাদিক বলল, নিজুম এর মৃত্যুর ব্যপারটা কেন জানালেন না উনাকে?


ঠোঁট উল্টে নাজমা বলল, এগুলো আমাদের পারিবারিক ব্যপার। উনাকে জানাবো কোন দুঃখে?


সাদিক ভেবে দেখলো আসলেই তো কথাটা ঠিক বলসে।


বাসায় ফিরে ঘরে ঢুকবে তখনই সাদিক অনুভব করলো ঘরের ভেতর কে যেন। ছায়া দেখতে পেল সাদিক। মানুষ নয়, একটা জন্তু। জন্তুটার একটা লেজও রয়েছে। ভয়ে ভয়ে কৌতুহলে সাদিক ঘরে ঢুকলো।


অবাক হয়ে গেল সাদিক এ্যরন বসে আছে তার খাটের ওপর। বসে বসে কলা খাচ্ছে। যেন একটা বানর সে। 


কলায় কামড় দিয়ে এ্যরন বলল, কেমন আছো সাদিক? তুমি আমায় ডেকেছিলে। আমি এসেছি।


<<<<>>>>>


ড্যনিয়েল জাহাজের নিচের তলায় আসলো। এখানে ভালো কফি পাওয়া যায়। কফি খেতে খেতে সমুদ্রের ঢেউ দেখতে তার ভালোলাগে। অনেক গভীর চিন্তা ভাবনা করে আর পরবর্তী প্লান বাসায়। 


তখনই ড্যনিয়েল অনুভব করে দূর হতে কেউ তাকে দেখছে। পেছনে তাকাতেই তার চোখ পড়ে একটা লোকের ওপর। কালো পোষাক পড়া লোকটা তাকে দেখেই মুখ লুকিয়ে জোরে হাটা শুরু করে। 


ড্যনিয়েল কৌতুহল হয়ে কফির কাপ নামিয়ে লোকটার পিছু করে। পেছন থেকে ডাক দিয়ে বলে, এই থামেন কে আপনি?


লোকটা ভয় পেলে পালাতে থাকে। ড্যনিয়েল দৌড়ে ধরার চেষ্টা করে। লোকটাও দৌড় দেয়। দৌড়ে ২য় তলার সিড়ি বেয়ে উঠতে থাকে। ড্যনিয়েলও তার পেছন পেছন দৌড়াচ্ছে। জাহাজের সাদে উঠে যায় লোকটা।  এখানে জাহাজের ইন্জিনের কালো ধোয়া আকাশে উড়ে যাচ্ছে। 


ড্যনিয়েলও সাদে পৌছায়। এখন লোকটা তার সামনে দাড়ানো।  পালানোর পথ নেই। পালাতে চাইলে সমুদ্রে লাফ দিতে হবে। চেহারা কাপড় দিয়ে ঢাকা শুধু চোখগুলো দেখা যাচ্ছে। কে এই লোক?


লোকটা নিজের মুখের কাপড় খুলে ফেলতেই অবাক হয়ে তাকালো ড্যনিয়েল।  এটা  আর কেউ না, আন্টোনি। সে এই জাহাজে কি করে?


ড্যনিয়েল ও আন্টোনি জাহাজের সাদে পা জুড়িয়ে বসে আছে পাশাপাশি। 


আন্টোনি বলল, আমি ফাদারকে খুন করে এখন আসামি হয়ে এই জাহাজে পালাচ্ছি। আমি জানতাম না আপনিও একই জাহাজে। 


ড্যনিয়েল বলল, তুমি তাহলে লিসাকে সত্যি ই ভালোবাসতে?


আন্টোনি গম্ভীর হয়ে বলে, হ্যা। আপনার থেকেও বেশি।


ড্যনিয়েল সরু চোখে তাকিয়ে বলে, আমার মেয়েকে আমার চেয়ে বেশি ভালোবাসতে?


আন্টোনির চোখে রাগ বা হতাশা সেটা বোঝা যায় না। সে বলে, হ্যা। কারন আমি আপনাদের 'আদম পরিবার' এর বিষয়টা জেনে গিয়েছিলাম। লিসা মারা যাওয়ার আগে আমাকে সব খুলে বলে।


ভয়ে চোখ বড় বড় হয়ে যায় ড্যনিয়েল এর। তিনি ভাবতে থাকেন এই সাদে এখন কেউ নাই। আর তারা সমুদ্রের উপড়ে। এখন যদি এন্টোনি কে এখান থেকে সমুদ্রে ফেলে দেয়। তাহলে তাদের পরিবার এর গোপন তথ্য গোপন ই থাকবে। আর তাদের পরিবার এর তথ্য অন্যের কাছে থাকা মানেই বিপদজনক মনে করে ড্যনিয়েল। 


এখন ড্যনিয়েল ভাবতে থাকে আন্টোনিকে কিভাবে মেরে ফেলবে? গলা টিপে নাকি সাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে।


>>>>><<<<<


রাতের বেলা সাকিব গুদামঘরে আসে। তার হাতে গ্রেগর এর লেখা 'আদমধর্ম' বইটা। যেটা সাদিক এর ঘর থেকে চুরি করেছিল সে।


সাকিব বলে, তাহলে এটাই সেই কালো যাদুর বই৷ যেটার কারনে আমার ছোটবোন নিজুমকে বাবা হত্যা করে। এরকম বই সমাজে থাকা বিপদজনক। 


সাকিব মাটিতে কাঠগুলো রেখে আগুন ধরায়। তারপর ভাবতে থাকে বইটা পুড়িয়ে ফেলবে কিনা?


তখনই তার মন তাকে বলে, একবার পড়ে দেখ ভেতরে কি আছে? কি এমন রহস্য লুকিয়ে আছে এই বইতে?


 একটা সিগারেট ধরায়। তার হাত কাপতে থাকে। 


সাকিব দীর্ঘশ্বাস ফেলে তারপর বইটা সাহস করে আগুনে ফেলে দেয়। বইটা তার চোখের সামনে পুড়তে থাকে। জ্বলে নষ্ট হয়ে যেতে থাকে। 


সাকিব এর ঠোঁটের কোনায় হাসির রেখা ফুটে উঠে। যেন সে শয়তানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এই হাসি এর পেছনে আছে আনন্দ। যা অন্ধকারকে ধ্বংস করে মানুষ হাসে। তবে নিজের ভেতরের অন্ধকারকে ভয় পায়। সেটা কখনই ধ্বংস করে না।


সাকিব বলে, যারা যারা এই শয়তানি কাজের সাথে যুক্ত। আমি সবাইকে ধ্বংস করে দিব।  কেউ বাচবে না। আমি চাই না আমার পরিবার এর সাথে যা হয়েছে। তা অন্যকারো পরিবার এর সাথে হোক। 


<<<<>>>>>>


ছায়া দেখতে পেল সাদিক। মানুষ নয়, একটা জন্তু। জন্তুটার একটা লেজও রয়েছে। ভয়ে ভয়ে কৌতুহলে সাদিক ঘরে ঢুকলো।


অবাক হয়ে গেল সাদিক এ্যরন বসে আছে তার খাটের ওপর। বসে বসে কলা খাচ্ছে। যেন একটা বানর সে। 


কলায় কামড় দিয়ে এ্যরন বলল, কেমন আছো সাদিক? তুমি আমায় ডেকেছিলে। আমি এসেছি।


অবাক হয়ে সাদিক বলল, বিশ্বাস ই হচ্ছে না তুমি আমার চোখের সামনে।


এ্যরন কলা চিবুতে চিবুতে বলল, হা। জানি। মানুষ যা দেখে সেটা বিশ্বাস করে না। যেটা দেখা যায় না সেটাই বিশ্বাস করে।


আগ্রহ নিয়ে সাদিক বলল, তোমার লেজটা বানরের মতো। তবে চেহারাটা অদ্ভুদ এরকম কেন?


এ্যরন বলল, জানি না এসব।


সাদিক প্রশ্ন করলো, আচ্ছা কেউ যদি তোমায় দেখে ফেলে?  তখন কি হবে?


এ্যরন খাট থেকে লাফ মেরে আলমারীর ওপর উঠলো। তারপর আরেক লাফে ফ্যনের ওপর এক হাত দিয়ে ঝুলতে লাগলো। যেন এক জায়গায় সে বেশিক্ষণ স্থির থাকতে পছন্দ করে না। 


এ্যরন বলল, আমি পরোয়া করি না কে আমাকে দেখলো বা কে দেখলো না। 


এমন সময়ই ঘরের পর্দা সড়িয়ে চা হাতে ঢুকলো নাজমা।


ভয় পেয়ে গেল সাদিক। এখন যদি এ্যরন কে দেখে ফেলে। তাহলে কি হবে? 


নাজমা বলল, আপনাকে মরিয়ম নানীর ওখানে নিয়ে গেলাম। উনি কোন আপ্যায়ন করলো না। আমার খুব খারাপ লাগলো। এজন্য চা নিয়ে আসলাম। 


কথাটা বলে হাতে থাকা চায়ের কাপ এগিয়ে দিল। সাদিকের কপালে ঘাম। কারন তার পেছনেই ফ্যনের ওপর ঝুলছে এ্যরন। নাজমা কি তাকে দেখে ফেলবে।


নাজমা বলল, চায়ে চুমুক দিয়ে বলেন কেমন হইসে। আমি কখনও চা বানাইনি। এই প্রথমবার ট্রাই করলাম। 


সাদিক বলল, আমি চা খেয়ে দিব। তুমি চলে যাও।


নাজমা অবাক হয়ে বলল, তাড়িয়ে দিচ্ছেন আমাকে? 


সাদিক মনে মনে বলল, শিট! নার্ভাস হয়ে যাচ্ছি কেন? ওকে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে।


সাদিক বলল, মাত্র বাইরে থেকে আসলাম তো একটু রেস্ট নিব।


নাজমা বলল, অবশ্যই। তা ফ্যান অফ কেন? 


কথাটা বলেই নাজমা ফ্যানটা সুইচে টিপ দিয়ে অন করে দিল। 


সাদিক তাড়াতাড়ি পেছন ফিরে তাকালো ফ্যনের দিকে। ফ্যান জোরে ঘুরছে সাথে এ্যরনও ঘুরছে। যেকোন সময় ছিটকে পড়বে।  তবে এখনও ব্যলেন্স করে আছে কিভাবে কে জানে?


সাদিক ভয়ে ফ্যান অফ করে দিল। 


নাজমা অবাক হয়ে বলল, হঠাৎ আপনি এরকম আজব ব্যবহার করছেন কেন?  


সাদিক উত্তর দেওয়ার আগেই এ্যরন এসে লাফ মেরে সাদিক এর কোলে উঠে পড়লো। তার হাত থেকে চা পড়ে গেল। 


বিরক্ত হয়ে নাজমা বলল, চা ভালো হয়নি বললেই পারতেন চা ফেলে দিলেন কেন?


তখনই সাদিক বুঝলো সে ছাড়া এ্যরনের উপস্থিতি টের পায় না। এমনকি তাকে দেখতেও পারে না। এ্যরন সাদিকের গালে একটা চুমু দিল।


>>>><<<<<


রাত ২টা বাজে সাকিব গুদামঘরে আসে। তার হাতে গ্রেগর এর লেখা 'আদমধর্ম' বইটা। যেটা সাদিক এর ঘর থেকে চুরি করেছিল সে।


সাকিব বলে, তাহলে এটাই সেই কালো যাদুর বই৷ যেটার কারনে আমার ছোটবোন নিজুমকে বাবা হত্যা করে। এরকম বই সমাজে থাকা বিপদজনক। 


সাকিব মাটিতে কাঠগুলো রেখে আগুন ধরায়। তারপর ভাবতে থাকে বইটা পুড়িয়ে ফেলবে কিনা?


তখনই তার মন তাকে বলে, একবার পড়ে দেখ ভেতরে কি আছে? কি এমন রহস্য লুকিয়ে আছে এই বইতে?


 একটা সিগারেট ধরায়। তার হাত কাপতে থাকে। 


সাকিব দীর্ঘশ্বাস ফেলে তারপর বইটা সাহস করে আগুনে ফেলে দেয়। বইটা তার চোখের সামনে পুড়তে থাকে। জ্বলে নষ্ট হয়ে যেতে থাকে। 


সাকিব এর ঠোঁটের কোনায় হাসির রেখা ফুটে উঠে। যেন সে শয়তানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এই হাসি এর পেছনে আছে আনন্দ। যা অন্ধকারকে ধ্বংস করে মানুষ হাসে। তবে নিজের ভেতরের অন্ধকারকে ভয় পায়। সেটা কখনই ধ্বংস করে না।


সাকিব বলে, যারা যারা এই শয়তানি কাজের সাথে যুক্ত। আমি সবাইকে ধ্বংস করে দিব।  কেউ বাচবে না। আমি চাই না আমার পরিবার এর সাথে যা হয়েছে। তা অন্যকারো পরিবার এর সাথে হোক। 


সাকিব সিগারেট টা আগুনে ফেলে দেয়। আগুনের আলোয় তার চোখ জ্বলজ্বল করে উঠে। যেন আগুনটা তার চোখের মনিতে জ্বলছিল। 


সাকিব ভাবতে থাকে সে যা প্লান করেছিল। ২জন লোক রাতে ঢুকবে সাদিকের ঘরে তারপর তাকে হত্যা করবে। কারন সাকিব মনে করে সাদিকও আদম পরিবার এর সাথে যুক্ত। সাকিবের যুক্তি সাদিক যদি জড়িত না হতো, তাহলে তার ঘর থেকেই কেন বইটা পেল সে?


তাই সাকিব ২জনকে ভাড়া করেছে, যারা ভোর হওয়ার আগেই সাদিক মেরে বস্তায় ভরে নদীতে ভাসিয়ে দিবে। যারা যারা এই আদমধর্মের সাথে যুক্ত সাকিব সবাইকে মেরে ফেলবে৷ পুরো ধ্বংস করে দিবে এই আদম পরিবার। এটা ভাবতেই সাকিবের ঠোঁটের কোনায় মুচকি হাসি দেখা যায়।


>>>


জাহাজের কেবিনে বসে মদ পান করছে ড্যনিয়েল। তার সামনে বসা আন্টোনি৷ ড্যনিয়েল তাকে এখনও মারেনি। সময় নিচ্ছে সঠিক সময়ের। ঢেউয়ে জাহাজ হালকা দুলছে। তাদের কেবিনও হাল্কা হালকা দুলছে।


ড্যনিয়েল মদের বোতলে চুমুক দিয়ে বোতলটা এগিয়ে ধরে আন্টোনির দিকে। 


আন্টোনি বলে, আমি মদ্যপান করি না। 


ড্যনিয়েল বলে, খেও নাও। শরীর গরম রাখবে। এমনিতেও রাতে অনেক শীত পড়বে।


আন্টোনি মদের বোতল নিয়ে চুমুক দিতেই মুখ বিকৃত করে জিহ্বা বের করে ফেলে। 


আন্টোনি বলে, আমার পুরো গলা জ্বলে গেল। এতো ঝাঝ কেন মদে?


তারপর একেক ঢোক, তারপর আরেক ঢোক মদ গিলল আন্টোনি। নেশাগ্রস্ত চোখে তাকিয়ে রইল ড্যনিয়েল এর দিকে।


আন্টোনি বলল, ফাদার যখন আমাকে বাচিয়ে লিসাকে মেরে ফেলল। তখনই আমি বিদ্রোহ ঘোষণা করলাম। চার্চের অনেকেই আমার পক্ষ্য নিয়েছিল আমার বন্ধুরা। সবাই মিলে চার্চের ভেতর ফাদারকে ঘিরে ধরলাম। ফাদারের চোখে তখন ছিল ভয় কিংবা অন্যকিছু। আমি জানি না। দলে দলে আমার বন্ধুরা ফাদারকে চাকু ঢুকিয়ে দিল পেটে। সেখান থেকে রক্ত বের হতে লাগলো। যিশুখ্রিস্ট এর মুর্তির সামনে বসে পড়লো ফাদার। আমি চাকু হাতে তার সামনে যেতেই ফাদার অবাক হয়ে বলেছিল, আন্টোনি তুমি। এখনও সেই শব্দ আমার কানে ভাসে। আমি তারপর ঘুমাতে গেলে ফাদারের মৃত্যুর আগে সেই ভয় পাওয়া করুন চোখটা দেখি। যা আমাকে ঘুমাতে দেয় না।


ড্যনিয়েল বলল, তারপর কি হলো?


আন্টোনি বলল, তারপর আমি সেখান থেকে পালিয়ে আসি। আমার বন্ধুরা ফাদারকে মেরে। সেখানে ক্ষমতা নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। তারা নতুন একজন ফাদার নিয়োগ করে সেখানে। যেকিনা তাদেরই জন্য কাজ করবে।


ড্যনিয়েল বলে, ক্ষমতার লড়াই। আফসোস ফাদারের জন্য উনি তোমাদের বিশ্বাস করতো আর তোমরা তাকে খুন করলে। 


আন্টোনি মন খারাপ করে বলল, বিশ্বাস করেন আমার তখন প্রতিশোধ ছাড়া অন্যকিছু মাথায় ঘুরছিল না। আর আমার বন্ধুরা আমাকে হেল্প না করলে এটা কখনই সম্ভব ছিল না।


তারপর আন্টোনির ডান চোখ বেয়ে জল পড়তে থাকে।


ড্যনিয়েল আন্টোনির হাত থেকে মদ ছিনিয়ে নিয়ে  বলে, ছিঃ, মেয়ে মানুষের মতো কান্না করো না। খুব বিশ্রি লাগে।


>>><<<<<<<


সাদিক এ্যরনের গলা ধরে ঘুমিয়ে আছে।।আর এ্যরন ক্রমাগত কথা বলে চলেছে।


এ্যরন বলছে, সাদিক ঘুমিয়ে পড়েছো? আমি মাত্র দেখলাম সাকিব বইটি পুড়িয়ে ফেলেছে। তোমাকে খুন করার পরিকল্পনা করেছে। হয়তো সেই ২জন আসছে। তুমি উঠো। তুমি ঘুমিয়ে পড়লে চলবে না। 


তখনই ঘরের পর্দা সড়িয়ে (যেহেতু সাদিকের ঘরের দরজা ভাঙ্গা ছিল। তাই সেখানে একটা কাপড়ের পর্দা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল) ২জন লোক কাপড়ে মুখ ঢেকে হাতে চাপাতি নিয়ে প্রবেশ করলো।


এ্যরন সাদিকের কথা চিন্তা করে ভয় পেয়ে তাকে জাগাতে চেষ্টা করছে। তবে সাদিক গভীর ঘুমে তলিয়ে গেছে। 

এ্যরন সাদিক কে ধাক্কা দিয়ে বলছে, তোমার ঘরে ২জন লোক এসেছে। এরা তোমাকে মারতে চায়।।তুমি উঠো। তাড়াতাড়ি সাদিক। তাড়াতাড়ি উঠো। 


এ্যরন চোখ বন্ধ করে সাদিকের স্বপ্নে প্রবেশ করে দেখে চারিদিকে সমুদ্র আর সমুদ্র। ওই দূরে সাদিক ও নাজমা সমুদ্রের পাড়ে হাত ধরে হাটছে। 


এ্যরন  সাদিকের কাছে গিয়ে বলে, তার মানে তুমি তাকে পছন্দ করে। তাই তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছো।


সাদিক বিরক্ত হয়ে বলে, তুমি আমার স্বপ্নে কিভাবে প্রবেশ করলে?


এ্যরন বলে, সেটা বড় কথা না। বাস্তবতায় ফিরে এলো তোমাকে মারতে চায় ২জন লোক। বইটা সাকিব চুরি করে পুড়িয়ে ফেলেছে। এখন ২জন লোক পাঠাইসে তোমাকে মারতে।


সাদিক বলে, তাহলে চলো। 


সাদিক এ্যরন এর হাত ধরে। তারপর এ্যরন যাদু করে সাদিককে স্বপ্ন থেকে বের করে আনে।


সাদিক চোখ খুলে দেখে পুরো ঘর অন্ধকার। খাটের সামনে দুজন লোক দাড়িয়ে আছে। তাদের হাতে ভয়ংকর চাপাতি।


সাদিক ভয়ে ভয়ে খাট থেকে নামে। 


২জন এর মাস্ক ২কালার। একজন সাদা মাক্স আরেকজন কালো। 


সাদা মাক্স পড়া লোক ইশারা করে সাদিককে ধরতে। 


কালো মাক্স পড়া লোকটা সাদিকের সামনে দাড়ায়। ভয়ে সাদিকের হার্টবিট বেড়ে যায়। লোকটা তার থেকে ১ফুট বড় লম্বা। এমনকি ভালো বড়ি ফিটনেট। 


লোকটা সাদিককে একটা থাপ্পড় মারতেই সাদিক খাটে পড়ে যায়। উঠেই সাদিক খাট থেকে বালিশ নিয়ে লোকটার মুখে ছুড়ে দেয়। এতে লোকটা বিভ্রান্ত হয়, তবে তেমন কিছুই হয় না। পালানোর জন্য সাদিক দরজার দিকে যায়।


তখন সাদা মাক্স পড়া অপরলোকটা তার গলা চিপে ধরে। তাকে এক হাতে শূন্যে তুলে ফেলে। সাদিকের দম বন্ধ হয়ে আসতে থাকে। সাদিক পা দিয়ে লোকটার মুখে স্বজোরে লাথি দিতেই নাকে হাত দিয়ে লোকটা সাদিককে ছেড়ে দেয়। 


নিচে পড়ে কাশতে থাকে সাদিক। তখনই পেছন থেকে তার গলা চেপে ধরে কালো মাক্স পড়া লোক। নিজের দুহাত দিয়ে গলা ছাড়াতে চায় সাদিক। তবে লোকটা খুব শক্তিশালি তাই শক্তিতে পেরে উঠে না৷ কনুই দিয়ে কয়েকবার লোকটার পেটে আঘাত করেও কোন লাভ হয় না। 


সাদিক দেখলো কালো মাক্স পড়া লোকটার তার সামনে দাড়ানো। উনার নাক গিয়ে রক্ত পড়ছে। হাতে চাপাতি নিয়ে এগিয়ে এলো। 


তারপর কোন কথা নেই, বার্তা নেই।  সাদিকের পেটে চাপাতি টান দিল। তার পেট কেটে নাড়ি ভুরি সব মাটিতে পড়ে গেল। নাক মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে লাগলো। এ্যরন ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলল। সে খাটের নিচে লুকিয়েছে।


তারপর সাদিকের দেহটা একটা বস্তায় ভরে ফেলল দুজন লোক। তারপর কাধে বস্তার ব্যাগটা তুলে ঘর থেকে বের হয়ে গেল। 


তবুও এখনও সাদিকের রক্ত লেগে আছে মাটিতে। তারা চলে যাওয়ার পর এ্যরন এসে সাদিকের সেই রক্তে একটা চাটা দিল। তারপরই মুখ বিকৃত করে। ওয়াক বলে বমি করতে লাগলো। 


>><<<<

নেশাগ্রস্ত চোখে আন্টোনি বলল, আচ্ছা। আপনাদের আদমধর্ম কি সত্যি?  আপনারা কি সত্যি কালো যাদু করেন?


ড্যনিয়েল বুঝলেন মদের ঘোরে আন্টোনি এসব প্রশ্ন করছে। তার সাথে সমুদ্রের ঢেউয়ে জাহাজ টলমটল করছে। 


ড্যনিয়েল বলল, তুমি অতিরিক্ত খেয়ে ফেলেছো এবার রেস্ট নাও।


আন্টোনি বলল, হয়তো ঠিক বলেছো। মাথাটা কেমন ঘুরছে। চোখ ভারী হয়ে আসছে। তবে কথা বলতে ভালোলাগছে।


ড্যনিয়েল বলল, আচ্ছা। তাহলে কথা বলো। 


আন্টোনি বলল, আপনারা কেন আদম পরিবার করেন? আর কেন শয়তানের পূজা করেন? 


ড্যনিয়েল কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, আমরা মোটেও শয়তানের পূজা করি না। শয়তান বা লুফিসার হচ্ছে শুধুই স্বাধীনতার প্রতিক। আমরা তো গডও বিশ্বাস করি না। আমাদের কে নাস্তিক বলা চলে। আমরা নিজেদের নিয়ম বানাই। নিজেদের মতো জীবন যাপন করি। সমাজের চাপিয়ে দেওয়া নিয়ম মানি না।


আন্টোনি ঝিমুতে ঝিমুতে বলল, কি বলেন? সব মাথার ওপর দিয়ে যাচ্ছে। কিছুই বুঝলাম না। আচ্ছা আপনারা নাকি শূকরের মুত খান, এসব কি সত্যি?


ড্যনিয়েল দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। উনি বুঝলেন মদের ঘোরে আন্টোনি উল্টোপাল্টা কথা বলসে।


ড্যনিয়েল শুধু বললেন, ঘুমিয়ে পড়ো। রাত গভীর হয়েছে না ঘুমালে এ্যরন এসে পড়বে।


আন্টোনি অবাক হয়ে বলে, এ্যরন। এ্যরন আবার কী? 


ড্যনিয়েল কোন জবাব দেয় না।


>>>><<<<<


এদিকে সাদিকের লাশ বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। সেটা ডুবে না গিয়ে ভাসতে লাগলো। জোসনার আলো পড়েছে বস্তার ওপর৷ সাদা বস্তাও এখন রহস্যময় লাগছে। নদীর স্রোতে বস্তাটাকে দূরে কোথায়ও নিয়ে যাচ্ছে। কোথায় তা কেউ জানে না।


বস্তাটা ভাসতে ভাসতে আনোয়ার পীর এর ঘাটে এসে থামলো। এক খাদেম রাতের বেলা সেখানে বসে ছিল। তখন সে বস্তাটা দেখতে পেল। বস্তার বাইরে একটা মানুষের হাত ঝুলছে। এটা দেখেই তার সন্দেহ হলো। সাতার কেটে বস্তাটা উদ্ধার করলো।


আনোয়ার মাত্র ঘুম থেকে উঠে উঠানে আসলেন। উঠানে একটা বস্তা রাখা। ইশারা করতেই খাদেম বস্তাটা খুলে দিল। সাদিক এর মৃতদেহ বেরিয়ে এলো। নাড়িভুড়ি বের হয়ে আছে। বাজে গন্ধ আসছে৷ খাদেম নাকে হাত চেপে রইলো।


আনোয়ার বললেন, এটাকে কুটিরঘরে নিয়ে যাও। আর ডাইনী কায়াকে খবর দাও। উনি যদি যাদু করে কিছু করতে পারে।


খাদেম বলল, আপনি কেন এই অচেনা লোকের সাহায্য করছেন?


আনোয়ার বললেন, অচেনা? আমরা সবাই আদমের সন্তান। সবাই ভাই বোন। তাই আমার উচিত আমার ভাইকে সাহায্য করা।


লাল জামা পরিহিত অবস্থায় কায়া এসে হাজির হলো কুটির ঘরে। খাটে সাদিক এর নগ্ন দেহ শুইয়ে রাখা হয়েছে। পেট থেকে নাড়িভুড়ি বের হয়ে আছে। বাজে গন্ধ আসছে। যেকেউ দেখলে বমি করে দিবে। তবে কায়াকে দেখে শান্তই মনে হলো।


কায়া বললেন, সবাই বাইরে চলে যাও। আগরবাতি আর মম,সুই ও  দুটো কালো সুতো আর গরম এক বাটি তেল দিয়ে যাও। 


খাদেমরা বাইরে দাড়িয়ে অপেক্ষা করছে। আনোয়ার পীর গভীর আগ্রহে দাড়িয়ে আছে কুটিরঘরের বাইরে। কুটির ঘরের ভেতর থেকে চিৎকার চেচামেচি আসতে লাগলো। কখনও কখনও ভয়াবহ রকম শব্দে চিৎকার শোনা যেতে লাগলো। কুটিরের ভেতর যে কিছু একটা হচ্ছে সবাই তা বুঝতে পারছে। তবে কি হচ্ছে তারা সেটা দেখতে পাচ্ছে না। 


কুটিরের ভেতর কয়েকশত মানুষের চিৎকার ও বাচ্চার কান্নার শব্দও শোনা যেতে লাগলো। এমন কিছু শব্দ ও আলো আসতে লাগলো। যা দেখে খাদেম রা ভয় পেয়ে গেল। তারা ভেতরে কি হচ্ছে বোঝার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলো। 


মেঘের গর্জনের মতো শব্দ হতে লাগলো ভেতর থেকে। বাইরে থাকা সবাই স্তব্দ হয়ে গেল। 


১ঘন্টা পর কুটিরঘর থেকে বের হলেন কায়া। তারপর কোন কথা না বলে গরুর গাড়িতে চড়ে বসলেন। তিনি বাসায় চলে যাচ্ছেন।


কৌতুহল হয়ে আনোয়ার ও তার খাদেমরা ভেতরে প্রবেশ করলো এটা দেখার জন্য সাদিক কি সত্যি ই জীবিত হয়েছে? 


আনোয়ার দেখলেন সাদিকের পেট সেলাই করে দেওয়া হয়েছে। তার চোখ বন্ধ।  হতাশ হলেন আনোয়ার পীর। তারপর সেখান থেকে চলে গেলেন বাইরে। মন খারাপ করে উনি নিজেকে বললেন, এসব গুজবে বিশ্বাস না করাই ভালো। মৃত মানুষ কি কখনও জীবিত হয় নাকি? সব ভুয়া। রাগে ফোঁস ফোস করতে লাগলেন নিজের মনে।


এরকম সময় কুটিরের ভেতর সাদিক হঠাৎ চোখ খুলে উঠে বসলো। জোরে জোরে নিঃশ্বাস ফেলতে লাগলো। চারিদিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা করলো এটা সে কোথায় এসে পড়েছে?


এক খাদেম তাড়াতাড়ি এই খবরটা আনোয়ারকে দিলেন।


আনোয়ার এসে দেখলো সাদিক জেগে উঠেছে। এক খাদেম সাদিককে পোষাক দিল। 


সাদিক পোষাক পড়তে লাগলো। 


খাদেম বলল, আপনি মারা গেছিলেন। আপনাকে ডাইনি কায়া জাদু করে জিবিত করেছে। আপনি মারা যাওয়ার পর কোথায় ছিলেন? কি দেখেছেন?


সাদিক বলল, আমি দেখলাম আকাশে একটা সিড়ি আকাশে তুলে নিল। তারপর সেখানে সবাই লাইনে দাড়িয়ে আছি। সবার বিচার হচ্ছে। যেমনটা আদালতে হয়। যখনই আমার বিচারের সময় হলো তখনই আমি চোখ খুলে ফেললাম। আর নিজেকে এখানে পেলাম৷ 


হঠাৎ সাদিকের চোখ গেল আনোয়ার পীর এর দিকে। চোখের সামনে তাকে দেখে সাদিক চিনতে পারলো আর অকারন ভয় পেতে লাগলো। এই লোকটা তাকে বাচিয়েছে? তাহলে তার মতলব কি? উনি কেন তাকে হেল্প করলো?


আনোয়ার বললেন, আমি ভাবতাম এসব যাদুটোনা ভুয়া৷ কুসংস্কার। তবে আজ নিজের চোখে দেখলাম। আসলে সবাই দাবী করে তারা যাদু পারে। সব মিথ্যে, খুব অল্প সংখ্যক লোকই আসল বিদ্যার জ্ঞান রাখে।


সাদিক বলল, আমাকে যিনি বাচিয়েছেন। তিনি এখন কই?


আনোয়ার বলল, উনি সময় নষ্ট পছন্দ করেন না। তাই চলে গেছে বাসায়। সেটা বাদ দাও।  তোমাকে কারা মেরেছে এবং কেন? আমাকে সব ভুলে বলো।


সাদিক খেয়াল করলো তার কিছুই মনে পড়ছে না। ব্রেইনে চাপ দিতেই হঠাৎ মাথা ব্যথা শুরু হয়ে গেল। সাদিক দুহাত দিয়ে মাথা চেপে ধরলো।


আনোয়ার বলল, ঠিক আছে। চাপ নিতে হবে না। যখন মনে পড়বে। তখন বলে দিও।


সাদিক বলল, আচ্ছা। ঠিক আছে।


সাদিক ভাবলো আনোয়ার পীর এর চেহারা মনে আছে। আদম পরিবার এর কথা মনে আছে। তবে তাকে যে হত্যা করলো তার চেহারা মনে পড়ছে না কেন? তার কি নির্দিষ্ট কোন স্মৃতি মুছে গিয়েছে? এটা কি তাহলে চিকিৎসার সাইড এফেক্ট?



আনোয়ার বলল, তুমি রেস্ট নাও। আমরা সকালে কথা বলবো।


আনোয়ার ইশারা করতেই খাদেমরা ঘর খালি করে দিল। আনোয়ার নিজেও বের হয়ে গেলেন ঘর থেকে। 


হঠাৎ সাদিকের মনে পড়লো এ্যরনের কথা। এ্যরন কেন তাকে বাচালো না। কিছু একটা গোলমাল লাগছে। কেন জানি সব ডট মিলছে না৷ যেন রহস্যগুলো পেয়াজের খোসার মতো। একটা খুলে ফেলতেই আরেকটা রহস্য এসে জমাট বাধলো। 


<<<<<>>>>>>>


ভোর হয়ে গেছে আকাশে। সাকিব ২জন খুনি (যারা সাদিককে মেরেছিল) তাদের টাকা দিল দুজনকে ৫০হাজার করে দিল। 


টাকা নিয়ে একজন বলল, আপনার বাবাকে খুজে পাওয়া গেছে। সে এখন আনোয়ার পীর এর কাছে বন্দী। আমাদের টিমের একলোক উনাকে সেখানে দেখেছেন।


সাকিব বলল, ঠিক আছে। তোমরা চলে যাও।


গম্ভীর হয়ে খুনি বলল, পরবর্তীতে কোন কাজ থাকলে অবশ্যই জানাবেন। 


সাকিব বলল, হ্যা। কাজ তো এখনও অনেক বাকি। পুরো আদম পরিবার ও তাদের ধর্মকে ধ্বংস করে দিব। কারন এটা সমাজে একটা ভাইরাস এর মতো। যা মানুষের কাছ থেকে সব কেড়ে নেয়। 


খুনি হাত বাড়িয়ে বলল, আপনার এই জার্নিতে আমরা আপনার পাশে আছি।


সাকিব বুঝলো এটা বন্ধুত্ব নয়, ব্যবসায়িক এর হাত। 


মুচকি ঠোঁটে সাকিব তার সাথে হ্যন্ডশেক করলো।


>><<<<<


৩ মাস পরের ঘটনা:


তাদের জাহাজ এসে চট্রগ্রামে ভিড়লো। আন্টোনি ও ড্যনিয়েল জাহাজ থেকে নামলেন।


আন্টোনি বলল, এটা কোন দেশ? চারিদিকে শুধু গাছ আর গাছ। সবুজ শ্যমল প্রকৃতি। 


ড্যনিয়েল বলল, কেন তোমার গাছ পছন্দ না? এরকম ভাব করছো যেন ভেনিসে কোন গাছ ছিল না।


আন্টোনি বলল, সেরকম না। আসলে আমার ভালোলাগে প্রকৃতি। তবে এতো সুন্দর প্রকৃতি আগে কখনও দেখিনি। তাই অবাক।


ড্যনিয়েল বলল, এখানকার মানুষেরা মাছ পছন্দ করে। তোমার হয়তো খুদা লাগসে। চলো সকালের খাবার খাই।


আন্টোনি বলল, মাছ আমার পছন্দ না। সমুদ্রের গন্ধ আসে। আমি চিকেন কারি খাবো।


তারা দুজনে একটা হোটেলে ঢুকলো।


তাদের সামনে খাবার দেওয়া হলো। তারা খাবার খাচ্ছে আর কথা বলছে।


ড্যনিয়েল বলল, এখানে আসার পেছনে আমার একটা কারন আছে। আমি এমনি এমনি আসিনি। আশা করি তুমি আমাকে সাহায্য করবে।


আন্টোনি বলল, আমি ভায়োলেন্স পছন্দ করি না। আর আমি ফাদারকে মেরেছি শান্তির জন্য।


ড্যনিয়েল অবাক হয়ে বলে, শান্তির জন্য মানুষ খুন?  এটা কি ন্যায্য ছিল? যাই হোক, এটা কোন নৈতিকতার ক্লাস হচ্ছে না। এই আদমধর্ম শয়তানের ধর্ম। এটা আমার থেকে সব কেড়ে নিয়েছে। আমার পুরো পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে এই ধর্মের কারনে।


আন্টোনি মুরগির মাংসে কামড় দিয়ে বলল, হ্যা। এজন্য আপনি এখন আনোয়ার পীর এর পতন চান। আর আমরা এজন্য এসেছি। এটা গত ৩মাসে ১০০বারের ও বেশি বলছেন। শুনতে শুনতে আমি বিরক্ত।


ড্যনিয়েল বলল, ঠিক আছে। খাওয়া শেষ করো।।আমরা সকাল ৮টার ট্রেন ধরবো। রাতে হয়তো সেখানে পৌছে যাব।


আন্টোনি অবাক হয়ে বলল, এক ট্রেনেই ওখানে যাওয়া যায়?


ড্যনিয়েল বলল, না আমরা এক স্টেশন নামবো।তারপর আরেক স্টেশনের ট্রেনে উঠবো। জার্নিটা চরমকার হবে।


আন্টোনি বলল, সমুদ্রে জার্নি এখন ট্রেনে জার্নি। আমরা কি রেস্ট নিতে পারি না?


ড্যনিয়েল বলল, অবসয়ের সময় নেই।


<<<<>>>>>


আনোয়ার পীর এর চেয়ারে বসে আছে সাদিক। সে মানুষদের বক্তৃতা দিচ্ছে। ভক্তরা শুনছে।


সাদিক বলল, জীবনের মানে কী? আমি এখানে আসার আগে একজন সাংবাদিক ছিলাম। আমি মারা গেছিলাম।তবে মৃতরা কখনও মরে না। এই আনোয়ার পীরকে আমি খারাপ ভাবতাম। কারন উনার মতামত এর সাথে সাধারন এর মতামত মিলে না। দেখুন উনি আমাকে ২য় জীবন দিয়েছে আজ আমি উনার উপদেষ্টা ও খাদেম। উনি আমাকে শিখিয়েছেন জীবনের কোন মানে নাই। টাকা, পয়সা কোন কিছুই ইম্পর্ট্যান্ট না। আমরা একটা মিথ্যা মায়ার পেছনে ঘুরি। 


এরকম সময় আনোয়ার পীর সেখানে আসলেন। সাদিক চেয়ার থেকে উঠে দাড়ালো। আনোয়ার চেয়ারে বসলেন।


আনোয়ারের পাশেই দাড়িয়ে আছে সাদিক।


আনোয়ার বললেন, আমাদের সমাজ আলাদা চোখে দেখে। তবে আমাদের মতামত তাদের সাথে একমত নাও হতে পারে। সবাই আলাদা। আপনারা এখানে যারা এসেছেন। সবাই দুঃখী। সবাই সমস্যায় আছেন। একজন এর ভরসায় এসেছেন। আমি কাউকে সুখি করার ক্ষমতা রাখি না। ওই ওপরের উনি রাখেন। আপনারা যে যা আমাকে খুশি হয়ে দিবেন দিতে পারেন। আমি আপনাদের হয়ে উনার কাছে সুপারিশ করবো।


ভক্তরা কেউ ছাগল এনেছে, কেউ টাকা পয়সা দিল। কেউ পা ধরে সালাম করলো। কেউ সেজদা করলো। সাদিক সব দেখতে লাগলো। 


তারপর সাদিক চলে গেছে একটা রুমে যেখানে অন্ধকারে বসে আছেন গফুর। চুল দাড়ি না কেটে কেমন বড় বড় হয়ে গেছে। 


সাদিক বলল, তুমি খাবার খাচ্ছো না কেন? 


গফুর বলল, আমি বাচতে চাই না। আমি আমার মেয়েকে নিজ হাতে খুন করেছি। আমি পাপী বান্দা। 


সাদিক গফুরের পাশে খাটে বসলো।


সাদিক বলল, আমরা সবাই পাপী। আমাদের উচিত নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া। 


গফুর বলল,আমি চোখ বন্ধকরলো আমার মেয়ে নিজুমের মায়াবী চোখদুটো চোখের সামনে ভাসে।।আমার হাতে এখনও আমি রক্ত দেখতে পাই।


তারপরই শব্দ করে কাদতে লাগলো গফুর।  সাদিকের খুব মায়া হলো।  নিজেকে অসহায় ভাবতে লাগলো।  কারন সে গফুরের কষ্ট দূর করতে পারছে না।


<<<<>____<<<<<<


বিকেলবেলা মসজিদের ইমাম উঠানে গ্রামের সবাইকে একত্রিত করেছে। উনি চেয়ারে বসেছেন। উনার পাশেই সাকিব বসা। এগুলো তার ই পরিকল্পনা। এমনকি ইমাম কেউ সেই রাজি করিয়েছে। সবাই সত্য বলতে।।তবে সত্যটা কি?


ইমাম চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়িয়ে জনগনকে বলল, আসসালামু আলাইকুম ভাই ও বোনেরা। আপনারা জানেন আমাদের পাশের গ্রামে আনোয়ার পীর নামে এক ভন্ড পীর। নিজেকে আদম নবী দাবী করে মানুষের থেকে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে। এমনকি তারা নাকি আমাদের নবী (স.) কেউ মানে না। বলুন তারা কাফের কি না?


জনগন বলল, হ্যা। তারা কাফের।


ইমামের ঠোঁটে মুচকি হাসি রেখে বললেন, কাফেরদের উচিত গলা কেটে ফেলা। এতে আপনারা জান্নাত পাবেন।।আজ রাতেই হয়ে যাক। তাদের গ্রামের গিয়ে তাদের কে মেরে ফেলব আমরা। আল্লাহু আকবর। 


জনগন বলে উঠলো, আল্লাহু আকবর।


ইমাম বললেন, আমরা কার বান্দা?


জনগন চেচিয়ে উঠলো, আল্লাহর বান্দা। 


ইমাম বললেন, আমাদের নবী কে?


জনগন চেচিয়ে উঠলো, হযরত মুহাম্মদ (স.). 


ইমাম বললেন, তিনি সর্বশেষ্ঠ নবী। আর ছাড়া আল্লাহ ছাড়া অন্যকারো পূজা করে শিরক করে। তাদেরকে মেরে ফেলাই উচিত। কি বলেন?


জনগন চেচিয়ে বলে, কাফেরদের মেরে ফেলব।


ইমাম বললেন, আজ রাতে আমরা সেই গ্রামে যাবো। তোমাদের কাছে যা আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত হও। হয় তাদের মারবে নয়তো মরবে। যুদ্ধে যারা শহীদ হয়।।আল্লাহ তাদের জন্য জান্নাত পুরষ্কার ঘোষনা করেছেন। নারায়ে তাকদীর।


জনগন চেচিয়ে বলল, আল্লাহু আকবর। 


এবার চেয়ার থেকে উঠে দাড়ায় সাকিব।  চোখের সানগ্লাস খুলে বলে, আনোয়ার আমার বাবা গফুরকে আটকে রেখেছে।।হয়তো উনাকে শাস্তি দিচ্ছে হয়তো মারছে। আপনারাই বলেন আমার বাবা বুড়ো মানুষ। উনার সাথে কি এটা করা উচিত।


জনগন বলে উঠে, মোটেও না।


সাকিব বলে, আমরা আমার বাবাকে ফিরিয়ে আনবো।


ইমাম লক্ষ্য করে ভিড়ের মাঝে ২,১ জন পিছিয়ে যাচ্ছে।


ইমাম বলে, মুসলিম মুসলিম ভাই ভাই।।আমরা আমাদের ভাইকে ফিরিয়ে আনব। আল্লাহ...


জনগন বলে, হু আকবর...


<<>>_>>>>>>>>


কফিতে চুমুক দিয়ে মুখ পুড়িয়ে ফেললেন ড্যনিয়েল। ট্রেন চলছে আপন গতিতে। 


আন্টোনি বলল, দেখেন বাইরের দৃশ্যটা এতো গাছ আর আর খালি ধুলো বাড়ি। 


ড্যনিয়েল বলল, আমি একটা বিষয় নিয়ে ভাবছিলাম আমরা মানুষরা সবসময় নিজেদেরকে সঠিক ভাবি। কেন?


আন্টোনি বলল, জানি না। 


ড্যনিয়েল বলল, আমাদের উচিত নিজের ধর্মকে প্রশ্ন করা। চোখ বন্ধকরে কিছু করাকে অন্ধবিশ্বাস বলে। কেউ কেন কখনও নিজের ধর্মকে প্রশ্ন করে না কেন?


আন্টোনি বলল, জানি না আমি। আমার মাথায় আপনার এসব জ্ঞানের কথা ঢুকে না।


কফিতে চুমুক দিয়ে ড্যনিয়ল বলে, তুমি তো বাইবেল পড়েছো তাই না। এটা জানো বাইবেল লিখেছে সেন্ট পল। তো বাইবেল কখনই খ্রিস্টান দের আসল গ্রন্থ না। যিশুখ্রিস্ট এর বানী না।


আন্টোনি বিরক্ত হয়ে বলল, আপনি নাস্তিক তাই এরকম কথা বলছেন। 


ড্যনিয়েল বলল, হয়তোবা। তবে সবাই কেন নিজ ধর্মকে সত্য মনে করে? এসব চিন্তা আজকাল আমার মাথায় ঘোরে।


আন্টোনি বলল, আপনি একটা পাগল।


ড্যনিয়েল মুচকি হেসে বলল, আমরা যা বুঝি না।সেটাকে পাগল ট্যাগ দেই। যাইহোক। রাত খুব নিকটে।



ড্যনিয়েল ট্রেনের জানালা দিয়ে বাইরে তাকালো। আকাশে পাখিরা উড়ে যাচ্ছে। সূর্য্য আস্তে আস্তে ডুবে যেতে লাগলো। আকাশ পুরো লাল, সন্ধা হতে চলেছে।



>>>><<<<<<<

রাতের বেলা আনোয়ার পীর বসে আছেন নিজ ঘরে। ঝর্ণা একগ্লাস দুধহাতে উনার কাছে হাজির হলো।


আনোয়ার হাতে দুধের গ্লাস নিলেন। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চাইলেন ঝর্ণার দিকে। তারপর মাটিতে বসে থাকা বিড়ালের মুখে দুধটা ধরতেই বিড়াল জিহ্বা বের করে দুধ চাটালো।  কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলেন আনোয়ার। না বিড়াল টা মরে যায়নি। তাই এবার নিজে বাকি দুধগুলো পান করলেন।


ঝর্ণা বলল, কি এক বুড়া মাইনসের লগে বিয়া করলাম। আমাকে অনেক পোলা পছন্দ করতো। আর এহন দেহেন আপনার লগে শেষমেশ বিয়া হলো।


আনোয়ার চুপ করে আছেন। উনি ভাবলেন ঝর্ণা হয়তো উনাকে রাগানোর জন্য এসব কথা বলছে। তাই উনি রাগ কন্টোল করে আছেন বাইরে। তবে ভেতরে ঠিকই আহত হলেন।


এরকম সময় খাদেম এসে বলল, দুজন বিদেশি আপনার সাথে দেখা করতে এসেছে। আনোয়ার ইশারা করে বললেন তাদের ভেতরে আসতে।


ঘরে ঢুকলো ড্যনিয়েল ও আন্টোনি। 


ড্যনিয়েল মুচকি হেসে বলল, কেমন আছেন আনোয়ার সাহেব? আমাকে মনে আছে তো?


ঠোঁটে লেগে থাকা দুধ মুছে আনোয়ার বলল, নামটা ঠিক মনে পড়ছে না।


 <<<>>>>_


এদিকে তাদের ঘরের থেকে কিছূদূরে নদী। নদীর ওপাশে মশাল হাতে দাড়িয়ে আছে সাকিব। তার পেছনে গ্রামের লোকেরা। তাদের হাতে বাঁশ ও ছুড়ি, চাপাতি। 


সাকিব গ্রামের লোকদের বলল, আমরা কতজন আছি মোট?


গ্রামবাসী বলল, আমরা ৫০জনের মতো আছি।


সাকিব বলল, আনোয়ার পীর এর গার্ড কয়জন আর ওরা কতজন লোক?


গ্রামবাসী বলল, ওরা সম্ভবত ২০জনের মতো আছে। তবে আমরা তো কৃষক এর আগে খুন খারাপি করি নাই।


সাকিব বলল, আমি তো করি নাই। তয় সময় সবকিছু পাল্টায় দেয়। চলো নদী পাড় হওয়া যাক। 


তারা সাতার কেটে নদী পাড় হতে থাকে। প্রথমে সাকিব নদীতে লাফ দেয়। তার পেছনে ৫০ জন আসতে থাকে। 


এদিকে গার্ড সাকিব ও গ্রামবাসীকে দেখে ফেলে। তারা নদী পাড় হয়ে এদিকে আসছে। 


গার্ড দৌড়ে আনোয়ার পীর এর কাছে যায়। 


ঘরে ঢুকে গার্ড বলে, ওই পাশের গ্রামের লোকেরা আইতাসে। আমাদের শেষ কইরা দিব।


আনোয়ার গম্ভীর হয়ে বলে, সবাইকে প্রস্তুত হতে বলো। ঝর্ণা তুমি খাটের নিচে লুকাও। যতক্ষণ না আমি বলবো ততোক্ষণ বের হবা না। 


ঝর্ণা ভয়ে খাটের নিচে লুকিয়ে পড়ে। 


ড্যনিয়েল বলে, আপনি তো চাইলে পালিয়ে যেতে পারেন।


আনোয়ার বলে, পালানোর পথ নেই। আজকে দেখা যাবে কার খোদা বেশি শক্তিশালি ওদের না আমাদের। 


আন্টোনি অবাক হয়ে তাকায় ড্যনিয়েল এর দিকে।


এদিকে সাদিক তখন ঘুমিয়ে ছিল ঘরে তার ঘুম ভাঙ্গে বাইরের চিৎকার চেচামেচি শুনে। লাফ মেরে উঠে বসে সে। দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে দেখে। সবাই দৌড়াদৌড়ি করছে। কয়েক ঘরে আগুন জ্বলছে। লোকজন একে অপরকে মারছে। বাঁশ দিয়ে মাথা ফাটিয়ে দিচ্ছে। 


সাদিক আবার ঘরে ফিরে খাটের নিচ থেকে কুড়ালটা বের করে হাতে নেয়। 


<<<>>_


এদিকে সাকিব তখন গফুরের ঘরে ঢুকে। গফুর অন্ধকারে বসে ছিল চুপচাপ। 


সাকিব বলে, বাবা। চলো আমাদের যেতে হবে।


গফুর বলে, কে তুই?


সাকিব বলল, আমাকে চিনতে পারছো না বাবা আমি সাকিব।


গফুর হঠাৎ ফুপিয়ে কেদে বলে, আমি কিভাবে ওখানে যাবো? আমি অপরাধী খুনি।


সাকিব বলে, আমরা তোমাকে ক্ষমা করে দিসি।


গফুর বলে, তোরা ক্ষমা করলেও তো উনি করেনি।


সাকিব অবাক হয়ে বলে, উনি আবার কে?


গফুর বলে, সর্বশক্তিমান লুসিফার।


ভয় পেয়ে যায় সাকিব। তার বাবা তাহলে লুসিফার এর মায়ায় জড়িয়ে গেছে। এটা গ্রাম বাসীরা জানলে তার বাবাকেও হত্যা করবে।


সাকিব বলে, উনি ক্ষমা করবেন। পরে দেখা যাবে এবার আসো।


সাকিব নিজের বাবার হাত ধরে উঠায়। তারপর ঘরের বাইরে বের করে।


সাকিব দেখে গ্রামবাসীরা মারামারি করছে আনোয়ার এর গার্ডদের সাথে। সবগুলোকে কুপিয়ে হত্যা করছে। পুরো উঠান এখন রক্তে ভেসে যাচ্ছে।


সাকিব পালাতে যাবে তখনই তার সামনে এসে দাড়ায় সাদিক। তার হাতে কুড়াল। সাকিব হাতে কিছু নেই। শুধু ডান হাত দিয়ে ধরে আছে তার বাবার হাত।


সাকিব বলে, তুমি তাহলে মারা যাওনি?


মুচকি হেসে সাদিক বলে, মৃতরা কখনও মরে না। গফুর আমাদের লোক, উনাকে ছেড়ে দাও। আমি তোমাকে প্রানে ছেড়ে দিব।


সাকিব বলে, আমি আমার বাবাকে না নিয়ে যাবো না।


সাদিক বলে, ঠিক আছে।


তারপর সাদিক কুড়াল মাথার ওপর তুলে সাকিবের ডান হাত কোপ দিয়ে ফেলে দেয়। তার বাবা ভয় পেয়ে আবার নিজ ঘরে চলে যায়।


তারপর সাদিক সাকিবকে পেটে একটা লাথি দিতেই সাকিব তাল সামলাতে না পেরে মাটিতে পড়ে যায়। সাকিব চেষ্টা করে ডান হাত নাড়ানোর জন্য। তবে সেটা দূরে মাটিতে পড়ে আছে। আর রক্ত বের হচ্ছে। অজ্ঞান হয়ে যায় সাকিব।


সাদিক গ্রামবাসীদের একেক করে ধরে পিছন দিয়ে পিঠে কোপ মারতে থাকে। যারা গার্ডদের সাথে মারামারি করছে। এমন সময় এক গ্রামবাসী সাদিকের পেটে চাকু ঢুকিয়ে দেয় পেছন থেকে। সাদিক পেটে হাত দিয়ে দেখে রক্ত।


তারপর পেছনে তাকিয়ে এক কোপে সেই লোকের মাথা ঘাড় থেকে আলাদা করে দেয়। পুরো রক্ত ছিটে তার মুখ লাল হয়ে যায়। 


আনোয়ার পীর এর রুমের দরজায় টোকা দিতে থাকে কে যেন বাইরে থেকে। একটা বাশ তুলে নেয় ড্যনিয়েল ভয় পেতে থাকে সে।


তখনই বাইরে থেকে সাদিক বলে, আমি গেট খুলেন বিপদ নাই। যুূ্দ্ধ শেষ হয়ে গেছে।


ড্যনিয়েল ও আন্টোনি একে অপরের মুখের দিকে তাকায়। তারপর ভয়ে ভয়ে দরজা খুলে দেয়। 


সাদিক ঘরে প্রবেশ করে বলে, সবাইকে মেরে ফেলেছি। যারা বিদ্রোহী করেছিল। সবাইকে মারার পরও কিছু লোক ভয়ে পালায় গেছে। আর আমাদের ১০জন গার্ড মারা গেছে।


ড্যনিয়েল অবাক হয়ে বলল, সাংবাদিক সাদিক। তুমি এখানে?


আনোয়ার বললেন, তোমরা একে অপরকে চিনো নাকি?


ড্যনিয়েল বলল, খুব ভালো মতোই চিনি। 


তখনই খাটের নিচ থেকে বেরিয়ে এলো ঝর্ণা। আনোয়ার ঝর্ণাকে নিচের কোলে বসালেন। তারপর গালে চুমু খেলেন।


আনোয়ার বললেন, এখন আর ভয় নাই। সত্যর জয় হয়েছে।



আকাশে তখন ভোর হয়েছে। পাখিরা কিচিরমিচির করছে। সাদিক উঠানে বসে রক্তমাখা হাতে সিগারেট ধরিয়ে টানছে। 


উঠানে থাকা লাশগুলো ধরে ধরে আগুনে পোড়ানো হচ্ছে। সাকিব কে লোকটা ধরতেই সাকিব হঠাৎ জ্ঞান ফিরে এলো। ভয়ে সে দৌড় দিল।সাদিক চাইলে তার পিছু করে মারতে পারে। তবে সাদিক শুধু তাকিয়ে দেখছে। সাকিব বার বার পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখছে কেউ তাকে ধরছে আসতেছে কি না। 


সাদিক সিগারেট শেষ করে মাটিতে ফেলে পা দিয়ে আগুন নেভালো। 


<<>>>>>

আন্টোনি বলল, সাদিকের চোখ দেখেছো গতরাতে পুরো কালো ছিল৷ আমার মনে হয় তাকে লুসিফার তখন কন্ট্রোল করছিল। তা না হলে কিভাবে একটাই এতোজনকে কুপিয়ে হত্যা করলো? এটা কি সাধারন কারো পক্ষে সম্ভব?


ড্যনিয়েল নদীতে  প্রস্রাব করার পর চেইন লাগালেন। তারপর ঘাষের ওপর আন্টোনির পাশে বসলেন।


ড্যনিয়েল বলল, লুফিসার কি সত্যি ই আছে? 


আন্টোনি বলল, ও আপনি তো নাস্তিক এসব বিশ্বাস করেন না। তবে ইশ্বর যদি থাকে।।তাহলে লুসিফারও আছে।


ড্যনিয়েল মুচকি হেসে বলল, সেটা আমাদের কল্পনায় বাস করে। তুমি কখনও লুসিফার দেখেছো?


আন্টোনি বলল, আমি লুফিসার দেখিনি। তবে গতরাতে সাদিকের চোখ দেখেছি। সেটা কোন সাধারন মানুষের চোখ ছিল না। কেউ তাকে কন্ট্রোল করছিল। তার হাঁটাচলা কথাবার্তা সব যন্ত্রের মতো ছিল।


ড্যনিয়েল গম্ভীর হয়ে বললেন, হয়তো আনোয়ার পীর এর কাছে কোন গোপন ক্ষমতা আছে। যা দিয়ে উনি মানুষের মাইন্ড কন্ট্রোল করে নিজের মতো পরিচালনা করতে পারেন। 


আন্টোনি বলল, আমার উচিত সাদিকের সাথে এই বিষয়ে কথা বলা। তার ভেতরে লুসিফারকে বের করে তাকে নরমাল করতে হবে। 


ড্যনিয়েল বলল, তুমি আমাদের প্লান ভুলে গেছো?


আন্টোনি বলল, না। আমার মনে আছে। তবে আমি চার্চে কাটিয়েছি আমার পুরো জীবন। সেখানে অনেককে ডেমন ঢুকতো তাদের ভেতর। ফাদার বাইবেল পড়ে তাদের ডেমন বের করতো। আমি সেখান থেকে শিখেছি।


ড্যনিয়েল বলল, তুমি কি সেটা এপ্লাই করতে চাও সাদিকের ওপর।


আন্টোনি উঠে দাড়িয়ে বলল, অবশ্যই।


ড্যনিয়েল বলল, ঠিক আছে তাহলে যাও। আর আমি আনোয়ার পীর সাথে শেষ দেখা করে আসি। তোমার কাছে যে শিশিটা আছে সেটা দাও৷ ওটার ভেতরের পাউডার আমি তার খাবারে মিশিয়ে দিব। এমনিও দুপুর হয়েছে। এখন উনার খাবারের সময়।


>>>>><<<<<<


রান্নাঘরে খাদেম বড় থালায় আস্ত মুরগির মাংস ও ভাত নিয়ে যাচ্ছিল। ড্যনিয়েল খাদেমের হাত থেকে থালাটা নিয়ে নিল৷ 


ড্যনিয়েল বলল, সমস্যা নাই। আমি খাবার দেই। তুমি যাও।


তারপর ড্যনিয়েল খাবারে সেই পাউডারটা ছিটিয়ে দিল। 


এবার উনি ঢুকলেন আনোয়ার পীর এর ঘরে৷ আনোয়ার বালিশে হেলান দিয়ে হুক্কা টানছিল। ড্যনিয়েল ও খাবার দেখে হুক্কাটা রেখে দিল।


আনোয়ার বললেন, তুমি মেহমান মানুষ। তোমার এসব কষ্ট করার দরকার ছিল না। আসো তুমি আমার সাথে খাবে।


ঢেউক গিলল ড্যনিয়েল। বাহানা খুজতে লাগলো। 


ড্যনিয়েল বলল, আমার পেট খারাপ করেছে। খেতে পারব না ক্ষমা করবেন।


আনোয়ার বলল, ঠিক আছে। তুমি তাহলে বসো। তবে অল্প হলেও খেতে হবে। আমি আবার একা খেতে পারি না।


ড্যনিয়েল খাবারের থালাটা রাখলেন তার সামনে।  মুরগির মাংস ছিড়ে সেটা দেখতে লাগলেন আনোয়ার। উনার সন্দেহ হলো। গতরাতে যেমন দুধ খাওয়ার আগে বিড়ালকে দিয়েছিলেন। আজও তাই করলেন।


মাংসের একটু টুকরো বিড়ালকে দিলেন। বিড়াল সেটা চেটেপুটে খেতে লাগলো জিহ্বা বের করে। ভয়ে গলা শুকিয়ে গেল দাড়িয়ে থাকা ড্যনিয়েল এর। এবার বুঝি সে ধরা পড়ে যাবে।


আগ্রহ নিয়ে বিড়ালের খাওয়া দেখছে আনোয়ার। কিছুক্ষণ পর বিড়ালটা হঠাৎ বমির মতো করতে লাগলো। আনোয়ার এর ঠোঁটের কোনায় হাসি। উনি বুঝে গেছেন উনাকে মারতে চায় ড্যনিয়েল। ড্যনিয়েল দেখলো বিড়ালটা মরে পড়ে আছে। 


>>>><<<<<<<


আন্টোনি হাতে যিশুখ্রিস্ট এর ক্রস চিন্হ নিয়ে ঢুকলো সাদিকের ঘরে। সাদিক অন্যপাশে ফিরে আছে।।তার পিঠ দেখা যাচ্ছে।


আন্টোনি এই দুপুরবেলাও ভয় পাচ্ছে, গরমে ঘেমে যাচ্ছে তার মুখ। 


আন্টোনি ক্রস চিন্হ উচু করে শক্ত করে ধরে বলল, তুমি লুসিফার। এর শরীর থেকে বের হও। আমি সর্বশক্তিমান ইশ্বরের পক্ষ থেকে বলছি এর শরীর থেকে বের হয়। পালিয়ে যাও।


হঠাৎ সাদিক গম্ভীর গলায় বলল, তুৃমি কখনও লুসিফারকে দেখেছো?


তারপর সাদিক পেছন ফিরে তাকালো। সাদিকের চেহারা দেখে ভয় পেয়ে গেল আন্টোনি। এটা কি কোন যাদু?


আন্টোনি দেখলো সাদিকের চেহারায় কোন নাক, মুখ, চোখ নাই। পুরো জায়গাটা একটা গর্ত। যার ভেতরে পুরো গ্যলাক্সি, পুরো বিশ্ব তার চেহারায় নক্ষত্রগুলো কত ছোটছোট তারা ঘুরে চলেছে। ছুটে চলেছে একটা নির্দিষ্ট পথে।


সাদিকে আন্টোনির হাত থেকে ক্রস চিন্হটা ফেলে দিতেই। আন্টোনি দেখলো আশেপাশে সব ধোয়া হয়ে যাচ্ছে। ভয়ে আন্টোনি দৌড় দিল। তখনই একটা কাচের দরজার সাথে ধাক্কা গেল। কাচের দরজার ওপাশে সেই অতীত আন্টোনি ফাদারের পেটে চাকু ঢুকালো। ফাদার অবাক হয়ে বলল, আন্টোনি। 


আন্টোনি এসব দেখছে কাচের দরজার এপাশ থেকে। আন্টোনি বুঝলো না। কেন তাকে তার অতীত দেখানো হচ্ছে। তারপর ই সবকিছু আবার ধোয়ায় সাদা সাদা হয়ে গেল। আন্টোনি দেখলো তার সামনে দাড়িয়ে আছে একলোক হাতে কুড়াল। সেই কুড়াল দিয়ে আন্টোনিকে আঘাত করলো বুকে। আন্টোনি ভয়ে বুকে হাত দিতেই। আশেপাশের সব দৃশ্য পরিবর্তন হয়ে গেল। 


আন্টোনি দেখলো চারিদিকে বরফ। দূরে একটা টেবিলে কয়েকজন গল্প করছে। দুনিয়ার সব বিখ্যাত মানুষেরা তবে এরা তো মারা গিয়েছিল। আন্টোনি এগিয়ে গেল টেবিলটার সামনে। তারা বিরক্ত হয়ে চেয়ে রইলো আন্টোনির দিকে।


ফ্রেডরিক নিটশে বলল, তুমি তো জীবিত এন্টোনি। তাহলে নরকে কি করছো?


আন্টোনি বলল, এটা নরক? এতো ঠান্ডা ও শীতল? কিন্তু আমরা তো বাইবেলে পড়েছি? 


হেসে উঠে নিটশে গোফ ঠিক করে বলে, তুমি কি কখনও নিজের জ্ঞান কে প্রশ্ন করেছো?


আন্টোনি বলে, এখানে গড কোথায়?


নিটশে হাতে থাকা মদে গ্লাসে  চুৃুমুক দিয়ে হেসে বলে, গড ইজ ডেথ। 


তারপরই সব আবার কুয়াশা হয়ে যায়। কুয়াশা কেটে গেলে আন্টোনি দেখে সে দাড়িয়ে আছে সাদিক। সাদিক এর মুখ ফিরে এসেছে। তবে তার চোখগুলো পুরো কালো।


সাদিক বলল, তুৃমি আমাকে এভাবে একসেপ্ট করবে না রিজেক্ট করবে?


আন্টোনি বলল, তুমি যাদু জানো। ভয়ংকর যাদু এসব। নরককে দেখিয়েছো ফুলের বাগান হিসেবে।তুমি মন্দকে ভালো ও ভালোকে মন্দ করে দেখাও।


সাদিক তার কালো চোখগুলো দিয়ে তাকিয়ে রইলো আন্টোনির দিকে। 


আন্টোনি ঠোঁটে মুচকি হেসে বলল, গড কখনও মরে না।


তারপর মাটি থেকে ক্রস চিন্হ তুলে তাড়াতাড়ি সাদিকের কপালের মাঝ বরাবর রাখতেই সাদিক ব্যথায় চিৎকার করে উঠলো।


আন্টোনি বাইবেল পাঠ করতে লাগলো, Be quiet! Come out of him!"

("চুপ করো! ওর ভেতর থেকে বেরিয়ে এসো!")

​"Lord, even the demons submit to us in your name."

("প্রভু, আপনার নামে অশুভ আত্মারাও আমাদের বশ্যতা স্বীকার করে।")

​"Resist the devil, and he will flee from you."

("শয়তানকে প্রতিরোধ করো, তবে সে তোমাদের কাছ থেকে পালিয়ে যাবে।")

​"I have given you authority... to overcome all the power of the enemy."

("আমি তোমাদের শত্রুর সমস্ত শক্তির ওপর জয়ী হওয়ার কর্তৃত্ব দিয়েছি।")

​"In the name of Jesus Christ, I command you to depart and return no more."

("যিশু খ্রিস্টের নামে আমি তোমাকে চলে যাওয়ার এবং আর ফিরে না আসার আদেশ দিচ্ছি।")


চিৎকার করতে থাকে সাদিক। হঠাৎ তার মুখ থেকে একটা কালো ধোয়া বের হয়ে আকাশে চলে যায়।অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যায় সাদিক। তার শরীর আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে। পেট কাটা সেখান থেকে নাড়িভুড়ি বের হয়ে আছে। সে মারা গেছে অনেক আগেই, তবে লুসিফার তার শরীরে ছিল এতোদিন। তার শরীরটা ব্যবহার করেছিল।


বমি করার মতো অবস্থা হয় আন্টোনি। কোনমতে ঘর থেকে বের হয়ে বাইরে এসে দেখে ড্যনিয়েল ও দাড়িয়ে আছে। ড্যনিয়েল বলল, কাজ হয়ে গেছে। চলো এখান থেকে পালাই। তারপর তারা এই জঙ্গল ছেড়ে দৌড়াতে লাগলো দুজনে। 


আন্টোনি অবাক হয়ে বলল, আনোয়ার পীর খাবার খেয়ে মারা গেছে?


ড্যনিয়েল বলল, আরে না। সে অনেক চালাক। খাবারটা বিড়ালকে দিল। বিড়াল মারা গেল। সে বুঝে যায় খাবারে বিষ। তারপর কি প্লান বি করতে হলো।


আন্টোনি বলল, প্লান বি মানে ছুড়ি দিয়ে তার গলা কেটে হত্যা?


ড্যনিয়েল বলল, তাছাড়া কোন উপায় ছিল না। মনস্টারকে শেষ করতে হলে নিজেকেও মনস্টার হতে হয়। এখন হয়তো ওর খাদেম ওকে মৃত দেখে আমাদের ধরতে আসবে।


তারা মেইন রাস্তায় আসলো। একটা ট্রাক যাচ্ছিল। দুজনে দৌড়ে সেই ট্রাকের পেছনে উঠে বসলো। এখন তাদের এই অনির্দিষ্টকালের জন্য গন্তব্যহীন পথে গল্প সমাপ্ত হচ্ছে।


(সমাপ্ত)


#আদম_পরিবার

#সিজন_৩

#রুদ্র_সিয়াম















মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পিচ্চি বউ - পর্ব ২৯

 আমি জেরিনকে বললাম, আবারো তুমি প্যন্টে হিসু করে দিয়েছো?  জেরিন ঘুমঘুম চোখে বলল, এটা হিসু না। লাইট অন করেন। আমি লাইট অন করলাম। আর অবাক হয়ে তার সাদা পাজামার দিকে তাকালাম। তার সাদা পাজামা পুরো লাল হয়ে আছে। আমার  আন্ডারওয়ারেও কিছু লাল দাগ লেগেছে।  আমি ভয়ে আতংকিত হয়ে জেরিনের গালে দুহাত হাত রেখে  বললাম , ও মাই গড। তোমার রক্ত বের হচ্ছে কেন? জেরিন বলল, এমন নাটক করতাসেন কেন? ড্রয়ার থেকে প্যাড এনে দেন।  আমি ড্রয়ার থেকে প্যাড এনে দিলাম।  আমি বললাম, তোমার কি কোথাও কেটে গেছে। না হলে রক্ত বের হচ্ছে কেন? জেরিন রেগে বলল, ফাজিল কোথাকার বুঝেন না আমার পিরিয়ড হচ্ছে। এই কথা শুনে আমি জেরিনকে জড়িয়ে ধরলাম। তারপর কানে কানে বললাম, তোমার কি খুব কষ্ট হচ্ছে? পেট ব্যথা করছে?  <amp-auto-ads type="adsense"         data-ad-client="ca-pub-9645388120151436"> </amp-auto-ads> এদিকে জেরিন দেখি খুব নরমাল আছে। যেন কিছুই হচ্ছে না তার। ইরা যখন বলেছিল তার মিন্স হচ্ছে। তখনই ইন্টারনেটে সার্চ দিয়েছিলাম যে মিন্স হলে মেয়েদের কেমন ফিল হয়। সেখানে পড়লাম মিন্স হলে মে...

খালাতো বোনের সাথে প্রেম / রোমান্টিক প্রেমের গল্প / Rudro Siyam

মা যখন বললেন যে আমার বিয়ে হবে আমার খালাতো বোনের সাথে। সে কথা শুনেই আমি ভয়ে বাসে করে কক্সবাজার চলে আসলাম। এখানে একটি হোটেলে উঠেছি নিজেকে লুকিয়ে রাখার জন্য।  আমাকে পেলেই মা-খালা মিলে বিয়ে দিয়ে দিবে। তাই কয়েকদিন লুকিয়ে থাকি। যখন সুরভীর বিয়ে হয়ে যাবে। তখন আমি আবার বাড়ি চলে যাবো। হ্যা! সুরভী ই আমার খালাতো বোনের নাম। এবার ক্লাস টেনে উঠেছে আর তাকে বিয়ে দিয়ে আমার ঘাড়ে চাপানোর প্লান করছে আমার মা আর খালা।  হোটেল রুমে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ কলিংবেলের শব্দে তড়াক করে উঠে। দরজা খুলতেই দেখি একটা ফুলের তোড়া হাতে কে যেন দাড়িয়ে আছে। ফুলটার গন্ধ নিতেই আমি অজ্ঞান হয়ে গেলাম। জ্ঞান ফিরলে দেখি আমার হাত,পা বাধা করে আমাকে গাড়িতে করে কোথায়ও যেন নিজে যাওয়া হচ্ছে। তার মানে কি আমাকে কিডন্যাপ করা হয়েছে। গাড়ি যে চালাচ্ছে। সে রাকিব। আমার বন্ধু! রাকিব: দোস্ত! টেনসন করিস না! লাইফে একবার না। একবার তো বিয়ে করতেই হবে। বিয়ে থেকে পালালে হবে?  আমাদের ধর্মে তো বিয়ে করা ফরজ। তাহলে তুই পালিয়ে বেড়াচ্ছিছ কেন? আমি: তুই কিভাবে জানলি যে আমি কক্সবাজারের হোটেলে আছি? তোকে কে খবর দিল? রাকিব: আরে! বেটা! এখন ইন্টারনেটের যুগ। তুই...

প্লেবয় লাভ স্টোরী) রোমান্টিক প্রেমের গল্প/ রুদ্র সিয়াম

শামীম: রুদ্র। তুই একটা প্লেবয়। তুই এতো মেয়েকে কিভাবে পটিয়ে ফেলিস বুঝি না। যেখানে আমাকে কোন মেয়েই পাট্টা দেয় না। দোস্ত। মেয়ে পটানোর টিপস গুলো আমাকে একটু বল। আমিও তোর মতো প্লে বয় হতে চাই। আমি মোবাইলের স্ক্রিন থেকে চোখ সড়িয়ে তাকালাম শামীমের দিকে। বেচারা এতোবার রিজেক্ট খেয়েছে। এখন আমার কাছ থেকে মেয়ে পটানো শিখতে চায়। আমি: দেখ একটা মেয়ের পেছনে কম হলেও ৪/৫ টা ছেলে ঘোরে। এখন যদি তুইও ঘুরিস। তাহলে সেই ৪টা ছেলে আর তোর মধ্যে কি তফাত থাকলো? তোকে হতে হবে স্পেশাল। তাহলেই দেখবি মেয়েরা তোর প্রতি আগ্রহ দেখাবে আর তোর পেছন পেছন ঘুরবে। বুঝলি? শামীম: আচ্ছা। চেষ্টা করে দেখব। আর কোন টিপস নাই।  আমি: মেয়েদের পাট্টা দিবি না। তাহলে মেয়েরা তোকে পাট্টা দিবে। যত সুন্দর মেয়েই হোক। এমন ভান করবি তোর সামনে কিছুই না। শামীম: কিন্তু আমার তো মেয়েদের সামনে গেলেই হাত পা কাপে। আর টয়লেট লাগে বার বার।  আমি: এরকম হলে তুই কখনই মেয়ে পটাতে পারবি না। আজীবন সিঙেল ই থাকবি। এরকম সময় আমাকে সুনেরাহ কল দিল। আমি কল রিসিভ করলাম। আমি: (ধমক দিয়ে) এই সময়ে কল দিয়েছো কেন? জানো না আমি ব্যস্ত থাকি। তোমাকে বলেছি রাত ১২ টার পর কল দিবা। কত ম...