সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আদম পরিবার(সিজন১) রুদ্র সিয়াম

 সাংবাদিক সাদিক ময়মনসিংহ  এর গ্রামে এসেছে রহস্যময় আদম পরিবার এর খোঁজে।  লোকমুখে শোনা যায় এরা ভুতুড়ে পরিবার ও অজাচার (রক্তের সম্পর্কের সাথে ফিজিক্যাল) করে বেড়ায়। তবে সত্যটা খুজতে ঢাকা থেকে তাকে পাঠানো হয়েছে এই গ্রামে। 


সন্ধাবেলা যখন সাদিক ট্রেন থেকে নামলো। তখন সূর্য ডুবে যাচ্ছে। আকাশ লাল হয়ে আছে। সাদিক প্রথমে একটা চায়ের দোকানে বসে চা সিগারেট খেল। এমনিও দুপুরে কিছু খাওয়া হয়নি। 


সাদিক দোকানিকে চায়ের বিল দিতে যাবে। তখন দোকানদার চিকন গলায় বলল, বিল লাগবে না।


সাদিক অবাক হয়ে বলল, কেন?


দোকানদার বলল, আপনি অতিথি মানুষ। চা আমার পক্ষ থেকে খাওয়াইলাম। 


সাদিক বুঝলো কাধে ব্যাগ। তাই দোকানদার ভালো পর্যবেক্ষণ করেছেন। 


সাদিক বলল, আচ্ছা।আদম পরিবারের বাসাটা কোন দিকে?


ভয়ে আতকে উঠে দোকানদার বলল, ওই পরিবারকে খুজতাসেন কেন? আপনি শহর থেকে আসছেন শহরে চলে যান। ওরা খারাপ ভুতের লগে থাকে।


সাদিকের আরো আগ্রহ বেড়ে গেল। 


সাদিক বলল, ওদের নিয়ে অনেক গুজব আছে। আপনি কি বলবেন? আপনি কি জানেন?


দোকানদার হঠাৎ সুর পাল্টে বিরক্ত হয়ে বলল, দূর মিয়া। আমি কিছু জানি না। বিদায় হন।


সাদিক খানিকটা রহস্য অনুভব করলো। কি এমন আছে এই আদম পরিবারে যে লোকজন তার ব্যপারে কথাও বলতে চায় না। একই সাথে আরো আগ্রহী হয়ে উঠলো।


হাটতে হাটতে নদীর কাছে আসলো। তখন মাঝি বলল, কই যাবেন?


সাদিক বলল, আদম পরিবার এর বাসাটা কই?


মাঝির চোখে সন্দেহ ও ভয়। মাঝি বলল, এইখান থেকে একটা দ্বীপে থাকে ওরা। ওখানে বিল্ডিং করছে। কারো যাওয়ার অনুমতি নাই। তয় আপনি শহরের মানুষ আপনারে হয়তো গেলে মাইন্ড করব না। তয় ভাড়া ৫০০টাকা দিতে হবে।


সাদিক বুঝলো মাঝি টাকার জন্য তাকে নিয়ে যাবে। তাই নৌকায় উঠে বসে। সন্ধার পর গ্রামটা কেমন অন্ধকার হয়ে এসেছে। নদীর জল একদম কালো হয়ে উঠেছে। 


মাঝি নৌকা চালাচ্ছে। 


মাঝি বলল, ওই বাড়ি কেন যাইবেন? ওরা তো বিদেশি লোক? আপনার কি আত্মীয় হয়?


সাদিক বলল, না। আত্মীয় না। আমি একজন সাংবাদিক। ওদের বিষয়ে আমার আর্টিকেল লিখে জমা দিতে হবে।


মাঝি বলল, ও টিভিতে কাজ করেন সাংবাদিক। বুঝসি। রাইত হইলে কেউ ওই দ্বীপের আশেপাশেও যাইতে চায় না।


সাদিক আগ্রহ নিয়ে বলল, কেন?


মাঝি বলল, মহিলাদের চিৎকার ও কান্নার শব্দ শোনা যায়। এই যে আমি আপনাকে নিয়ে যাইতাসি ভয়ে দেখেন আমার শরীরের পশম দাড়াই গেসে।


সাদিক বুঝলো গ্রামের মানুষ এসব গুজব ছড়িয়েছে। তবে ব্যপারটা এখনও রহস্য। কেন ইউরোপ এর এক পরিবার একটা দ্বীপে দিনের পর দিন সমাজ থেকে আলাদা হয়ে বসবাস করছে? আর কেনই বা সমাজে তাদের নিয়ে এতো গুজব? সবই কি গুজব?


সাদিক নৌকা থেকে দ্বীপের মাঝে বাড়িটা দেখলো পেল। ২তলা পাকাবাড়ি। সবগুলা ঘরে আলো জ্বলছে। এরা কি ঘুমায় না? 


নৌকা থেকে নামলো সাদিক। ভুলে কাদামাটি তে পা পড়ে যাওয়ায় প্যন্ট কিছুটা ভিজে গেল। মাঝিকে টাকা দিতেই মাঝি চলে যাচ্ছে। এখন এই দ্বীপ থেকে ফেরার পথ কি? তা সাদিক জানে না। নদীতে পা ধুয়ে নিল সাদিক। তারপর একটু সামনে এগোতেই ভয়ে দুপা পেছনে নিল। একটা মরা শুকর পরে আছে মাটির ওপর। তার পেটে স্টার চিন্হ। নিজেকে সামলে আবার এগোল।


তারপর দরজার সামনে দাড়িয়ে কথাগুলো গুছিয়ে নিল। একবার কলিংবেল টিপ দিয়ে শান্ত ভাবে দাড়িয়ে রইলো দরজা খোলার অপেক্ষায়। শব্দ শোনার চেষ্টা করলো। ভেতর থেকে কারো পায়ের শব্দ আসছে এই তো দরজার কাছে এসে পড়েছে।


দরজা খুলে দিলেন লাল চুলওয়ালা মিসেস লিনা। সন্দেহের চোখে তাকালেন সাদিকের দিকে। সাদিক ঘরের ভেতরটা দেখে নিল। কয়েকটা সোফা সাজানো, একটা কিচেন রুম, আর বড় পিয়ানো রাখা। আরেকটা সিড়ি ২য় তলায় চলে গিয়েছে।


ভুরু কুচকে প্রশ্ন করলেন লিনা, আপনি এখানে কি চাই?


সাদিক বললেন, আমি সাংবাদিক আপনাদের ব্যপারে জানতে এসেছি।


খানিকক্ষণ ভেবে লিনা বললেন, আচ্ছা। ভেতরে আসুন। 


সাদিক ভেতরে প্রবেশ করে বলল, আপনি খুব ভালো বাংলা বলেন। 


তারপর হঠাৎ ২য় তলার একটা রুম থেকে কেমন গোঙানির শব্দ আসতে লাগলো। একটা বালকের আত্মনাৎ আসছে। কান খাড়া করলেন সাদিক। হ্যা। ২য় তলার কোন একটা রুম থেকে এই শব্দ আসছে।


সাদিক সোফায় বসলেন৷ তার সামনে লিনা পায়ের ওপর পা তুলে বসলেন। সাদিকের মনে অনেক প্রশ্ন ও কৌতুহল। তবে এসেই প্রশ্ন করা মোটই বুদ্ধিমান এর কাজ হবে না বলে চুপ রইলেন। আর আশপাশের আসবাবপত্র দেখতে লাগলেন। 


লীনা বলে উঠলো, আপনি নিশ্চয়ই রাতে খেয়ে আসেননি। একটু ড্রিংক করবেন? 


কথাটা বলে লীনা ওয়াইন এর বোতল বের করে কাচের গ্লাসে মদ ঢালতে লাগলেন। এমন সময় সিড়ি বেয়ে নেমে আসলেন এক মোটা লোক। উনার হাতে একটা বেল্ট। সাদিক সিড়িতে তাকিয়ে লোকটাকে দেখলো। হাতের বেল্টটা ছেঁড়া। সম্ভবত কিছুক্ষন আগে এই বেল্ট দিয়ে কাউকে প্রচন্ড আঘাত করা হয়েছে। আর সেই গোঙানির  শব্দই পেয়েছিল সাদিক।


ভদ্রলোক সাদিককে সোফায় বসে থাকতে দেখে এগিয়ে এসে হ্যন্ডশেক করে নিজের পরিচয় দিলেন। হাসিমুখে বললেন, আমি ড্যনিয়েল। আমি জানতাম আপনি আসবেন।


খানিকের হাত কিছুটা কাপছে। ড্যনিয়েল কি তাহলে তার কি আসার অপেক্ষা করছিল? ড্যনিয়েল কি জানতো যে সাদিক আসবে? এটা কিভাবে সম্ভব?বা হয়তো চমকে দিতে এসব বলেছে। তবে রহস্য কিন্তু এখনও শেষ হচ্ছে না বরং বেড়ে চলেছে। এই বাড়িতে কিছু একটা গোলমাল হচ্ছে।


ড্যনিয়েল হঠাৎ রেগে লিনাকে বললেন, তোমার ছেলের অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে।


লিনা ঈঙ্গিতে বলল, চুপ। অপরিচিত লোকের সামনে এসব বিষয়ে আলাপ না করি। 


ড্যনিয়েল ঈঙ্গিত বুঝে বললেন, ওহ আচ্ছা। 


মদের গ্লাস এগিয়ে দিল লিনা। সাদিকের হাত এখনও কাঁপছে। কেন সেটা সাদিক নিজেও জানে না।


সাদিক ভাবলো একবার প্রশ্ন করে যে আপনার ছেলেকে কেন ব্যল্ট দিয়ে মেরেছেন? তবে এসেই প্রশ্ন করা ভদ্রতার মাঝে পরে না। এরা বিদেশি বলেই কি সাদিকের এতো সংকোচ ও লজ্জা প্রশ্ন করতে? তা সাদিক নিজেও জানে না।


মদে চুমুক দিতেই সাদিক বুঝলো এটা মদ হতে পারে। মদ এতো নোনতা স্বাদের হয় না। সাদিকের বমি এসে গেল। বা হয়তো দুপুরে কিছু খায়নি তাই মদ এমন লাগছে। মদ খাওয়ার পর সাদিকের চোখের সামনে সব ঝাপছা হয়ে যেতে লাগলো। ঘুমে চোখ জুড়িয়ে আসতে লাগলো। তবে ঘুমিয়ে পড়লে চলবে না। হয়তো সারাদিন ট্রেন জার্নিতে এসব হচ্ছে।


সাদিক আর পারলো না চোখদুটোকে আটকে রাখতে। সোফাতেই শুয়ে পড়লো।


সেটা দেখে লিনা হেসে ফেলল। ড্যনিয়েল লিনাকে জড়িয়ে ধরে ঠোঁটে চুমু দিলেন।


ড্যনিয়েল বলল, এবার একে কি করা যায় বলো তো? এর শরীর কুচি কুচি করে ফ্রিজে রেখে অনেকদিন খাওয়া যাবে।


মদের গ্লাসে চুমুক দিয়ে লিনা বলল, এখনও সময় হয়নি। আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। 


ড্যনিয়েল দাত বের করে বলল, অবশ্যই।


এরকম সময় ২য় তলার একটা রুম থেকে চিৎকার আসতে লাগলো বালকের। বালকটা দরজার লাথি, ঘুষি দিয়ে বলসে, আমাকে বের করো। আমি এই অন্ধকারে থাকতে চাই না।


ড্যনিয়েল বলল, ওর আবারও মার খাওয়ার ইচ্ছা হয়েছে তাই এমন করছে। 


তারপর সিড়ি বেয়ে ওপড়ে উঠতে যাবে। তখনই পেছন থেকে হাত ধরে ফেলল লিনা। লিনা তাকে থামিয়ে নিজের কাছে টানলো ঠোঁটে ঠোঁট ছুইয়ে দিলেন। একে অপরের জামা খুলতে লাগলো। এদিকে সাদিক সোফায় ঘুমানো।


বালকটা দরজার নিজের মাথা ঢুকাতে লাগলো এদিকে তাদের নজর নেই। তারা যেন আপন জগতে ব্যস্ত।



সাদা বিকিনি আর  কালো প্যন্টি পড়ে নদীতে গোসল করছে লিসা। দূর থেকে তাকে দেখসে সাদিক। যেন তার চোখ আটকে গেছে এই বিদেশি কিশোরী মেয়ের ওপর। কোনমতেই চোখ সরাতে পারছে না। তবে এরকম ভাবে তাকিয়ে থাকাও ভদ্রতা সেটাও জানে সাদিক। তবুও কেন জানি নিজেও আটকায় না।


সকালে সাদিক ঘুম ভেঙ্গে নিজেকে সোফায় শোয়া অবস্থায় পায়। তারপর বাইরে বেরিয়ে এসে দেখে নদীতে লিসা গোসল করছে। এরকম সময় সাদিকের কাধে হাত রাখে ড্যনিয়েল। চমকে পেছনে তাকায় সাদিক।


ড্যনিয়েল গম্ভীর হয়ে বলে, তুমি আমার মেয়ে লিসাকে কুনজরে দেখসো কেন?


হঠাৎ প্রশ্নে ভয় পেয়ে যায় সাদিক। 


মুহুর্তে কথায় ভঙ্গি পাল্টে ড্যনিয়েল বলে, কাম অন। মজা করছিলাম। সৌন্দর্য তো দেখার ই জিনিস। দেখো তার চিকন কোমড়, রসালো ছোট বুক। যেকারো ছুয়ে দেখতে ইচ্ছে হবে।


চমকে যায় সাদিক একজন বাবা কিভাবে তার মেয়ের ব্যপারে এসব বলতে পারে? প্রশ্ন জাগে সাদিকের মনে। হয়তো বিদেশি বলেই এদের কাছে এসব নরমাল। কালচার আলাদা বলেই কি সাদিকের কাছে কথাগুলো অস্বাভাবিক লাগসে? 


এমন সময় সাদিক দেখলো বাড়ির সাদের ওপর কাকের দলেরা একটা চক্রাকারে ঘুরছে আর 'কা' কা বলে চেঁচাচ্ছে। ২য় তলার জানালার কাছে চোখ যেতেই সাদিক দেখলো একটা বালক পর্দার পেছনে দাড়িয়ে আছে। তাকে দেখে সরে গেল। 


সাদিকের চোখ লক্ষ্য করে জানালার দিকে তাকালো ড্যনিয়েল। দাঁতে দাত চেপে বলল, বেকুবটা আবার জানালার কাছে এসেছে। ওকে বলেছিলাম যেন কারো সামনে না আসে।


এবার আর নিজেকে সামলে রাখতে পারলো না সাদিক প্রশ্ন করলো, ওটা আপনার ছেলে। তাহলে ওকে কেন এতো ঘৃনা করেন?


ভুরু কুচকে ড্যনিয়েল বলল, ডেভিড কে আমরা ঘৃনা করি কে বলবো? ওর একটা মানসিক সমস্যা আছে। যার জন্য ঘরে আটকে রেখেছি। 


সাদিক বলল, কি মানসিক সমস্যা?


এমন সময় লিসা নদী থেকে উঠে তাদের সামনে দিয়ে হেটে ঘরের দিকে যেতে লাগলো। লিসা যখন তাদের পাশ দিয়ে গেল। তখন একটা কান্ড হলো। ড্যনিয়েল লিসার পাছায় একটা থাপ্পড় দিলেন।  লিসা কোন রিজেক্ট করলো না। সোজা ঘরে চলে গেল।


সাদিক ভাবলো মেয়েটা রিয়েক্ট করলো না কেন? এই পরিবার কি আসলেই নরমাল? আমাকে আর্টিকেল লিখে জমা দিতে হবে? তবে এখানে এই দ্বীপে তো নেটওয়ার্ক ও নেই। 


সকালের নাস্তার টেবিলে বসে আছে ড্যনিয়েল ও সাদিক। লীনা নাস্তা সাজিয়ে দিচ্ছে টেবিলে। এমন সময় ২য় তলা থেকে নেমে আসলো লিসা। এসেই তার বাবার হাটুতে বসলো।


সাদিক ভাবলো একটা কিশোরী মেয়ে তার বাবার কোলে বসা কতটা নরমাল? নাকি সেই সবকিছু নেগেটিভ ভাবে নিচ্ছে।


খাবারে স্যুপ ও রুটি দেওয়া হয়েছে। রুটি কাটার জন্য চামচ দেওয়া হয়েছে। তবে সাদিকের তো হাত দিয়ে খাওয়ার অভ্যাস।  সাদিক কাটা চামচটা নিয়ে রুটি কাটতে গেল। তখনই অঘটন ঘটলো রুটি ছিড়ে কাটাচামচ নিচে পড়ে গেল। ঝণঝণ করে শব্দ হলো প্লেটে।


সাদিকের দিকে সবাই তাকালো। সাদিক সরি বলে। যখন নিচের থেকে কাটা চামচ উঠাতে যাবে। তখনই তার নজর পড়লো ড্যনিয়েল এর দিকে। ড্যনিয়েল , ড্যনিয়েল এটা কি করছে? নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারলো না সাদিক। এটা হতেই পারে না।

ড্যনিয়েল এর হাত লিসার প্যন্টের ভেতর ঢুকানো। এটা কিভাবে সম্ভব। ভয় পেয়ে গেল সাদিক। তবুও নিজেকে সামলে নিল। আর বুঝে গেল এটা মোটেও সাধারন কোন পরিবার নয়।


ড্যনিয়েল এর হাত লিসার প্যন্টের ভেতর ঢুকানো। বাবা তার মেয়ের সাথে কিভাবে এরকম একটা কাজ করতে পারে। সেই প্রশ্ন ঘুরতে লাগলো সাদিকের মাথায়। তার মানে কি এই পরিবার মোটেও গুজব না। 


সাদিক এমন ভান করলো যেন কিছুই দেখেনি। আবারো কাটা কামচটা দিয়ে রুটি কাটার চেষ্টা করতে লাগলো। তবে ব্যর্থ হলো বারবার। বিষয়টা ড্যনিয়েল লক্ষ্য করলেন।


ড্যনিয়েল বললেন, সমস্যা নাই। আপনি হাত দিয়ে খেতে পারেন। আমাদের অনুরকন করার দরকার নেই।


জোরে নিঃশ্বাস ফেলল সাদিক। তারপর রুটি ছিড়ে স্যুপে ডুবিয়ে খেতে লাগলো। লজ্জায় ড্যনিয়েল এর দিকে তাকাতেও পারছে না। বাবা মেয়ের মাঝে একটা বয়সের পর দূরত্ব থাকা দরকার।  তবে এরা তো পুরাই ভিনগ্রহের প্রানী। এই বলে নিজেকে সামলায় সাদিক। তবুও বুকের কোথায়ও যেন কাটার মতো বৃথা হয় তার। 


২য় তলা থেকে গরগর শব্দ হতে থাকে। অদ্ভুদ এক শব্দ। ভয় পেয়ে যায় সাদিক। এটা কোন মানুষের গলার স্বর না।


ড্যনিয়েল শব্দটা শুনে রেগে বলে, আবারো ওর মার খাওয়ার ইচ্ছা হয়েছে। 


তারপর খাবার ফেলে উঠে দাড়ায় নিজের কোমড়ের ব্যল্ট খুলে হাতে পেচিয়ে নেয়। এক পা দু পা করে সিড়ি বেয়ে ২য় তলায় উঠে যায়। দরজা খোলার শব্দ হয়। তারপরই একটার পর একটা ব্যল্ট দিয়ে পেটানোর শব্দ ও বালকের গোঙানি শোনা যায়। ভয়ে সাদিকের গলা শুকিয়ে যায়। যেন খাবার গিলতে গিয়েও গলায় আটকে যায়।


এই প্রথমবার কথা বলল লিসা, আপনার জোর করে খাওয়ার দরকার নেই। জোর করা ভালো না।


খাবার থামিয়ে হাত ধুয়ে ফেলে সাদিক প্লেটে। লিসা উঠে পড়ে চেয়ার থেকে। 


লিসা বলে, আপনি আমাদের মেহমান। আপনি কি আমার সাথে বাড়ির পেছনটায় যাবেন? 


চমকে উঠে সাদিক। একটা মেয়ে এতো স্মার্টলি কথা বলসে। এদিকে সাদিক লজ্জায় চুপ হয়ে আছে। 


লিসা বলল, চলুন ঘুরে আসবেন।।আমার ওইপাশ টায় একা যেতে ভয় করে। 


ভয়ের কথা শুনে চমকে যায় সাদিক। দিনের বেলা ভয়? কি আছে বাড়ির পেছনে?  আগ্রহী হয়ে উঠে সাদিক।


লিসা ও সাদিক হাটছে। দুজনে বাড়ির পেছন দিকে যাচ্ছে।


সাদিক বলল, এই দ্বীপে একা কিভাবে থাকেন? বোরিং লাগে না?


লিসা বলল,আমার একা থাকার অভ্যেস। ঘরকোনা স্বভাবের বলতে পারেন। আমি সারাদিন বই পড়ে কাটিয়ে দিতে পারি। গতকাল রাতে দস্কভস্কির 'ক্রাইম এন্ড পানিসমেন্ট' বইটা পড়ছিলাম। 


সাদিক বলল, কেমন বই সেটা?


লিসা বলল, এক খুনির আত্মজীবনী যে শেষে গিয়ে অনুশোচনা করে। পুরাই কাল্পনিক । বাস্তবে খুনিরা অনুশোচনা করে না।


সাদিক বলল, অনুশোচনা করে না। কে বললো?


লিসা হঠাৎ দুঃখী হয়ে বলল, আমি নিজের চোখে দেখেছি তো তাই। 


সাদিক বলল, কি দেখেছেন?


লিসা বলল, কিছু কথা নয় হয় গোপন থাক। মানুষ রহস্য পছন্দ করে।


সাদিক আর জোর করলো না। দুজনে হাটতে হাটতে বাড়ির পেছনটা আসলো। এখানে জঙ্গল আর ঝোপঝাড়। দূরে নদী দেখা যাচ্ছে। তবে সাদিক লক্ষ্য করলো এখানে একটা কবর। কাকে যেন মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে। কবরের ওপর একটা স্টার চিন্হের পাথরের ফলক। সেখানে খোদাই করে জন্ম ও মৃত্যসাল লেখা। জন্ম: ২০০২, মৃত্যু ২৫মার্চ ২০২৬। (তার মানে ২দিন আগে মারা গেছে).



লিসা বলল, এটা আমার বড় বোন লুনার কবর। আমার থেকে ৪বছরের বড় ছিল সে।আমাদের একসাথে অনেক স্মৃতি। 


আগ্রহী হয়ে সাদিক বলল, কিভাবে মারা গিয়েছিল? 


লিসা কোন উত্তর দিল না। দু'হাত মুস্তিবদ্ধ করে বুকের কাছে এনে বিড়বিড় করে কি যেন পড়তে লাগলো। প্রার্থনা শেষে লিসা বলল, চলুন এবার চলে যাই।


(সাদিক ভাবলো গতকাল রাতে যখন এই দ্বীপে আসে নৌকা থেকে নেমে একটা শুকর দেখতে পায়। যার শরীরে স্টার চিন্হ ছিল। আবার এই কবরেও স্টার চিন্হ।এমনকি আজ সকালে স্যুপটাও কেমন যেন অন্যরকম লাগলো? তার মানে কি সব কানেক্টেড।  সেই শুকর +স্টার চিন্হ+ লুনার কবর। তার মানে সে আসার আগে এখানে কিছু একটা হয়েছিল। তবে সেটা কি?)


সাদিক এবার সাহস করে প্রশ্ন করলো, আপনি গুড টাচ আর ব্যাড টাচ কি জানেন।


লিসা রেগে বলল, My father loves me. He can touch me anywhere. 


ভয়ে সাদিক বলল, i Understand.


এদিকে ২য় তলার ডেভিড এর মুখ থেকে রক্তের ফোঁটা পড়ছে। একটু আগে মারা হয়েছে। ড্যনিয়েল এবার ফ্রিজ থেকে এক ব্যাগ রক্ত বের করে ডেভিড এর সামনে রাখতেই পশুর মতো ঝাপিয়ে পড়লো ব্যাগটার ওপর। তারপর দাত দিয়ে প্যকেট টা ছিঁড়ে রক্তপান করতে লাগলো যেন ক্ষুদার্ত সে। 



ড্যনিয়েল বিকৃত হাসি দিয়ে বলল, তোর বড়বোন লুনার রক্ত এটা। তুই এটা অনেক পছন্দ করেছিস আমি জানি। 


ডেভিড কোন উত্তর দেয় না যেন প্যকেটের রক্ত খাওয়ার ব্যস্ত সে। এক ব্যাগ রক্ত শেষ করে ফেলে সে। আর তার বুক উঠানামা করতে থাকা। তার শরীরে শুকনো হাড় বাইরে থেকে দেখা যায়। ভাত না খেয়ে শরীরটা কেমন শুকিয়ে কাট হয়ে গেছে। কোন কথা বলে না ডেভিড চুপ করে আপন মনে বিড়বিড় করতে থাকে।


ড্যনিয়েল বলল, ভালো ছেলে। তোকে আমি এজন্যই পছন্দ করি। কারন তুই আমাদের কথা মতো চলিস। আমার একটা আদরের ছোট ছেলে।


বুক উঠানামা করতে থাকে ডেভিড এর। নিশ্বাস ভারী হয়ে আসে। তার চোখ এখন ড্যনিয়েল এর সাদা পায়ের মাংসপেশির ওপর গিয়ে আটকায়। এক দৃষ্টিতে লোভ নিয়ে চেয়ে থাকে সে।


ড্যনিয়েল বলল, ওকে বায়। পরে কথা হবে।


তারপর দরজার কাছে এসে দরজা খুলে। বের হতে যাবে তখনই পেছন থেকে আচমকা দৌড়ে এসে ড্যনিয়েল এর পায়ের মাংস কামড়ে ছিড়ে ফেলে ডেভিল। ব্যথায় চিৎকার করে উঠে ড্যনিয়্যাল। পেছন ফিরে একটা লাথি দেয় ড্যভিডের মুখে। ছিটকে গিয়ে পড়ে ডেভিল।


রাগে দাঁতে দাত চেপে ড্যনিয়েল বলে, শুকরের বাচ্চা এটা কি করেছিস। 


নিজের পায়ের দিকে তাকায় ড্যনিয়েল সেখানে মাংস তুলে নেওয়ায় রক্ত পড়ছে গড়গড় করে। সেই পায়ের মাংসের টুকরো ডেভিড এর মুখে। সে চাবাচ্ছে।


ড্যনিয়েল নিজের বেল্ট খুলে ফেলে। তারপর ডেভিল এর পিঠে মারতে থাকে। ব্যথায় কুঁকড়ে উঠে ডেভিড। মুখে থাকা চাবানো মাংসের টুকরোটা ফ্লোরে পড়ে যায়৷ একটা, দুইটা, তিনটা, চারটা এভাবে চাবুকের মতো বেল্ট চলতে থাকে ডেভিল এর খোলা পিঠে। লাল দাগ হয়ে যায় তার সাদা পিঠখানা।


ঘরে প্রবেশ করলো সাদিক ও লিসা। তার মা লিনা সোফায় বসে পায়ে বেন্ডেজ করে দিচ্ছে ড্যনিয়েল এর।


লিনা তাদের দেখে বলল, কোথায় গিয়েছিলে?


লিসা বলল, এইতো বাড়ির পেছনটায়।


ধমকের স্বরে লিনা বলল, তোমার তো ওপাশটায় যাওয়া নিষেধ।


লিসা বলল, একা যাইনি তো। উনাকে সাথে নিয়ে গেছিলাম। (কথা ঘুরানোর জন্য লিসা বলে) বাবা তোমার পায়ে কি হয়েছে?


কৌতুহল হয়ে সাদিকও জানতে চায়। তবে ভদ্রতার খাতিরে চুপ করে এদের কাহিনী দেখে।



ড্যনিয়েল বলে, তোর ছোটভাই কামড়ে মাংস তুলে ফেলসে পায়ের। ওর রোগ দিন দিন তীব্র হচ্ছে।


সাদিক এবার কথা বলে, কিসের রোগ?


ড্যনিয়েল ভদ্রভাবে বলে, জেন্টলম্যান এটা আমাদের পারিবারিক ব্যপার। আপনার না জানলেও চলবে। আপনি বরং গেস্ট রুমে রেস্ট করুন। অবশ্য আমাদের একট্রা গেস্ট রুম নেই। বেসমেন্টে খাট রয়েছে। আপনার সেখানে থাকতে হবে।


সাদিক বলল, আমার কোন অসুবিধে নেই।


ড্যনিয়েল লিসাকে বলল, উনাকে নিয়ে যাও বেসমেন্টে। 


বেস্টমেন্ট এর কাছে আসতেই গন্ধে নাক ধরে ফেলল লিসা।


লিসা বলল, আমি ভেতরে যাব না। আপনি একা যান।


সাদিক বেসমেন্ট এর দেয়ালে লাইটের চুইচ টিপ দিতেই সবকিছু আলোকিত হয়ে গেল। এই জায়গাটা মানুষ পুরানো জিনিসপত্র রাখতে ব্যবহার করে। সব পুরানো জিনিসপত্র রাখা সেগুলোর ওপর সাদা পর্দা দিয়ে ঢাকানো। পর্দার ওপর ময়লার স্তুপ। কেমন একটা উটকো গন্ধ আসছে। ইদুর মরার গন্ধ। একটা খাট রয়েছে। খাটটা শুধু পরিষ্কার। সম্ভবত এটা ঝাড়ু দেওয়া হয়েছে৷ বাকি সব অপরিষ্কার। 


দেয়ালে কিছু ছবি টাঙানো। সাদিক ছবিগুলো দেখছে দুজন ইয়ং স্বামী স্ত্রীর ছবি। কোলে ২টা বাচ্চা।  তারপরের ছবিতে সেই দুটো বাচ্চাকে নিয়ে এই বাড়ির সামনে তোলা ছবি। বাচ্চা দুটোর বয়স তখন ৫ হবে। সাদিক চিনতে পারলো না। এই বাচ্চা দুটো কারা৷ মেয়ে বাচ্চার চুলের রং লাল। আর ছেলেরটা হলুদ। তারপরের ছবিতেই চিনতে পারলো তাদের টিনেজ বয়সের ছবি। এই ছবিটা তোলা হয়েছে বাড়ির পাশে নদীর সামনে। কিশোরী মেয়েটা ভি পোজ দিয়ে দাড়ানো, ছেলেটা জিহ্বা বের করে ভেংচি দিচ্ছে। তাদের বাবা মা তাদের কাধে হাত রেখেছে।  বুঝাই যাচ্ছে ছোটবেলা থেকে তোলা হয়েছে ছবিগুলো দুজন ভাইবোন এর।


তবে সাদিক লাল চুলের মেয়েটাকে চিনতে পারলো। এটা আর কেউ না লিনা। আর হলুদ চুলের ছেলেটা আর কেউ না ড্যনিয়েল। তার মানে তারা আপন ভাইবোন।


মাথায় চক্কর দিয়ে উঠলো সাদিকের। কেমন মাথাব্যথা শুরু হয়ে গেল। নিজের মনে বলে উঠলো সাদিক গ্রামের লোকেরা গুজব ছড়ায়নি। মোটেও গুজব ছড়ায়নি।


সাদা চাদরে থাকা চেয়ারে বসতে যাবে। তখনই অনুভব করলো। চেয়ারে কে যেন বসে আছে। চাদর সড়াতেই চমকে উঠে সাদিক। চিৎকার দিবে সেই সাহসও পায় না। এতোক্ষণ সে পরিমান শক পেয়েছে। নতুন করে শক পাওয়া দুষ্কর হয়ে যায়। একটা কংকাল চেয়ারে বসানো। আর এটা থেকেই দুর্গন্ধ আসছিল। এটা কার কংকাল হতে পারে? তাড়াতাড়ি মাথা খাটায় সাদিক। তবে কোন উত্তর পায় না। মাথায় এক প্রচন্ড চাপ অনুভব করে সে। মাথায় দু হাত চেপে বসে পড়ে খাটে। চোখের সামনে সব ঝাপড়া হয়ে আসে। তার চিন্তাগুলো তাকে দুর্বল করে দেয়। এটা কি তাহলে ড্যনিয়েল এর বাবা বা মায়ের কংকাল? যদি তাই হয়? তাহলে মাটিতে না পুতে এটা এখানে রাখা কেন? অনেক প্রশ্ন ঘুরে তার মাথায়। কিন্তু উত্তর পায় না।


এদিকে সোফা রুমে ড্যনিয়েল বলে, সাদিক অনেককিছু জেনে গেছে। যা তার জানা উচিত ছিল না। 


মাথা নেড়ে সম্মতি দেয় লিনা। লিনা বলে, সেটা আমিও জানি। সময় ঘনিয়ে আসছে শুভ কাজের আয়োজন করতে হবে।


ড্যনিয়েল ঠোঁটের কোনায় হাসি রেখে বলল, ড্যভিড এখন মানুষের মাংস খাওয়ার জন্য প্রস্তুত।


এই কথা শুনে লিনার ঠোঁটেও মুচকি হাসি দেখা গেল।


সাদিক নদীর কাছে আসলো। এই দ্বীপ থেকে পালাতে চায় সে। তবে ঘাটে কোন নৌকা বাধা নেই। তাই সাতার কেটে পাড় হবে ভাবলো। নদীতে লাফ দিল। তখনই ড্যনিয়েল তীর হাতে বাড়ি থেকে বের হলো। নিশানা করলো সাদিকের দিকে। 


সাদিক জোরে জোরে সাতার কাটছে। তীরে চোখ রেখে নিশানা করে ড্যনিয়েল। একটা তীর ছুটলো। তীরটা সোজা গিয়ে সাদিক এর পিঠ দিক ঢুকে বুক দিয়ে বের হয়ে গেল। নদীটা রক্তের লাল হয়ে গেল।


তখনই সাদিকের ঘুম ভেঙে গেল ভয়ে।জোরে জোরে নিঃশ্বাস ফেলসে সে। সাদিক বুঝলো পালানো কোন সমাধান না। কতক্ষণ ধরে ঘুমিয়ে আছে। সেটা সে জানে না। এখন সময় কত? রাত না দিন? বেস্টমেন্টেই শুয়ে পড়েছিল সে। তখনই কংকাল এর কথাটা মনে পড়লো। চেয়ারে তাকিয়ে দেখলো কংকাল টা নেই। বুঝতে বাকি রইলো না। যখন সে ঘুমিয়ে ছিল। তখন কংকাল টা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এমনকি দেয়ালে টাঙানো ছবিগুলোও আর দেখতে পেল না। এমনকি এখন ঘরে কোন গন্ধ ও নেই। পুরো ঘরটায় একটা মিষ্টি সুভাষ ছড়িয়ে আছে। 


বিছানা থেকে উঠে বসে সাদিক। চকিতে পা ঝুলিয়ে বসতেই হঠাৎ পায়ের কাছে কি যেন ধাক্কা খায়। ভয়ে পা তুলে ফেলে সাদিক। নিচে তাকিয়ে দেখে একটা বই 'আদম ধর্ম'। কৌতুহল হয়ে বইটা হাতে নেয় সাদিক। বইয়ের লেখক সার গ্রেগর। বইটা খুলে পড়তে থাকে সাদিক।


বইতে লেখা, তোমরা আদম সন্তান। আদম ও ইভকে স্বর্গ হতে ইশ্বর বিতাড়িত করেছিল। কারন তারা ইশ্বরের আদেশ অমান্য করেছিল। তাদের বলা হয়েছিল আপেল ফল খেতে মানা করা হয়েছিল। তবুও তারা সাপ এর কথায় আপেল ফল খায়। যার কারনে ইশ্বর তাদের শাস্তি দেয়। আর ইডেন গার্ডেন থেকে বহিষ্কার করে পৃথিবীতে পাঠায়। তারা তখন তাদের সন্তানদের মাঝে বিয়ে দেয়। এবং এভাবেই মানব জাতি এগোয়। তোমরা আদমধর্ম কে মানবে। এবং সেই তোমাদের প্রফেট। তাকে অনুসরন করবে। সেই প্রথম মানব। তোমরাও নিজেদের পরিবারে বিয়ে করবে। সাইন্স বলে নিজেদের মাঝে বিয়ে করলে অজাচার হয়৷ এতে পরবর্তী বংশধর দুর্বল হয়ে যায়। তাহলে আমরা তো আদম সন্তান। আমরা তো এখনও টিকে আছি। এখানেই বোঝা যায় সাইন্স ভুল, আর এটাকে রিজেক্ট করে চলবে। এশিয়ায় অনেক খালতো ভাইবোন বিয়ে হয়। কই তাদের তো জিন একই, তাদের তো সমস্যা হয় না। সমাজ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এসব নিয়ম তৈরি করেছে। একজন আরেকজন এর ফ্যমিলিতে বিয়ে দিলে ক্ষমতা বাড়ে, শক্তি বাড়ে। তোমরা ক্ষমতা ও শক্তির বাইরে জীবন যাপন করবে।


(সাদিক এর মাথা ব্যথা আবার শুরু হলো। এতোদিন  তাহলে কি বইতে ভুল পড়েছে? সাদিক এটুকু বুঝলো আদম পরিবার এর চিন্তা-ভাবনা আলাদা। তাদের সমাজ আলাদা। নিয়ম কানুন আলাদা। সাদিক এখন বুঝলো কেন তারা সমাজের বাইরে দ্বীপে থাকে। কারন ভদ্রসমাজ কখনই এসব মেনে নিবে না। সাদিক বইয়ে ২য় পৃষ্টায় আসে।)



 লুসিফারকে যখন বলা হলো আদমের কাছে মাথা নত করতে। তখন লুসিফার মানা করলো। কারন সে ইশ্বর ছাড়া কারো কাছে মাথা নত করেনি। এজন্য ইশ্বর তাকে স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করলেন। তোমরা সবসময় লুসিফার কে অনুসরন করবে। সেই তোমাদের দেবতা।


সাদিক বই বন্ধ করলো। সাদিক মনে মনে বলল, wtf! এখানে তো সব উল্টো লেখা। লুসিফার হয়তো ইসলাম ধর্মের ইবলিস। সে তো মানুষের শত্রু। কিন্তু এখানে বইতে তাকে ভালো দেখানো হচ্ছে। তার মানে আদম পরিবার শয়তান এর পূজা করে। কিন্তু কেন?  তাদের কি বিবেক বু্দ্ধি নাই? তারা কি দেখে না আল্লাহ এক, অদ্বিতীয়। তার কোন শরীক নাই। এসব বই নাস্তিকদের লেখা। রাগে সাদিক বইটা ছুড়ে ফেলে দেয় এক কোনায়। তবুও তার মনে প্রশ্ন ঘুরতে থাকে। আসলেই কি ইবলিশ সঠিক ছিল? কোন উত্তর পায় না। সাদিক বলে, আল্লাহ আমাকে সঠিক পথ দেখাও। বিতাড়িত শয়তান হতে আমাকে রক্ষা করো আমিন।


এদিকে ডিনার টেবিলে বসে ড্যনিয়েল ও লিনা খাবার খাচ্ছে। লিসা একটু আগে খেয়ে ঘরে চলে গেছে। 


ড্যনিয়েল শুকরের মাংসের স্যুপ দিয়ে রাইস  মিক্স খাচ্ছে। চামচ দিয়ে রাইস তুলে মুখে নিয়ে চাবাতে লাগলো।


ড্যনিয়েল বলল, গেস্ট কই? রাতের খাবার খাবে না?


লিনা বলল, সারাদিন ঘুমায় ছিলেন। আমি তাই আর বিরক্ত করিনি। 


ড্যনিয়েল বলল, আচ্ছা। ওকে খাবার খাইয়ে মোটা তাজা করো। আমি ডেভিডকে পেট ভরে মাংস খাওয়াতে চাই।


লিনা বলল, জোর করে কি খাওয়াবো? 


ড্যনিয়েল পানি খেয়ে বললেন, মাঝে মাঝে জোর করতে হয়। শোনো আজ রাতে লিসা আমার ঘরে পাঠাবে।


লিনা রেগে বলল, না। সম্ভব না। তুমি তার সাথে শুতে পারো না।


ড্যনিয়েল মুচকি হেসে বলল, তুমি জেলাস হচ্ছো?


লিনা উত্তরে বলে, হ্যা। যেকোন মেয়ে জেলাস হবে। আমি জিবীত থাকা অবস্থায় অন্যকারো সাথে শুতে পারবে না।


ড্যনিয়েল খাবার শেষ। তাই টিস্যু পেপারে হাত মুছে বলে, তুমি কি ভুলে গেছো? এটাই আমাদের পারিবারিক নিয়ম। দাদা গ্রেগর যে বইটা লিখে গেছে পড়োনি।


লিনা রেগে খাবার ছেড়ে উঠে যায়। ঘরে যেতে যেতে বলে, তুমি আর তোমার দাদার বই নিয়েই থাকো। 


ড্যনিয়েল এর ঠোঁটে এখনও হাসি। ড্যনিয়েল তার মেয়ে লিসার ঘরের দরজার কাছে এসে দাড়ায়।


ড্যনিয়েল বাইরে থেকে বলে, ঘুমিয়ে গেছো? 


লিসা উত্তর দেয়, না। এইতো বই পড়ছি পাপা। ভেতরে আসো।


ড্যনিয়েল ভেতরে প্রবেশ করে। তার উদ্দেশ্য মোটেও মহৎ নয়। লিসা কি তার বাবার উদ্দেশ্য জানে? আর লিসা কি এসব মেনে নিবে? সেটাই দেখার বিষয়।


সাদিক খাটে বসে ছিল। তখন সেখানে নাইট ড্রেস পড়া লিনা আসলো। কোন কথা নেই নিজের জামা খুলে ফেলল। সাদিক একনজর লিনার দিকে তাকাতেই লজ্জায় চোখ নামিয়ে ফেলল। 


লিনা নাইটিটা খাটের ওপর রেখে সাদিকের পাশে বসলো।  লিনা অবাক হলো ভয়ে সাদিক কেমন গুটিয়ে আছে।


লিনা সহজ হওয়ার জন্য বলল, কখনও নগ্ন নারী দেখেনি?


সাদিক এখনও ফ্লোরের দিকে চোখ রেখে বলল, না। আপনি কেন জামা খুলে ফেলসেন? আপনার উদ্দেশ্য কি?


লিনা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, উদ্দেশ্য তো অনেককিছু। তুমি কি আমার সাথে ফিজিক্যাল করতে পারবে?


নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারলো না সাদিক। এর আগে শুধু পড়াশোনা ও জবে মনোযোগ দেওয়ায় কখনও নারীসঙ্গ পায়নি সাদিক৷ এমনকি কোন মেয়ের হাত ধরে পার্কে যাওয়া এসবও করা হয়নি। তার বাবা ছিল না ছোটবেলায়। তার মা সেলাই এর কাজ করে তাকে পড়াশোনা করিয়ে মানুষ করেছেন। এখন সাদিকের তার মায়ের কথা মনে পড়লো। নিশ্চয়ই বাড়ি থেকে এতো দূরে তার জন্য ফেরার অপেক্ষা করছেন, দুশ্চিন্তা করছেন কবে ফিরে আসবে ছেলে। 


এমন না যে লিনার মতো সুন্দরী বিদেশি কে পছন্দ করে না সাদিক। লিনার মতো সুন্দরী বিদেশির গোলগাল নিতম্ব, যেকাউকে আকর্ষণ করবে। তবে সাদিককে তার ভেতরের বিবেক আটকায়। কারন লিনা যে বিবাহিত। তার স্বামী এসব জানলে কি হবে? এই ভয়টা পাচ্ছে সাদিক।


সাদিক বলল,আপনি বিবাহিত। আমি এসব করতে পারবো না।


লিনা রেগে বলল, বিয়ে করেছি বলেই কি শরীর পচে গেছে?


সাদিক বলল, আপনি ভুল বুঝসেন। অবশ্যই আপনি আমার দেখা সেরা সুন্দরী মেয়ে। তবে আমার নৈতিকতা আমাকে আটকায়। আপনার সাথে এসব করার পর আমার অনুশোচনা হবে। আপনারও অনুশোচনা হবে।


হেসে ফেলে লিনা বলে, অনুশোচনা আর নৈতিকতা?  এসব তো মানুষের তৈরি। ছোটবেলা থেকে এসব শিখিয়ে দেওয়া হয়। বাস্তবে এসবের কোন অস্তিত্ব নাই।


তারপর সাদিক এর গালে হাত রেখে ঠোঁটে চুমু খেতে চায় লিনা। নিজের গাল থেকে হাত সড়িয়ে দেয় সাদিক।


সাদিক এবার লিনার চোখে চোখ রেখে বলে, আপনার কাছে হয়তো এসবের কোন মূল্য নেই। তবে আমি যে পরিবেশে বড় হয়েছি আমার কাছে এসবই আসল।


হতাশ হয়ে উঠে দাড়ায় লিনা। আফসোস  নাইটি পড়ে নেয়।লিনা বলে, ঠিক আছে। 


সাদিক বলে উঠে, একটা প্রশ্ন? আপনি কেন আমার সাথে এসব করতে চান? আপনার স্বামীর কি কোন...


কথা থামিয়ে দেয় লিনা বলে, আমার স্বামী স্বাভাবিক আছে। তবে সমাজে পুরুষরা অন্যমেয়ের কাছে যেতে পারলে? একটা নারী কেন অন্যপুরুষের কাছে যেতে পারবে না?


সাদিক অবাক হয়ে বলে, অন্যমেয়ে মানে? এই দ্বীপে তো আমরা ছাড়া আর কেউ নাই। আপনার স্বামী কার কাছে গিয়েছে?


উত্তর দেয় না লিনা। চলে যেতে থাকে।


সাদিক বিরক্ত হয়ে বলে, কি হলো উত্তর দিয়ে যান। এভাবে প্রশ্নের থেকে পালানো যায় না। আর আমি আপনাদের সব গোপন তথ্য জেনে গেছি 'আদমধর্ম' বই পড়ে।


থেমে যায় লিনা। পেছন ফিরে তাকায়। কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। সাদিক ভাবছে এবার লিনা কি বলবে? 


এদিকে ড্যনিয়েল এসেছে লিসার রুমে। লিসা তখন কাফকার 'মেটামরফোসিস' বইটা পড়ছিল। বাবাকে দেখে বইটা টেবিলে রেখে দেয়। ড্যনিয়েল খাটের ওপর বসে। লিসা একটা চাদরে ঢেকে আছে কোমড় পর্যন্ত। এভাবেই খাটে হেলান দিয়ে বসে বই পড়ছিল সে।


ড্যনিয়েল বলে, আমাদের পারিবারিক নিয়ম তো জানোই। এখানে নিজেদের মধ্যে বিয়ে সম্পর্ক করি আমরা। আমার দাদা গ্রেগর এই নিয়ম চালু করেছিলেন। তখন উনি আমেরিকা ছিলেন। উনাকে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়। তখন উনি ফ্যমিলি নিয়ে ইংল্যন্ড চলে আসেন। সেখানে তিনি মারা যাওয়ার পর আমার বাবা আমাদের নিয়ে এই দ্বীপে চলে আসে। তখন আমি আর তোমার আম্মু খুব ছোট। এই বাংলাদেশে কেউ আমাদের বাধা দিবে না নিজেদের নিয়ম পালন করতে। এজন্য আমরা এখানে আসছি। তুমি তো দাদার লেখা 'আদমধর্ম' বইটা পড়েছো?


লিসা বলল, একবার পড়েছিলাম। অনেক বোরিং বই। এজন্য পুরোটা পড়া হয়নি।


ড্যনিয়েল বলল, হ্যা। একটু বোরিং। আজকে তোমাকে অনেক সুন্দর লাগসে।


লিসা বলল, ধন্যবাদ পাপা।


ড্যনিয়েল এবার আস্তে করে এগোয়। তারপর লিসার কপালে চুমু খায়। লিসা নরমালভাবে নেয় সবকিছু। তারপর লিসার ঠোঁটে চুমু খায়। লিসা ভয়ে পাথরের মতো শক্ত হয়ে থাকে। তারপর চাদর সরিয়ে লিসার উড়ুতে হাত দেয় ড্যনিয়েল। তরল  পদার্থ তার হাতে লাগতেই হাত সড়িয়ে ফেলে সে। চুমু খাওয়া থামিয়ে ড্যনিয়েল নিজের হাতে দেখে রক্ত লাগানো।


ড্যনিয়েল বলে, সরি। আমি জানতাম না। আজকে তোমার এই দিনটি চলছে।


লজ্জা পেয়ে লিসা বলে, হ্যা। 


ড্যনিয়েল রুমে এসে দেখে নগ্ন হয়ে শুয়ে আছে লিনা।


ড্যনিয়েল অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে। তার সন্দেহ হয়ে যায়।


ড্যনিয়েল রেগে  বলে, তুমি বেস্টমেন্টে গিয়েছিলে? সেই সাদিকের কাছে? তার সাথে ফিজিক্যাল করেছো?


শোয়া থেকে উঠে বসে লিনা।


ড্যনিয়েল কোমড়ের থেকে ব্যল্ট খুলে হাতে নেয়। রাগে তার হাত কাঁপতে থাকে। অবাক করা বিষয় হলো লিনা একটুও ভয় পাচ্ছে না। তার ঠোঁটের কোনায় ঠাট্টার হাসি। যেন সে দেখতে চায় ড্যনিয়েল এর সত্যি ই সাহস আছে কি না তাকে আঘাত করার। 


ড্যনিয়েল বিছানায় এসে লিনার হাতদুটো বেল্ট দিয়ে বেধে খাটের সাথে বেধে ফেলল। তারপর নিজের জামা কাপড় ও খুলে ফেলল। এখন তারা একে অপরকে চরমভাবে চুম্বন করতে লাগতো। যেন অনেকদিন ধরে ক্ষুদার্ত তারা।


এদিকে সাদিক তার কাধে ব্যাগ ঝুলায়। সবাই ঘুমিয়ে গেছে। এটাই পালানোর সেরা সময়। আস্তে আস্তে করে বের হয়। প্রতিটা পদক্ষেপে তার হার্টবিট বাড়তে থাকে। এই বুঝি ধরা খেল। কেউ তাকে দেখে ফেলল। সাদিক ভাবে এখান থেকে কোন মতে বেচে ফিরতে পারলেই হলো। কতদিন হলো মায়ের মুখ দেখে না সে। আবার তার 'আদম পরিবার' নিয়ে আর্টিকেল জমা দিতে হবে পত্রিকায়। তবু এখনও যে কিছুই লেখা হলো না। 


২য় তলার রুমে ডেভিড শুনলো দরজার বাইরে একটা ছায়া। দরজার বাইরে ছায়া থাকলেও সেটা ভেতর থেকে দেখা সম্ভব না। তবে ডেভিড সেটা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে। কিভাবে সে নিজেও জানে না। ছায়াটা তাকে বলল, পালিয়ে যা। পালিয়ে যা। 


ঝাপছা চোখে ডেভিড শুনলো কথাশুলো খুব স্পষ্ট। কেউ বলসে, এই যে দরজা খুলে দিলাম। পালিয়ে যা৷ 


তবে সে কে? তা ডেভিড জানে না। একটা মিষ্টি ফুলের সুভাষ আসতে লাগলো দরজার বাইরে থেকে। এই সুভাষটা খুব পরিচিত তার বড় বোন লুনার র শরীরের ঘ্রান। তবে লুনা আপু তো মারা গেছে। উনি এখানে কিভাবে সম্ভব। 


আস্তে করে দরজাটা খুলে গেল। ডেভিড হামাগুরি দিয়ে দরজা দিয়ে বের হলো।  বাইরে কেউ ই নেই। একেবারে ফাকা। এবার সিড়ি বেয়ে নামবে। তখনই দেখলো সিড়ির একেবারে নিচে সাদিক মেইন দরজা খুলছে। কিন্তু কেন তা ডেভিড জানে না।


সিড়িতে প্রথমে বা হাত দিল। তারপরের হাত দিতে গিয়েই উল্টে সিড়ি বেয়ে গড়িয়ে পড়তে লাগলো ডেভিড। তখনই ড্যনিয়েল ঘরের ভেতর থেকে শব্দ পেল। আর তাড়াতাড়ি প্যন্ট টা পড়ে নিল। লিনা বলল, আবার হাতের বাধন খুলে দাও।


ড্যনিয়েল বলল, দাঁড়াও। বাইরে কি হচ্ছে দেখে আসি।


তারপর ঘরের কোনা থেকে একটা হকি স্টিক নিল। ড্যনিয়েল ঘরের বাইরে বেরিয়ে কাউকে দেখতে পেল না। অবাক হয়ে দেখলো ডেভিড এর ঘরের দরজা খোলা। তাড়াহুড়ো করে নিচে আসলো। মেইন দরজাও খোলা। তার মানে ডেভিড পালিয়েছে।


বাড়ির পেছন সাইড দিয়ে পালাচ্ছে সাদিক। তার পিঠেই ডেভিড। সে ডেভিডকে বাচাতে চায়। লুনার কবরের পাশে আসতেই ডেভিড বলে উঠলো, থামো। 


সাদিক বলল, এখন থামার সময় নয়। যেকোন সময় তোমার বাবা এসে আমাদের ধরে ফেলবে।


ডেভিড বলল, তুমি না থামলেও আমাদের ধরে ফেলবে। কারন এই দ্বীপ থেকে বাইরে যাওয়ার পথ নেই। 


ডেভিড মুখে কোন কথা বলসে না। সব কথা হচ্ছে মস্তিষ্কে টেলিপ্যাথির মাধ্যমে৷ 


হন্যে হয়ে খুঁজতে ড্যনিয়েল তার ছেলেকে। বাড়ির সামনের দিকে নদীর পাড়ে এসেও খুজে পেল না। তখন ভাবলো নদীতে পড়ে কি মারা গেল নাকি? ভাবতেই ড্যনিয়েল এর বুকে একটা চাপ অনুভব করলো। শত হলেও তো বাবা হয় সে। তাই বাড়ির পেছনটায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।।তবে ওপাশটায় যাওয়া উচিত না। কারন এখন মধ্যরাত। ঘড়ি রাত ৩টা ১০বাজে। এই সময় অশুভ শক্তিরা ঘুরে বেড়ায়। আর ড্যনিয়েল একটার সাথে শত্রুতা করে ফেলছিল। তাই ভয় পাচ্ছে। তবুও ছেলের জন্য তো যেতে হবে। কি সিদ্ধান্ত নিবে বুঝতে পারছে না ড্যনিয়েল। যাবে কি যাবে না?


সাদিক অবাক হয়ে দেখলো ডেভিড মাটিতে বসে আকাশে চাদের দিকে তাকিয়ে চোখের মনি তার সম্পূর্ণ কালো রং ধারন করেছে। যেন কোন অশুভ শক্তিকে ডাকছে সে৷ আর সেটাই হলো যেতা দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুতি ছিল না সাদিকের। 


কবরের মাটি ভেদ করে লুনার মৃত দেহ হাওয়ায় ভাসতে লাগলো। 


মৃতদেহটার চুল থেকে টপ টপ করে পানি পড়ছে। যেন মাত্র গোসল করে আসলো। আর চোখ এখনও বন্ধ। শরীরে কোন কাপড় নেই। 


সাদিক ভাবলো, এটা তো কালো যাদু। তাছাড়া এসব সম্ভবই না। ঘরের ভেতর থেকে কেন ডেভিডের যাদু কাজ করেনি? অনেক প্রশ্ন ঘুরছে তার মাথায়। তখনই একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটলো।


ডেভিল এর চোখ কালো বর্ন থেকে আবার আগের অবস্থায় ফিরে এলো।  লুনার হাওয়ায় ভাসতে থাকা লাশটা মাটিতে পড়ে গেল। ডেভিড লাফ মেরে পড়লো লাশটার ওপর।  তারপর শেয়াল যেমন মুরগি ছিড়ে যায়। তেমনি লুনার পেট নখ দিয়ে ছিড়ে ভেতরের নাড়িভুড়ি খেতে লাগলো ডেভিড।


এই দৃশ্য চোখের সামনে দেখে সাদিক বমি করে দিল। একটা মানুষ কিভাবে আরেকটা মানুষকে খেতে পারে? ডেভিড কি তাহলে মনস্টার হয়ে গেছে। 


নাকে হাত দিয়ে সাদিক ডেভিডকে বাধা দিতে যায়। ডেভিড এর ঘাড়ে হাত রাখতেই যেন শিয়াল কে তার খাবার খাওয়া হতে বিরক্ত করলে যেমন দাত দেখিয়ে প্রতিবাদ জানায়। তেমনি রাগি হয়ে রক্তাক্ত দাত দেখায় ডেভিড। ভয়ে দু পা পিছিয়ে ফেলে সাদিক। মাথা এলোমেলো হয়ে যায় তার। এসব দেখা ছাড়া আর কোন উপায়ও ছিল না। ডেভিডকে নিয়ে এই দ্বীপ থেকে পালাতে চেয়েছিল সাদিক। তবে এখন ডেভিড এর এরকম অবস্থা দেখে একাই জঙ্গলের দিকে দৌড়াতে থাকে উদ্দেশ্যহীন ভাবে। সোজা দৌড়াতে থাকে। পেছন ফিরে তাকায় না। হঠাৎ দেখে সামনে ডেভিড বসা। অবাক হয়ে যায় সাদিক৷ এটা কিভাবে সম্ভব। ডেভিড তো পেছনে ছিল। সে সোজা দৌড়ে গেছে তো নদীর পাড়ে আসার কথা এতোক্ষনে। তবে ঘুরে আবার ডেভিডের কাছে কিভাবে আসলো? তাহলে কি সাদিক একটা চক্রে ভেসে গেছে? চাইলেও বের হতে পারবে না? নাকি এটাও ডেভিড এর কোন যাদু?


ড্যনিয়েল সাহস করে বাড়ির পেছনে জঙ্গলের কাছে এলো। আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো পুরো অন্ধকার। এক পা বাড়াতেই আশেপাশের জায়গা পরিবর্তন হয়ে গেল। কোথায়ও জঙ্গল নেই। ওই যে একটা বরফের পাহাড় দেখা যাচ্ছে। ড্যনিয়েল বুঝে গেল তাকে মায়াভ্রমে আটকে ফেলা হয়েছে। ড্যনিয়েল হাতে থাকা হকি স্টিকটা হাওয়ায় মারে। 


ড্যনিয়েল বলে, আমার সাথে যাদু করে লাভ নেই এ্যরেন। আমি জানি এসব যাদু। যা আমার মস্তিষ্কে তুমি তৈরি করেছো৷ বাস্তবে আমি এখনও জঙ্গলেই আছি।


হঠাৎ এ্যরেন কথা বলে তবে আশেপাশে কাউকে দেখা যায় না। যেন বাতাসের সাথে কথাগুলো ভেসে আসছে। 


এ্যরেন বলে, তুমি বলেছিলে আমার সন্তান ডেভিডকে আমায় ফিরিয়ে দিবে। তুমি কথা রাখোনি। তাকে আটকে রেখেছো তোমার ঘরে। যেখানে আমার যাদু কাজ করে না।


ড্যনিয়েল বলল, ডেভিড খুব শ্পেশাল। তাকে আমি দিব না। সে তার মায়ের কাছে থাকবে।


এ্যরেন রেগে বলল, তুমি তাকে অত্যাচার করো। আমার বুক ফেটে যায়। তুমি সহ্য করতে পারো না।  কারন ডেভিড তোমার বাচ্চা না। তোমার ওয়াইফ আমার সাথে মিলিত হয়েছিল এই জঙ্গলে। তবে আমি তো মানুষ নই। তবুও লিনা গর্ভবতী হয়। তার বাচ্চা হয়। তুমি তার মায়া শক্তি দেখে বুঝে ছিলে বাচ্চাটা তোমার নয়।


ড্যনিয়েল রাগে বলতে থাকে, হ্যা। বুঝেছিলাম। যখন তার জন্মের পর তার পেছনে বানরের মতো লেজ দেখতে চাই। তখনই বুঝেছিলাম। এটা কোন সাধারন বাচ্চা নয়। তাই তার লেজ কেটে দিয়েছিল। আমি জানি তোমারও লেজ আছে। তাই বুঝতে অসুবিধে হয়নি। এটা তোমাদের প্রজাতির বাচ্চা। তবে তার লেজ কেটে দিয়েছিলাম৷ এটা ভেবে সে মানুষ হবে। তবে সে হয়নি। সে এখনও রক্ত খেতে চায়। আর মানুষের মাংস তার পছন্দ খাবার। আমি তাকে মানুষ করতে পারিনি। হয়তো এটা আমার ই ব্যর্থটা। 


এ্যরেন বলল, আমি বাড়ির বাইরে থেকে প্রতিদিন ডেভিডকে দেখতাম।তবে ঘরে ঢুকতে পারতাম না। কারন দরজায় তুমি ৬৬৬ লেখা লিখে দিয়েছিল৷ স্বয়ং তিনি তোমার ঘর সুরক্ষা দিতেন। মোটেও ভালো করোনি। আমার বাচ্চাকে আমার থেকে দূরে রেখে।


ড্যনিয়েল এবার বলল, তোমার সাহস থাকতে লুকিয়ে না থেকে সামনে এসো লড়াই করো আমার সাথে।


এ্যরেন বলল, আমি যে অদৃশ্য। আমাকে দেখা যায় না। শুধু অনুভব করা যায়। তবে আমি বিভিন্ন রুপ ধারন করতে পারি। দাড়াও।


হঠাৎ ড্যনিয়েল সামনে দেখলো চারিদিকে সাদা কুয়াশায় ঢেকে গেল। তারপর এ্যরন হাসির হলো তার সামনে। তাও লিনার রুপ ধারন করে। 


ভয় পেয়ে গেল ড্যনিয়েল। সে ভেবেছিল এ্যরেন কে খুন করবে সব শেষ হয়ে যাবে। তবে এখন তো এ্যরেন চালাকি করে তার ওয়াইফ এর রুপ ধারন করেছে। ড্যনিয়েল কি পারবে তাকে খুন করতে?  ড্যনিয়েল জানে সামনে যে দাড়িয়ে আছে। এটা তার ওয়াইফ না। তবুও তার কি একটু হাত কাঁপবে না? নিজের স্ত্রীকে তো সে অনেক ভালোবাসে।


ড্যনিয়েল নিজের হাতে থাকা হকি স্টিকটাকে দু'হাত দিয়ে আরো শক্ত করে ধরলো। এ্যরন যাদু করে জায়গা পরিবর্তন করে দিল। এখন চারিদিকে মরুভূমি আর মরুভূমি। পাশাপাশি দাড়িয়ে লড়াই করতে এ্যরন ও ড্যনিয়েল।


লিনার হাত দুটো বেল্ট দিয়ে বাধা। এদিকে সে নগ্ন হয়ে চেঁচাচ্ছে। কেউ আসছে না। ড্যনিয়েল কোথায় যেন গিয়েছে এখনও ফিরেনি। আর পাশের ঘরে লিসা কেন শুনসে না। তাই খানিকটা বিরক্ত লিনা। চিল্লাতে চিল্লাতে তার গলা ভেঙ্গে যাচ্ছে।।তবুও লিসা আসছে না তাকে সাহায্য করতে। অসহায় অনুভব করছে সে। কয়েকবার চেষ্টাও করলো বেল্ট ছিড়ে ফেলতে। ব্যর্থ হলো।


হঠাৎ দরজায় দেখলো লিসা। লিসা অবাক হয়ে তার মায়ের দিকে তাকিয়ে আছে।


লিসা বলল, তুমি নগ্ন কেন আর হাত বাধা কেন?


লিনা বিরক্ত হয়ে বলল, কতবার চেচামেচি করছি। তুমি শুনতে পাওনি কেন? কি করছিলে?


লিসা বলল, ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। গভীর ঘুমে ছিলাম। আর তুমি তো এমনিও রাতে চিল্লাও এটা নতুন কি?


লিনা অবাক হয়ে বলল, রোমান্টিক চিৎকার আর অসহসায় চিৎকার দুটো আলাদা হয়। জানো না মেয়ে? এখন এতো কথা না বাড়িয়ে আমার হাত খুলে দাও।


লিসা তাড়াতাড়ি তার মায়ের হাতের বেল্টটা খুলে দিল। নিজের হাত দেখলেন লিনা । লাল দাগ পড়ে গেছে। তারপর একটা জামা পড়ে নিলেন।


লিনা বলল, তোমার বাবাকে দেখেছো?


লিসা বলল, না। বাবা আর ডেভিডকে পাওয়া যাচ্ছে না। 


লিনার বুকে চাপ অনুভব করে বলল, মানে? ডেভিড এতোরাতে কোথায় পালালো? ওর কি কোন বিপদ হয়েছে? 


লিসা বলল, জানি না। হয়তো ওই সাদিক ডেভিডকে নিয়ে পালিয়েছে।



লিনা বলল, তুমি এতো সিওর কিভাবে?


লিসা বলল,  কারন বেসমেন্টে সে নেই।


লিনা বলল, বুঝতে পেরেছি। তাকে খুজতে যেতে হবে বাড়ির বাইরে।


লিসা বলল, এখনও সূর্য উঠেনি। এই সময় বাহির নিরাপদ না? 


রেগে লিনা বলল, তো নিজের ছেলের জন্য কোন মা ই নিজের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে না।


দৌড়ি ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন লিনা। তারপর সিড়ি বেয়ে নামতে লাগলো। তার পেছনে লিসাও দৌড়ে যেতে লাগলো।


তারা দৌড়ে বাড়ির সামনের দিকে নদীর পাড়ে আসলো। আকাশে তখন পূর্ণ চাদ দেখা যাচ্ছে। নদীতে জোসনার আলো পড়েছে।


লিনা বলল, এদিকটায় তো কেউ নেই?


লিসা বলল, এখন ভুলেও বলো না এতো রাতে বাড়ির পেছন দিকটায় যাবে।


লিনা বলল, আমাকে যেতেই হবে।


লিসা বলল, না। আম্মু। তুমি যেতে পারবা না।


ধাক্কা দিয়ে নিজের মেয়েকে মাটিতে ফেলে দিলেন লিনা। যেন কোনকিছুই তাকে আর আটকে রাখতে পারবে না।


এদিকে বাড়ির পেছনটায় দাড়িয়ে আছে ড্যনিয়েল হাতে হকি স্টিক। একা একা কথা বসলে জঙ্গলের সাথে। তবে তার চোখে অন্যকিছু দেখছে চারিদিকে শুধু মরুভূমি আর মরুভূমি। ড্যনিয়েল জানে এসব দৃশ্য এ্যরন এর তৈরি করা। বাস্তবে সে এখনও জঙ্গলে দাড়িয়ে আছে। ঘুরপাক খাচ্ছে।


এ্যরন লিনার রুপ ধরে সামনে এসে দাড়ায়। 


ড্যনিয়েল হকি স্টিকটা শক্ত করে ধরে। ড্যনিয়েল বলে, তুমি খুব শক্ত চাল দিয়েছো। তুমি জানো আমি আমার স্ত্রীকে মারতে পারবো না। তাই তার রুপ ধারন করেছো। তবে আমি তো বোকা নাই। আমি জানি তুমি এ্যরন আমার স্ত্রী নও।


এ্যরন যাদু করে হাতে একটা তলোয়ার বের করে বলল, তাহলে এসো মোকাবিলা করি।


হকি স্টিক হাতে দৌড়ে যায় ড্যনিয়েল মারতে যাবে। তখনই নিমিষে হাওয়ার গতিতে দিক পাল্টে নেয় এ্যরন। প্রকৃত দিক হতে সরে যায় ডান পাশে।  আর হাতে থাকা তলোয়ার দিকে ড্যনিয়েল এর পিঠে টান মারে। ড্যনিয়েল এর শার্ট কেটে যায়। রক্তের দাগ দেখা যায় পিঠে। ব্যথায় কুকিয়ে উঠে সে।


ড্যনিয়েল চোখ বন্ধ করে ভাবে,  এ্যরনকে শক্তিকে হারানো যাবে না। মনোযোগ দিয়ে বুদ্ধিতে হারাতে হবে তাকে। বা এক আঘাতে তার মাথায় মেরে ফেলতে হবে। শত্রুকে কখনও দ্বিতীয় সুযোগ দিতে নাই।


এ্যরন চাইলে এই সুযোগে ড্যনিয়েল এর ঘাড় থেকে মাথা ফেলে দিতে পারে তলোয়ার দিয়ে।।তবে এটা কাপুরষের লক্ষন যেকিনা শত্রুর দুর্বল সময়ে আঘাত করে তাই এ্যরন অপেক্ষা করছে কখন ড্যনিয়েল চোখ খুলবে আবার ফাইট করবে।



এদিকে সাদিক দেখলো ডেভিড লুনার ডেডবডি অর্ধেক খেয়ে ফেলেছে। পা থেকে পেট পর্যন্ত অর্ধেক নেই। সাদিক ভয় পেয়ে গেল। সাদিক ভাবলো লুনাকে খাওয়া শেষ হলে কি তার পালা৷ এই ভয় পেয়ে সাদিকের বাচার ইচ্ছা হলো।


ডানপাশে তাকিয়ে দেখলো একটা বড় পাথর পড়ে আছে ঘাষের ওপর। সেই পাথরটা তুলে নিল সাদিক। তারপর জুতা খুলে ফেলল যাতে পাতায় শব্দ না হয়। আস্তে আস্তে করে ডেভিড এর পেছনে দাড়ালো। সর্বশক্তি দিয়ে চোখ বন্ধ করে ডেভিড এর মাথায় পাথরটা দিয়ে আঘাত করলো। যে ডেভিড এর মাথা ফেটে রক্তে ছিটে আসলো সাদিকের শার্টে।একটার পর একটা পাথরের বারি মারতে লাগলো। যতক্ষণ না তরমুজের মতো মাথাটা ফেটে গেল। 


রক্ত দেখে সাদিকের হাত কাপতে লাগলো। নিজের ভেতরে প্রশ্ন জাগলো সাদিকের। সাদিক ভাবলো একটা মনস্টারকে মারতে গিয়ে সে নিজেই মনস্টার হয়ে গেছে। অসহায় ভাবে ঘাষের ওপর বসে পড়লো সে। তার কোলের ওপর সেই রক্তাক্ত পাথর। মাথার ভেতর একটাই প্রশ্ন, কেন আমি খুনি হলাম? এই শিশুটি কি আসলেই খারাপ ছিল?


এই তীব্র অনুশোচনা কান্নায় রুপ নিল সাদিকের। তবে মূহুর্তে নিজেকে সামলে নিয়ে উঠে দাড়ায়। পাথরটা ফেলে দেয়। তারপর দৌড়াতে থাকে আর চোখের জল মুছতে থাকে। নিজেকে সান্ত্বনা দেয় সাদিক, এসব একটা ট্রমা। আমাকে বাসায় যেতে হবে। মা অপেক্ষায় করছে। আমি সবকিছু নিজের মায়ের কাছে ফেরার জন্য করেছি।


এ্যরন এর যাদু হঠাৎ শেষ হয়ে যায়। কারন এ্যরন দেখলো কবরের সামনে তার ছেলে ডেভিডকে মেরে ফেলেছে সাদিক। তাই এ্যরন  ড্যনিয়েলকে ছেড়ে ডেভিড এর লাশের কাছে ছুটে যায়। বাতাসের সাথে এ্যরন চলে যেতে থাকে।


তখনই চোখ খুলে ড্যনিয়েল। ড্যনিয়েল দেখে জঙ্গলে ফিরে আসছে সে। কোথায়ও আর মরুভূমি নাই। হঠাৎ কি হলো? ড্যনিয়েল ভাবে এটাও হয়তো এ্যরন এর কোন মায়া জাদু। ড্যনিয়েল কে বোকা বানাতে চায় সে। 


হঠাৎ ড্যনিয়েল দেখে লিনা তার সামনে দাঁড়ানো।  ড্যনিয়েল ভাবে এটা হয়তো লিনা রুপি এ্যরন। তাই দৌড়ে গিয়ে হকি স্টিক দিয়ে এক বারি তে ঘাড় থেকে মাথা আলাদা করে দেয়। 


খুশিতে চিৎকার দেয় ড্যনিয়েল,  হে। আমি পেরেছি। তুমি লুজার এ্যরন। 


তখনই সেখানে উপস্থিত হয় লিসা। লিসা অবাক হয়ে দেখে তার বাবা তার মা কে মেরে। খুশিতে উল্লাস করছে।


লিসা বলে, বাবা তুমি মা কে কেন মারলে?


নিজের মেয়েকে দেখে অবাক হয় ড্যনিয়েল। আর বুঝতে পারে এটা তাহলে মায়ার জগৎটা না। বাস্তবেই ছিল ড্যনিয়েল আর এ্যরন ভেবে যাবে মেরেছে সে তার প্রকৃত স্ত্রী। 


নিজের ভুল বুঝতে পেরে লিনার দেহটা বুকে তুলে কান্না করতে থাকে ড্যনিয়েল। 


লিসা কেমন যেন পাথর হয়ে গেছে। নিজের মায়ের মৃত্যুতেও তার কান্না আসছে না। লিসা বলল, আমি ভুল ছিলাম। আমি বলেছিলাম অপরাধীরা অনুশোচনা করে না। আসলে অনুশোচনা করে খুব দেরীতে। যখন তাদের পাপের জন্য বড় কিছু হারিয়ে ফেলে।


১ মাস পরের কাহিনী। 


সাদিক বসে আছে প্রেস কনফারেন্সে। তাকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করছে। আর সে উত্তর দিচ্ছে। উত্তর দিতে গিয়ে বার বার ঘামছে আর রুমাল দিয়ে কপালের ঘাম মুছছে। 


সাংবাদিক বলল, আপনি যে 'আদম পরিবার' নামে বই লিখলেন। এখানে অজাচার বাবা মেয়ের ফিজিক্যাল। তারপর কালা যাদু এসব লিখে আপনি সমাজ খারাপ করছেন।


টেবিল থেকে পানির বোতল নিয়ে চুমুক দেয় সাদিক। 


সাদিক বলে, দেখুন। আমি যা সত্য তাই লিখেছি। এটা কোন কাল্পনিক ঘটনা না। আমি সেখানে গিয়েছিলাম ব্যবহারটা তদন্ত করতে। তারপর ফিরে আসি আহত রিদয় নিয়ে। যা দেখেছি তাই হুবহু লেখার চেষ্টা করেছি।


সাংবাদিক বলল, ওয়েট একটা পয়েন্টে আপনি লিখেছেন যে ডেভিড কালো যাদু করে আর লুনার লাশ হাওয়ায় ভাসে। এটা কিভাবে সাইন্স দিয়ে সম্ভব?


সাদিক বলল, দেখুক সবকিছু বিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। আর যার সাথে ঘটে একমাত্র সেই ব্যপারটা অনুভব করে। এই যে কিশোর ছেলেরা প্রেমে পড়ে। বিজ্ঞান এটাকে বলে ডোপামিন রিলিজ হচ্ছে। আমার মতে সবকিছুরই পয়েন্ট অফ ভিউ আছে। সবাই নিজেকে সঠিক মনে করে।


সাংবাদিক এবার জোর দিয়ে বললেন, আপনিও কি নিজেকে সঠিক মনে করেন?


সাদিক উত্তর দিল না। রিলাক্স হয়ে চেয়ারে হেলান দিয়ে মুচকি হাসতে লাগলো।


প্রেস কনফারেন্সে এর পর বাইরে দেখা গেল সাংবাদিক বর সাদিকের।


সাংবাদিক হ্যন্ডশেক করে বলল, আপনার বই তো ভাইরাল মিষ্টি খাওয়াবেন না?


সাদিক হাসলো।  কোন উত্তর দিল না।


সাংবাদিক বলল, আচ্ছা। তারপর কি হয়? ড্যনিয়েল তার স্ত্রীকে মেরে ফেলেছে। এ্যরন তারপর কি করলো?আর লিসার ই বা কি অবস্থা?


সাদিক বলল, সেই দ্বীপ থেকে ফিরে এসে আমি চাইছিলাম না।সেখানে আবার যাই। তবুও কৌতুহল বসতো। ৪জন লোক পাঠিয়েছিলাম সেখানে। এই তো ১০দিন আগে।।তারা দ্বীপে গিয়েছিল। তারপর ফিরে এলো খালি হাতে।


সাংবাদিক আগ্রহ নিয়ে বলল, খালি হাতে কেন?


সাদিক বলল, তারা দেখেছিল বাড়িটি আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কোথায়ও কোন মানুষ নেই। গ্রামবাসীকে জিজ্ঞেস করেও কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি ড্যনিয়েল বা লিসারও কোন খবর পাওয়া যায়নি। তারা বাড়ির সামনের দিক পেছনের দিক চক্কর মারে। কোথায়ও কোন লাশও বা মৃতদেহ পায়নি তারা।


সাংবাদিক একটা সিগারেট ধরালেন বললেন,আমার থিওরী অনুযায়ী ড্যনিয়েল ও লিসা সব লাশ একত্রে করে সেই বাড়িতে রাখে আর পুরো বাড়ি আগুন ধরিয়ে দেয়। যেহেতু এখানে তাদের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তাই তারা এসব থেকে দূরে কোথায়ও চলে যায়। হয়তো এই দেশ ছেড়ে।।হয়তো অন্যকোথায়ও তারা বাবা মেয়ে বিয়ে করে আবার আদম পরিবার শুরু করছে।


সাদিক অবাক হয়ে বলল, ইন্টারেস্টিং হতে পারে।


সাংবাদিক খুশি হয়ে বলল, তাহলে 'আদম পরিবার' এর ২য় চ্যপ্টার লেখেন। সেখানে ড্যনিয়েল ও লিসার কাহিনী থাকবে।


হেসে সাদিক বলল, কি দরকার। লেবু অতিরিক্ত চিপলে তিতা হয়ে যায়। 


তারপরই সাদিক চলে গেল তার ঠোঁটের কোনায় একটা হাসি। যেন অনেক রহস্যই সে তার বইতে লিখেনি।


(সমাপ্ত)










#আদম_পরিবার

#সিজন_১

#রুূ্দ্র_সিয়াম

















 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পিচ্চি বউ - পর্ব ২৯

 আমি জেরিনকে বললাম, আবারো তুমি প্যন্টে হিসু করে দিয়েছো?  জেরিন ঘুমঘুম চোখে বলল, এটা হিসু না। লাইট অন করেন। আমি লাইট অন করলাম। আর অবাক হয়ে তার সাদা পাজামার দিকে তাকালাম। তার সাদা পাজামা পুরো লাল হয়ে আছে। আমার  আন্ডারওয়ারেও কিছু লাল দাগ লেগেছে।  আমি ভয়ে আতংকিত হয়ে জেরিনের গালে দুহাত হাত রেখে  বললাম , ও মাই গড। তোমার রক্ত বের হচ্ছে কেন? জেরিন বলল, এমন নাটক করতাসেন কেন? ড্রয়ার থেকে প্যাড এনে দেন।  আমি ড্রয়ার থেকে প্যাড এনে দিলাম।  আমি বললাম, তোমার কি কোথাও কেটে গেছে। না হলে রক্ত বের হচ্ছে কেন? জেরিন রেগে বলল, ফাজিল কোথাকার বুঝেন না আমার পিরিয়ড হচ্ছে। এই কথা শুনে আমি জেরিনকে জড়িয়ে ধরলাম। তারপর কানে কানে বললাম, তোমার কি খুব কষ্ট হচ্ছে? পেট ব্যথা করছে?  <amp-auto-ads type="adsense"         data-ad-client="ca-pub-9645388120151436"> </amp-auto-ads> এদিকে জেরিন দেখি খুব নরমাল আছে। যেন কিছুই হচ্ছে না তার। ইরা যখন বলেছিল তার মিন্স হচ্ছে। তখনই ইন্টারনেটে সার্চ দিয়েছিলাম যে মিন্স হলে মেয়েদের কেমন ফিল হয়। সেখানে পড়লাম মিন্স হলে মে...

খালাতো বোনের সাথে প্রেম / রোমান্টিক প্রেমের গল্প / Rudro Siyam

মা যখন বললেন যে আমার বিয়ে হবে আমার খালাতো বোনের সাথে। সে কথা শুনেই আমি ভয়ে বাসে করে কক্সবাজার চলে আসলাম। এখানে একটি হোটেলে উঠেছি নিজেকে লুকিয়ে রাখার জন্য।  আমাকে পেলেই মা-খালা মিলে বিয়ে দিয়ে দিবে। তাই কয়েকদিন লুকিয়ে থাকি। যখন সুরভীর বিয়ে হয়ে যাবে। তখন আমি আবার বাড়ি চলে যাবো। হ্যা! সুরভী ই আমার খালাতো বোনের নাম। এবার ক্লাস টেনে উঠেছে আর তাকে বিয়ে দিয়ে আমার ঘাড়ে চাপানোর প্লান করছে আমার মা আর খালা।  হোটেল রুমে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ কলিংবেলের শব্দে তড়াক করে উঠে। দরজা খুলতেই দেখি একটা ফুলের তোড়া হাতে কে যেন দাড়িয়ে আছে। ফুলটার গন্ধ নিতেই আমি অজ্ঞান হয়ে গেলাম। জ্ঞান ফিরলে দেখি আমার হাত,পা বাধা করে আমাকে গাড়িতে করে কোথায়ও যেন নিজে যাওয়া হচ্ছে। তার মানে কি আমাকে কিডন্যাপ করা হয়েছে। গাড়ি যে চালাচ্ছে। সে রাকিব। আমার বন্ধু! রাকিব: দোস্ত! টেনসন করিস না! লাইফে একবার না। একবার তো বিয়ে করতেই হবে। বিয়ে থেকে পালালে হবে?  আমাদের ধর্মে তো বিয়ে করা ফরজ। তাহলে তুই পালিয়ে বেড়াচ্ছিছ কেন? আমি: তুই কিভাবে জানলি যে আমি কক্সবাজারের হোটেলে আছি? তোকে কে খবর দিল? রাকিব: আরে! বেটা! এখন ইন্টারনেটের যুগ। তুই...

প্লেবয় লাভ স্টোরী) রোমান্টিক প্রেমের গল্প/ রুদ্র সিয়াম

শামীম: রুদ্র। তুই একটা প্লেবয়। তুই এতো মেয়েকে কিভাবে পটিয়ে ফেলিস বুঝি না। যেখানে আমাকে কোন মেয়েই পাট্টা দেয় না। দোস্ত। মেয়ে পটানোর টিপস গুলো আমাকে একটু বল। আমিও তোর মতো প্লে বয় হতে চাই। আমি মোবাইলের স্ক্রিন থেকে চোখ সড়িয়ে তাকালাম শামীমের দিকে। বেচারা এতোবার রিজেক্ট খেয়েছে। এখন আমার কাছ থেকে মেয়ে পটানো শিখতে চায়। আমি: দেখ একটা মেয়ের পেছনে কম হলেও ৪/৫ টা ছেলে ঘোরে। এখন যদি তুইও ঘুরিস। তাহলে সেই ৪টা ছেলে আর তোর মধ্যে কি তফাত থাকলো? তোকে হতে হবে স্পেশাল। তাহলেই দেখবি মেয়েরা তোর প্রতি আগ্রহ দেখাবে আর তোর পেছন পেছন ঘুরবে। বুঝলি? শামীম: আচ্ছা। চেষ্টা করে দেখব। আর কোন টিপস নাই।  আমি: মেয়েদের পাট্টা দিবি না। তাহলে মেয়েরা তোকে পাট্টা দিবে। যত সুন্দর মেয়েই হোক। এমন ভান করবি তোর সামনে কিছুই না। শামীম: কিন্তু আমার তো মেয়েদের সামনে গেলেই হাত পা কাপে। আর টয়লেট লাগে বার বার।  আমি: এরকম হলে তুই কখনই মেয়ে পটাতে পারবি না। আজীবন সিঙেল ই থাকবি। এরকম সময় আমাকে সুনেরাহ কল দিল। আমি কল রিসিভ করলাম। আমি: (ধমক দিয়ে) এই সময়ে কল দিয়েছো কেন? জানো না আমি ব্যস্ত থাকি। তোমাকে বলেছি রাত ১২ টার পর কল দিবা। কত ম...