সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পিচ্চি বউ - ৩০

 আজ আমার রুপার সাথে দেখা করার কথা। ঘুম ভেঙ্গে ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি সকাল ১০টা বাজে৷ 


এমন সময় জেরিন এসে বলল, একলোক সোফার রুমে বসে আছে। আপনার সাথে দেখা করতে চায়। 


আমি জেরিনকে বললাম, লোকটাকে ৫ মিনিট অপেক্ষা করতে বলো। আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি। 


ওয়াশরুমে ঢুকে ঝর্না ছেড়ে দিলাম। আর ভাবতে লাগলাম লোকটা কে হতে পারে? তাও আবার এতো সকাল বেলা।


সোফারুমে গিয়ে দেখি পায়ের ওপর পা তুলে মাথায় কাউবয়দের টুপি কোর্ট পড়া এক লোক। চোখে আবার সানগ্‌লাস পড়েছে। এদিকে জানালার বাইরে তাকিয়ে দেখলাম ফোটা ফোটা বৃষ্টি পড়ছে। বৃষ্টির মধ্যে সানগ্লাস কেন পড়েছে এইলোক? 


লোকটা সোফা থেকে উঠে হ্যন্ডশেক করে নিজের পরিচয় দিল। লোকটা বলল, আমার নাম শামীম। আমি ডিবি তে কাজ করি। আর আমি আপনাকে বিরক্ত করব না। ইরার ব্যপারে কথা বলতে আসছি। 


আমি মনে মনে ভাবলাম।  এখন শামীম সাহেব কি জানতে চান? উনি কি আমাকে ফাসাতে এসেছেন? কারন ইরার বাচ্চা ছিল পেটে যেটা আমার। উনি কি আমাকে ফাসাতে চান? নাকি অন্যকোন মতলব?


আমি নিজের ভেতরের ভয় গোপন রেখে মুখে হাসির রেখা ফুটিয়ে রেখেছি। 


শামীম সোফায় বসতে বসতে বললেন,  একগ্লাস পানি হবে জয়?


আমি অপমান বোধ করলাম। আমি কি কাজের ছেলে যে আমার কাছে পানি চাইলো। তাও ভদ্রতার খাতিরে বললাম, ঠিক আছে। পানি ছাড়াও আর কিছু? 


লোকটার সাথে কথা বলার সময় অসস্তিবোধ হচ্ছে কারন তার চোখ দেখা যাচ্ছে না। 


শামীম বলল, আর একটা কফি দিয়ে পারেন।


আমি পানির গ্লাস নিয়ে জেরিনকে বললাম, কফি দিতে। 


আমি পানির গ্লাস রাখতেই। শামীম সেটা টিসু দিয়ে ধরলো। তারপর সেই টিসু পকেটে  ভরে ফেলল। আমার ঠোঁটের কোনায় হাসি ফুটে উঠলো। আমি বুঝে গেছি শামীম আমার ফিঙারপিন্ট নিয়েছে। তবে শামীম আমাকে বোকা ভাবছে। যা উনার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। 


শামীম বলল, ইরার পেটে একটা বেবী পাওয়া গেছে। বেবী বললে ভুল হবে বেবীর ভ্রুণ বলা চলে।  খুবই ছোট একটা শুক্রানু যা মাত্র বাচ্চার আকার নিতে শুরু করেছিল। হাত পা ও গজায়নি। 


কথা থামিয়ে পানিতে চুৃুমুক দেয় শামীম। শামীম বলতে থাকে, খোজ নিয়ে জেনেছি তোমার সাথে ইরার প্রেম ছিল। এখন বাচ্চাটা তোমার কি না। সেটা জানতে তোমার ডিএনএ লাগবে। তেমন কিছু না তোমার চুল একটা ছিড়ে আমাকে দিয়ে দাও। 


(আমি মনে মনে বললাম, এখনও যেহেতু তারা ১০০% কনফ্রম না। যে বাচ্চাটা আমার সো চুলটা দেওয়াই যায়৷) 


আমি হাত দিয়ে টান দিয়ে নিজের কয়েকটা চুল শামীমকে দিলাম।


আমি বললাম, ইরা তো সুইসাইড করেছে তাই না?


শামীম বলল, না। ইরা সুইসাইড করেনি। তাকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলা হয়েছে। কারন ইরার ফোনটা আমরা পাইনি বুঝলে জয়। এখন তাহলে আসি জয়। নতুন কোন আপডেট পেলে জানাবো।


কথাটা বলে শামীম হ্যন্ডশেক করে চলে যায়। এখান থেকে চলে যাওয়ার পর শামীম একটু নিজের বাসায় যায়। ছেলে মেয়েদের সাথে সময় কাটায়৷ শামীমের বউ মারা যাওয়ার পর নিতু ও রাব্বিকে৷ তিনি নিজ হাতে মানুষ করেছেন৷ পরবর্তী তে আর কোন বিয়ে করেননি শামীম। একটা কাজের বুয়া রেখেছেন যে নীতু ও রাব্বিকে দেখাশোনা করে। নীতুর বয়স ৮। আর রাব্বীর ৬বছর পড়লো। শামীমের কাছে তার সন্তানই তার পুরো দুনিয়া।


দুপুরে ভাত খেতে খেতে শামীমের বিকেল ৪টা বেজে গেল। শামীম বাইক নিয়ে বের হলেন। তার ব্যগে জয়ের ডিএনএ। রাস্তায় হালকা বৃষ্টি পড়ছে। বৃষ্টির কারনে রাস্তা পুরো খালি। তখনই হঠাৎ স্লীপ করে তার বাইক একটা গাছের সাথে ধাক্কা খায়। অনেক জোর আঘাত পায় শামীম৷ তার পানির পিপাসা লাগে। তার মনে হয় এখন আমার কিছু হলে আমার বাচ্চাদের কে দেখবে? তখনই ঝাপছা চোখে দেখে একবয়স্ক লোক বাইক নিয়ে যেখান দিয়ে যাচ্ছিল। লোকটার মাথায় হেলমেট তাই চেহারা দেখা যাচ্ছে না। 


লোকটা এসে শামীমকে পানি খাওয়ায়। কিন্তু হেলমেট খুলে না। পানি খাওয়া শেষ হলে শামীম দেখে তার বুক ব্যথা করছে। লোকটা তখন নিজের হেলমেট খুলে চেহারা দেখায়।


শামীম বলে, আমাকে কি খাওয়ালেন?


লোকটা নিজের ঠোটে আঙুল দিয়ে বলে, চুপ এটা সোডিয়াম সায়ানাইট রসায়নিক বিষ। মিষ্টিবিষ খেতে মিষ্টি লাগে।  এটার খাওয়ার কয়েক মিনিটে তুমি হার্টআট্যাক এ মারা যাবা। লোকটা শামীমের ব্যাগটা চুরি করে ফেলে যেখানে জয়ের ডিএনএ ছিল। চলে যাবে এমন সময় লোকটা শামীমকে বলে, ইরা কে আমি ই ছাদ থেকে ধাক্কা মেরেছিলাম। আমি ই খুনি।


শামীমের চোখ যেন কিছু বলতে চায়। তবে তার দম বন্ধ হয়ে সে মারা যায়। বয়স্ক লোকটা শামীমের ব্যাগ কাধে নিয়ে বাইক ঘুরিয়ে চলে যায়। দিনে দুপুরে এক লোককে মেরে ফেলা হলো অথচও কেউ দেখলোও না। 


লোকটা কে? তা আমি পাঠকের বুদ্ধির ওপর ছেড়ে দিচ্ছি। তারা গোয়েন্দাগিরি করে বের করুক বয়স্ক লোকটা কে হতে পারে। আর সে কেন শামীম ও ইরাকে মারলো৷ এটাই আজকের প্রশ্ন? 


(নেক্সট পর্ব পড়তে ফলো দিয়ে রাখেন আইডিতে। যাতে গল্প আসলে সবার আগে আপনি পান।)


#পিচ্চি_বউ_৩০

#রুদ্র_সিয়াম



মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পিচ্চি বউ - পর্ব ২৯

 আমি জেরিনকে বললাম, আবারো তুমি প্যন্টে হিসু করে দিয়েছো?  জেরিন ঘুমঘুম চোখে বলল, এটা হিসু না। লাইট অন করেন। আমি লাইট অন করলাম। আর অবাক হয়ে তার সাদা পাজামার দিকে তাকালাম। তার সাদা পাজামা পুরো লাল হয়ে আছে। আমার  আন্ডারওয়ারেও কিছু লাল দাগ লেগেছে।  আমি ভয়ে আতংকিত হয়ে জেরিনের গালে দুহাত হাত রেখে  বললাম , ও মাই গড। তোমার রক্ত বের হচ্ছে কেন? জেরিন বলল, এমন নাটক করতাসেন কেন? ড্রয়ার থেকে প্যাড এনে দেন।  আমি ড্রয়ার থেকে প্যাড এনে দিলাম।  আমি বললাম, তোমার কি কোথাও কেটে গেছে। না হলে রক্ত বের হচ্ছে কেন? জেরিন রেগে বলল, ফাজিল কোথাকার বুঝেন না আমার পিরিয়ড হচ্ছে। এই কথা শুনে আমি জেরিনকে জড়িয়ে ধরলাম। তারপর কানে কানে বললাম, তোমার কি খুব কষ্ট হচ্ছে? পেট ব্যথা করছে?  <amp-auto-ads type="adsense"         data-ad-client="ca-pub-9645388120151436"> </amp-auto-ads> এদিকে জেরিন দেখি খুব নরমাল আছে। যেন কিছুই হচ্ছে না তার। ইরা যখন বলেছিল তার মিন্স হচ্ছে। তখনই ইন্টারনেটে সার্চ দিয়েছিলাম যে মিন্স হলে মেয়েদের কেমন ফিল হয়। সেখানে পড়লাম মিন্স হলে মে...

খালাতো বোনের সাথে প্রেম / রোমান্টিক প্রেমের গল্প / Rudro Siyam

মা যখন বললেন যে আমার বিয়ে হবে আমার খালাতো বোনের সাথে। সে কথা শুনেই আমি ভয়ে বাসে করে কক্সবাজার চলে আসলাম। এখানে একটি হোটেলে উঠেছি নিজেকে লুকিয়ে রাখার জন্য।  আমাকে পেলেই মা-খালা মিলে বিয়ে দিয়ে দিবে। তাই কয়েকদিন লুকিয়ে থাকি। যখন সুরভীর বিয়ে হয়ে যাবে। তখন আমি আবার বাড়ি চলে যাবো। হ্যা! সুরভী ই আমার খালাতো বোনের নাম। এবার ক্লাস টেনে উঠেছে আর তাকে বিয়ে দিয়ে আমার ঘাড়ে চাপানোর প্লান করছে আমার মা আর খালা।  হোটেল রুমে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ কলিংবেলের শব্দে তড়াক করে উঠে। দরজা খুলতেই দেখি একটা ফুলের তোড়া হাতে কে যেন দাড়িয়ে আছে। ফুলটার গন্ধ নিতেই আমি অজ্ঞান হয়ে গেলাম। জ্ঞান ফিরলে দেখি আমার হাত,পা বাধা করে আমাকে গাড়িতে করে কোথায়ও যেন নিজে যাওয়া হচ্ছে। তার মানে কি আমাকে কিডন্যাপ করা হয়েছে। গাড়ি যে চালাচ্ছে। সে রাকিব। আমার বন্ধু! রাকিব: দোস্ত! টেনসন করিস না! লাইফে একবার না। একবার তো বিয়ে করতেই হবে। বিয়ে থেকে পালালে হবে?  আমাদের ধর্মে তো বিয়ে করা ফরজ। তাহলে তুই পালিয়ে বেড়াচ্ছিছ কেন? আমি: তুই কিভাবে জানলি যে আমি কক্সবাজারের হোটেলে আছি? তোকে কে খবর দিল? রাকিব: আরে! বেটা! এখন ইন্টারনেটের যুগ। তুই...

প্লেবয় লাভ স্টোরী) রোমান্টিক প্রেমের গল্প/ রুদ্র সিয়াম

শামীম: রুদ্র। তুই একটা প্লেবয়। তুই এতো মেয়েকে কিভাবে পটিয়ে ফেলিস বুঝি না। যেখানে আমাকে কোন মেয়েই পাট্টা দেয় না। দোস্ত। মেয়ে পটানোর টিপস গুলো আমাকে একটু বল। আমিও তোর মতো প্লে বয় হতে চাই। আমি মোবাইলের স্ক্রিন থেকে চোখ সড়িয়ে তাকালাম শামীমের দিকে। বেচারা এতোবার রিজেক্ট খেয়েছে। এখন আমার কাছ থেকে মেয়ে পটানো শিখতে চায়। আমি: দেখ একটা মেয়ের পেছনে কম হলেও ৪/৫ টা ছেলে ঘোরে। এখন যদি তুইও ঘুরিস। তাহলে সেই ৪টা ছেলে আর তোর মধ্যে কি তফাত থাকলো? তোকে হতে হবে স্পেশাল। তাহলেই দেখবি মেয়েরা তোর প্রতি আগ্রহ দেখাবে আর তোর পেছন পেছন ঘুরবে। বুঝলি? শামীম: আচ্ছা। চেষ্টা করে দেখব। আর কোন টিপস নাই।  আমি: মেয়েদের পাট্টা দিবি না। তাহলে মেয়েরা তোকে পাট্টা দিবে। যত সুন্দর মেয়েই হোক। এমন ভান করবি তোর সামনে কিছুই না। শামীম: কিন্তু আমার তো মেয়েদের সামনে গেলেই হাত পা কাপে। আর টয়লেট লাগে বার বার।  আমি: এরকম হলে তুই কখনই মেয়ে পটাতে পারবি না। আজীবন সিঙেল ই থাকবি। এরকম সময় আমাকে সুনেরাহ কল দিল। আমি কল রিসিভ করলাম। আমি: (ধমক দিয়ে) এই সময়ে কল দিয়েছো কেন? জানো না আমি ব্যস্ত থাকি। তোমাকে বলেছি রাত ১২ টার পর কল দিবা। কত ম...