আজ আমার রুপার সাথে দেখা করার কথা। ঘুম ভেঙ্গে ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি সকাল ১০টা বাজে৷
এমন সময় জেরিন এসে বলল, একলোক সোফার রুমে বসে আছে। আপনার সাথে দেখা করতে চায়।
আমি জেরিনকে বললাম, লোকটাকে ৫ মিনিট অপেক্ষা করতে বলো। আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।
ওয়াশরুমে ঢুকে ঝর্না ছেড়ে দিলাম। আর ভাবতে লাগলাম লোকটা কে হতে পারে? তাও আবার এতো সকাল বেলা।
সোফারুমে গিয়ে দেখি পায়ের ওপর পা তুলে মাথায় কাউবয়দের টুপি কোর্ট পড়া এক লোক। চোখে আবার সানগ্লাস পড়েছে। এদিকে জানালার বাইরে তাকিয়ে দেখলাম ফোটা ফোটা বৃষ্টি পড়ছে। বৃষ্টির মধ্যে সানগ্লাস কেন পড়েছে এইলোক?
লোকটা সোফা থেকে উঠে হ্যন্ডশেক করে নিজের পরিচয় দিল। লোকটা বলল, আমার নাম শামীম। আমি ডিবি তে কাজ করি। আর আমি আপনাকে বিরক্ত করব না। ইরার ব্যপারে কথা বলতে আসছি।
আমি মনে মনে ভাবলাম। এখন শামীম সাহেব কি জানতে চান? উনি কি আমাকে ফাসাতে এসেছেন? কারন ইরার বাচ্চা ছিল পেটে যেটা আমার। উনি কি আমাকে ফাসাতে চান? নাকি অন্যকোন মতলব?
আমি নিজের ভেতরের ভয় গোপন রেখে মুখে হাসির রেখা ফুটিয়ে রেখেছি।
শামীম সোফায় বসতে বসতে বললেন, একগ্লাস পানি হবে জয়?
আমি অপমান বোধ করলাম। আমি কি কাজের ছেলে যে আমার কাছে পানি চাইলো। তাও ভদ্রতার খাতিরে বললাম, ঠিক আছে। পানি ছাড়াও আর কিছু?
লোকটার সাথে কথা বলার সময় অসস্তিবোধ হচ্ছে কারন তার চোখ দেখা যাচ্ছে না।
শামীম বলল, আর একটা কফি দিয়ে পারেন।
আমি পানির গ্লাস নিয়ে জেরিনকে বললাম, কফি দিতে।
আমি পানির গ্লাস রাখতেই। শামীম সেটা টিসু দিয়ে ধরলো। তারপর সেই টিসু পকেটে ভরে ফেলল। আমার ঠোঁটের কোনায় হাসি ফুটে উঠলো। আমি বুঝে গেছি শামীম আমার ফিঙারপিন্ট নিয়েছে। তবে শামীম আমাকে বোকা ভাবছে। যা উনার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।
শামীম বলল, ইরার পেটে একটা বেবী পাওয়া গেছে। বেবী বললে ভুল হবে বেবীর ভ্রুণ বলা চলে। খুবই ছোট একটা শুক্রানু যা মাত্র বাচ্চার আকার নিতে শুরু করেছিল। হাত পা ও গজায়নি।
কথা থামিয়ে পানিতে চুৃুমুক দেয় শামীম। শামীম বলতে থাকে, খোজ নিয়ে জেনেছি তোমার সাথে ইরার প্রেম ছিল। এখন বাচ্চাটা তোমার কি না। সেটা জানতে তোমার ডিএনএ লাগবে। তেমন কিছু না তোমার চুল একটা ছিড়ে আমাকে দিয়ে দাও।
(আমি মনে মনে বললাম, এখনও যেহেতু তারা ১০০% কনফ্রম না। যে বাচ্চাটা আমার সো চুলটা দেওয়াই যায়৷)
আমি হাত দিয়ে টান দিয়ে নিজের কয়েকটা চুল শামীমকে দিলাম।
আমি বললাম, ইরা তো সুইসাইড করেছে তাই না?
শামীম বলল, না। ইরা সুইসাইড করেনি। তাকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলা হয়েছে। কারন ইরার ফোনটা আমরা পাইনি বুঝলে জয়। এখন তাহলে আসি জয়। নতুন কোন আপডেট পেলে জানাবো।
কথাটা বলে শামীম হ্যন্ডশেক করে চলে যায়। এখান থেকে চলে যাওয়ার পর শামীম একটু নিজের বাসায় যায়। ছেলে মেয়েদের সাথে সময় কাটায়৷ শামীমের বউ মারা যাওয়ার পর নিতু ও রাব্বিকে৷ তিনি নিজ হাতে মানুষ করেছেন৷ পরবর্তী তে আর কোন বিয়ে করেননি শামীম। একটা কাজের বুয়া রেখেছেন যে নীতু ও রাব্বিকে দেখাশোনা করে। নীতুর বয়স ৮। আর রাব্বীর ৬বছর পড়লো। শামীমের কাছে তার সন্তানই তার পুরো দুনিয়া।
দুপুরে ভাত খেতে খেতে শামীমের বিকেল ৪টা বেজে গেল। শামীম বাইক নিয়ে বের হলেন। তার ব্যগে জয়ের ডিএনএ। রাস্তায় হালকা বৃষ্টি পড়ছে। বৃষ্টির কারনে রাস্তা পুরো খালি। তখনই হঠাৎ স্লীপ করে তার বাইক একটা গাছের সাথে ধাক্কা খায়। অনেক জোর আঘাত পায় শামীম৷ তার পানির পিপাসা লাগে। তার মনে হয় এখন আমার কিছু হলে আমার বাচ্চাদের কে দেখবে? তখনই ঝাপছা চোখে দেখে একবয়স্ক লোক বাইক নিয়ে যেখান দিয়ে যাচ্ছিল। লোকটার মাথায় হেলমেট তাই চেহারা দেখা যাচ্ছে না।
লোকটা এসে শামীমকে পানি খাওয়ায়। কিন্তু হেলমেট খুলে না। পানি খাওয়া শেষ হলে শামীম দেখে তার বুক ব্যথা করছে। লোকটা তখন নিজের হেলমেট খুলে চেহারা দেখায়।
শামীম বলে, আমাকে কি খাওয়ালেন?
লোকটা নিজের ঠোটে আঙুল দিয়ে বলে, চুপ এটা সোডিয়াম সায়ানাইট রসায়নিক বিষ। মিষ্টিবিষ খেতে মিষ্টি লাগে। এটার খাওয়ার কয়েক মিনিটে তুমি হার্টআট্যাক এ মারা যাবা। লোকটা শামীমের ব্যাগটা চুরি করে ফেলে যেখানে জয়ের ডিএনএ ছিল। চলে যাবে এমন সময় লোকটা শামীমকে বলে, ইরা কে আমি ই ছাদ থেকে ধাক্কা মেরেছিলাম। আমি ই খুনি।
শামীমের চোখ যেন কিছু বলতে চায়। তবে তার দম বন্ধ হয়ে সে মারা যায়। বয়স্ক লোকটা শামীমের ব্যাগ কাধে নিয়ে বাইক ঘুরিয়ে চলে যায়। দিনে দুপুরে এক লোককে মেরে ফেলা হলো অথচও কেউ দেখলোও না।
লোকটা কে? তা আমি পাঠকের বুদ্ধির ওপর ছেড়ে দিচ্ছি। তারা গোয়েন্দাগিরি করে বের করুক বয়স্ক লোকটা কে হতে পারে। আর সে কেন শামীম ও ইরাকে মারলো৷ এটাই আজকের প্রশ্ন?
(নেক্সট পর্ব পড়তে ফলো দিয়ে রাখেন আইডিতে। যাতে গল্প আসলে সবার আগে আপনি পান।)
#পিচ্চি_বউ_৩০
#রুদ্র_সিয়াম
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন