রুদ্র সিয়াম ( ছোটগল্প সমগ্র)
গল্প: ১
দুঃখবিলাশ
' আজ আমার ৩ বছরের রিলেসনের ব্রেকআপ হয়ে গেছে। আমি ভেবেছিলাম সে আমাকে সত্যিকারের ভালোবাসে। কিন্তু আমি ভুল ছিলাম। আজ যখন তার দেখা দেখা করতপ যাবো। তখন দেখি সে অন্য ছেলের হাত ধরে বসে আছে। এটা দেখে আমি অনেক কষ্ট পাই। কিন্তু তাকে কিছু না বলেই চলে আছি। '
আমি আমার ক্লোজফ্রেন্ড সিজানকে ডাক দিয়েছি আমার মনের কথা বলার জন্য। সিজান আর আমি পাশাপাশি নদীর কিনাড়ায় বসে আছি।
সিজানকে জড়িয়ে ধরে অনেকক্ষন কাদলাম। সিজান বলল, আরে এগুলো কোন ব্যাপার না দোস্ত। একটা মেয়ে গেছে তো কি হয়েছে তিনটা মেয়ে আসবে।
আমি বললাম, কিন্তু আমার ৩টা মেয়ে চাই না। আমার তাকেই চাই। তাকে না পেলে আমি সুইসাইড করব।
সিজান এবার আমাকে চড় মেরে বসলো। আমি চুপ করে গেলাম।
সিজান তার পকেট থেকে সিগারেট বের করে জ্বালালো। তারপর বলতে লাগলো।
'তোর তো শুধু গার্লফ্রেন্ড চলে গেছে। আর আমার তো এই দুনিয়ায় কেউ নেই। ছোটবেলায় বাবা-মা মারা যায়। দাদা-দাদি আমাকে বড় করে। কিন্তু যখন আমার বয়স ১৬। তখন দাদা মারা যায়। তার কিছুদিনপর দাদি ও মারা যায়। ফুপুদের কাছে খাবারের জন্য গিয়েছিলাম। ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছে।এমন সময় একটা মেয়ে আসলো আমার জিবনে। সেও আমার অতিতের কথা জেনে আমাকে ছেড়ে চলে গেল। এখন আমি রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াই আর নেশা করি। দুনিয়াটা আমার জন্য নরক হয়ে গেছে।
সিজানের কথা শুনে আমার মনে এক ধরনের প্রশান্তি ফিরে আসে। আসলে আমরা নিজেদের অনেক অসহায় মনে করি। কিন্তু চারিদিকে তাকালে দেখতে পাবো। আমাদের থেকেও অসহায় মানুষ। অনেক আছে। যারা দুবেলা খেতে পায় না। এখন নিজেকে আর অসহায় মনে হচ্ছে না।
সিজানকে জিজ্ঞাস করলাম, এতোকিছুর মাঝেও তুই কখনো সুইসাইড এর চিন্তা করিসনি?
সিজান বলল, চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু পারিনি। হয়তো সৃষ্টিকর্তা আমাকে বাচিয়ে রেখেছেন। তার কোন লীলা খেলা দেখানোর জন্য। এটা বলে সিজান উঠে দাড়ায়। আর গান গাইতে গাইতে চলে যায়।
' আজ আমি ছন্নছাড়া।
আমি একদিশে হারা
লুকিয়ে মরি।
কেউ চিনেনি আমায়
বোঝেনি তো কেউ
দেখেও কতবার
দেখেনি তো কেউ..... '
(সমাপ্ত)
গল্প : ২
"প্রমিজ"
সানিয়া দাড়িয়ে অপেক্ষা করতে রাজের জন্য। কিন্তু রাজ এখনও আসছে না। সানিয়া দাড়িয়ে আছে রাস্তার পাশে। তার হাতে লাল গোলাপফুল।
রাজ আর সানিয়ার পরিচয় ফেসবুকে। আজ রাজ সানিয়ার সাথে দেখা করতে যাবে বলে সে খুব খুশি। রাজ হলুদ শার্ট পড়েছে। তারপর কমলাপুর থেকে ট্রেনে উঠলো সে। এখান থেকে সরাসরি নরসীংদি যাবে রাজ। ট্রেনে বসে সে সনিয়ার কথা ভাবছে।
সনিয়া দাড়িয়ে আছে। এর মধ্যে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। সে টি-স্টোর এ ঢুকলো। তারপর চা অর্ডার করলো।
গরম চা হাতে সনিয়া বৃষ্টি দেখছে আর রাজের কথা ভেবে মুচকি মুচকি হাসছে। সনিয়া গরম চা তার ঠোটে লাগালো। চা টা তার ভালো লেগেছে।
রাজ ট্রেন থেকে নামলো। চারিদিক ভালো করে দেখে একটা লোককে জিজাসা করলো স্কুলটা কোথায়? লোকটা জঙ্গলের ভেতর একটা রাস্তা দেখিয়ে বলল, এখান থেকে পাচ মিনিট হেটে যাও।
রাজ জঙ্গলের ভেতর দিকে এগোচ্ছে। হঠাৎ একটা মেয়ের কান্নার শব্দ শুনতে পেল সে। ঝোপের ভেতর কে যেন চিৎকার করছে। সে এদিকে গেল। আর লতা পাতার গাছ হাত দিয়ে সড়াইতেই দেখলো। দুজন লোক একটি মেয়েকে রেপ করছে।। রাজ মেয়েটাকে বাচানোর জন্য একজন কে ঘুশি মারলো। লোকটা মাটিতে পড়ে গেল। অপরজন তার নিজের পকেট থেকে ছুড়ি বের করে রাজের দিকে এগিয়ে গেল।
এদিকে সানিয়া দেখলো বৃষ্টি থেমে গেছে। চারিদিকে সুনসান নীরবতা। সন্ধা হয়ে গেছে। সে বাসার যাবে। তখনই পেছন থেকে একজন ডাক দিল। ফিরে চেয়ে দেখে রাজ। সে দৌড়ে রাজকে জড়িয়ে ধরে...
কিন্তু এটা রাজ ছিল না, সে আগেই ছুড়ির আঘাতে মারা গেছে। কিন্তু তার আত্মা তার প্রমিজ পুরন করেছে।
(সমাপ্ত)
গল্প: ৩
"প্রমিজ ২"
রুহি হ্যন্ডবেগ টেবিলে রেখে চুলগুলো দুহাত দিয়ে খোপা করলো। আর তার সামনের দুটো সরু চুল দুদিকে পড়ে আছে। শাড়িতে তাকে চমৎকার লাগছে। আমি দেখছি তার নাভীর গভীরতা। সে আড়চোখে আমার দিকে তাকালো। আর আমার চোখের চাহনী বুঝতে পেরে শাড়ি দিয়ে নিজের নাভী ঢেকে ফেলল।
এমন সময় দরজায় কলিংবেল বাজলো। আমার ৪ বছরের মেয়ে দিব্যিয়া বাসায় ফিরেছে। রুহি দরজা খুলে দিব্যিয়াকে জড়িয়ে ধরলো। তারপর তার স্কুলের পোষাক খুলে তাকে গোসল করিয়ে দিল। আর এখন সোফায় বসিয়ে দিবিয়্যাকে ভাত খায়িয়ে দিচ্ছে রুহি। এসবের পর রুহি দিব্যিয়াকে ঘুম পাড়িয়ে দেয়। রুহি বিকেল ৪টায় আমাকে চা দিল আর নিজেও চা নিয়ে সোফায় বসলো।
আমি বললাম, আর কত করবি আমার জন্য। এখন একটা বিয়ে করে নে।
রুহি বলল, তোকে দেখলে আমার খুব মায়া হয় দোস্ত৷ দিব্যিয়ার মা মারা যাওয়ার পর তুই আর বিয়ে করলি না। কেন?
আমি চায়ে চুমুক দিয়ে বললাম, আমি জানি না। হয়তো পাথর হয়ে গেছি। কাউকে ভালোবাসার ক্ষমতা আমার নেই।
রুহি আড়চোখে তাকায়। তার চোখ ছলছল করে। কেন এমন করে মেয়েটা আমি তা জানি না। রুহি আর আমি কলেজ লাইফের বন্ধু। তারপর একসাথে আছি। আমি বিয়ে করি, সে এখনও বিয়ে করেনি। কেন করেনি? জিজ্ঞাসা করলে বলে, একটি ছেলেকে কলেজে ভালোবাসতো। এখন তাকে পায়নি। তাই।
রুহি বলল, দোস্ত! আমাকে তোর কেমন লাগে?
চায়ের কাপ টেবিলে রেখে আমি ওর দিকে তাকালাম। শ্যমলা চেহারা, হালকা কোকড়ানো চুল। নীল শাড়ির সাথে কালো ব্লাউজ পড়েছে। বৃক্ষ স্পষ্ট বোঝা যায়। এমন আকর্ষণীয় মেয়ে পাওয়া দুষ্কর।
আমি আমতা আমতা করে বললাম, তোকে পেত্নীর মতো লাগে।
রুহি রেগে গাল ফুলায়। তারপর আমার চুল দুহাত দিয়ে টানতে থাকে। আর বলতে থাকে, কি বললি শুওর, কুত্তা বিলাই।
আমি কিছু বলি না। শুধু হাসি। এই মেয়েটিকে আমিও ভালোবাসি। তবে ভয় পাই। আমি আমার মেয়েকেই নিয়ে বাচবো। ওর কোন সৎ মায়ের দরকার নাই।
সেদিন আমি আর দিব্যিয়ার মা রেনোভা। একসাথে বাইকে করে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ এক্সিডেন্ট হয়। তখন রেনোভা প্রেগন্যান্ট। তার শরীর থেকে রক্ত পড়ছিল। সে আমার হাত ধরে বলেছিল, প্রমিজ করো। আমি মারা গেলে তুমি আর বিয়ে করবে না। আমার মেয়েকে নিয়ে থাকবে।
আমি তখন বলেছিলাম, কিসব পাগলামি কথাবার্তা বলছো।
সেদিনের দেওয়া রেনোভার কথা আমি রেখেছি। আজ আমার মেয়ের বয়স ৪। আমি তাকে নিয়েই আছি। এখনও বিয়ে করিনি।
(সমাপ্ত)
গল্প: ৪
" ন্যাংটাবাবা "
বটগাছের নিচে আসন পেতে বসে আছে ন্যাংটাবাবা শামীম। সবাই ওনাকে ন্যাংটাবাবা ডাকে। তার কারন উনি নগ্ন ই থাকেন। সারাক্ষন শুধু ধ্যান করেন। চারুলতা গ্রামের সবাই উনাকে পছন্দ করেন। যেকোন বিপদ হলেই সবার আগে ছুটবে ন্যাংটাবাবার কাছে।
একবার এক মহিলার বাচ্চা হয় না। সেই মহিলা আসলো শামীমের কাছে। শামীম মহিলার রুপ দেখে বলল, প্রতিরাতে একবার তার ঘরে আসতে হবে। সেখানে জল চিকিৎসা হবে। মহিলাও প্রতিরাতে শামীমের ঘরে যেত। একসময় মহিলার বাচ্চা হয়। মজার ব্যাপার হলো সেই শিশু ন্যাংটাবাবার চেহারা পেয়েছে। এ যেন এক অলৌকিক ব্যপার?
২ বছর আগের কথা:
শামীম তখন বাথরুমে ঢুকে আকিজ বিড়ি খাচ্ছিল। বাথরুমের দরজা লাগাতে সে ভুলে গেছে। হঠাৎ ওর বাবা দরজা খুলে ফেলে। আর শামীম কে দেখে মনের সুখে আকিজ বিড়ি খাচ্ছে। তারপর শামীমের কলার ধরে ওকে ঘর থেকে বের করে দেয়।
শামীম হাটতে হাটতে পাহাড় নদী,নালা, পর্বত পাড়ি দিয়ে আসে এই চারুলতা গ্রামে। গ্রামে পৌছানোর পর বটগাছের নিচে একটু শুয়ে ছিল। হঠাৎ এক মহিলা তাকে দেখে প্রণাম করলো। শামীম শোয়া থেকে উঠে বসে। আর মহিলাকে আশীর্বাদ দেয়। বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর এতোদিতে শামীমের লম্বা দাড়ি গোফ হয়ে গেছে আর ওর জামা কাপড় ছিড়ে প্রায় ন্যাংটো হয়ে গিয়েছিল। তাই তাকে ওই মহিলা ন্যাংটাবাবা ভেবে প্রণাম করছিল।
তারপর ওই মহিলারা এক বাটিতে শামীমকে দুধ কলা দিত, ওই মহিলার দেখাদেখি আশে পাশের অনেকেই খাবার দিতে শুরু করলো।
এভাবেই শামীম হয়ে উঠলো ন্যাংটাবাবা।
আজ ২২টা বছর কেটে গেল।
শামীম আজও বাড়ি ফিরলো না।
(সমাপ্ত)
গল্প: ৫
" নিশিকন্যা "
রাতের বেলা ঢাকা শহরের কিছু রাস্তার পাশে নিশিকন্যা রা বসে থাকে। চমৎকার লিপস্টিক ঠোটে, শাড়ি পড়ে এরা গভীর রাতে বসে থাকে খদ্দেরের জন্য। যারা এক রাতের জন্য কিছু টাকার বিনিময়ে তাদের ভোগ করবে।
ইসহাক দাড়িয়ে আছে রাস্তায়। রাত ৩টা বাজে। বৃষ্টির ফোটা পড়ছে বলে। সে বাসায় যেতে পারছে না। সে অফিস থেকে নাইট ডিউটি করে বাসায় ফিরছে। এর মধ্যে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। তাই তাকে রাস্তার পাশে অপেক্ষা করতে হচ্ছে বৃষ্টি থামার জন্য।
ইসহাক দেখলো তার থেকে কিছু দুরে একটা কিশোরী মেয়ে বসে আছে শাড়ি পড়ে। ইসহাক জানে না, যে এটা নিশিকন্যা। নিশিকন্যা সম্পর্কে তার কোন ধারনা নেই। ইসহার এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে মেয়ে।। টার দিকে। এটা মেয়েটা বুঝতে পেরে মেয়েটা তার দিকে এগিয়ে আসছে।
মেয়েটাকে এগিয়ে আসতে দেখে ইসহাক নার্ভাস হয়ে পকেট থেকে সিগারেট বের করে ধরালো। মেয়েটা তার সামনে এসে বলল, চলো! বাসায় যাই! একরাতের জন্য।
ইসহাক মেয়েটিকে নিয়ে তার বাসায় এসেছে। ঢাকায় একটা ফ্লাট নিয়ে সে একা থাকে। ইসহাক মেয়েটিকে বসিয়ে ওয়াশরুম থেকে হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে ঘরে আসলো। মেয়েটা খাটে বসে আছে। ইসহাককে দেখে সে তার শাড়ির আচল ফেলে দিল। ইসহাক এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে। মেয়েটি এবার নিজের ব্লাউজ খুললো।
ইসহাক মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে মেয়েটার বুকের দিকে। সে অবিবাহিত। এর আগে কোন অর্ধনগ্ন মেয়ে দেখেনি সে। ইসহাক এক পা এক পা করে মেয়েটির সামনে এগিয়ে গেল। তারপর মেয়েটি চাদরের নিচ থেকে একটা ছুড়ি বের করে ইসহাকের বুকে কয়েকবার ঢুকালো আর বের করলো।
ইসাকের বুক থেকে তাজা রক্ত বের হয়ে চারিদিক লাল হয়ে গেল। আর ইসাক সেখানেই মারা গেল।
(সমাপ্ত)
গল্প: ৬
"মধ্যবিত্ত"
সানিয়া আমার দিকে কেমন যেন রাগি দৃষ্টিতে চেয়ে আছে। আমি হাসি মুখে তার পাশে বসলাম।
সানিয়া বিরক্ত হয়ে বলল, রোজ রোজ এই একই কালো শার্ট পড়ো কে তুমি?
আমি বললাম, আমার যে আর শার্ট নেই, সানিয়া।
সানিয়া এবার বড় বড় করে বলল, মিথ্যে বলছো কেন? তোমার ফেসবুকে দেখেছি আমি তোমার অনেক জামা-কাপড়।
আমি বিনয়ী হয়ে বললাম, সেগুলো আমার কাজিনদের আমি ছবি তোলার জব্য পড়ি। ছবি তোলা শেষ হলে আবার তাদের পোশাক তাদেরকে দিয়ে দেই।
সানিয়া বলল, তোমাকে না বলেছিলাম আমার জন্য ফুল আনতে। আমার গোলাপ ফুল কই?
আমি হেসে বললাম, ভুলে গেছি সানিয়া। (আসলে ভুলে যাইনি। টাকার কারনে আনতে পারিনি।)
সানিয়া বলল, পরেরবার যাতে ভুল না হয়।
আমি বললাম, আচ্ছা!
সানিয়া বলল, চলো! একটা রেস্টুরেন্ট এ গিয়ে বসি।
কথাটা শুনে আমার গলা শুকিয়ে গেল। কারন আমার পকেটে মাত্র ১০টাকা আছে। যা দিয়ে মেসে ফিরে ১টা ডিম কিনে ভেজে খাবো।
আমি বললাম, আজ না, সানিয়া। আর এমনিতেও আমার রেস্টুরেন্ট এর খাবার ভালোলাগে না।
সানিয়া বিরক্ত হয়ে গেল। সে বলল, আচ্ছা! তুমি এতো বোরিং আর ক্ষ্যাত কেন? অন্যের বয়ফ্রেন্ডরা কত স্মার্ট।
আমি মনে মনে ভাবছি যখন প্রথম সানিয়ার সাথে একটা বিয়ে বাড়িয়ে দেখা হয় আমার। তখন সানিয়াই আামাকে প্রপোজ করে। আমার কথা বলার স্ট্রাইল নাকি তাকে মুগ্ধ করেছে। আর এখন সে এসব বলছে। মানুষ বদলায়। খুব দ্রুত বদলায়।
সানিয়া আমাকে ফোনে বলল, তোমার কিসের এতো কষ্ট আমাকে বলো।
আমি কি সানিয়াকে বলতে পারি আমার অতীতের কথা। এসব সানিয়াকে বলার কোন মানে হয় না। সে কষ্ট পাবে। কিন্তু আমি তাকে কষ্ট দিতে চাই না।
তার থেকে ভালো আমি সানিয়াকে জোকস বলি। আমি বললাম, একটা সংসারে নতুন বাচ্চা জন্ম নিল। বাচ্চা যখন কথা বলতে শিখলো। তখন সে যার নাম নেয়। সেই মারা যায়। প্রথমে বলল, নানা। আর সাথে সাথে দাদা মারা গেল। তারপর বলল, মামা। আর তার মামা মারা গেল। তারপর যখন বলল, বাবা। তখন দেখা গেল পাশের বাসার এক লোক মারা গেছে।
জোকস শুনে সানিয়া হো হো করে হাসে। আমি তার মুখে সবসময় হাসি দেখতে চাই। আমি চাই সানিয়া সুখে থাকুক।
চায়ের দোকানে বসে চা আর সিগারেট একসাথে খাচ্ছিলাম। তখন সানিয়া কল দিল। আমি কল বেক করলাম। ফোনে ওপাশ থেকে সানিয়া বলল, কি করছো?
আমি বললাম, তোমার কথাই ভাবছিলাম আর তুমি কল দিয়ে দিলে। এটাকে বলে ট্যালিপ্যাথি।
সানিয়া বলল, ট্যালিপ্যাথি না কচু। কাকতালীয় ভাবে হয়তো হবে।
আমি বললাম, না। আমি এখন বলতে পারবো যে তুমি কি জামা পড়ে আছো।
সানিয়া বলল, পারলে বলো।
আমি বললাম, তুমি সাদা কালারের থ্রি-পিছ পড়ে আছো।
সানিয়া অবাক হয়ে বলল, কিভাবে বললে।
আর তখনই ফোন কেটে গেল। মধ্যবিত্তদের জন্য প্রেম ভালোবাসা একটা অপরাধ। যখন কথা বলতে ইচ্ছে করে। তখন ফোনে টাকা থাকে না।
( সমাপ্ত)
গল্প: ০৭
'সন্তানের জন্য বাবার ভালোবাসা'
অবন্তি বলল, আমি আর তোমার সাথে সংসার করতে পারবো না। তোমার বাবা সারাক্ষন আমাকে কথা শোনায়। হয়তো তুমি তোমার বাবাকে নিয়ে থাকবে। নয়তো আমাকে নিয়ে। যেকোন একটা সিলেক্ট করো।
আমি বললাম, অবন্তি! তুমি ভালো করেই জানো। এই পৃথিবীতে বাবা ছাড়া আমার আপন বলতে কেউ নেই। এই বুড়ো মানুষটাকে আমি একা ছেড়ে দেই কিভাবে? বলো!
অবন্তি বলল, আমি অনেক সহ্য করেছি আর না।
কথাটা বলে অবন্তী বাথরুমে চলে গেল। বারান্দায় বসে বাবা সব কথাই শুনছিলেন। আমাদের ঝগড়া শুনেও তিনি চুপ করে ছিলাম। আমি বারান্দায় গিয়ে বাবার পাশে দাড়ালাম।
আমি বললাম, বাবা! অবন্তি চাচ্ছে আমি যাতে তাকে নিয়ে আলাদা হয়ে যাই। এখন তোমার মতামত চাচ্ছি।
বাবা বললেন, তোর যা ভালো মনে হয় কর। আমি চাই তুই সবসময় সুখি থাক।
পরেরদিন ই আমি আর অবন্তি মিলে আলাদা বাসা ভাড়া নিলাম। প্রথম প্রথম আমাদের কেমন যেন একা একা লাগছিল। কিছু একটা নেই, কি যেন নেই।
একরাতে অবন্তী আর আমি শুয়ে আছি বিছানায়।
অবন্তী বলল, এখানে আমার সারাদিন কেমন যেন একা একা ভয় ভয় লাগে। তুমি তো অফিস থাকো আর সকালে যাও ফিরো রাতে। সারাদিন আমাকে বাসায় একা থাকতে হয়।
আমি বললাম, তুমি কি চাও? বাবাকে এখানে নিয়ে আসবো?
অবন্তী বলল, না বুড়ো মানুষকে আনার কি দরকার? এককাজ করলে কেমন হয়? তোমার খালাতো ভাই সিফাত নাকি ঢাকায় মেসে থেকে পড়াশোনা করছে। ওকে আমাদের বাসায় থাকতে দিলে কেমন হয়? এমনিতেও তো একটা রুম খালি ই থাকে।
আমি বলল, তুমি যেহেতু চাচ্ছো। তাই আমি ওর সাথে কথা বলে দেখি।
২ দিন পর সিফাত ব্যাগ কাধে ঝুলিয়ে আমাদের বাসায় আসলো। তার চোখে মুখে হাসি। সোফায় বসতে বসতে সিফাত নিজের কাধের ব্যাগ খুলে সোফার পাশে রাখলো।
আমি বললাম, মেসে থাকতে থাকতে দেখি তোর শরীর শুকিয়ে কাট হয়ে গেছে।
সিফাত বলল, আর বলো না ভাইয়া। মেসের যে নোংরা পরিবেশ আর তাদের হাত ধোয়া পানি ডাল খেতে খেতে এরকম হয়ে গেছে। অবশ্য ভাবীর হাতের রান্না খেলে আবার ঠিক হয়ে যাবে।
একদিন অফিস থেকে তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরলাম। অবন্তির জন্য রাস্তার মোড় থেকে গোলাপ ফুল কিনলাম। দরজা চাবি দিয়ে খুলতেই আমার চোখে যা দেখলাম। তাতে স্তব্দ হয়ে দাড়িয়ে গেলাম। আমার হাতের গোলাপফুলটি মেঝেতে পড়ে গেল।
সিফাত আর অবন্তী সোফায় বসে একে অপরকে চুমু খাচ্ছে। আর তাদের শরীরে কোন কাপড় নেই।
আজ চলে আসলাম বাবার কাছে। বাবা ফ্লাটে একা থাকেন। কলিংবেল টিপটেই বাবা দরজা খুলে দিলেন। দরজার সামনেই দাড়িয়ে রইলেন। কোন কথা বলছেন না। বুঝলাম অভিমান করেছেন।
আমি ঘরে ঢুকলাম। দেয়ালে আমার একটি ছবি টাঙানো। যা আগে ছিল না।
আমি বললাম, বাবা! আমার ভুল হয়ে গেছে মাফ করে দাও! আমি তোমাকে ছেড়ে বউয়ের কথায় তার সাথে চলে গিয়েছিলাম।
বাবা বললেন, আমরা সবসময় আপন মানুষ চিনতে ভুল করি। যারা আমাদের সাথে রাগারাগি করে, আমাদের শাসন করে। আমরা ভাবি তারা আমাদের শত্রু। কিন্তু আসলে আমরা বুঝি না যে, তারা আমাদের ভালো চায়।
আমি বললাম, আমার ভুল হয়ে গেছে বাবা। আমি তোমাকে মন থেকে ভালোবাসি, কিন্তু কখনও বলতে পারিনি। কারন মনের কথা আমি কখনও প্রকাশ করতে পারি না। তুমি আমাকে ছোটবেলা থেকে মানুষ করেছে। নিজে না খেয়ে আমাকে খায়িয়েছো। নিজে কখনও একটা ভালো পোষাক পড়োনি, ভালো জুতো পড়োনি। সবসময় আমার জন্য করে গেলে। এমন কি মা মারা যাওয়ার পর তুমি বিয়েও করলে না।
" আপনিও কি আপনার বাবাকে ভালোবাসেন? "
গল্প: ০৮
সোশ্যাল মিডিয়া
আনিকা টিকটক করতে পছন্দ করে। সে ভিডিও বানিয়ে খুব মজা পায়।
কিন্তু একদিন তার এক ভিডিওর কিছু দৃশ্য কেটে খুব নোংরা ভাবে উপস্থাপন করে এক ইউটিউবার। নাম: রোস্টার বিডি।
রোস্টার বিডি চ্যানেল আনিকাকে যা ইচ্ছে গালাগালি করে ভিডিও বানিয়ে ইউটিউবে ছাড়ে আর সেই ভিডিওতে অনেক ভিউজ আসে।
সকালে আনিকা যখন ইউটিউবে ঢুকে, সে দেখে তাকে নিয়ে এক ইউটিউবার বাজে মন্তব্য করে ভিডিও বানিয়ে। সেখানে কমেন্ট চেক করে দেখলো সেখানে মানুষ তাকে গালাগালি করছে।
ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর:
আনিকা বুঝতে পারলো না তার কি দোষ, একসময় রাস্তাঘাটের ছেলেরা তাকে গালি দিতে লাগলো। বাসায় আনিকা তার বাবাকে জানালে। আনিকার বাবা আনিকার গায়ে হাত তোলে।
এতে আনিকা কষ্ট পায়, আর সে আত্মহত্যা করে।
মানুষের কথা মানুষ শুনতে পারে না। কাউকে সমালোচনা করার আগে নিজেকে সমালোচনা করুন। কথা বলার আগে একবার ভেবে দেখবেন। আপনার কথায় যাতে কেউ আঘাত না পায়।
গল্প: ০৯
প্রাক্তন
সে শাড়ির আচলটা ঠিক করলো।
'আজকাল কি করছেন?'
কথাটা বলল সে।
আমি বললাম, আগের মতোই চলছে। চা সিগারেট, মজ মাস্তি।
সে বলল, সিগারেট টা না খেলে হয় না।
আমি বললাম, তুমি ভালো করেই জানো। আমি কেন সিগরেট খাই।
সে বলল, জানেন। আমার স্বামী আমাকে খুব মারে।
আমি বললাম, হ্যা। জানি।
সে বলল, আপনার কি মায়া হয় না?
আমি বললাম, একসময় হতো, এক পাথর হয়ে গেছে মন। (কথাটা বলে একটা সিগরেট ধরালাম).
সে বলল, আপনার শরীর খুব শুকিয়ে গেছে। নিজের যত্ন নিবেন। ঠিক মতো খাবার দাবার করবেন। আর চুল দাড়ি বড় রেখেছেন কেন? এগুলো কেটে ফেলবেন।
আমি বললাম, এসবের কিছুই করব না।
সে বলল, আচ্ছা। আপনার ইচ্ছা। কাউকে ভালোবাসেন?
আমি বললাম, বাসতাম একজনকে তার বিয়ে হয়ে গেছে।
সে বুঝে কথাটা তাকে ইঙ্গিত করে বলা। তবুও সে বলে, বিয়ে টিয়ে করছেন না কেন?
আমি বললাম, এমন কাউকে পাইনি। যাকে দেখলে মনে হবে এর হাত ধরে সারাজীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়।
কথাটা বলে হাটতে লাগলাম রাস্তায়। পাগলের মতো হাটা। পাগলরা কখনও পেছনে তাকায় না। তাকালে দেখতে পেত মেয়েটার চোখে অশ্রু।
( সমাপ্ত)
গল্প: ১০
নষ্টনীড়
আজ ১৫ বছর পর রাহুল বলল, বাবা তুমি নাকি আমাকে দত্তক নিয়েছিলে। তার মানে আমি তোমার সন্তান না।
আবির হোসেন তার চমশা ঠিক করলেন। টেনসনে থাকলে তিনি বার বার চশমায় হাত রাখেন এটা তার অভ্যাস।
আবির হোসেনকে চুপ করা দেখে রাহুল আবারো বলল, তাহলে আমার আসল পিতা মাতা কে?
আবির হোসেনের সামনে ভেসে উঠলো কিছু অতীতের স্মৃতি বৃষ্টি পড়ছে মেয়েটা তাকে ডাকছে। সেও দৌড়ে নেমে পড়লো বৃষ্টিতে তারপর থেকে প্রেম। মেয়েটা ছিল তার ফুপাতো ভাইয়ের বান্ধবী। বিন্দাস, ফুর্তিবাজ মেয়ে, সিগারেট খায় আর তার অনেক ছেলেবন্ধু। এমন মেয়েদের আবির দুঃচক্ষে দেখতে পারতো না। কিন্তু রিয়ার সাথে পরিচয় হয়ে তার ধারনা পাল্টে গিয়েছিল। সিগারেট খেলেই কেউ খারাপ হয় না।
সেদিন প্রথমবার আবির তার ফুপাতো ভাইয়ের সাথে ঘুরতে গিয়েছিল। সেখানে রিয়াও আসে। এভাবেই তাদের পরিচয়। তারপর বৃষ্টিতে একসাথে ভেজা, হাত ধরে হাটা, একরাতে খুব ঝড় হচ্ছিল। সেদিন আবির রিয়াকে তার বাসায় থেকে যেতে বলল, রিয়াও রাজি হলো। তখন কেউ ছিল না বাসায়। তারা দুজন মিলিত হলো। আর তার কয়েক মাস পর রিয়া জানালো সে প্রেগন্যান্ট।
আবির তখনও পড়াশোনা শেষ করেনি। মাত্র ভার্সিটিতে উঠেছে। সে বলল, আমি এই বাচ্চার দ্বায়িত্ব নিতে পারব না। তুমি এভোর্সন করাও। যত টাকা লাগে আমি দিব।
রিয়া চাইছিল না এভোর্সন করাতে। শেষে বাচ্চা ডেলিভারি হয়, আর অল্পবয়সে মা হয়েও নিজের ছেলের মুখ দেখতে পারে না রিয়া। তার আগেই পৃথিবী ছেড়ে যায় আর রেখে যায় একটা চিঠি। যেখানে লেখা প্রমিজ করো আমার কিছু হলে তুমি আমার ছেলেকে দেখে রাখবে।
বাচ্চা হয়েছে তা জানতো না আবির। তার ফুপাতো ভাই বলায় জানতে পারে। তারপর নিজের বাচ্চাকে কোলে নিয়ে বাসায় আসে আর বলে এটা সে দত্তক নিয়েছে তার মা মারা গেছে।
আজ ১৫ বছর পর কি সে তার ছেলে রাহুলকে সত্য কথা জানাবে? যে রাহুল তার ই আপন ছেলে? তার ই পাপের ফল সে।
গল্প: ১১
আদর্শ বাবা
"আব্বা! ৫০টাকা দাও!"
কথাটা বলেই মাথা নিচু করে ফেলল ছেলেটা | (মনে মনে ভাবছে, না দিলে খুব লজ্জা পাবে সে | আজ সে তার বাবাকে ১টা প্রশ্ন করবে বলে ভেবে রেখেছে) |
তার বাবা দাড়িয়ে আছেন তাকিয়ে আছেন ছেলের দিকে , ছেলের বয়স ১০, মাদ্রাসায় পড়ে, এবার রোল ১ হয়েছে | খুবই লাজুক ছেলে |
তার বাবা পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করে ১০০ টাকার ১টা নোট দিল |
ছেলেটা খুশি মনে টাকা টা নিল | আর অনেক সংকোচবোধ করে প্রশ্নটা করে ফেলল," আচ্ছা! বাবা ! আমি কখনো টাকা চাইলে তুমি না করো না | এমনকি ধমক ও দেও না | আমি দেখেছি অননান্য বাবারা টাকা চাইলে বাহানা দেখায় বা বলে, "টাকা কী গাছে ধরে" | কিন্তু তুমি আমাকে কখনো এসব বলো না |
বাবাটা চেয়ে আছে তার ছেলের দিকে | এটুকু ছেলে কত গুছিয়ে কথাগুলো বলল | খানিক্ষন গম্ভীর হয়ে কথাগুলো শুনলেন তিনি | তারপর হাসি মুখে বললেন, তুমি যদি আমার কাছে টাকার বদলে ভালোবাসা চাইতে, তবে আমি দিতে পারতাম না, টাকা দেওয়া খুব সহজ | কিন্তু ভালোবাসা দেওয়া আমার কাছে কঠিন | আমি ছোটবেলায় অবহেলায় বড় হয়েছি | তাই আমি চাই না | আমার বাল্যকাল , শৈশব আমার মতো করে কাটুক | আমার বাবা ছিলেন অন্যরকম মানুষ | টাকা চাইলে দিতেন না , ধমক দিতেন, বলতেন টাকা নাই | তখন আমার খুব মন খারাপ লাগলো | আমি লক্ষ্য করেছি তার কাছে টাকা চাইলেও তিনি দিতেন না |
"ভালোবাসা টাকার চাইতেও মূল্যবান, যা আমরা কেউ চাই না, সবাই তুচ্ছ টাকার পেছনে ঘুরি, আর পরে থাকি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশায়"
গল্প' ১২
হুজুরের সাথে প্রেম
সুমাইয়া যে মাদ্রাসায় পড়তো, সেখানের এক হুজুরকে তার ভালোলাগে। কিন্তু সুমাইয়া লাজুক স্বভাবের তাই কিছু বলতে পারে না।
হুজুরটা মাদ্রাসায় নতুন এসেছে, বয়স কম। বিয়ে করেনি। চাপ দাড়ি রেখেছেন। কথা বার্তা বলেন নিচু স্বরে। আচার ব্যবহার খুব ভালো।
হুজুরটা তখন গাছের ডাল দিয়ে মেশওয়াক করছিল। তখন সুমাইয়া হুজুরের সামনে আসলো।
সুমাইয়া: হুজুর আমি আপনাকে একটা কথা বলতে চাই।
হুজুর: হ্যা। বলো।
সুমাইয়া: আমি আপনাকে ভালোবাসি।
হুজুরের হাত থেকে গাছের ডালটি পড়ে গেল মাটিতে। তার মনে সুরা ইউসুফের একটি আয়াত বাজতে লাগতো।
'নি:শ্চই মেয়েরা ছলনাময়ী'.
হুজুর নিজেকে সামলে নিলেন। তারপর শান্ত গলায় বললেন, দেখো সুমাইয়া। প্রেম ভালোবাসা বিয়ে আগে হারাম। আর তুমি যেহেতু আমাকে পছন্দ করো। তাই আমি তোমার বাবার সাথে কথা বলবো।
সুমাইয়া চলে গেল। বিকেলবেলা চায়ের দোকানে সুমাইয়ার বাবা চা খাচ্ছিলেন। ওনার নাম সোবহান মিয়া। হুজুর সোবহান মিয়ার দিকে এগিয়ে গেলেন।
হুজুর: আসসালামু আলাইকুম।
সোবহান: ওয়ালাইকুম সালাম, হুজুর। বসুন। ওই একটা চা দে হুজুর রে। তা হুজুর। সুমাইয়ার পড়াশোনা কেমন চলছে?
হুজুর: আমি আসলে আপনাকে অন্য একটা কথা বলতে আসছিলাম।
সোবহান: জ্বী। বলুন।
হুজুর: আপনার মেয়েকে আমি বিয়ে করতে চাই।
সোবহান: সে কি আপনাকে কিছু বলেছে?
হুজুর: হ্যা। বলেছে।
সোবহান মিয়া দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেললেন। বাসায় ফিরে তিনি সুমাইয়ার গালে চড় থাপ্পড় মারলেন।
সোবহান মিয়া সুমাইয়ার ভাইকে বলল, ওই হুজুরের কত বড় সাহস আমার মেয়ের সাথে প্রেম করে। যা ওকে গ্রাম থেকে মারতে মারতে তাড়িয়ে দে।
হুজুর বসে ছিলেন গাছের নিচে। হঠাৎ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওনাকে সবাই মারতে শুরু করলো। আর ওনার নামে বদনাম সরিয়ে দিল। এই হুজুর লুইচ্চা। হুজুর তখন মনে মনে বলল, আমার আল্লাহ জানে আমি কি।
উনাকে সবাই ইট পাথর মারতে লাগলো। একসময় উনি মাটিতে পড়ে যান আর উনার সারা শরীর থেকে রক্ত বের হয়ে উনি মারা যান।
(সমাপ্ত)
গল্প: ১৩
একটি গোলাপের পাপড়ি
একটা কিশোরী মেয়ে সবসময় আসতো বুড়ো হাকিম মিয়ার ঘরে। কিশোরী মেয়েটির নাম ছিল আদিবা।
হাকিম মিয়া ভাবতো এই পাশের বাড়ির মেয়েটি কেন তার বাসায় প্রতিদিন আসে? তাহলে কি তাকে পছন্দ করে? ভালোবাসে প্রেম করতে চায়?
হাকিম মিয়া আদিবার দিকে তাকায়। ভালো করে তার শরীর লক্ষ্য করে। মেয়েটির বয়স ১৫/১৬ হবে। এই বয়সের মেয়েদের মনে থাকে একধরনের ভয়, শারীরিক চাওয়া ও ভালোবাসা।
হাকিম মিয়া দীর্ঘ ৫০ বছর কাটিয়ে দিলেন বিয়ে না করে। একটি মেয়েকে ভালোবাসতেন, মেয়েটির অন্য জায়গায় বিয়ে হওয়ার তিনি আর বিয়ে করেননি।
আজ দুপুরবেলা চা হাতে আদিবা আসলো তার রুমে। তখন হাকিম মিয়া শুয়ে ছিলেন। তিনি উঠে বসলেন। তার পাশে বসলো আদিবা।
আদিবা: চাচা। আপনার জন্য চা নিয়ে আসলাম।
হাকিম মিয়া চা নেওয়ার সময় আদিবার হাত চেপে ধরে। আদিবা হাসলো। হাকিম মিয়া চায়ে চুমুক দিলেন।
হাকিম মিয়া: তুমি কি কাউকে ভালোবাসো আদিবা?
আদিবা: হ্যা। চাচা। একজনকে বাসি। তবে আমার ভয় হয়।
হাকিম মিয়া এবার চা শেষ করে পাশের টেবিলে রাখলেন। তারপর উনি নিজের মনে সাহস জোগাড় করলেন। আর নিষিদ্ধ কাজটা করলেন। তিনি আদিবার বুকে হাত দিলেন।
আদিবা কেদে ফেলল। সে কাদতে কাদতে বলল, চাচা। আমি আপনার এখানে এসব করতে আসতাম না। আমার বাবা মারা গেছে ৫বছর আগে, আপনার চেহারা চালচলন আমার বাবার মতো। তাই আমি প্রতিদিন আপনার এখানে আসতাম।
কথাটা বলে আদিবা ঘর থেকে কাদতে কাদতে বেরিয়ে যায়। আর হাকিম মিয়া নিজের ভুল বুঝতে পারে। উনার মনে তীব্র দুঃখবোধ হয়। তিনি বুঝতে পারেন নিজের ভুল আর ভাবেন আদিবার কাছে তিনি ক্ষমা চাইবেন।
(সমাপ্ত)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন