সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কিপটা বয়ফ্রেন্ড / চরম হাসির গল্প/ রুদ্র সিয়াম

আমি: আচ্ছা। তুমি ই রিক্সাভাড়া দাও সমস্যা নাই। একজন দিলেই হলো। আমি তো ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ভুলে মানি ব্যাগ রেখে আসছি। আমার আবার কিছু মনে থাকে না। যাক আংটি টা পকেটে ভড়েছিলাম। না হলে সেটাও ভুলে রেখে চলে আসতাম। তুমি আবার ভাইবো যে আমি কিপটা।


রুহি তার হ্যন্ডব্যাগ থেকে রিক্সাওয়ালেকে ভাড়া দিল। আমরা একটি পার্কে এসেছি। তারপর পার্কের একটা বেন্চে বসলাম।


আমি: রুহি বাদাম খাবা। না থাক। আজকাল বাদামের যে দাম। আমি ছোটবেলায় দুই টাকার বাদাম কিনতাম। এত্তোগুলা বাদাম দিত তখন আর এখন ১০ টাকার বাদাম খেলেও পেট ভড়ে না।


রুহি: (বিরক্ত হয়ে) আচ্ছা। দাড়াও। বুঝতে পারসি তুমি বাদাম খাবে। এই মামা। ২০টাকার বাদাম দিও তো। 


বাদামের খোসা ছাড়িয়ে নিজে খাচ্ছি আবার রুহিকেও খাইয়ে দিচ্ছি।


রুহি: তুমি নাকি আমার জন্য আংটি এনেছো কই দেখি তো। কিরকম আংটি।


আমি: গুলিস্তান থেকে আসছিলাম দেখি রাস্তার পাশে আংটি বিক্রি করতেছে। তারপর আর কী? দামাদামি করে ২০ টাকা দিয়ে ২টা আংটি কিনেছি। চোরাইমাল মনে হয়। না হলে ২০ টাকায় ২টা আংটি দিত না। দাও তোমার হাত বাড়িয়ে দাও আমি আংটি পড়িয়ে দেই।


রুহি হাত বাড়িয়ে দিল। আমি আংটি পড়িয়ে দিলাম। এবার আমার হাতে রুহি আংটি পড়িয়ে দিল।


রুহি: (মনে মনে) এই কিপটা বয়ফ্রেন্ড নিয়ে আর পারলাম না। কি আর করব? এমনিতেও ছেলেরা আমাকে পাট্টা দেয় না। যাও একটা বয়ফ্রেন্ড পাইসি। তাও কিপটা। আমি কত কষ্টে টিফিনের টাকা জমিয়ে এখানে ডেটে আসছি। তাও এই কিপ্টায় আমার টাকা ভাঙ্গে।


আমি: বুঝলা রুহি। বিয়ের পর আমি ২ টা বাড়ি কিনবো। তারপর সেখানে তোমাকে মহারানীর মতো করে রাখবো। তোমার কোন টেনসন ই থাকবে না। তোমার কাপড় চোপড় রান্না বান্না কিছু করতে হবে না। একটা কাজের বুয়া রাখবো সেই সব কাজ করে দিবে। তুমি শুধু ৩ বেলা ভাত খাবে আর টিকটক করবা। কোন প্যরা নিবে না।


রুহি: (মনে মনে) আইসে বাদাম খাওয়ানোর টাকা নাই। উনি আবার দুইটা ফ্লাট কিনবে। এজন্মে আমি এমন কিপটা মানুষ দেখিনি। এর সাথে আর দুইদিন টাইমপাশ করে ব্রেকআপ করে ফেলবো।


এরকম সময় একটা ভিক্ষুক এসে ভিক্ষা চাইতে লাগলো। 


আমি: উফ। খালা। আমার নিজের কাছে সিগারেট খাওয়ার টাকা নাই। আপনাকে ভিক্ষা দিব কিভাবে?


রুহি: আচ্ছা। আমি দিচ্ছি তোমাকে দিতে হবে না।


রুহি তার হ্যন্ডব্যাগ থেকে ২০টাকা বের করে দিল৷ 


রুহি: তোমার কাছে তো চা সিগারেট খাওয়ার ও টাকা নাই। আচ্ছা আমি তোমাকে কিছু টাকা দেই। 


আমি: ওকে দাও। এমন গার্লফ্রেন্ড সবার থাকা উচিত। ধার হিসেবে নিচ্ছি। পরে আবার ফেরত দিয়ে দিব। আমি আবার কারো বেশিদিন ঋণী থাকি না।


রুহি: আচ্ছা। চলো এখন কোচিংয়ের সময় শেষ বাসায় যেতে হবে। আম্মু দেরী করলে মারবে আমাকে। 


আমি: মাত্রই তো আসলাম। এখনই আবার চলে যাব। এটা কোন কথা বললা তুমি। মন টাই খারাপ করে দিলে। দূর। ভালোলাগে না।


রুহি: বুঝো না কেন? আম্মু অসুস্থ। আম্মুকে নিয়ে হাসপাতালে যেতে হবে।


আমি: আচ্ছা চলো উঠি এখন। 


একটা রিক্সা থামিয়ে উঠে পড়লাম আমি আর রুহি। রিক্সা চলছে। আমি রুহির হাত আমার বুকের ওপর রাখলাম। রুহি বিরক্ত হয়ে মুখ সড়িয়ে ফেলল।


আমি: বুঝলা রুহি। আমি আসলে বাপের টাকা দিয়ে ফুটানি করি না। আব্বু বলছে প্রেম করলে বা বন্ধুদের সাথে ঘুরাঘুরির টাকা সে দিবে না। এগুলো নিজেকে কামাই করে নিতে হবে। আর আমি তো বেকার যখন কামাই করবো। তখন তোমার পেছনে টাকা খরচ করবো। আর টাকা আজ আছে কাল নেই। কিন্তু আমি চিরকাল তোমার পাশে আছি। ও মনে পড়ছে তোমার না আমাকে সিগারেট খাওয়ার টাকা দিবে বলছিলা। দাও।


রুহি হ্যন্ডব্যাগ থেকে ৫০০ টাকা বের করে দিল। আমি টাকাটা নিয়ে চুমু খেলাম। 


আমি: কি যে বড় উপকার করলা। কি যে ভালো লাগছে। এখন এই টাকা দিয়ে সিগারেট খাব।


রুহি: তোমাকে না বলছি সিগারেট টা ছেড়ে দাও। এসব না খেলে হয় না তোমার? আর তোমার না পেটে আলসার। এসব খাও বলেই তো হয়েছে। ভাত ঠিকমতো খাও না। ভাত ফেলে দাও ডাস্টবিনে।


এখন রুহিকে কিভাবে বলি যে আমি কি কিপটা আমার ঘরে আব্বু  আমার থেকেও বেশি কিপটা। নিজের ঘরের কাহিনী একটু পরে বলছি।


রিক্সা এসে পড়লো রুহির বাড়ির সামনে।  রুহি নেমে পড়লো।


আমি: রুহি ভাড়াটা দিয়ে গেলে ভালো হতো। আমার কাছে তো ভাঙতি নেই। 


রুহি কথা বলল না। শুধু ভাড়াটা দিয়ে দিল। রিক্সা নিয়ে বাসায় ফিরলাম। সন্ধা হয়ে গেছে। 


ঘরে ঢুকে দেখি আম্মু পরোটা বানাচ্ছে আর আব্বু চা খাচ্ছে।


আমি আব্বুর পাশে বসলাম সোফায়।


আমি: আম্মু আমাকেও এককাপ চা দিও তো।


আব্বু: পোলাপান এই বয়সে এতো কিসের চা খাওয়া। বেশি চা খেলে কষা হয়। পেট ব্যথা হয়। আয়ানের মা তুমি ওরে চা দিও না। আমি আমার চাপের অর্ধেক চা ওকে দিব। 


আমি: এখনও কি আমি পোলাপান যে তোমার মুখের চা খাবো। বুঝো না কেন? আমি বড় হইসি। দুইদিন পর বিয়ে করব।


আব্বু: ( রেগে) কি করবি তুই? বিয়া? ওই শোনো তোমার পোলায় কি কয়। ওই নাকি বিয়া করবো। নিজে ভাত খাইতে পারে না আবার অন্যমেয়েকে খাওয়াবে। শুন তোর খরচ ই তো দিতে পারি না। আবার তোর বউকে কি আমরা খাওয়াবো।


আমি: আরে। আমি বিয়া করুম না ভাই। মাফ চাই। 


আব্বু: শোন। কালকে তোকে বাজারে পাঠাবো। কি কি আনবো একটু লিস্ট টা করে দে। 


আমি খাতা কলম নিয়ে রেডি হলাম লিখতে। 


আব্বু: লেখ। ২০০ গ্রাম আলু, ৫টাকার কাচা মরিচ, ২টা আদা, একটা রসুন, ৩টা আলু, ২ টাকার অর্ধেক পান।


আমি: উফ। আব্বু আজকাল গরীবরাও এতো কম বাজার করে না আর এদিকে আমাদের ১০ তলা বাড়ি থাকতে তুমি কেন এতো কিপটামি করো। ভাড়াটিয়ারা আমাদের থেকে ভালো খায়।


আব্বু: শোন, তোর দাদায় তো সব খেয়ে খুয়ে শেষ করে গেছে। আমি সে ভুল করিনি। কিপটামি না করলে এতো বড়লোক হতে পারতাম না। সব টাকা যদি খেয়েই শেষ করে ফেলি। তাহলে জমাবো কী? তোর একটা ভবিষ্যত আছে না।


আমি: আমার আবার কিসের ভবিষ্যত? আমি তো তোমার টাকায় আজীবন বসে বসে খাব । একটা বিয়ে করে নিবো। আমি আর বউ। উফ। ভাবতেই ভালোলাগে।


আব্বু: আয়ানের মা জুতা টা কই একটু নিয়া আসো তো। তোমার ছেলে আবার বিয়া করতে চায়। দুই টাকা কামাইতে পারে না। বাপের হোটেলে খায় আর ঘুরে বেড়ায়। 


আমি: হইসে আর খোটা দিও না। অন্যের বাপেরা তাদের ছেলেদের বাইক, আইফোন কিনে দেয়। তুমি সেখানে আমাকে একটা বাংলা সাইকেল কিনে দিয়েছো আর আমার ফোন টাও ভাঙ্গা। এভাবে আর চলে না।


আব্বু: তোকে তো তাও টাচ ফোন কিনে দিয়েছি। আমার টা দেখ বাটন ফোন চালাই। কল আসে ব্যবসার কল ধরি। তারপর রেখে দেই। তোর মতো না সারাদিন ফেসবুকে সময় নষ্ট করি না।


আমি: হইসে আর বদনাম করতে হবে না। এখন আমাকে কিছু টাকা দাও হাত খরচের।


আব্বু: এই নে ২০ টাকা। এটা দিয়ে ২০ দিন চলবি। এর আগে আর কোন টাকা চাবি না।


আমি পুরো আবুল হয়ে গেলাম।


আমি: আব্বু। এটা ২০২৩ সাল। এই যুগে তো ২০ টাকার কোন দাম ই নাই। একটা বেনসন সিগারেট এর দাম ই ১৬ টাকা। সেখানে তুমি কিভাবে ২০ টাকা দাও আমাকে।


আব্বু: তুই কি সিগারেট খাস? আচ্ছা। খাইলে খেতে পারিস। তবে আকিজ বিড়ি খাবি এক প্যকেটের দাম বিশ টাকা। এখন যা পড়তে বস।


রাতে ভাত খেতে বসেছি খাবারের টেবিলে। দেখি আলু ভর্তা আর ডাল রান্না হয়েছে। এর মধ্যে আমাকে মেপে ভাত দেওয়া হলো।


আমি: এতো কম ভাত দিয়েছো কেন আমাকে। আমি কি ডায়েট করি।


আব্বু: চাল এর যে কেজি। আমাদের হিসেব করে চলবে হবে। সব খেয়ে ফেললে তো হবে না। জীবনে হিসেব করে চলবি তো কিছু করতে পারবি। তুই তো কোন কাজ ও করিস না। যে তোকে বেশি ভাত খেতে হবে।


আমি: আর কিছু বলার আছে। জীবনটা পুরো কমেডি মুভি হয়ে গেছে কোন ভাত ই খাবো না আমি।


আব্বু: যাক। ভালোই হলো ভাত গুলো বেচে গেল। সকালে পানি দিয়ে ভাতে পান্তা ভাত বানিয়ে খেয়ে ফেলবো সাথে পেয়াজ ও থাকবে। সকালবেলা পান্তা ভাত খেলে পেট ঠান্ডা থাকে। বুঝলি আয়ান।


আমি: কোন ফ্যমিলি তে আমি আছি। আমাকে উঠায় নেও আল্লাহ। 


আব্বু: কিছু কইলি তুই?


আমি: না কিছু বলিনি। আমি ঘুমাতে গেলাম। 


বিছানায় শুয়ে ঘুমাচ্ছি। হঠাৎ আব্বু এসে ফ্যান বন্ধ করে দিল।


আমি: কি ব্যপার ফ্যান বন্ধ করলে কেন এই গরমে? এতো গরমে কি ফ্যান ছাড়া ঘুমানো যায়।


আব্বু: জানালাটা খুলে রাখ। দেখ জানালা দিয়ে কি সুন্দর হিমালয়ের বাতাস আসতেছে। এর মধ্যে ফ্যান ছাড়ার দরকার নাই। তাও যদি মশায় কামড় দেয় তোকে তাহলে একটু মশার কয়েল ভেঙ্গে ধরিয়ে নিস। আবার পুরো মশার কয়েল ধরাস না। কেমন? আমি যাই তাহলে ঘুমা।


সকালে ঘুম ভাঙলো রুহির ফোনের শব্দে।


রুহি: (কাদো কাদো) আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলছে। এখন তুমি যদি আমাকে বিয়ে না করো। পাত্রপক্ষ আসতেছে দেখে পছন্দ হলে বিয়ে দিয়ে দিবে।


আমি: এটা অসম্ভব। আমরা আজ ৩ দিন ধরে প্রেম করছি। তুমি আমাকে এভাবে ধোঁকা দিতে পারো না। আমি তোমাকে ছাড়া বাচবো না। দরকার হলে নিজের বাবা মাকে নিয়ে আসবো তোমার বাসায় তোমাকে দেখতে।


রুহি: সত্যি আসবা? তাহলে আমি রেডি থাকি। তুমি আজকেই আসো। আমি আমার পরিবারকে বলে রাখি।


আমি: এতো তাড়াতাড়ি কিভাবে মেনেজ করবো বলো?


রুহি: এগুলো তোমার ব্যপার। আমি সাঝ গোজ করি। তুমি আসবে কিন্তু।


রুহি ফোন কেটে দিল। এমন সময় আব্বু এসে পাশে বসলো।


আমি: আব্বু। আমি বিয়ে করতে চাই।


আব্বু: বিয়ে করবি কর। কোন সমস্যা নাই। আমার ফ্যক্টরীতে তোকে একটা জব দিয়ে দিব।


আমি: তোমার ফ্যক্টরী মানে আমার ফ্যক্টরী। তুমি মাহাজন হলে আমি মাহাজনের ছেলে। সেখানকার বস।


আব্বু: কাজ করে ভাত খা। তোর দাদা কুড়ে ছিল বলেই কিছু করতে পারে নি জীবনে। আমি চাই না তুই তার মতো হ।


বিকেলবেলা রিক্সা নিয়ে চলে আসলাম আব্বু, আম্মুকে নিয়ে রুহিদের বাসায় মেয়ে দেখতে। পুরো খালি হাতে আসছি। কারন আমার বাবা জানেন ই কেমন মহান। রুহিকে আর আমাকে কথা বলার জন্য একটা আলাদা রুমে নিয়ে যাওয়া হলো।


আমি: তুমি কি সিওর আমাদের ফ্যমিলিতে বিয়ে করবা?


রুহি: দেখো আমার বিয়ে করার কোন ইচ্ছে নেই। বাপের বাড়িতে বোজা হয়ে গেছি। সবাই বলে শশুর বাড়িতে নাকি সুখ। এজন্য বিয়ে করছি।


আমি: আচ্ছা। তোমার ইচ্ছা।


রুহিকে দেখে আমার বাবা মায়ের পছন্দ হলো। শেষে রুহির হাতে ৫০ টাকা ধরিয়ে দিল। তারপর বিয়ে পাকাপাকি হলো।  আব্বু একটা লম্বা ভাষন দিল।


আব্বু: দেখুন আপনার মেয়ে যেমন মাশাআল্লাহ ভালো। আমার ছেলেও ভালো। একটা সিগরেট ও খায় না। খুব আদরের ছেলে। আমরা যৌতুক হিসেবে বেশি কিছু চাই না। শুধু ৫ লাখ টাকা আর আমার পোলার আবার বাইকের শখ। ওরে একটা বাইক কিনে দিতে হবে। আর বর পক্ষ থেকে ১০০ জন যাবে। কিন্তু কনে পক্ষে  হতে ২ জন পাঠাইয়েন। বিয়েতে আমরা কোন আয়োজন করব না। আমার আমার এসব হাউ কাউ ভালো লাগে না। হার্টের রুগি তো তাই। দেখেন আমরা বেশি কিছু খাওয়াতে পারব না আমরা গরীব।  বিয়েতে আপনি আর আপনার বউ আইসেন। আলু ভর্তা ডাল ভাত খেয়ে যাবেন।


তারপর রিক্সা দিয়ে বাসায় চলে আসলাম। আমি আব্বু সোফায় বসে আছি।


আমি: আব্বু বিয়ে করবো বন্ধু বান্ধবদের দাওয়াত করবো না তা কি হয়?


আব্বু: তোদের বন্ধুরা খালি ফাউ খাইতে চায়। ওদের একটাকেও যাতে না দেখি। আমরা ধার্মিক ভাবে বিয়ে দিব তোমাকে। অবশ্য আমি নামায ও পড়ি না এক ওয়াক্ত। 


এরকম সময় রুহি কল করলো আমাকে। আমি আমার ঘরে চলে আসলাম।


রুহি: তোমরা এতো কিপটা কেন? তোমার আব্বু আমাকে দেখে মাত্র ৫০ টাকা দিয়েছে। কেউ কি বউ দেখতে আসলে ৫০ টাকা দেয়।


আমি: তোমাকে তো তাও ৫০ টাকা দিয়েছে। আমাকে তো মাত্র ২০ টাকা দেয় প্রতিদিন।  আবার বলেছে বিয়ের পান্জাবী কিনার দরকার নেই। ঈদের পান্জাবি পড়তে বলছে আমাকে। এখন অবস্থা একবার খেয়াল করো।


রুহি: তোমাদের বাপ বেটার কিপটামি আমি শেষ করতেছি। একবার আসি তোমার বাড়ির বউ হয়ে তারপর সব গুলোকে সায়েস্তা করবো। 


আমি: তখনের টা তখন দেখা যাবে।


রাতে ভাত খাওয়ার সময় আব্বুর সাথে আবারো কথা হলো।


আমি: আচ্ছা। আব্বু বিয়ে বাড়িতে তো মানুষ প্রাইভেট কার নিয়ে যায়। তো তুমি কি কোন গাড়ি ভাড়া করেছো। প্রাইভেট কার না হোক, ঘোড়ার গাড়ি হলেও চলবে।


আব্বা: এসব কিছুই হবে না। রিক্সা দিয়ে বউ আনতে যাবি। রিক্সা তে ফিরবি। আমি যখন তোর মাকে বিয়ে করেছি। আমি তো হেটে ৫ কিলোমিটার গেছি তারপর হেটেই তোর মাকে নিয়ে আসি।


আমি: ওই যুগ এখন নাই।  এটা ২০২৩ সাল৷ এখনকার যুগে মানুষ কত আপডেট তুমি জানো।


আব্বু: শোন। ফকিন্নিদের ফুটানি থাকে বেশি। আমরা বড়লোক আমাদের ফুটানি করার দরকার নেই।


আমি: আর কত ডায়লগ যে শুনতে হবে তোমার কাছে।


ফাইনালি বিয়ের দিন চলে আসলো। শেষে বন্ধু শামীম পান্জাবি গিফট করেছিল। না হলে মান সম্মান শেষ হয়ে যেত। আবার এদিকে সত্যি সত্যি ই রিক্সাতে করে বউ আনতে যাচ্ছি। কপাল আমার। 


আমাদের ১৪ গুষ্টি বউ বাড়িতে খেয়ে। বউ নিয়ে চলে আসলাম বাসায়। এসে দেখি বাসর ঘর যা সাজানো হয়েছে। মাশআল্লাহ। রুহিকে নিয়ে বাসর ঘরে ঢুকলাম।


রুহি: এটা আবার কেমন বাসর ঘর। বিছানায় কোন ফুল নেই। কোথায়ও কোন ফুল নেই। কেমন যেন শুধু ফুলের গন্ধ আসছে কোন ফুল নেই কেন?


আমি: এসব আব্বুর ই কাজ ফুলের সেন্ট গিয়ে কাজ চালিয়ে দিয়েছে। কি আর করবো। একটু পর দেখবা কারেন্ট ও চলে গেছে। মিটারে দেখেছিলাম ৫০ টাকার মতো আছে। কারেন্ট চলে গেলে আজ রাতে আর আব্বু কারেন্ট বিল ভড়বে না। 


রুহি: কি বলো এসব। কার সাথে বিয়ে করলাম আমি। তোমার সাথে বিয়ে করাই ভুল হয়েছে। গরীব রাও তোমাদের থেকে কম কিপটা আর তোমাদের থেকেও বেশি খরচ করে।


আমি: কি আর করবা হয়তো আমরা হতদরিদ্র। 


এমন সময় কারেন্ট চলে গেল আর রুহি আমাকে ভয়ে জড়িয়ে ধরলো। আমি কোন মতে একটা মোমবাতি ধরালাম। একটু পর এসে আব্বু মোম বাতি ফু দিয়ে নিভিয়ে দিলেন।


আব্বু: আকাশে দেখ কি সুন্দর চাদ উঠেছে। চারিদিকে জোসনার আলো। এখানে মোমবাতির কোন দরকার নেই। একটা মোমের দাম ৫ টাকা। এই ৫ টাকা আসে কোথাথেকে। আমি মোমটা নিয়ে যাই।


রুহি: আংকেল আপনি প্লিজ মোমবাতি টা রেখে যান। দরকার হলে আমি আপনাকে ৫ টাকা দিয়ে দিচ্ছি।


আব্বু: আচ্ছা। তুমি দাও ৫ টাকা দাও। তুমি টাকা দিলে আর মোম নিবো না।


রুহি টাকা বের করে দিল। আব্বুও নিয়ে চলে গেল। 


রুহি: ( রেগে) তোমাদের ফ্যমিলি তে মনে হয় সবাই জোকার। সবাই ই মজা করতেছে। কারো ভেতর কোন সিরিয়াস নেই। মনে হয় আমার জীবনটা কোন ফানি গল্প হয়ে গেছে। 


আমি: কি আর করবা। একটু মানিয়ে নাও প্লিজ।


রুহি: আমার পরিবার তোমার পরিবারের একদম উল্টো। আমাদের ওখানে ছোটবেলা থেকে দু হাতে টাকা উড়াই। আমার আব্বু বিদেশ থেকে সব দামী দামী জিনিস পাঠায়। তুমি দেখলে অবাক হবে।


আমি: আমরাও দামী জিনিস ইউজ করি।


রুহি: হইসে চাপা মারতে হবে না। আমি তোমার আব্বুকে দেখেছি একদিন ফুটপাত থেকে সস্তায় ৫ টা গেন্জি কিনলেন।


আমি: দেখো আমরা আসলে কিপটা না। আমরা সন্চয় করি। যাতে ভবিষ্যতে এটা কাজে লাগে। বুঝো না কেন?


রুহি: (রেগে) এতো সন্চয় করে কি হবে? মারা গেলে কি কবরে নিয়ে যাবেন উনি।


আমি: বুঝতে পারছি তুমি রেগে আছো। আজ আমাদের বাসর রাত। এই রাতটা আমি চিরকাল মনে রাখতে চাই। আমি তোমার জন্য ফুল এনেছি আমার পকেটে।


রুহি: (খুশি হয়ে) দেখি কি ফুল এনেছো? 


আমি একটা কাগজের বানানো গোলাপফুল বের করে রুহিকে দিলাম।


রুহি: (হেসে) এই ফুল নিয়েও কিপটামি। আমাকে বললেই হতো আমি নিজের তোমাকে টাকা দিতাম আমাকে ফুল কিনে দেওয়ার জন্য।


আমি: দেখো ফুলটা কাগজের হতে পারে। কিন্তু ফিলিংসটা তো আছে বাস্তব। ফুল কাগজের হোক কিংবা রিয়েল। সেটা কোন ম্যাটার না। কে ফুলটা দিল। সেটা ম্যটার করে। মানুষ টা স্পেশ্যাল কি না আর স্পেশ্যাল মানুষরা সবসময় স্পেশাল গিফট দেয়।


রুহি খুশি হয়ে আমার গালে একটা চুমু দিল। এময় একটা পলিথিনের প্যকেট কে যেন আমার মুখে ছুড়ে মারলো। তারপর..


আব্বু: এটা ব্যবহার কর। আমি চাই না তোরা এখনই দুইজন থেকে তিনজনে পরিনত হ। এটা ব্যবহার কর। নিরাপদ ভালোবাসা।


রুহি: তোমার আব্বু দেখি এখানে আমাদের শান্তি দিল না। একটু ভালোবাসাও ঠিক মতো করতে দিল না। এইখানেও কিপটামি শুরু করে দিয়েছে। আমার আর ভালো লাগে না। আমি ঘুমাই। তুমিও ঘুমাও।


আমি রুহির কপালে চুমু দিয়ে ঘুৃমিয়ে পড়লাম।


এটার পার্ট ২ আসবে।


নাম থাকবে কিপটা জামাই। 


( সমাপ্ত)


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পিচ্চি বউ - পর্ব ২৯

 আমি জেরিনকে বললাম, আবারো তুমি প্যন্টে হিসু করে দিয়েছো?  জেরিন ঘুমঘুম চোখে বলল, এটা হিসু না। লাইট অন করেন। আমি লাইট অন করলাম। আর অবাক হয়ে তার সাদা পাজামার দিকে তাকালাম। তার সাদা পাজামা পুরো লাল হয়ে আছে। আমার  আন্ডারওয়ারেও কিছু লাল দাগ লেগেছে।  আমি ভয়ে আতংকিত হয়ে জেরিনের গালে দুহাত হাত রেখে  বললাম , ও মাই গড। তোমার রক্ত বের হচ্ছে কেন? জেরিন বলল, এমন নাটক করতাসেন কেন? ড্রয়ার থেকে প্যাড এনে দেন।  আমি ড্রয়ার থেকে প্যাড এনে দিলাম।  আমি বললাম, তোমার কি কোথাও কেটে গেছে। না হলে রক্ত বের হচ্ছে কেন? জেরিন রেগে বলল, ফাজিল কোথাকার বুঝেন না আমার পিরিয়ড হচ্ছে। এই কথা শুনে আমি জেরিনকে জড়িয়ে ধরলাম। তারপর কানে কানে বললাম, তোমার কি খুব কষ্ট হচ্ছে? পেট ব্যথা করছে?  <amp-auto-ads type="adsense"         data-ad-client="ca-pub-9645388120151436"> </amp-auto-ads> এদিকে জেরিন দেখি খুব নরমাল আছে। যেন কিছুই হচ্ছে না তার। ইরা যখন বলেছিল তার মিন্স হচ্ছে। তখনই ইন্টারনেটে সার্চ দিয়েছিলাম যে মিন্স হলে মেয়েদের কেমন ফিল হয়। সেখানে পড়লাম মিন্স হলে মে...

খালাতো বোনের সাথে প্রেম / রোমান্টিক প্রেমের গল্প / Rudro Siyam

মা যখন বললেন যে আমার বিয়ে হবে আমার খালাতো বোনের সাথে। সে কথা শুনেই আমি ভয়ে বাসে করে কক্সবাজার চলে আসলাম। এখানে একটি হোটেলে উঠেছি নিজেকে লুকিয়ে রাখার জন্য।  আমাকে পেলেই মা-খালা মিলে বিয়ে দিয়ে দিবে। তাই কয়েকদিন লুকিয়ে থাকি। যখন সুরভীর বিয়ে হয়ে যাবে। তখন আমি আবার বাড়ি চলে যাবো। হ্যা! সুরভী ই আমার খালাতো বোনের নাম। এবার ক্লাস টেনে উঠেছে আর তাকে বিয়ে দিয়ে আমার ঘাড়ে চাপানোর প্লান করছে আমার মা আর খালা।  হোটেল রুমে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ কলিংবেলের শব্দে তড়াক করে উঠে। দরজা খুলতেই দেখি একটা ফুলের তোড়া হাতে কে যেন দাড়িয়ে আছে। ফুলটার গন্ধ নিতেই আমি অজ্ঞান হয়ে গেলাম। জ্ঞান ফিরলে দেখি আমার হাত,পা বাধা করে আমাকে গাড়িতে করে কোথায়ও যেন নিজে যাওয়া হচ্ছে। তার মানে কি আমাকে কিডন্যাপ করা হয়েছে। গাড়ি যে চালাচ্ছে। সে রাকিব। আমার বন্ধু! রাকিব: দোস্ত! টেনসন করিস না! লাইফে একবার না। একবার তো বিয়ে করতেই হবে। বিয়ে থেকে পালালে হবে?  আমাদের ধর্মে তো বিয়ে করা ফরজ। তাহলে তুই পালিয়ে বেড়াচ্ছিছ কেন? আমি: তুই কিভাবে জানলি যে আমি কক্সবাজারের হোটেলে আছি? তোকে কে খবর দিল? রাকিব: আরে! বেটা! এখন ইন্টারনেটের যুগ। তুই...

প্লেবয় লাভ স্টোরী) রোমান্টিক প্রেমের গল্প/ রুদ্র সিয়াম

শামীম: রুদ্র। তুই একটা প্লেবয়। তুই এতো মেয়েকে কিভাবে পটিয়ে ফেলিস বুঝি না। যেখানে আমাকে কোন মেয়েই পাট্টা দেয় না। দোস্ত। মেয়ে পটানোর টিপস গুলো আমাকে একটু বল। আমিও তোর মতো প্লে বয় হতে চাই। আমি মোবাইলের স্ক্রিন থেকে চোখ সড়িয়ে তাকালাম শামীমের দিকে। বেচারা এতোবার রিজেক্ট খেয়েছে। এখন আমার কাছ থেকে মেয়ে পটানো শিখতে চায়। আমি: দেখ একটা মেয়ের পেছনে কম হলেও ৪/৫ টা ছেলে ঘোরে। এখন যদি তুইও ঘুরিস। তাহলে সেই ৪টা ছেলে আর তোর মধ্যে কি তফাত থাকলো? তোকে হতে হবে স্পেশাল। তাহলেই দেখবি মেয়েরা তোর প্রতি আগ্রহ দেখাবে আর তোর পেছন পেছন ঘুরবে। বুঝলি? শামীম: আচ্ছা। চেষ্টা করে দেখব। আর কোন টিপস নাই।  আমি: মেয়েদের পাট্টা দিবি না। তাহলে মেয়েরা তোকে পাট্টা দিবে। যত সুন্দর মেয়েই হোক। এমন ভান করবি তোর সামনে কিছুই না। শামীম: কিন্তু আমার তো মেয়েদের সামনে গেলেই হাত পা কাপে। আর টয়লেট লাগে বার বার।  আমি: এরকম হলে তুই কখনই মেয়ে পটাতে পারবি না। আজীবন সিঙেল ই থাকবি। এরকম সময় আমাকে সুনেরাহ কল দিল। আমি কল রিসিভ করলাম। আমি: (ধমক দিয়ে) এই সময়ে কল দিয়েছো কেন? জানো না আমি ব্যস্ত থাকি। তোমাকে বলেছি রাত ১২ টার পর কল দিবা। কত ম...