সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মাদ্রাসার মেয়ের সাথে প্রেম/ হাসির গল্প/ রোমান্টিক গল্প/ রুদ্র সিয়াম

সিফাত: মামা। আমার একটা মেয়েকে ভালোলেগেছে। মাদ্রাসায় পড়ে,  মনে আছে? ওই যে সেদিন নদীতে গোসল করছিলাম। সেও গোসল করলো সাইডে। ওই মাইয়া দেখছি কয়দিন আমার দিকে কেমনে জানি তাকাইয়া থাকে। মনে হয় প্রেমে পড়ছে, এখন বলো মামা। ওই মেয়েকে কিভাবে পটাবো?


সাজ্জাত: চল আগে মেয়েটাকে দেখি। কোন না কোন মেয়ের কথা বলতাসোস। চিনি ই তো না। না দেখে কিভাবে সাহায্য করব? 


সিফাত: মেয়েটা শ্যমলা। নাম শারমিন। তবে চেহারায় মায়া আছে। ওর চোখ দেখলে নজর সড়ানো যায় না। উফ। মামা। এখনও আমার চোখে ভাসছে। কিভাবে তাকিয়ে ছিল। চোখ দিয়ে আমার বুকে তীর মেরেছে।


সাজ্জাত: কস কি তুই? তীর মারলে তো রক্ত বের হতো তুই মারা যেতি কিন্তু তোর তো কিছুই হয়নি রে।


সিফাত: আরে মামা। ওটা সাধারণ তীর না ভালোবাসার তীর ছিল। যার বুকে একবার লাগে। সে বুঝে কি কষ্ট।  আহ!


সাজ্জাত: তোর বক বক শেষ হইসে? তাহলে চল এখন গিয়ে মেয়েটাকে দেখে আসি। সুন্দর হলে আমি ই বিয়ে করে ফেলবো ।


সিফাত: কি মামা। তুমি এটা বলতে পারলা। মামা হয়ে ভাগিনার জিনিসে নজর দাও, থু তোমার কপালে।


সাজ্জাত: আরে। এমনেই মজা করে বলছি,  এখন চল। মাদ্রাসার সামনে গিয়ে দাঁড়াই।  বের হলে দেখাইস কোন মেয়ে। ওকে?


সিফাত: ওকে মামা। চলো যাওয়া যাক!


সিফাত আর সাজ্জাত দুজনে মাদ্রাসার সামনে আসলো। একটি গাছের নিচে দুজনে দাড়িয়ে আছে। এমন সময় শারমিন তার বান্ধবীদের সাথে বোরকা পড়ে বের হয়ে আসছে।


সিফাত: মামা। নাইকা আসতেছে। সামনে দেখো। উফ। ওরে দেখেই বুকের ভেতর কেমন যেন করতেছে। আমি তো মরে যাব মামা। 


সাজ্জাত: কোন মেয়ের কথা বলতাসোস। এখানে দেখি অনেকগুলা মেয়ে। তোর নাইকা কোনটা?  কি রে আবুলের মতো দাড়িয়ে কি দেখোস। কথা বল।


সিফাত: যে মেয়ের চোখে কাজল, নীল কালার ব্যগ ঝুলানো কাঁধে।  সেই আমার নাইকা, এখন দেখো।


সাজ্জাত: ও মা গো, এতো হেব্বি সুন্দর। মনে হয় ফ্রেন্ড এন্ড লাভলী মাখে প্রতিদিন।  এই মেয়েকে আমি বিয়ে করবো।


সিফাত: কিছু বললা মামা?


সাজ্জাত: না। কিছু বলি নাই। এই মেয়ে তো মাদ্রাসায় পড়ে। এই মেয়ে কি প্রেম করতে রাজী হবে? দেখে তো মনে হয় তোর সিনিয়র আপু। আর তুই যে কালা, তোকে তো জীবনেও ভালোবাসবে না। আমি ফর্সা। আমাকেই ভালোবাসবে। হাহাহা।


সিফাত: মাইর খেতে না চাইলে তোমার নিজের মুখটা বন্ধ করো। ফালটু বক বক করবা না।


শারমিন তাদের সামনে গিয়ে চলে গেল। একবার আড়চোখে তাকালো সিফাতের দিকে। তারপর আবার চোখ নামিয়ে দিল। তারপর বান্ধবীদের সাথে চলে গেল।


রাতে নদীর পাড়ে বসে আছে সিফাত ও তার মামা সাজ্জাত। দুজনই সমবয়সী। তাই ফ্রেন্ডদের মতো কথা বলে।



সাজ্জাত: কিরে। ওই মেয়ে তো আজ তোর দিকে তাকায় ও নাই। তোরে পাত্তাও দেয় নাই। আমি দেখছি বার বার আমার দিকে তাকাচ্ছিল। তার মানে আমাকে পছন্দ করে।


সিফাত: হ। তোমারে কইসে তোমার দিকে তাকাচ্ছিল। মিথ্যা বলার জায়গা পাও না। 


সাজ্জাত: ওকে এক কাজ কর। তুই ওরে প্রপোজ করে দে। যদি হ্যা বলে তাহলে বুঝবি তোকে লাভ করে। আর না বললে বুঝবি। তোকে লাভ করে না। আমাকে করে। ওকে?


সিফাত: কিন্ত আমি তো আগে কাউকে প্রপোজ করিনি, ওর সামনে গেলেই আমার হাত পা কাপে। আমি এসব পারব না।


সাজ্জাত: তাহলে এক কাজ কর। চিঠি লিখে ওকে দে। তারপর দেখ কি বলে। হ্যা হলে হ্যা। না হলে না। বুঝলি?


সিফাত সেদিন রাতে চিঠি লিখলো। 


সিফাত: তুুমি মোর জীবনের ভাবনা, তোমাকে না পেলে বাচবো না। পানিতে লাফ দিয়ে মরবো। অবশ্য আমি সাতার জানি। তাও সাতরাব না জলে, তুমি কি আমার কই মাছ হবে? দুজনে মিলে একসাথে সাতার কাটবো জলে। 


পরেরদিন সিফাত শারমিন কে চিঠিটা দিল। এরপর বিকেলবেলা শারমিনও একটা চিঠি দিল। চিঠি নিয়ে সিফাত দৌড়ে তার মামা সাজ্জাত এর কাছে এলো নদীর পাড়ে। 


সিফাত: মামা। চিঠি পাইসি। হুররে হুররে।  ও বাললে বাললে। কি মজা। এখন প্রেম করব।


সাজ্জাত: নাচানাচি থামা। আগে চিঠিটা কি আগে খুলে পড়। তারপর নাচিস না হলে।


সিফাত চিঠিটা খুলে পড়তে লাগলো। সেখানে শারমিন লিখেছে।


শারমিন: দেখুন মিস্টার সিফাত৷ আমি কয়েকদিন ধরে লক্ষ্য করছি। আপনি আমার পেছনে ঘুর ঘুর করেন। এর কারন  বুঝতে পারলাম আজ। আসলে আপনার মনে ভালোবাসা থাকলেও আমার মনে এখনও কিছু নাই। চলেন, আমরা বন্ধু হয়ে থাকি। 


সাজ্জাত: হাহাহা। তুই তো ছ্যকা খেয়ে গেলিরে পাগলা৷ এখন কি করবি? মদ খাবি নাকি সিগারেট খাবি? কোনটা?


সিফাত: ভ্যাপ খাবো মামা। ওকে দেখাবো ওর জন্য খারাপ হয়ে গেছি।  যাতে ওর দয়া হয় আর দয়া করে প্রেমটা করে আমার সাথে। আইডিয়াটা কেমন?


সাজ্জাত: চল। এখনই করা যাক।


তারা দুজনে মিলে শারমিনের বাসার সামনে আসলো। সিফাতের হাতে ভ্যাপ। শারমিন কেন জানি ঘরের পাশে দাড়িয়ে আছে। তাদের বাসা রাস্তার পাশে। কেউ সাইড দিয়ে গেলে বাসার ভেতরটা দেখা যায়। সিফাত শারমিন কে দেখিয়ে দেখিয়ে ভ্যাপ টানতে টানতে তার সামনে দিয়ে চলে গেল। একবার ও তার দিকে তাকালো না।


পরেরদিন বিকেলে আবার আরেকটা চিঠি আসলো৷ এবার শারমিন তার ছোট ভাইয়ের হাতে চিঠি দিয়ে পাঠিয়েছে। সিফাত ও সাজ্জাত নদীর পাড়ে বসে ছিল। চিঠি নিয়ে খুললো সিফাত। সেখানে শারমিন লিখেছে।


শারমিন: এমন কইরেন না প্লিজ। আমি বুঝতে পারছি আপনি আমার জন্য খারাপ হয়ে গেছেন। আমি বলছি তো এখন আমার মনে আপনার জন্য ফিলিংস নাই। কিন্তু কথা বলতে থাকলে হয়তো ফিলিংস এসে পড়বে। তখন আমি আপনাকে বলে দিব আমার মনের কথা। আর আপনি আর কখনও ভ্যাপ খাবেন না। এসব খাওয়া গুনা।


সিফাত চিঠি হাতে নাচতে লাগলো। আর ফ্রেন্ডশিপ এর জন্য রাজী হয়ে গেল। তারপর তাদের ফ্রেন্ডশিপ চলতে লাগলো চিঠি আদান প্রদানের মাধ্যমে। 


একরাতে সিফাতের ইচ্ছা হলো তাকে দেখবে। সে ঘুমিয়ে ছিল কিন্তু ঘুম আসছিল না। তাই সাজ্জাতকে নিয়ে চলে এলো শারমিনদের বাসায় বাসায়। রাত ১০টা৷ গ্রাম অন্চল বলে এখানে অনেক নীরবতা। চারিদিকে সুনশান। কোন শব্দ নেই।


সিফাত ও সাজ্জাত বাড়ির উঠানে আসলো। এমন সময় অন্ধকারে কে যেন টর্চ মারলো। সিফাত ভয়ে দৌড় দিল। সাজ্জাত দৌড় দিয়ে গিয়ে তাকে কে যেন ধরে ফেলল।


সিফাত অপেক্ষা করছে রাস্তায় কখন সাজ্জাত ফিরবে। সাজ্জাত ফিরছে তার শার্ট ছেড়া কপালে ঠোটে রক্ত।


সিফাত: মামা। তোমার এই অবস্থা কেন? কি হয়েছে। কে মারলো তোমাকে?.


সাজ্জাত: আর বলিস না। একলোক আমাকে চোর ভেবে সেই পিটানি দিসে। আমার শিক্ষা হয়ে গেছে। তুই কর প্রেম। আমি এসবে নাই। বিদায় পিতিবি।



তারপরের দিন শারমিন চিঠি পাঠিয়েছে। সেটা নদীর পাড়ে বসে সিফাত পড়ছে। সিফাতের সাথে আছে সাজ্জাত। শারমিন লিখেছে।


শারমিন : এই কয়েকদিনে আমি বুঝেছি তুমি একটা ভালো ছেলে, তুমি কালো হতে পারো। কিন্তু তোমার মনটা ভালো। আর আমি তোমার প্রেমে পড়ে গেছি। আই লাভ ইউ। আর শোনো, এখন থেকে ৫ ওয়াক্ত নামায পড়বা।  প্রতিদিন বুঝলা? নিজের যত্ন নিবা। আচ্ছা। মনে থাকবে তো?


সিফাত: ইয়েস।  ইয়েস। ইয়েস।


সাজ্জাত: কি হইসে চিঠি পইড়া লাফাস কেন? মনে হয় বানর হয়ে গেছিস। তোকে চিড়িয়াখানায় পাঠিয়ে দিব। 


সিফাত: মামা। সে রাজী হয়ে গেছে। সে আমাকে ভালোবাসে। আজ আমার চেয়ে খুশি কেউ নাই। 


কথাটা বলে সিফাত সাজ্জাতকে জড়িয়ে ধরে নদীতে লাফ দিল। 


ভোর ৫টায় এলার্মের শব্দে সিফাতের ঘুম ভাঙলো। একটুপর আজান দিবে। তাকে নামাজে যেতে হবে। তার পাশে সাজ্জাত নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে। 


সিফাত: মামা। উঠো। চলো নামায পড়তে যাই।


সাজ্জাত: হু। বিরক্ত করিস না। ঘুমাতে দে। তুই যা। নামায পড়তে আমি ঘুমাই।


সিফাত গতকালরাতে চকলেট কিনে রেখেছিল শারমিনের জন্য। আজ তাকে দিবে। শারমিনদের বাসার সামনে আসতেই সিফাত দেখলো শারমিন অজু করছে তাদের কল পাড়ে। সিফাত তাকে দেখে হাসলো। শারমিন ও তাকে দেখে হাসলো।  তারপর তার চকলেট গুলো শারমিন কে দিয়ে নামাজ পড়তে গেল। 


বিকেলবেলা শারমিন কোচিং করতে গিয়েছিল। সিফাত বাইরে দাড়িয়ে ছিল। শারমিন বের হয়ে আসলো। সে সিফাতের সামনে আসলো।


সিফাত: মেইন রাস্তা দিয়ে গেলে আমাদের লোকজন দেখে ফেলবে। তখন তোমার আম্মুর কাছে বিচার দিয়ে দিবে। চলো পাটক্ষেতের মাঝখানে যে রাস্তা আছে সেখান দিয়ে যাই।


শারমিন ও রাজি হয়ে গেল। তারা দুজনে পাটক্ষেতের মাঝখান দিয়ে হাটছে। 


সিফাত: আচ্ছা। তুমি কিছু মনে না করলে আমি কি তোমার হাত ধরতে পারি।


শারমিন: আচ্ছা। ধরো। সমস্যা নাই। কিন্তু আমার লজ্জা করছে।


সিফাত হাত ধরে ফেলল। দুজনই হাটছে একসাথে। এমন সময় শারমিন পড়ে গেল মাটিতে। তার ছুতা ছিড়ে গেছে আর পা ও একটু কেটে গেছে।


সিফাত: তোমার দেখি পা কেটে গেছে। এখন তুমি কিভাবে হাটবে? এক কাজ করি আমি তোমাকে কোলে করে বাসায় নামিয়ে দেই।


শারমিন: তোমার তো কষ্ট হবে। না থাক আমি হাটতে পারব। কোন সমস্যা নাই।


সিফাত: তোমার জন্য তো একটুকু কষ্ট করতেই পারি।


সিফাত শারমিনকে কোলে নিয়ে নিল। তারপর হাটছে লাগলো। দুজন দুজনার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। এই ভালোবাসা যেন অনন্তকাল বেচে থাকে।


অত:পর সিফাত তাকে নিয়ে বাসার কাছাকাছি আসে। 


শারমিন: এখন তুমি চলে যাও, আমি বাকি পথ হেটে যেতে পারব। এখন তোমাকে আর আমাকে একসাথে দেখলে সবাই মাইন্ড করবে। বুঝলা?


সিফাত: আচ্ছা। তার আগে আমাকে একটা কিসমিস দাও।


শারমিন: কিসমিস তো আনি নাই। বাসায় রেখে আসছি। পরেরবার নিয়ে আসবো।


সিফাত: আরে পাগলি। কিসমিস মানে হচ্ছে চুমু।


শারমিন: কি বলে এসব আমার লজ্জা করে। 


সিফাত এবার তার গালে একটা চুমু দিল। তারপর দৌড়ে পালালো। 


পরেরদিন সকাল ৫টায় এলার্মের শব্দে সিফাতের ঘুম ভাঙলো।  সে জীবনে এতো সকালে উঠে নি। কখনও নামায ও পড়েনি। কিন্তু ভালোবাসার জন্য সব করতে হচ্ছে তার। 


গতকাল রাতে আইসক্রিম কিনে ফ্রিজে রেখেছিল। সেগুলো নিয়ে বের হয়ে গেল। আইসক্রিম গুলো শক্ত হয়ে আছে। প্রায় ৫টা চকবার একটা পলিথিনের মধ্যে। 


শারমিনের বাসার সামনে আসতেই সে দেখলো শারমিন অজু করছে আর তাকে দেখে মুচকি মুচকি হাসছে।  সিফাত এবার আইসক্রিম গুলো টিনের চালের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারলো। যাতে উঠোনে পড়ে। কিন্তু সেই সময় শারমিনের আম্মু উঠানে চলে আসছে। সেটা সিফাত খেয়াল করেনি। সে যখন আইসক্রিম উড়িয়ে মারলো। তখন তা গিয়ে পড়লো শারমিনের মায়ের মাথায়।


বিকেলবেলা শারমিনের কোচিং শেষ। সিফাত তাকে নিয়ে বাসায় ফিরছে। দুজনই হাত ধরে হাটছে। শারমিনের মন খারাপ।


সিফাত: আজ তোমার মন খারাপ কেন? কি হয়েছে? 


শারমিন : তুমি আজ সকালে আম্মুর মাথায় আইসক্রিম ফেলসো। তাই আম্মু সন্দেহ করছে। যে এগুলো কোথাথেকে আসলো আকাশ থেকে পড়লো নাকি?


সিফাত: দেখো আমি ইচ্ছা করে শাশুড়ি মায়ের ওপর এসব ফেলেনি। আমি তো জানতাম ই না। উনি সেখানে দাড়ানো। ওকে সরি।


শারমিন: এরপর আর আমাকে কোন গিফট দিতে হবে না তোমার। তোমার জন্য আম্মু আমাকে সন্দেহ করে অনেক মেরেছে। 


সিফাত: সরি বলতাম তো। আমার এখন খারাপ লাগছে। আমার জন্য তোমাকে মারলো।


শারমিন : আমি ভয়ে সব বলে দিসি তোমার কথা। আম্মু জেনে গেছে, এখন থেকে আমরা আর দেখা করবো না। তুমি তোমার রাস্তায়, আমি আমার রাস্তায়। বুঝলে?


সিফাত: কিন্তু আমি তো তোমাকে ছাড়া থাকতে পারব না। প্লিজ এমন করো না।


শারমিন সিফাতের হাত ছেড়ে দিয়ে চলে গেল। সিফাত সেখানে দাড়িয়ে আছে। একটু ও নড়ছে না। এমন সময় বৃষ্টি শুরু হলো, সিফাত ভিজছে তবুও সেখানেই দাড়িয়ে আছে। তার সাজ্জাত ছাতা হাতে তাকে নিতে এলো। সাজ্জাত আর সিফাত এক ছাতার নিচে যাচ্ছে বাসার দিকে।


সাজ্জাত: তুই যে এই মেয়ের সাথে প্রেম করসিস। এই মেয়ে তো ১২ ভাতারী। এই মেয়েকে আগে অনেক ছেলের সাথে প্রেম করছে। এখন তোর সাথে প্রেমের অভিনয় করছে। এখন তুই যা ভালো মনে করিস করবি।


সিফাত: মামা। আমাদের ব্রেকআপ হয়ে গেছে আজ। ও বলছে ওর সামনে যাতে আর না যাই। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে মামা। আমি শারমিনকে ছাড়া বাচব না।


সাজ্জাত: হুন, তুই ছ্যকা খাবি কেন?  তুই ছ্যকা দিবি। দুনিয়াতে চাইরটা বিয়া। জান্নাতে আছে তোর ৭২ টা হুর। কোন কোন মতে ৫হাজার কোন মতে ১০হাজার। তো তুই ওকে ছ্যকা দিয়ে দে।


রাতে সিফাত ভাবতে লাগলো কিভাবে ওকে কষ্ট দিবে। হঠাৎ তার মাথায় বুদ্ধি আসলো তাও দুইটা সিদ্ধডিম খেয়ে। 


আজ সকালে যখন এলার্ম বাজলো। সিফাত এলার্ম বন্ধ  করে ঘুমিয়ে পড়লো। যে মেয়ের কথায় নামায পড়তো। সেই মেয়ে নেই, তাই সে নামায ও পড়তে গেল না।


বিকেল ৪টায় শারমিন তার ২জন বান্ধবীর সাথে কোচিংয়ে যাচ্ছিল। এমন সময় তাদের সামনে এসে দাড়ালো সিফাত ও সাজ্জাত।


সিফাত: শুন, তুই আমাকে কি ছ্যকা দিবি। আমি তোকে ছ্যকা দিব এখন। তোর সাথে আমি টাইমপাশ করেছি। আমি তো অন্য মেয়েকে ভালোবাসি।


কথাটা বলে তার ফোনে তার স্কুলের বান্ধবীর ছবি দেখালো।


সিফাত: দেখলি। এই মেয়েকে আমি ভালোবাসি। তোর সাথে শুধু টাইম পাশ করেছি এতোদিন। ওকে ব্রেকআপ।


তারপরও সিফাতের রাগ থামলো না। কসিয়ে একটা থাপ্পড় দিল শারমিন কে। তারপর গুন্ডার মতো হাটতে হাটতে বাসায় চলে আসলো।


এদিকে শারমিন এক থাপ্পড়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেছে। তার ২ বান্ধবী তাকে হাসপাতালে  নিয়ে গেল। 



এদিকে সিফাত ভিলেনের মতো নদীর পাড়ে দাড়িয়ে সিগারেট টানছে। এমন সময় দৌডে সাজ্জাত আসলো তার কাছে।


সাজ্জাত: অনেক বড় কেলেংকারী হয়ে গেছে। তুই যে শারমিন কে থাপ্পড় মারছোস। পরে বেচারী অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেছে। তারপর ওকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। জ্ঞান ফিরার পর ও বলছে যে তুই ওকে থাপ্পড় মারছোস। এখন এটা নিয়ে বিচার হবে। বুঝলি? তোকে অনেকে খুজতেছো। পাইলেই মারবে। তুই সাবধানে থাক। আমি যাই।


সিফাত: তোর কি মনে হয় সিফাত এসবের ধার ধারে না। কি হবে বিচারে আব্বু দুইটা থাপ্পড় ই দিব। তারপর? তারপর আমার হাতে টাকা দিয়ে বলবো যা ঘুরে আয়। আমার আব্বু কে আমি ভালো করেই চিনি।


আজ শুক্রবার তাদের বিচার হলো। বিচারে যা হলো, তা শুনে সিফাতের আকাশ থেকে মাথা ভেঙ্গে পড়লো। বিচারের জানানো হলো, সিফাত যেহেতু এই কাজটা করেছে। তাহলে এখন শারমিন কে বিবাহ করিতে হইবে। 


তারপর কাজী ডেকে তাদের বিয়ে দেওয়া হলো। আজ তাদের বাসর রাত। সিফাত বাসর ঘরে ঢুকে নিজের মাথার মুকুট খুলে রাখলো টেবিলে। তারপর টেবিলের থাকা দুধ সবটুকু খেয়ে নিল। শারমিন বউ সেজে বসে আছে খাটে৷ সে তার পাশে গিয়ে বসলো।


শারমিন: আচ্ছা। তুমি আমাকে কেন থাপ্পড় দিয়েছিলে? আর ওই যে মেয়েটার ছবি দেখলাম। ওই মেয়েটা কে?


সিফাত: এসব ই আমার প্লান ছিল। আমি জানতাম। তোমাকে থাপ্পড় দিলে বিচার বসবে। তারপর তোমার সাথে আমার বিয়ে হবে। তোমাকে পাওয়ার জন্যই এসব করেছি। 


শারমিন: জানতাম। তোমার যে মাইন্ডগেম খেলো। আমি ও তো অবাক হয়ে গেছি। কিন্তু ভালোই হয়েছে। এই প্লান সম্পর্কে আমাকে সেদিন ই বলে দিয়েছি। তাই আমি থাপ্পড় খাওয়ার সাথে সাথে অজ্ঞান হয়ে যাই। তাই হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তোমার নাম বলি, যেভাবে তুমি আমাকে শিখিয়ে দিয়েছিলে।


সিফাত: আমি জানতাম তুমি ১২ ভাতারী না, তোমাকে শুধু একটা ছেলে পছন্দ করে নাম আয়ান। কিন্তু সাজ্জাত মামায় মিথ্যা কথা বলছে। কারন ও তোমাকে লাভ করে। 


শারমিন: হুম। আমিও জানি সাজ্জাত মামা আমাকে লাভ করে। উনি একবার তোমার সাথে রিলেশন থাকা কালে আমাকে প্রপোজ করে। তখন আমি তাকে রিজেক্ট করে দেই।


সিফাত: তার মানে মামায় তলে তলে টেমফু চালায়। ওনাকে পাইলে এবার বাশ দিব। তার আগে চলো রোমান্স করি।


সিফাত শারমিনের লাল ওড়না মাথা থেকে ফেলে দিল। তারপর কপালে একটা চুমু খেল। 


বেচে থাক শারমিন ও সিফাত। 

বেচে থাক তাদের ভালোবাসা। সত্যঘটনা অবলম্বনে এই গল্পটি লেখা হয়েছে।


(সমাপ্ত)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পিচ্চি বউ - পর্ব ২৯

 আমি জেরিনকে বললাম, আবারো তুমি প্যন্টে হিসু করে দিয়েছো?  জেরিন ঘুমঘুম চোখে বলল, এটা হিসু না। লাইট অন করেন। আমি লাইট অন করলাম। আর অবাক হয়ে তার সাদা পাজামার দিকে তাকালাম। তার সাদা পাজামা পুরো লাল হয়ে আছে। আমার  আন্ডারওয়ারেও কিছু লাল দাগ লেগেছে।  আমি ভয়ে আতংকিত হয়ে জেরিনের গালে দুহাত হাত রেখে  বললাম , ও মাই গড। তোমার রক্ত বের হচ্ছে কেন? জেরিন বলল, এমন নাটক করতাসেন কেন? ড্রয়ার থেকে প্যাড এনে দেন।  আমি ড্রয়ার থেকে প্যাড এনে দিলাম।  আমি বললাম, তোমার কি কোথাও কেটে গেছে। না হলে রক্ত বের হচ্ছে কেন? জেরিন রেগে বলল, ফাজিল কোথাকার বুঝেন না আমার পিরিয়ড হচ্ছে। এই কথা শুনে আমি জেরিনকে জড়িয়ে ধরলাম। তারপর কানে কানে বললাম, তোমার কি খুব কষ্ট হচ্ছে? পেট ব্যথা করছে?  <amp-auto-ads type="adsense"         data-ad-client="ca-pub-9645388120151436"> </amp-auto-ads> এদিকে জেরিন দেখি খুব নরমাল আছে। যেন কিছুই হচ্ছে না তার। ইরা যখন বলেছিল তার মিন্স হচ্ছে। তখনই ইন্টারনেটে সার্চ দিয়েছিলাম যে মিন্স হলে মেয়েদের কেমন ফিল হয়। সেখানে পড়লাম মিন্স হলে মে...

খালাতো বোনের সাথে প্রেম / রোমান্টিক প্রেমের গল্প / Rudro Siyam

মা যখন বললেন যে আমার বিয়ে হবে আমার খালাতো বোনের সাথে। সে কথা শুনেই আমি ভয়ে বাসে করে কক্সবাজার চলে আসলাম। এখানে একটি হোটেলে উঠেছি নিজেকে লুকিয়ে রাখার জন্য।  আমাকে পেলেই মা-খালা মিলে বিয়ে দিয়ে দিবে। তাই কয়েকদিন লুকিয়ে থাকি। যখন সুরভীর বিয়ে হয়ে যাবে। তখন আমি আবার বাড়ি চলে যাবো। হ্যা! সুরভী ই আমার খালাতো বোনের নাম। এবার ক্লাস টেনে উঠেছে আর তাকে বিয়ে দিয়ে আমার ঘাড়ে চাপানোর প্লান করছে আমার মা আর খালা।  হোটেল রুমে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ কলিংবেলের শব্দে তড়াক করে উঠে। দরজা খুলতেই দেখি একটা ফুলের তোড়া হাতে কে যেন দাড়িয়ে আছে। ফুলটার গন্ধ নিতেই আমি অজ্ঞান হয়ে গেলাম। জ্ঞান ফিরলে দেখি আমার হাত,পা বাধা করে আমাকে গাড়িতে করে কোথায়ও যেন নিজে যাওয়া হচ্ছে। তার মানে কি আমাকে কিডন্যাপ করা হয়েছে। গাড়ি যে চালাচ্ছে। সে রাকিব। আমার বন্ধু! রাকিব: দোস্ত! টেনসন করিস না! লাইফে একবার না। একবার তো বিয়ে করতেই হবে। বিয়ে থেকে পালালে হবে?  আমাদের ধর্মে তো বিয়ে করা ফরজ। তাহলে তুই পালিয়ে বেড়াচ্ছিছ কেন? আমি: তুই কিভাবে জানলি যে আমি কক্সবাজারের হোটেলে আছি? তোকে কে খবর দিল? রাকিব: আরে! বেটা! এখন ইন্টারনেটের যুগ। তুই...

প্লেবয় লাভ স্টোরী) রোমান্টিক প্রেমের গল্প/ রুদ্র সিয়াম

শামীম: রুদ্র। তুই একটা প্লেবয়। তুই এতো মেয়েকে কিভাবে পটিয়ে ফেলিস বুঝি না। যেখানে আমাকে কোন মেয়েই পাট্টা দেয় না। দোস্ত। মেয়ে পটানোর টিপস গুলো আমাকে একটু বল। আমিও তোর মতো প্লে বয় হতে চাই। আমি মোবাইলের স্ক্রিন থেকে চোখ সড়িয়ে তাকালাম শামীমের দিকে। বেচারা এতোবার রিজেক্ট খেয়েছে। এখন আমার কাছ থেকে মেয়ে পটানো শিখতে চায়। আমি: দেখ একটা মেয়ের পেছনে কম হলেও ৪/৫ টা ছেলে ঘোরে। এখন যদি তুইও ঘুরিস। তাহলে সেই ৪টা ছেলে আর তোর মধ্যে কি তফাত থাকলো? তোকে হতে হবে স্পেশাল। তাহলেই দেখবি মেয়েরা তোর প্রতি আগ্রহ দেখাবে আর তোর পেছন পেছন ঘুরবে। বুঝলি? শামীম: আচ্ছা। চেষ্টা করে দেখব। আর কোন টিপস নাই।  আমি: মেয়েদের পাট্টা দিবি না। তাহলে মেয়েরা তোকে পাট্টা দিবে। যত সুন্দর মেয়েই হোক। এমন ভান করবি তোর সামনে কিছুই না। শামীম: কিন্তু আমার তো মেয়েদের সামনে গেলেই হাত পা কাপে। আর টয়লেট লাগে বার বার।  আমি: এরকম হলে তুই কখনই মেয়ে পটাতে পারবি না। আজীবন সিঙেল ই থাকবি। এরকম সময় আমাকে সুনেরাহ কল দিল। আমি কল রিসিভ করলাম। আমি: (ধমক দিয়ে) এই সময়ে কল দিয়েছো কেন? জানো না আমি ব্যস্ত থাকি। তোমাকে বলেছি রাত ১২ টার পর কল দিবা। কত ম...