আমি: সামির। আরেকটু সাইডে যা। ওই গাছটার সামনে দাড়া। হ্যা। এখন ঠিক আছে। আমি তোর ছবি তুলছি।
সামির: আরে বেটা। পেছনে যেতে যেতে আর কি যাওয়া বাকি আছে। আরেকটু সাইডে গেলে তো পুকুরে পড়ে যাবো। তুই ফাজলামি করিস না ভাই। তাড়াতাড়ি কয়েকটা ছবি তোল।
আমি: আর একটু পেছনে যা সূর্য্যের আলো তোর মুখে পড়লে ছবিটা ভালো আসবে। আর এক পা পেছনে যা।
সামির আর এক পা পেছনে গিয়ে পুকুরে পড়ে গেল । পুকুর থেকে উঠে আসলো।
সামির: হইসে তোর আর ছবি তুলতে হবে না। তুই দাড়া আমি ছবি তুলি।
আমি গাছের কাছে দাড়ালাম। এমন সময় সামিরের সামনে এক মেয়ে এসে দাড়ালো ।
আফিয়া: এই আপনি আমার ছবি তুলছেন কেন? এখনই ডিলেট করুন। না হলে আমি আপনার ক্যমেরা ভেঙ্গে ফেলবো।
সামির: কই না তো। আমি তো কোন ছবি তুলিনি আপনার। আপনার মনে হয় কোন ভুল ধারনা হয়েছে।
আফিয়া: আমি পুকুরপাড়ে গোসল করছিলাম আর আপনি আমার ছবি তুললেন। তখন আপু ছিল পাশে তাই কিছু বলিনি। এখন ছবিটা ডিলিট করুন।
সামির: ছি, অস্তাকফিরুল্লাহ। আপনি আমার নামে এতো বাজে কথা বলতে পারলেন। আমাকে দেখে কি আপনার লুইচ্চা মনে হয়? আমি কি ইমরান হাসমির মতো।
আফিয়া: এতো বাজে কথা বলছেন কেন? বলছি ছবিটা ডিলেট করতে করেন তাড়াতাড়ি।
সামিরের সাথে সেই মেয়ের কথা বলা দেখে আমি সামনে এগিয়ে গেলাম।
আফিয়া: আচ্ছা। আপনাদের তো আগে কখনও এই এলাকায় দেখিনি। আপনারা কি ঢাকা থেকে এসেছেন? ঢাকার কোথায় থাকেন আপনি?
সামির: হ আমরা ঢাকা থেকা আইসি। কেন কোন সমস্যা। আপনি কেডা? আপনার নাম কী? থাকেন কই?
আফিয়া: আজব তো। আমার এলাকায় এসে আমাকে জিজ্ঞেস করছেন আমার নাম কী? কই থাকি? আগে আপনাদের পরিচয় দেন। আপনারা কার বাসায় আসছেন?
সামির: এখানে দাদুর বাসায় আসছি, বেল্লাল মিয়া। চিনেন? আমার নানার খালাতো ভাই হন। উনার বাসায় বেড়াতে আসছি। আচ্ছা বায় পরে কথা হবে।
আমি: (রেগে) উনার সাথে এতো কথা বলছিস কেন? চল। দেরী হয়ে যাচ্ছে এখন যাই।
কথাটা বলে আমি আর সামির চলে আসলাম দাদুর বাড়ি। দরজা খুলে দাদু আমাকে দেখেই উত্তেজিত হয়ে গেল।
দাদু: দেখো কে এসেছে ঢাকা থেকে। তোদের আসতে কোন অসুবিধা হয়নি তো। এভাবে হুটহাট করে চলে আসলি যে। একটা ফোনও তো করতে পারতি।
আমি: ভাবলাম, তোমাদের সারপ্রাইজ দিব। তাই আগে থেকে কিছু বলিনি। খুব খুদা পেয়েছে।
সামির: খুদা কি তোর একা পাইসে। আমারো তো খুদা পাইসে। খুদায় পেটের ভেতর ইদুর দৌড়াচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।
দাদু: তোমরা ফ্রেশ হয়ে নাও। আমি তোমার দাদীকে খাবার দিতে বলি।
আমি: আচ্ছা। ঠিক আছে দাদু।
ফ্রেশ হওয়ার পর ডাইনিং টেবিলে বসে ভাত খাচ্ছি আমি আর সামির। সামনে দাদুর সাথে গল্প করছি।
আমি: গতকাল রাতে কি হয়েছে দাদু শুনলে তুমি অবাক হবে। কেবিন ভাড়া নিয়েছে ২২০০ টাকা। তার মাঝে সামির রাতের বেলা একা টয়লেটে গিয়ে এখন কেবিন নাম্বার ভুলে গেছে। সাথে ফোনও নেয়নি। তারপর আর কি। একটা ওয়ার্ডবয় ওকে কেবিনে নিয়ে আসে।
দাদু: সারাদিন ফোন টিপলে তো এমন ভুলোমনা হবেই। এজন্য বলি ফোন কম টিপবা সামির। তাহলে চোখের জন্য ভালো। আমার নাতনীকে তো ফোন ধরতেই দেই না।
সামির: আপনার নাতনী আবার কে?
দাদু: আফিয়া বের হয়ে আসো তো। সারাদিন ঘরে বসে ফোন টিপো কেন? দেখো মেহমান আসছে।
আফিয়া বের হয়ে আসলো। মাত্র গোসল সেড়ে আসছে। টপ টপ করে তার চুল বেয়ে পানি পড়ছে। আমি খেয়ালও করিনি। সকালেই সেই মেয়েটি। সামির দেখে পুরো হা হয়ে আছে।
সামির : দেখ আরিয়ান। এটা তো সেই সকালের মেয়েটি।
আমি এবার তাকালাম। সকালে ঠিকমতো খেয়াল করিনি। এখন ভালোমতো দেখলাম। সাদা থ্রিপিস পড়া, চোখে কাজল। চোখে হয় জান্নাতের হুর চোখের সামনে এসে পড়েছে।
আফিয়া: আপনারা ভালো আছেন? আসসালামু আলাইকুম।
আমি: ভালো নেই। কিছু মানুষের কিছু কাজ কর্ম মনে আঘাত দেয়। চাইলেই তা ভোলা যায় না।
আফিয়া: মানে।এসব কি বলছেন?
সামির: ও একটা কবি মানুষ। ওর কথাকে গুরুত্বপূর্ণ দিবেন না। কখন কি বলে। সে নিজেও জানে না।
দাদু: তোমাদের খাওয়া দাওয়া শেষ হলে আফিয়া তোমাদেরকে এই গ্রামটা একটু ঘুরিয়ে দেখাবে। বুঝলে?
আমি: আমি লং জার্নি করে আসছি। আমি যাব না তাদের সাথে। সামির তুই ঘুরে আয়। আমি একটা ঘুম দিতে চাই।
সামির: কিরে। তুই সত্যি ই যাবি না। আচ্ছা ঠিক আছে। আমি আর আফিয়াই যাব।
খাওয়া দাওয়া শেষে ঘুৃমিয়ে পড়লাম খাটে। এদিকে আফিয়া আর সামির বের হয়েছে রাস্তায়। আফিয়া সামিরকে সব জায়গা দেখাচ্ছে।
আফিয়া: এই যে এইটা হচ্ছে খ্রিস্টান পাড়া। এখানে সকল খ্রিস্টান রা থাকে। এখানে একটা গীর্জা ও আছে। সেখানে মা মেরী আর যিশুখ্রিস্টের মুর্তি আছে।
সামির: চলো তো যাই। গিয়ে দেখি আমাদের ঢাকায় মিডফোর্ট এ আর্মেনিয়া গীর্জা আছে। তবে সেখানে কাউকে ঢুকতে দেয় না। আমি একবার গিয়েছিলাম। আমাকে বাইরে থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল।
আফিয়া: চলুন, আপনাকে এখানকার গীর্জা দেখাই। গীর্জা দেখানোর পর আমি আপনাকে কীর্তনখোলা নদী দেখাবো। হেইয়া আমাদের এখানকার নামকরা নদী। বুঝেছেন।
সামির: আচ্ছা। তুমি বরিশালের মেয়ে। কিন্তু শুদ্ধ ভাষায় কথা বলছো কেন?
আফিয়া: আসলে যে যেভাবে কথা বলে। আমি তার সাথে সেভাবেই কথা বলি। আন্চলিক মানুষের সাথে আন্চলিক আর ঢাকার মানুষের সাথে শুদ্ধ।
সামির: বুঝতে পারছি। এখন চলো নদীর পাড়ে গিয়ে কিছু ছবি তুলি।
আফিয়া: চলো। কাপল পিক তুলি।
সামির যেন আকাশ থেকে পড়লো। এ যেন মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি।
সামির মনে মনে কিছু কথা বলল।
সামির: তার মানে এই মেয়ে আমাকে পছন্দ করে। আরিয়ান বাদ, আমি ই ওকে পটাবো। তারপর বিয়ে করে ঢাকায় নিয়ে যাবো। হুররে কি মজা। ধন্যবাদ আরিয়ান। তুই থাকলে হয়তো কাপল পিক তোলা হতো না।
তারা দুজনে চলে আসলো নদীর পাড়ে। তারপর কিছু কাপল পিক তুলল। সেখানের একলোককে বলল। তুলে দিতে সে লোক তাদের তুলে দিব। সামিরের কাধে হাত দিয়ে ছবি। সামিরে চোখে চোখ রেখে কাপল পিক। সামিরের বুকে হাত রেখে কাপল পিক।
এদিকে আমার ঘুৃম ভাঙলো সন্ধাবেলা। চারিদিক অন্ধকার হতে শুরু করেছে। এই সময়টা মন খারাপ থাকে। মশারা কিলবিল করে। তখন মানুষ মশার কয়েল জ্বালায়। আমি ধরালাম সিগারেট। শুয়ে শুয়ে সিগারেট খাওয়ার মজাই আলাদা।
এমন সময় আফিয়া আর সামির ফিরে আসলো। আফিয়া ওয়াশরুমে গেল। সামির আমার পাশে এসে বসলো।
সামির: কিরে। তুই একা একা সিগরেট টানতাসোস। দে আমিও একটা টান দেই।
আমি সামিরের হাতে সিগারেট দিলাম। সামির সিগারেট টানছে।
সামির: জানোস কি হইসে। আমি আর আফিয়া কাপল পিক তুলসি। এই মেয়ে মনে হয় আমাকে ভালোবাসে। এই দেখ কাপল পিক।
সামির তার ফোন বের করে কাপল পিক দেখাতে লাগলো। সামিরের এতো ক্লোজ ছবি দেখে আমার রাগ উঠতে লাগলো। মাথা ব্যথা শুরু হতে লাগলো। অতীতের কিছু স্মৃতি মনে পড়লো। আর নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে না পেরে সামির এর ফোনটা তার হাত থেকে নিয়ে আছাড় মারলাম মাটিতে। ফোনটা ভাঙেনি ছিটকে গিয়ে দুইটা ডিগবাজি খেয়ে পড়লো দরজার কাছে এমন সময় সেই দরজায় পা রাখলো আফিয়া। চারিদিক চুপচাপ।
সামির আর আমি কীর্তনখোলা নদীর পাড়ে দাড়িয়ে আছি। রাত ৮টা বাজে চারিদিক অন্ধকার। আমি পকেটে হাত দিয়ে আছি।
সামির: তুই হঠাৎ এরকম আরচন করলি কেন? আফিয়ার সাথে আমার ক্লোজ এটা দেখে জেলাস হলি মনে হয়। তুই কি আফিয়াকে আগে থেকে চিনিস? তোর আর ওর কি সম্পর্ক আমাকে সব খুলে বল।
আকাশে বিজলি চমকাচ্ছে। ঘন কালো রং ধারন করেছে, বৃষ্টির ফোটা পড়ছে। কিছুক্ষণ পর ঝুম বৃষ্টি শুরু হওয়ার পূর্বাভাস।
সামির: কিরে। চুপ করে আছিস কেন? আমি তোকে ১০০% বুঝি। আমি এখন সিওর। তোর আর আফিয়ার মাঝে কিছু ছিল। এজন্যই তুই আমাদের সাথে বিকেলবেলা ঘুরতে বের হতে চাসনি। আবার আফিয়ার সাথে ভালো মতো কথাও বলিসনি।
আমি একটা সিগরেট ধরালাম।
আমি: চার মাস আগে আমার আর আফিয়ার ফেসবুকে পরিচয়। প্রথমে দুজনে ফ্রেন্ড ছিলাম। কথা বলতে বলতে কখন যে ভালোলেগে যাবে বুঝতে পারিনি। তারপর আমি তাকে প্রপোজ করি। সেও রাজি হয়ে যায়। তখন ওর ফ্যমিলি পিক দেয়। সেখানে দেখি আমার দাদুর চাচতো ভাই। ওর আপন নানা। তখন আমি তাকে সেটা বলি। সে বলে বরিশাল আসতে। আমিও রাজি হয়ে যাই। ওর জন্য আংটি ও কিনেছি। ওকে পড়িয়ে দিব। তাই।
সামির: সব ই তো ঠিক আছে। তা তোরা কি ব্রেকআপ করে ফেলেছিস। তাহলে ব্রেকআপ করার কারন কী?
আকাশে আবারো বিজলি চমকালো।
আমি: ওর ঘষাঘষির স্বভাব আমার ভালোলাগে না। ২ দিন আগে ওর আর ওর ফুপাতো ভাইয়ের সাথে কাপল পিক দিয়েছে। এটা দেখে আমার খুব রাগ হয়। তারপর ব্রেকআপ করে ফেলি। ও বলছে ওর নাকি শুধু ভাই হয়। কিন্তু আমার মন মানে না। আজ আবার তোর সাথে কাপল পিক তুলেছে। আমার রাগ আরো উঠে গেছে। আমি কাল ই চলে যাবো ঢাকা।
সামির: ও আচ্ছা। এখন বুঝতে পেরেছি। তলে তলে এতোকিছু হয়ে গেছে তোদের। এখন একজন আরেকজন দেখে এমন ভান করিস যে চিনিস ই না। সমস্যা নাই। তোর ভালোবাসা তোর কাছে ফিরিয়ে দিব ভাই। তুই চিন্তা করিস না।
আমি: একবার কারো থেকে মন উঠে গেলে। ২য় বার মন দেওয়া কঠিন। হয়তো ভালোই হয়েছে। সে হয়তো রিলেশন রাখবে না তাই সেই কাপল পিক দিয়েছিল।
সামির: আরে ভাই। বুঝোস না কেন? এটাও তো হতে পারে। তোকে জেলাস করানোর জন্য কাপল পিক দিয়েছিল।
আমি: আমি এতোকিছু বুঝি না। আমার কথা হচ্ছে আমি ছাড়া ওকে কেউ টাচ করতে পারবে না। ও শুধু আমার আর যেই ওকে টাচ করবে। তার হাত ভেঙ্গে দিব।
সামির: বাহ বাহ। এতো রাগ। তার মানে তুই ওকে সত্যি ই মন থেকে অনেক ভালোবাসিস। সমস্যা নাই, আমি ওকে বুঝাইয়া বলবো।
আমি: তোর কিছু বলতে হবে না। আমি এখানে ঘুরতে আসছি। ঘুরা শেষ হলেই চলে যাবো ঢাকায়। বরিশালের মেয়েরা ভালো না। সব খারাপ।
সামির: একটা মেয়ের জন্য পুরো সব মেয়েদের খারাপ বলা উচিত না।
আমি: যাই হোক।
এমন সময় ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। সামির দৌড়ে বৃষ্টি থেকে বাচার চেষ্টা করছে। আমি সেখানেই দাড়িয়ে আছি। আমার কালো শার্ট ভিজছে, কালো দাড়ি ভিজছে। কালো চোখ থেকে অশ্রু ঝড়ছে। বৃষ্টির পানিতে তা মিলিয়ে যাচ্ছে।
বৃষ্টিতে ভেজার কারনে জ্বর এসে গেল। আমি কাথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছি। খাটে বসে গল্প করছে সামির আর আফিয়া।
সামির: আমার এই ভাই আরিয়ান। ছোটবেলা থেকেই ওর রাগ, ভালোবাসার পরিমান বেশি। যার ওপর একবার রাগ করে। তার সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেয়। একবার আমার সাথে রাগ করে ৬মাস কথা বলেনি। তারপর ওর হাতে পায়ে ধরলাম। আর ক্ষমা করে দিলো। ও আবার ক্ষমাশীল। সবাইকে ক্ষমা করে দেয়।
আফিয়া: আচ্ছা। তাই নাকি। উনার কি হয়েছে। কাথা গায় দিয়ে শুয়ে আছে যে।
সামির: বৃষ্টিতে ভিজতে তো তাই মনে হয় জ্বর এসে গেছে। ও বেটা জ্বর হলেও অসুধ খাবে না। কোন ট্রিটমেন্ট করে না। বলে ২দিন পর এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে।
আফিয়া: হ্যা। আমি জানি। ও এমন ই।
সামির: কিছু বললা তুমি?
আফিয়া: না। তুমি স্যুপ খাবে। বাইরে অনেক বৃষ্টি পড়ছে আজ। দাঁড়াও স্যুপ বানিয়ে নিয়ে আসি।
আফিয়া চলে গেল আর কিছুক্ষণ পর ৩ বাটি স্যুপ নিয়ে আসলো।
আফিয়া: এই নাও তোমার স্যুপ। তোমার ভাইকে বলো উঠতে জ্বর হলে স্যুপ খেলে ওর ভালো লাগলো।
সামির: এই আরিয়ান। উঠ ভাই। তোর জন্য স্যুপ বানিয়ে নিয়ে আসছে দেখ।
আমি: আমি স্যুপ খাই না। ওকে বল ডাস্টবিনে ফেলে দিতে। ওর হাতের কিছু খাবো না।
সামির: ও এমনই জ্বর হলে মাথার তার ছিড়ে যায়। তখন কাকে কি বলে সে নিজেও জানে না। তুমি কিছু মাইন্ড করো না।
আফিয়া: না আমি মাইন্ড করিনি।
রাতে আমার জ্বর আরো বেড়ে গেল। হঠাৎ দেখি চারিদিক ঝাপছা লাগছে। কে যেন এসে আমার মাথায় জলপট্টি লাগিয়ে দিল। জ্বরের কারনে একটা ঘোরের মধ্যে আছি। মেয়েটার হাতে চুড়ি, পায়ে নুপুর। যখন হেটে যায় তখন নুপুরের শব্দ হয়। এটা কে? তারপর আমার মুখে ঔষধ দিয়ে পানি খায়িয়ে দিল। কে আমার সেবা করছে?
সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজেকে খুব ফ্রেশ মনে হচ্ছে। দেখি মাথায় কাছে ফ্রিতে বসে আছে আফিয়া। বসে ঘুমিয়ে পড়ছে৷ ওর পায়ের দিকে তাকালাম। হ্যা। নুপুর পড়া। ঘর থেকে বাইরে বের হতেই দেখি সামির আর দাদু চা খাচ্ছে। আমি তাদের পাশে গিয়ে বসলাম।
দাদু: আমার দাদু আরিয়ান আসছে। আরেক কাপ চা দাও তো। তো। আরিয়ান একটা কথা বলি তুমি তো বড় হইসো। এখন তো একটা বিয়া সাদি করা লাগে। তাই না।
আমি: সেরকমও তো বড় হইনি। আমার অনেক কাজিন আছে। এখনও বিয়েই করেনি। তারপরও হঠাৎ এই কথা কেন বললেন?
দাদু: আমার নাতনী আফিয়ার কে তোমার কেমন লাগে। মেয়ে হিসেবে ও কেমন?
এমন সময় চায়ের দোকানদার আমার হাতে চা দিল। আমি দাদুর কথা শুনে চায়ের কাপ মাটিতে আছাড় দিয়ে ভেঙ্গে ফেললাম। তারপর হাটছে লাগলাম।
সামির: দাদু ওরে আমি বুঝাইতাসি। আমি কোন টেনসন কইরেন না। ঠিক আছে? ওই আরিয়ান দাড়া আমি আসতেছি।
আমি নদীর পাড়ে এসে পড়লাম। একটা সিগরেট ধরলাম। দূর থেকে দৌড়ে আসলো সামির।
সামির: তুই কি আবাল। তুই বুঝিস না আফিয়া তোকে অনেক ভালোবাসে।
আমি: কিছু ভালোবাসা শুধু কষ্ট দেয়। এই যে দেখ আমি সিগারেট কে ভালোবাসি। কিন্তু এই সিগারেট আমার ক্ষতি করছে। আফিয়া হচ্ছে এই সিগারেট এর মতো৷
সামির: শোন। গতকাল রাতে আফিয়া আমাকে সব খুলে বলেছে। আর ওই তোর সেবা করেছে সারারাত ভরে।
কথাটা শোনে আমার একটু মায়া হলো।
সামির: ওর ফুপাতো ভাইয়ের সাথে ওর কোন প্রেমের সম্পর্ক নাই। ওর ফুপাতো ভাই তার গার্লফ্রেন্ড কে জেলাস করানোর জন্য ওরা ওভাবে পিক তুলছে। বুঝলি।
আমি এখনও সিগারেট টানছি।
সামির: আর ও তোকে মন থেকে ভালোবাসে। তুই একবার বোঝার চেষ্টা কর৷ না হলে যখন হারিয়ে ফেলবি। তখন আফসোস করে লাভ নাই।
আমি এবার নিজের ভুল বুঝতে পারলাম। সিগারেট মাটিতে ফেলে পা দিয়ে আগুন নেভালাম। তারপর দৌড়ে বাসায় আসলাম।
আমি: দাদু। আফিয়া কোথায়?
দাদু: ও তো ব্যাগ নিয়ে ওর মায়ের বাসায় চলে যাচ্ছে এই মাত্র বের হলো দেখলাম।
আমি: কোন দিকে গেছে। ওর নাম্বার টা দেও তো। আমি লোকেশন ট্রেস করে নিবো।
ওর নাম্বার নিয়ে আমার ব্যগের থেকে আংটি নিয়ে ছুটলাম রাস্তায়। আমার পেছনে আসছে সামির। আমি খুব দেরী করে ফেলেছি। এখন যদি ওকে না পাই। তাহলে কি হবে।
রাস্তা পেরিয়ে দৌড়াতে লাগলাম। লোকেশন দেখাচ্ছে বরিশাল সদরে। তার মানে সে ঘাটে চলে গেল। এখন মিনি লন্চে উঠলে তাকে ধরতে অনেক কষ্ট হয়ে যাবে। তাড়াতাড়ি একটা সিএনজি নিয়ে চলে আসলাম বরিশাল সদরে। সিএনজি থেকে নামতেই তাকে দেখলাম। কাধে ব্যাগ নিয়ে দাড়িয়ে আছে। তাকে দেখে আমার বুক ধ্বুক ধ্বুক করছে। আমি তার সামনে গেলাম।
আমি: আফিয়া। চলে যাচ্ছো। আর কিছুক্ষণ থাকলে ভালো হতো।
আফিয়া: কেন থাকবো? আপনি তো আমাকে সহ্যই করতে পারেন না। তাই ভাবলাম চলেই যাই।
আমি: যদি যেতে না দেই আটকে রাখি। তখন কি করবে।
আফিয়া: আপনি কি পাগল হয়েছেন। কিছুক্ষণ পর আমার লন্চ ছেড়ে দিবে আমি ও চলে যাব কাজীরহাট। তারপর হয়তো আমাদের আর দেখা হবে না।
আমি: থেকে গেলে হয় না। আমিও তো চলে যাব ঢাকা।
আফিয়া: থেকে কি করব? যে মানুষটার জন্য নানা বাড়ি আসছি। সেই আমাকে অবহেলা করলো। আমার ভালোবাসা বুঝলো না।
আমি: সরি। প্লিজ থেকে যাও।
আফিয়া: সরি বললে কি সব সমাধান হয়?
আমি: তাহলে এখন কি করবো কান ধরে উঠ বস করবো? ওকে তাই করি। এক, দুই, তিন।
আফিয়া: (মুচকি হেসে) রাস্তার মাঝখানে কি পাগলামি শুরু করলেন। থামেন তো। আপনাকে আর এসব করতে হবে না।
আমি: তার মানে তুমি মাফ করেছো। আচ্ছা!
এমন সময় সেখানে উপস্থিত হলো সামির।
সামির: ভাই। তুই আমাকে রেখে নাইকার কাছে চলে আসলি কেন? আমার এখন কোন দাম নাই। আমি মিলাইয়া দিলাম। কিন্তু?
আমি: আচ্ছা। যা পরে তোকে সিগারেট খাওয়াবো।
সামির আমার কানে কানে ফিসফিস করে একটা কথা বললো।
সামির: ওই যে রিংটা এনেসিস? হ্যা। আনলে ভাবীকে পড়াইয়া দে। বিয়ে করে নে৷ তারপর তাকে নিয়ে ঢাকা চলে যাব।
হঠাৎ আমার মনে পড়লো রিংয়ের কথা৷ আমি পকেট থেকে রিং এর বক্সটা খুললাম৷ তারপর হাটু গেঁড়ে বসে পড়লাম।
আমি: আফিয়া। উইল ইউ মেরি মি।
আফিয়া: ইয়েস। কেন নয়?
তারপর আমি আফিয়ার হাতে রিং পড়িয়ে দিলাম। সেখানকার সবাই হাত তালি দিতে লাগলো৷
আমি তাকে সবার সামনে জড়িয়ে ধরলাম। সে লজ্জায় মুখে লুকিয়ে ফেলল।
কিছু ভালোবাসা পূর্নতা পায়।
( সমাপ্ত)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন