শামীম: রুদ্র। তুই একটা প্লেবয়। তুই এতো মেয়েকে কিভাবে পটিয়ে ফেলিস বুঝি না। যেখানে আমাকে কোন মেয়েই পাট্টা দেয় না। দোস্ত। মেয়ে পটানোর টিপস গুলো আমাকে একটু বল। আমিও তোর মতো প্লে বয় হতে চাই।
আমি মোবাইলের স্ক্রিন থেকে চোখ সড়িয়ে তাকালাম শামীমের দিকে। বেচারা এতোবার রিজেক্ট খেয়েছে। এখন আমার কাছ থেকে মেয়ে পটানো শিখতে চায়।
আমি: দেখ একটা মেয়ের পেছনে কম হলেও ৪/৫ টা ছেলে ঘোরে। এখন যদি তুইও ঘুরিস। তাহলে সেই ৪টা ছেলে আর তোর মধ্যে কি তফাত থাকলো? তোকে হতে হবে স্পেশাল। তাহলেই দেখবি মেয়েরা তোর প্রতি আগ্রহ দেখাবে আর তোর পেছন পেছন ঘুরবে। বুঝলি?
শামীম: আচ্ছা। চেষ্টা করে দেখব। আর কোন টিপস নাই।
আমি: মেয়েদের পাট্টা দিবি না। তাহলে মেয়েরা তোকে পাট্টা দিবে। যত সুন্দর মেয়েই হোক। এমন ভান করবি তোর সামনে কিছুই না।
শামীম: কিন্তু আমার তো মেয়েদের সামনে গেলেই হাত পা কাপে। আর টয়লেট লাগে বার বার।
আমি: এরকম হলে তুই কখনই মেয়ে পটাতে পারবি না। আজীবন সিঙেল ই থাকবি।
এরকম সময় আমাকে সুনেরাহ কল দিল। আমি কল রিসিভ করলাম।
আমি: (ধমক দিয়ে) এই সময়ে কল দিয়েছো কেন? জানো না আমি ব্যস্ত থাকি। তোমাকে বলেছি রাত ১২ টার পর কল দিবা। কত মেয়ে আমাকে কল দেয়। তাদের ও তো সময় দিতে হয় বুঝো না কেন?
শামীম: কি রে। এভাবে মেয়েদের সাথে কথা বলিস কেন? তোর কি কোন দয়া মায়া নাই মনে। মেয়েটা কষ্ট পাবে তো।
আমি ফোন কেটে দিলাম।
আমি: আরে ধুর। কষ্ট পেয়ে চলে যাক। আমার কি? আমার কি মেয়ের অভাব। একটা মেয়ে গেলে ১০টা আসবে। আর আমি প্লেবয়। আমি মেয়েদের পেছনে ঘুরি না। মেয়েরা আমার পেছনে ঘুরে।
শামীম: একদিন তোর জীবনে এরকম মেয়ে আসবে। যেকিনা তোকে প্লেবয় থেকে ভালো বানিয়ে ছাড়বে। তখন তুইও ভালো হয়ে যাবি।
আমি: হইসে যখন আসবে তখনের টা তখন দেখা যাবে।
ঘুমিয়ে ছিলাম। সকাল ১০ টায় ফোনের রিংটনে ঘুম ভাঙলো। ফোন করেছে সুনেরাহ। আমি ফোন রিসিভ করলাম।
সুনেরাহ: হ্যালো। বেবী। কই তুমি। আমি কলেজ যাচ্ছি। একটু মিট করো প্লিজ।
আমি: মিট করলে আমার কি লাভ? আমি যা চাই দিতে পারবে তো?
সুনেরাহ : যা দুষ্ট আমার শরম করে তো। আচ্ছা। আসো দিবো। সমস্যা নাই।
চুমো খাওয়ার জন্য বিছানা ছেড়ে উঠলাম। তাড়াতাড়ি দাত ব্লাশ করে কালো শার্ট পড়লাম। ছেলেদের প্রতি মেয়েরা একমাত্র কালো শার্ট এই দূর্বল হয়। এটা প্লেবয় রা জানে।
রাস্তা দিয়ে দৌড়ে যাচ্ছি। হঠাৎ একটি মেয়ের সাথে ধাক্কা লেগে গেল। মেয়েটির হাতে বই ছিল। সেগুলো মাটিতে পড়ে গেল।
আমি: এই মেয়ে দেখে চলতে পারেন না রাস্তা ঘাটে। এসব আবুল কোথাথেকে যে আসে।
মেয়েটা বোরকা পড়া, চোখে কাজল দিয়েছে। আমি বইগুলো তুলে তার হাতে দিলাম।
আমি: নাম কি আপনার? কোন কলেজে পড়েন?
রুহি: আমার নাম রুহি। আইডিয়ার কলেজে পড়ি। ধন্যবাদ আমার হেল্প করার জন্য বায়।
আমি: ওকে বায়। পরে দেখা হবে।
আরো কিছুক্ষণ দৌড়ানোর পর দেখি রাস্তার পাশে দাড়িয়ে অপেক্ষা করছে সুনেরাহ। আমি তার কাছে গেলাম।
আমি: কি গো। চলো তোমাকে কলেজে দিয়ে আসি।
সুনেরাহ: একটা রিক্সা নাও তো আমি হাটতে পারব না।
আমি: আমার কাছে টাকা নাই। থাকলেও আমি মেয়েদের পেছনে টাকা খরচ করি না। আসলে আমার বাবার অনেক টাকা। কিন্তু সেগুলো আমার জন্য খরচ করি। কোন মেয়ের জন্য খরচ করব কেন?
সুনেরাহ: হইসে কিপটা কোথাকার।
আমি: ( রেগে) তুমি আমাকে কিপটা বললা কেন? তুমি জানো। আমি চাইলে তোমাকে কিনে নিতে পারি। দূর। প্রেম ই করব না তোমার সাথে ব্রেকআপ।
সুনেরাহ: আচ্ছা। সরি। এমন করো না প্লিজ। আচ্ছা। রিক্সা নাও। রিক্সার ভাড়া আমি দিব। আর তোমাকে সিগারেট ও খাওয়াবো। এখন খুশি।
আমি: সিগারেট খাওয়ালে ঠিক আছে। যাও মাফ করলাম। এখন টাকা দাও এক প্যকেট বেনসন কিনবো।
সুনেরাহ টাকা দিল আর আমি এক প্যকেট বেনসন কিনলাম। তারপর তাকে কলেজে পৌছে দিয়ে বাসায় আসলাম। গোসল করছিলাম এময় সময় আরেক গার্লফ্রেন্ড কল দিল রিয়া। আমি কল টা ধরলাম।
আমি: ( রেগে) এই সময়ে কেউ কল দেয়? এখন হচ্ছে গোসল করে ভাত খাওয়ার সময়। এই সময়ে আর কল দিবা না। গোসল করছিলাম তোমার জন্য আর করতে পারলাম না।
রিয়া: আচ্ছা। সরি, এই সময়ে আর কল দিব না। শোন। তুমি চাইলে আমি তোমাকে গোসল করিয়ে দিতে পারি।
আমি: ওকে। কবে গোসল করিয়ে দিবা বলো?
রিয়া: আজকে আমাদের বাসা খালি আছে চলে আসো। তোমাকে সাবান দিয়ে ভালো মতো গোসল করিয়ে দিব।
আমি: এই না হলে আমার গার্লফ্রেন্ড। দাড়াও আসতেছি এখনি।
তাড়াতাড়ি শার্ট প্যন্ট পড়ে রেডি হয়ে গেলাম। চকবাজারের মোড়ে রিক্সা থামতেই দৌড়ে গিয়ে লিফটে উঠলাম। দেখি লিফটে সেই সকালের মেয়ে রুহি।
আমি: তুমিও এই বিল্ডিংয়ে থাকো। আচ্ছা। কত তলায়?
রুহি: আমি ৬ তলায় থাকি।
আমি: ওহ্। আচ্ছা। অন্য একদিন তোমার বাসায় যাব চা খেতে। ঠিক আছে?
রুহি: না। না। আমার ফ্যমিলি এলাউ করে না ছেলে বন্ধু।
আমি: আমি তো কারো বন্ধুও না ভাইও না। ওকে তাহলে কোন রেস্টুরেন্টে চলো যাই চা খেতে।
রুহি: না। সেটাও পারব না আমি। আমার এসব করা নিষেধ।
এমন সময় লিফট খুলে গেল আর রুহি বের হয়ে গেল। আমি নামবো ১০ তলায়। তাই লিফটেই ছিলাম আর ভাবছিলাম।
আমি: জীবনের প্রথম কোন মেয়ে আমাকে পাট্টা দিল না। মুখের ওপর না বলে দিল। এই মেয়ের মধ্যে নিশ্চই স্পেশাল কিছু আছে। যেকরেই হোক, এই মেয়েকে পটাতে হবে।
লিফট থেমে গেল ১০ তলায়। আমি বের হয়ে কলিংবেল টিপতেই রিয়া দরজা খুলে দিল। আমি তাকে জড়িয়ে ধরে বিছানায় নিয়ে খেলাম।
আমি: কি গো বলছো না যে গোসল করিয়ে দিবে। এখন চলো গোসল করি। এমনিতেও তুমি যে হট। উফ। আমার এখনই গরম লাগছে। তোমাদের এখানে এতো গরম আর তুমি জামা কাপড় পড়ে আছো কিভাবে? সব খুলে ফেলো।
কথাটা বলে আমি নিজেই বিয়ার সব জামাকাপড় খুলে ফেললাম। গোসল করা শেষে আমি বের হয়ে গেলাম। এই মেয়েটা এখন ব্লক করে দিব।
লিফট দিয়ে নিচে নামছি। হঠাৎ ৬ তলায় লিফট থেমে গেল। আর তখন রুহি লিফটে উঠলো। ওর হাতে কি যেন কাগজ।
আমি: কি ম্যডাম। কোথায় যাওয়া হচ্ছে? হাতে কি এটা কিসের কাগজ।
রুহি: আমার আম্মু খুব অসুস্থ। উনার জন্য ঔষধ কিনতে বাইরে যাচ্ছি।
আমি: তা। কোন ছেলে কি নেই তোমার পরিবারে যে অসুধ এনে দিবে?
রুহি: না। আমার কোন ভাই-বোন নেই। আমার বাবা মালয়েশিয়া তে কাজ করে। আর আম্মু খুব অসুস্থ। এখন আমাকেই দৌড়াদৌড়ি করতে হচ্ছে।
আমি: চলো। আমি তোমাকে ঔষধ কিনে দেই। যদি তোমার আপত্তি না থাকে।
রুহি: থ্যাংকু ভাইয়া।
আমি: (রেগে) ভাইয়া মানে একটা থাপ্পড় দিব তোমাকে। আমি তোমার কোন জন্মের ভাই?
রুহি: সরি।
আমি: আচ্ছা। দাও কাগজটা দাও দেখি কি কি অসুদ নিতে হবে দেখি।
রুহি আমার হাতে কাগজটা দিল।
আমি: এখানে যেসব অসুদ এর নাম লেখা। সেগুলো তো অন্য রোগের তোমার আম্মুর কি রোগ হয়েছে?
রুহি: আমার আম্মুর পেটে পাথর আর উনার শরীর খারাপ।
আমি: ( রেগে) এগুলো তো বাড়তি অসুদ দিয়েছে। ডাক্তার রা আজকাল রোগি না দেখেই অসুদ দিয়ে এটা ব্যবসা শুরু করে দিয়েছে। কোন হাসপাতাল থেকে নিয়েছো এটা?
রুহি হাসপাতালের নাম বলল। ( কোন হাসপাতালের বদনাম করতে চাই না। তাই এখানে সেই হাসপাতালের নাম লিখলাম না।)
রুহিকে নিয়ে চলে আসলাম সেই হাসপাতালের সামনে।
আমি: তুমি বাইরে দাঁড়াও। ডাক্তারের নাম কি যেন বললে। হ্যা। মনে পড়েছে। আমি একটু ভেতর থেকে আসি।
হাসপাতালের ভেতরের গিয়ে দেখি ডাক্তার সাহেব কানে কটনবার দিয়ে কান পরিষ্কার করছে। কলার ধরে দিলাম কয়েকটা ঘুষি।
আমি: (রেগে) সালা। কুত্তার বাচ্চা। বসে বসে টাকা ইনকাম করিস। মানুষ বাচলো কি না মরলো। এতে তোদের কিছু যায় আসে না? হু। তোরা প্রেসকিপসন না দেখেই ঔষধ লিখে দিস কেন? তোরা ডক্টর মানুষের সেবা করবি। তা না করে কেন মানুষের জীবন নিয়ে খেলিস।
ডাক্তারের ঠোঁট কেটে রক্ত বের হচ্ছে। সেখানে হারপিক ঢেলে চলে আসলাম বাইরে। রুহি দাড়িয়ে অপেক্ষা করছিল।
আমি: চলো। কাজ শেষ হয়েছে।
রুহি: আপনি কি ডাক্তার কে মেরেছেন। আপনার হাতে রক্ত, তাই বললাম।
আমি: মার খাওয়ার কাজ করলে তো মারবোই। আগে মানুষ ডাক্তার হতো মানুষের সেবা করার জন্য। এখন মানুষ ডাক্তার হয় টাকা কামানোর জন্য। এই হচ্ছে আমাদের দুনিয়া।
ডাক্তারকে মেরে আমার হাত একটু কেটে গিয়েছিল। তাই সেখানে ফু দিচ্ছিলাম বার বার৷ রুহি সেটা লক্ষ্য করে। সে তার হ্যন্ডব্যাগের থেকে রুমাল বের করে আমার হাতে বেধে দিল।
এই প্রথম আমি আমার জন্য কারো ভালোবাসা দেখলাম। এতোদিন আমি ভেবেছি ভালোবাসা মানে শরীর। এখন তো দেখছি শরীরের ভালোবাসায় ক্ষনিকের সুখ। এখন যে আমার মনে একটা হাওয়া বয়ে গেল ভালোবাসার তা বলে বোঝানো যাবে না। আমি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম রুহির চোখের দিকে।
রুহি: হয়েছে। এখন চলুন। আমাকে বাসায় পৌছে দেন। আমি বাড়ি গিয়ে আম্মু অসুদ খাওয়াতে হবে।
আমিও ভদ্র ছেলের মতো মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানালাম।
রুহিকে বাসায় পৌছে দিয়ে আমি খাটে বসে আছি ঘুম আসছে না। সারাক্ষণ রুহির কথা মনে পড়ছে। শামীম আমার রুমমেট সে বিষয়টা লক্ষ্য করলো।
শামীম: কিরে। মামা। তুই কি প্রেমে পড়সোস। তুই না প্লে বয়। মেয়েদের খেয়ে ছেড়ে দিস। এখন তোর আবার কোন মেয়েকে ভালোলাগলো। কোন মেয়ে তোর মনে জায়গা করে নিল?
আমি: আরে। ফালটু প্যাচাল ভাল্লাগে না। আমি রুদ্র কখনও প্রেমে পড়ে না। আমার প্রেমে মেয়েরা পড়বে।
শামীম: তোর চোখ দেখে বুঝা যাচ্ছে। তুই আমার কাছ থেকে কিছু লুকাচ্ছিস। বল দোস্ত। কি হয়েছে তোর।
এমন সময় কল দিল সুনেরাহ। আমি কলটা রিসিভ করলাম।
আমি: হ্যালো। হ্যা। বলো। কি করো?
সুনেরাহ: একটা রোমান্টিক হট গল্প শোনাও না। আজ অনেক মুড এ আছি। বাইরে বৃষ্টি পড়ছে। তুমি কাছে থাকলে রোমান্স করতাম।
আমি: ছি: এসব কি বলছো। কিছু খেয়েছো নাকি আজ?
সুনেরাহ: তুমি ই তো সবসময় বলো। আমার সামনে পেলে নাকি গিলে খাবে। এখন তোমার কি হলো। মন খারাপ।
আমি: দেখো। এখন আমার এসব বাজে কথা শুনতে বা বলতে ভালোলাগে না। আর তুমি আর কল দিবা না। ব্রেকআপ।
সুনেরাহ: হ্যালো। শোনো। ফোন রেখো না প্লিজ।
আমি ফোন কেটে দিলাম। কি হলে আজ আমার আমি না প্লেবয়। কিন্তু আমার মন আজ ভালোবাসা চাইতে কেন?
রিয়া ফোন করেছে। আমি ফোন ধরলাম।
আমি: হ্যালো। রিয়া। হ্যা। বলো। কি বলবা।
রিয়া: তুমি আজকে আমাকে যা সুখ দিয়েছো। তা আমি কোনদিন ভুলবো না। লাভ ইউ সো মাচ। কালকেও বাসা খালি। তুমি কি আসতে পারবা?
আমি: ফোন রাখ বেয়াদব মেয়ে কোথাকার। তোর সাথে ব্রেকআপ।
ফোন কেটে দিলাম।
শামীম: কিরে দোস্ত। তোর কি হইসে? একসাথে ২টা ব্রেকআপ করে ফেললি। ব্রেকআপ না করে আমাকেও তো দিয়ে দিতে পারতি। তাই না।
আমি: চুপ কর। যা ঘুমা গিয়ে।
পরেরদিন রোদের মধ্যে দাড়িয়ে আছি আইডিয়ার কলেজের সামনে এই কলেজে রুহি পড়ে। ওর জন্য অপেক্ষা করছি।
এমন সময় রুহি বের হয়ে আসলো। আমি তাকে লজ্জায় চোখ নামিয়ে ফেললাম। সে আমাকে দেখে মুচকি হেসে আমার সামনে আসলো।
রুহি: আপনি এখানে কি করছেন? আপনার গার্লফ্রেন্ড ও কি এই কলেজে পড়ে। তার জন্য কি অপেক্ষা করছেন।
আমি: আসলে আমার গার্লফ্রেন্ড ছিল। এখন নেই। তুমি কি আমার গার্লফ্রেন্ড হবে?
রুহি: না। আমি গার্লফ্রেন্ড হবো না।
কথাটা শুনে যে কষ্ট পেলাম। হাতের ঘড়ি খুলে আছাড় মারলাম মাটিতে। রুহি একটা সিএনজিতে উঠে চলে যাচ্ছে। আমি দৌড়ে সি.এন.জি তে উঠলাম। তার পাশে বসলাম।
আমি: কেন? আমার গার্লফ্রেন্ড হবে না। আমার মাঝে কি দোষ?
রুহি: আমি জানি আপনি একটা প্লেবয়। মেয়েদের শরীর নিয়ে খেলেন। তারপর তাকে ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলেন।
আমি: এসব কথা কে বলেছে তোমাকে?
রুহি: আমাদের বাসায় ১০ তলায় রিয়া আমার বান্ধবী। ও আমাকে সব খুলে বলছে। আপনি মেয়েদের কে প্রেমের নামে এসব করে বেড়ান। আপনি তার সাথেও এসব করেছেন। এখন আর তাকে আপনার ভালোলাগে না।
আমি: আচ্ছা। কি করলে তুমি আমাকে ভালোবাসবে?
রুহি: আপনি কি ভালো ছেলে হতে পারবেন? সিগরেট ছাড়তে পারবেন?
আমি: না। সিগারেট ছাড়তে পারব না।
রুহি: তাহলে আপনি আপনার রাস্তায় থাকেন আর আমি আমার রাস্তায়।
আমি: আমি টানা ১মাস তোমার কলেজের সামনে দাড়িয়ে থাকবো। যতক্ষন না তুমি রাজি হবে। ততোক্ষণ।
কথাটা বলে সি. এন. জি থেকে নেমে একটা সিগরেট ধরালাম। বাসায় এসে শুয়ে আছি মন খারাপ।
শামীম: কিরে দোস্ত। তোর মন খারাপ কে? ছ্যকা খাইসোস নাকি? তুই তো সবসময় ছ্যকা দেস। তোরে আবার কে ছ্যকা দিল? ওই মেয়ের নাম কী?
আমি: দূর মজা করিস না তো। আমাকে একা থাকতে দে।
শামীম: তোর নাম্বার ব্লকলিস্ট। তাই সুনেরাহ আর রিয়া আমাকে কল দিয়েছে। সুনেরাহ বলছে ওকে মাফ করে দে। আবার কথা বল। রিয়া বলছে তোকে না পেলে হারপিক খাবে।
আমি: এতোকিছু থাকতে হারপিক কেন খাবে? ওকে বল ইদুর মরা বিষ খেতে।
শামীম: আচ্ছা। পরের বার ফোন দিলে বলে দিব। যে তুমি ইদুর মরা বিষ খাও। মেয়েটা তোকে রিয়েল লাভ করে পিচ্চি তো তাই। তুই কিছু মনে না করলে আমি ওর সাথে প্রেম করি।
আমি: ওয়াক থু। আমার খাওয়া জিনিস তুই কেন খাবি? তোর কি ঘৃনা লাগে না।
শামীম: সমস্যা নাই। বন্ধু মানে সব সেয়ার করে খাওয়া।
আমি: আচ্ছা। তোর যা মন চায় কর। আমাকে বিরক্ত করিস না।
একদিন, দুইদিন চলে গেল। আমি রুহির কলেজের সামনে দাড়িয়ে আছি। ঝড়, তুফান, রোদ, বৃষ্টি। কোন কিছুই আমাকে থামাতে পারে না। এভাবে চলে গেল একমাস।
আজ রুহি কলেজ থেকে বের হয়ে দেখলো আমি দাড়িয়ে নাই। তার বুকের ভেতরটা হাহাকার করে উঠলো। আজ তার কোন কাজে মন বসছে না। তার কাছে মনে হচ্ছে সব আছে কি যেন নেই। তারপর রিয়ার থেকে নাম্বার নিয়ে আমাকে কল দিল। আমি তখন মুভি দেখছিলাম সানাম তেরী কাসাম।
রুহির কল পেয়ে আমি কলটা রিসিভ করলাম।
আমি: হ্যালো। কে বলছেন?
রুহি: আমি রুহি। আজকে আপনি কলেজের সামনে দাড়াননি কেন?
আমি: দেখুন ম্যডাম। আমার একতরফা ভালোবাসায় কিছু আসে যায় না। তাই সরে আসছি।
রুহি: কে বলেছে আপনার একতরফা ভালোবাসা?
আমি: মানে তুমিও আমাকে ভালোবাসো।
রুহি: (লজ্জা পেয়ে) হু। কাল কলেজের সামনে দাড়াইয়েন। আপনাকে নিয়ে ঘুরতে যাবো।
আমি: আচ্ছা। ঠিক আছে।
ফোনটা কেটে দিলাম।
আমি: শামীম। তোর লুঙ্গি টা কইরে দোস্ত?
শামীম: কেন? কালকে কি লুঙ্গি পড়ে দেখা করতে যাবি?
আমি: আরে না। লুঙ্গি ডেন্স দিব।
পরেরদিন কালো শার্ট পড়ে অপেক্ষা করছি কলেজের সামনে রুহি বেরিয়ে এলো। তারপর একটা রিক্সা নিলাম। আমি মুগ্ধ হয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছি। সে বার বার চোখ সড়িয়ে নিচ্ছে।
আমি: যদি কিছু মনে না করো আমি তোমার হাতটা ধরি।
আমি তার হাতটা ধরে নিজের বুকের মাঝে রাখলাম। তারপর গান ধরলাম।
আমি: আমার ভেতরও বাহিরে অন্তরে অন্তরে আছো তুমি রিদয় জুড়ে। আমার ভেতরও বাহিরে অন্তরে অন্তরে আছো তুমি রিদয় জুড়ে। দিও তোমার মালা খানি বাউলয়ের এই মনটারে।
রুহি লজ্জা পেয়ে বার বার চোখ বন্ধ করে ফেলছে। বুড়িগঙ্গা ব্রিজের সামনে এসে রিক্সা থেমে গেল। একটা নৌকা ভাড়া করলাম।
নৌকায় শুয়ে আছি রুহির হাটুতে মাথা রেখে। রুহি আমার চুলে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।
আমি: আচ্ছা। রুহি। তুমি এতো দেরীতে রাজি হলে কেন?
রুহি: কারন আমি তোমাকে পরীক্ষা করলাম যে তুমি আমাকে সত্যি ভালোবাসো কি না।
আমি: আমি কতদিন ভিজেছি বৃষ্টিতে। তোমার কি এসব দেখে একটুও মায়া হয়নি।
রুহি: মায়া হয়েছিল। মন চেয়েছিল তোমার চুল মুছে দেই আমার ওড়না দিয়ে। কিন্তু লজ্জায় সামনে যেতে পারিনি।
আমি রুহির হাত ধরলাম। তারপর পকেট থেকে আংটি বের করে তাকে পড়িয়ে দিলাম। রুহির হাতে একটা আংটি দিলাম। সেও আমাকে পড়িয়ে দিল।
আমি: এখন থেকে আমি শুধু তোমার আর তুমি শুধু আমার। আমি আর অন্যমেয়েদের দিকে তাকাবো না। আমি ভালো হয়ে গেছি।
রুহি: অন্য মেয়েদের দিকে তাকালে মাইর দিব মাইর। বুঝলেন।
আমি: আই লাভ ইউ রুহি।
রুহি: লাভ ইউ ২।
আকাশে ঝলমলে রোদ। চারিদিকে ধুলোবালি রাস্তাময়। তার মাঝে নদী, তার মাঝে আমি আর রুহি। বেচে থাক কিছু ভালোবাসা।
খারাপ ছেলেরা সত্যিকারের ভালোবাসা পেলে ভালো হয়।
সত্যঘটনা থেকে নেওয়া এই গল্প।
(সমাপ্ত)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন