সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

নীল আকাশ/ দুষ্টু মিষ্টি ভালোবাসার গল্প/ Rudro Siyam

আমাদের বেশিরভাগ মানুষের  আফসোস থাকে যে প্রিয় মানুষটার সাথে বিয়ে হলো না কেন? এই গল্পে আয়ান ও লিলি। দুজনে প্রেম করে বিয়ে করে। এখন তাদের জীবন কি সুখের হয়েছিল? 


আয়ান ঘুমাচ্ছিল। লিলি এসে তার ওপর এক বালটি জল ঢেলে দিল। আয়ান হুরমুড় করে উঠে বসলো।


লিলির হাতে লাঠি। সে আয়ানকে বলছে, বিয়ের আগে তো বলছিলা যে কোন কষ্ট করতে হবে না। আর এখন তুমি সারাদিন ঘুমাও। আমি কেন মেয়ে মানুষ হয়ে কাজ করে সংসার চালাবো?


আয়ান কোন রিয়েক্ট করে না। তার কাছে এসব ব্যপার এখন সয়ে গেছে কথা আর গায়ে লাগে না। আয়ান উঠে শার্ট পড়ে আর ঘর থেকে বের হওয়ার সময়। আয়ান বলে, তোমার কাছে ১০টা টাকা হবে বিড়ি খাবো?


লিলি এবার আরো রেগে যায়। সে আয়ানকে দৌড়ে মারতে আসে আর আয়ান ও পালিয়ে যায়। আজ শুক্রবার বলে তার বউ লিলি ঘরেই আসে। চায়ের দোকানে আসতেই আয়ান আলিফকে দেখতে পেয়ে খুশি হয়ে যায়।


আলিফ আয়ানকে দেখে বলে, দেখ দোস্ত।টাকা পয়সা নাই। চা খেলে সিগারেট খেতে পারবি না। আবার সিগারেট খেলে চা খেতে পারবি না। যেকোন একটা চুজ কর।


আয়ান বলে, চা ও খাবো সিগারেট ও খাবো।আজ বউয়ের ব্যাগ থেকে ৫০০টাকা চুরি করেছি। পার্টি হবে দোস্ত।


এদিকে লিলি যখন বাজার করার জন্য তার ব্যাগে হাত দেয়। তখন দেখে যে টাকা টা নেই।আর বুঝে ফেলে আয়ান চুরি করেছে। যার কারনে আজ তার বাজার করা হয় না। ২টা ডিম বাকি নিয়ে আসে দোকান থেকে। 


এদিকে আয়ান টাস খেলতে বসে পড়ে তার বন্ধুদের সাথে।  ঠোটের কোনায় সিগারেট টানতে টানতে সে টাস এর চাল দেয়। আর তার টাকা দ্বিগুন হয়। মানে এখন তার কাছে ১হাজার টাকা হয়ে যায়। কিছুক্ষন পর ই সে আবার হারতে হারতে শুন্যপকেটে বাসায় ফিরে আসে।


বাসায় এসে দেখে লিলি কেমন রেগে আছে তার ওপর আর লিলি বলে, তুৃই কেন ব্যাগের থেকে টাকা চুরি করলি? আজকে না খেয়ে থাক। তোর জন্য আমার লাইফটা আজকে এরকম। ( আয়ান এসব কথা বন্ধ করার জন্য লিলিকে জড়িয়ে ধরে তার ঠোঁটে ঠোট রেখে কিস করে। আর লিলিও কিছুক্ষন পর শান্ত হয়ে যায়।)


লিলি টেবিলের ওপর একটা কাগজ রেখে বলল, এখানে সই করে দাও।

আয়ান বলল, এটা কিসের কাগজ?

লিলি বলল, ডিভোর্স প্যাপার।


আয়ানের হঠাৎ দম বন্ধ হওয়ার মতো হলো। তার বুকে কে যেন মুচড়ে দিল।

আয়ান বলল, তুমি ফাজলামি করছো? তাই 

না? 


লিলি বলল, না.।আমি তোমার ছন্নছাড়া জীবনে বিরক্তি হয়ে গেছি। তুমি কি ছিলে? এখন কি হয়ে গেলে? আমি ভেবেছিলাম বিয়ের পর তুমি ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু বিয়েরপর তোমার পাগলামি আরো বেড়ে গেছে। আমি আর তোমার সাথে থাকতে পারবো না। হয়তো তুমি নিজেকে বদলাও নয়তো ডিভোর্স প্যাপারে সাইন করো। 


আয়ান কাদো কাদো গলায় বলল, দেখো। আমার আর এমন হবে না। আমি ভালো হয়ে যাবো বিশ্বাস করো।আমি কোন নেশাও করবো না। আর সংসারও আমি চালাবো।


লিলি বলল, এরকম কথা তুমি আমাকে আরো ১০বার বলেছো। প্রথম দুই একদিন কথা মতো চলো।তারপর আবার আগের মতো। আমি আর এখন তোমাকে বিশ্বাস করতে পারছি না। আমি বাবার বাড়ি চলে যাচ্ছি চিরকালের জন্য। তুমি অন্যকারো সঙ্গে বেধো ঘর।


লিলি চলে যাচ্ছে। আয়ান তাকিয়ে দেখছে লিলির চলে যাওয়া। কিন্তু তাকে আটকানোর কোন চেষ্টা করছে না। কারন আয়ান ভাবছে লিলি তাকে ছাড়া বাসতে পারবে না। সে ২দিন পর ই আবার ফিরে আসবে। এটা ভেবে আয়ান একটা সিগারেট ধরালো।


লিলির সাথে আয়ানের পরিচয় গ্রামে। যখন আয়ান তার মামার বাড়ি ঘুরতে যায়। তখন সে লিলিকে দেখে মুগ্ধ হয়। লিলিকে সে প্রপোজ করলে লিলি বলে তার বাবা মাকে কনভেন্স করতে। তাই আয়ান কিছুদিন লিলির বাবার পাশে কিছুদিন একসাথে নামাজ পড়ে আর লিলির বাবা আয়ানকে পছন্দ করতে শুরু করে। একদিন আয়ান তার বাবাকে নামাজ শেষ হওয়ার পর বলে, আংকেল। আপনার মেয়েকে আমি বিয়ে করতে চাই। তারপর তাদের দুজনের বিয়ে হয়।


প্রথম এক মাস আয়ান ঠিক মতো কাজ করে আর সংসার চালায়। কিন্তু তারপর ই তার এসবে একঘেয়ামি চলে আসে। সে লিলির প্রতি বিরক্ত হয়ে তার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। একদিন তো লিলিকে কথা কাটাকাটি হলে সে লিলির ওপর হাত তুলে।


লিলি তার গ্রামের বাসায় এসে পৌছালো দুপুরবেলা। সবাই তাকে দেখে অবাক। সে হঠাৎ উপস্থিত হয়েছে।


সন্ধাবেলা লিলি পুকুর পাড়ে তার মামীকে সব খুলে বলছে। লিলি বলল, মামী আয়ান ভালো ছেলে না, ও এখন নেশা করে আর ভবঘুরে। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে রাত ২টায় ঘরে আসে। আমার আর ওর সাথে সংসার করা সম্ভব না।


লিলির মামির নাম হাফসা। হাফসা তাকে বললেন, দেখ। কষ্ট করেই সংসার করতে হয়। আমরা সংসার করছি না। আর ও তো ভালো ছেলে। তোর বাবাই তো বিয়েটা দিল।


লিলি বলে, বিয়ের আগে ও ভালোই ছিল। কিন্তু বিয়ের পর যে কেন এমন হয়ে গেল? জানি না। 


হাফসা বললেন, তুই যে বেচারাকে রেখে এসেছিছ। ও কি রাধতে পারে? ব্যপারে খাবে কি?


লিলির মনে পড়লো যে আয়ান রান্না করতে পারে না। একটা ডিমও ঠিকমতো ভাজতে পারে না। এটা ভেবে লিলি চিন্তিত হয়ে গেল। সে তার মামীকে বলল, আসলেই তো? এখন বেচারা কি করছে কে জানে? হয়তো খুদার জ্বালায় না খেয়ে আছে।


এদিকে আয়ান লিলি চলে যাওয়ার পরই খুশিতে নাচতে থাকে। তার বন্ধু রবিকে কল করে বলে, দোস্ত। ঘরে বউ নাই, প্যারাও নাই। আজ সারারাত আমার ঘর খালি পার্টি হবে।


সন্ধাবেলাই আয়ানের বন্ধুরা ঘরে আসতে থাকে। তাদের সাথে কোলাকোলা চিপস আর সিগারেট ছিল। আয়ান বলে, আজ কোন তাস খেলা হবে না। আজ আমরা সবাই মিলে ভুতের ছবি দেখবো। বলেই চিল্লায়ে উঠে ওখানে থাকা সবাই। হুরররে.....


সকাল ভোর হতেই লিলি বাসে করে রওনা দেয় ঢাকা তে। তার খুব চিন্তিত হচ্ছিল আয়ানের জন্য। আয়ানের যদি কিছু হয়ে যায়। তাহলে সে নিজেকে ক্ষমা করতে পারবে না। 


ঘরে ঢুকতেই লিলি দেখে আয়ান ঘুমিয়ে আছে। সারাঘর নোংরা হয়ে আছে। আয়ান ঘুমের ঘোরে বলল, দোস্ত। একটা সিগারেট দে না।


লিলি প্যাকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে আয়ানের ঠোটে দিল। আয়ান এখনও চোখ খুলেনি। সে ঘুমের ঘোরে সিগারেট খাবে। তারপর সিগারেট শেষ করে চোখ খুলবে। তাই সে চোখ বন্ধ থাকা অবস্থাতেই বলল,  কেউ একটু আগুন দে।

লিলি লাইটার দিয়ে আগুন জ্বালালো সিগারেটে। তারপর দুরের সোফায় বসলো।

আয়ান ভাবছে তার বন্ধু বোধ হয় সিগারেট ধরিয়ে দিয়েছে।


সিগারেট শেষে যখন আয়ান চোখ খুললো। তখন দেখলো লিলি সোফায় বসে আছে। আয়ান প্রথমে ভাবলো সে কি স্বপ্ন দেখছে?

লিলি তার সামনে বসে আছে। আয়ান ভয়ে উঠে বসে জানালা দিয়ে সিগারেট ফেলে দিল। আর ভদ্র সাজার অভিনয় করছে।


লিলি বলল, আমি একদিন মাত্র ঘরে ছিলাম না আর ঘরটাকে কি করে ফেলেছো? এভাবে কি জিবন চলবে? কোন কাজ তো করতে হবে? 


আয়ান রেগে বলল, কি কাজ করবো বলো?


লিলিও রেগে বলল, যে কাজ ই দেই। সে কাজেই তুৃমি ব্যর্থ। দুইজন কাজ করো। তারপর মালিকের সাথে ঝগড়া করে কাজ ছেড়ে এসে পড়ো।


আয়ান বলল, তো, মালিক উল্টা পাল্টা কথা বললে তো ঝগড়া হবেই।


লিলি বলল, তোমার সমস্যা কী জানো?


আয়ান বলল, কী?


লিলি বলল, তুমি বেকার। তোমার জন্য আমাকে কথা শুনতে হয়। বাইরে মেয়েদের কাজ করলে যে কি পরিমাণ হ্যারেজমেন্ট হতে হয়। তা তুমি কিভাবে বুঝবে?


আয়ান এবার লিলির এসে লিলির হাত দুটো চেপে বলল, এবার থেকে তোমাকে আর কষ্ট করতে হবে না। আমি বাইক চালাবো। আর ডেলিভারী ম্যানের কাজ করবো। তুমি তোমার বাবার বাড়ির থেকে টাকা এনে দাও বাইক কেনার জন্য। 


লিলি খুশি হয়ে বলল, সত্যি তুমি কাজ করবে?


এটা বলে আয়ানকে জড়িয়ে ধরে। আয়ানও তাকে জড়িয়ে ধরে।


লিলি তার মাকে ফোন করলো।

_আম্মি আমার কিছু টাকা লাগবে

_কত?

_৫০ হাজার।

_ এতো টাকা দিয়ে কি করবি?

_ এতো কৈফিয়ত দিতে পারব না। দিবে কিনা সেটা বলো।

_এতো টাকা আমি কই পাবো?


লিলি ফোন কেটে দেয়। 


এদিকে চায়ের দোকানে আয়ান মন খারাপ করে বসে থাকে। আয়ান চাওয়ালা কে বলে, মামা। চা দাও।

চাওয়ালা বলে, চা নাই। আগের বাকির টাকা দে। তারপর চা পাবি।

এমনি সময় ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল এক অন্ধবুড়ো ভিক্ষুক। আয়ান সেখানে দৌড়ে গিয়ে ভিক্ষুকের বাটি থেকে ২০টাকা তুলে নেয়। তারপর বুড়ো ভিক্ষুক কে ধন্যবাদ জানিয়ে আবার চলে আসে চায়ের দোকানে।


লিলি কিস্তি অফিসে আসে। বাইকের ব্যপারে কথা বলতে। তারা সবকিছু বুঝিয়ে দেয়। কিস্তিতে বাইক নিলে কিভাবে পরিষধ করতে হবে। সব কিছু ডিটেলসে বলে। লিলি কাগজে সই করে দেয়।


এসবের পর লিলি তার অফিসে যায় বসের সাথে কথা বলতে। যে সে আর কাজ করবে না। লিলি একটা ব্যাংকে কাজ করতো। তবে এই ব্যাংকের স্যালারী খুব কম। তবুও সংসার চলে যায়। লিলি তার বসকে বলে, সে আর এই কাজটা করবে না। বলে চলে আসে।


তারপর লিলি দারাজ অফিসে দেখা করতে যায়। যে এখানে কোন ডেলিভারী বয় লাগবে কিনা? দারাজ বলে, না। তাদের লাগবে না।

তারপর সে অন্য একটা কম্পানিতে যায়। এটাও দারাজের মতো। তবে এতো নাম করা না। এখানে আবার লোকের দরকার ছিল। তাই তারা লিলিকে হ্যা বলে দেয়। লিলি খুশি হয়ে বাড়িতে ফিরে।


আয়ান রাতে মদ খেয়ে বাসায় ফিরছিল। এমন সময় তাকে দুজন পুলিশ ধরে। পুলিশ বলে, দাড়া তোকে চেক করবো? 

আয়ান খুব ভয় পেয়ে যায়। এটা ভেবে যে সে মনে হয় ধরা পড়বে। 


এদিকে লিলি তার জন্য বাসায় অপেক্ষা করছে। আয়ানকে সে সারপ্রাইজ দিবে। বাড়ির নিচে আয়ানের কালো বাইক রাখা আছে। কিন্তু আয়ান যে এখনো বাসায় ফিরলো না। 


আয়ান রাতে মদ খেয়ে বাসায় ফিরছিল। তার সাথে ছিল তার বন্ধু আলিফ। 


আলিফ: দোস্ত! আমার জানি কেমন লাগছে। পেটে মোচড় দিচ্ছে। বমি আসতেছে।


আয়ান: মদ খেয়েছিছ। বমি তো আসবেই।


আলিফ: আমার কেন জানি খুব পেটে ব্যথা করছে।


আলিফ পেটে হাত দিয়ে মাটিতে পড়ে গেল। আয়ান একটা রিক্সা ঠিক করে। 


রিক্সায় আলিফ অনেকবার বমি করেছে। কিন্তু সেখানে বমি ছিল রক্তের। সে রক্ত বমি করেছে। তার অবস্থা খুব খারাপ। রিক্সায় আয়ান আলিফের হাত শক্ত করে ধরে।


আলিফ: আমি মনে হয় আর বাচবো না দোস্ত। আমার পেটে পাথর হয়েছে। 


আয়ান: আরে। তোর কিছু হবে না। আমি আছি তো। 


অবশেষে রিক্সা থামলো মির্ডফোর্ট হাসপাতালের সামনে। কিন্তু ততোক্ষণে খুব দেরী হয়ে গেছে।

আলিফ মারা গেছে। ডাক্তার রাও তাই বলেছে। অতিরিক্ত মদ্যপান, নেশা করার কারনে সে মারা গেছে।


আলিফের লাশ পড়ে আছে। তার পরিবারের কেউ আসেনি। কারন আলিফ নেশা করে। এটা ওর পরিবারের সবাই জানতো।


আয়ান ও তার কিছু বন্ধুরা মিলে গোসল করিয়ে আজিমপুরে কবর দেয়। 


এই ঘটনা আয়ানের জীবনকে পুরোপুরি বদলে দেয়। সে বুঝতে পারে খারাপ হয়ে মারা গেলে কোন দাম নেই। আলিফের জন্য তার কোন বন্ধু কাদেনি। উল্টো হাসাহাসি করেছে। খারাপ মানুষকে কেউ পছন্দ করে না। 


আয়ান ভাবে সেও যদি মারা যায়। তাহলে ও কি কেউ কাদবে না? সবাই উল্টো খুশি হবে। আয়ান ভাবে সে মারা যাওয়ার আগে ভালো হয়ে মারা যাবে। যাতে মানুষ তার জন্য কাদে।


এদিকে লিলি তার জন্য বাসায় অপেক্ষা করছে। আয়ানকে সে সারপ্রাইজ দিবে। বাড়ির নিচে আয়ানের কালো বাইক রাখা আছে। কিন্তু আয়ান যে এখনো বাসায় ফিরলো না। রাত ৩ টায় আয়ান মন খারাপ করে বাসায় ফিরে।


আয়ান: লিলি। ভাত খেয়েছো? নিচে দেখলাম একটা বাইক এটা কার?


লিলি: আমি তোমার জন্য বাইক নিয়ে এসেছি।


আয়ান লিলিকে জড়িয়ে ধরে কাদছে।


লিলি: আজকে তোমার কি হলো? মন খারাপ কেন?


আয়ান: আমার প্রিয় বন্ধু আলিফ মারা গেল।


লিলি: ইন্নানিল্লাহে ওয়া নিল্লাহির রাজিউন।


( সমাপ্ত)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পিচ্চি বউ - পর্ব ২৯

 আমি জেরিনকে বললাম, আবারো তুমি প্যন্টে হিসু করে দিয়েছো?  জেরিন ঘুমঘুম চোখে বলল, এটা হিসু না। লাইট অন করেন। আমি লাইট অন করলাম। আর অবাক হয়ে তার সাদা পাজামার দিকে তাকালাম। তার সাদা পাজামা পুরো লাল হয়ে আছে। আমার  আন্ডারওয়ারেও কিছু লাল দাগ লেগেছে।  আমি ভয়ে আতংকিত হয়ে জেরিনের গালে দুহাত হাত রেখে  বললাম , ও মাই গড। তোমার রক্ত বের হচ্ছে কেন? জেরিন বলল, এমন নাটক করতাসেন কেন? ড্রয়ার থেকে প্যাড এনে দেন।  আমি ড্রয়ার থেকে প্যাড এনে দিলাম।  আমি বললাম, তোমার কি কোথাও কেটে গেছে। না হলে রক্ত বের হচ্ছে কেন? জেরিন রেগে বলল, ফাজিল কোথাকার বুঝেন না আমার পিরিয়ড হচ্ছে। এই কথা শুনে আমি জেরিনকে জড়িয়ে ধরলাম। তারপর কানে কানে বললাম, তোমার কি খুব কষ্ট হচ্ছে? পেট ব্যথা করছে?  <amp-auto-ads type="adsense"         data-ad-client="ca-pub-9645388120151436"> </amp-auto-ads> এদিকে জেরিন দেখি খুব নরমাল আছে। যেন কিছুই হচ্ছে না তার। ইরা যখন বলেছিল তার মিন্স হচ্ছে। তখনই ইন্টারনেটে সার্চ দিয়েছিলাম যে মিন্স হলে মেয়েদের কেমন ফিল হয়। সেখানে পড়লাম মিন্স হলে মে...

খালাতো বোনের সাথে প্রেম / রোমান্টিক প্রেমের গল্প / Rudro Siyam

মা যখন বললেন যে আমার বিয়ে হবে আমার খালাতো বোনের সাথে। সে কথা শুনেই আমি ভয়ে বাসে করে কক্সবাজার চলে আসলাম। এখানে একটি হোটেলে উঠেছি নিজেকে লুকিয়ে রাখার জন্য।  আমাকে পেলেই মা-খালা মিলে বিয়ে দিয়ে দিবে। তাই কয়েকদিন লুকিয়ে থাকি। যখন সুরভীর বিয়ে হয়ে যাবে। তখন আমি আবার বাড়ি চলে যাবো। হ্যা! সুরভী ই আমার খালাতো বোনের নাম। এবার ক্লাস টেনে উঠেছে আর তাকে বিয়ে দিয়ে আমার ঘাড়ে চাপানোর প্লান করছে আমার মা আর খালা।  হোটেল রুমে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ কলিংবেলের শব্দে তড়াক করে উঠে। দরজা খুলতেই দেখি একটা ফুলের তোড়া হাতে কে যেন দাড়িয়ে আছে। ফুলটার গন্ধ নিতেই আমি অজ্ঞান হয়ে গেলাম। জ্ঞান ফিরলে দেখি আমার হাত,পা বাধা করে আমাকে গাড়িতে করে কোথায়ও যেন নিজে যাওয়া হচ্ছে। তার মানে কি আমাকে কিডন্যাপ করা হয়েছে। গাড়ি যে চালাচ্ছে। সে রাকিব। আমার বন্ধু! রাকিব: দোস্ত! টেনসন করিস না! লাইফে একবার না। একবার তো বিয়ে করতেই হবে। বিয়ে থেকে পালালে হবে?  আমাদের ধর্মে তো বিয়ে করা ফরজ। তাহলে তুই পালিয়ে বেড়াচ্ছিছ কেন? আমি: তুই কিভাবে জানলি যে আমি কক্সবাজারের হোটেলে আছি? তোকে কে খবর দিল? রাকিব: আরে! বেটা! এখন ইন্টারনেটের যুগ। তুই...

প্লেবয় লাভ স্টোরী) রোমান্টিক প্রেমের গল্প/ রুদ্র সিয়াম

শামীম: রুদ্র। তুই একটা প্লেবয়। তুই এতো মেয়েকে কিভাবে পটিয়ে ফেলিস বুঝি না। যেখানে আমাকে কোন মেয়েই পাট্টা দেয় না। দোস্ত। মেয়ে পটানোর টিপস গুলো আমাকে একটু বল। আমিও তোর মতো প্লে বয় হতে চাই। আমি মোবাইলের স্ক্রিন থেকে চোখ সড়িয়ে তাকালাম শামীমের দিকে। বেচারা এতোবার রিজেক্ট খেয়েছে। এখন আমার কাছ থেকে মেয়ে পটানো শিখতে চায়। আমি: দেখ একটা মেয়ের পেছনে কম হলেও ৪/৫ টা ছেলে ঘোরে। এখন যদি তুইও ঘুরিস। তাহলে সেই ৪টা ছেলে আর তোর মধ্যে কি তফাত থাকলো? তোকে হতে হবে স্পেশাল। তাহলেই দেখবি মেয়েরা তোর প্রতি আগ্রহ দেখাবে আর তোর পেছন পেছন ঘুরবে। বুঝলি? শামীম: আচ্ছা। চেষ্টা করে দেখব। আর কোন টিপস নাই।  আমি: মেয়েদের পাট্টা দিবি না। তাহলে মেয়েরা তোকে পাট্টা দিবে। যত সুন্দর মেয়েই হোক। এমন ভান করবি তোর সামনে কিছুই না। শামীম: কিন্তু আমার তো মেয়েদের সামনে গেলেই হাত পা কাপে। আর টয়লেট লাগে বার বার।  আমি: এরকম হলে তুই কখনই মেয়ে পটাতে পারবি না। আজীবন সিঙেল ই থাকবি। এরকম সময় আমাকে সুনেরাহ কল দিল। আমি কল রিসিভ করলাম। আমি: (ধমক দিয়ে) এই সময়ে কল দিয়েছো কেন? জানো না আমি ব্যস্ত থাকি। তোমাকে বলেছি রাত ১২ টার পর কল দিবা। কত ম...