রাত ১২টা। ঘুমাবো নাকি ভুতের সিনেমা দেখবো। তা ভাবছিলাম। এমন সময় জানালায় কে যেন টোকা দিল। প্রথমে ভাবলাম মনে হয় ভুত। পরে কাছে গিয়ে দেখি নিলু। আমার কলেজের ক্লাসমেট। এতো রাতে আমার বাসায় কি জন্য?
নিলু জানালার ওপাশ থেকে ইশারা করলো জানালা খুলে তাকে ঘরে ঢোকাতে। তারপর কাগজ দেখালো। সেখানে লেখা 'না হলে আন্টিকে বলে দিবো। তুই পরীক্ষায় ফেল করেছিছ। "
এই ভয়ে ওকে মেইন দরজা খুলে নীলুকে আমার ঘরে আনলাম। বাবা-মা ঘুমাচ্ছে। যদি জানতে পারে রাতে আমার ঘরে মেয়ে। তাহলে কচু কাটা করবে।
নীলু খাটে বসেছে। আমি তার সামনে। রেগে নীলুকে বললাম, এতো রাতে কি জন্য এসেছিছ?
নীলু বলল, ব্যাগ দেখে বুজিস না? আমি ঘর থেকে বের হয়ে গেছি। এখন তোর এখানে কয়েকদিন থাকবো।
আমি বললাম, কি! না হবে না। তুই তোর মেয়ে বান্ধবীদের বাসায় যা।
নীলু বলল, না। রে। ওরা তো হোস্টেলে থাকে।
আমার খুব রাগ লাগছে। কিন্তু নীলুকে কিছু বলাও যাবে না।কারন সে আমি ফেইল করেছি এটা আম্মুকে বলে দিবে। তাই আমাকেই কিছু করতে হবে।
নীলু বলল, দোস্ত! ক্ষুদা লাগছে কিছু খাওয়ার আছে?
আমি নিচু গলায় বললাম, এটা কি হোটেল পাইছোছ? যে খাবার অর্ডার দিবি আর আমি দিয়ে দেবো?
নীলু বলল, দোস্ত! প্লিজ! প্লিজ বললে মানতে হয়। না হলে তোর ফেইল....
আমি বললাম, দাড়া! যাচ্ছি। এখন নিজের ঘরেই নিজেকে খাবার চুরি করতে হবে। যদি বাবা-মা জেগে যায়। তাহলেই কেল্লা ফতে।
চুপি চুপি এক পা এক পা করে রান্না ঘরের দিকে এগোলাম। সারা বাড়িতে লাইট অফ। কিন্তু আমি তো অন্ধকারে দেখতে পাচ্ছি। কারন আজকে জোসনার রাত। এমন সময় কার যেন কাশির শব্দ পেলাম। নিজের দম বন্ধ হয়ে গেল। আমি রান্নাঘরে ঢুকলাম। আর কে যেন আমার পেছনে এসে দাড়িয়েছে। পেছনে তাকিয়ে দেখি বাবা। বাবাকে দেখেই অর্ধেক দম বন্ধ হয়ে গেল। ভালো করে খেয়াল করে দেখলাম বাবার চোখ বন্ধ। ভুলেই গিয়েছিলাম যে বাবা রাতে ঘুমের ঘোরে হাটাহাটি করে। যাক বাচলাম!
তাড়াতাড়ি ফ্রিজ থেকে পোলাও নিয়ে ঘরে চলে আসলাম। কিন্তু ঘরে ঢুকবো। তখনই দেখি নীলু জামা চেন্জ করছে। (আল্লাহ! এ আমি কি দেখে ফেললাম তওবা! তওবা! (😝) একটু কাশলাম।)
"দোস্ত! তুই কি আমার সব দেখে ফেলেছিছ?"
বড় বড় চোখ করে প্রশ্নটা করলো নিলু।
আমি বললাম, আমার কি দোষ? তুই ই তো দরজায় ছিটকিনি দিস নাই। আর বাথরুম থাকতে তুই ঘরে চেন্জ করলি কেন?
নীলু কান্নার ভান করে বলল, দোস্ত! আমার তো ইজ্জত শেষ হয়ে গেল। এখন আমাকে কে বিয়ে করবে?
আমি বিরক্ত হয়ে বললাম, ঢং! বাদ দে. এই নে পোলাও খা।
নীলু বলল, না! তুই খাইয়ে দে।
আমি বললাম, খাইলে খা, না খাইলে ঘুমা। আমার ঘুম পাচ্ছে অনেক।
নীলু পোলাও খেতে খেতে গল্প করছে। নীলু বলল, জানিস! আমাকে একটা ছেলে ভালোবাসে, কিন্তু লজ্জার কারনে বলতে পারছে। প্রতিদিন কলেজের বাইরে দাড়িয়ে থাকে। আহারে! বেচারা!
আমি ঘুমানের ভান করলাম আর নাক ডাকা শুরু করলাম।
নীলু বলল, কিরে! ঘুমিয়ে গেলি নাকি?
আর তখনই কে যেন দরজায় টোকা দিল। আমি ভয়ে শোয়া থেকে উঠে বসলাম। পরে মনে পড়লো যে বাবা রাতে ঘুমের ঘোরে হাটাহাটি করে। যাক বাচলাম।
কিন্তু না! বাবা না, কিছুক্ষন পর মায়ের গলা শুনলাম দরজার ওপাশ থেকে। মা বলছেন, ওই দরজা খোল।
ভয়ে গলা শুকিয়ে গেল। এই বুঝি ধরা পড়লাম। নীলুর দিকে তাকালাম। ওর খাওয়া এখনো শেষ হয়নি। নীলুকে ইশারায় বললাম, প্লেট নিয়ে খাটের নিচে ঢুকে পড়। নিলু তাই করলাম।
দরজা খোলার পর মা ভেতরে ঢুকলেন।
আমি এমন ভান করলাম যে ঘুম থেকে উঠেছি। তারপর বললাম, কি হয়েছে? এতো রাতে?
মা বললেন, তোর ঘর থেকে মেয়ের শব্দ পেলাম।
আমি বললাম, কই না তো? (🙄) আসলে আমি ই মেয়েদের মতো কথা বলার চেষ্টা করছিলাম।
মা বললেন, আমার সাথে চালাকি? কোন মেয়ে এনেছিছ? বল?
এমন সময় খাটের নিচ থেকে খাবার খাওয়ার শব্দ পেলাম আমি আর মা। আমি তো ভয়ে শেষ। মা বলল, তাহলে খাটের নিচে মেয়েটা। সামনে থেকে সর আমি দেখবো।
আমি বললাম, মা।মা। আমার প্রিয় মা। খাটের নিচে বিড়াল। বিড়াল নাকি মেয়ে আমি এখনই দেখবো।
মা খাটের দিকে এগোচ্ছেন। আর আমার বুকের হার্টবিট বেড়ে যাচ্ছে। ধরা পড়লে হয়তো পাগলি নিলুকে বিয়ে করতে হবে। নয়তো ঘর থেকে বের করে দিবে আমাকেও।
মা খাটের চাদর উঠানোর জন্য যখনই খাটের নিচে উকি দিবেন। ঠিক তখনই কারেন্ট চলে গেল। আর নিলু তাড়াতাড়ি সেখান থেকে বের হয়ে বাথরুমে চলে গেল। আর তখনই কারেন্ট এসে পড়লো।
আপনারা এখন ভাবছেন যে কিভাবে তখনই কারেন্ট চলে গেল? তাই না? আসলে আমার ই চালাকি। আমার ই প্লান। নীলুকে বলে রেখেছিলাম যে মা যদি খাটের নিচে উকি দেয়। তখন আমি লাইট অফ করে দিব।
"চল! জামাই বউ খেলি"
কথাটা নীলু বলল।
আমি বললাম, আমি কি এখনো পোলাপান যে রাত ২টা বাজে। তোর সাথে জামাই বউ খেলবো?
নীলু বলল, দোস্ত! আমার ফোনে চার্জ শেষ আর ঘুমও আসতেছে না।
আমি কম্পিউটার টাইপিং করতে করতে বললাম, তাহলে আমাকে বিরক্ত করছিছ কেন?
নিলু বিছানা শোয়া থেকে উঠে বসলো। তারপর বলল, তুই একটুও রোমান্টিক না। জানোস। এখন যদি অন্যকোন ছেলে হতো। তাহলে এই রাতটার আসল মজা নিতো।
আমি বললাম, দেখ নীলু। বাজে বকিস না।আমার তোকে মেয়ে মনে হয় না। তুই তো ছেলেদের মতো আচরন করিস। না হলে তোর প্রতি ইন্টারেস্ট দেখাতাম।
কলেজে নীলু ছেলেদের মতো পোশাক পড়ে। এমনকি ওর চুলও ছেলেদের মতো কাটা। ছোট ছোট করে।
নীলু বলল, দোস্ত! আমি যদি ছেলে হতাম। আর তুই মেয়ে। তাহলে তোকে এতোক্ষনে খেয়ে দিতাম।
আমি বললাম, তোর মাথায় কি এসব ছাড়া অন্যকোন চিন্তা আসে না? লাইফে কি করবি? ফিউচার প্লান ই বা কি তোর?
নীলু বলল, বড়লোক দেখে এক টাকলা কাকুকে বিয়ে করে স্যাটেল হয়ে যাবো। ব্যাস। টাকলা মরলে সব সম্পত্তি আমার।
আমি কম্পিউটারের কাজ শেষ করে বিছানায় আসলাম। এখন ঘুমোতে হবে। সকালে ভোরে উঠে পড়তে বসবো। বিছানায় চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছি নিলু পাশে বসা। হঠাৎ আমার বুকে মাথা রেখে শুয়ে পড়লো। আমি বাধা দিলাম না। কারন নিলু পাগলি টাইপের বাধা দিলে বিপদ।
আমার বুকে মাথা রেখে নিলু বলল, দোস্ত। তুই অনেক ভালো ছেলে। আমি তোর প্রেমে পড়ে গেছি। আই লাভ ইউ।
আমি নিলুকে সড়িয়ে উঠে বসলাম। কোন দিকের পানি কোন দিকে গড়াচ্ছে। ব্যাপারটা ঠিক মনে হচ্ছে না আমার। নিলু হয়তো আমার সাথে আজীবন থাকতে চায়। কিন্তু আমার এখন বিয়ে করলে হবে না। আমার আরো অনেক কাজ বাকি। প্রথমে নিজের বিজনেস শুরু করতে হবে। গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ শিখতে হবে।নিজেকে ডেভোলপ করতে হবে। তারপর বিয়ে।
নিলু কে কোন উত্তর না দিয়ে বাথরুমে আসলাম। আজকের রাতটাই আমার ভবিষ্যত নির্ধারন করে দিবে। যদি এই সুন্দরী পাগলি নিলুকে বিয়ে করি। তাহলে আমার স্বপ্ন পুরন হবে না। তাই নিলুকে ভালেবাসলেও বলা যাবে না। এটা ভেবে বাথরুমের বেসিনে কল ছেড়ে মুখ ধুয়ে নিলাম।
সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি হাতে কি যেন নরম নরম লাগছে। ব্যপারটা কি? আমার বালিশ তো এতো নরম না। চোখ খুলে দেখি ঘুমের ঘোরে আমার হাত চলে গেছে নিলুর বুকে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি হাতে কি যেন নরম নরম লাগছে। ব্যপারটা কি? আমার বালিশ তো এতো নরম না। চোখ খুলে দেখি ঘুমের ঘোরে আমার হাত চলে গেছে নিলুর বুকে।
ভাগ্যিস! নীলু ঘুামচ্ছে না হলে আজ আমার ১২টা বেজে যেতো। আমি ঘর থেকে বের হলাম। বাইরের পরিস্থিতি দেখতে হবে। বাবা-মা দুজন ই অফিস চলে গেছে। যাক! বাচলাম। ঘরে এখন আমি আর নীলু একা।
ফিরে এসে নীলুর সামনে দাড়ালাম। তাকে ঘুমন্ত রাজপরীর মতো লাগছে।। ঘুমের ঘোরে তার চুল মুখের সামনে এসে পড়েছে। আমি সাহস করে চুল করে সড়িয়ে দিলাম। আসলে আমিও নীলুকে ভালোবাসি। কিন্তু তাকে বুঝতে দেওয়া যাবে না। কারন ভালোবাসা প্রকাশ করলে নাকি ভালোবাসা কমে যায়। তুমি ঘুমিয়ে থাকো! আমার ঘুমন্ত রাজপরী। ওর গোলাপি ঠোটে মন চাইছে একটা কামড় দেই। কিন্তু সাহস হচ্ছে না।
এমন সময় নীলু জেগে উঠলো।
নীলু আমাকে বলল, কিরে! আমাকে দেখছিছ?
আমি বললাম, না..তো। তোকে দেখার মতো কিছু নাই। পেতনি একটা।
নীলু হাই তুলতে তুলতে বলল, যা! চা নিয়ে আয়। ঘুম থেকে উঠেই আমি চা খাই।
আমি রেগে বললাম, তোর বাপের চাকর না। আর এখন বাবা মা বাসায় নেই। তুই চলে যা।।
নীলু এবার ওর অভিনয় শুরু করে দিল। ঢং। করে কাদো কাদো গলায় বলল, দোস্ত! তুই আমাকে বের করে দিলে আমি কোথায় যাবো?
আমি বললাম, হইছে আর অভিনয় করতে হবে না। তোকে এখানে রাখবো একটা শর্তে?
নীলু আগ্রহী হয়ে বলল, কি শর্ত?
আমি বললাম, আমার জামা কাপড় ধুয়ে দিতে হবে। ( এবার লও ঠ্যালা)
নীলু বলল, কিন্তু তোর আন্ডারপ্যান্ট ধুইতে পারবো না 🤧।
আমি বললাম, আমি আন্ডারপ্যান্ট পড়ি না।
নীলু আমার সামনে আসলো। এসে বলল, আমি চেক করে দেখবো।
আমি বললাম, কি দেখবি?
নীলু বলল, ভেতরে কি আছে?
আমি বললাম, মানে?
নীলু বলল, তোর প্যন্টের ভেতর কি? এটা উচু হয়ে আছে কেন?
আমি বললাম, দোস্ত! দেখ এমন করিস না। আমি ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি করিস না।
নীলু এবার প্যন্ট নিয়ে টানাটানি শুরু করে দিল।
নীলু বলল, তোর প্যন্টের ভেতর কি? এটা উচু হয়ে আছে কেন?
আমি বললাম, দোস্ত! দেখ এমন করিস না। আমি ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি করিস না।
নীলু এবার প্যন্ট নিয়ে টানাটানি শুরু করে দিল। আর অবশেষে প্যন্ট হাটু পর্যন্ত নামিয়ে দিল।
নীলু একটু মুচকি হেসে বলল, টুনটুনি পাখি এতো ছোট কেন?
আমি বললাম, লুইচ্চা মেয়ে।
নীলু বলল, তুই আমার টা দেখছোছ। আমি তোরটা দেখছি প্রতিশোধ নেওয়া শেষ।
বাইরে বৃষ্টি পড়ছে। নীলুর ফেসবুকে গল্প পড়ছে। গল্পের নাম 'নগ্নদ্বীপ'।
নীলু মোবাইল রেখে বলল, দোস্ত! বাইরে বৃষ্টি পড়ছে। চল বৃষ্টিতে গোসল করি।
আমি বললাম, আমার এসব বৃষ্টিতে ভিজতে ভালোলাগে না।
নীলু এবার ব্লাকমেইল করে বলল, না হলে কিন্তু আমি সবাইকে বলে দিব তোর কালা পাখির পাখির কথা সবাইকে বলে দিবো।
নীলুকে নিয়ে ছাদে আসলাম। সে বৃষ্টিতে ভিজছে। আমি ছাতা হাতে দাড়িয়ে আছি। মুগ্ধ হয়ে তাকে দেখছি। বৃষ্টিতে ভিজলে কি আনন্দ তা আমি জানি না। হঠাৎ নীলু আমার সামনে এসে আমার হাত থেকে ছাতা নিয়ে দৌড় দিল। ওকে ধরার জন্য পিছে পিছে দৌড়ালাম কিছুক্ষন। যখন ওকে ধরে ছাতা নিবো। ততোক্ষণে আমি পুরো ভিজে গেছি। নীলু ছাড়া আকাশের দিকে ছুড়ে মারলো। তারপর নিজেই গান গেয়ে নাচতে শুরু করলো।
♪নাচু মে আজ
ছাম ছাম ছাম ♪
আমি বিরক্ত হয়ে ওর গান গাওয়া আর নাচ দেখছি আর ঠান্ডার কারনে শীতে কাপছি। এমন সময় হাত ধরে নাচতে শুরু করলো।
ঘরে কাথা গায় দিয়ে বসে আছি আর হাচি দিচ্ছি। কারন বৃষ্টিতে গোসল করার কারনে আমার ঠান্ডা লেগে গেছে। নীলুর মন খারাপ দেখলাম। নিলু ঘরে ঢুকলো ওর হাতে একটা বাটি। সেই বাটিতে স্যুপ। সে আমার জন্য বানিয়ে নিয়ে আসছে।
স্যুপ হাতে দিয়ে নীলু বলল, সরি, দোস্ত! আমি জানতাম না যে তোর ঠান্ডার সমস্যা।
আমি বললাম, হাহা হাচি। কোনওওওও হাচি সমস্যা আআআ হাচি নাই।
তারপর স্যুপ খেতে শুরু করলাম। নীলু বলল, তোর ঠোটে স্যুপ লেগে আছে।
আমি বললাম, কই?
নীলু তার নরম হাতের আঙুল দিয়ে আমার ঠোট থেকে স্যুপ নিয়ে নিজের মুখে সেই স্যুপটাকে খেল।
"ভালোবাসা দিবি কিনা বল!"
আমাকে খাটে শুয়িয়ে আমার পেটের ওপর বসে গলায় ছুড়ি ধরে কথাটা বলল নীলু।
আমি বললাম, আগে পেটের ওপর থেকে নাম।
নীলু বলল, ভালোবাসা দিবি নাকি গলা কাটবো তোর?
আমি ভয়েই আমি। কারন নীলু কথার কথা বলছে না। এই মেয়ে পাগলি। যেকোন কিছু করতে পারে।
আমি বললাম, হঠাৎ! হঠাৎ। তোর কি হয় বুঝি না। একটু আগে আদর করে স্যুপ খাওয়ালি আর এখন গলা কেটে স্যুপ বের করতে চাস?
নীলু বলল, আমি তোর ডাইরি পড়েছি। তুই আনিকাকে ভালোবাসিস।
আমি মনে মনে বললাম, আজ বোধ হয় আর রক্ষে নেই।
নীলু আরেকটু ঝুকে বলল, বল! সত্য কিনা?
শুনেছি জীবন বাচানো নাকি ফরজ। তাই আল্লাহ মাফ করে। এখন মিথ্যা বললাম, না!। ভালোবাসি কে বললো? আমরা তো জাস্ট ফ্রেন্ড।
নীলু আরো রেগে গেল। তারপর বলল, তাহলে জুই মেয়েটার সাথে এতো কথা কিসের তোর?
আমি শান্ত স্বরে বললাম, তুই যেমন ফ্রেন্ড। ওরাও তেমন ফ্রেন্ড ই লাগে। এখন তো ভাই আমার ওপর থেকে নাম। আমি টয়লেটে যাবো।
এমন সময় কলিংবেল বেজে উঠলো। মনে হয় বুয়া এসেছে। সে এসে দুপুরের খাবার বানায়। আবার কলিংবেল বেজে উঠলো।
নিজের শরীরের ওপর থেকে সড়িয়ে দরজা খুলতে গেলাম। দরজা খুলে দেখি বাবা দাড়িয়ে আছেন। ভয়ে গলা শুকিয়ে গেল।
বাবা আমার দিকে না তাকিয়ে আমার পেছনে তাকিয়ে আছে। ব্যাপার কি জানতে আমিও পেছনে তাকালাম। দেখি নীলু আমার ঘরের দরজা ধরে দাড়িয়ে আছে।
আমি একবার তাকালাম নীলুর দিকে। আরেকবার নীলুর দিকে। বাবা একদৃষ্টিতে নীলুর দিকে তাকিয়ে আছে আর নীলু তার কোমড়ে হাত রেখে একটা পোজ দিলো।
(সমাপ্ত)
পরিশেষে: আমার আর নীলুর বিয়ে হয়েছিল।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন