সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

এতিম ছেলের ভালোবাসা/ অবহেলিত সেই ছেলেটি যখন বিখ্যাত লেখক/ rudro siyam

 আমি: দোস্ত! আমার তো জব চলে গেছে। তোর কাছে কি কোন জব আছে। মাস শেষে বাসায় টাকা না দিতে পারলে আমাকে ঘর থেকে বের করে দিবে। তখন আমি কোথায় যাবো বল? আমার যে এই পৃথিবীতে আপন বলতে কেউ নেই। আমি যে এক এতিম।


খোকা: আমি যে কাজ করি। সে কাজ তো তুই করবি না। আচ্ছা। আমি কাজ খুজছি। কাজ পেলে তোমাকে জানাবো। তুই কোন টেনসন করিস না। আর কোন টাকা লাগলে আমাকে বল তোকে ধার দিতে পারি। পরে আবার ফিরিয়ে দিস।


আমি: তুই আমার বিষয়টা বুঝতে পারছিস না। আমি যে ফুপুর সাথে থাকি। উনি এখন আর আমাকে রাখতে চাইছে না। কারন গত  ১মাস হলো। বাড়িতে আমি কোন টাকা দিতে পারিনি। প্রতিদিন আমি একবেলা করে বাসায় খাই রাতে। সকালে বের হই রাস্তায় রাস্তায় ঘুরি। রাত হলে বাসায় যাই। তখন আমাকে আয়াত খাবার এনে দেয়। তা খেয়েই চুপচাপ ঘুমিয়ে পড়ি। এভাবে কুকুরের মতো জীবন যাপন আমার আর ভালোলাগছে না। যেকোন দিন আমি সুইসাইড করে ফেলব।


খোকা: তোকে সুইসাইড করতে হবে না। আমি আছি তোর পাশে। যে টাকা তোকে পাঠাই। সেটা দিয়ে চা সিগারেট না খেয়ে দুপুরে ভাত খেতে পারিস না? চা সিগারেটে কি পেট ভরে?


আমি: আমার অনেক টেনসন তুই বুঝবি না। এজন্য সিগারেট টানি। এখনও বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে বসে আছি। আর আমার সাথে সাদা রয়েল। বিশ্বাস কর মামা। এই সিগারেট না থাকলে আমি অনেক আগেই মারা যেতাম। যাদের পৃথিবীতে বাবা মা নাই। তারা জানে পৃথিবীটা কত কঠিন। রাস্তায় যখন দেখি এক মা তার ছেলেকে নিজ হাতে খাইয়ে দেয়। তখন আমার নিজের মায়ের কথা মনে পড়ে। আজ আমার মা থাকলে আমাকে নিজ হাতে খাইয়ে দিত। আবার যখন দেখি এক বাচ্চা তার বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে মজা খায়। তখন আমার মনে হয়। আজ বাবা থাকলে কারো কথা শুনতে হতো না। এতিম হওয়া একটা অভিশাপের মতো।


খোকা: তুই নিজেকে এতো ছোট মনে করিস না। তুই ভাবিস ফ্যমিলি থাকা মানে শুধু ভালোবাসা দিবে। সালা বলদ। ফ্যামিলি মানে প্যারা। আমাকে রংপুর পাঠিয়ে দিয়েছে কাজের জন্য। এখান থেকে কাজ করে প্রতি মাসে ফ্যমিলিকে টাকা দেই। টাকা না দিলে চিল্লাচিল্লি করে। তুই এসব বুঝবি না। তোর তো ফ্যমিলি নাই ভালোই হইসে। তুই একা মানুষ। কোন টেনসন নাই। খাইলেই কি আর না খাইলেই কী? তবে মামা। যা করার ভেবে চিন্তে করবি। হুটহাট করে কোন ডিসিশন নিবি না।


আমি: দেখ মামা। ৫০০ টাকা বিকাশ করে দে। আমি গত ২ দিন ধরে না খেয়ে আছি। বাসায় এখন খাবার দিতে চায় না ফুপু। আমার ফুপু ভালো না। উনি শুধু নিজের স্বার্থটা বুজে৷ 


খোকা: ভালো না কেমনে বললি? তোকে তো উনি ই ছোটবেলা থেকে মানুষ করছে৷ এখন বড় হয়ে গেছিস। আর বড় হলে সবাইকেই কাজ করতে হয়। কাজ ছাড়া ভাত নাই। নিজের ফ্যমিলিও দাম দেয় না। আচ্ছা মামা। রাখি। পরে কথা হবে। আমি বিকাশে টাকা পাঠিয়ে দেই তুই কিছু খেয়ে নিস। ওকে বায়।


খোকা কল কেটে দিল। সে আমার ছোটবেলার বন্ধু একসাথে বড় হইসি। আমার বিপদে আপদে ওকে পাশে পাই। বলতে গেলে কলিজার বন্ধু। নদীর পাড় থেকে উঠে বাসায় আসলাম। এখন বাড়িতে ফুপাতো বোন আয়াত একা। ফুপু একটা দোকান কিনবে শোপিং মল এল। কিছু টাকা জমিয়েছে। আর ব্যাংক কিছু টাকা ধার নিবে। সেটা দিয়েই কিনবে। সে সব নিয়েই ব্যস্ত আছে। বাসায় এসে দেখলাম সোফায় বসে টিভি দেখছে আয়াত। আমি তার পাশে গিয়ে বসলাম। 


আমি: কি রে। একা একা টিভি দেখছিস। ফুপু কই গেলো। আমার খুব পিপাসা পাইসে। এক কাপ চা খাওয়াতে পারবি। আর শোন চায়ে চিনি কম আর দুধ বেশি।


আয়াত: চা খাওয়াতে পারব। কিন্তু এর বদলে আমাকে তুই কি দিবি বল? একটা চুমু দিতে পারবা জান। তাও আমার ঠোঁটে? এখন ঘরে কেউ নাই। শুধু তুমি আর আমি কেউ দেখবে না। কি বলো?


আমি: তোমার লুইচ্চামি গেল না। সেই ছোটবেলা থেকে আমরা লুকিয়ে প্রেম করে আসছি। সবার সামনে ঝগড়া করি। দেখাই কেউ কাউকে দেখতে পারি না আর সবার চোখের আড়ালে আমরা প্রেমিক প্রেমিকা। ব্যপারটা ভালোলাগে। কাছে এসো চুমু দিব।


আয়াত: এখন না। আগে চা খেয়ে রেস্ট নাও। তারপর আমি তো কোথায়ও চলে যাচ্ছি না। তোমার সাথেই আছি। আমার না খুব মাথা ব্যথা করছে তুমি কি মালিশ করে দিবে?


আমি: ওকে। করে দিব। আর কিছু মালিশ করতে হবে? আমার মালিশ করতে খুব ভালো লাগে। 


আয়াত চা বানিয়ে আনলো। আমি চা খেলাম। তারপর তাকে চুমু খেলাম। 


হঠাৎ কলিংবেল বেজে উঠলো। ফুপু বাসায় এসেছেন। আমাকে দেখলেই উনি সহ্য করতে পারেন না। অনেক খারাপ ব্যবহার করেন। ফুপু আমার পাশে সোফায় বসলেন।


আমি: আসসলামু আলাইকুম ফুপু। আপনার আজকের দিন কেমন কাটলো। শপিংমলে নাকি দোকান নিবেন। সেখানে কি আমাকে চাকরী দেওয়া যায় না?


ফুপু: আমি সব মহিলাদের আইটেম বেচবো। তোর মতো চ্যাংড়া ছেলেকে দেখলে তো কাস্টমার ই আসবে না। তোর না জব খোজার কথা সে কি হলো? এখনও পাস নাই কেন? ঢাকায় কাজের কি অভাব? একটু খোজলেই পাবি।


আমি: আজকাল তো পরিচিত ছাড়া কেউ কাজ দিতে চায় না। আপনার তো অনেক পরিচিত মানুষজন আছে। তাদের বলে কয়ে যদি একটা জব ঠিক করে দিতেন খুব ভালো হতো আমার।


ফুপু: (রেগে) কেন এর আগে কি তোকে জব খুজে দেই নাই। যেই কাজ ই দেই ২ দিন ঠিক মতো করস তারপর মাহাজনের সাথে ঝগড়া করে কাজ ছেড়ে চলে আসিস। এভাবে করলে কি হবে? আমি অনেক করেছি আর না। তুই নিজের কাজ নিজে খুজে নিবি। নয়তো আমার বাসা থেকে বের হয়ে যাবি।


আমি: ফুপু। প্লিজ এমন কইরেন না। আপনি তো জানেন। আমার কোথায়ও যাওয়ার জায়গা নাই। আমি যে এতিম। আমি কোথায় যাবো? আপনি আমাকে ফেলে দিলে আমার আত্মহত্মা ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। আর কিছুদিন এখানে থাকতে দিন। একটা না একটা কাজ ঠিকই জোগাড় হবে।


ফুপু: সেই ১ মাস ধরে কাজ খুজতেছিস। কই এখনও তো জোগাড় হলো না। আর তুই যাবি না যাবি এটা তোর ব্যপার। আমি কেমনে বলবো? আর তোকে যে এতো বড় করেছি এটাই অনেক। এখন বাবা। আমার আর পোষায় না। আমার মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাতেই হিমশিম খাই। তুই বাবা তোর পথ দেখ।


রাতে খাবারের সময় দেখা গেল আজ মুরগি আর পোলাও রান্না হইসে। 


ফুপু: আয়াত। কাচামরিচ আর পেয়াজ একসাথে কুচিকুচি করে আদিকে ভাত দে। তারপর আমরা মুরগি দিয়ে ভাত খাব।


আয়াত কোন প্রতিবাদ করলো না। কষ্টে বুক ফেটে যাচ্ছিল। তবুও কোন প্রতিবাদ করলাম না। আজ বেকার বলে সবাই অবহেলা করে। একদিন এমন আসবে যখন আমি এসবের প্রতিশোধ নিবো। আমারও সময় আসবে। তখন দেখা যাবে। চুপচাপ ভাত খেয়ে নিজের রুমে চলে আসলাম। 


ঘুম চলে আসছিল একটু পর দেখি ফুপু ফ্যান বন্ধ করে চলে গেছে। এখন আমাকে গরমে মশার কামড় খেয়ে ঘুমাতে হবে। প্রতিবাদ করলে যা ও থাকার জন্য একটু জায়গা পাইসিলাম। সেখানে যাবে। আমাকে ঘর থেকেই বের করে দিবে। তখন আমি কোথায় যাব?


আমার মনে পড়লো অতীতের কথা যখন আমি জব করলাম সেলসম্যান এর৷ দোকানে দোকানে গিয়ে অর্ডার নিতাম। আমাদের কম্পানিটা ভালোই চলছিল। কিন্তু একদিন কম্পানির চাচার সাথে আমার ঝগড়া লাগে। তারপর আমাকে বের করে দেওয়া হয় সেখান থেকে। কম্পানির চাচাকে আমি অনেক সম্মান করতাম। কিন্তু উনি ছিলেন মুর্খ। উনি বানিয়ে বানিয়ে আমার নামে কম্পানির বসের কাছে বিচার দেয়। সেদিনও আমি চুপ ছিলাম। কোন প্রতিবাদ করিনি। আমি দিন দিন প্রতিবাদ করার ক্ষমতা হারাই ফেলতেছি। আমি বুঝি না সবসময় আমার সাথেই কেন এমন হয়?


রাতে সিগারেট ধরিয়ে জানালার কাছে বসলাম। এই রাতে আমি একা নই৷ আমার মতে হাজার তারা আছে৷ তারাও একা। এই একাকৃত্বের শেষ হবে কবে? এখন আর আমি এসব নিতে পারছি না।


আজ আমার বাবা মা বেচে থাকলে হয়তে কেউ আমার ওপর অন্যায় করার সাহস পেত না। উনারাই আমাকে আগলে রাখবো বুকের ভেতর। কি আর করার। আল্লাহ কেন আমার সাথে এরকম করলেন? 


সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি বাইরে জানালা দিয়ে সুন্দর বাতাস আসছে। এখন আর গরম লাগছে না। অবশ্য সেই রাতের থেকেই ফ্যান অফ করা রয়েছে। আমি তাড়াতাড়ি ঘড়ির দিকে তাকালাম। এখন সকাল ১০টা বাজে। তার মানে ফুপু বাসায় নেই। আমি তাড়াতাড়ি গোসল করে নিলাম। তারপর কালো শার্ট পড়লাম৷ চুল আর দাড়ি বড় হয়ে গেছে। টাকা আছি কিন্তু কাটছি না। কারন এখন ১০০টাকাও অনেক মুল্যবান আমার কাছে। হিসেব করে খরচ করতে হবে।


রাস্তায় যখন হাটি তখন নানা রকমের মানুষ দেখি বড়  ভালো লাগে। একবার এক ফকির আমার কাছে ভিক্ষা চাইলো। তাকে কি ভিক্ষা দিব? আমার অবস্থা কি তার চেয়ে ভালো। ফকিরকে বললাম, আমার অবস্থায়ও তোমার মতোই। আমরা দুজনই ফকির। চলো একসাথে ভিক্ষা করি। ফকির টা আমাকে পাগল ভেবে চলে গেল।


মাঝে মাঝে মনে হয় আমি কোন সিনেমায় মজার কোন চরিত্র করছি। ধরা যাক আমি একজন স্পাই বা গোয়েন্দা।  এসব ভেবে মানুষের পিছু করি। আমার একটা বুদ্ধি এসেছে। কোন বাচ্চাকে কিডন্যাপ করলে কেমন হয়? এসব ই আমার কল্পনা। আমি না খেয়ে থাকব। কিন্তু কখনও হারাম রুজি মুখে দিব না। একবার এক বন্ধু বলছিল তাদের সাথে মিছিলে যেতে সেখানে ৫০০ করে দিবে সবাইকে। আমি যাইনি৷ কারন সেই নেতা হারাম রোজগার করে। অন্যের জমি দখল করে আর নিজে দুর্নিতি করে এই জায়গায় এসেছে। সবাই ই তাকে ওপরে ওপরে সম্মান করে। কিন্তু বাস্তবে কেউ দেখতে পারে না।


আজ শুক্রবার ফুপু ঘরেই আছে। কোথায়ও যাননি। আমি যখন বের হতে যাবো বাসা থেকে ফুপু আমাকে থামাই দিলেন।


ফুপু: কি ব্যপার। কোথায় যাওয়া হচ্ছে?  আজ শুক্রবার আজ তোকে ঘরে থাকতে হবে। যদি কোন কিছু আনতে হয়। তাহলে কাকে দিয়ে আনাবো। 


আমি: আচ্ছা। ঠিক আছে। আজকে আর বাইরে যাবো না। আজ এখানেই থাকো। আপনাদের যা যা আনতে হবে এনে দিব। কোন কাজ থাকলে বলতে পারেন। আমি কাজ করে দিব। 


ফুপু: গুড। যা বাজার থেকে আলু, পেয়াজ আর কিছু জিনিস নিয়ে আয়। দাড়া আমি লিষ্ট করে দেই। তুই এসব নিয়ে আয়৷ এসব গরুর মাংস রান্না করবো। 


আমি: আচ্ছা। ঠিক আছে। আপনি লিখে দিন। আমি এখনি গিয়ে নিয়ে আসছি। কোন চিন্তা করবেন না।


বাজার থেকে আসার কর ঘড়ির দিকে তাকালাম। মাত্র ১০টা বাজে। সকালের নাস্তা খাবো। ওনারা পরাটা খায়। আমার জন্য গতরাতের পান্তা ভাত রেখে দেয়। 


ভাত খাচ্ছিলাম মাটিতে বসে। তখন ও ফুপু কথা বলে যাচ্ছে।


ফুপু : (চেচিয়ে চেচিয়ে) তোকে আর কত বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াবো? একটা কাজও করতে পারিস না তুই। যেকাজ ই দেই তোকে৷ একমাস ঠিক মতো কাজ করিস। তারপর কাজ ছেড়ে দেস। এভাবে চললে তোকে আর আমার এখানে থাকতে দিতে পারব না। তুই বাবা নিজের পথ দেখ।


এসব কথা শুনে আর খাবার ভেতরে যাচ্ছে না। গলায় আটকে যাচ্ছে। এদিকে চোখে কান্না৷ ছেলেদের কাদতে নেই। তাই কান্না আটকে রেখেছি। হয়তো চোখ লাল হয়ে গেছে আমার। ছোটবেলায় বাবা মা মারা যাওয়ার পর ফুপুর বাসায় আশ্রয় পাই। উনার একটি মেয়ে আয়াত। আমার ১ বছরের ছোট। দুজনে একসাথে বড় হয়েছি। কিন্তু ইন্টারের পর যখন ফুপা হার্ট এট্যাকে মারা গেলেন। তখন থেকে পড়া বাদ দিয়েছি। আমার বয়স ২১। 


আয়াত: মা। চুপ করো তো। তুমি সবসময় ভাইয়ার সাথে খারাপ ব্যবহার করো। ভাইয়া তো এতিম। তার তো পৃথিবীতে কেউ নেই। 


ঠাস করে আয়াতের গালে একটা থাপ্পড় মারলো ফুপু। কারন তিনি মুখে মুখে কথা পছন্দ করেন না। এদিকে আয়াত আর আমি রিলেশনে আছি। আজ ২ বছর হলো। ফুপু কিছু জানে না। জানলে হয়তো আমাকে ঘর থেকে বের করে দিবে।


ফুপু: তোর তো সাহস কম না আমার মুখে মুখে কথা বলিস। এই বেকার ছেলেকে আমি নিজের ঘরে রাখতে পারব না। এই আদি। তুই আজই আমার বাসা থেকে চলে যাবি।


আমি: ফুপু। আপনি তো জানেন ই। আমার কোথায়ও যাওয়ার জায়গা নেই। দয়া করে আমাকে একটু আশ্রয় দিন। আমি কাজ খুজছি। বন্ধুদেরও বলে রেখেছি। ওরা দেখছে। খুব শ্রীঘ্রই কাজ পেয়ে যাবো। তখন আপনার এই দুবেলা খাবারের মুল্য দিয়ে দিব। 


ফুপু: এই মাসটাই আমি দেখব। তারপর আর দেখব না। তুই তোর পথ দেখে নিস। বড় হয়েছিস। এখন নিজের পায়ে দাড়া। আমার ঘাড়ের ওপর পড়ে আসিস কেন? আমাদের নিজের ই চলতে কষ্ট হয়। তারপর আবার তোকে খাওয়াবো কিভাবে?


আমার খাবার খাওয়া শেষ। টেবিল থেকে উঠে বেসিনে হাত ধুলাম। তারপর নিজের রুমে চলে আসলাম। ফোন টিপছিলাম। কিছুক্ষণ পর দেখি দরজা ধরে দাড়িয়ে আছে আয়াত।  আয়াতের আজকাল কি হয় বুঝি না। শুধু শরীর ঘষাঘষি করে। আমার খুব লজ্জা লাগে। আয়াত এবার কাছে এসে আমার পাশে বালিশে হেলান দিয়ে বসলো। 


আয়াত: সরি রে। আম্মু তোকে এতো গুলো কথা শুনিয়ে দিলো। তুই কিছু মনে করিস না। আর জানিস ই তো আম্মুর রাগ উঠলে মাথা ঠিক থাকে না। তোর মুড অফ কেন? এখনও মন খারাপ। আচ্ছা কি করলে তোর মন ভালো হবে?


আমি: কিছু করতে হবে না। চুপ করে বসে থাক। আর তুই এতো কাছাকাছি আসবি না। একটু দুরে সড়ে বস। ফুপু কোথায়?


আয়াত: আম্মু বাথরুমে গোসল করে। এখনও আসতে অনেক দেরী। চলো। রোমান্স করি। উম্মাহ। 


আমি: ছি: গালে চুমু দিলি কেন? তুই দিন দিন লুইচ্চা হয়ে যাচ্ছিস। 


আয়াত: তোকে ভালোবাসি তাই চুৃুমু খেয়েছি। এখন জান আমাকেও একটা চুমু দাও। ঠোঁটে।  


আমি পাট্টা দিলাম না। তাই সে আমার ফোন হাত থেকে এক ঝটকায় কেড়ে নিল। তাও আবার রাখলো নিজের বুকের মধ্যে। এখন আমি কিভাবে ফোন নিবো?


আমি: ফাজলামি করিস না। আমার ফোন ফেরত দে।


আমি তার ফোন নেওয়ার জন্য তার বুকে হাত ঢুকালাম। আর তখনই ফুপু চলে আসলেন। আর সেটা দেখে ফেললেন। 


আমার ঠোঁট কেটে রক্ত বের হচ্ছে। ফুপু আমাকে অনেক মেরেছে। এখন আমার জামাকাপড় বাইরে ছুড়ে ছুড়ে মারছে। আর গালাগালি করছে। এখন উনাকে কিভাবে বোঝাবো যে আমি ফোন নেওয়ার জন্য হাত দিয়েছিলাম। অন্যকোন উদ্দেশ্য ছিল না।


ফুপু: দুধ দিয়ে পুসি কালসাপ। আমার সাপ আমাকেই ছোবল দিয়ে চায়। তোর লজ্জা করলো না ওর বুকে হাত দিতে। ছি ছি ছি। তোর মতো দুশ্চরিত্রকে নিজের ছেলে ভেবে ঘরে জায়গা দিয়েছি। তার পরিনামে আজ আমাকে এসব দেখতে হচ্ছে। শুনেছি বাপ মায় ফেলে দিলে সন্তান ভালো হয়। এখন দেখি কোন আদব কায়দাই শিখাতে পারি নাই।


জামার ব্যাগটা নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়লাম। খুব গরম পড়েছে। চায়ের দোকান থেকে একটা সিগরেট কিনলাম। তারপর আমার বন্ধু খোকাকে কল করলাম।  হয়তো এখন ওই আমাকে সাহায্য করতে পারবে। কারন আমি আগেই তাকে কাজের কথা বলে রেখেছি। যদি কোন কাজ পায়। এই আশায় তাকে কল করলাম।


কয়েকবার রিং হওয়ার পর খোকা ফোন ধরলো। 


আমি: দোস্ত। খুব বিপদে পড়ে গেছি আমি। এখন তুই কই? আমাকে বিপদ থেকে উদ্ধার কর। আমাকে ফুপু বাসা থেকে বের করে দিয়ে। এখন বল আমি কোথায় যাবো? 


খোকা: তুই কোন চিন্তা করিস না। আমি এখন রংপুরে আসি। এখানে কাজ করি। তুইও চলে আয়। তোকেও একটা কাজ ঠিক করে দিবো। বন্ধুরা থাকতে কোন টেনসন করিস না। 


আমি: কিন্তু আমার কাছে তো কোন টাকা নাই। এখন আমি সেখানে কিভাবে যাবো। তুই বিকাশে কিছু টাকা পাঠা৷ আমি পরে তোকে শোধ করে দিব। 


খোকা: আচ্ছা। দাড়া। তুই তো জানোস আমি কাপড় কাচার কাজ করি মানে ধোপি। এই কাপড় টা কেচে তারপর টাকা পাঠাইতেছি। কার জানি জাহিঙ্গা। হলুদ কি যেন লেগে আছে। 


আমি: ছি:। আমি তোর সাথে ওসব কাপড় ধোয়ার কাজ করতে পারব না। আমার জন্য অন্য ভালো কাজ খুজে দিতে হবে।


খোকা: আরে মামা। চিন্তা করিস না। তোর জন্য আমি একটা দোকান ঠিক করছি। তুই ওখানেই কাজ করবি। কনফেকশনারির দোকান। দোকানে সারাদিন মেয়ে আসবে যাবে। লাইন মারবি আর কাজ করবি। নো প্যারা।


আমি: চাল হাট৷ তোর মতো লুইচ্চা না আমি।  তাও যেহেতু কোন কাজ পাই না। তাই ওটাই করব। এখন তাড়াতাড়ি টাকা পাঠা। 


খোকা: ওকে মামা৷ তোর বিকাশ নাম্বার টা দে। তো। 


বাসে উঠে দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। আমি চলেছি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে৷ আমি জানি না। আমার জীবনে সামনে কি হতে চলেছে। হয়তো ভালো কিছু হবে কিংবা খারাপ কিছুও হতে পারে। ভালো খারাপ মিলিয়েই মানুষের জীবন। যা হওয়ার হবে, এখন আর আমি কোনকিছু ভয় পাই না। ৪০ লক্ষ শুক্রানুর সাথে লড়াই করে এই পৃথিবীতে এসেছি। এতো সহজে আমি হার মানবো না। জীবনের শেষ দম পর্যন্ত লড়াই করে যাবো । 


বাস থেকে নেমে দেখি খোকা আমাকে নিতে এসেছে বাস স্টেশনে৷ তাকে দেখে জড়িয়ে ধরলাম। ছোটবেলার বন্ধু বলে কথা৷ তারপর দুজনে হাটতে লাগলাম। 


খোকা: তোর আসতে কোন অসুবিধা হয়নি তো? আর তোর জন্য যে কাজ নিয়েছি। একদম সাহেবদের কাজ। তুই দোকানে যাবি। তারপর খালি বেচাকেনা করবি। কোন প্যারা নিবি না। মাহাজন ভালো আছে, একবার মন জোগাড় করতে পারলে। তোকে মাথায় তুলে রাখবে। 


আমি: বক বক করিস না। একটা চায়ের দোকানে বস। খুব খুদা লাগছে। সকাল থেকে না খেয়ে আছি।




খোকা:ওয়াক থু। ছি ছি ছি। সালা খাচ্চর। আমাকে চুমো দিলি কেন? এই ঠোট শুধু আমার ওয়াইফের জন্য৷ দিলি তো নষ্ট করে৷ এখন আমাকে কে বিয়ে করবে?


আমি: হইসে ঢং করিস না। আমাকে এক কাপ কফি আর একটা বেনসন সিগরেট খাবো। তাড়াতাড়ি এনে দে।


খোকা: স্যার৷ আপনার চাকর না আমি। যা গোসল করে আলু ভর্তা, ডিম আছে। খেয়ে নে তাড়াতাড়ি। তোকে দোকানে দিয়ে আমি আমার কাজে যাবো।


এখনও আমার ঘুম হয়নি। ঘুম ঘুম চোখে গোসল করলাম, দাত ব্লাশ করলাম। তারপর খাবার খেয়ে। বেড়িয়ে পড়লাম। খোকার বটবটি বাইকে।  একটা দোকানের সামনে বাইক থামলো। দুজনই নামলাম। দোকানের কাছে এগিয়ে গেলাম। এক মোটকা বুড়ো বসে আছে চেয়ারে৷ এটাই মনে হয় মালিক। এই যে শরীর হাতির মতো। এই ব্যটা কাজ করে কিভাবে?


খোকা: আসসালামু আলাইকুম হুজুর। আপনি বলছিলেন না যে আপনার দোকানে একটা লোক লাগবে। এই দেখুন নিয়ে এসেছি। ইন্টারপাশ শিক্ষিত ছেলে। পড়াশোনা জানে। ওকে ম্যনেজার বানিয়ে দিন।


মাহাজন: সবই ঠিক আছে৷ তবে তুমি তো জানোই এখানে ৩ বেলা খাওয়া ফ্রি। মাস শেষে ১০ হাজার টাকা। তো তোমার বন্ধু নাম কী?


আমি: জি। মাহাজন। আমার নাম আদি। আশা করি আপনাকে নিরাশ করবো না। আর আপনার উপকারই করব কোন অপকার করব না । 


মাহাজন: আগে একটা পিচ্চি কাম করতো৷ টাকা্ চুরি করতো, তাই ওরে বাদ দিয়ে দিসি। চোর দিয়ে তো আর দোকান চালানো যান না। কি বলো খোকা?


খোকা: হ ঠিক বলছেন। আরেকটা কথা। আমার বন্ধুটা এতিম। বাবা মা ছোটবেলায় মারা গেছে। এতোদিন ফুপুর বাসায় ছিল। ফুপু ও ঘর থেকে বের করে দিসে। 


মাহাজন : আহারে। এরকম খারাপ ফুপু আগে কখনও দেখি নি। তো, আদি। কাজে লেগে পড়ো। আমার কোন ছেলে নেই, একটা মাত্র মেয়ে। নাম রোদেলা। সে এবার মেট্রিক পরীক্ষা দিবে। বুঝলা? দোকানে আসলে সে যা চাইবে দিয়ে দিবা। বুঝছো?


আমি মাথা নেড়ে 'হ্যা' বললাম। যাক তাহলে এবার মাহাজনের মেয়ের সাথে প্রেম করতে পারলেই দোকানের মালিক হবো৷ কোন কষ্ট থাকবে না। খোকা আমাকে সাইডে নিয়ে কিছু কথা বলল।


খোকা: দেখ। মাহাজনের মেয়ের পিছনে আবার লাগতে যাস না। তাহলে তোর এই কাজটাও যাবে। দেখ ভাই। এমন কিছু করিস না। যাতে আমার মান সম্মান চলে যায়। এই নে ১০০ টাকা। খুদা লাগলে খেয়ে নিস। 


আমি দাড়িয়ে আছি খোকা তার বটবটি বাইক নিয়ে চলে যাচ্ছে। এখন  আমি টেনসন মুক্ত। খাবার দাবার এখন সবই আছে। 


মাহাজন বাইরে গেছে। দোকানে বসে কাজ করছিলাম। যে প্রডাক্ট গুলো ডেট অভার হয়ে গেছে। সেগুলো চেক করছিলাম। এমন দেখি বাইরের ফ্রিজ খুলে কে যেন সেভেন আপ বের করলো। কি ব্যপার চোর নাকি। দৌড় মেরে বাইরে এলাম। একটি কিশোরি মেয়ের হাতে সেভেন আপ বিল না দিয়ে চলে যাচ্ছে। আমি তাড়াতাড়ি দিয়ে মেয়েটার হাত ধরলাম।  তার হাতে রেশমি চুড়ি ছিল। আমি শক্ত করে ধরায় চুড়ি ভেঙ্গে তার হাত একটু কেটে গেল। 


আমি: এই চোর মেয়ে। টাকা না দিয়ে প্রডাক্ট নিয়ে যাচ্ছো কেন? বাবা মা শিক্ষা দেয়নি? হাতে চুড়ি কানে দুল। গলায় রকেট। এসব কিনতে পারো। কিন্তু সামান্য সেভেন আপ এর বিল দিতে পারো না।


তার চোখ ছলছল করছে। মনে হয় কেদে দিবে৷ কাদুক। চোরদের এভাবেই শিক্ষা দিতে হয়।


মেয়ে: হাত ছাড়ুন বলছি। আমি ব্যথা পাচ্ছি। আপনি কে? আমার বাবা এই দোকানের মালিক। 


হাত ছেড়ে দিলাম তাড়াতাড়ি। গলা শুকিয়ে আসছে৷ মন চাইছে তার হাতের সেভেন আপ নিয়ে একটা চুমুক দেই।


আমি: তো। আপনি ই রোদেলা। সরি, চিনতে পারিনি। মাহাজন আপনার কথা বলেছিল। আমি খুব সরি। প্লিজ। আপনার বাবাকে আমার ব্যপারে কোন নালিস করবেন না। প্লিজ।


এমন সময় সেখানে মাহাজন চলে আসলো৷ এই বেটা আসার আর সময় পেল না। আমার ই ভাগ্য খারাপ। এইতো আরো সামনে চলে আসলো। 


মাহাজন: কি মা। এখানে দাড়িয়ে আছো কেন রোদের মধ্যে? এ কি তোমার চুড়ি কিভাবে ভাঙলো? ব্লেডিং হচ্ছে দেখি। আদি যাও বেন্ডেজ নিয়ে এসো।


বেন্ডেজ নিয়ে আসলাম দোকান থেকে। খুব ভয়ে আমি। রোদেলা যদি একবার মুখ খুলে যে তার হাত কাটার পেছনে আমার হাত রয়েছে। তাহলে আমার কাজ আর থাকবে না। মনে মনে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলাম। এবার বাচলে আমার বেতনের অর্ধেক গরীবদের দান করব। আল্লাহ তার কথা রেখেছে।


ফিরে এসে দেখি রোদেলা চেয়ারে বসে। তার বাবা আবার বাইরে কোথায় যেন গিয়েছি।  আমি সামনে এগিয়ে গেলাম।


রোদেলা: শুধু চেয়ে থাকলে হবে আমার হাতে বেন্ডিজ করে দেন। বেন্ডেজ করতে পারেন তো?


আমি: সরি, আমি আপনাকে কষ্ট দিলে দিলাম। মাফ চাই মন থেকে। এই দেখুন কান ধরে উঠবস করছি। এক, দুই, তিন....


রোদেলা মুখ চেপে হাসতে লাগলো।


রোদেলা: আপনি এতো ভীতু কেন? আমি বাবাকে কিছু বলিনি। আপনি তাড়াতাড়ি বেন্ডেজ করেন। আমার কোচিংয়ে যেতে হবে।


আমি রোদেলার ফর্সা হাত নিজের হাটুর ওপর রাখলাম। তারপর সাদা তুলো দিয়ে রক্ত গুলো কে মুছে ফেললাম। তারপর সাদা বেন্ডেজ দিয়ে পেচিয়ে ফেললাম হাত হাত। 


আমি: দেখুন ম্যাডাম।  আমি খুব গরীব। আমার কাছে এই কাজটা করা খুব ইম্পর্ট্যন্ট। আর আজকাল তো সহজে কাজও পাওয়া যায় না। 


রোদেলা: আমি আপনার অনেক ছোট৷ আপনি আমাকে তুমি করে বইলেন। কেমন?


আমি: ছি:। মাহাজনের মেয়ে আপনি আপনাকে কিভাবে তুমি করে বলি? 


রোদেলা: বলতে বলছি বলতে হবে। না হলে এবার আপনি আমার হাত কেটেছেন। পরের বার আমি আপনাকে রেশমি চুড়ি হাতে পড়িয়ে এমন চাপ দিব। আপনার হাতের রগ কেটে যাবো।


এই পিচ্চি মেয়েকে কিভাবে বোঝাবো। চুড়ি দিয়ে হাতের রগ কাটে না। যেহেতু পিচ্চি আবার মাহাজনের মেয়ে। তাই কিছু বললাম না।


রোদেলা: আমি তাহলে এবার আসি। পরে আবার দেখা হবে। কেমন? আচ্ছা।এই শোন। তোমার নামটা যেন কি?


আমি মুচকি হেসে বললাম, আমার নাম আদি।


রাতে ঘুমানোর সময় একা একাই রোদেলার কথা মনে করে হাসছিলাম। তার মানে কি? আমি তার প্রেমে পড়ে গেছি। পাশে খোকা বিরক্ত হয়ে গেল।


খোকা: কি রে একা একা পাগলের মতো হাসতাছোস কেন? তোরে কি জ্বীনে ধরলো নাকি?


আমি: না দোস্ত। তুই কি মাহাজনের মেয়ে রোদেলাকে দেখেছিস কখনও? সে সুন্দর মেয়ে আজ এসেছিল আমাদের দোকানে।  ওর হাটার স্টাইল, কথা বলার স্টাইল। সব কিছুতে আমি ফিদা দোস্ত। এখন বল ওকে কিভাবে পটাবো?


খোকা: ও তো। এখনও পিচ্চি। ক্লাস ১০ এ পড়ে। এবার মেট্রিক দিব মনে হয়। যাই হোক, ভুলেও ওর সাথে প্রেম করিস না। এই মেয়ে খুব ডেন্জারয়াস। একবার ওকে একটা ছেলে প্রপোজ করে। সে তার হাত ভেঙ্গে দেয়। 


আমি: শুধু শুধু ভয় দেখাস কেন আমাকে। যাও একটু ভাবছিলাম প্রেম করে বড়লোক হবো। ঘরজামাই হয়ে থাকবো। কোন কাজ করা লাগবে না। তুই সবকিছুতে পানি ঢেলে দিলি।


খোকা: ভয় দেখাইনি তোকে। সত্য কথা। কারন ওই ছেলেটা ছিলাম আমি। যে রোদেলা কে প্রপোজ করি। প্রথম যেদিন নদীর পাড়ে বসে লুঙ্গি ধুইতেছিলাম। তখনই ওকে প্রথমবার দেখি। নীল শাড়ি পড়ে, কপালে কালো টিপ। চোখে কালো কাজল৷ হাতে বেলিফুল৷ এসব নিয়ে বান্ধবী দের সাথে কোথায় যেন যাচ্ছিল। পরে আমার ভালোলেগে যায়। আর প্রপোজ করে দেই। এই দেখ হাত এখনও ভাঙ্গা আমার। 


আমি: কই হাত তো ঠিকই আছে। শুধু কব্জিতে একটা বড় কালো দাগ। এই কালো দাগ হলো কিভাবে? হাত ভাঙ্গা মানি সেই হাত দিয়ে তুই কোন কাজ ই করতে পারবি না। 


খোকা: সরি। দোস্ত। গুছাইয়া বলতে পারি না। আসলে ও আমার হাত চাকু দিয়ে কেটে দিয়েছিল। বুঝলি? একবার বিশ্বাস কর। 


আমি: হইসে। এখন তুই ঘুমা। অনেক মিথ্যা বলে পাপ করে ফেলেছিস। তওবা করে ।"


দোকানে কাজ করছি। এমন সময় ফোন বেজে উঠলো। দেখি আয়াত কল করেছে৷ আজ এতোদিন পর সে কি মনে করে কল করলো। প্রথমে ভাবলাম রিসিভ করবো না। পরে রাগ অভিমান সাইডে রেখে ফোন রিসিভ করলাম।


আয়াত: কি রে৷ তোর কোন খবর নাই। এখন কই থাকোস। তুই চলে যাওয়ার পর আম্মু খুব কান্না করছে। তার ১ দিন পর আমাদের বাসায় ডাকাতি হয়। ডাকাত সব কিছু নিয়ে যায়। 


আমি: আমার খোজ নেওয়ার দরকার নাই। ফুপুকে বলিস আমি ভালো আছি। যাতে কোন টেনসন না করে। আর ডাকাতি হলে তোর ফোন নিলো না কেন?


আয়াত: আমরা বাইরে ছিলাম। ঘরে এসে দেখি তালা ভাঙ্গা আর তারপর লকার চেক করে দেখি ২০ হাজার টাকা ছিল নাই। আমাদের মাটির ব্যাংকটাও ভেঙে পড়ে আছে মেঝেতে। এখন বল তুই কবে আসবি?


আমি: সরি, আমি আর কখনও তোদের বাসায় যাবো না। একবার যেখান থেকে আমি চলে আসি৷ আমি আর সেখানে যাই না।


আয়াত: আমার জন্য ফিরে আয়। আম্মু বলছে তুই ফিরে আসলে তোর সাথে আমার বিয়ে দিবে।


কথাটা শুনে চমকে উঠলাম। ফুপু একটা বিজনেস দাড় করিয়েছে। টাওয়ারের কাপড় দোকান কিনে নিয়েছে। এখন হয়তো আমাকে দরকার।  তাই এসব বলে বাসায় নিয়ে যাবে।


আমি: আচ্ছা৷ আমি পরে তোকে ভেবে জানাবো। আর নিজের খেয়াল রাখিস। গুড বায়।


ফোনটা কেটে পকেটে রাখলাম। এমন সময় এক ৫ বছরের বাচ্চা এসে একটা চিঠি দিয়ে গেল৷ কি ব্যপার? এই চিঠি আবার কার?

চিঠি খুলে পড়তে শুরু করলাম। চিঠি লিখেছে রোদেলা। 


রোদেলা: প্রিয় আদি। তোমাকে প্রথম দেখাতেই আমার ভালোলেগে গেছে৷ বাট সেদিন তোমাকে মনের কথা বলতে পারি নি। তুমি খুব ভালো মনের একটা মানুষ। আমাকে চিনো না। তাও আমাকে কেয়ার করে বেন্ডেজ করে দিলে। তখনই আমি তোমাকে আমার মনে জায়গা করে দিয়েছি। আমি রাতে তোমাকে ঘুমোতে গেলে স্বপ্ন দেখি। সারাদিন তোমাকে নিয়ে ভাবি। আমি জানি না আজকাল আমার কি হয়৷ তোমার কথা মনে পড়লে খুব খুশি লাগে৷ তোমাকে একপলক দেখতে মন চায় আমার। তুমি চিঠি পেয়ে তাড়াতাড়ি চলে এসো। আর আমি তোমাকে ছাড়া বাচবে না। আই লাভ ইউ, আদি। প্লিজ আমাকে ফিরিয়ে দিও না। ইতি তোমার রোদেলা। 


চিঠিটা পড়ার পর ভাজ করে পকেটে রাখলাম৷ আর তখনই কাধে কে যেন হাত রাখলো। পেছন ফিরে দেখি মাহাজন।


মাহাজন: তুমি আমার বাসায় যাও। সেখানে রোদেলাকে এই জ্যমিতি বক্সটা দিয়ে আসো৷ ওর নাকি খুব দরকার আমাকে ফোন করে বলল। 


আমি: আমি তো আপনার বাসা চিনি না। কিভাবে যাবো? 


মাহাজন: এখান থেকে মেইন রাস্তা ঘরে ১০ মিনিট হাটার পর দেখবা একটা স্কুল। তার পাশেই পাকা বিল্ডিং। দেয়ালে লেখা রোদেলা হাউজ। আর তারপর ও যদি খুজে না পাও। তাহলে আমাকে ফোন দিও।


জ্যমিতি হাতে বেড়িয়ে পড়লাম রাস্তায়৷ এটা মনে হয় রোদেলার কোন চাল। আমাকে বাসায় নেওয়ার জন্যই। এই মেয়ে খুব চালাক। দরজায় টোকা দিতেই গেট খুলে দিল রোদেলা। রোদেলার মা ছোটবেলায় মারা গেছে। সে এখন বাড়িয়ে একাই আছে। 


রোদেলা: আসুন। ভেতরে আসুন।আপনি কি আমার চিঠি টা পেয়েছেন? আর পেলে এখন বলুন, আপনার উত্তর কী?


একদিকে রোদেলা আরেকদিকে আয়াত। আমার কাকে বেচে নেওয়া উচিত? রোদেলার বয়স কম। এই বয়সে একজনকে ভালোলাগা স্বাভাবিক। আর ভালোলাগা একটা সময় পর আর থাকে না। কিন্তু ভালোবাসা আজীবন থাকে। আমি আসলে ওর মন নিয়ে খেলতে চাইছিলাম না। আমিও ওকে ভালোবাসি। কিন্তু চাইছিলাম। ও আরেকটু বড় হোক তারপর বলবো৷ কিন্তু এ দেখি মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। আমি প্রপোজ করার আগেই আমাকে প্রপোজ করে দিয়েছে।


রোদেলা: কি হলো। কথা বলছেন না। কেন? আমাকে আপনার কেমন লাগে? নাকি আপনি কোন চিঠি পাননি? ধুর। ১০ টাকা জলে গেল।৷ পিচ্চি কে ১০ টাকা দিয়ে পাঠাইছিলাম চিঠি দিতে। 


আমি: সে আমাকে চিঠি দিয়েছে আর আমিও সেটা পড়েছি। দেখো তোমার বয়স কম৷ এই বয়সে কাউকে ভালোলাগা স্বাভাবিক ব্যপার। হরমনের কারনে এসব হচ্ছে। তুমি যখন বড় হবে। তখন আর আমাকে ভালোলাগবে না। 


রোদেলা দেখি কেমন কাদো কাদো হয়ে গেছে। তার চোখ ছল ছল করছে।


রোদেলা: তার মানে আপনি আমাকে ভালোবাসেন না৷ ঠিক আছে, আপনি চলে যান। আর কখনও আমার সামনে আসবেন না।


আমি চলে আসলাম। রাস্তায় হাটছি। কিছুক্ষণ পর দেখলাম পকেটে কি যেন। ওহ। শিট। জ্যমিতি বক্স না দিয়েই চলে যাচ্ছিলাম। তাই আবার ছুটলাম। রোদেলার বাড়ির দিকে। বাড়ির কাছে এসে দরজায় ঠক ঠক করলাম। দেখি কেউ দরজা খুলছে না। ভাবলাম হয়তো এখনও রেগে আছে, তাই জানালার কাছে আসলাম। উদ্দেশ্য জানালা দিয়ে জ্যমিতি বক্স ছুড়ে ফেলে চলে যাবো। কিন্তু যখনই জানালার কাছে আসলাম। আমি হতভাগ। রোদেলা গলায় ফাসি দিচ্ছে। ফ্যনের সাথে ওড়না পেচিয়ে ঝুলে আছে। আমি তার দিকে তাকাতেই। তার পায়ের কাছে থাকা চেয়ারটা লাথি দিয়ে সড়িয়ে দিল। 


তাড়াহুড়া করে দরজায় লাথি দিলাম। দরজা ভাঙছে না। ৬,৭ লাথি দেওয়ার পর দরজা খুলে গেল৷ তাড়াতাড়ি করে ওকে বাচালাম।


বিছানায় শুয়িয়ে দিয়েছি কিছুক্ষণ পর ওর জ্ঞান ফিরেছে। দিলাম একটা থাপ্পড় গালে।


আমি: সুইসাইড করতে যাচ্ছিলে কেন? তুমি মারা গেলে তোমার বাবা কত কষ্ট পাবে জানো? নিজের বাবার কথা একবার ও ভাবলে না।


রোদেলা: তুমি আমাকে ভালো না বাসলে বাচালে কেন? তার মানে তুমি আমাকে ভালোবাসো। 


আমি বিছানা থেকে উঠলাম চলে যাবো তার জন্য৷ রোদেলা পেছন থেকে ডাক দিল। 


রোদেলা: কি হলো? উত্তর না দিয়ে কোথায় চলে যাচ্ছো? বিশ্বাস করো। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি৷ তোমাকে ছাড়া বাচবো না। 


আমি থমকে দাড়ালাম। এমন সময় বাইরে ঝড় শুরু হয়ে গেছে। বৃষ্টির শব্দ পাচ্ছি। আর তখনই কারেন্ট চলে গেল। একেকবার বিজলি চমকাচ্ছে আর ঘরটাও আলোকিত হচ্ছে। আবার অন্ধকার হচ্ছে।


আমি: হ্যা৷ আমিও তোমাকে ভালোবাসি। তবে আমি এতিম। আমাদের ভালোবাসা। তোমার বাবা কখনও মেনে নিবে না। উল্টো উনি যদি জানে আমরা প্রেম করছি। তাহলে আমাকে কাজ থেকে বের করে দিবে। তখন বলো আমি কোথায় যাবো?


কথাটা বলে পকেট থেকে সিগারেট বের করে ধরালাম। তারপর ঝড় বৃষ্টির মধ্যেই রাস্তায় নেমে হাটতে লাগলাম। কিছুক্ষণ পর রোদেলা এসে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরলো। তারপর আমাকে আবার ঘরে নিয়ে গেল।



সেদিন আমাদের মাঝে শারীরিক সম্পর্ক হলো। সবকিছু এতো তাড়াতাড়ি হয়ে গেল যে আমি কিছুই বুঝতে পারলাম না। পরে যখন হুশ আসে তখন বুঝলাম কাজটা ঠিক হয়নি। আর তাড়াতাড়ি বাসায় চলে আসলাম।


রাত ৮টা বাইরে এখনও বৃষ্টি পড়ছে। খোকা একেবারে ভিজে ফিরেছে। ঘরের দেয়ালে হেলান দিয়ে আমি ভাবছি এরপর আমি কি করব? জীবনে এগোতে হলে কিছু একটা করতে হবে। নিজের জন্য না হোক, রোদেলার জন্য। আমাদের যখন বিয়ে হবে। বাচ্চা হবে। তখন তো অনেক টাকার প্রয়োজন হবে।


হঠাৎ একটা বুদ্ধি আসলো মাথায়। ভাবলাম, নিজের জীবনের এই দুঃখ কষ্ট লিখে যদি বই বানিয়ে ছাপাই। তাহলে কেমন হয়? যেমন ভাবা তেমন কাজ। সারারাত জেগে নিজের জীবনের কথাগুলো লিখলাম। নিজের অতীতের কিছু কথা লিখলাম। তারপর বইটা সম্পাদকের কাছে পাঠালাম। সে ছাপিয়ে দিবে। 


পরেরদিন আবার ঘুম থেকে কাজে গেলাম। তারপর দোকান ঝাট দিয়ে পরিষ্কার করলাম। প্রথম কাস্টমার কে দেখে বুক ধ্বুক ধ্বুক করে উঠলো। রোদেলা আসছে কাধে স্কুল ব্যাগ। সামনে এসে দাড়ালো। 


রোদেলা: এই যে মি: হিরো। চলো, আমাকে স্কুলে দিয়ে আসো। তাড়াতাড়ি করো।


আমি: তোমার আব্বু জানলে আমাকে মেরে ফেলবে। তুমি একাই যাও।


রোদেলা: আরে মিয়া। ডরাও কেন? আব্বুকে বলছি কিছু ছেলে আমাকে রাস্তায় ডিস্টার্ব করে। আব্বুই বলছে তোমাকে নিয়ে যেতে স্কুলে। 


আমি: তাহলে আর কি চলো যাই। দাড়াও দোকানটা তালা মেরে নেই। তোমার আব্বুর কাছে ডুবলিকেট চাবি আছে, এসে খুলে নিবে। 


ব্রিজের ওপর দিয়ে হাটছিলাম। দুজনেই চুপচাপ। রোদেলা সামনে, আমি পেছন পেছন যাচ্ছি।


রোদেলা: এই শোন, আজ স্কুলে যাবো না। চলো ব্রিজের নিচে চিপায় যাই।


আমি: চিপা ছাড়া কি আর কোন ভালো জায়গা নেই। এইসব চিপায় মশা থাকে। ডেঙ্গু মশা। ওরা যদি কামড় দেয় এইডস হবে।


রোদেলা: আরে গাধা। চলো বলছি। তোমাকে একটা জিনিস দেখাবো। চলো।


ফ্রিজের নিচে আসলাম। জায়গাটা নীরব। আশেপাশে কেউ নেই। এখানে আবার কি দেখাবে কে জানে?


রোদেলা: চোখ বন্ধ করো। আমি যখন বলবো। তখন চোখ খুলবা। ঠিক আছে?


আমি চোখ বন্ধ করলাম। আর চোখ খুলে দেখি একটা ঘড়ি। রোদেলা আমার হাতে ঘড়ি পড়িয়ে দিল। সাদা রঙেল ঘড়ি। মনে হয় খুব দামী।  আমি তাকে জড়িয়ে ধরলাম। সেও আমাকে জড়িয়ে ধরলো।


পরেরদিন আবার সে আমাকে সিনেমা হলে নিয়ে গেল। দোকানের কাজ, এমনেই ছুটি নাই। অনেক কষ্টে ছুটি নিয়েছি। দুজনে হাত ধরাধরি করে সিনেমা দেখলাম। এমন সময় ফোন বেজে উঠলো। সম্পাদক কল করেছে।


আমি: হ্যালো। কি ব্যপার লেখা বই ছাপাবেন কবে? দেখুন আপনার ইমেইলে লেখা পাঠিয়েছি।


সম্পাদক: দেখুন আমরা তো ফ্রিতে বই ছাপাই না। আপনার বই ছাপাতে ১০ হাজার টাকা লাগবে। আপনি টাকা পাঠিয়ে দেন। আমি সব কাজ করে দিব।


আমি: আমার লেখা পড়ে দেখুন। খুবই ভালো। এই বই হিট খাবে। 


সম্পাদক: আপনি তাড়াতাড়ি টাকা জোগাড় করুন। বিকাশে টাকা পাঠাই দিয়েন। আমরা বই ছাপাই দিব।


ফোন কেটে গেল। যেখানে বেতন ই পাই ১০ হাজার। চা, সিগারেটে চলে যায় ৫ হাজার। আর ৫ হাজার খোকাকে দেই ম্যাচ ভাড়া। এখন এতোগুলা টাকা কিভাবে জোগাড় করব?


আমার মন খারাপ বুঝতে পারলো রোদেলা।


রোদেলা: কি হয়েছে। মন খারাপ করে রেখেছো কেন? আমাকে বলো? আমি কি কোন হেল্প করতে পারি?  কিসের যেন টাকার কথা বললে। তুমি যদি চাও আমি তোমাকে ১০ হাজার টাকা দিতে পারি।


এখন না নিয়ে উপায় নেই। তাই রোদেলাকে জড়িয়ে ধরলাম। 


আমি: ধন্যবাদ রোদেলা। তুমি আমার অনেক বড় উপকার করলে। আমার খুব শখ লেখক হওয়ার। আজ সেই ইচ্ছা পুরন হবে।


রোদেলার থেকে টাকা নিয়ে বিকাশে পাঠিয়ে দিলাম। তারপর রোদেলা কে নিয়ে নদীর পাড়ে আসলাম। চারিদিকে কাশফুল। তার মাঝে আমরা। রোদেলা বসে আছে। আমি তার উরুতে মাথা রেখে শুয়েছি।


আমি: জানো, রোদেলা। আমার ছোটবেলা খুব কষ্টে কেটেছে। আমার বয়স যখন ২। তখন এক্সিডেন্টে আমার বাবা মা মারা যায়। আমি তখন এতিম। আমাকে কেউ নিতে চাইলো না। সবাই দুরে ঢেলে দিয়েছিল। তখন আমার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলেন। আমার ফুপা। উনি খুব ভালো মানুষ ছিলেন। তবে কথায় আছে না ভালো মানুষেরা বেশিদিন বাচে না। তাই হলো৷ একদিন রাতে ফুপা যখন ঘরে ফিরলেন। তখন উনার বু্কে ব্যথা শুরু হয়ে গেল। হাসপাতালে নিতে নিতে মারা গেলেন তিনি। ডাক্তাররা বলল হার্ট এট্যাক করেছেন। উনি মারা যাওয়ার পর ফুপু আর বিয়ে করেননি। উনাকে খুব ভালোবাসতো। আর আমার ফুপাতো বোন আছে আয়াত। ছোটবেলা থেকে বড় হয়েছি সেই আমার বেস্টফ্রেন্ড। সবকিছু ভালোই চলছিল। হঠাৎ করোনার কর ব্যবসায় লস খেলেন ফুপু। তার ওপর আমার চাকরী চলে গেল। আর আমাকে ঘর থেকে বের করে দিলেন।


রোদেলা: দেখো। যার কেউ নেই তার আছে আল্লাহ। আর আমি সবসময় তোমার পাশে থাকবো। কখনও তোমাকে ছেড়ে যাবো না। কথা দিলাম। আমার মা মারা যান কিভাবে জানো? আমার মা পরোকিয়া প্রেম করতেন। তাই তিনি ওই লোকটার সাথে পালিয়ে যান। পরে আম্মুর লাশ পাওয়া যায়। কিন্তু খুনিকে পাওয়া যানি। ওই লোক আম্মুকে খুন করে উনার সব নিয়ে যায়। 


আমি: যে লোক ভালোবাসে৷ সে কেন খুন করবে? আমার মনে হয় তোমার আব্বুই তোমার আম্মুকে খুন করেছো। আর তোমার বাবার তো অনেক টাকা। তাই পুলিশকে টাকা খায়িয়ে খুনের ঘটনা চাপা দিয়েছে। 


রোদেলা: জ্বী না। আইসে আমার সি.আইড। তুমি বেশি জানো। এটা কি তোমার গল্পের কাহিনী যে খুন করবে একজন আর পরে দেখা যাবে আরেকজন?


হঠাৎ ফোন বেজে উঠলো। পকেট থেকে ফোন বের করে দেখি খোকা। ফোন রিসিভ করলাম।


খোকা: দোস্ত। তুই কই আসোস? তুই যে প্রেম করোস। এটা আমাকে বলিস নাই কেন?


আমি: কেন কি হয়ে গেছে। তুই এতো ভয় পেয়ে কথা বলছিস কেন?


খোকা: তুই আর রোদেলা কোথায় সেটা বল? রোদেলার বাবা সব জেনে গেছে। উনি তোদের খুজছে। হাতের কাছে পেলেই মনে হয় খুন করবে। তুই আর রোদেলা ঢাকা চলে যা। 


আমি: তুই এখন কোথায় আছিস? আমি সিনেমা হলের সামনে। তুই বাইক নিয়ে আয়। 


কিছুক্ষণ পর খোকা বাইক নিয়ে হাজির। 


খোকা: এই নে বাইকের চাবি আর কিছু টাকা। তোরা ঢাকা চলে যা। আমি পরে আসবো। আমার কোন চিন্তা করিস না। আমার কিছু হবে না এখানে।


আমি: দোস্ত। আমার খুব ভয় লাগছে। তোকে যদি কিছু করে৷ তাহলে এর জন্য আমি দ্বায়ী থাকবো।


খোকা: আরে। কথা বলার সময় নাই। তাড়াতাড়ি চলে যা।


আমরা সেখান থেকে চলে আসার পর সেখানে উপস্থিত হয় মাহাজন। রোদেলার বাবা৷ খোকাকে তিনি ধরে ফেললেন।


মাহাজন: আমার মেয়ে কোথায় বল? তোর বন্ধু আমার মেয়েকে নিয়ে পালিয়েছে। তুই যদি সত্য কথা না বলিস। তাহলে তোকে কেটে নদীতে ভাসিয়ে দিব।


খোকা: তারা কই গেছে আমি জানি না। আর আমি তো দেখি ও নাই। আপনার কাছে কি ১০টা টাকা হবে। একটা সিগরেট খাবো। লাকি ইস্ট্রিক৷ 


মাহাজন: তোর কত বড় সাহস আমার সাথে ফাজলামি করস। আজ তোর একদিন কি আমার একদিন।


কথাটা বলে মাহাজন খোকে অনেক মারে। কিন্তু মুখ থেকে সত্য কথা বের করতে পারে না। যখন খোকা আধমরা হয়ে যায়। তখন তাকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই খবর আমি পরে জেনেছি।


সেদিন আমি আর রোদলা ঢাকায় চলে আসি। তারপর কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করে ফেলি। চাইলেই ফুপুর বাসায় যেতে পারতাম । কিন্তু না। যেখান থেকে একবার অপমানিত হয়ে ফিরেছি। সেখানে আর ফিরে যেতে চাই না।


বাইরে বৃষ্টি পড়ছে বলে জানালা লাগিয়ে দিলাম। বৃষ্টির ফোটা জানালা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করছিল৷ বিছানার একপাশে কিছু অংশ ভিজে গিয়েছে। রোদেলার দিকে তাকালাম। সে গভীর ঘুমে রয়েছে। তার সহজে ঘুম ভাঙ্গে না। তার পাজামাটা হাটু পর্যন্ত উঠে গিয়েছে। আমি পাজামা নামিয়ে দিলাম। রোদেলার ঘুমিয়ে থাকলে তার হুশ থাকে না জামা কাপড়ের। সে একটু নড়ে চড়ে উঠলো। কিন্তু পুরোপুরি জেগে উঠলো না।


 বিয়ে করেছি ১ মাস হবে। 

সিগারেট দেখি শেষ পর্যায়ে। আমি আরেকটা সিগারেট ধরালাম৷ 


এখন আমি একটা উবারে কাজ করি৷ বাইক নিয়ে সকাল বেলা বের হই। তারপর এ্যাপটা অপেন করি৷ মানুষ আমাকে কল দেয় বলে ওমুক জায়গায় যেতে হবে। রোদের মধ্যে আমি এসব কাজ করি৷ শুধু রোদেলার জন্য।


 মাস শেষে ঘর ভাড়া +বাজার + বউয়ের কেনাকানা। এসবের মাঝে দম বন্ধ হয়ে আসে। মনে হয়, কেন আমি পালিয়ে বিয়ে করলাম?রোদেলা কি আমার ভুল চয়েজ ছিল?  ভালোবাসা ই কি এমন শাস্তি দিতে পারে?


হঠাৎ রোদেলা ডাকে পেছন ফিরে তাকালাম৷ 


রোদেলা: এতো রাতে বসে আছো কেন? ঘুমিয়ে পড়ো৷ সকালে তোমাকে আবার কাজে যেতে হবে। 


আমি সিগারেট শেষ করে রোদেলার পাশে শুলাম৷ পেছন থেকে তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে গালে চুমু খেলাম।

 


রোদেলা: এখন আবার শুরু করবে নাকি? ২ ঘন্টা আগেই তো আমরা এসব করলাম। এখন আর না। আমাকে ঘুমোতে দাও। সকালে থালা বাসন মঝতে হবে। কাপড় ধুতে হবে। তোমার জন্য নাস্তা বানাতে হবে৷ 


আমি : আমার বউটা কত কাজ করে৷ কথাটা বলে আবার তার গালে চুমু খেলাম। 


রোদেলা:  হয়েছে। আর পাম দিতে হবে না। এখুন চুপচাপ ঘুমাও। বউকে বিরক্ত করবা না৷ সারাদিন অনেক খাটা খাটনি করছি। এখব একটু রেস্ট নিতে দাও প্লিজ।


আমি : চলো! আরেকটা খেলি। আরেকবার প্লিজ। প্লিজ।


রোদেলা:  না! বলছি তো না। ঘুমাও দেখি। তোমার জ্বালায় আর বাচি না।


সকালে ঘুম থেকে উঠলাম সকাল ৭ টায়। টয়লেটে ঢুকে একটা সিগারেট ধরালাম। সকালে ঘুম না হলে মেজাজ খারাপ থাকে আমার। সিগারেট শেষ করে দাত ব্লাশ করছিলাম । এমন সময় দরজায় ঠকঠক শব্দ। 


রোদেলা: তাড়াতাড়ি করো। আট টা বেজে গেছে। তোমার টয়লেট করতে এতো সময় লাগে কেন? টয়লেটে কি বসে বসে ধ্যান করো? এই কি হলো শুনছো আমার কথা?


আমি কোন জবাব দিলাম না৷ গোসল সেড়ে মাথায় ঘামছা দিয়ে চুল মুছতে মুছতে বের হলাম। রান্না ঘরের দিকে তাকালাম। দেখি রোদেলা ডিম পোজ করছে৷ আমি আর কী৷ রোদেলাকে পেছন দিক থেকে তাকে জড়িয়ে ধরলাম। কানে কানে বললাম, চলো। রোমান্স করি। 


রোদেলা: খালি খালি রোমান্স রোমান্স করো কেন? এসব ছাড়াও অনেক কিছু আছে৷ এখন তো সারাদিন আমার আচল ধরে বসে থাকো। বিয়ের ৫/৬ বছর চলে যাক। তখন আর আমাকে তোমার ভালো লাগবে না। 


আমি:  ভালো লাগবে না। সেটা কিভাবে বলছো? 


রোদেলা: আমি দেখিছি পাশের বাড়ির ভাবি জেরিনদের বাসায়৷ উনাদের নাকি এখন আর রাতে একসাথে ঘুমান না। বিয়ের হয়েছে ৭ বছর। ৫ বছরের একটা ছেলে সন্তান আছে। সারাদিন জেরিন ভাবী তাকে নিয়েই থাকে। রাতে ছেলেকে বুকে নিয়ে ঘুমোন। সন্তান হওয়ার পর তার আর নাকি এসব ভালোলাগে না।


আমি: সবাই তো এক না। আমার তোমাকে আজীবন ভালোলাগবে। আমরা বুড়ো বুড়ি হবো। তখনও রোমান্স করবো।


রোদেলা:  ডিম হয়ে গেছে। টেবিলে রুটি রাখা আছে। নাস্তা করে নাও। 


আমি:  দ্যাৎ রোদেলা। তুমি একটুও রোমান্টিক না৷ 


রোদেলা:  আমি চাই রোমান্টিকতা আজীবন বজায় থাকুক৷ একদিনেই যদি সব করে ফেলি। তাহলে পড়ে করার মতো আর কিছু বাকি থাকবে না।


আমি ভেবে দেখলাম। কথাটা তো সে ঠিকই বলেছে।


রাত ১০ টায় কাপ আইসক্রিম নিয়ে বাসায় ফিরলাম। আমি জানি রোদেলা আইসক্রিম পছন্দ। আইসক্রিম দেখলে সে কি করে তা মনে মনে ভাবছিলাম।


দরজায় কলিংবেল বাজাতেই রোদেলা দরজা খুললো। আমার হাতে আইস্ক্রিম দেখে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। কিছুক্ষণ তার মনে হলো কেউ কি দেখে ফেললো। লজ্জা পেয়ে আবার ততক্ষনাৎ আমাকে ছেড়ে দিয়ে আইসক্রিমের পোটলা নিয়ে ঘরে ভেতরে গেল। 


রোদেলা:  টেবিলে ভাত আছে খেয়ে নাও। তারপর খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ো। আমি পরে ঘুমাবো 


আমি: একা একা আইসক্রিম খাবে নাকি আমাকেও দাও? আমারো তো খেতে মন চায়। 


রোদেলা: না৷ আমি সব সেয়ার করব। কিন্তু আইসক্রিম আমি কাউকে সেয়ার করি না৷ এটা আমি একাই খাবো। আর এমনিও তুমি তো আইসক্রিম পছন্দ করো না৷ আমি জানি। তোমার ঠান্ডা কোন কিছু পছন্দ না। তোমার পছন্দ চা সিগারেট। যা কিনা ক্ষতি করে। 


আমি হাসলাম। টেবিলে বসে খাবার শেষ করে বিছানায় বসলাম। রোদেলা দেখি ডিম লাইট জ্বালিয়ে রাতের পোষাক পড়ছে। অন্ধকারেও আমি তার শরীর দেখতে পাচ্ছিলাম। পেছন ফিরে সে জামা চেন্জ করলো। আমি তাকিয়ে থাকলাম তার দিকে। তারপর খাটে এসে বসলো। আমি তার ঠোঁটে চুমু খেলাম৷ বাইরে আবারো বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। ইলেকট্রিসিটি চলে গেছে। ঘর পুরো অন্ধকার। কিছুক্ষণ পরপর বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে আর রোদেলা আমি ১ সেকেন্ডের জন্য দেখতে পাচ্ছি। দেখলাম সে তার ব্রা এর হুক খুললো৷ তারপর খাটের একপাশে ব্রা টা রাখলো। তারপর আমাকে জড়িয়ে ধরলো। আমি ও তাকে জড়িয়ে ধরে চুৃমু খাচ্ছি৷ 


সারাদিনের পরিশ্রমের পর যখন রোদেলাকে শরীরের সাথে শরীর। মনের সাথে মন মিশিয়ে দুজনে একত্রিত হই। তখন আর আমার মনের সকল দুঃখ, কষ্ট, পরিশ্রমের কথা ভুলে যাই। আমি ডুবে যাই এক অন্য ভুবনে, যা এই ভুবনে নাই। 


প্রচন্ড মাথা ব্যথা নিয়ে ঘুম থেকে উঠলাম। আজকাল আমার মাথা ব্যথা হচ্ছে। কাজে মন দিতে পারি না। সারাদিন বাইক নিয়ে রোদে থাকার কারনেই হয়তো এই সমস্যা হয়েছে। সমস্যার কথা রোদেলাকে বলিনি। সে টেনসন করবে বা হয়তো বলবে চলো দুজনে গার্মেন্টসে জয়েন করি। তোমার একার টাকায় সংসার চলবে না। আমি চাই না আমার বউ অন্য কোথাও কাজ করুক৷ তাই যত কষ্টই হোক, আমি রোদে কাজ করতে রাজি। আজকাল চেহারা কালো হয়ে গেছে রোদে পুড়ে। নিজের যত্ন নেওয়া হয় না।



বাইক চালাচ্ছি। হঠাৎ ফোন বেজে উঠলো৷ ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরলাম৷ সম্পাদক সাহেব  কল করেছেন আমাকে। 


সম্পাদক: আসসালামু আলাইকুম লেখক সাহেব। আপনি যে বই ছাপিয়েছেন। সেটা বাংলাদেশে বেস্ট সেলার৷ সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে সেই বই। আপনার জন্য সবাই অপেক্ষা করছে। আপনাকে বক্তৃতা দিতে হবে। আর আপনার কয়েক লাখ টাকা নিয়ে যাইয়েন।


আমি: এসব কি ঠাট্টা করছেন? নাকি সত্যি? আমার তো বিশ্বাস ই হচ্ছে না। আমার লেখা বই। এতো জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আজ অবশেষে আমি সফল। জীবনে অনেক কষ্ট করেছি। তাই সৃষ্টিকর্তা অবশেষে মুখ তুলে চাইলেন।


সম্পাদক: আপনাকে আরো বই লিখতে হবে আমরা অগ্রীম ৩লাখ টাকা দিব। আর আমাদের এখান থেকে ফ্রি তে ছাপিয়ে দিব।


পরের বই এর নাম দিলাম  'রোদেলা'। এই বইটাও হিট খেল৷ বাংলাদেশের টপ লিষ্টে চলে গেল। আর আমিও জনপ্রিয় লেখক হয়ে গেলাম।


একবার বক্তৃতা দিতে গিয়েছি। 


আমি: আমার এই সফলতার পেছনে একটি মেয়ের হাত আছে৷ আমার ওয়াইফ রোদেলা। সে আমার খারাপ সময়ে পাশে থেকেছে। আর আমার প্রথম বই। আমি তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে ছাপিয়েলাম। থ্যাংকু সো মাচ। 


এখন আর আমাদের কোন দুঃখ নাই। এমনকি আমাকে রোদে পুড়ে কাজ ও করতে হয় না। একটা ফ্লাট কিনেছি। লেখালেখি করেই সংসার চালাই। কখনও উপন্যাস, কখনও না সিনেমার গল্প। আমি যা লিখি তাই হিট খায়। 


আমার খুব ইচ্ছে ছিল নেপাল যাওয়ার। তাই রোদেলাকে বললাম জামা কাপড় গুছিয়ে নিতে আমরা নেপাল যাবো।


প্লেনে করে নেপালের হিমালয়ে চলে আসলাম। এখানে একটি হোটেলে উঠেছি। চারিদিকে  বরফ পড়ছে। আমি আর রোদেলা একটি কাঠের চেয়ারে বসে আছি। আমার কোলে রোদেলা। আমাদের হাতে একটি মাত্র কফির কাপ। আমি একবার কফির মগে চুমুক দিচ্ছো। রোদেলা একবার কফির মগে চুৃুমুক দিচ্ছে। 


রোদেলা: সবকিছু স্বপ্নের মতো লাগছে। তোমার বই ভাইরাল হওয়ার কারনেই আজ আমরা ধনী হতে পেরেছি। আচ্ছা। তোমার ফুপু আর আয়াতের খোজ কি নিয়েছো?


আমি চুপ হয়ে গেলাম। কথা ঘুরানোর চেষ্টা করলাম।


আমি: ওরা আমার খারাপ সময়ে আমাকে বের করে দিয়েছে। আর আমি কখনও অতীতে তাকাই না। আমার বর্তমানই আমার কাছে সব। এখন আমার সাথে কে আছে। এটা আমার কাছে ইম্পর্ট্যান্ট। আগে কে ছিল। সেটা দেখে লাভ নাই।


রোদেলা: তবুও। উনি তোমার ফুপু। তোমাকে ছোটবেলা থেকে মানুষ করেছে। তোমাকে নিজের ছেলের মতো দেখেছে। তোমার কি কোনই দ্বায়ীত্ব নেই?


আমি: দ্বায়িত্ব জ্ঞান আমাকে বুঝাতে আসবে না। আমার হয় আমি তাই করব। ও ভালো কথা৷ খোকা কোমা থেকে ফিরেছে৷ ও আমার জীবনে অনেক উপকার করেছে। আমার এক ডাইরেক্টটর বন্ধু আছে। সিনেমা জগতের কাজ করে। খোকাকে সেখানে দিয়ে দিব। ওর যে লুক। ভিলেনের পার্টে ওকে মানাবে। ডাইরেক্টর কে খোকার ছবি দিয়েছি। উনি রাজি হয়েছেন।


রোদেলা: আর আমার বাবার ব্যপারে কি সিদ্ধান্ত নিলে? তুমি কি এখন তোমার বন্ধুর হয়ে প্রতিশোধ নিবে? মনে রেখো উনি তোমার শশুর। আর যখন তোমার কাজ ছিল না। তখন তিনি ই তোমাকে কাজ দিয়েছেন।


আমি: প্রতিশোধ তো নিবোই। মজা করলাম। চলো, রংপুর থেকে ঘুরে আসবো। তোমার দেশের বাড়ি। গাড়ি নিয়ে যাবো। তোমার বাবা নিশ্চয় আমাদের মেনে নিবে।


রোদেলা: এখন তুমি  বড়লোক। তোমার অনেক টাকা। তোমাকে মেনে নিবে। এটাই স্বাভাবিক। হিমালয় থেকে আমার ইচ্ছা কাঠমন্ডু যাওয়ার।


আমি: সমস্যা নেই। তুমি চাইলে পুরো নেপাল ঘুরে দেখাবো। 


নেপাল থেকে ফিরে এসে খোকার সাথে দেখা। খোকা এয়ারপোর্টে আমাদের অপেক্ষা করছিল। সাইনবোর্ডে আমাদের নাম দেখে এগিয়ে গেলাম। গাড়িতে উঠলাম। ৬ সিটের গাড়ি। খোকা ড্রাইবারের সাথে৷ আমি আর রোদেলা পেছনে। তারপরের ২ টা সিট খালি। এই গাড়িও আমার নিজের টাকায় কেনা। টাকা হলে মানুষ কি না পারে  । 


ড্রাইবার কে বললাম রংপুর যেতে। গাড়ি চলতে শুরু করলো।


খোকা: দোস্ত! তুই হঠাৎ এতো বড় লোক হলি কিভাবে? দুই নাম্বার কোন ব্যবসা করিস নাকি?


আমি: হ ঠিক বলছোস। গাজা হিরোইন মদ এসব ইন্ডিয়া থেকে বাংলাদেশে সাপ্লাই দেই। মজা করলাম। আমি এখন গল্প লেখক। আমার বই হিট করেছে আর সেখান থেকে লাখ লাখ টাকা পাই।


আমি: হ ঠিক বলছোস। গাজা হিরোইন মদ এসব ইন্ডিয়া থেকে বাংলাদেশে সাপ্লাই দেই। মজা করলাম। আমি এখন গল্প লেখক। আমার বই হিট করেছে আর সেখান থেকে লাখ লাখ টাকা পাই।


খোকা: কি বলিস। বই লিখে এতো টাকা এটাকে বিশ্বাস করা যায়?


আমি: শুধু আমি এরকম না। হুমায়ুন আহমেদ ও বই লিখে, সিনেমা বানিয়ে নুহাশ পল্লি বানিয়েছে, সেন্ট মার্টিনে ঘর বানিয়েছে। সে তুলনায় আমি এখনও কিছুই না।  ভালো কথা তুই কি অভিনয় করতে পারবি?


খোকা: কি বলিস? সারাজীবন ধরে তো অভিনয় করেই আসলাম। বল, কিসের অভিনয় করতে হবে।


আমি: রংপুর থেকে ফিরে তোর এফ, ডি,সি তে চলে যাবি। সেখানে অভিনয় করছি। প্রতি সিনেমার জন্য ৫০ হাজার টাকা পাবি। ভিলেনের পার্ট। 


খোকা: আমি ভিলেন হলে তুই নায়ক হয়ে যা। এমনিতেও তো তুই নায়ক। 


এমন সময় গাড়ি কষে ব্রেক করে থেকে গেল। 


আমি: কি হলো? গাড়ি থামালে কেন? 


ড্রাইভার : স্যার। রাস্তার সামনে একটা বাচ্চা চলে এসেছে। তাই।


গাড়ি থেকে নেমে আমি চেক করতে নামলাম। আর তখনই দেখলাম আয়াত একটি ৫ বছরের ছেলেকে জড়িয়ে ধরে আছে গাড়ির সামনে।


আমি: আয়াত। তুমি এখানে কিভাবে?


আয়াত: আদি। তুই? এতোদিন পর আমাদের আবার দেখা। এটা তোর গাড়ি?


আমি: এই বাচ্চাটা কার? হ্যা নতুন গাড়ি কিনেছি। 


আয়াত: এটা আমার বাচ্চা। ওর নাম আয়ান। আমরা ওকে দত্তক নিয়েছি।


আমি: তোর স্বামী কোথায়? তাকে তো দেখছি না।


আয়াত: সে আজ মালয়েশিয়া চলে গেছে। তাকেই এয়ারপোর্টে দিতে এসেছিলাম। এখন বাসায় চলে যাচ্ছি।


আমি: দাড়া! আমাদের সাথে রংপুর চল। তোর ভাবীর দেশের বাড়ি। সেখান থেকে ঘুরে আসবি ভালো লাগবে।


আয়াত প্রথমে রাজি হলো না। পরে তার ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে রাজি হলো।

এখন গাড়ির একটা সিট ও খালি নেই। সবগুলো ভরা। একেবারের পেছনের দুটি সিটে বসেছে আয়াত আর আয়ান। গাড়ি আবার চলতে শুরু করেছে।


আমি: পরিচয় হয়ে নাও। একে অপরের সাথে। আয়াত আমার ফুপাতো বোন। আয়াত এ হচ্ছে আমার বন্ধু খোকা। আর এটা আমার ওয়াইফ রোদেলা।


আয়াত: তুই বিয়ে করলি কবে? আমাদের তো একবারও জানালি না?আমরা কি তোর আপন না?


আমি: সে অনেক লম্বা ঘটনা। ফুপুর খবর কি? উনি এখন কোথায়?


আয়াত: উনাকে আমরা বিয়ে দিয়ে দিয়েছি রংপুরে। এক দোকান দারের সাথে।


রোদেলা: সেই দোকানদার কি স্বাস্থ খুব ভালো মোটা সোটা? গায়ের রং হলুদ?


আয়াত: হ্যা। কিন্তু তুমি এসব কিভাবে জানলে? তুমি কি তাকে চেনো?


খোকা: আপনি যার কথা বলছেন। সে রোদেলার বাবা। মানে আদির শশুর। এখন তো আবার ফুপাও হয়ে গেল।


আমি: এতো মানুষ থাকতে আমার শশুরের সাথেই বিয়ে দিতে হলো? পৃথিবীতে কি আর লোক নাই?


আয়াত: আমি কি জানি যে ওইটা তোর শশুর। তুই যে বিয়ে করেছিস। এটাই তো জানতাম না।


আমি: এখন সত্যি করে বল তোর সাথে এই আয়ান ছেলেটা কে? ওর আসল পরিচয় কী?


আয়াত: সত্যি কথা। তুই চলে যাওয়ার পর আম্মু ওকে দত্তক নিয়েছে। আর আসলে আমি মিথ্যে কথা বলেছি। আমি এখনও বিয়ে করিনি।


খোকা: আলহামদুলিল্লাহ। তাহলে তো ভালোই হলো। আপনার নাম্বার টা দেন।


আমি: খোকা, আমার সামনে আমার ফুপাতো বোনের সাথে লাইন মারোস। সালা কুত্তা। 


অবশেষে আমরা রংপুর পৌছালাম। গাড়ি থেকে নামতেই পোলাপান ঘিরে ধরলো আমাকে অটোগ্রাফ এর জন্য। বইয়ের পেছনে নিজের পাসপোর্ট সাইজের ছবি দিয়েছিলাম। মনে হয় ছবি দেখে চিনেছে। সবাইকে অটোগ্রাফ দিয়ে চলে আসলাম দোকানের সামনে। আমার পেছনে ওরা আসছে। এখন আর দোকান নেই। দোকান ভেঙ্গে রেস্তোরাঁ করা হয়েছে। সেখানে বাবুর্চি আমার ফুপু। আর খাবার সেল করে শশুর।


আমি এক পা এক পা করে সামনে এগিয়ে গেলাম। আমাকে দেখতে পেলেন শশুরজি। উনি হাতে দাউ কিনে আমাকে মারতে আসলেন। পেছন থেকে উনার দাউ ধরে ফেললেন ফুপু। সেটা নিয়ে ছুড়ে ফেললেন দুরে।


শশুড়: কি হলো। তুমি আমার হাত থেকে দাউ কেড়ে নিলে কেন? এই হারামি আমার মেয়েকে নিয়ে পালায়। আজ আমি ওকে মেরে ফেলব।


ফুপু: তুমি কাকে কি বলছো? এটা আমার ভাতিজা। হয়তো আমাকে দেখতে এসেছে।


এখন সময় বাকিরা সেখানে আসলো। খোকা এসেই জ্ঞান দেওয়া শুরু করলো।


খোকা: আপনি জানেন। কাকে কি বলতেছেন? শশুড় হয়েছেন। এখন ওদের বরন করে নেন। আপনার জামাই এখন লাখ টাকার মালিক। বই লিখেই কোটিপতি।


রোদেলা: বাবা। আমার ভুল হয়ে গেছে। প্লিজ ক্ষমা করে দাও। আমি তোমার একমাত্র মেয়ে। আমাকে গ্রহন করে নাও।


আয়াত: দেখুন। আংকেল। আমার ভাই তেমন দোষের কিছু করে নাই। তাও আমি ওর পক্ষ থেকে সরি বলছি।


আমি: এতোজন সরি বলল। তাও আপনার মন গলেনি। এখন কি পা ধরে মাফ চাইবো?


শশুর আব্বা কি যেন ভাবলেন। 


শশুড় : ওকে। যাও তোমাদের মাফ করলাম। এবার এসে আমাকে প্রণাম করো। তোমাদের আশীর্বাদ করি।


আমি আর রোদেলা পা ধরে সালাম করলাম। উনি মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।


শশুড়: তোমরা সুখে থাকো। এই দোয়া করি।


রাত ১২ টায় হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল। রোদেলা এখন ঘুমাচ্ছে৷ আমি বাইরে বের হলাম সিগারেট খাওয়ার জন্য। বাইরে বের হয়ে দেখি ঝোপের ভেতর কি যেন আছে। ভুত নয় তো? আমি মোবাইলের ফ্লাশ লাইট জালিয়ে সামনে এগিয়ে গেলাম। গাছ পালা হাত দিয়ে সড়িয়ে যা দেখলাম। নাউজুবিল্লাহ। খোকা আর আয়াত একে অপরকে চুৃুমু খাচ্ছে।


আমি: সালা। খোকা। আর কাউকে পেলি না আমার ফুপাতো বোনের সাথেই এসব করতে হলো৷ তোকে তো পুলিশে দিব।


আয়াত: চিল্লা চিল্লি করো না। সবাই জেগে যাবে। প্লিজ ভাই। একটু আস্তে কথা বল। আমি খোকাকে ভালোবাসি।


খোকা: আর আমিও আয়াতকে ভালোবাসি। তোর ফুপুর সাথে কথা বলে আমরা বিয়ে করে নিব। এখন তুই ঘরে গিয়ে ঘুমা। মনে আছে৷ তোকে পালাতে হেল্প করছিলাম। এখন আমাদেরও হেল্প কর। 


আমি রাজি হয়ে গেলাম। পরেরদিন ফুপুকে রাজি করালাম আর ওদের বিয়ে দিয়ে দিলাম। ছোট খাটো একটা অনুষ্টান হলো।


বিয়ের দিন আমরা সবাই মিলে একটি ফ্যমিলি ছবি তুললাম। এখন এরা সবাই আমার ফ্যমিলি আমি আর এতিম নই।


(সমাপ্ত)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পিচ্চি বউ - পর্ব ২৯

 আমি জেরিনকে বললাম, আবারো তুমি প্যন্টে হিসু করে দিয়েছো?  জেরিন ঘুমঘুম চোখে বলল, এটা হিসু না। লাইট অন করেন। আমি লাইট অন করলাম। আর অবাক হয়ে তার সাদা পাজামার দিকে তাকালাম। তার সাদা পাজামা পুরো লাল হয়ে আছে। আমার  আন্ডারওয়ারেও কিছু লাল দাগ লেগেছে।  আমি ভয়ে আতংকিত হয়ে জেরিনের গালে দুহাত হাত রেখে  বললাম , ও মাই গড। তোমার রক্ত বের হচ্ছে কেন? জেরিন বলল, এমন নাটক করতাসেন কেন? ড্রয়ার থেকে প্যাড এনে দেন।  আমি ড্রয়ার থেকে প্যাড এনে দিলাম।  আমি বললাম, তোমার কি কোথাও কেটে গেছে। না হলে রক্ত বের হচ্ছে কেন? জেরিন রেগে বলল, ফাজিল কোথাকার বুঝেন না আমার পিরিয়ড হচ্ছে। এই কথা শুনে আমি জেরিনকে জড়িয়ে ধরলাম। তারপর কানে কানে বললাম, তোমার কি খুব কষ্ট হচ্ছে? পেট ব্যথা করছে?  <amp-auto-ads type="adsense"         data-ad-client="ca-pub-9645388120151436"> </amp-auto-ads> এদিকে জেরিন দেখি খুব নরমাল আছে। যেন কিছুই হচ্ছে না তার। ইরা যখন বলেছিল তার মিন্স হচ্ছে। তখনই ইন্টারনেটে সার্চ দিয়েছিলাম যে মিন্স হলে মেয়েদের কেমন ফিল হয়। সেখানে পড়লাম মিন্স হলে মে...

খালাতো বোনের সাথে প্রেম / রোমান্টিক প্রেমের গল্প / Rudro Siyam

মা যখন বললেন যে আমার বিয়ে হবে আমার খালাতো বোনের সাথে। সে কথা শুনেই আমি ভয়ে বাসে করে কক্সবাজার চলে আসলাম। এখানে একটি হোটেলে উঠেছি নিজেকে লুকিয়ে রাখার জন্য।  আমাকে পেলেই মা-খালা মিলে বিয়ে দিয়ে দিবে। তাই কয়েকদিন লুকিয়ে থাকি। যখন সুরভীর বিয়ে হয়ে যাবে। তখন আমি আবার বাড়ি চলে যাবো। হ্যা! সুরভী ই আমার খালাতো বোনের নাম। এবার ক্লাস টেনে উঠেছে আর তাকে বিয়ে দিয়ে আমার ঘাড়ে চাপানোর প্লান করছে আমার মা আর খালা।  হোটেল রুমে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ কলিংবেলের শব্দে তড়াক করে উঠে। দরজা খুলতেই দেখি একটা ফুলের তোড়া হাতে কে যেন দাড়িয়ে আছে। ফুলটার গন্ধ নিতেই আমি অজ্ঞান হয়ে গেলাম। জ্ঞান ফিরলে দেখি আমার হাত,পা বাধা করে আমাকে গাড়িতে করে কোথায়ও যেন নিজে যাওয়া হচ্ছে। তার মানে কি আমাকে কিডন্যাপ করা হয়েছে। গাড়ি যে চালাচ্ছে। সে রাকিব। আমার বন্ধু! রাকিব: দোস্ত! টেনসন করিস না! লাইফে একবার না। একবার তো বিয়ে করতেই হবে। বিয়ে থেকে পালালে হবে?  আমাদের ধর্মে তো বিয়ে করা ফরজ। তাহলে তুই পালিয়ে বেড়াচ্ছিছ কেন? আমি: তুই কিভাবে জানলি যে আমি কক্সবাজারের হোটেলে আছি? তোকে কে খবর দিল? রাকিব: আরে! বেটা! এখন ইন্টারনেটের যুগ। তুই...

প্লেবয় লাভ স্টোরী) রোমান্টিক প্রেমের গল্প/ রুদ্র সিয়াম

শামীম: রুদ্র। তুই একটা প্লেবয়। তুই এতো মেয়েকে কিভাবে পটিয়ে ফেলিস বুঝি না। যেখানে আমাকে কোন মেয়েই পাট্টা দেয় না। দোস্ত। মেয়ে পটানোর টিপস গুলো আমাকে একটু বল। আমিও তোর মতো প্লে বয় হতে চাই। আমি মোবাইলের স্ক্রিন থেকে চোখ সড়িয়ে তাকালাম শামীমের দিকে। বেচারা এতোবার রিজেক্ট খেয়েছে। এখন আমার কাছ থেকে মেয়ে পটানো শিখতে চায়। আমি: দেখ একটা মেয়ের পেছনে কম হলেও ৪/৫ টা ছেলে ঘোরে। এখন যদি তুইও ঘুরিস। তাহলে সেই ৪টা ছেলে আর তোর মধ্যে কি তফাত থাকলো? তোকে হতে হবে স্পেশাল। তাহলেই দেখবি মেয়েরা তোর প্রতি আগ্রহ দেখাবে আর তোর পেছন পেছন ঘুরবে। বুঝলি? শামীম: আচ্ছা। চেষ্টা করে দেখব। আর কোন টিপস নাই।  আমি: মেয়েদের পাট্টা দিবি না। তাহলে মেয়েরা তোকে পাট্টা দিবে। যত সুন্দর মেয়েই হোক। এমন ভান করবি তোর সামনে কিছুই না। শামীম: কিন্তু আমার তো মেয়েদের সামনে গেলেই হাত পা কাপে। আর টয়লেট লাগে বার বার।  আমি: এরকম হলে তুই কখনই মেয়ে পটাতে পারবি না। আজীবন সিঙেল ই থাকবি। এরকম সময় আমাকে সুনেরাহ কল দিল। আমি কল রিসিভ করলাম। আমি: (ধমক দিয়ে) এই সময়ে কল দিয়েছো কেন? জানো না আমি ব্যস্ত থাকি। তোমাকে বলেছি রাত ১২ টার পর কল দিবা। কত ম...