সন্ধার পর মেয়েটা বাসায় ফিরছিল৷ ২১ বছরের অবিবাহিত যুবতী মেয়ে। মাত্র টিউশনি পড়িয়ে বাসায় ফিরছিল।
আজ সে টিউশনির টাকা হাতে পেয়েছে। প্রায় ৩ হাজার টাকার মতো। তার বাসাটা একটু নীরব এলাকায়। যেখানে সন্ধার পর লোকজন বেশি একটা থাকে না।
মেয়েটা একটা সরু নীরব গলি দিয়ে যাচ্ছিল। সে লক্ষ্য করলো তার পেছনে কে যেন তাকে ফলো করছে। একটা ছেলে। ছেলেটা মাক্স পড়া তাই তার মুখ দেখা যাচ্ছে না।
মেয়েটি ডান দিকের গলিতে গেল। ছেলেটিও ডান দিকের গলিতেই আসছে তার পেছন পেছন। এক জীবনে মেয়েরা বহুবার প্রেমের প্রস্তাব পায়। ছেলেটি হয়তো তাকে প্রেমের অফার দিবে। তাই পিছু করছে।
হঠাৎ ছেলেটা চারিদিকে তাকায় আর তারপর মেয়েটাকে ডাক দেয়, এই যে ম্যডাম একটু শুনুন।
মেয়েটা ঘুরে তাকায়। তারপর দাড়িয়ে পড়ে, ছেলেটা তার দিকে আসছে কেমন হেলে দুলে যেন শরীরে শক্তি নেই। রক্ত মাংসের এক দুর্বল প্রানী।
হঠাৎ ছেলেটা তার সামনে এসে পেছনে হাত দিয়ে একটা ছুড়ি বের করে। এই সন্ধার আলোতে ছুড়ির মাথা চকচক করে, ভয়ে মেয়েটির গলা শুকিয়ে যায়।
ছেলেটি বলে, ম্যডাম। আমি কোন চোর নই৷ ডাকাত নই, আমি এক ক্ষুদার্ত মানুষ। আপনি আপনার হ্যন্ডব্যগ নিচে রাখুন। আমি টাকা নিয়ে চলে যাবো।
মেয়েটা অনেক ভয়ে নিজের ব্যাগ মাটিয়ে রাখে। ছেলেটা সামনে এসে হাটু গেঁড়ে বসে ব্যগের চেইন খুলে। ( এখন ছেলেটা ঝুকে আছে চাইলেই মেয়েটা আক্রমন করতে পারে। তবে তার মনে কেন জানি মনে হচ্ছে ছেলেটা খারাপ না)
ছেলেটা ব্যগের চেইন খুলে দেখে অনেক গুলো টাকা, সে শুধু ২০০ টাকার একটা নোট বের করে নেয় বাকি টাকা সহ আবার ব্যগের চেইন লাগায়। তারপর ব্যগটা সেখানে রেখে সে চলে আসতে থাকে। কি মনে করে আবার ফিরে তাকায় আর নিজের হাতের চাকুটা মেয়েটার হাতে ধরিয়ে হাটতে শুরু করে।
মেয়েটা চাইলে এখন ছেলেটাকে চাকু দিয়ে আক্রমন করতে পারে পেছন থেকে। কিন্তু সে মেয়েটা কিছুই করলো না। ব্যাগটা উঠিয়ে নিল মাটি থেকে। তারপর আবার হাটা শুরু করলো। যেন কিছুই হয়নি।
" ক্ষুদার কাছে ভালোবাসা তুচ্ছ "
শামীম বলেছিল, কেউ যদি তার মতো সকাল ৬ টায় হেটে মিরপুরে কাজে যেত ৪ ঘন্টা হেটে। আবার ৪ ঘন্টা হেটে বাসায় ফিরতো। তাহলে তার ভালোবাসা পেছন দিয়ে বের হয়ে যেত।
আমার মতে, একবার একলোককে বলা হয়েছিল। তুমি হিন্দু না মুসলিম। সে বলেছিল, আমি ক্ষুদার্ত।
ছোটগল্প: ক্ষুধা।
(Rudro Siyam)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন