সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

হিন্দু মেয়ের সাথে মুসলিম ছেলের প্রেম/ রোমান্টিক গল্প/ rudro siyam

 হিন্দু মেয়ের সাথে প্রেম

রুদ্র সিয়াম


দুর্গাপুজা চলছে। একটি গ্রামে সেখানে মন্দিরের সামনে ডিজে চলছে৷ আমি যখন সেখানে উপস্থিত হলাম একটা দেখতে যে সবকিছু ঠিকঠাক চলছে কিনা। তখনই আমার চোখ পড়লো এক কালো শার্ট কালো প্যন্ট পড়া কিশোরী মেয়ের দিকে। চুলগুলো সুন্দর করে স্ট্যাট করা। হাতে পেলাস্টিক এর ব্রেসলাইট। আর সে একটি ডিজে গানে নাচছে৷ 


'তোর কোকড়া কোকড়া চুলে, 

যখন সমুদ্র ঢেউ খেলে।

সেই ঢেউ খেলা দেখিতে আমার ভাল্লাগে। '


তার নাচ দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। তার ওপর থেকে চোখ ই সড়াতে পারলাম না৷ সেও দেখলাম কিছুক্ষণ পরপর আমার দিকে তাকাচ্ছে। তার নাচানাচির শেষে আমি তাকে চোখ টিপি দেই। সে ইঙ্গিত বুঝে। কিছুক্ষণ পর সে আমার পাশে এসে দাড়ায়।


তখন আমি তাকে একটি কাগজে লিখে নিজের ফোন নাম্বার দেই। যা সে গ্রহন করে। এতোক্ষণ পর্যন্ত ঠিকই ছিল৷ কিন্তু সমস্যা শুরু হয়। যখন আমি জানতে পারি সে সনাতন ধর্মাবলম্বী আর আমি মুসলিম।


রাত ১২টায় সে ফোন করে। 


আমি: হ্যালো! কে বলছেন?


প্রিতি: আমি ওই যে মন্দিরে দেখা হলো যে সে বলছি৷ আমার নাম প্রিতি আর আপনার নাম জানতে পারি। 


আমি : (এখানে যদি নিজের আসল নাম সিয়াম বলি। তাহলে সে বুঝে যাবে আমি মুসলিম আর আমার সাথে প্রেম করবে না। তাই আমাকে একটি হিন্দু নাম বলতে হবে)। আমার নাম রুদ্র শেখর। আর আমি একজন পুলিশ। 


প্রিতি: সরি। সরি। রং নাম্বার।


আমি: (হাহাহা) পুলিশ বলে ভয় পেলেন নাকি?


প্রিতি: কিছুটা। আসলে আপনি যে পুলিশ। তা বুঝতে পারিনি। কারন আপনার ইউনিফর্ম পড়েননি তো তাই।


আমি: বায় দা ওয়ে৷ তুমি কি দেখা করতে পারবা? (সরি তুমি করে বলে ফেললাম৷ ডোন্ট মাইন্ড)


প্রিতি : আরে না মাইন্ড করব কেন? আপনি আমাকে তুমি করেই বইলেন। কারন আমি হয়তো আপনার অনেক ছোট। আচ্ছা৷ কোথায় দেখা করবেন?


আমি: তুমি যেন কোন স্কুলে পড়ো?


প্রিতি : গার্লস স্কুল।


আমি: তাহলে ছুটির পর আমি বাইক নিয়ে সেখানে আসবো। গুড নাইট৷ 


প্রিতি: ওকে। গুড নাইট। 


আমি ফোন কেটে মনে মনে ভাবছি।

এই মেয়েকে পটানো হয়তো খুব সহজ। কিন্তু ভবিষ্যতে একটা ঝামেলায় পড়বো এটা সিওর। 


পরেরদিন বাইক নিয়ে চলে গেলাম গার্লস স্কুলে। সেখানে প্রিতির ছুটি হওয়ার পর তাকে  বললাম৷ বাইকের পেছনে উঠতে।


প্রিতি : কোথায় যাবো?


আমি: কোন কথা নয় গেলেই বুঝতে পারবে।


আমি তাকে বাইকের পেছনে বসিয়ে নিয়ে আসলাম আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা জিনজিরা মৌচাকে। এখানে কেউ আমাদের চিনে না৷ ডেটিংয়ের জন্য পারফেক্ট জায়গা।


আমি ও প্রিতি বসে আছি মৌচাক রেস্টুরেন্টে। এখানে আজ আমি তাকে প্রপোজ করবো৷ দেখি পটে কিনা।


আমি: প্রিতি তুমি জানো। আমি তোমাকে কেন এখানে নিয়ে এসেছি।


প্রিতি : কিছুটা তো অনুমান করতে পারছি।


আমি: দেখো, আমি পরিচয় হলো গতকালকে। আমি তোমাকে দেখা করার কথা বললাম তুমি করলে। তারপর আমার বাইকে বসলে। এসবের মধ্যে তুমি কিন্তু লজ্জা পাওনি। তার মানে তুমি এর আগেও এসব করেছো। আর এটাই তো স্মার্টনেস। সহজে সবার সাথে মিশতে পারা। যা আজকালের মেয়েরা পারে না। তোমার এই স্মার্টনেস আমার ভালোলাগছে। আর আমি তোমাকে এজন্য এখানে নিয়ে আসছি। কারন....


ওয়েটার: স্যার। কি নিবেন৷ চা নাকি কফি।


আমি: (বিরক্ত হয়ে) তো প্রিতি কি খাবে? 


প্রিতি : আমি ফুচকা খাবো। ঝাল ও টক একটু বেশি দিয়েন। 


আমি: আর আমার জন্য একটা কোল্ড কফি নিয়ে আসুন। তো আমি কোথায় ছিলাম যেন? হ্যা মনে পড়ছে। তোমাকে আমি সেই প্রথম দেখাতেই ভালোলেগেছে। আর আমি তোমাকে ভালোবাসি। এখন তোমাকে ২ মিনিট সময় দিলাম ভেবে বলো।


প্রিতি : তোমার  বাইক আছে। ভালো চাকরী আছে পুলিশের। তার মানে ঘুষ টুস ও খাও । আবার তোমার সিক্স পেক আছে। যেকোন মেয়ে তোমাকে দেখলে ফিদা হয়ে যাবে রুদ্র। 

আই লাভ ইউ। 


আমি: (মনে মনে) ইয়েস। মেয়ে তো পটে গেল। এখন কি করি?


ওয়েটার: এই যে আপনার কোল্ড কফি আর এই যে আপনার ফুসকা। 


আমি: তো। প্রিতি আগামীকাল চলো বসুন্ধরা সিটিতে সিনেমা দেখতে যাবো। ব্লাক প্যানথার ওকান্ডা ফরেভার। এই মুভিটা দেখতো।


প্রিতি : আচ্ছা। ঠিক আছে। ব্রো। 


আমি: ব্রো মানে?


প্রিতি: সরি। সরি।


রেস্টুরেন্টে খাওয়া শেষে ফেরার পথে হঠাৎ দেখলাম বাইক স্টার্ট নিচ্ছে না। দ্যাট মেয়ে নিয়ে বের হলাম আর বাইক নষ্ট হওয়ার সময় পেল না। 


কলিগকে ফোন করে বলে দিলাম যাতে বাইক নিয়ে ঠিক করায় । আর আমরা একটা রিক্সা নিলাম। প্রেম ভালোবাসায় রিক্সায় না চড়লে কি হয়?


আমি সুযোগ বুঝে তার কোমড়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করলাম। সে হাত সড়িয়ে দিল। আমি তাকালাম তার দিকে।


প্রিতি : আমার সুড়সুড়ি লাগে।


আমি: (হাহাহা) ওহ। সরি। আমি বুঝতে পারিনি। 


প্রিতি আমার হাতের ওপর হাত রাখে।


(সমাপ্ত)



মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পিচ্চি বউ - পর্ব ২৯

 আমি জেরিনকে বললাম, আবারো তুমি প্যন্টে হিসু করে দিয়েছো?  জেরিন ঘুমঘুম চোখে বলল, এটা হিসু না। লাইট অন করেন। আমি লাইট অন করলাম। আর অবাক হয়ে তার সাদা পাজামার দিকে তাকালাম। তার সাদা পাজামা পুরো লাল হয়ে আছে। আমার  আন্ডারওয়ারেও কিছু লাল দাগ লেগেছে।  আমি ভয়ে আতংকিত হয়ে জেরিনের গালে দুহাত হাত রেখে  বললাম , ও মাই গড। তোমার রক্ত বের হচ্ছে কেন? জেরিন বলল, এমন নাটক করতাসেন কেন? ড্রয়ার থেকে প্যাড এনে দেন।  আমি ড্রয়ার থেকে প্যাড এনে দিলাম।  আমি বললাম, তোমার কি কোথাও কেটে গেছে। না হলে রক্ত বের হচ্ছে কেন? জেরিন রেগে বলল, ফাজিল কোথাকার বুঝেন না আমার পিরিয়ড হচ্ছে। এই কথা শুনে আমি জেরিনকে জড়িয়ে ধরলাম। তারপর কানে কানে বললাম, তোমার কি খুব কষ্ট হচ্ছে? পেট ব্যথা করছে?  <amp-auto-ads type="adsense"         data-ad-client="ca-pub-9645388120151436"> </amp-auto-ads> এদিকে জেরিন দেখি খুব নরমাল আছে। যেন কিছুই হচ্ছে না তার। ইরা যখন বলেছিল তার মিন্স হচ্ছে। তখনই ইন্টারনেটে সার্চ দিয়েছিলাম যে মিন্স হলে মেয়েদের কেমন ফিল হয়। সেখানে পড়লাম মিন্স হলে মে...

খালাতো বোনের সাথে প্রেম / রোমান্টিক প্রেমের গল্প / Rudro Siyam

মা যখন বললেন যে আমার বিয়ে হবে আমার খালাতো বোনের সাথে। সে কথা শুনেই আমি ভয়ে বাসে করে কক্সবাজার চলে আসলাম। এখানে একটি হোটেলে উঠেছি নিজেকে লুকিয়ে রাখার জন্য।  আমাকে পেলেই মা-খালা মিলে বিয়ে দিয়ে দিবে। তাই কয়েকদিন লুকিয়ে থাকি। যখন সুরভীর বিয়ে হয়ে যাবে। তখন আমি আবার বাড়ি চলে যাবো। হ্যা! সুরভী ই আমার খালাতো বোনের নাম। এবার ক্লাস টেনে উঠেছে আর তাকে বিয়ে দিয়ে আমার ঘাড়ে চাপানোর প্লান করছে আমার মা আর খালা।  হোটেল রুমে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ কলিংবেলের শব্দে তড়াক করে উঠে। দরজা খুলতেই দেখি একটা ফুলের তোড়া হাতে কে যেন দাড়িয়ে আছে। ফুলটার গন্ধ নিতেই আমি অজ্ঞান হয়ে গেলাম। জ্ঞান ফিরলে দেখি আমার হাত,পা বাধা করে আমাকে গাড়িতে করে কোথায়ও যেন নিজে যাওয়া হচ্ছে। তার মানে কি আমাকে কিডন্যাপ করা হয়েছে। গাড়ি যে চালাচ্ছে। সে রাকিব। আমার বন্ধু! রাকিব: দোস্ত! টেনসন করিস না! লাইফে একবার না। একবার তো বিয়ে করতেই হবে। বিয়ে থেকে পালালে হবে?  আমাদের ধর্মে তো বিয়ে করা ফরজ। তাহলে তুই পালিয়ে বেড়াচ্ছিছ কেন? আমি: তুই কিভাবে জানলি যে আমি কক্সবাজারের হোটেলে আছি? তোকে কে খবর দিল? রাকিব: আরে! বেটা! এখন ইন্টারনেটের যুগ। তুই...

প্লেবয় লাভ স্টোরী) রোমান্টিক প্রেমের গল্প/ রুদ্র সিয়াম

শামীম: রুদ্র। তুই একটা প্লেবয়। তুই এতো মেয়েকে কিভাবে পটিয়ে ফেলিস বুঝি না। যেখানে আমাকে কোন মেয়েই পাট্টা দেয় না। দোস্ত। মেয়ে পটানোর টিপস গুলো আমাকে একটু বল। আমিও তোর মতো প্লে বয় হতে চাই। আমি মোবাইলের স্ক্রিন থেকে চোখ সড়িয়ে তাকালাম শামীমের দিকে। বেচারা এতোবার রিজেক্ট খেয়েছে। এখন আমার কাছ থেকে মেয়ে পটানো শিখতে চায়। আমি: দেখ একটা মেয়ের পেছনে কম হলেও ৪/৫ টা ছেলে ঘোরে। এখন যদি তুইও ঘুরিস। তাহলে সেই ৪টা ছেলে আর তোর মধ্যে কি তফাত থাকলো? তোকে হতে হবে স্পেশাল। তাহলেই দেখবি মেয়েরা তোর প্রতি আগ্রহ দেখাবে আর তোর পেছন পেছন ঘুরবে। বুঝলি? শামীম: আচ্ছা। চেষ্টা করে দেখব। আর কোন টিপস নাই।  আমি: মেয়েদের পাট্টা দিবি না। তাহলে মেয়েরা তোকে পাট্টা দিবে। যত সুন্দর মেয়েই হোক। এমন ভান করবি তোর সামনে কিছুই না। শামীম: কিন্তু আমার তো মেয়েদের সামনে গেলেই হাত পা কাপে। আর টয়লেট লাগে বার বার।  আমি: এরকম হলে তুই কখনই মেয়ে পটাতে পারবি না। আজীবন সিঙেল ই থাকবি। এরকম সময় আমাকে সুনেরাহ কল দিল। আমি কল রিসিভ করলাম। আমি: (ধমক দিয়ে) এই সময়ে কল দিয়েছো কেন? জানো না আমি ব্যস্ত থাকি। তোমাকে বলেছি রাত ১২ টার পর কল দিবা। কত ম...