রুদ্র: দোস্ত। আমাকে আখি কিল মেরেছে।
শামীম: (রেগে) কি? ওর এতো বড় সাহস। ও তোকে কিল মেরে চলে গেল আর তুই কিছু বললি না?
রুদ্র: আরে বাদ দে না। বসের মেয়ে। আর এমনিতেও পিচ্চি মেয়ে। মাত্র ক্লাস ৬ এ পড়ে।
শামীম: (রেগে) বাদ দিবো মানে? ওর কত বড় সাহস। ও আমার বন্ধুর গায়ে হাত তোলে। আজ ওর একদিন কি আমার একদিন। ডাক দে ওরে।
রুদ্র আখিকে ডাক দিল। আখি ঘর থেকে বেরিয়ে সামনে আসলো। তার সামনে শামীম আর রুদ্র।
শামীম: তুই নাকি আমার বন্ধুকে কিল মেরে দৌড় দিয়েছিস?
আখি: মেরেছি তো কি হয়েছে।
( শামীম আখির গালে একটা চড় মারলো।)
শামীম: বেয়াদব কোথাকার। জানিস না বড়দের কিভাবে সম্মান করতে হয়। এখন ই রুদ্রকে সরি বল।
আখি কাদছে।
আখি: সরি। ভাইয়া।
কথাটা বলে আখি ওর ঘরে চলে গেল।
আখি হচ্ছে তাদের বসের মেয়ে। শামীম আর রুদ্র আখির বাবার বিল্ডিং নির্মাণকাজ করছে। দুজনই ওয়ার্কার। এক তলা সম্পুর্ণ হয়েছে। এখন সেখানে আখি ও তার পরিবার থাকে। ২য় তলার কাজ চলছে। আর কাজ করছে শামীম,রুদ্র আরো ১০ জন কর্মচারী। এখানে সবচেয়ে ভালো কাজ পারে শামীম। তাই সে সবার লিডার।
রুদ্র: দোস্ত। এখন যদি আমাদের কাজ থেকে ছাটাই করে দেয়। তখন আমরা কোথায় যাবো?
শামীম: এতো ভয় পেয়ে কাজ করা যায় না। এখান থেকে বাদ দিয়ে দিলে অন্য জায়গায় গিয়ে কাজ করব। কাজের কি অভাব নাকি?
আখি শুয়ে শুয়ে কাদছে। সে মনে মনে শামীমকে পছন্দ করে আর ভয় পায়। কিন্তু সে মনের কথা এখনও শামীমকে বলতে পারেনি। আজ যখন শামীম টাকে চড় মারলো। তখনই সে শামীমের ওপর আবার ক্রাশ খেল। আখি এমন একজনকেই চেয়েছি। যে হবে সাহসী। যে কারো পরোয়া করে না।
আখির বাবার নাম বাদল মিয়া। বাদল মিয়া তার মেয়েকে খাটে শুয়ে কাদতে দেখে ওনার মেয়ের সামনে এসে খাটে বসলো।
বাদল মিয়া: কি হয়েছে মা। কাদছিস কেন? তোকে কে মেরেছে?
আখি: কাদছি না তো বাবা। চোখের মধ্যে ময়লা ঢুকেছে। তাই চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।
বাদল মিয়া: কই? এদিকে আয় তো দেখি।
বাদল মিয়া আখির চোখ পরীক্ষা করে দেখলেন। চোখ কোন ময়লা নেই। পরিষ্কার সুন্দর চোখ। তার এই মেয়েটা খুব মায়াবতী হয়েছে। চোখ পেয়েছে ওর মায়ের মতো।
শামীম: (রেগে) এই পিচ্চি। তোর এখানে কি? দেখছিস না বড়রা কাজ করছে। যদি কোন রড তোর ওপর পড়ে তাহলে তো তুই মরবি। যা ঘরে যা।
আখি: যাবো না ঘরে কি করবেন। মারবেন আমাকে? আমি আর আপনাকে ভয় পাই না।
রুদ্র: দোস্ত। তুই দেখি মেয়েটাকে দেখতেই পারিস না। শুধু ঝগড়া করিস কেন ওর সাথে?
শামীম: চুপ করে কাজ কর তুই। দেখছিস না আমি কথা আমি কথা বলছি।
রুদ্র: আচ্ছা। স্যার। ঠিক আছে।
(রুদ্র মনে মনে বলল)
রুদ্র: সালা। মাইয়া দেখলেই তোর ভাব বেড়ে যায়। আগে আখি ঘরে যাক। তারপর তোর খেলা দেখাচ্ছি।
আখি: আমি আমি এখানে এটা বলতে এসেছিলাম যে আজ আমার জন্মদিন। রাতে কেক কাটা হবে। আপনারা সবাই আসবেন কিন্তু।
রুদ্র: কেউ না এলেও আমি অবশ্যই যাবো। অনেক কেক খাই না। কেক আমার খুব প্রিয়।
রাতের বেলা সবাই নিচ তলায় আখির বার্থডের কেক কাটতে গিয়েছে। যায় নি শুধু শামীম আর রুদ্র। তারা যেখানে কাজ করে তার পাশে একটা খাট পাটা হয়েছে।সেখানেই তারা ঘুমায়। এখন শামীম আর রুদ্র খাটে শুয়ে আছে। রুদ্রের হাতে সিগারেট। সে শুয়ে শুয়ে সিগারেট খাচ্ছে।
রুদ্র: দোস্ত। চল না যাই। এমন করতাছিস কেন? মেয়েটা এতো কষ্ট করে ইনভাইট করে গেল। না গেলে খারাপ দেখা যায়।
শামীম: (রেগে) থাপড়ামু তোরে। জীবনে কেক খাস নাই। কেক এর জন্য পাগল হয়ে গেছিস। তোর মন চাইলে যা। আমি যাবো না।
রুদ্র: আমি তোকে একা রেগে কিভাবে যাই? গেলে দুজন একসাথে যাবো। না হলে যাবো না।
এদিকে ছুড়ি হাতে ধরে দাড়িয়ে আছে আখি। তার সামনে জন্মদিনের কেক। কিন্তু সে কেক কাটছে না। সে অপেক্ষা করছে শামীমের জন্য। শামীম আসলেই সে কেক কাটবে।
বাদল মিয়া: কি হয়েছে মামণী। কেক কাটছো না কেন? কারো জন্য অপেক্ষা করছো। তোমার সব বন্ধুই তো এসে পড়েছে। আর কেউ কি বাকি রয়েছে?
আখি: আছে একজন বাবা।
বাদল মিয়া: কে সে?
আখি: আমি নাম বলবো না বাবা। আমার ভালো লাগছে না। তোমরা কেক কাটো আমি ঘরে গিয়ে ঘুমাবো।
বাদল: কি বলছিস। মাথা খারাপ হলো নাকি তোমার ? কেক কাটবে না মানি? জ্বর আসলে তুমি মাঝে মাঝে পাগলামি কথাবার্তা বলো। তোমার কি মামণী জ্বর এসেছে।
আখি: না বাবা। আমি পুরোপুরি সুস্থ আখি।
বাদল মিয়া: তাহলে কেক টা কাটো।
আখি কেক কাটলো। ( সবাই হাত তালি দিচ্ছে। কেউ কেউ বেলুন ফুটিয়ে দিচ্ছে।)
বাদল: হ্যাপি বার্থডে টু ইউ। হ্যাপি বার্ডে মাই ডিয়ার আখি মনি। সবাই গান বাজাও। ফুর্তি করো। কেউ হিন্দি গান ছাড়ো।"
আখি কেকের কিছু অংশ কেটে টিসু পেপারে মুড়িয়ে বাইরে চলে এলো। সিড়ি দিয়ে উঠলো ২য় তলায়। সেখানে দেখলো শামীম আর রুদ্র শুয়ে আছে। আখি তাদের সামনে গেল।
আখি: আপনাদের জন্য কেক এনেছি।
রুদ্র: ধন্যবাদ। তাড়াতাড়ি দাও। এমনিতেও ক্ষুদা পাইছে অনেক।
আখি: সরি ভাইয়া। আপনার জন্য না। শামীম ভাইয়ের জন্য।
শামীম: (চেচিয়ে) আমি কেক খাই না। তোর কেক তুই নিয়ে ড্রেনে ফেলে দে। নয়তো কাউয়াকে দিয়ে দে। তাও আমার সামনে নিয়ে আছিস না।
রুদ্র: দেখলা তো। হুদাই ওরে কেক দিয়ে অপমানিত হইলা। এখন ও সময় আছে। আমি হা করি। আমার মুখে কেক দিয়ে দেও।
আখি রেগে রুদ্রের মুখে কেক মেখে দিল। তারপর সেখান থেকে চলে গেল।
রুদ্র: দেখলি দোস্ত। ছোট মরিচের ঝাল বেশি। কেক আমাকে না খায়িয়ে আমার মুখে মেখেছে। মনে হচ্ছে কেক দিয়ে মেকআপ করেছি। দেখ তো কেকের মেক আপ কেমন লাগে।
শামীম রুদ্র কে লাথি দিয়ে খাট থেকে নিচে ফেলে দিল।
শামীম: (রেগে) যা মুখ ধুয়ে আয়।
বিকেলবেলা শামীম ও রুদ্র কাজ করছিল। এমন সময় আখি রুদ্রকে হাত নেড়ে ইশারায় ডাক দেয়। রুদ্র আখির কাছে এগিয়ে গেল।
আখি: ভাইয়া। একটা হেল্প করবেন প্লিজ।
রুদ্র: কি সাহায্য বলো। তোমার জন্য আমি সব করতে পারি।
আখি: আপনাকে একটা চিঠি দিতে চাই।
রুদ্রের মনে লাড্ডু ফুটতে থাকে। রুদ্র ভাবছে আখি তাকে ভালোবাসে। সে খুশি হয়ে গেল।
আখি: চিঠিটা আপনি শামীম ভাইয়াকে দিয়ে দিবেন।
রুদ্র এবার স্যাড হয়ে গেল।
রুদ্র: আচ্ছা। দাও দিয়ে দিবো।
আখি চিঠিটা রুদ্রের হাতে দেয়। রুদ্র সেটা শামীমকে দেয়। আখি দুর থেকে দেখলো শামীম চিঠিটা খুলছে। আখির বুক ধ্বুক ধ্বুক করছে। সে সেখান থেকে চলে গেল।
শামীম: মাইয়া মানুষের চিঠি। কি লেখা এসব ১টা পাখির ৪টা ডিম ৩ টা বাচ্চা। কি রে রুদ্র। এসবের মানি কি তুই কিছু জানিস।
রুদ্র: (হেসে) আরে বুঝলি না? সাংকেতিক ভাষায় চিঠি লিখেছে। এসব একমাত্র লিজেন্ড রাই বুঝতে পারে।
শামীম: হাসছিস কেন? এসব কথার মানে কী? আগে আমাকে সেটা বল।
রুদ্র: আগে ট্রিট দে। তারপর বলি।
শামীম তার পকেট থেকে ৬ টাকা বের করে দিল।
শামীম: এটা দিয়ে একটা সাদা রয়েল সিগারেট কিনে খেয়ে নিস। এখন বল এর অর্থ কী?
রুদ্র: একটা পাখি মানে আই (i) চারটা ডিম মানে হচ্ছে লাভ(love)আর ৩টা পাখির বাচ্চা মানে ইউ (you) সবমিলিয়ে আই লাভ ইউ (I love you)
শামীম: খাইছে রে। কি কস এগুলা। এই পিচ্চি মেয়ে আমারে প্রপোজ করলো।
রুদ্র: একটা পাখি মানে আই (i) চারটা ডিম মানে হচ্ছে লাভ(love)। আর ৩টা পাখির বাচ্চা মানে ইউ (you). সবমিলিয়ে আই লাভ ইউ (I love you).
শামীম: খাইছে রে। কি কস এগুলা। এই পিচ্চি মেয়ে আমারে প্রপোজ করলো।
রুদ্র: কেন? তুই খুশি হস নাই। এমনিতে তো আমাকে সারাক্ষন আখি আখি করস কানের সামনে। এখন তোরে সরাসরি প্রপোজ করছে আর তুই দমে গেলি।
শামীম: (লাজুক ভাবে) আসলে না আমিও ওরে পছন্দ করতাম। কিন্তু পিচ্চি বলে এতো গুরুত্ব দেই নি।
রুদ্র: তাহলে এখন আমি যাই।
শামীম: কই যাস তুই?
রুদ্র: এখন তো আমাকেই চিনবি ই না। নতুন প্রেম। বন্ধু বান্ধব চেনার কি সময় আছে।
শামীম: তুই আর কই যাবি তা আমি জানি। চায়ের দোকানে যাবি একটা চা সিগরেট খাবি। সিগরেট টানতে টানতে তোর বউরে কল দিবি। তারপর বউয়ের সাথে পিরিতের আলাপ করবি। তারপর আবার কাজে আসবি।
রুদ্র: তাহলে তুই প্রতিদিন আমার ওপরে নজর রাখতি। তাই না?
শামীম: হ তো? এখন এক কাজ কর। আমিও তোকে একটা চিঠি লিখে দিচ্ছি। তুই দোকানে যাওয়ার সময় আখি কে দিয়ে দিবি। ঠিক আছে?
রুদ্র: ওক্কে দোস্ত।
রুদ্র আখির হাতে চিঠি দিল। আখি ঘরে এসে দরজা লাগিয়ে চিঠিটা খুলল। চিঠির লেখাগুলো আখি পড়ছে। সেখানে শামীম লিখেছে।
শামীম: প্রিয় আখি। কেমন আছো? আশাকরি ভালো আছো। তোমাকে আমি প্রথম থেকেই পছন্দ করতাম। যখন তোমাদের বাসায় প্রথম কাজে আসি। তখন দেখি তুমি বারান্দায় দাড়িয়ে দাত ব্লাশ করছিলে। সেটা দেখেই আমি তোমার প্রেমে পড়ি। কিন্তু তোমার বয়স অনেক কম। তাই আমি কখনও মনের কথা প্রকাশ করিনি। তুমি আজকে আমাকে চিঠি না দিলে আমি জানতাম ই না যে তুমি প্রেম ভালোবাসা এসব বুঝো। আসলে আমিও তোমাকে অনেক ভালোবাসি। সেদিন তোমাকে চড় মারার পর আমার নিজেরও অনেক কষ্ট হয়েছে। তারপর আমি নিজের হাত দিয়ে দেয়ালে অনেকবার ঘুষি মেরেছি। যে কেন আমি এই হাত দিয়ে আখিকে মারলাম। অনেক বার দেয়ালে ঘুষি মারার পর দেখি হাতের আঙুল ছিলে রক্ত বেরিয়ে গেছে। তারপর ও আমি দেয়ালে ঘুষি দেওয়া থামাইনি। পরে রুদ্র এসে আমাকে থামায়। তোমাকে চড় মারার জন্য আমি সত্যি ই খুব লজ্জিত। মারলে আমাকে মাফ করে দিও।
ইতি তোমার ভালোবাসা
শামীম
আখি চিঠি পড়া শেষ করে চিঠিটাকে চুমু দিয়ে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরে। তারপর মনে মনে কথা বলে।
আখি: অনেক ভালোবাসি তোমায় শামীম। তুমি শুধু আমার।
শামীম রডের ওপর সিমেন্ট ও মাটি মিক্স ঢালছিল। এখন জায়গাটাকে ঢালাই করে দিবে। এমন সময় সেখানে এলেন বাদল মিয়া।
বাদল মিয়া: কি শামীম? কাজ কেমন চলছে।
শামীম: জি বস ভালো।
বাদল মিয়া: আজকে আমার মেয়ে চায় তুমি আর তোমার বন্ধু রুদ্র না ফুদ্র কি যেন নাম। ও এসে আমার ঘরে রাতের খাবার খাবে। আখি নিজ হাতে রান্না করেছে। এখন তোমাদের খাওয়াতে চায়। আমার মেয়ে হয়েছে ওর দাদীর মতো। আমার মা ও এমন বড় মনের মানুষ ছিলেন। বাইরের লোকদের খাওয়াতে তিনি পছন্দ করতেন।
শামীম: আচ্ছা। ঠিক আছে রাতে আমি আর রুদ্র চলে আসবো। আপনি কোন চিন্তা করবেন না।
রাতে আখিদের ঘরে আসলো শামীম আর রুদ্র। ঘরে বাদল মিয়া নেই। আখি একা টেবিলে খাবার নিয়ে বসে আছে। শামীমকে ঘরে ঢুকতে দেখে হাসলো সে। শামীমও মুচকি মুচকি হাসছে।
রুদ্র: কিরে। শুরু হয়ে গেল তোগো প্রেম। অনেক খিদা লাগছে আখি। কি আছে তাড়াতাড়ি দাও।
আখি: আমি আপনাকে ভাত বেড়ে দিচ্ছি। আপনি ভাত খান। আমি আর শামীম ভাই পার্সোনাল কথা বলবো। শামীম ভাই আপনি আমার সাথে অন্য রুমে আসেন।
শামীম: আচ্ছা। চলো যাই।
রুদ্র: কি রে। আমারে ফালাইয়া চইলা যাবি?
শামীম: তুই বসে বসে ভাত খা। আর পাহারা দে। আমি অন্যকিছু খাবো।
রুদ্র: দোস্ত। আমিও অন্যকিছু খেতে চাই।
শামীম: (রেগে) চুপ সালা। বেশি কথা বললে লাথি খাবি।
খাবার টেবিলে বসে নিজের হাত দিয়ে ভাত বেড়ে খাচ্ছে রুদ্র। টেবিলে মাছ,মাংস, ডিম, আলু ভাজি। সব আইটেম সাজানো।
রুদ্র: যাক। ভালোই হয়েছে। ওরা দুইটায় অন্য ঘরে। এখন আমি বেশি বেশি করে খেতে পারবো।
অন্যঘরের লাইট অফ। সেখানে খাটে শুয়ে আছে শামীম। তার বুকে মাথা রেখে শুয়েছে আখি। শামীম আখির চুলে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।
আখি: জান। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। একটা চুমু দাওনা আমার ঠোঁটে।
শামীম: কি বলো এসব। বিয়ের আগে এসব করা পাপ। আমি তোমার সাথে পবিত্র ভালোবাসায় থাকতে চাই। এদিকে এসো।
আখি চোখ বন্ধ করে কিস করার জন্য ঠোট বাড়িয়ে দিল। শামীম হাসলো। তারপর আখির কপালে একটা চুৃুমু খেল।
আখি: না হবে না। আমার ঠোটে চুমু খাও।
শামীম: যাকে আমি সবচেযে বেশি ভালোবাসি। আমি কখনও তার ঠোটে চুমু খাই না। আমি তার কপালে চুমু দেই। এটাই পবিত্র ভালোবাসা।
আখি: তুমি আমাকে পিচ্চি ভেবে কপালে চুমু দিলা তাই না। আসলে আমি অনেক বড় আমার বয়স ১৪ বছর ৩মাস।
শামীম: (হাহাহা) আর আমার বয়স জানো? আমার বয়স ২৬ বছর ৫দিন।
রুদ্রের ভাত খাওয়া শেষ। রুদ্র এবার সেই ঘরের সামনে এসে দরজার বাইরে দাড়ায়।
রুদ্র: (চেচিয়ে) কিরে তোরা কি শুরু করলি? চুম্মা চাতি করতাছোস নাকি? কিসের যেন শব্দ হয়।
শামীম ভেতর থেকে কথা বলে।
শামীম:(চেচিয়ে) সালা বের হলে লাইথামু তোরে। উল্টা পাল্টা কি বলস এসব?
রুদ্র: একা একা কি করতাছোস? এতোক্ষন লাগে কেন? আমাকেও ভেতরে নে। আমিও ওসব করব।
শামীম: আরে বিরক্ত করিস না তো দোস্ত। তুই যা, আমি কাজ সেরে আসতেছি।
রুদ্র: ওই পিচ্চি মেয়ে ওরে ছেড়ে দে । তুই এভাবে ওর সাথে কিছু করতে পারিস না।
শামীম: তুই যা ভাবতোছোস। আসলে তেমন কিছুই না। ভাই এখন তুই দরজার সামনে থেকে যা।
এমন সময় রুদ্রের ঘাড়ে কে যেন হাত রাখে। রুদ্র সে হাত সড়িয়ে দেয়।
রুদ্র: আরে। ভাই। বিরক্ত কইরেন না তো। ভেতরে টি ২০ ম্যাচ চলছে।
লোকটা আবার রুদ্রের ঘাড়ে হাত রাখে। এবার রুদ্র পেছনে তাকায়। তাকিয়ে দেখে আখির বাবা দাড়িয়ে আছে।
রুদ্র: আংকেল। আসসালামু আলাইকুম। আমি আসি।
কথাটা বলে রুদ্র পায়ের জুতা খুলে হাতে নেয়। তারপর এক দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।
বাদল মিয়া: ছেলেটা পাগল নাকি? পায়ের জুতা হাতে পড়ে দৌড়ল দিল কেন? আর আখির ঘরের সামনে দাড়িয়ে ছিল কেন?
বাদল মিয়া আখির ঘরের দরজায় টোকা দেয়।
বাদল: আখি মা। দরজা খুলো।
ভেতরে শামীম ও আখি তখন একে অপরকে জড়িয়ে ধরে ছিল। দুজনই ভয় পেয়ে যায়।
শামীম: এখন আমি কোথায় লুকাবো। সেটা বলো?
আখি: লুকানোর দরকার কি? বাবা আমাদের কিছু বলবে না।
শামীম: তোমাকে হয়তো কিছু বলবে না। কিন্তু আমাকে রড দিয়ে মেরে রডের ওপড়ে ঝুলিয়ে রাখবে।
বাদল মিয়া : কি হলো মা। দরজা খুলবো না কেন? তোমার কি কিছু হয়েছে। কথা বলো।
শামীম: খাইসে আমারে। এবার বাচলে আমি আর প্রেম করব না। কানে ধরছি ভুলেও না।
আখি দরজা খুললো। আর তখন ই আখির পেছন থেকে শামীম দৌড় মেরে বের হয়ে গেল। শামীম তার শার্ট দিয়ে মুখ পেচিয়ে রেখেছিল। তাই বাদল মিয়ার শামীমকে চিনতে পারলেন না।
বাদল মিয়া: এটা আবার কে দৌড়ে তোমার ঘর থেকে বের হলো।
আখি: আব্বা। মনে হয় চোর। তাড়াতাড়ি ধরেন ওই বেটারে। দাড়ান আমি ই ধরতেসি ।
" পিচ্চি মেয়ের ভালোবাসা "
রুদ্র সিয়াম
পর্ব: ০৭
আখি দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। সে দৌড়াচ্ছে শামীমের পেছনে। শামীমও কোন কিছু না দেখে দৌড়াচ্ছে। একটা গাছের নিচে এসে শামীম থামলো। কিছুক্ষন পর সেখানে দৌড়াতে দৌড়াতে আখি আসলো।
আখি: চলো। এবার পালিয়ে বিয়ে করে ফেলি।
শামীম: চলো। যাই।
আখি: তোমার বন্ধু রুদ্রকে ফোন দিয়ে কাজী অফিসে আসতে বলো।
এদিকে ঘর থেকে বেরিয়ে রাস্তার পাশের দোকানে সিগারেট টানছিল রুদ্র। সে দেখল বাদল মিয়া এদিকে আসছে। রুদ্র সিগারেট নেভালো। বাদল মিয়া রুদ্রের সামনে আসলো।
বাদল মিয়া: আমার মেয়ে দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়েছে। তুমি কি জানো সে কোন দিকে গেছে।
এমন সময় রুদ্রকে কল দিয়েছে শামীম। রুদ্রের ফোনে সমস্যা। তাই লাউড স্পীকার দিয়ে ফোন রিসিভ করলো।
রুদ্র: হ্যালো দোস্ত। আখি নাকি দৌড়ে কোথায় যেন চলে গেছে। তুই কি জানিস?
শামীম: তুই ওর চিন্তা করিস না। ও আমার সাথে।তুই পালিয়ে মুহাম্মদপুর কাজী অফিসে চলে আয়। আমি আর আখি সেখানে বিয়ে করবো আজ।
কথাটা বলে শামীম ফোন কেটে দিল। আর বাদল মিয়া রুদ্রের শার্টের কলার চেপে ধরলো।
রুদ্র: স্যার। আমি কিছু করি নাই।
কথাটা বলে রুদ্র তার পায়ের জুতা খুলে হাতে নেয়।
বাদল মিয়া: (ধমক দিয়ে) জুতা হাত থেকে ফেলো। ফেলে পায়ে পড়ো। আর চলো আমার সাথে।
কাজী অফিসে বিয়ে করে ফেলল শামীম আর আখি। এমন সময় সবার সামনে সেখানে উপস্থিত হলো বাদল মিয়া আর রুদ্র। বাদল মিয়ার হাতে বন্দুক। তিনি বন্দুক তাক করে আছেন শামীমের দিকে।
শামীম: তুই এটা কি করলি? তোকে বলছিলাম একা আসছে। শশুর আব্বা কে আনার কি দরকার ছিল।
আখি শামীমকে সামনে এসে পড়লো। যাতে শামীমকে গুলি করলে তার শরীরে লাগে।
রুদ্র: মারেন গুলি মেরে ফেলেন আমার বন্ধুকে। পুরাই বাংলা সিনেমার মতো হয়ে গেছে কাহিনী। আখি তুমি সামনে থেকে সরো নায়ককে মারবে । অবশ্য এই কাহিনী দিয়ে আমি একটা সিনেমা বানাবো। সিনেমার নাম হবে ' শামীমের আখি'।
আখি: বাবা। আমি শামীমকে ভালোবাসি।
বাদল মিয়া নিজের বন্দুক নামিয়ে নিলেন।
বাদল: তা আগে বলিস নি কেন? আমি তো ভেবেছি শামীম তোকে জোর করে এনেছে। তাই আমি বন্দুক নিয়ে এসেছি।
আখি: না বাবা। আমার রাজি তেই এই বিয়ে হচ্ছে।
বাদল মিয়া : তাহলে কোন সমস্যা নেই। আয় তোদের আশীর্বাদ করি।
রুদ্র: এটা তো কথা ছিল না। আপনি ওদের গুলি করেন চাচা।
বাদল: তুমি চুপ করো। যাও গিয়ে বাসর ঘর সাজাও।
শামীম ও আখি বাদল মিয়ার পা ধরে সালাম করলো।
(সমাপ্ত)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন