সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

নগ্নদ্বীপ (সিজন ২) চটি গল্প/ rudro siyam

 ♥ নগ্নদ্বীপ ♥

♣ সিজন - ২ ♣


রয়ান তার মা'কে কল করলো। তারপর বলল, মা। লিনা আমাকে ধোকা দিয়েছে। সে আমাকে ভালোবাসে না। সে ভালোবাসার অভিনয় করেছে শুধু।


রেহানা বললেন, সব ঠিক হয়ে যাবে বাবা। কাদিস না।


রয়ান বলল, আমি এখন আমেরিকা তে থেকে পড়াশোনা করবো। (রয়ান এটা বলেছে কারন সে যাতে এক নজর লিনাকে দেখতে পারে সেজন্য).


রেহানা বললেন, তোর যা ভালোলাগে। তাই কর। (বলে ফোন রাখলেন).


নিয়ামত বলল, দোস্ত। আমিও আছি তোর সাথে।


পরেরদিন থেকেই নিয়ামত আর রয়ান স্কুলে জয়েন করলো। তারা অনলাইনে ভর্তির আবেদন করে ভর্তি হয়।


রয়ান আর নিয়ামত সেখানেই একটা ঘর ভাড়া নেয়। আর আজ তারা স্কুলে যায়। 

যখন তারা দুজন স্কুলে ঢুকবে। তখন এক বখাটে ছেলে নিয়ামতকে হাত ঈশারা করে ডাক দেয়। 


নিয়ামত ছেলেটার কাছে গেলে ছেলেটা  বলে,  তুমি কি আমার বয়ফ্রেন্ড হবে?

 

নিয়ামত বলে, দেখ। ভাই আমি তোর মতো সমকামি না। অন্যকাউকে গিয়ে জিজ্ঞাসা কর।


ছেলেটা বলে, তোমার পেছন দিকটা আমার ভালোলেগেছে।


নিয়ামত মধ্যের আঙ্গুল দেখিয়ে এসে পড়ে। তারা দুজন এখন ক্লাসে। আর এমন সময় লিনা সেখানে আসলো। নিয়ামত রয়ানকে ইশারা করে বলল, দেখ।  কে আসছে?

রয়ান দেখেও না দেখার ভান করে রইলো।


লিনা তার সিটে গিয়ে বসলো। লিনা রয়ানকে দেখে খুবই অবাক হয়েছে। লিনা ভেবেছিল রয়ান তার কল্পনা। তাই সে সেই দ্বীপ থেকে এসে স্মিথের সাথে রিলেসনে জড়ায়।


তাদের ক্লাস শেষ হয়ে যায়। তখন রয়ান স্কুল থেকে বেরিয়ে একা একা হাটছিল। কারন নিয়ামত টয়লেট যাবে বলে কোথায় যেন গিয়েছে। সম্ভবত সে সেই বখাটে ছেলের কাছে গেছে নিয়ামতকে দিয়ে কোন বিশ্বাস নেই।


রয়ান রাস্তার পাশে ফুটপাত দিয়ে হাটছিল আর তখনই লিনা দৌড়ে আসে আর তার পাশাপাশি হাটা শুরু করে। লিনা খুশিতে রয়ানকে বলে, রয়ান। তোমার সাথে আবার দেখা হবে কখনো ভাবিনি।


রয়ান বিরক্ত এমন একটা ভান নিয়ে বলে, সরি! ম্যাম।  আমি আপনাকে চিনি না।


কথাটা বলে জোরে জোরে হাটতে থাকে। আর তার চোখের জল মুছতে থাকে। তারপর পকেট থেকে ইয়ারফোন বের করে গান শুনতে থাকে।


♪ওহে! কি করিলে বলো পাইবো

তোমারে, রাখিব।  আখিতে আখি ♪



" দোস্ত!  ওই গে টায় আমাকে খেয়ে দিছে। আমার সাথে ওরা গ্যাংব্যাং করছে। "


নিয়ামত কথাটা বলে তার পেছনে হাত দিয়ে রেখেছে। সে সোজা হয়ে দাড়াতেও পারছে না। রয়ান অনেক চেষ্টা করলো হাসবে না। তারপর ও নিয়ামতের কথা সে হেসে ফেললো। হাসতে হাসতে বলল, সরি। দোস্ত। আমার হাসা উচিত না, তবুও কেন জানি আমার হাসি পাচ্ছে।


নিয়ামত অনেক কষ্টে সোফায় বসলো।তারপর রয়ানকে বলল, তুই বলে লিনাকে চিনিস না?


রয়ান বলল, হ্যা। লিনা আবার কে?


নিয়ামত বিরক্ত হয়ে বলল, ঢং করিস না। লিনার সাথে আমার কথা হয়েছে রাস্তায়।


রয়ান মনে মনে জানতে চায়। কি কথা হয়েছে। কিন্তু মনের কথা প্রকাশ করে না। তারপর নিয়ামত বলতে থাকে।


নিয়ামত: প্রথম দেখাতেই লিনা আমাকে চিনতে পারেনি। পরে বললাম আমি রয়ানের বন্ধু। তারপর চিনেছে। আমি বললাম, ভাবি আপনাকে নিয়ে একটা গান বানিয়েছি। লিনা বলল, কি গান?


পরে নিয়ামত তাকে বাংলায় গানটা বলে, ভাবি ভাবি ভাবি। তোমার নাভির.....

আমরা তোমার দেবর,  তুমি সবিতা ভাবি।


লিনা হাসতে হাসতে বলে, এই গানের অর্থ কি?


নিয়ামত বলে, আমি ইংরেজিতে খুব কাচা। তাই বলতে পারলাম না। রয়ান জিজ্ঞাসা করবেন।


রয়ান নিয়ামতের কথা শুনে খুব রেগে যায় আর নিয়ামতের মুখে ঘুষি মেরে বসে। নিয়ামতের ঠোট কেটে রক্ত বের হয়। সেই রক্ত আঙুল দিয়ে রয়ানকে দেখিয়ে বলে, তুই যে লিনাকে এখনো ভালোবাসিস। তা আমি জানি। না হলে লিনার ব্যাপারে খারাপ কথা বলায় রাগ করতি না। নিয়ামত (ইমোসনাল হয়ে বলে),  আজ একটা মেয়ের জন্য তুই আমাকে ঘুষি মারলি? 


পরেরদিন সকালবেলা নিয়ামত আর রয়ান আবার স্কুলে যায়। আজ লিনা স্কুলে আসেনি। এজন্য রয়ানের মন ছটফট করতে থাকে।  তাকে একনজর দেখার জন্য। ক্লাস ছুটি হতেই রয়ান ছুটতে থাকে।  দৌড়াতে দৌড়াতে সে চলে আসে লিনার বাসার সামনে। বাসার সামনে এসে যখনই কলিংবেলে টিপ দিতে যাবে। তখন ই রয়ানের হাত কাপতে থাকে। তবুও সে কলিংবেলে চাপ দেয়। আর দাড়িয়ে থাকে দরজা খোলার অপেক্ষায়।



♪ আমার সবটুকু বিশ্বাস যে দিয়েছে ভেঙ্গে,

     তাকে কৃতজ্ঞটা জানাই, সে দিয়েছে

         আমায়,  অন্ধ চোখে আলো।  ♪


কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনতে শুনতে হাটছিল রয়ান। তার অভ্যাস হাটার সময় পকেটে হাত দিয়ে হাটে। এমন সময় কে যেন পেছন থেকে তার কাধে হাত রাখলো। রয়ান পেছনে তাকিয়ে হেডফোন খুলে ফেলে। ছেলেটা আর কেউ না স্মিথ (লিনার নতুন বয়ফ্রেন্ড)।


স্মিথ হাসি মুখে বলে, আমি আপনাকে চিনি। আপনাকে আমি নগ্নদ্বীপের ভিডিওতে দেখেছি। আপনি আর লিনা ছিলেন সেখানে।


রয়ান অবাক হয়ে বলে, নগ্নদ্বীপের ভিডিও মানে?


স্মিথ বলে, ওটা একটা শো ছিল। যেখানে একটা ছেলে আর একটা মেয়েকে একটা দ্বীপে একসাথে রাখে। দেখার জন্য যে তারা তখন কি করবে। আর আপনার জন্য এই শো টা হিট হয়ে গেছে। অনেকেই দেখেছে এই শো।


রয়ান অবাক হয়ে বলে, সামথিং ইজ রং। আমি সেই শো' এর ভিডিও দেখতে চাই। এটা কি টিভিতে প্রচার হয়?


স্মিথ বলে, না। এটা ডার্ক ওয়েব এ প্রচার হয়।


রয়ান বলে, ডার্ক ওয়েব কি?


স্মিথ বলে, ইন্টারনেটের মাত্র ৪% ই আমরা ব্যবহার করতে পারি। আর বাকি ৯৬% ডার্কওয়েব এ থাকে। সেখানে এমন কিছু নাই।যা হয় না। শিশুরেপ থেকে শুরু করে ড্রাগ, বন্দুক সব ই পাওয়া যায়।


রয়ান হতভম্ভ হয়ে বলে, আমাদের ভিডিও কিভাবে শ্যুট করা হয়েছিল। যেখানে আমাদের সামনে কোন ক্যামেরা ম্যান ছিল না। 


স্মিথ বলে, আপনাদের ভিডিও স্যাটালাইট এর মাধ্যমে লাইভ প্রচার করা হয়েছে।


রয়ান বলে, আমি দেখতে চাই।


স্মিথ বলে, তাহলে আমার বাসায় চলুন।


রয়ান স্মিথের বাসায় আসে। তারপর তারা কম্পিউটার এর সামনে বসে। স্মিথ তখন ডার্কওয়েব এক্সেস করে। রয়ান অবাক হয়ে কম্পিউটার এর স্কিনের দিকে তাকিয়ে থাকে।


স্মিথ কম্পিউটারে টাইপ করতে করতে বলে, লিনা এসব কিছু জানে না। সে জানলে কষ্ট পাবে।  তাই তাকে আমি কিছু বলিনি। আর রয়ান।  আপনিও তাকে কিছু বলবেন না। এই ডার্কওয়েব এ কিন্তু বিটকয়েন লাগে। কিছু কেনা বা দেখার জন্য। বুঝলেন?


রয়ান দেখলো। সে আর লিনা যা যা করেছে সব একটা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে। আর নিচে মানুষ আজে-বাজে কমেন্ট করছে।


রয়ান বলল, আচ্ছা। এসব কাজ কারা করে?


স্মিথ বলল, তা কখনো জানা যায় না।




এই ডার্কওয়েবের মুখোশের আড়ালে তাদের সাথে এতো বড় গেম কে খেললো?


এটা ভাবতে ভাবতেই ঘুম থেকে জেগে বসে পড়ে রয়ান। সকাল হয়ে গেছে। এখন আবার স্কুল যেতে হবে তাদের।


স্কুলে কোন ক্লাসেই রয়ানের মন বসে না, তার মন পড়ে আছে ডার্কওয়েব নিয়ে। ব্যাপারটা তাকে টানছে নিজের দিকে। ক্লাস শেষ হওয়ার পর সে যখন বাসায় আসার জন্য রওনা দিয়েছে। (তার সাথে নিয়ামত নেই। কারন নিয়ামতের শরীর অসুস্থ। সে বাসায় শুয়ে আছে।)  


রয়ান রাস্তা দিয়ে হাটছে। আর ভাবছে তাকে কে মাথায় পেছনে বারি মারে? তারপর কে তাকে নগ্নদ্বীপ ছেড়ে আসে? আর কেন ই বা আবার ৭দিন পর তাকে ঘরে রেখে যায়? এসব ভেবে রয়ানের মাথা ব্যাথা করতে শুরু করে।


আজও তাকে লিনার বাড়ির সামনে থেকেই চলে যেতে হলো। কারন লিনা অসুস্থ (তার পিরিয়ড চলছে। তাই সে স্কুল যেতে পারছে না।)।


রয়ান মন খারাপ করে হাটছে মাথা নিচু করে। এমন সময় তার পাশে এসে দাড়ালো। আর তার সাথে পাশাপাশি হাটতে লাগলো নাতাসা নাইস (আমেরিকান) [রয়ানের ক্লাসমেট]। রয়ান তার নাম জানে না। তবে কয়েকদিন লক্ষ্য করেছে ক্লাসে মেয়েটা পলকহীনভাবে তার দিকে চেয়ে থাকে। রয়ান বুঝেও না বোঝার ভান করেছে। আর এখন মেয়েটা তার পাশাপাশি হাটছে।


নাতাসা বলল, কি হয়েছে? আপনার কি মন খারাপ?


রয়ান বলল, না। তেমন কিছু না।


নাতাসা এবার হ্যান্ডশেক এর জন্য হাত বাড়ায়। রয়ান হ্যান্ডশেক করলো। 


নাতাসা বলল, আমরা কি বন্ধু হতে পারি?


রয়ান বলল, আমরা তো আগে থেকেই বন্ধু। আমি তো আরো বেশি কিছু আসা করেছিলাম।


নাতাসা বলল, তাহলে আমার বাসায় চলো।


একদিকে লিনা রয়ানকে ছেড়ে গেছে। আবার তার বন্ধু নিয়ামত ও অসুস্থ। তাই রয়ান ভাবলো এর সাথে টাইমপাস তো করাই যায়।


নাতাসা মেয়েটার সাস্থ্য ভালো। মোটা শরীর। দেখতে ভালোলাগে। রয়ান বসে আছে নাতাসার রুমে। নাসাতা গোসল করতে গেছে। একটু পর গোসলখানা থেকে শরীরে টাওয়াল পেচিয়ে বের হলো নাতাসা। তারপর রয়ানকে বলল, সরি। তোমাকে এতোক্ষন বসিয়ে রাখার জন্য। কথাটা বলার পর পিছনে ঘুরে টাওয়াল খুলে ফেলল। এখন রয়ান চাইলেই তার পিঠ দেখতে পারবে। কিন্তু রয়ান নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। নাতাসা জামা পড়লো।


নাতাসা বলল, রয়ান আমি হুকটা লাগাতে পারছি না। আমাকে একটু সাহায্য করো।  (নাতাসার মনে কুবুদ্ধি। সে রয়ানের সাথে শুতে চায়।)


রয়ান তার হেল্প করতে যাবে। তখনই নাতাস তার ব্রা নিচে ফেলে দিল। তারপর রয়ানের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে তাকে খাটে ফেলে দিল আর রয়ানকে কিস করতে থাকলো। রয়ানও তাকে কিস করতে থাকলো।





রয়ান বসে বসে ভাবছে। উত্তেজনার বসে এটা করা তার ঠিক হয়নি। সে তো তাহলে লিনাকে ধোকা দিচ্ছে। তারপর ই তার মনে হলো যে লিনা তো তাকে ধোকা দিয়েছে।


রয়ান বলল, আমরা তো প্রটেকসন ব্যবহার করিনি, যদি কিছু হয়ে যায়?


নাতাসা জামা পড়তে পড়তে বলে, ভয় নেই। আমি পিল খেয়ে নিবো। 


৫দিন পর: (এই ৫দিন রয়ান ভয়ে স্কুলে যায়নি। এটা ভেবে যে লিনাকে সে কিভাবে মুখ দেখাবে। কিন্তু তার মনে পড়লো। লিনা তো এসব জানেই না।)


রয়ান স্কুলের জন্য রেডি হলো। নিয়ামতকে বলল, স্কুল যাবি না?


নিয়ামত বলল, না। তুই যা। আজ আমার ডেট আছে।


রয়ান বলল, খবরদার। ঘরে কোন মেয়ে আনবি না।


রয়ান ক্লাস করছে। নাতাসা তাকে কথা বলার জন্য সিগন্যাল পাঠাচ্ছে। যা রয়ান পুরোপুরি এড়িয়ে যাচ্ছে। যেন সে নাতাসাকে চিনেই না।

এমনকি রয়ান লিনাকে এড়িয়ে চললো। তার দিকে তাকালো ও না।


ক্লাস শেষে রয়ান বাসার দিকে যাচ্ছিল। এমন সময় তার পেছনে দৌড়ে আসে লিনা। এসে পাশাপাশি হাটতে থাকে। দুজনই চুপ। কেউ কোন কথা বলে না। 


তারপর নীরবতা ভেঙ্গে লিনা বলে, সরি! রয়ান। আমার ভুল হয়ে গেছে। আমাকে ক্ষমা করে দাও। স্মিথ ভালো ছেলে না। গতকাল তাকে আমি অন্য একটা মেয়ের সাথে শুতে দেখেছি। কথাটা বলেই কেঁদে ফেলে লিনা।


এবার রয়ানের মায়া হয়। রয়ান লিনার চোখের জল মুছে তাকে বুকে জড়িয়ে নেয়। এসব দৃশ্য দুর থেকে দেখে ফেলে নাতাসা আর কাদতে কাদতে সেখান থেকে চলে যায়।


এবার রয়ান লিনাকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে হাটু গেড়ে বসে আর বলে, তুমি কি আমাকে বিয়ে করবে?


লিনা খুশিতে লাফাতে থাকে। তারপর বলে,  হ্যা।  করবো।


রয়ান এবার লিনাকে জড়িয়ে ধরে ঠোটে চুমু খায় আর বলে, তাহলে আগামীকাল ই তোমাকে বিয়ে করে। আমি বাংলাদেশ নিয়ে যাবো।


এখানে রয়ান সেই ডার্কওয়েবে একজন হ্যাকারকে ভাড়া করে। যেকিনা তাকে বলবে 'নগ্নদ্বীপ' শো টা আসলে কার? এজন্য হ্যাকার ২ দিন সময় নিয়েছে। আাগামীকাল ই হ্যাকার রয়ানকে জানাবে যে এসবের পেছনে আসল মাস্টারমাইন্ড কে?


ঘুম থেকে উঠেই রয়ান খুব খুশি। কারন আজ তার বিয়ে। তাও আবার তার ভালোবাসার মানুষ লিনার সাথে। তারা আমেরিকান কালচারে বিয়েটা করবে। রয়ান কোর্ট-প্যান্ট পড়বে তারপর গির্জায় তাদের বিয়ে হবে।


রয়ান দেখলো ঘরে সে একা। নিয়ামত হয়তো বাইরে গেছে। রয়ানের মনে পড়লো যে আজ তাকে ই-মেইল করে জানানো হবে যে আসল মাস্টার মাইন্ড কে? তাই রয়ান তার ল্যাপটপ টা ওপেন করলো। সেখানে একটি ই-মেইল এসেছে। 


ই-মেইল ওপেন করতেই রয়ান যা দেখতো। তা সে কল্পনাও করতে পারেনি। 

সেখানে স্মিথের ছবি দেওয়া আর নিচে তার নাম,ঠিকানা আর বয়স দেওয়া আছে। (রয়ানের বুঝতে বাকি রইলো না। যে স্মিথ ই আসল মাস্টার মাইন্ড। কিন্তু স্মিথ এসব কেন করলো?)


এমন সময় বাসার কলিংবেল বেজে উঠলো। রয়ানচমকে উঠলো। তার বুকের ডার্ট বিট বেড়ে যাচ্ছে ভয়ে। দরজা খুলে দেখলো বাইরে স্মিথ দাড়িয়ে আছে হাসি মুখে। স্মিথের হাতে ফুল।  ( স্মিথ এসেছে রয়ানের বিয়ের শুভেচ্ছা জানাতে। কিন্তু এদিকে রয়ানের ভয়ে হাত পা কাপছে।)


স্মিথ বলল, তোমার হাত-পা কাপছে কেন?


রয়ান বলল, এটা আমার বংশগত রোগ। আমার দাদার হাত পা কাপতো। তারপর আমার বাবার হয় এই রোগ আর এখন আমার (রয়ান বানিয়ে বানিয়ে কথাগুলো বলল)।


স্মিথ তার ঘরে এসে রুমের ভেতর ঢুকে আর তার চোখ পড়ে ল্যাপটপের ওপর। রয়ান ল্যাপটপ বন্ধ না করেই তাড়াহুড়া করে দরজা খুলেছিল। তাই স্মিথ এখন ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে নিজের ছবি দেখে আর বুঝে যায় যে রয়ান সব জেনে ফেলেছে। 


আর তখনই রয়ান স্মিথের মাথার পেছনে বারি মারে লোহা দিয়ে। এতে স্মিথ অজ্ঞান হয়ে মেঝেতে পড়ে যায়। এমন সময় দরজা লাগানো না থাকায় ঘরে প্রবেশ করে নিয়ামত। আর স্মিথ কে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে রয়ানের দিকে।


নিয়ামত বলে, এটা তুই কি করলি?


রয়ান বলে, চুপ! এখন তো আমি গেম খেলবো। 


স্মিথ চোখ খুলে দেখলো। তাকে চেয়ারের সাথে বেধে রাখা হয়েছে।


এদিকে রয়ান আর নিয়ামত রক,সিজার, পেপার খেলছে। নিয়ামত বলল, যে জিতবে সে স্মিথকে ঘুষি ও চড় থাপ্পড় মারবে।

রয়ান বলল, ওকে দোস্ত।


নিয়ামত কয়েকবার জিতে গেল খেলায় আর স্মিথকে কয়েকটা চড় থাপ্পড় মারলো। বেচারা স্মিথ চড় কেনে তার কানে ঝিম ঝিম ধরে গেছে। স্মিথ বলল, এসব কি হচ্ছে?


নিয়ামত বলল, তুই যেমন মানুষের জিবন নিয়ে খেলিস। আর আমরা তোর জিবন নিয়ে খেলছি।  (হাহাহা)।


রয়ান এবার সিরিয়াস ভাবে কথা বলল, দেখ। স্মিথ। তুই যদি সব প্রশ্নের উত্তর দিস। তাহলে আমরা তোকে ছেড়ে দিব। এখন বল। এসব কেন করলি?


স্মিথ বলল, ডলারের জন্য। আমার ডলার লাগবে। জীবনে খুশি থাকার জন্য ডলারের প্রয়োজন হয়। তাই আমি ভাবলাম শর্টকাটে কিভাবে টাকা আয় করা যায়। তখন থেকেই আমি ডার্কওয়েবে কাজ করা শুরু করি। প্রথমে আমি এশিয়ান ছেলেদের অজ্ঞান করে নিয়ে আসি। তারপর আমেরিকান মেয়েদেরকেও অজ্ঞান করে নিয়ে আসি। তারপর তাদেরকে 'নগ্নদ্বীপে' ছেড়ে দিয়ে আসি। এটা দেখার জন্য যে তারা কি করে। বেশির ভাগ ছেলেই মেয়েটাকে একা পেয়ে রেপ করে। কিন্তু রয়ান আর লিনা। তোমাদের কারনে শো হিট হয় না। তোমরাই এমন ছিলে। যারা কিছুই করো নি। এটার কারনে তেমাদের আবার আগের জায়গায় ফিরিয়ে দিয়েছে।


রয়ান স্মিথ কে বলল, তোর জি-মেইল আইডি দে।


স্মিথ বলল, কেন?


নিয়ামত বলল, আইডি দিবি নাকি তোর ওইটা কাটবো? কথাটা বলে নিয়ামত কাচি নিয়ে আসলো।


স্মিথ ভয় পেয়ে বলল, জ্বি। স্যার!  দিচ্ছি তো ভয় দেখান কেন? smithsavage@gmailcom


রয়ান বলল, পাসওয়ার্ড কি?


স্মিথ বলল, জানি না।


নিয়ামত বলল, জানোস না মানে? এখনই কাটমু নাকি?


স্মিথ বলল, ভাই। কাটাকাটি পরে কইরেন। পাসওয়ার্ড এর নাম ই 'jaanina'.


রয়ান বলল, ওকে। ডান। এবার তোকে আমরা সেই দ্বীপে ফেলে আসবো। তাও একা।


স্মিথ চোখ খুলে দেখে সে বালির ওপর পড়ে আছে। তার সামনে বিশাল সমুদ্র। সে চলে এসেছে নগ্নদ্বীপে।


( আজ রয়ানের বাসর রাত)


লিনা বাঙালি মেয়েদের মতো ঘোমটা দিয়ে বসে আছে। রয়ান ঘরে ঢুকলো। সে লিনার পাশে বসলো। লিনা ঘোমটা ফেলে দিয়ে বলল, কি সব বাঙালি কালচার।  আমার ভালোলাগে না। ঘোমটা দিয়ে বসে থাকতে থাকতে ঘামিয়ে গেছি।


কথাটা বলে লিনা তার বিয়ের জামা খুলতে লাগলো। রয়ান তার চোখ হাত দিয়ে ঢেকে বলল, এখন না লিনা। আগে নিজেদের মধ্যে কথা বলে নেই।


লিনা এখন শরীরে একটুকরো ও জামা নেই। লিনা বলল, নগ্নদ্বীপে তো নগ্ন ই ছিলাম। এখন তো আমাদের বিয়ে হয়ে গেছে। বিয়ের পর ও লজ্জা পেলে হবে রয়ান। এসো। খেলা শুরু করি। কথাটা বলে লিনা রয়ানের দিকে এগিয়ে যায়। রয়ান ভয়ে কাপতে থাকে। আর মনে মনে দোয়া পড়তে থাকে। এমন সময় দরজায় টোকা পড়লো।  কে এসেছে?


রয়ান দরজা খুলে দেখে নিয়ামত বাইরে দাড়িয়ে আছে। রয়ান বলল, এখানো কি চাস? 


নিয়ামত বলল, আরে। খেলা শুরু কর না বাল। কতক্ষন আর দরজায় কান দিয়ে দাড়িয়ে থাকবো।


রয়ান বলল, যা।  তুই ঘুমা গিয়ে।


নিয়ামত বলল, এই নে এটা রাখ। কাজে দিবে।


রয়ান বলল, এটা কি?


নিয়ামত তার কানে কানে বলল আর রয়ান বুঝে গেল।


 রয়ান বলল, ছি:!  এটা কেন দিলি?


দরজা লাগিয়ে আবার লিনার পাশে বসলো রয়ান। তারপর বলল, দেখো লিনা। আমি আগে কখনো এসব করিনি। কিভাবে করতে হয়। তাও জানি না। তো আমার একটু সময় লাগবে।


কথাটা শুনে লিনা বলে, আমি তোমাকে শিখিতে দিচ্ছি। কিভাবে করতে হবে। কথাটা বলে রয়ান ওখানে হাত দেয়। রয়ান ভয় পেলে বলে, ওকে।  তুমি যা বলবে। তাই।  


সকালে রয়ান দেখে তার শরীরে একটুও শক্তি নেই। সে কোন মতে উঠে। লিনা এখনো ঘুমিয়ে আছে। রয়ান লিনার জন্য রান্না ঘরে চা বানাতে যায়। তখনই নিয়ামত আসে রান্না ঘরে। 


নিয়ামত বলল, দোস্ত।  বিড়াল মেরেছিছ।  তো?


রয়ান বলল, আমি কি বিড়াল মারবো? বিড়াল উল্টো আমাকে মেরে দিয়েছে।


নিয়ামত হেসে বলল, তা তো দেখাই যাচ্ছে। তোর পুরো শরীরে লিপস্টিক এর দাগ। আর কে যেন কামড় ও দিয়েছে।


রয়ান বলল, কানের সামনে বকবক না করে কাজ করতে দে।


নিয়ামত বলল, এখন তো বউ পেয়ে আমাকে ভুলে যাবি।


রয়ান বলল, এমন কিছু না।


তার চা বানানো শেষ। রয়ান চায়ের কাপ হাতে নিয়ে লিনার সামনে দাড়ায়। লিনাকে দেখে তার ঘুমন্ত রাজকন্যা মনে হয়। সে লিনার কপালে চুমু খায়। আর চায়ের কাপটা টেবিলে রেখে গোসল করতে যায়। 


(সমাপ্ত)


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পিচ্চি বউ - পর্ব ২৯

 আমি জেরিনকে বললাম, আবারো তুমি প্যন্টে হিসু করে দিয়েছো?  জেরিন ঘুমঘুম চোখে বলল, এটা হিসু না। লাইট অন করেন। আমি লাইট অন করলাম। আর অবাক হয়ে তার সাদা পাজামার দিকে তাকালাম। তার সাদা পাজামা পুরো লাল হয়ে আছে। আমার  আন্ডারওয়ারেও কিছু লাল দাগ লেগেছে।  আমি ভয়ে আতংকিত হয়ে জেরিনের গালে দুহাত হাত রেখে  বললাম , ও মাই গড। তোমার রক্ত বের হচ্ছে কেন? জেরিন বলল, এমন নাটক করতাসেন কেন? ড্রয়ার থেকে প্যাড এনে দেন।  আমি ড্রয়ার থেকে প্যাড এনে দিলাম।  আমি বললাম, তোমার কি কোথাও কেটে গেছে। না হলে রক্ত বের হচ্ছে কেন? জেরিন রেগে বলল, ফাজিল কোথাকার বুঝেন না আমার পিরিয়ড হচ্ছে। এই কথা শুনে আমি জেরিনকে জড়িয়ে ধরলাম। তারপর কানে কানে বললাম, তোমার কি খুব কষ্ট হচ্ছে? পেট ব্যথা করছে?  <amp-auto-ads type="adsense"         data-ad-client="ca-pub-9645388120151436"> </amp-auto-ads> এদিকে জেরিন দেখি খুব নরমাল আছে। যেন কিছুই হচ্ছে না তার। ইরা যখন বলেছিল তার মিন্স হচ্ছে। তখনই ইন্টারনেটে সার্চ দিয়েছিলাম যে মিন্স হলে মেয়েদের কেমন ফিল হয়। সেখানে পড়লাম মিন্স হলে মে...

খালাতো বোনের সাথে প্রেম / রোমান্টিক প্রেমের গল্প / Rudro Siyam

মা যখন বললেন যে আমার বিয়ে হবে আমার খালাতো বোনের সাথে। সে কথা শুনেই আমি ভয়ে বাসে করে কক্সবাজার চলে আসলাম। এখানে একটি হোটেলে উঠেছি নিজেকে লুকিয়ে রাখার জন্য।  আমাকে পেলেই মা-খালা মিলে বিয়ে দিয়ে দিবে। তাই কয়েকদিন লুকিয়ে থাকি। যখন সুরভীর বিয়ে হয়ে যাবে। তখন আমি আবার বাড়ি চলে যাবো। হ্যা! সুরভী ই আমার খালাতো বোনের নাম। এবার ক্লাস টেনে উঠেছে আর তাকে বিয়ে দিয়ে আমার ঘাড়ে চাপানোর প্লান করছে আমার মা আর খালা।  হোটেল রুমে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ কলিংবেলের শব্দে তড়াক করে উঠে। দরজা খুলতেই দেখি একটা ফুলের তোড়া হাতে কে যেন দাড়িয়ে আছে। ফুলটার গন্ধ নিতেই আমি অজ্ঞান হয়ে গেলাম। জ্ঞান ফিরলে দেখি আমার হাত,পা বাধা করে আমাকে গাড়িতে করে কোথায়ও যেন নিজে যাওয়া হচ্ছে। তার মানে কি আমাকে কিডন্যাপ করা হয়েছে। গাড়ি যে চালাচ্ছে। সে রাকিব। আমার বন্ধু! রাকিব: দোস্ত! টেনসন করিস না! লাইফে একবার না। একবার তো বিয়ে করতেই হবে। বিয়ে থেকে পালালে হবে?  আমাদের ধর্মে তো বিয়ে করা ফরজ। তাহলে তুই পালিয়ে বেড়াচ্ছিছ কেন? আমি: তুই কিভাবে জানলি যে আমি কক্সবাজারের হোটেলে আছি? তোকে কে খবর দিল? রাকিব: আরে! বেটা! এখন ইন্টারনেটের যুগ। তুই...

প্লেবয় লাভ স্টোরী) রোমান্টিক প্রেমের গল্প/ রুদ্র সিয়াম

শামীম: রুদ্র। তুই একটা প্লেবয়। তুই এতো মেয়েকে কিভাবে পটিয়ে ফেলিস বুঝি না। যেখানে আমাকে কোন মেয়েই পাট্টা দেয় না। দোস্ত। মেয়ে পটানোর টিপস গুলো আমাকে একটু বল। আমিও তোর মতো প্লে বয় হতে চাই। আমি মোবাইলের স্ক্রিন থেকে চোখ সড়িয়ে তাকালাম শামীমের দিকে। বেচারা এতোবার রিজেক্ট খেয়েছে। এখন আমার কাছ থেকে মেয়ে পটানো শিখতে চায়। আমি: দেখ একটা মেয়ের পেছনে কম হলেও ৪/৫ টা ছেলে ঘোরে। এখন যদি তুইও ঘুরিস। তাহলে সেই ৪টা ছেলে আর তোর মধ্যে কি তফাত থাকলো? তোকে হতে হবে স্পেশাল। তাহলেই দেখবি মেয়েরা তোর প্রতি আগ্রহ দেখাবে আর তোর পেছন পেছন ঘুরবে। বুঝলি? শামীম: আচ্ছা। চেষ্টা করে দেখব। আর কোন টিপস নাই।  আমি: মেয়েদের পাট্টা দিবি না। তাহলে মেয়েরা তোকে পাট্টা দিবে। যত সুন্দর মেয়েই হোক। এমন ভান করবি তোর সামনে কিছুই না। শামীম: কিন্তু আমার তো মেয়েদের সামনে গেলেই হাত পা কাপে। আর টয়লেট লাগে বার বার।  আমি: এরকম হলে তুই কখনই মেয়ে পটাতে পারবি না। আজীবন সিঙেল ই থাকবি। এরকম সময় আমাকে সুনেরাহ কল দিল। আমি কল রিসিভ করলাম। আমি: (ধমক দিয়ে) এই সময়ে কল দিয়েছো কেন? জানো না আমি ব্যস্ত থাকি। তোমাকে বলেছি রাত ১২ টার পর কল দিবা। কত ম...