সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ফুপাতো বোনের সাথে প্রেম / রোমান্টিক প্রেমের গল্প/ Rudro Siyam

 ফোনে কথা বলছে আয়ান ও নাফিসা!


নাফিসা: জানিস!  আমার না বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। বিয়ে তোকে অবশ্যই আসতে হবে। বিয়েতে তুই না এলে আমি বিয়েই করব না।


আয়ান: দেখি! আমি অনেক ব্যস্ত আছি। আসতেও পারি আবার না ও আসতে পারি। তুই কোন পাগলামি করিস না। ফুপু যার সাথে তোর বিয়ে ঠিক করেছে। তাকেই বিয়ে কর! 


নাফিসা: বিয়ে হওয়ার কথা ছিল তোর আর আমার। মনে আছে ছোটবেলায় তুই তোর মায়ের চুড়ি এনে আমাকে পড়িয়ে দিতি। আর বলছি মা আমি এই মেয়ে কেই বড় হয়ে বিয়ে করবো। কি মনে আছে তোর?


আয়ান: ছোটবেলায় তো কত কিছুই করেছি। এখন এসব বলে আর লাভ কী? ফুপা সবসময় ই চেয়েছেন তোর যাতে বড় ঘরে বিয়ে হয়। আমাদের মতো গরীব ঘরে তোর মতো চাদকে শোভা পায় না।


নাফিসা: তুই গরীব হস আর যাই হস না কেন? আমার তো তোকেই ভালোলাগে। এতো বড় ঘরে বিয়ে হচ্ছে। শুনেছি আমার নাকি রান্না বান্না করতে হবে না। ঘরের বুয়ো রা ই আছে ৫জন।


আয়ান: তুই খুব লাকি রে! তোর এতো বড় ঘরে বিয়ে হচ্ছে। সেখানে আমার সাথে বিয়ে হলে তোর সাদা চামড়ায় প্রতিদিন চুলোর পাড়ে থাকতে থাকতে কালো হয়ে যেত। 


নাফিসা : কিন্তু!  আমার তোর ঘরটাই ভালোলাগে। আচ্ছা! আমরা কী পালিয়ে বিয়ে করতে পারি না?


আয়ান: নারে! কি সব বাজে বকসিস? ফুপা ফুপিকে আমি ধোকা দিতে পারি না। উনি যেহেতু আমাদের সম্পর্ক মেনে নেননি। তাই আমাদের আর কিছু করার নেই।


নাফিসা: আচ্ছা! আমি যদি বিষ খেয়ে মারা যাই। তখন কী আম্মু আব্বু মেনে নিবে?


আয়ান: কিসব ফালটু কথা বলছিছ। দুইদিন পর তোর বিয়ে। নতুন সংসার করবি। তারপর তোদের কিউট বাবু হবে। সেই বাবুকে বড় করবি। তোর সামনে অনেক দ্বায়িত্ব।


নাফিসা: আমার না রাফসানকে ভালোলাগে না। ও মোটেও ভালো স্বামি  হতে পারবে না। বড়লোক বাবা মায়ের ছেলে। আমি ওর ফেসবুকে দেখেছি একশ একটা মেয়ের সাথে ছবি। পরে আমি রাফসানকে বললাম, এসব কী?

রাফসান বলে, এগুলো আমার বন্ধু! 

তুই ই বল! এসব কোন কথা!


আয়ান: তুই এসব নিয়ে চিন্তা করিস না। বিয়ের পর সব ঠিক হয়ে যাবে। দেখবি তোকে পেলে রাফসান আর অন্যমেয়েদের দিকে ফিরেও তাকাবে না। সারাদিন তোর শাড়ির আচল ধরে বসে থাকবে।


নাফিসা: আচ্ছা! একটা কথা বল! তুই কি এতোদিন আমার সাথে প্রেমের অভিনয় করলি? তোর মনে কী আমার জন্য একটু জায়গা ছিল না!


আয়ান: না! 


আয়ান ফোন কেটে দিল। তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। সে নীরবে কাদছে। তার কান্নার কেউ দেখছে না। তার বুক ভারী হয়ে আসছে। যাকে সে ছোটবেলা থেকে ভালোবেসে আসছে, সেই মানুষটাকে সে পাবে। আয়ান দাড়িয়ে ছিল বুড়িগঙ্গা নদীর পাড়ে। তার মন চাইছিল এখনই নদীতে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যা করতে। কিন্তু নিজের পরিবারের কথা ভেবে নিজেকে সামলে নিল সে। কোনরকম পাগলামি করা যাবে না। সে বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। তার কিছু হয়ে গেলে তার বাবা মাকে কে দেখবে?



আয়ান মন খারাপ করে ঘরে ফিরলো। তার কিছুই ভালোলাগছে না। বার বার মন চাইছে নাফিসার কাছে ছুটে গিয়ে। তাকে জড়িয়ে ধরে কাদতে। কিন্তু চাইলেই তো আর সবকিছু সম্ভব না। নাফিসা তার কে? আগে ভালোবাসা ছিল। কিন্তু এখন শুধু ফুপাতো বোন। আয়ান মনে মনে বলল, নাফিসাকে এখন আমি বোনের চোখে দেখব। তাকে আর ভালোবাসার চোখে দেখবো না।


রাত ১২ টায় ঘরে ফিরলো আয়ান। ঘরে এসেই নিজের ঘরে শুয়ে পড়লো। তার কিছু ভালোলাগছে না। কেউ জানি বুক ফেটে তার কান্না আসছে। রেহানা বেগম আয়ানের মা। আয়ানের মন খারাপ দেখে উনারও মন খারাপ হয়ে গেল। আয়ান ও নাফিসার সম্পর্কের কথা রেহানা বেগম জানেন। আয়ান ই তাকে বলেছে। আয়ান তার মায়ের কাছ থেকে কিছু লুকায় না।


আয়ানকে খাটে শুয়ে থাকতে দেখে রেহানা বেগম তার পাশে বসে চুলে বিলি করে দিতে লাগলো।


রেহানা: কি হয়েছে?  বাবা!  রাতের ভাত খাবি না। এভাবে আর কত নিজেকে কষ্ট দিবি।


আয়ান: আমি খেলেই কী? আর না খেলেই কী? তোমাদের কিছু আসে যায়? 


রেহানা: এভাবে রেগে কথা বলছিছ কেন? তোর কী সমস্যা আমাকে বল?


আয়ান: বললেই কী তুমি সমস্যার সমাধান করতে পারবে? না পারবে না। কখনই পারবে না। আমাকে একা থাকতে দাও।


রেহানা: এমন রাগ করিস না আয়ান! আমার যে তোর কষ্ট দেখলে নিজেরও কষ্ট হয়। কেন মায়ের মনে কষ্ট দিস। বল?


আয়ান চুপ করে আছে। কোন কথা বলছে না। রেহানা বেগম ঘর থেকে চলে গেলেন। তিনি জানেন আয়ান যা বলে তাই করে। ও খুব শান্ত স্বভাবের। কিন্তু একবার রাগ উঠলে ওকে থামানো খুব মুস্কিল। তখন শুধু একজন ই ওকে থামাতে পারে। সে হলো নাফিসা। যাকে দেখলেই আয়ানের সব রাগ ধুলোয় মিশে যায়। যার হাসির শব্দ আয়ানের বুকে আনন্দের গান গায়। কিন্তু সেই নাফিসাকে আয়ান আর পাবে না। তার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে শুক্রবারে। আজ মঙ্গলবার। আর মাত্র ২টা দিন বাকি। বিয়ের পর সে চাইলেও নাফিসাকে আর আগের মতো নিজের কাছে পাবে না। মন চাইলেই আর ফুপুর বাসায় গিয়ে হঠাৎ বলতে পারবে না।


অতীতে যখন আয়ান নাফিসাকে একটু দেখার জন্য ওদের বাসায় যেত। তখন:


আয়ান: এক কাপ চা খাওয়াতে পারবি? আমি খুব ক্লান্ত। চা খেয়েই চলে যাবো।


নাফিসা: পারব না। আমাদের ঘরে চিনি নেই। আর তুই শুধু চা চা করিস কেন? ঘরে এসেই আমাকে বিরক্ত করে ফেলিস। তোর জন্য এক সেকেন্ডও শান্তিতে থাকতে পারি।


তখন আয়ান নাফিসার পিঠে একটা খুশি মারে।


আয়ান: যা!  করতে বলেছি কর। না হলে তোর হাত ভেঙ্গে ফেলবো।


নাফিসা: আচ্ছা! দাড়া! আমি চা বানিয়ে আনছি। 


নাফিসা চা বানিয়ে আয়ানের হাতে দিল। আয়ান চায়ে চুমুক দিয়ে দেখে চা খুব ভালো হয়েছে। তবুও একটু ঢং করে চায়ে চুমুক দেয়।


আয়ান: ওয়াক থু! এসব কী? ফালটু চা বানিয়েছিছ। একটা চা ও ঠিকমতো বানাতে পারিস না। তোকে তো কেউ বিয়েই করবে না।


নাফিসা: কেউ বিয়ে না করলে তুই তো আছিস। শেষে তোর ঘাড়ে চলে সারাজীবন খাবো।


আয়ান: মোটেও না। তোর মতো বাদুড়ের লেজকে কে বিয়ে করবে? বিয়ের পর বলছি মেআক দেও। এটা দাও। সেটা দাও। আমি গরীব মানুষ। আমি বিয়ে করব। একটা সাধারন মেয়েকে যে মেকআপ পছন্দ করে না। শুধু চোখে কাগজ দেয়। অদ্ভুদ মায়াবতী।


নাফিসা: তুই গ্রাইম্মা! তোর চিন্তা ভাবনাও গ্রাইম্মা মেয়ে। তুই কি বুঝবি স্ট্যান্ডার মেয়েদের কদর।



আয়ান ঘুমিয়ে ছিল। হঠাৎ ফোনের শব্দে তার ঘুম ভাঙ্গে। ফোন করেছে নাফিসা।


নাফিসা: কিরে! কই তুই? আমি একটু বিয়ের শপিং করতে যাবো। তুই তাড়াতাড়ি আমার বাসার সামনে আয় তোর বাইক নিয়ে। আমি অপেক্ষা করছি।


আয়ান: আমি এখন ঘুমাবো। আসতে পারব না। অন্যকাউকে নিয়ে যা। এমনিতেও আমার শপিং করতে ভালোলাগে না। তোর খালাতো ভাই জিসানকে নিয়ে যা।


নাফিসা: তুই আসবি নাকি আমি তোর বাসায় এসে তোকে নিয়ে যাবো?


আয়ান: আচ্ছা! দাড়া বাবা আসছি। তুই যে পাগলি মেয়ে। তুই এখানে আসলে আমার চুল ছিড়ে আলু ভর্তা বানাবি। তার থেকে ভালো আমি ই আসছি।


নাফিসা: হুমম! ঠিক ই বলেছিছ। আমাকে তো ভালো করেই চিনস। আমি কী গুন্ডি মেয়ে। এলাকার সব ছেলেরা আমাকে দেখলে মাথা নিচু করে থাকে ভয়ে। (হাহহা)


আয়ান আয়নার সামনে দাড়ালো। এই কয়েকদিনে নাফিসার চিন্তায় তার ঘুম হয়নি! চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে গেছে। আর নাফিসা বিয়ে করবে বলে সুখেই আছে। ভাবতেই আয়ানের বুক হাহাকার করে ওঠে। আয়ান ভাবে, কি হতো যদি তার আর নাফিসার বিয়ে হতো।


আয়ান চলে যায় কল্পনার জগৎ এ। আয়ান কল্পনায় দেখছে তার আর নাফিসার বিয়ে হচ্ছে।

আয়ান ও নাফিসা বউ জামাই হয়ে পাশাপাশি বসে আছে। একজন ফটোগ্রাফার তাদের বিয়ের ছবি তুলছে। তারা দুজন ই হাসিখুশি।


আয়ান: দেখলে অবশেষে আমাদের বিয়ে হলো। কেমনে আমার টাকলা ফুপাকে রাজি করালাম। 


নাফিসা: আমার আব্বুরে টাকলা কইবা না। কইলে জিব ফিড়ে ফেলবো। 


আয়ান: ওকে বাবা!  আর বলবো না।


নাফিসা: ওই মিয়া ক্যামেরাম্যান! কি ছবি তুলতাছেন? ভালো কইরা তুলেন। দাড়ান পোজ দিতাছি।


নাফিসা কমড়ে হাত দিয়ে একটু ঝুকে পোজ দেয়। আয়ানের সানগ্লাস সে নিজে পড়ে। আর বাইরে গান বাজতে থাকে। মেরে সাইয়া সুপার স্টার।


আয়ান কল্পনা জগৎ থেকে বাস্তবে ফিরে আসে। চাইলেও আর এসব হবে না। গল্পে দেখা যায়। যতো যাই হোক, শেষে নায়ক নাইকার মিল হয়। আয়ান ভাবলো তার জীবনটাও যদি গল্পের মতো হতো। তাহলে কতই না সুন্দর হতো।


আয়ান বাইক থামালো নাফিসার সামনে। নাফিসা মোবাইল টিপছিল। সে মোবাইল থেকে চোখ তুলে আয়ানকে দেখলো।


নাফিসা: এসে পড়েছিছ বাইক নিয়ে। বাহ বা। তোকে তো আজ শাহরুখ খানের মতো লাগছে। পুরাই হিরো।


আয়ান: হইছে আর পাম দিস না। এখন বাইককের পেছনে উঠে বস।


নাফিসা বাইকের পেছনে বসলো। আয়ান বাইক স্টার্ট দিল। 


নাফিসা: তোকে আমি একটা মিথ্যে কথা বলে এখানে এনেছি। আসলে আমি শপিংয়ের জন্য তোকে ডাকিনি। কেন জানি বাসায় থেকে মন ভারী হয়ে যাচ্ছিল। ভাবলাম দুরে কোথায়ও ঘুরে আসি। তাই ডেকেছি। বুঝলি?


আয়ান জানে নাফিসা মিথ্যে কথা বলছে। নাফিসা শুধু বিয়ের আগে কিছু মুহুর্ত আয়ানের সাথে কাটাতে যায়। যেগুলো সে স্মৃতি হিসেবে রাখবে।তাই আয়ানকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছে।


নাফিসা: কিরে! বার বার বাইকের ব্রেক দিচ্ছিস কেন? তোর মতলব কী? আমাকে বাইক থেকে ফেলে দিবি?


আয়ান: চুপ করে বসে থাক। কথা বলে বলে আমার কান ঝাঝা করে দিয়েছেন। এখন বল কোথায় ঘুরতে যাবি?


নাফিসা: যেখানে তোর ইচ্ছা হয় নিয়ে যা আমায়। আমি সেখানেই যেতে চাই। যেখানে নিরিবিলি কিছু সময় কাটাতে পারব দুজন মিলে। যেখানে কোন কোলাহল নেই। সেখানে নিয়ে যা আমায়।


আয়ান গ্রামের উচু নিচু সড়ু রাস্তা দিয়ে বাইক চালাচ্ছে। বাইকের গতি সে বাড়িয়ে দিল।


আয়ান নাফিসাকে নিয়ে এসেছে ঢাকা থেকে একটু দুরে গ্রামের নিরিবিলি পরিবেশে। তাদের সামনে একটা পুকুর। পুকুরের পাশে বসার জায়গা। বিকেল হয়ে গেছে। তাই জায়গাটা বসবার জন্য উপযোগী। আয়ান ও নাফিসা পুকুরের পাশে উচু জায়গায় বসলো।


এখন নাফিসা কাদছে। আয়ান জানতো এরকম কিছুই হবে। নাফিসা নিজের কন্ট্রল হারিয়েছে। এতোক্ষন সে ভালো অভিনয় করেছে। কিন্তু! এখন সে আর পারছে না। নাফিসা একহাত দিয়ে আয়ানকে জড়িয়ে ধরলো। আয়ান তাকে বাধা দিল না।


নাফিসা: কেন?  তুই আমার সাথে ধোকা করলি? চল না! আমরা পালিয়ে বিয়ে করি?


আয়ান: আবেগ দিয়ে দুনিয়া চলে না। কাজিনদের ভালোবাসা গল্পতেই ভালোলাগে। বাস্তবে এসব সম্ভব না, পরিবার মেনে নেয় না। আর আমরা না প্রমিজ করেছিলাম। দুজন দুজনের সামনে কোন আবেগ প্রকাশ করব না। দুজন ই নরমাল থাকবো। তাহলে এখন তুই কেন কাদছিছ?


নাফিসা নিজের চোখের জল মুছে। আবার স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করে।


নাফিসা: সরি! আমার ভুল হয়েছে। আর হবে না। এরপর থেকে আমি নিজেকে সামলে নিবো। কিন্তু তুই একটা বার বল। তোর মনে কি আমার জন্য একটুও ফিলিংস কাজ করে না। তুই এটা কেমন করে বলতে পারিস? 


আয়ান: ছোটবেলার প্রেম ছোট বেলাতেই থাকে। মানুষের পছন্দ বদলায়। এখন আর আমার তোকে ভালোলাগে না। এখন আমি আমি অন্য মেয়েকে ভালোবাসি।


আয়ান সব মিথ্যে কথা বলছে। কারন ২ দিন পর নাফিসার বিয়ে। এখন সে চায় ভালোয় ভালো। বিয়েটা হয়ে যাক। সে চায় না। তার একটা ভুলের জন্য ফুপা ফুপি কষ্ট পাক। আয়ান কাউকে কষ্ট দিতে চায় না। কিন্তু সেই সবচেয়ে বেশি কষ্ট পায়। 


নাফিসা: আমি ছোটবেলা থেকে চিনি। তুই আমাকে মিথ্যে কথা বলছিছ। রেহানা মামী আমাকে সব সত্য কথা বলেছেন। তুই সারাদিন ঘরের বাইরে থাকিস। রাত করে ঘরে ফিরিস। এমনকি ভাতও খাস না ঠিকমতো। এসব কার জন্য আমি কী বুঝি না?


আয়ান: হ্যা! আমিও তোকে ভালোবাসি। কিন্তু যেখানে তোর পরিবার মেনে নিবে না। সেখানে এই ভালোবাসার কী মুল্য বল?


নাফিসা: তোর পায়ে পড়ি। যা হবার হবে। চল! দুজনে কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করে ফেলি। তারপর একটা না একটা সময় তো আমার পরিবার ঠিকই মেনে নিবে। আয় নয়, পরশু।


আয়ান: আবেগ দিয়ে সংসার চলে না। আমি বাবা মায়ের বেকার ছেলে। তোকে বিয়ে করে কি খাওয়াবো। আর নিজেই বা চলবো কিভাবে। আমার আব্বু তো আমাকে ঘর থেকেই ধাক্কা দিয়ে বের করে দিবে। তখন কি করবি?


নাফিসা: তখন না হয় আমরা দুজন মিলে ছোট একটা ঘর নিবো। আর দুজন মিলে সংসারের জন্য চাকরী করবো। দুজনে ঘর সাজাবো। তুই প্লিজ একবার রাজি হ।


আয়ান: জীবন এতো সোজা নারে! সোজা না! আমি চাইলেও নিজের পরিবার ছাড়তে পারব না। তুই আমাকে ভুলে যা। আমারো কষ্ট হবে।কিন্তু এটাই আমাদের দুজনের জন্য ভালো।


আজ নাফিসার বিয়ে। বিয়ের সব কাজ ডেকোরেশন নিজ দ্বায়িত্বে করছে আয়ান। তার ফুপা তাকে দেখেই বিরক্ত। সে দেখলো ফুপা ও একজন লোকের  মধ্যে কি যেন কথা হচ্ছে।


ফুপা: আয়ান এখানে কি করছে? ও কি আমার মেয়েকে এখান থেকে পালিয়ে নিয়ে যেতে এসেছে? ওরে আর ওর পরিবারকে যে এতো অপমান করলাম। তাও কি ওদের শিক্ষা হয় না। যত্তসব লো ক্লাস ফ্যামিলি।


লোক : আরে! আপনি এতো রাগ করছো কেন? আয়ান এখানে এসেছে তার ফুপাতো বোনের বিয়ে খেতে। বিয়েটা শেষ হোক! তারপর আসল খেলা হবে।। 


ফুপা: আরে! আপনি জানেন না! এই ছেলে কত বড় হারামী। আমার মেয়ের সাথে প্রেম করে। আরে বেটা আমার মেয়ে তোর কি হয় ফুপাতো বোন। কেউ কি নিজের ফুপাতো বোনের সাথে প্রেম করে বলেন?


লোক: আজকাল এর যুগে এসব স্বাভাবিক ফ্যাশন হয়ে দাড়িয়েছে। আপনি এসব নিয়ে টেনসন করবেন না। বাইরে আমাদের লোক আছে। যদি আয়ান কোন জামেলা করে। তাহলে আমি ফোন দিলেই ওরা এসে আয়ানকে মারতে মারতে নিয়ে যাবে।


ফুপা: আজ আমার মেয়ের বিয়েতে আমি কোন ঝামেলা চাই না। আপনারা যা করার করবেন। এমন ভাবে করবেন। যাতে আমার মেয়ের জামাইয়ের পক্ষের কেউ জানতে না পারে।


লোক: আপনি কোন টেনসন করবেন না। জিনিস আমাদের সাথেই আছে। বিয়েটা শেষ হোক! তারপর আয়ানের ক্যাস এখানেই শেষ করে দিবো। 


ফুপা: এখানে কিছু করার দরকার নেই। যা করবেন সব লোকচক্ষুুর আড়ালে। যাতে কাক পাখিও জানতে না পারে। এই নেন ৫০ হাজার টাকা। কাজ শেষ হলে বাকি ৫০ হাজার পাবেন।


লোক: আচ্ছা! ও যখন বিয়ের পর নদীর পাশ দিয়ে বাসায় যাইবো। তখনই আমাদের দল। ওকে চারিপাশে ঘিরে নেবে। তারপর চাকু দিয়ে কুপিয়ে ওকে মেরে বুড়িগঙ্গায় ভাসিয়ে দিবো।


ফুপা: সাব্বাস! আমি তো এটাই চাই। আমি আবারো বলছি যাতে কেউ না জানতে পারে এটা আমার কাজ। আমি এই ছেলেকে দুই চোখে দেখতে পারি না। খুব বেয়াদব ছেলে। বড়দের সম্মান করে না। জীবনে আমারে সালাম দেয় নাই। নামায পড়ে কি না। এটাও সন্দেহ। খালি পারবো কোন ঘরে কার মেয়ে আছে এসব দেখতে আর প্রেম করতে।


আয়ান নাফিসার ঘরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। নাফিসা আয়ান কে জানালা দিয়ে দেখে ডাক দেয়। আয়ান ঘরে প্রবেশ করে। নাফিসা আয়ানের সামনে আসে। তাকে জড়িয়ে ধরে কাদতে থাকে।


আয়ান: কি করছিছ? ছাড় আমাকে কেউ দেখলে কেলেংকারী হয়ে যাবে। তোর বাবা সমাজে আর মুখ দেখাতে পারবে না।


নাফিসা : এই শেষবার তোকে জড়িয়ে ধরে একটু কাদতে দে। আর তো তোকে পাবো না। তোর শরীরের ঘ্রানটাও আর নিতে পারবো না। তাই আজ শেষবারের জন্য আমাকে না বলিস না।


আয়ান: দেখ! ছাড় বলছি। এসব ভালো হচ্ছে না। 


নাফিসা: আগে বল তুই আমাকে ভালোবাসিস। তাহলে তোকে ছেড়ে দিবো।


আয়ান: আচ্ছা! যা তোকে ভালোবাসি। এবার তো ছেড়ে দে। প্লিজ। 


নাফিসা আয়ানকে ছেড়ে দিল। আয়ান মাটিতে পড়ে গেল। সেখান থেকে সে আবার উঠে দাড়ালো।


নাফিসা: যা তোকে জীবনের জন্য ছেড়ে দিলাম। এখন আর আমাকে তোর দরকার পড়বে না। 


আয়ান: হ্যা! ঠিকই বলেছিছ। তোকে আর আমার দরকার পড়বে না। আমি শুধু তোর সাথে টাইম পাশ করেছিলাম। আমার ভালোবাসা ছিল অভিনয়।


নাফিসা: কেন? আমাকে এসব কথা বলে কষ্ট দিচ্ছিস। আমাকে তুই কষ্ট দিস। এটা ঠিক আছে। তুই আমাকে কষ্ট দিয়ে তুই কেন কষ্ট পাচ্ছিছ? হ্যা! এটার কারন কী?  আমি বুঝি না। আমি এতোই বোকা?


এরকম সময় ঘরে ঢুকলো ফুপা।


ফুপা: নাফিসা মা রেডি হয়েছো? তোমার জন্য বাইরে সবাই অপেক্ষা করছে। এখনই নিচে যাও। আর আয়ান দাড়াও। তোমার সাথে আমার জরুরি কথা আছে।


নাফিসা তার বাবাকে ভয় পায়। তাই কোন কথা না বলে সিড়ি দিয়ে নিচে নেমে গেল। ঘরে এখন শুধু আয়ান ও তার ফুপা। 


আয়ান: জ্বী! ফুপা বলেন। কি বলবেন?


ফুপা: তুই এখানে কেন এসেছিছ? আমার মেয়েকে ভুল বুঝিয়ে এখান থেকে নিয়ে যেতে তাই না?


আয়ান: কিসব বলছেন ফুপা! আমি কেন ওকে পালিয়ে নিয়ে যাবো। ও তো আমার ফুপাতো বোন।


ফুপা: তোকে আর নাটক করতে হবে না। তুই এখান থেকে চলে যা। আমি এটাই চাই।


আয়ান: একবার আমি নাফিসার বরকে সামনা সামনি দেখতে চাই। দেখেই চলে যাবো.


ফুপা: কেন? ওর বরকে কি তুই খুন করবি? তোর কথা বার্তা আমার কাছে ঠিক মনে হচ্ছে না। তুই বেরিয়ে যা আমার বাসা থেকে।


আয়ান: ফুপা! আপনি শুধু শুধু আমাকে সন্দেহ করছেন। আমি কি এতোই খারাপ। যে মানুষ হত্যা করবো।


এমন সময় আয়ানের প্যন্টের পেছন থেকে ছুড়িটা নিচে পড়ে গেল। আর সেটা দেখে ফেলল তার ফুপা।


ফুপা: আমি যা সন্দেহ করেছি। তুই দেখি তাই করতে এসেছিছ। 


ছুড়িটা হাতে তুলে নিল আয়ান। একটা সুইচগিয়ার। বোতাম টিপলে চাকু বের হয়ে আসে।

আয়ান নিঃশব্দে হাসছে।


আয়ান: ফুপা! এটা তো আমি ফল কাটার জন্য এনেছি। তবে দরকার পরলে অন্যকিছুও কাটতে পারি....


ফুপা: তোকে আমি উচিত শিক্ষা দিবো। দাড়া আমি এখনই ওদের কল করছি।


আয়ানের ফুপা কাকে যেন ফোন করতেই ঘরে পাচ ছয়জন ছেলেরা ঢুকলো। তাদের সবার মুখেই কালো রুমাল পেচানো। তাই তাদের মুখ দেখা যাচ্ছে না। একজন আয়ানের মুখের ওপর শ্প্রে করলো আর আয়ান অজ্ঞান হয়ে গেল।


চোখ খুলতেই আয়ান দেখলো। তাকে গাছের সাথে বেধে রাখা হয়েছে। তার মাথায় প্রচন্ড যন্ত্রনা হচ্ছে। শরীরের হাতের কনুই থেকে টুপ টুপ করে রক্ত পড়ছে। তার সামনে একজন লোক দাড়িয়ে। লোকটার মুখ কালো রুমাল দিয়ে ঢাকা। তাই শুধু চোখ দেখা যাচ্ছে। পুরো মুখ দেখা যাচ্ছে না।


লোক: তোর ফুপা আমাকে ভাড়া করেছে তোকে মেরে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার জন্য। এই কাজের জন্য আমি ১লক্ষ টাকা পাবো। এটা দিয়ে আমি আমার মেয়ের অপারেসন করাতে পারবো। তাই তোকে মারাটা আমার কাছে ইমপর্টেন্ট।


আয়ান: আর আমি যদি সেই ১ লাখ টাকা দেই আপনাকে। তাহলে কী? আপনি আমাকে ছেড়ে দিবেন।?


লোক: না রে! আমি লোকটা খুবই খারাপ। তবে নিজের ওয়াদা পুরন করি। বুঝলি। আমি কথা দিয়েছি তোর ফুপাকে আর আমি কথার খেলাপ করি না।


লোকটা আয়ানকে গাছ থেকে দড়ি ছাড়িয়ে একটা বস্তার মধ্যে ভড়লো। আয়ানকে আগেই গাছের সাথে বেধে অনেক মারা হয়েছে। তাই তার শরীরের লড়াই করার মতো আর শক্তি নেই। লোকটা আয়ানের বস্তার মুখ দড়ি দিয়ে বাধলো। তারপর সেই দড়ির মাথায় ১টা ইট বেধে দিল। যাতে বস্তা ওপরে ভেসে না উঠে। কতমানুষকে এভাবে বস্তায় ভরে বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেয়। তার হিসাব কেই বা রাখে। লোকটা আয়ান কে ফেলে দিল বুড়িগঙ্গা নদীতে। লোকটার কাজ!


( সমাপ্ত)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পিচ্চি বউ - পর্ব ২৯

 আমি জেরিনকে বললাম, আবারো তুমি প্যন্টে হিসু করে দিয়েছো?  জেরিন ঘুমঘুম চোখে বলল, এটা হিসু না। লাইট অন করেন। আমি লাইট অন করলাম। আর অবাক হয়ে তার সাদা পাজামার দিকে তাকালাম। তার সাদা পাজামা পুরো লাল হয়ে আছে। আমার  আন্ডারওয়ারেও কিছু লাল দাগ লেগেছে।  আমি ভয়ে আতংকিত হয়ে জেরিনের গালে দুহাত হাত রেখে  বললাম , ও মাই গড। তোমার রক্ত বের হচ্ছে কেন? জেরিন বলল, এমন নাটক করতাসেন কেন? ড্রয়ার থেকে প্যাড এনে দেন।  আমি ড্রয়ার থেকে প্যাড এনে দিলাম।  আমি বললাম, তোমার কি কোথাও কেটে গেছে। না হলে রক্ত বের হচ্ছে কেন? জেরিন রেগে বলল, ফাজিল কোথাকার বুঝেন না আমার পিরিয়ড হচ্ছে। এই কথা শুনে আমি জেরিনকে জড়িয়ে ধরলাম। তারপর কানে কানে বললাম, তোমার কি খুব কষ্ট হচ্ছে? পেট ব্যথা করছে?  <amp-auto-ads type="adsense"         data-ad-client="ca-pub-9645388120151436"> </amp-auto-ads> এদিকে জেরিন দেখি খুব নরমাল আছে। যেন কিছুই হচ্ছে না তার। ইরা যখন বলেছিল তার মিন্স হচ্ছে। তখনই ইন্টারনেটে সার্চ দিয়েছিলাম যে মিন্স হলে মেয়েদের কেমন ফিল হয়। সেখানে পড়লাম মিন্স হলে মে...

খালাতো বোনের সাথে প্রেম / রোমান্টিক প্রেমের গল্প / Rudro Siyam

মা যখন বললেন যে আমার বিয়ে হবে আমার খালাতো বোনের সাথে। সে কথা শুনেই আমি ভয়ে বাসে করে কক্সবাজার চলে আসলাম। এখানে একটি হোটেলে উঠেছি নিজেকে লুকিয়ে রাখার জন্য।  আমাকে পেলেই মা-খালা মিলে বিয়ে দিয়ে দিবে। তাই কয়েকদিন লুকিয়ে থাকি। যখন সুরভীর বিয়ে হয়ে যাবে। তখন আমি আবার বাড়ি চলে যাবো। হ্যা! সুরভী ই আমার খালাতো বোনের নাম। এবার ক্লাস টেনে উঠেছে আর তাকে বিয়ে দিয়ে আমার ঘাড়ে চাপানোর প্লান করছে আমার মা আর খালা।  হোটেল রুমে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ কলিংবেলের শব্দে তড়াক করে উঠে। দরজা খুলতেই দেখি একটা ফুলের তোড়া হাতে কে যেন দাড়িয়ে আছে। ফুলটার গন্ধ নিতেই আমি অজ্ঞান হয়ে গেলাম। জ্ঞান ফিরলে দেখি আমার হাত,পা বাধা করে আমাকে গাড়িতে করে কোথায়ও যেন নিজে যাওয়া হচ্ছে। তার মানে কি আমাকে কিডন্যাপ করা হয়েছে। গাড়ি যে চালাচ্ছে। সে রাকিব। আমার বন্ধু! রাকিব: দোস্ত! টেনসন করিস না! লাইফে একবার না। একবার তো বিয়ে করতেই হবে। বিয়ে থেকে পালালে হবে?  আমাদের ধর্মে তো বিয়ে করা ফরজ। তাহলে তুই পালিয়ে বেড়াচ্ছিছ কেন? আমি: তুই কিভাবে জানলি যে আমি কক্সবাজারের হোটেলে আছি? তোকে কে খবর দিল? রাকিব: আরে! বেটা! এখন ইন্টারনেটের যুগ। তুই...

প্লেবয় লাভ স্টোরী) রোমান্টিক প্রেমের গল্প/ রুদ্র সিয়াম

শামীম: রুদ্র। তুই একটা প্লেবয়। তুই এতো মেয়েকে কিভাবে পটিয়ে ফেলিস বুঝি না। যেখানে আমাকে কোন মেয়েই পাট্টা দেয় না। দোস্ত। মেয়ে পটানোর টিপস গুলো আমাকে একটু বল। আমিও তোর মতো প্লে বয় হতে চাই। আমি মোবাইলের স্ক্রিন থেকে চোখ সড়িয়ে তাকালাম শামীমের দিকে। বেচারা এতোবার রিজেক্ট খেয়েছে। এখন আমার কাছ থেকে মেয়ে পটানো শিখতে চায়। আমি: দেখ একটা মেয়ের পেছনে কম হলেও ৪/৫ টা ছেলে ঘোরে। এখন যদি তুইও ঘুরিস। তাহলে সেই ৪টা ছেলে আর তোর মধ্যে কি তফাত থাকলো? তোকে হতে হবে স্পেশাল। তাহলেই দেখবি মেয়েরা তোর প্রতি আগ্রহ দেখাবে আর তোর পেছন পেছন ঘুরবে। বুঝলি? শামীম: আচ্ছা। চেষ্টা করে দেখব। আর কোন টিপস নাই।  আমি: মেয়েদের পাট্টা দিবি না। তাহলে মেয়েরা তোকে পাট্টা দিবে। যত সুন্দর মেয়েই হোক। এমন ভান করবি তোর সামনে কিছুই না। শামীম: কিন্তু আমার তো মেয়েদের সামনে গেলেই হাত পা কাপে। আর টয়লেট লাগে বার বার।  আমি: এরকম হলে তুই কখনই মেয়ে পটাতে পারবি না। আজীবন সিঙেল ই থাকবি। এরকম সময় আমাকে সুনেরাহ কল দিল। আমি কল রিসিভ করলাম। আমি: (ধমক দিয়ে) এই সময়ে কল দিয়েছো কেন? জানো না আমি ব্যস্ত থাকি। তোমাকে বলেছি রাত ১২ টার পর কল দিবা। কত ম...