সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

বাসর রাতে বিড়াল মারা/রোমান্টিক প্রেমের গল্প/Rudro siyam

 "বাসর রাতের বিড়াল মারা"


[ ১ম পর্ব ]


@রুদ্র_সিয়াম 


এই দিনের জন্য প্রায় ২৬ বছর অপেক্ষা করেছে শামীম। আজ সেই দিন। আজ তার বাসর রাত। মেয়ে মাশ-আল্লাহ ফর্সা ও সুন্দরী। নাম আখি। বয়স ১৬ তে পড়েছে। মেয়ে খুবই লাজুক স্বভাবের। 


যখন শামীম আখিকে দেখতে তার বাসায় যায়। তখন লজ্জায় তার দিকে তাকাচ্ছিল ও না। শামীম নিজেও একটু লজ্জা পায়।


শামীমকে ধাক্কা মেরে বাসর ঘরে ঢুকিয়ে দিল আহাদ। শামীম নিজের চুল হাত দিয়ে ঠিক করে নিল। তারপর সে দেখলো তার নববিবাহিত বউ আখি ঘোমটা দিয়ে বসে আছে। যখন ই শামীম তার সামনে গিয়ে ঘোমটা খুলল। তখনই শামীম দেখলো আখির চোখ ট্যাগরা হয়ে গেছে। সে পুরুষের গলায় বলছে, এই মেয়েকে আমি ভালোবাসি। তুই একে বিয়ে করলি কেন?  কথাটা বলেই শামীমের আসল জায়গায় লাথি মারে।


এক লাথি খেয়েই শামীম ঘর থেকে বেরিয়ে রুদ্রকে কল দেয়। ফোনে শামীম বলে,  দোস্ত! বাচা আমারে। তোর ভাবির ওপর জ্বিন আছে। রুদ্র বলে, দাড়া।  আসতেছি।


এদিকে শামীম চলে যাওয়ার পর আখি হো হো করে হাসে। আর তার বন্ধু জেরিনকে কল করে।


আখি বলে, দোস্ত! আজকে তো বরের ডাব ফাটিয়ে দিয়েছি লাথি মেরে আর জ্বিনের অভিনয় করে। বর ভাবছে সত্যি সত্যি ই আমার ওপর জ্বিন আছে।


জেরিন বলে, ঠিক করেছিছ। না হলে রাতের বেলা ও তোকে ব্যথা দিতো। আমাকে আমার বর বিয়ের রাতে যা করেছে। আমার বর অনেক খারাপ। ও আমার সাথে ফিজিক্যাল রিলেসন করেছে।


[ এখানে আখি আর জেরিন ও আখি। ছোটবেলার বন্ধু। কিন্তু তাদের সেক্স সম্পর্কে কোন ধারনা নেই ]


এদিকে রুদ্র লুঙি ধরে দাড়িয়ে আছে।


রুদ্র বলল,  কি হয়েছে শামীম। ওটা ধরে দাড়িয়ে আছিছ কেন?


শামীম বলল, আর বলিস না। যে লাথি দিছে দম বের হয়ে যেতো আরেকটু হলে।




রুদ্র বলল, চল। দোস্ত। তান্ত্রিককে ফোন দিয়ে আসতে বলি। ন্যাংটা বাবাকে।


শামীম বলল, তাড়াতাড়ি কল দে।


রুদ্র কল দিলো।


"হ্যালো!  ল্যাংটা বাবা ২০০ টাকা দিব হবে? / না হলে ৩০০ / আচ্ছা ৫০০ দিব সাথে মালও থাকবে।  ওকে শামীমের ঘরের সামনে আসুন। "


শামীম ভয়ে কাপতেছে। শামীম বলল, দেখ! দোস্ত। কি মেয়ে বিয়ে করলাম। এই জ্বিন যদি এবার আমারে মাইয়ারায়? আমি তো এখনো ভার্জিন।


রুদ্র শামিমকে শান্তনা দেয়। বলে, কান্দিস না দোস্ত। সব ঠিক হয়ে যাবে।


এদিকে আখি আবার জেরিনকে কল দেয়।


জেরিন বলল, কিরে।  আবার কল করলি?


আখি বলল, ঘুম আসতেছে না। বেচারার জন্য মায়া লাগছে। এখনো ঘরে ঢুকছে না। 


জেরিন বলল, আহারে। এখনই স্বামীর জন্য এতো মায়া। ফোন রাখ।


আখি বলল, দোস্ত।  রাগ করিস না। প্লিজ।


ন্যাংটাবাবা তার লাল পুটলি পাটলি নিয়ে হাজির। শামীম তাকে দেখে সালাম দিল।


ন্যাংটা বাবা চিল্লায়া বললেন, ন তস্য প্রতিমা আস্তি। বেদ বেদয়ং নমঃ।


রুদ্র বলল,  এসবের অর্থ কি বাবা?


ন্যাংটা বাবা বললেন, জানি না রে। এমনেই মুখস্ত করে রেখেছি।


রুদ্র গুগলে সার্চ দিল এর মানে কি লিখে ?


ন্যাংটাবাবা কে ঘর দেখিয়ে দিল। ন্যাংটাবাবা বললেন, তোমরা বাইরে থাকো। আমি কাজ সেরে আসি। ন্যাংটাবাবা ঘরে ঢুকে দরজা লাগালো।


আখি পুরো রেডি হয়ে আসে। আবার ভয় দেখানোর জন্য। সে পুরো ঘর অন্ধকার করে দিয়েছে। আর একটা মোমবাতী ধরিয়েছে। তার চুলগুলো সামনের দিকে এনে মুখ ঢেকে রেখেছে। যখনই সে ন্যাংটাবাবাকে ঘরে ঢুকতে দেখলো। তখনই তার একটিং শুরু হয়ে গেল। সে বলতে লাগলো।  ' এই ন্যাংটা। তুই যে ওই যে কিশোরী মেয়ের সাথে যে আকাম করেছিছ। তার জন্য কি আমার কাছে মাফ চেয়েছিছ?' 


ন্যাংটাবাবা ভয় পেয়ে গেলেন। কারন এটা তিনি ছাড়া কেউ জানে না। ন্যাংটাবাবা আখির পা ধরে মাফ চেয়ে বলল, দুর্গামা। আমি তোমাকে চিনতে পারিনি। আমাকে ক্ষমা করো।


আখি কুংফু ক্যারাটির একটা মাইর দিয়ে বলল, যা তোকে ক্ষমা করলাম। আর যাতে না দেখি।




ন্যাংটাবাবা পা টেনে টেনে ঘর থেকে বের হলেন। বাইরে রুদ্র আর শামীম। ন্যাংটাবাবা কে দেখে এগিয়ে গেল।


শামীম বলল, কাজ কি হয়েছে বাবা?


ন্যাংটাবাব বললেন,  দেখ। আমার উল্টো কাজ সেরে দিসে।


রুদ্র বলল, আপনার ও কি ওইটা ফাটায় দিছে?


ন্যাংটাবাব বললেন, ওইটার থেকেও খারাপ কিছু। ( বলে টাকা না নিয়েই সেখান থেকে চলে যেতে লাগলেন।) 


এদিকে একা ঘরে ভুত সেজে থাকা আখি। নিজের অভিনয়ে নিজেই হাসছে। আবার জেরিনকে কল করলো।


জেরিন বলল, আবার। এখন রাত ২টা কল রাখ। আমার স্বামী খুব বিরক্ত হচ্ছে। 


আখি বলল, কেন? বিরক্ত হচ্ছেন?


জেরিন বলল, খেলার মাঝে যেকেউ ডিস্টার্ব করলে তো বিরক্ত হবেই। (বলে ফোন রেখে দিলো।)



শামীন রুদ্রকে বলল, এবার বিষয়টা ঘরে জানাতেই হবে। নতুন বউয়ের ওপর জ্বিন। বিড়ালও মারতে পারলাম না।


রুদ্র বলল, এতো আপসেট হচ্ছিস কেন? ঘরে জানালে এই বউ বের করে দিবে। তখন যদি কালো বউ আসে।


শামীম কথাটা ভেবেই ভয় পায়। " না। না। থাক! তাহলে আমরাই কিছু করি। "


এমন সময় সেখানে উপস্থিত হলেন রাজিব ভাই (শামীমের বড় ভাই)। তিনি সব শুনে ফেললেন। আর বললেন, এখন ই সবাইকে বলে দিব তোর বউয়ের ওপর জ্বিন আছে।


শামীম রাজিবের পায়ে পড়ে গেল। আর বলতে লাগলো, প্লিজ! ভাই। এমন করিস না। এটা করলে আমার বউকে বাসা থেকে বের করে দিবে।


রাজিব বলল, পা ছাড় আমার।


রাজিব তাকে টানতে টানতেই ঘরের দিকে চিল্লাতে চিল্লাতে এগোলো।


" আব্বা! আম্মা।  শামীমের বউরে জ্বিনে ধরছে। তোমরা ঘর থেকে বের হও সবাই। "


(সমাপ্ত]


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পিচ্চি বউ - পর্ব ২৯

 আমি জেরিনকে বললাম, আবারো তুমি প্যন্টে হিসু করে দিয়েছো?  জেরিন ঘুমঘুম চোখে বলল, এটা হিসু না। লাইট অন করেন। আমি লাইট অন করলাম। আর অবাক হয়ে তার সাদা পাজামার দিকে তাকালাম। তার সাদা পাজামা পুরো লাল হয়ে আছে। আমার  আন্ডারওয়ারেও কিছু লাল দাগ লেগেছে।  আমি ভয়ে আতংকিত হয়ে জেরিনের গালে দুহাত হাত রেখে  বললাম , ও মাই গড। তোমার রক্ত বের হচ্ছে কেন? জেরিন বলল, এমন নাটক করতাসেন কেন? ড্রয়ার থেকে প্যাড এনে দেন।  আমি ড্রয়ার থেকে প্যাড এনে দিলাম।  আমি বললাম, তোমার কি কোথাও কেটে গেছে। না হলে রক্ত বের হচ্ছে কেন? জেরিন রেগে বলল, ফাজিল কোথাকার বুঝেন না আমার পিরিয়ড হচ্ছে। এই কথা শুনে আমি জেরিনকে জড়িয়ে ধরলাম। তারপর কানে কানে বললাম, তোমার কি খুব কষ্ট হচ্ছে? পেট ব্যথা করছে?  <amp-auto-ads type="adsense"         data-ad-client="ca-pub-9645388120151436"> </amp-auto-ads> এদিকে জেরিন দেখি খুব নরমাল আছে। যেন কিছুই হচ্ছে না তার। ইরা যখন বলেছিল তার মিন্স হচ্ছে। তখনই ইন্টারনেটে সার্চ দিয়েছিলাম যে মিন্স হলে মেয়েদের কেমন ফিল হয়। সেখানে পড়লাম মিন্স হলে মে...

খালাতো বোনের সাথে প্রেম / রোমান্টিক প্রেমের গল্প / Rudro Siyam

মা যখন বললেন যে আমার বিয়ে হবে আমার খালাতো বোনের সাথে। সে কথা শুনেই আমি ভয়ে বাসে করে কক্সবাজার চলে আসলাম। এখানে একটি হোটেলে উঠেছি নিজেকে লুকিয়ে রাখার জন্য।  আমাকে পেলেই মা-খালা মিলে বিয়ে দিয়ে দিবে। তাই কয়েকদিন লুকিয়ে থাকি। যখন সুরভীর বিয়ে হয়ে যাবে। তখন আমি আবার বাড়ি চলে যাবো। হ্যা! সুরভী ই আমার খালাতো বোনের নাম। এবার ক্লাস টেনে উঠেছে আর তাকে বিয়ে দিয়ে আমার ঘাড়ে চাপানোর প্লান করছে আমার মা আর খালা।  হোটেল রুমে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ কলিংবেলের শব্দে তড়াক করে উঠে। দরজা খুলতেই দেখি একটা ফুলের তোড়া হাতে কে যেন দাড়িয়ে আছে। ফুলটার গন্ধ নিতেই আমি অজ্ঞান হয়ে গেলাম। জ্ঞান ফিরলে দেখি আমার হাত,পা বাধা করে আমাকে গাড়িতে করে কোথায়ও যেন নিজে যাওয়া হচ্ছে। তার মানে কি আমাকে কিডন্যাপ করা হয়েছে। গাড়ি যে চালাচ্ছে। সে রাকিব। আমার বন্ধু! রাকিব: দোস্ত! টেনসন করিস না! লাইফে একবার না। একবার তো বিয়ে করতেই হবে। বিয়ে থেকে পালালে হবে?  আমাদের ধর্মে তো বিয়ে করা ফরজ। তাহলে তুই পালিয়ে বেড়াচ্ছিছ কেন? আমি: তুই কিভাবে জানলি যে আমি কক্সবাজারের হোটেলে আছি? তোকে কে খবর দিল? রাকিব: আরে! বেটা! এখন ইন্টারনেটের যুগ। তুই...

প্লেবয় লাভ স্টোরী) রোমান্টিক প্রেমের গল্প/ রুদ্র সিয়াম

শামীম: রুদ্র। তুই একটা প্লেবয়। তুই এতো মেয়েকে কিভাবে পটিয়ে ফেলিস বুঝি না। যেখানে আমাকে কোন মেয়েই পাট্টা দেয় না। দোস্ত। মেয়ে পটানোর টিপস গুলো আমাকে একটু বল। আমিও তোর মতো প্লে বয় হতে চাই। আমি মোবাইলের স্ক্রিন থেকে চোখ সড়িয়ে তাকালাম শামীমের দিকে। বেচারা এতোবার রিজেক্ট খেয়েছে। এখন আমার কাছ থেকে মেয়ে পটানো শিখতে চায়। আমি: দেখ একটা মেয়ের পেছনে কম হলেও ৪/৫ টা ছেলে ঘোরে। এখন যদি তুইও ঘুরিস। তাহলে সেই ৪টা ছেলে আর তোর মধ্যে কি তফাত থাকলো? তোকে হতে হবে স্পেশাল। তাহলেই দেখবি মেয়েরা তোর প্রতি আগ্রহ দেখাবে আর তোর পেছন পেছন ঘুরবে। বুঝলি? শামীম: আচ্ছা। চেষ্টা করে দেখব। আর কোন টিপস নাই।  আমি: মেয়েদের পাট্টা দিবি না। তাহলে মেয়েরা তোকে পাট্টা দিবে। যত সুন্দর মেয়েই হোক। এমন ভান করবি তোর সামনে কিছুই না। শামীম: কিন্তু আমার তো মেয়েদের সামনে গেলেই হাত পা কাপে। আর টয়লেট লাগে বার বার।  আমি: এরকম হলে তুই কখনই মেয়ে পটাতে পারবি না। আজীবন সিঙেল ই থাকবি। এরকম সময় আমাকে সুনেরাহ কল দিল। আমি কল রিসিভ করলাম। আমি: (ধমক দিয়ে) এই সময়ে কল দিয়েছো কেন? জানো না আমি ব্যস্ত থাকি। তোমাকে বলেছি রাত ১২ টার পর কল দিবা। কত ম...