গল্প: কাজের মেয়ের সাথে প্রেম
লেখক: রুদ্র সিয়াম
আমি: ওই জড়িনা। তোর জামা খুল। নয়তো ছিড়ে ফেলবো।
জরিনা ভয়ে নিজের জামা খুললো। তারপর আমার পাশে এসে শুয়ে পড়লো। । আমি তার হাতটা ধরলাম ধরে । নিজের বুকের মাঝে রাখলাম। জড়িনা ভয় পাচ্ছে। আমি তাকে সাহস দিলাম।
আমি: ভয় পাস না আমি তোর সাথে আছি কেউ কিছু জানবে না।
জড়িনা: প্লিজ আমার সাথে এরকম করেন না আমাকে ছাইড়া দেন আমি বাসায় যাব।
আমি: বেশি না একবার করেই আমি তোকে ছেড়ে দেবো ঠিক আছে আর । তোকে ভালোবাসি আর ভালবাসলে তো এসব করতে হয় এসব স্বাভাবিক ব্যাপার।
জড়িনা: আমার কেন জানি ভয় লাগছে যদি কেউ জেনে যায় তখন কি হবে?
আমি: দূর পাগলী কেউ জানবে না একথা শুধু তোর আর আমার মধ্যে গোপন থাকবে।
কথাটা বলে ওকে জড়িয়ে ধরলাম আর তারপর চুমু খেতে শুরু করলাম।
আমি রনি বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে। দুজনেই বাইরে চাকরি করে আমি বাসায় একা থাকি। আর আমার কোন বন্ধু-বান্ধবী নেই। সারাদিন আমি ঘরের মধ্যে থেকে গেম খেলি আর মোবাইল টিপি। এবার আমি এসএসসি দিয়েছি। যার কারণে আগামী দুই মাস বন্ধ। । বাসায় একা থাকতে থাকতে দম বন্ধ হয়ে আসে। একদিন আমি দেখতে পাই একটি পর্নোগ্রাফির বিজ্ঞাপন ওটা ক্লিক করার সাথে সাথে পর্নোগ্রাফিতে ঢুকি পড়ি। তারপর থেকে নিয়মিত পর্নোগ্রাফি দেখার কারণে আমার মস্তিষ্ক বিকৃত হয়ে যায়। । তখন আমার নজর পড়ে আমাদের কাজের মেয়ে জড়িনার দিকে। ।
ল্যাপটপ টিপার সাথে সাথে আমি একটু নজর রাখতাম কাজ করে না করে আমি সব থেকে নজর রাখতাম। ওর মাকে বয়স ১৫ ১৬ হবে স্কুল। পড়াশোনা করেনি তাই মুখে অভাবের ছাপ। ফর্সা একটা মেয়ে যাকে দেখলে ক্রাস খাবে। ও যখন ঘর ঝাড়ু দিচ্ছিল তখন আমি লুকিয়ে লুকিয়ে ওর দিকে তাকাতাম ওর শরীরের উপভোগ করতাম দেখে। ও হয়তো বুঝতে পারে ওড়না দিয়ে নিজে বুক থাকত।
একদিন ও আমার ঘর ঝাড়ু দিচ্ছিল তখন আমি ওকে জিজ্ঞাসা করি তোর কি কোন বয়-ফ্রেন্ড আছে?
জড়িনা: (হেসে) না গো ভাইজান আমার কোন বয়ফ্রেন্ড নাই আর আমার যে চেহারা। আমাকে আবার কে পছন্দ করবে বলেন?
আমি: তোর চেহারা তো ভালই। যেকেউ তোকে দেখলে পছন্দ করবে।
জড়িনা: কি যে বলেন ভাইজান আমার লজ্জা করে।
আমি: তোর বয়সের মেয়েরা তো প্রেম করে। তুই কেন করিস না। তোরও করা উচিত।
জড়িনা: আমার লগে আবার কে কে প্রেম করবো বলেন। আমি তো একটা সামান্য কাজের বুয়া আরে এদিকে কেউ সম্মানও করে না কেউ দেখতেও পারে না।
কথাটা শুনে আমার মন খারাপ হলো। আমি মজার ছলে বলে ফেললাম।
আমি: তোকে প্রপোজ করি তুই কি রাজি হবি? দুজনে মিলে হাত ধরে ফুচকা খাবো সিনেমা হলে সিনেমা দেখব।
জড়িনা লজ্জা পেয়ে চলে গেল। পরেরদিন আবার আমার ঘর পরিষ্কার করছিল। আমি খাটে বসে ল্যাপটপ চালাচ্ছিলাম।
আমি: কিরে জরিনা গতকালকে প্রশ্ন উত্তর না দিয়ে চলে গেলি। মানে তোর কি আমাকে তো পছন্দ না? তা সরাসরি আমাকে বললেই পারতি এবাবে চলে যাওয়ার কোম মানে হয় না।
জড়িনা: আরে ভাই সেরকম কোন ব্যাপার না আমার অনেক কাজ আছে আর ঘরে আমার মা খুব অসুস্থ বাবা অনেক আগেই মারা গেছে। আমার কোন ভাইও নেই যে আমার কাজ করে আমাদের খাওয়াবে।
আমি: এত কাজ থাকতে তুই বাসা বাড়ির কাজ করিস কেন? গার্মেন্টস ও তো কাজ করতে পারিস তাই না? তোর জন্য না আমার খুব মায়া হচ্ছে। আমি তোকে ১০০০ টাকা দিয়ে সেটা তুই নিয়ে যা।
জড়িনা: না ভাই আমি এটা নিতে পারবো না সরি আমাকে ক্ষমা করবেন।
আমি: এত বাহানা দেখাস কেন আরে নিতে বলছি। আমি তোকে ভালেবেসে দিলাম। যা এখন তো নিবি?
জড়িনা মুচকি মুচকি হাসছে। তারপর আমি থেকে তাকে ১০০০ টাকা নোট বের করে দিলাম । সে সেটা মাখা নিচু কিরে করে নিয়ে নিল।
পরের দিন আমি খোকার সাথে ফেসবুকে চ্যাট করছিলাম।
আমি: দোস্ত একটা হেল্প করবি মেয়ে পটা কিভাবে একটু বলবি আমি তো আসলে পারিনি এইসব।
খোকা: তুই আবার কোন মেয়ে পড়লি এখনই বল সামনে এনে দেবো । মামা প্রেমে পড়ছোস তাহলে আগে ট্রিট দে পরে দেখতেছি ব্যাপারটা।
আমি: পরে তোকে খাওয়াবো আগে বল মেয়ে পটানোর টিপস গুলো কি কি?
খোকা: মেয়েদের মন পাওয়ার জন্য তাকে ইমপ্রেস করতে হবে। তার প্রশংসা করতে হবে। তাকে গিফট করতে হবে। ফ্রেন্ডশিপ করবি পছন্দ করিস বলবি তারপর আই লাভ ইউ বলবি।
আমি: দূর এত সহজ নাকি মেয়ে পটানো তাহলে তো সব মেয়ে পড়তো। আমার মেয়েদের সামনে গেলে হাত পা কাপে।
খোকা: শালা এত ভীতু হলে মেয়ে পটাবি কিভাবে? তোকে নিজের প্রতি কনফিডেন্স আনতে হবে। তারপর ওর সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বলে দিবি তোর মনের কথা।
আমি: মামা যদি না করে দেয় তখন তখন কষ্ট পাবো। এর থেকে ভালো হয় যে আমি প্রপোজ ই করব না।
খোকা: সেটা তোর ইচ্ছা তুই যা ইচ্ছা কর । আর আমার কি সব বলার কোন দরকার নাই। ওকে বাই। আমার ফোনে চার্জ শেষ।
আমি: আমি দেখি যদি কিছু করতে পারি। তাহলে তোকে জানাবো। আল্লাহ হাফেজ। দোস্ত!
কলিংবেলের শব্দে উঠে দরজা খুললাম। দেখি জরিনা সামনে দাঁড়িয়ে আছে । মাথা নিচু করে তার হাত পিছনে । মনে হয় আমার জন্য ফুল নিয়ে এসেছে। । হালকা হালকা করে কাঁপছে সে। । পেছন থেকে একটা গোলাপ ফুল বের করে আমার সামনে এগিয়ে দিল।
জড়িনা: আমি আপনাকে পছন্দ করে আই লাভ ইউ। আমি জানি আপনি আমাকে পছন্দ করেন। দয়া করে আমার ফোনটা গ্রহণ করুন।
এ যেন মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি । আমি তার হাত থেকে ফুলটা নিলাম। তারপর আমি তাকে বললাম। আমিও তোমাকে ভালবাসি কথাটা বলে জড়িয়ে ধরলাম তাকে।
রাতে খাবার খেতে বসেছি টেবিলের সামনে। জড়িনা খাবার রান্না করে দিয়েছে। আব্বু আম্মু কাজ থেকে ফিরে আমার সাথে খাবার টেবিলে বসেছে।
আব্বু: তো তোমার দিনকাল কেমন কাটছে রনি? অবসর সময় কেমন উপভোগ করছো । তোমার জন্য আমরা কলেজ ঠিক করছি মিরপুর কলেজ। তোমার ছুটি শেষ হয়ে গেলে তুমি ওখানে চলে যাবে। চাইলে কলেজে ঘুরে এসে দেখতে পারো। একাই তো বসে আছো।
আমি: না বাবা আমি এখন মিরপুর যেতে পারবো না আমার ঘরেই ভালো লাগে একা একা থাকতে।
বাবা: ঠিক আছে তোমার যা ইচ্ছা করো আমি বাধা দেব না। তোমার স্বাধীনতা এই দুই মাস। তারপর তোমাকে আবার সেই পড়াশোনা জগতের ফিরে যেতে হবে । আমরা চাই পড়াশোনা করে ডাক্তার হোও তোমার মায়েরও এটা স্বপ্ন।
মা: শহরে গিয়ে ভালোমতো পড়াশোনা করবি কারো সাথে গ্যাঞ্জাম করবি না। ওখানে নাকি বড়রা রেগিং করে কেউ কিছু বললে চুপচাপ মাথা নিচু করেই চলে আসবি কারো উত্তর দেওয়ার দরকার নেই । কারো সাথে কোন মারামারিও করবি না একদম ভদ্রভাবে চলবি।
বাবা: বুঝলে রনির মা আমি একবার গুলিস্তান গিয়েছিলাম । পরে বাসায় ফিরে এসে দেখি যে আমার পকেট কাটা সব টাকা পয়সা নিয়ে ওরা পালিয়ে গেছে । কেউ কিছু খেতে দিলে খাবি না। ঢাকা শহরে অনেক ছিনতাইকারী ওদের থেকে সাবধান থাকবি। অপরিচিত কেউ ডাক দিলে ওদের সামনে যাবি না । মনে থাকবে তো।
আমি: আরে বাবা আমি এমনি ভয় পাচ্ছি তুমি আরো ভয় যেও না তো ।
মা: আমার বোন তো ঢাকাতেই থাকে ওর বাসায় কি থাকবে ওখানে থেকে পড়াশোনা করতে পারবে কি বলো তুমি রনির বাবা?
বাবা: তোমার সেই বোনের তো একটা মেয়ে ও আছে আর আমার ছিল জীবন সেও জুয়ান তখন যদি কিছু একটা হয়ে যায় তখন কি করবে? । তোমার বোন যদি ওদেরকে এক ঘরে আটকে প্রেম করে বিয়ে দিতে চায় তখন আর ওরা তো ফ্যামিলি অনেক গরীব ওদের কাছে আমি আমার ছেলেকে বিয়ে দিব না।
মা: (রেগে) তোমাকে আর কোন কথা বলতে হবে না চুপচাপ ভাত খাও। ঘরে আসো তখন আমি তোমাকে আসল মজা দেখাবো।
আমি: আমার আর ভালো লাগে না এসব। তোমরা প্লিজ দুজনে আর ঝগড়া করো না । আব্বু তো এটা মজা করে বলেছে।
বাবা: তুই কি চাস তুই কি তোর খালার বাসায় থাকবি নাকি হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করবি?
আমি: আমি আমার খালার বাসায় থাকবো না। কারণ সেখানে আমাকে আপ্যায়ন করা হয় না। আমাকে আদৌ যত্ন করা হয় না। তার থেকে ভালো আমি হোস্টেলে থাকব । কথায় আছে আপন থেকে পরই ভালো।
মা: দেখ বাবা তুই যা করিস বুঝে শুনে করিস। ঠিক আছে। পরে আবার আমাদের দোষ দিস না।
আমি: (রেগে) এসব ফালতু বিষয় নিয়ে আমি আর কোন কথা বলতে চাই না। আমি ঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে থাকলাম।
মা: খাবারটা তো শেষ করে যা।
আমি: (রেগে) তোমাদের খাবার তুমি খাও।
রাতে ঘরে এসে ফেসবুকে ঢুকে খোকাকে মেসেজ দিলাম।
আমি: আমি প্রপোজ করার আগে সে আমাকে প্রপোজ করে দিয়েছে । এযেন মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি।
খোকা: মেয়েটার নাম কি সেটা বলবি? এ কই কি কাজ করে আমাকে একটু খুলে বলতো? । মেয়েটার সাথে তোর কিভাবে পরিচয় হলো?
আমি: সব খুলে বলছি জাস্ট প্রমিস কর কাউকে কিছু বলবি না।
খোকা: আচ্ছা যা কাউকে কিছু বলবো না এখন খুলে বল ব্যাপারটা আসলে কি আর তুই এরকম নার্ভাস কেন?
আমি: আসলে দোস্ত কিভাবে যে বলি আসলে মেয়েটা হচ্ছে আমাদের কাজের মেয়ে জড়িনা।
খোকা: তুই আর কাউকে পেলি না প্রেম করার জন্য তোকে কাজের মেয়ের সাথে প্রেম করতে হলো। তোর উপর তো আমার এখন ঘৃণা লাগছে৷ তোকে বন্ধু বলে পরিচয় দিতে আমার এখন খারাপ লাগবে । তোর পছন্দ যে এত নিচু এত নিচু মানসিকতার। আমি আগে জানতাম না । আগে জানলাম তোকে হেল্প করতাম না। ।আর কখন আমাকে মেসেজ দিবেন এরকম কি এখন থেকে তোর সাথে আমি আর কথা বলবো না।
আমি: আরে দোষ আমার পুরো কথা শুনে না শুনে এত বর্বর করিস না ঠিক আছে? আর ওরা কাজের মেয়ে বলে কি ওরা মানুষ না ওদের কি কোন প্রেম করতে ইচ্ছা করে না?
খোকা: এসব ফিলোসপির কথা অন্য কাউকে কি বল আমাকে বলার দরকার নাই। পৃথিবীতে সাড়ে তিন কোটি মেয়ের মধ্যে কাজের মেয়েকে ভালো লাগলো?
আমি: বেশি বেশি বলে ফেলসিস। ভালবাসার কোন চেহারার ধর্ম এসব দেখে হয় না । ঠিক আছে? কখন কাউকে ভালো লেগে যায়। এটা নিজেও বলা যায় না আর এসব জাতপাত দেখে ভালোবাসা হয় না। ঠিক আছে?
খোকা: আমি যেহেতু তোর বন্ধু তাই আমি তোরে একটা কথাই বলবো যা ভালো মনে হয় কর। ঠিক আছে আমার কাছ থেকে কোন হেল্প পাবি না।
আমি: তুই যদি আমাকে আর জরিনা কে না মেনে নেস। তাহলে তোর মত বন্ধুর আমার দরকার নাই। তুই তোর মত থাক আমি আমার মত থাকবো।
খোকা: তুই সবসময় এক লাইন বেশি বুঝস। আমি কি এটা বলছি। হ্যাঁ। আমি তো বলছি যে আমার দরকার নাই। এসব কিছু বলছি?
আমি: তোর সাথে কথা বলে আমার মুডটাই খারাপ হয়ে গেল। ওকে গুড নাইট।
পরের দিন সকালে ঘুমাচ্ছিলাম জড়িনা আমাকে ডাক দিয়ে ঘুম থেকে উঠালো।লআর হাতে একমগ কফি।
জড়িনা: এই ওঠেন দুপুর 2টা বাজে উঠে গোসল করেন ভাত খান ।এত সকাল পর্যন্ত ঘুমায় না কেউ।
জড়িনার কথা শুনে মনে হচ্ছে সে আমার বউ, আর আমি তার জামাই।
আমি: আরেকটু ঘুমাতে দাও না প্লিজ আমি একটু ঘুমাতে চাই।
কথাটা বলে জড়িনাকে টান মেরে আমার পাশে শুয়িয়ে দিলাম। । তারপর ওর চুল হাত দিয়ে সরিয়ে দিলাম।
জড়িনা: কি করতাছেন আমার শরম লাগে তো। ছাড়েন আমারে এই কাজ করতে দেন।
আমি: প্রেম করলে তো একটু রোমান্স করতে হয় তাই না চলো একটু রোমান্স করি।
জড়িনা: এতই যদি আপনার রোমান্স করার ইচ্ছা আমারে বিয়া করে নেন।
আমি তাকে কুটুকুটু দিলাম।
আমি: বিয়ে তো তোমাকেই করব। আমার পরিবারের বিপক্ষে গিয়ে হলেও আমি তোকে বিয়ে করবো। । আচ্ছা একটা চুমু খাইতো ঠোঁটে যদি কিছু মনে না করিস।
জড়িনা চুপ করে আছে। কোন কথা বলছে না। তার মানে সে রাজি।
আমি আস্তে আস্তে ওর ঠোটের কাছে এসে আলতো করে চুমু খেলাম। শুধু একবার।
আজ শুক্রবার আব্বু আম্মু বাসায় আছে। কেউ অফিসে যায়নি। । এমন সময় দরজায় কলিংবেল বেজে উঠল দরজা খুলে দেখলাম জরিনা দাঁড়িয়ে আছে। আমি তাকে ভিতরে নিয়ে আসলাম। জড়িনা । রান্না করে ভাত রান্না করছে। । নিজের ঘরে খোকার সাথে কথা বলছি ফেসবুকে।
আমি: আমার কাছে একটা প্লান আছে। যার মাধ্যমে আমি তাকে পেতে পারি। প্লান হলো আমি আর জড়িনা একসাথেই নগ্ন হয়ে শুয়ে থাকবো। আম্মু ভাববে আমরা খারাপ কাজ করছি। তারপর আমাদের বিয়ে দিয়ে দিবে। । আইডিয়াতে কেমন আমাকে বল?
খোকা: মামা আইডিয়া তোর জোস মাখন। কিন্তু পরে আবার ধরা পরে মাঝে দিলে আবার কান্দিস না ঠিক আছে?
আমি: আরে আমরা তো ইচ্ছে করে ধরা পড়বো যাতে আমাদের বিয়ে দিয়ে দেয় আর এটাই একমাত্র উপায় তাকে আমার কাছে পাওয়া। । আজ আম্মু আব্বু বাসায় আছে। আমি আজই প্লান তা সফল করতে চাই।
খোকা: আমি আবারো বলবো যা করার চিন্তা করিস তোর বয়স কম। এ বয়সে আবেগ থাকে বেশি আর এসব হচ্ছে ভালোলাগা ভালোবাসা না। তাই এরকম কোন ভুল ডিসিশন নিস না যাতে করে তোকে আফসোস করতে হয়।
আমি: আমি যা পেলান করছি। আমি তাই করবো, পরে যা হওয়ার দেখা যাবে। ওকে বায়।
ফেসবুক থেকে বের হয়ে জড়িনাকে বললাম আমার জন্য চা বানিয়ে নিয়া আসতে। সব কিছু রেডি করে রেখেছি।
আশা করি সব কিছু প্লান মত হবে।
জড়িনা চা হাতে আমার সামনে দাড়িয়ে আছে।
আমি: ওই জড়িনা। তোর জামা খুল। নয়তো ছিড়ে ফেলবো।
জরিনা ভয়ে নিজের জামা খুললো। তারপর আমার পাশে এসে শুয়ে পড়লো। । আমি তার হাতটা ধরলাম ধরে । নিজের বুকের মাঝে রাখলাম। জড়িনা ভয় পাচ্ছে। আমি তাকে সাহস দিলাম।
আমি: ভয় পাস না আমি তোর সাথে আছি কেউ কিছু জানবে না।
জড়িনা: প্লিজ আমার সাথে এরকম করেন না আমাকে ছাইড়া দেন আমি বাসায় যাব।
আমি: বেশি না একবার করেই আমি তোকে ছেড়ে দেবো ঠিক আছে আর । তোকে ভালোবাসি আর ভালবাসলে তো এসব করতে হয় এসব স্বাভাবিক ব্যাপার।
জড়িনা: আমার কেন জানি ভয় লাগছে যদি কেউ জেনে যায় তখন কি হবে?
আমি: দূর পাগলী কেউ জানবে না একথা শুধু তোর আর আমার মধ্যে গোপন থাকবে।
কথাটা বলে ওকে জড়িয়ে ধরলাম আর তারপর চুমু খেতে শুরু করলাম।
এমন সময় দরজা খুলে গেল। দরজা লাগাইনি ইচ্ছে করে। দরজা খুলে আম্মু সব দেখে একটা চিৎকার দিল। তারপরের ঘটনা।
আমি আর জড়িনা মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছি। আব্বু আম্মু সোফায় বসা। আমি আব্বুর চোখের দিকে তাকাতে পারছি না।
বাবা: দেখো রনি, তুমি যা করেছো এগুলো স্বাভাবিক। এই বয়সে একটা ছেলে মেয়ের প্রতি আকর্ষণ হওয়া। কিন্তু । কিন্তু তুমি এগুলো শিখলে কার কাছ থেকে আমার তো মনে হয় এগুলো জড়িনার কোন চাল। সে তোমার সাথে ইচ্ছা করে করেছে, তাই না? সেগুলো করেছে টাকার জন্য। কথা বলছো না কেন কথা বল কথার উত্তর দাও। জড়িনা।
জড়িনা মাথা নিচু করে কান্না করছে।
আমি: আসলে বাবা জড়িনার কোন দোষ নেই। । এসব আমি করেছি।
বাবা: তুমি জড়িনাকে বাঁচানোর জন্য। এসব মিথ্যা কথা বলছো। তাই না? ।এসব কিভাবে হ্যান্ডেল করতে হয় আমি জানি। জরিনাকে টাকা দিয়ে এখান থেকে বের করে দাও। ওর এখানে কাজ করার দরকার নেই।
আমি: বাবা ওকে বের করে দিলে আমি ও ঘর থেকে বের হয়ে যাবো। দোষ তো শুধু ওর একার না দোষ আমার।
এতক্ষন আম্মু চুপ ছিল। এবার কথা বললেন।
আম্মু: এজন্য তোকে পড়াশোনা করে মানুষ করেছি। এই দিন দেখার জন্য। আজকের দিন দেখার আগে আমার মরণ হলো না, কেন?
আমি: এখন আমি যা চাই। তাই হবে আমি ওকে বিয়ে করতে চাই। । নাহলে আমি বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করব।
আম্মু কেদে দিলেন।
আম্মু: আচ্ছা বাবা তুই যা চাস তাই হবে। তাও এরকম কথা বলিস না।
তারপর আব্বু আম্মু কাজী ঢেকে আমাদের বিয়ে দিয়ে দিলেন। কথায় আছে ভালোবাসা যদি সত্য হয়। তাহলে শত বাধা উপক্রম করেও, আপনি তাকেই পাবেন যাকে আপনি ভালবাসেন।
আজ আমার আর জড়িনার বাসররাত। আম্মুর দেওয়া লালশাড়ি পড়েছে সে। আমি ঘরে ঢুকে দেখি আমার খাটের ওপর বসে আছে। আমি গিয়ে তার পাশে বসলাম।
আমি: অবশেষে তোমাকে পেলাম দেখছো। বলছিলাম না, তুমিআমার হবে।
জড়িনা: আমাকে এসব বিশ্বাসই হচ্ছে না। আমার মনে হচ্ছে এসব আমি স্বপ্ন দেখছি।
আমি: এসব স্বপ্ন নয়, সব বাস্তব। চলো ঘুমিয়ে পড়ি।
জড়িনা: দূর বোকা। বাসর রাতে কেউ ঘুমিয়ে থাকে নাকি? এদিন তো মানুষ গল্প করে সারা রাত।
আমি: আমি তো কোন গল্প পারি না। তুমি না হয়, তোমার জীবনের গল্পটা বলো আমাকে।
জড়িনা: আসলে আমি কোনো গরিবের মেয়ে না আমিও বড়লোক ঘরের মেয়ে। আমার বাবার পুরান ঢাকায় কাপড় বিজন্যাস ছিল । সেই ব্যবসায় তিনি লস খেয়ে আত্মহত্যা করে। তারপর থেকে আমাদের দুঃখের জীবন শুরু হয়।
আমি: ও মাই গড, কি বলো তার মানে তুমিও একসময় বড়লোক ছিলে?
জড়িনা: আমার আসল নাম হচ্ছে মাইমুন আক্তার মরিয়ম। জড়িনা আমার ছদ্মনাম।
আমি তাকে জড়িয়ে ধরলাম।
আমি: জীবনে তুমি অনেক কষ্ট করেছো। কিন্তু আমি আর এখন থেকে তোমাকে কোন কষ্ট করতে দিব না। শত দুঃখ কষ্টে আমি তোমার পাশে থাকবো।
জড়িনা কাদছে দেখে আমি কপালে আর চোখে চুৃুমু খেলাম। তারপর একটা গান ছেড়ে দিলাম টিভিতে। গান চলছে চলুক, সাথে আমাদের ভালোবাসাও চলছে।
(সমাপ্ত)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন