______স্কুল লাইব্রেরির ভুত______
______(সম্পুর্ণ গল্প))______
______Rudro Siyam______
আমি ওদের দেখতে পাই? কাউকে বলতে এটা বিশ্বাস করবেন না | কিন্তু এটা সত্যি | আমি মৃত মানুষদের দেখতে পাই | অনেকেই প্রশ্ন থাকতে পারে কিরকম দেখতে পাও? আমি ঠিক তাদের সেরকম দেখতে পাই যেমনটা তারা জীবিত অবস্থায় ছিলেন | কারোর ই বয়স বাড়ে না |
কবরের সামনে দিয়ে স্কুলে যাচ্ছি | অনেক চেষ্টা করলাম নিজের চোখ যাতে কবরের দিকে না যায় | কিন্তু তারপরও কৌতুহল বসতো তাকালাম কবরের দিকে | তারা দেখছে আমাকে হাতের ঈশারায় ডাকছে কয়েকজন | আমি তারাতারি হেটে কবর পেরিয়ে আসতেই দেখা হলো শামীমের সাথে | শামীম আর আমি একই স্কুলে পড়ি | তাই দুজনে মিলে স্কুলে পৌছালাম |
আমি প্রায়ই লক্ষ্য করেছি লাইব্রেবির ভেতর থেকে একটা কিশোরী মেয়ের কান্নার শব্দ পাওয়া যায় | বাইরে দিয়ে অবশ্য তালা লাগানো আর লাইব্রেরির ভিতরে যাওয়ার অনুমতি কারো নাই | স্কুলের হেডমাস্টারের কাছে থাকে চাবি | আমি টয়লেট সেড়ে লাইব্রেরি পাশ দিয়ে ক্লাসে যাচ্ছিলাম | একটা কথা বলে রাখি | লাইব্রেরির এই জায়গা খুবই নিরিবিলি আর অন্ধকার | আমি এবারো লাইব্রেরির ভেতর থেকে কান্নার শব্দ পেলাম | ভাবলাম হেডমাস্টার এর কাছ থেকে চাবি নিয়ে দরজা খুলে দেখি ভিতরে কে কাদছে ? কিন্তু যখন-ই দারোয়ানকে নিয়ে লাইব্রেরির সামনে উপস্থিত হই দুজনে | তখন কোন কান্নার শব্দ শুনতে পাই না | বিষয়টা যেমন রহস্যময় তেমনি ভুতুরেও বটে | আজ আগ বাড়িয়ে কথা বলার জন্য লাইব্রেরির সামনে দাড়ালাম | বাইরে থেকে বললাম, এই মেয়ে তুমি কে? আর সবসময় কেন কান্না কাটি করো?
ওপাশ থেকে মেয়েটা এখন কান্না থাকিয়ে বলল, আগে আমাকে এখান থেকে বের করো | তারপর আমি সব বলবো |
আমি বললাম , আমি কিভাবে বের করবো তোমাকে?
মেয়েটা বলল, তোমার ডান দিকে তাকাও সেখানে একটা ইট দেখতে পাচ্ছো?
আমি বললাম, জ্বি | পাচ্ছি |
মেয়েটা বলল, সেটা দিয়ে তালা ভেঙ্গে আমাকে উদ্ধার করো |
আমি তাই করলাম | ডান পাশ থেকে ইট নিয়ে তালা টা ভেঙ্গে ফেললাম | তারপর এটা হাওয়া যেন আমার ভেতরে প্রবেশ করে | তারপর আর কিছু মনে নেই |
চোখ খুলে দেখি আমার হাতে হাত-কড়া | কয়েকজন পুলিশ মিলে আমাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে থানায় | কিন্তু কেন? আমার অপরাধ কি?
কারাগারের ভিতরে উপর হয়ে শুয়ে আছি | সন্ধা হয়ে গেছে হয়তো | বাহির থেকে ঝিঁ ঝিঁ পোকার শব্দ শোনা যাচ্ছে | হঠাৎ লক্ষ্য করলাম | কারাগারের ভিতরে আমি একা নই | অন্ধকার কারাগারের ভিতরে আরেকজনের অস্তিত্ব বুঝতে পারছি | এসব বিষয় এখন খুবই স্বাভাবিক | তাই পাত্তা দিলাম না |
কারাগারের ভিতরে একজন হাটাহাটি করছে একপাশ থেকে আরেক পাশ যাচ্ছে | এক সময় লোকটা আমার কানের কাছে এসে ফিস ফিস করে বললেন , কে তুই? এখানে কি করছিছ?
লোকটার কথা শুনে হকচকিয়ে গেলাম | কোন উত্তর দিলাম না | হঠাৎ লক্ষ্য করলাম কে যেন আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে | আমি কোন পাত্তা দিলাম না |
একটি মিষ্টি স্বরে পিছন থেকে বলে উঠলো, কিরে সিয়াম | ওরা তোকে এখানে ফেলে রেখেছে কেন?
গলার শব্দ শুনেই বুঝলাম এটা আমার মায়ের গলার স্বর | কিন্তু তিনি মারা গিয়েছিলেন ১০ বছর আগে | এখন প্রায়ই যখন. একা থাকি তখন আসেন | আজও এসেছেন |
আমি বললাম , আমি জানি না |
মা বললেন, তোকে কি ওরা কিছু খেতে দিয়েছে? তোর তো আবার খিদের তর সহ্য হয় না |
আমি বললাম, না | আমার খিদে নেই |
মা বলতে লাগলেন , তুই যে এখানে আছিছ? তোর বাবা কি জানেন? জানলেও তিনি আসবেন না | তুই তো জানিস ই তোর বাবা আমাকে সেদিন কিভাবে বঠি দিয়ে কুপিয়ে মেরে ফেলল |
আমি অবাক হয়ে বললাম, না | আমি জানতাম না | আজই জানলাম |
মা বললেন, সেদিন তোর বাবা এসিছিলেন খুব রাত্রে আমি জেগেই ছিলাম | দরজা খুলে দেখি তোর বাবা মদ খেয়ে এসেছেন | কথা বলছেন আর মুখের থেকে মদের গন্ধ বের হচ্ছিলো | তারপর আমি শুধু বললাম , এতো রাতে মদ খেয়ে এসেছো কেন? তারপর শোন কথা নেই | বার্তা নেই | গালাগালি শুরু করে দিলেন | এক পর্যায়ে পাকের ঘর থেকে বঠি নিয়ে আমাকে .........
মায়ের কথা শেষ হওয়ার আগেই একজন পুলিশ কারাগারের ভিতরে লাইট মেরে বলল, কিরে কার সাথে কথা বলছিছ?
আমি বললাম, কারো সাথেই না | নিজে নিজে কথা বলছি |
পুলিশ লোকটা বললেন , আর তোকে নিয়ে যেতে বলেছেন ইয়াসীন ভাই | কিছু জিজ্ঞাসা করবেন | তারপর আবার কারাগারে ফিরে আসবি |
আমি শোয়া থেকে উঠে তার সাথে যেতে লাগলাম | হঠাৎ পেছন থেকে একটি বাতাস ঢুকে গেল আমার মধ্যে | তারপর আর কিছু মনে নেই | যখন জ্ঞান ফিরল তখন দেখলাম আমি আমার সামনে একটি লোক পড়ে আছে যার পেটের মধ্যে কে যেন ? ছুড়ি মেরে চলে গেছে |
সারি সারি বাস দাড়িয়ে আছে | দেখে মনে হচ্ছে এটা একটা গ্যারেজ | যেখানে বাস রাখা হয় | কিন্তু যে লোকটা মাটির উপর শুয়ে আছে ইটের উপর মাথা দিয়ে | তার পেটে ছুরি মেরে কে যেনো চলে গিয়েছে | লোকটাকে আগে কখনো দেখিছি বলে মনে পড়ছে না | আর আমি বা কিভাবে কারাগার থেকে এখানে পৌছালাম | জায়গাটা থেকে বেরিয়ে এসে এদিক - ওদিক তাকাতে লাগলাম | এটা আব্দুল্লাহপুরের জায়গা | যেখানে আমি আছি |
মেইন রাস্তা দিয়ে হাটছি | হঠাৎ পিছন থেকে শামীম এসে দাড়ালো আমার পাশে | আমি অবাক হয়ে বললাম, কিরে | তুই কোথা থেকে এলি?
শামীম বলল, আমি সবসময়ই তোর সাথে থাকি |
আমি বললাম, মানে?
শামীম বলল, মানে কিছু না | তোর পকেটে হাত দিয়ে দেখ কিছু টাকা আছে | এখান থেকে সোজা ঢাকা চলে যা |
আমি বললাম, তুই ও চল | আমার সাথে ?
শামীম বলল, না | আমি আর তোর সাথে দেখা করব না | আমার কাজ সম্পন্ন হয়েছে | এখন আমি চলে যাচ্ছি |
এর আগে আমি কিছু বলল | তার আগেই শামীম উদাও হয়ে গেল | আমি সোজা ঢাকার বাস ধরে ঢাকায় চলে এলাম বাবার কারখানাতে | যেখানে তিনি কাজ করেন | কারখানার ভিতরে ঢুকে উকি মারলাম | দুইটা পুলিশ আমার বাবার সাথে কি নিয়ে যেনো কথা বলছেন | এতোদুর থেকে তাদের কথা শোনা যাচ্ছে না | যখন পুলিশ দুইটা কারখানা থেকে বের হয়ে গেল | তখন আমি ঢুকলাম কারখানাতে বাবার সাথে কথা বলার জন্য | সামনে এগোচ্ছি | আর তখনি একটা শীতল বাতাস পিছন থেকে ঢুকে গেল আমার ভেতরে | তারপর আর কিছু মনে নেই |
চোখ খুলে দেখি কে যেন বাবার পেটে ছুরি মেরে চলে গেছে | বাবার আমার দিকে তাকিয়ে আছেন ভয়াত্ব চোখে | তার চোখে ভয় আর সংকোচ | হঠাৎ পেছন থেকে দুটো পুলিশ আমাকে ধরে ফেলল | আর হাত-কড়া পড়িয়ে দিল |
আবারো সেই একই জেলখানার ভিতরে এসে পড়লাম | সেই একই রুম | একই ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক | হঠাৎ জেলখানা আলো করে ঢুকলো এক আলো | যার পুরো দেহ নগ্ন | অপুর্ব সুন্দরী এক কিশোরী মেয়ে |
কারাগারের ভিতরে শুয়ে আছি | এবারো বাইরে থেকে ঝিঁ ঝিঁ পোকার শব্দ শোনা যাচ্ছে | পুরো ঘরটা অন্ধকার আর আমি একা পড়ে আছি এই কারাগারের ভেতরে | হঠাৎ একটি আলো প্রবেশ করলো কারাগারের ভেতরে | আলোর রশ্মি এতই তীব্র যে সরাসরি তাকিয়ে থাকা যাচ্ছে | হঠাৎ আলো আসতে আসতে কমতে কমতে একটি কিশোরী মেয়ের আকৃতিতে সামনে আসলো আমার | মেয়েটির শরীরে কোন জামা-কাপড় নেই বলে সরাসরি তার দিকে তাকাতে লজ্জা লাগছে | তাই নিচের দিকে তাকিয়ে আছি |
মেয়েটি মিষ্টি স্বরে বলল, কি হলো | নিচের দিকে তাকিয়ে আছো কেন? আমার চোখের দিকে তাকাও |
আমি বললাম, তুমি কে?
মেয়েটি উচ্চস্বরে হাসলো | তারপর বলল, আমি-ই সেই লাইব্রেরিতে থাকা দুঃখি মেয়েটি | যেকিনা সারাক্ষন কান্না করতো | আর তুমি-ই সেই ছেলে | যেকিনা আমাকে লাইব্রেরি থেকে মুক্তি দিয়েছো | এখন আমি তোমাকে এখান থেকে মুক্তি দিবো |
আমি বললাম, না | আমি মুক্তি চাই না | আমি কারাগার থেকে বের হলেই এক না একজনের মৃত্যু হয়ে যায় আমার হাতে |
মেয়েটি বলল, সেই খুন তো তুমি করো না | সেগুলো করে খারাপ আত্মারা | তাদের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য |
আমি বললাম, তুমিও কি খারাপ আত্মা ?
মেয়েটি বলল, হয়তো, আমি খারাপ আত্মা | কিন্তু তুমি আমার কাছে জানতে চেয়েছিলে কেন আমি লাইব্রেরিতে বসে সারাক্ষন কান্না করতাম |
আমি বললাম, হ্যা | তাহলে এখন বলো |
মেয়েটি রহস্যের ভঙ্গিতে হাসলো | তারপর বলল, না | এখন বলবো না | আমার গল্প শোনার জন্য এই জায়গাটা মোটেও ঠিক না | আমি প্রথমে তোমাকে এখান থেকে বের করবো | তারপর তুমি আর আমি মিলে চলে যাবো নেপালে | সেখানে আমি নিজের গল্পটা বলবো |
আমি হতাশ গলায় বললাম, এখন বললে কি সমস্যা |
মেয়েটি বলল, গিয়ে দেখো | জেলখানার তালাটা আমি ভেঙ্গে দিয়েছি | তুমি এখান থেকে বের হয়ে আসো |
কথাটা বলেই উদাও হয়ে গেল মেয়েটি | তার নামটাও জানা হলো না আমার | দৌড়ে গেলাম তালার কাছে | ফাক দিয়ে হাত বাড়িয়ে দেখলাম আসলেই তো তালাটা খোলা |
জেলখানা থেকে বুক ভরা সাহস নিয়ে বের হচ্ছিলাম | তখনি একটা পুলিশ আমার শার্টের কলার চেপে ধরলো | তারপর জোরে দুইটা চড় মারলো গালে | আমাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে একটি পুলিশের কক্ষে | সেখানে আবার কি নতুন বিপদ অপেক্ষা করছে ভেবেই ভয় পেলে গেলাম |
তো শুধু করি , আমি বসে আছি একটা চেয়ারে | আমার সামনে টেবিলের ওপাশে একজন পুলিশ | তার পোষাকে নাম লেখা | আমি নামটা পড়লাম | "মো: ইয়াসীন" |
আমি বসে আছি মাথা নিচু করে | নিজেকে অপরাধী অপরাধী মনে হচ্ছে | সিগারেটের গন্ধ পেলাম | তার মানে হলো ইয়াসীন সিগারেট ধরিয়েছেন |
ইয়াসীন বললেন, কিরে ! তুই তো ১টা সিরিয়াল কিলার | ১ টার পর ১ টা খুন করছিছ |
আমি বললাম, না | আমি খুনি না | আত্মারা আমার ভেতর প্রবেশ করে এসব কাজ করে |
ইয়াসীন হাসলেন | হা-হা-হা | হাসার পর বললেন, এটা কি কোন ভুতের গল্প? যে তুই যা বলবি তাই বিশ্বাস করবো? পেয়েছিছ কি? আমি পুলিশ | কোন কিছুই যুক্তি ছাড়া বিশ্বাস করি না |
আমি বললাম, আমাকে এখানে এনেছেন কেন?
ইয়াসীন হঠাৎ গম্ভীর হয়ে গেলেন | বললেন, তুই জানিস না? তুই প্রায় ৩ জনকে খুন করেছিছ |
আমি বললাম, কাকে কাকে?
ইয়াসীন সিগারেটে লম্বা টান দিয়ে বললেন, এমন ভান করছিছ | যে কিছুই জানিস না? মারার পর এখন একটিং করছিছ |
আমি বললাম, আমার কিছুই মনে নাই |
ইয়াসীন বিরক্ত হয়ে বললেন, পুলিশের মার খেলে সবই মনে পড়বে |
তার আগে বল কেন তোর স্যারকে খুন করলি?
আমি বললাম, স্যার কে খুন করেছি আমি? কোন স্যার?
ইয়াসীন বললেন, তুই জানিস না? ওকে আমি বলছি, তোর কম্পিউটার ক্লাস নিতেন যে স্যার |
আমি বললাম, ওহ্ রফিক স্যার |
ইয়াসীন বললেন, কেন মেরেছিছ তাকে?
আমি কায়দা করে বললাম, আমি যে মেরেছি? তার প্রমান কী?
ইয়াসীনের ঠোটের কোনায় হাসি ফুটে উঠলো |
বললেন, প্রমান দেখতে চাস?
আমি বললাম, জ্বি |
টেবিলে থাকা ল্যাবটপটা কিছুক্ষন টিপাটিপি করার পর | প্রায় ২০ মিনিট পর | ১টা ভিডিও ফুটেজ দেখালেন আমাকে | সি.সি ক্যামেরার ফুটেজ |
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে , আমার হাতে চাকু | আর আমি চাকু নিয়ে রফিক স্যারের কাছে গিয়েই তার পেটে কোপ বসাই | জায়গাটা খালি তাই | কেউ দেখেনি |
হঠাৎ সে রাস্তা দিয়ে ১টা মেয়ে এসে দেখলো যে আমার হাতে চাকু আর সেটা রফিক স্যারের পেটে কয়েকবার ঢুকাচ্ছি আর বের করছি | এটা দেখে সে চিৎকার করে বড় স্যারকে নিয়ে আনে | রফিক স্যার ততক্ষনে মারা গেছে | আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছি তার পাশে | এটা দেখে বড় স্যার পুলিশকে ফোন করে |
এখন আমি বুঝলাম কেন আমাকে পুলিশ গ্রেফতার করে |
"ছোট প্রান, ছোট কথা, বিন্দু বিন্দু কথা
ছোট জীব, ছোট প্রান বলে তাকে অবহেলা করো না |"
কথাটা শুনে চমকে উঠলাম | আসলে আমি যখন ইয়াসীনের কথায় রাজি হইনি যে, আমি ই খুনগুলো করছি | তখন ইয়াসীন আমাকে মার খাওয়ানোর ব্যবস্থা করলো | তাকে আমি স্বীকার করি যে আমি ই খুনি | তার কাছে তো সি.সি. ক্যামেরার ফুটেজ আছে | তারপরও এমন করলেন কেন? বুঝলাম না |
মার খাওয়ার পর শরীর ছেড়ে দিয়েছে | অন্ধকার জেলখানায় ঘুমিয়ে ছিলাম | তখনই কেউ বলে উঠলো, ছোট প্রান ....
আমি কোনমতে সামনে তাকালাম | দেখলাম শামীমকে | জেলখানার তালা কেউ খুলে দেয়নি | তাহলে শামীম কিভাবে ভেতরে প্রবেশ করলো?
আমি বললাম, তুই এসব কি বলছিছ? ছোট প্রান ,ছোট প্রান? এর মানে কি?
শামীম বলল, মানুষ হিসেবে আমরা সবসময় বেশি চাই | এই চাওয়া-পাওয়ার আকাঙ্খা কখনো আমাদের সুখি হতে দেয় না |
আমি বললাম, কি বোঝাতে চাস?
শামীম বলল, আমার বিষয়টাই দেখ, সাধারন দিনের মতো সেদিনও যাচ্ছিলাম স্কুলে হঠাৎ একটা বাস এসে এক্সিডেন্ট করে চলে গেল আমাকে | যখন আমি রাস্তা থেকে উঠি আর চলতে লাগলাম | তখন মনে হলো যে আমার স্কুল ব্যাগটা কই? তখন আমার পেছনে ফিরে যাই | গিয়ে দেখি ছোটখাটো একটা ভিড় জমেছে | কিছু মানুষ আগ্রহ নিয়ে কি যেন দেখছে | আমি যখন ভিড় ঠেলে ভেতরে গেলাম দেখতে তখন দেখি সেটা আমি ই | পরে আছি রাস্তায় | তখন বুঝতে পারলাম যে আমি জীবিত নই |
শামীমের কথা শেষ না হতেই আমি বললাম, তারপর আমি ই একমাত্র মানুষ যে তোকে সেদিন তোকে দেখতে পাই | তুই চমকিয়ে গিয়েছিলি | বলেছিলি , তুমি আমাকে দেখতে পাচ্ছো?
আমি বলেছিলাম, কেন দেখতে পাবো না | আমি তো আর অন্ধ নই |
শামীম বলল, হ্যা | তারপর আমরা দুজন মিলেগল্প করতে করতে স্কুল যাই |
আমি বললাম, এখন আমি বুঝলাম যে, বাস ড্রাইবারকে কে খুন করেছিল? আর সেটা তুই | তুই আমার শরীরে প্রবেশ করে তাকে খুন করলি, আমি কি ঠিক?
শামীম বলল, হ্যা | এখন আমি যেমন আমার ইচ্ছা পূরন করেছি | তেমন..
আমি বললাম, তেমন কি? কেন এসেছিছ এখানে?
শামীম বলল, তোর যেকোন ১ টা ইচ্ছা পূরন করবো আমি |
আমি বললাম, আমার কোন ইচ্ছা নাই | তুই চলে যা ...
শামীম বলল, রাগ করছিছ কেন ? আচ্ছা চলে যাচ্ছি | কথাটা বলেই যখন চলে যেতে লাগলো | এক পা এক পা করে পেছনে যেতে লাগলো |
তখন আমার মনে পড়লো যে , আমাকে যেতে হবে নেপালে | সেখানে লাইব্রেরিতে থাকা মেয়েটা আছে | কে সে?
শামীম চলে যাচ্ছিল | আমি ডাক দেওয়ায় আবার ফিরে আসলো | আমি বললাম, চলে গিয়েছিলি?
শামীম উত্তর দিল, না | এখানেই ছিলাম | জানতাম যে তুই ডাক দিবি | এখন বল কি চাই তোর?
আমি বললাম, আমি নেপালে যেতে চাই | সেখানে ১টা কিশোরি মেয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করছে তার নিজের গল্প বলার জন্য |
শামীম বলল, ঠিক আছে , চল !
আমি বললাম, কিভাবে?
শামীম বলল, আমার হাত দুটো ধর ! আর চোখ বন্ধ কর | চোখ খুললেই পৌছে যাবি |
আমি মেঝে থেকে উঠে দাড়ালাম | হেটে গিয়ে শামীমের দু'হাত ধরলাম | তারপর চোখ বন্ধ করলাম | চোখ খুলে দেখি যে, আমি বরফের এলাকায় এসে পড়েছি | চারিদিকে বরফের পাহাড় | কে যেন আমাকে জানলে | সামনে তাকিয়ে দেখি লাইব্রেরির সেই মেয়েটি | হাত নেড়ে ডাকতে আমাায় | আমি খুব সংকচে তার কাছে গেলাম |
দাড়িয়ে ছিলাম | চোখ ছিল অন্যদিকে , তার মেয়েটা পুরোপুরি নগ্ন হয়ে বসে আছে বরফের ওপর |
মেয়েটা বলল, আমার পাশে বসো |
আমি বললাম, তোমার জামা কই?
মেয়েটি হাসলো | তারপর বলল, মৃত মানুষের আবার জামা |
আমি বললাম, কিভাবে মারা গিয়েছিলে?
মেয়েটি বলল, তা বলার জন্যই তো তোমাকে এখানে আনলাম | বসো পাশে |
আমি বসলাম | মেয়েটি তার কথা শুরু করলো.......
"
জানো! আমি ছিলাম স্কুলের সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে | ক্লাসের সব ছেলেরা ছিল আমার পাগল | এই রুপ ই হয়ে উঠলো আমার মৃত্যুর কারন | ঘটনাটা বলি, আমি তখন কম্পিউটার ক্লাস নিতাম রফিক স্যারের কাছে | তিনি একদিন ক্লাসে আমি একা ছিলাম | সেদিন ই ঘটে গেল ঘটনাটা | তিনি আমার বুকে হাত দিলেন ।
মেয়েটা আর কিছু বললো না | আমিও চুপ করে আছে | চারিদিকে বরফ পড়তে শুরু করেছে | আমি মুগ্ধ হয়ে বরফ পড়া দেখছি |
(সমাপ্ত)
কারো কোন প্রশ্ন থাকলে জিজ্ঞাসা করতে পারেন ? বা কোন কনফিউসন থাকলে কমেন্ট করুন | আমি উত্তর দিবো | ধন্যবাদ |
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন