সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

নগ্নদ্বীপ/সিজন ১/রোমান্টিক গল্প/Rudro Siyam

 'নগ্নদ্বীপ'

(সিজন ১)


রয়ান চোখ খুলে দেখলো তার সামনে বিশাল সমুদ্র। আর সে পড়ে আছে বালির ওপর। বালি থেকে উঠে সে দেখলো তার শরীরে কোন জামা কাপড় নেই। সে পুরো নগ্ন। রয়ান দৌড়ে এ মাথা থেকে ও মাথা গেল। এটা সে কোথায় এসে পড়লো? এতো একটা দ্বীপ। 


দ্বীপটার সামনের দিকে রয়েছে সারি সারি নারিকেল গাছ।  আর ভেতরে পুরো জঙ্গল। জঙ্গল পেলে দেখা মিলবে ঝর্ণার পাশে রয়েছে একটা গুহা। যা রয়ান এখনও জানে না। ঝর্না পেরোলে দেখা মিলবে পাহাড়। যা কিনা এই দ্বীপটার সবচেয়ে বড় পাহাড়।  পাহাড়ের উচু টপকিয়ে এর পেছনে কি আছে।   তা কেউ জানে না।


রয়ান তার মাথার পেছনে হাত দিয়ে দেখলো সেখানে জমাট রক্ত বেধে আছে। তার মনে পড়ে গেল গতকাল যখন রাত ১২টা বাজে সে বাসায় ফিরছিল। তখন তার মনে হয় কে যেন তার পেছন পেছন আসছে।  সে পিছন ফিরে দেখে কেউ নেই। কিন্তু যখনই বাড়ির গেটে ঢুকলো। তখন ই কে যেন পেছন দিক দিয়ে মাথায় বারি মারেআর সাথে সাথে অজ্ঞান হয়ে যায় রয়ান। চোখ খুলে দেখে সে এই নগ্নদ্বীপে এসে পড়েছে।


রয়ানের মাথা ব্যাথা করছিলো। তাই সে বালির মাঝেই শুয়ে থাকে। এদিকে সন্ধা পেরিয়ে রাত হয়ে এলো। রাতের সমুদ্র দেখছে রয়ান। এমন সময় নারকেল গাছের পেছন থেকে কিসের যেন শব্দ এলো। রয়ান পেছন ফিরে তাকালো। কে যেন দাড়িয়ে আছে নারিকেল গাছের পেছনে।তার ছায়া পড়েছে মাটিতে। রয়ান ভয়ে ভয়ে সেই নারকেল গাছের দিকে এগোচ্ছে। রয়ান বলল, কে? কে ওখানে? (কোন জবাব আসলো না)। 

হঠাৎ, নারকেল গাছের পেছন থেকে একজন বেড়িয়ে এলো। রয়ান দেখতে পেল। একটা কিশোরী মেয়ে। লাল রংয়ের কোকড়ানো চুল। ফর্সা একটা মেয়ে নগ্ন দাড়িয়ে আছে তার সামনে।



কিশোরি মেয়েটি ইংরেজিতে বলল, কে তুমি?

রয়ান বলল, আমারো একই প্রশ্ন তোমার কাছে? কে তুমি?

কিশোরি মেয়েটার কোন লজ্জা নেই। রয়ান ভাবলো মনে হয় বিদেশি তাই এরকম।

রয়ান বলল, তুৃমি কোথাথেকে এসেছো?

কিশোরি মেয়েটি এবার হ্যান্ডশেক এর জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল, আমি আমিরিকান। আর তুমি?


রয়ান হ্যান্ডশেক করলো না। তার লজ্জা লাগছে। রয়ান বলল, আমি বাংলাদেশি। তবে এই জায়গাটার নাম কি বলতে পারো?

মেয়েটি বলল, না। আমি জানি না। 

রয়ান বলল, তুমি এখানে কিভাবে এসেছো?

মেয়েটি বলল, আমি ঘুমিয়ে ছিলাম আমার রুমে। ঘুম থেকে উঠে দেখি এইখানে এসে পড়েছি। বায় দ্যা ওয়ে, আমার নাম লিনা এন্ডারসন। তুমি লিনা বলে ডাকতে পারো।

রয়ান বলল, ওকে লিনা। চলো! এখান থেকে বের হই।


লিনা বলল, এখান থেকে বের হওয়া যাবে না।আমরা এই দ্বিপে আটকা পড়েছি। আর আমি এখানে আজ ১বছর ধরে আছি। আমি এই দ্বিপ এর সব চিনি। আমি প্রথমে ভেবেছিলাম। এই দ্বিপে বোধ হয় আমি একা। কিন্তু আজ তোমাকে দেখে খুব অবাক হলাম। 


রয়ান এর খুব মন খারাপ হলো। তার ফোনটাও তার সাথে নেই। সে ভাবলো এখন বাসায় থাকলে সে কি করতো। সে সারাদিন ফোন টিপতো। এজন্য তার মা তাকে অনেক বকাঝকা করতেন। রয়ান তার মাকে মিস করছে।


এর মধ্যেই দেখতে দেখতে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। প্রথমে ফোটা ফোটা বৃষ্টি। তারপর আস্তে আস্তে বাড়তে লাগলো। এক পর্যায়ে ঝড় শুরু হয়ে গেল। লিনা এই ঝড়ের মধ্যে রয়ান কে নিয়ে পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নিল। এই গুহার সামনেই রয়েছে বিশাল ঝর্না।



রাতে রয়ান ঘুমের ঘোরে জ্বরে কাপছিল। তার অনেক শীত লাগছিল। লিনা এটা বুঝতে পেরে রয়ান কে পেছন দিক থেকে জড়িয়ে ধরে যাতে রয়ানের শীত শীত ভাবটা কমে। রয়ান ঘুমের ঘোরে তার পিঠে নরম কিছুর স্পর্শ পায়। যা এর আগে সে কখনো পায়নি। এটা বুঝতে পেরেও রয়ান পুরোপুরি জেগে উঠে না। সে এবার গরম উষ্ণতা পেয়ে গভীর ঘুমে তলিয়ে যায়। 


সকালে রয়ান ঘুম থেকে উঠে দেখে তাকে জড়িয়ে ধরে আছে লিনা। রয়ান নিজেকে ছাড়িয়ে নেয় লিনার কাছ থেকে। এতে লিনা জেগে যায়।  লিনা দেখে রনি কেমন যেন রেগে আছে। লিনা হেসে বলে, শুভ সকাল।

রয়ান রেগে বলে, আপনি আমাকে জড়িয়ে ধরে ছিলেন কেন? আপনার কি কোন লজ্জা শরম নেই?

লিনা তাকে বোঝাতে গিয়ে বলে, গতকাল রাতে আপনার জ্বর ছিল।

রয়ান পুরো কথা না শুনেই সেখান থেকে হাটতে শুরু করে।এখন সে পুরো সেন্স এ আছে। গতকাল সে ঘোরের মধ্যে ছিল। তাই সে কি করবে কিছু বুঝতে পারছিল না।


পেছন দিক থেকে তাকে লিনা ডাক দেয়। সে শুনেও না শোনার ভান করে জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে হাটতে থাকে। লিনা দৌড়ে আসে। সে রয়ানকে বোঝার চেষ্টা করছে। কিন্তু পারছে না। রয়ানের হঠাৎ রেগে যাওয়া সে বুঝতে পারছে না।

লিনা মজা করে বলল, তোমার ওটা দাড়িয়ে আছে কেন?

কথাটা শুনে রয়ানের মাথা ধরে গেল। সে আর নিজেকে কন্ট্রল করতে পারলো না। লিনাকে চড় মেরে বসলো রয়ান। লিনা মন খারাপ করে সেখান থেকে চলে গেল।



রয়ান সমুদ্রের পাড়ে দাড়িয়ে দাড়িয়ে ভাবছে।  রয়ান জানে লিনা কি চায়। লিনা আসলে তার সাথে শুতে চায়। যাকিনা রয়ান চায় না। কারন এটা পাপ। রয়ান আকাশের দিকে তাকায় আর মনে মনে বলে, এখন থেকে আমার সার্ভাইভাল জিবন শুরু। যদি রবিনসন ক্রুশো,  বেয়ার গিল এরা সার্ভাইভ করতে পারে। তবে আমি পারব না কেন?

এটা ভেবে সে নিজের ভেতর একধরনের শক্তি অনুভব করে। কিন্তু যখন কাজের কথা আসে। তখন রয়ান বুঝতে পারে যে সে কতটা অলস।


প্রথমে রয়ান নারকেল গাছ থেকে নারকেল পাড়তে যায়। সে কখনো গাছে উঠেনি। তাই পাথর মেরে নারকেল নিচে ফেলার চেষ্টা করে। এতেও সে ব্যর্থ হয়। পরে একটা গাছের ডালকে পাথর দিয়ে ঘষে সামনের দিক সরু করে বর্শা বানায়। যাতে সমুদ্রের মাছ শিকার করতে পারে। কিন্তু যখন সমুদ্রে নামে। তখনই তার মনে পড়ে যে সে সাতার জানে না। আর তখনই একটা ছোট ঢেট এসে তাকে ভাসিয়ে নিয়ে  যায়। তারপর আর তার জ্ঞান নেই। জ্ঞান ফিরলে সে চোখ খুলে দেখে লিনা তার শরীরের ওপর বসে তাকে ঠোটে চুমু খাচ্ছে। রয়ান তার শরীরের ওপর থেকে লিনাকে সড়িয়ে দিয়ে উঠে বসে। তারপর রয়ান বিরক্ত হয়ে বলে, সন অফ এ্যা বিচ।  কিস করছিলেন কেন? 


লিনা বলে, তুমি সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছিলে।  আমি তোমাকে তীরে নিয়ে আসি।যখন দেখলাম তুমি অজ্ঞান।  তখন তোমাকে অক্সিজেন দেওয়ার জন্য আমি মুখে ফু দিচ্ছিলাম।  রনি এবার নিজের ভুল বুঝতে পারে। লিনাকে সে খারাপ মেয়ে ভেবেছিল। রনি বলল, আমি আসলে দুঃখিত।  আমি তোমাকে ভুল বুঝেছি লিনা। 

'

এখন রয়ান আর লিনা ভালো বন্ধু হয়ে গিয়েছে। তারা ঝর্নার পানিতে একসাথে গোসল করলো। এমনকি একজন আরেকজনের শরীরে পানি ছিটিয়ে মারলো। দুপুর বেলা দুজনই ক্লান্ত হয়ে গুহার ভেতর শুয়ে আছে।


রয়ান বলল, আমাদের জামা বানাতে হবে। এভাবে নগ্ন থাকতে আমার ভালোলাগে না।

লিনা বলল, এখানে কাপড় পাবো কোথায়?

রয়ান বলল, আমরা আদিম যুগ এর মানুষের মতো গাছের পাতা দিয়ে শুধু লজ্জাস্থানটা ঢেকে রাখবো।

লিনা তার কথায় সাড় দেয় না। যেন সে নগ্ন থাকতেই পছন্দ করে।

লিনা বলল, আচ্ছা! তোমার কি কোন গার্লফ্রেন্ড ছিল না।

রয়ান হতাশ ভাবে বলে, না। আমার মতো কালো ছেলেকে কে পছন্দ করবে? 

লিনা বলে, কেন? তুমি কালো হলেও তোমার চেহারার কাটিং খুব সুন্দর।  

রয়ান বলে, তোমার কি বয়ফ্রেন্ড ছিল? 

লিনা বলে, হ্যা। তাদেরকে অনেক মিস করছি। 

রয়ান বলে, তাদের কে মানে? তোমার কয়টা বয়ফ্রেন্ড ছিল?

লিনা একটু ভেবে বলে, দশ বারোটা তো হবেই।

রয়ান বলে, ও মাই গড।  আচ্ছা!  ওসব কথা বাদ। আমার খিদে পেয়েছে।

লিনা বলে, চলো! জঙ্গল থেকে ফল আনতে যাই।


তারা দুজনে জঙ্গের মধ্যে দিয়ে হাটছে। চারিদিকে শ্যাওড়া পড়া গাছের মধ্যে।  আর কিছুদুর পর পর নোংরা কালো পানির ছোট পুকুর। যাতে হাটু পর্যন্ত পানি। এগুলোর মাঝ দিয়ে তারা হেটে চলেছে।

রয়ান বলল, আচ্ছা!  এই দ্বীপে কোন ভয়ানক প্রানী নেই? বাঘ ভাল্লুক এসব?

লিনা বলল, না। তবে জঙ্গলের মধ্যে একটা বিশাল অজগর সাপ আছে।।

রয়ান বলে, বলো কি? তুৃমি কি কখনও সেই সাপের মুখোমুখি হয়েছো?

লিনা বলে, সামনে দেখো?

রয়ান বলে, কি দেখবো? 

কথাটা বলে সামনে তাকায় আর দেখে তাদের সামনে বিশাল এক অজগর সাপ।


তারা দেখলো। তাদের সামনে বিশাল এক অজগর সাপ ফনা তুলে আছে। সাপটা এতো মোটা। সে যে গাছটাকে পেঁচিয়ে ধরে আছে। সে গাছটাকে দেখাই যাচ্ছে না। শুধু দেখা যাচ্ছে সাপটার পুরো শরীর।


রয়ান বলল, ও মাই গড। চলো পালাই। কথাটা বলেই লিনা কে একা ফেলে রেখেই সে দৌড়াতে শুরু করলো।

এদিকে লিনা বলল, চলো। এটাকে শেষ করা যাক। কথাটা বলে তার বাম পাশে তাকিয়ে দেখে রয়ান উদাও। তখন লিনা সাপটাকে না মেরেই চলে আসে রয়ান কে খুজতে। 

গুহার ভেতর এসে দেখে রয়ান কাপছে। তার শরীর থর থর করে কাপছে। লিনা বলে, কি হয়েছে রয়ান? হঠাৎ চলে এলে যে?

(লিনা তখনো জানতো না যে বাঙালিরা বিপদের সময় শুধু নিজেরটা বুঝে।)



রয়ান লিনার দিকে কুদৃষ্টি তে তাকিয়ে রইলো। যা লিনা বুঝতে পেরে হাত দিয়ে তার বুক ঢাকলো। রয়ানকে এখন সে চিনতে পারছে না। তার আচরন কেমন যেন অন্যরকম হয়ে যাচ্ছে।

রয়ান বলল, আমি তোমাকে আগেই বলেছিলাম কাপড় পড়তে। তুমি আমার ভেতরের পশুকে জাগিয়ে দিয়েছো। এখন আর আমি নিজেকে কন্ট্রল করতে পারছি না।


লিনা তার কথা শুনে ভয় পাচ্ছে। তার সিক্স সেনথ তাকে বলছে কিছু একটা খারাপ ঘটতে যাচ্ছে। তার পেছন থেকে এক কালো ছায়া বলছে :

'এখান থেকে চলে যাও লিনা। 

এখান থেকে চলে যাও। '

কিন্তু লিনার হাত পা যেন শক্ত হয়ে গেছে। সে নড়তে পারছে না। আর তখনই রয়ান ঝাপিয়ে পড়লো তার ওপর।


'লিনা! এই লিনা!  কি হয়েছে। বাচাও! বাচাও করছো কেন?' লিনাকে ধাক্কা দিয়ে ঘুম থেকে জাগানোর চেষ্টা করলো রয়ান। লিনা ঘুমের মধ্যে বাচাও বাচাও করছে। লিনা ঘুম থেকে জেগে উঠলো সে জোরে জোরে নিঃশ্বাস ফেলছে। আর তার শরীর ঘেমে যাচ্ছে।

রয়ান বলল, কি হয়েছে? ঘুমের ঘোরে বাচাও বাচাও করছিলে কেন?

লিনা বলল, একটা দুঃখস্বপ্ন দেখেছিলাম। দেখি তুমি পশু হয়ে গেলে। নিজেকে কন্ট্রল করতে পারছিলে না।

রয়ান একটু রাগি স্বরে বলল, আমি পশু হয়ে গিয়েছিলাম মানে? এসব কি আজগুবি কথা।

লিনার এবার ভয় কমে। স্বপ্নে রয়ানকে যতোটা ভয়ানক লেগেছিল বাস্তবে রয়ান। এতোটাও খারাপ না। বরং খুবই লাজুক ছেলে। এটা ভেবে এবার লিনা হেসে ফেলল।

রয়ান বলল, কি আজব মেয়ে।  এবার ভয় পায়। আবার হাসে। এসব মেয়ে আমি কখনও দেখিনি।


বাইরে তুফান হচ্ছে। রয়ান ও লিনা গুহার ভেতর বসে আছে। কেউ কোন কথা বলছে না। রয়ান বাইরে তাকিয়ে তুফান দেখছে। তুফান দেখতে তার ভালোলাগছে। এমন সময় লিনা বলল, আমি তোমাকে একটা কথা বলতে চাই। রয়ান।

রয়ান বলল, হ্যা!  বলো। 

লিনা বলল, আসলে এই কয়েকদিনে আমি তেমাকে ভালোবেসে ফেলেছি।  আই লাভ ইউ। 

রয়ান এবার রেগে গেল। সে বলল, এই মিথ্যা কথা আর কতজন কে বলেছো?

লিনা হা হা করে জোরে হেসে বলল, এই ধরো ৪ কি ৫ জনতো হবেই। কিন্তু সত্যি কথা বলতে। তাদের প্রতি তেমন কোন ফিলিংস পেতাম। যেমনটা এখন তোমার ওপর পাচ্ছি।

রয়ান হাসলো। মুচকি হাসি। যার অর্থ রয়ানও তাকে ভালোবাসে। আর সে যেহেতু লাজুক। তাই চাইছিল লিনা তাকে প্রপোজ করুক।


রয়ান এবার মন খারাপ থেকে মন ভালো হয়ে গেল তার। অনেকটা হতাশ ভাব তার মধ্যে থেকে কেটে গেছে। সে উঠে দাড়ালো। এখন তার কাছে লিনার ভালোবাসার শক্তি আছে। তাই সে লিনাকে বলল:



রয়ান দেখলো তার সামনে বিশাল বড় অজগর সাপ। রয়ানের হাতে মোটা গাছের ঢাল। যা দিয়ে সে তার হাতিয়ার বানিয়েছে। গাছের ঢালের মাথার পাথর বাধা। যা দিয়ে কিছু আঘাত করলে তা ভেঙ্গে যাবে। এমনটাই ভেবেছিল রয়ান। কিন্তু হলো তার উল্টো। 


তার সামনে অজগর সাপটি গাছের সাথে পেচিয়ে আছে। রয়ানের থেকে এক হাত দুরে। যখনই রয়ান সাপটাকে মারার জন্য চিৎকার দিয়ে বলে,' আজকে খাইছি তোরে। '

এটা শুনেই অজগর সাপটি দৌড়ে পালিয়ে যায়। রয়ান ও দৌড়াতে থাকে অজগরের পেছন পেছন। আর রয়ানের পেছন পেছন দৌড়াতে থাকে লিনা।  লিনা চেচিয়ে বলে, আরে!  থামো! সাপ মারতে হবে না। চলে এসো।

রয়ান উত্তর দেয়, "আজ এর একদিন কি আমার একদিন। "


গুহার ভেতর শুয়ে ওপরের দিকে তাকিয়ে আছে রয়ান আর লিনা। দুজনই ক্লান্ত জোরে জোরে নিঃশ্বাস ফেলছে তারা।

লিনা হো হো করে হেসে বলল, সাপটা কিভাবে ভয় পেয়ে পালালো। ( হাহাহা)

রয়ান ও হাসছে। তবে মুচকি হাসি।

লিনা বলল, রয়ান! 

রয়ান বলল, হ্যা! বলো শুনছি।

লিনা বলল, আমার চুমো খেতে ইচ্ছে করছে।

রয়ান তার কপালে চুমু খেল।

লিনা বিরক্ত হয়ে বলল, এখানে না। ঠোঁটে।

রয়ান বলল, তাহলে চোখ বন্ধ করো।

লিনা চোখ বন্ধ করলো।

'কি হলো। চুমু দিচ্ছো না।  কেন?' 

লিনা চোখ খুলে দেখে রয়ান নেই। কি ব্যাপার রয়ান কোথায় গেল? 

লিনা রয়ানকে খুজতে বের হলো। প্রথমে ঝড়ণার কাছে। তারপর সমুদ্রের পাড়ে এলো।  রয়ান কোথাও নেই। মাত্র ৫ সেকেন্ড এ রয়ান উদাও হয়ে গেল কিভাবে?

রহস্যটা কি?


চোখ খুলে রয়ান দেখলো। সে তার ঘরে শুয়ে  আছে। তার শরীরে কাথা গায়ে দেওয়া। সে কিছু বুঝতে পারছে না।  তাহলে কি এইসবকিছু স্বপ্ন ছিল?

রয়ান বিছানা থেকে উঠে রান্না ঘরে যায়। সেখানে তার মা রান্না করছে। রয়ান তার মাকে দেখে জড়িয়ে ধরে কেদে ফেলে। রেহানা বেগম ও নিজের ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কাদে। তারপর রয়ান বলে, মা।  আমি জানো। একটা দ্বিপে ছিলাম এই সাতদিন। আজকে আবার ফিরে এসেছি।

রেহানা বেগম ধমকের স্বরে বলে, চুপ! এই কথা আমাকে বলেছিছ।  ঠিক আছে। অন্যকাউকে আর বলবি না।



রয়ান কিছুই বুঝতে পারছে না। তার মানে কি সেগুলো সব স্বপ্নে ছিল। লীনা এন্ডারসন বলতে কি কেউ নেই?


রয়ান তার মায়ের কাছে গেল। তার মা সোফায় বসে টিভি দেখছিলেন। রয়ানকে দেখে টিভি অফ করে দিলেন। রয়ান তার মায়ের পাশে বসলো।


রয়ান বলল, মা! আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। আবার তুমিও আমার থেকে কিছু একটা লুকাচ্ছো?  ব্যাপারটা কী?


রেহানা বেগম কাঁদোকাঁদো গলায় বলতে লাগলেন, তুই এই ৭দিন নিখোঁজ ছিলি। তোকে আমরা সব জায়গায় খুজেছি। কিন্তু পাইনি। পরে গতকাল রাতে তোকে বাসার নিচে পরে থাকতে দেখি নগ্ন অবস্থায়।


রয়ান বলে, মা! আমি একটা দ্বিপে ছিলাম। সেখানে লিনাও ছিল। এখন সে আমাকে ছাড়া বাচবে না। আমাকে তার কাছে নিয়ে চলো।


রেহানা বেগম বলেন, চল! তাহলে তোকে তার কাছে নিয়ে যাই।


রয়ান তার মা কে নিয়ে গাড়িতে করে একটি সাইকেট্রিস এর বাসার সামনে আসলো। এই সাইকেট্রিস তাদের পরিচিত। রয়ান তাকে চিনে। লোকটা ফর্সা। মাথায় চুল কম। আর সবচেয়ে ইন্টেরেস্টিং বিষয় হচ্ছে। লোকটা এখনো বিয়ে করেনি। লোকটার নাম ডক্টর.হাবিব।


ড.হাবিব বসে আছেন চেয়ারে। তার সামনে রয়ান ও তার মা। ড.হাবিব রেহানা বেগম কে বাইরে যেতে বললেন। রেহানা বেগম বাইরে গেলেন। 


হাবিব সাহেব মুচকি হেসে রয়ানকে প্রশ্ন করলেন, তুমি নাকি একটা দ্বিপে ছিলে ৭দিন। আর সাথে লিনা ও ছিল?

রয়ান বলে, হ্যা! আমি সত্যি বলছি কিন্তু কেউ আমাকে বিশ্বাস করছে না।

হাবিব সাহেব বললেন, তোমার সাথে যা হয়েছে সেটা হলো তুমি মাথার পেছনে আাঘাত পেয়েছো।  এজন্য তুমি হয়তো অজ্ঞান হয়ে ছিলে। আর গভীর ঘুমে তলিয়ে গিয়েছিলে। তারপর সবই ছিল স্বপ্ন।

রয়ান বলতে গেল, কিন্তু!  ডক্টর।  

ডক্টর হাবিব হাত বাড়িয়ে রয়ানকে থামিয়ে দিলেন। বললেন, এখন আসতে পারো।


রয়ান তার ঘরে বসে টিভি দেখছিল। হঠাৎ একটি ইংরেজি চ্যানেলে তার চোখ আটকে যায়। সেই চ্যানেলে দেখানো হচ্ছে টানা দেড়বছর পর আজ নগ্নদ্বীপ থেকে একটি আমেরিকান কিশোরী মেয়েকে উদ্ধার করা হলো। মেয়েটির নাম লিনা এন্ডারসন। আসুন মেয়েটির একটি সাক্ষাতকার নেওয়া যাক।


রয়ান মেয়েটিকে দেখেই চিনতে পারলো। এটাই তো সেই মেয়ে লিনা। আমার ভালোবাসা।


টিভির সাক্ষাৎকার:

রিপোর্টার : আপনি ওখানে কতদিন ধরে আটকা পড়েছিলেন?

লিনা: প্রায় দেড়বছর।

রিপোর্টার: আপনি কিভাবে বেচে ফিরলেন?

লিনা: আমি ভুলবসত গাছে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিলাম। সেই ধোয়া দেখে এক হেলিকাপ্টার আমাকে উদ্ধার করে।



রয়ান আমেরিকা যাচ্ছে লিনার সাথে দেখা করতে। সে খুব এক্সাইটেড। সে প্লানে বসে ভাবছে লিনার সাথে কাটানো সময়গুলো। রয়ানের সাথে যাচ্ছে তার এক বন্ধু (নাম নিয়ামত)। রয়ান ভাবছে :


: লিনা তাকে সমুদ্রে থেকে তুলে বাচানোর জন্য কিস করেছিল।

: লিনা কে সে কপালে চুমু দিয়েছিল।

: লিনা তাকে বলেছিল ' তোমার ওটা দাড়িয়ে আছে কেন?'।


এসব ভাবছে আর একা একা হাসছে রয়ান। নিয়ামত বিষয়টা লক্ষ্য করে বলল, কিরে! দোস্ত। ওর কথা মনে পড়ছে নাকি?

রয়ান একটু লজ্জা পেল। তবুও বলল, হ্যা। অনেক স্মৃতি আছে ওকে নিয়ে। ও যখন হাসতো। ওখন ওর গালে টোল পড়তো। কি যে কিউট একটা মেয়ে তুই না দেখলে বিশ্বাস করবি।

নিয়ামত একটু রসিকতা করে বলল, আচ্ছা! তোরা তো দুজন ই নগ্ন ছিলি। তা লিনার ওইটা কত বড় রে!

রয়ান রেগে বলল, দুর, শুয়র কোথাকার।


তাদের সামনে খাবার পরিবেশন করার জন্য একজন মহিলা আসলো। এসে বলল, আপনারা কি নিবেন?

নিয়ামত বলল, এক গ্লাস ডারু দেন।

মহিলা বলল, ওকে স্যার। তারপর রয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল, আর আপনি কিছু নিবেন?

রয়ান বলল, না।ম্যাম। কিছু নিবো না।


রয়ান ভাবছে কখন প্লেন থেকে নামবে আর তারপর লিনার বাসায় সামনে যাবে। লিনা দরজা খুলবে আর তখনই লিনাকে জড়িয়ে ধরবে। রয়ানের যেন আর ধৈর্য্যে কুলায় না।

 

এর মধ্যে আবার নিয়ামত রসিকতা শুরু করেছে। নিয়ামত বলছে,  দেখলি। ওয়েটারের পাছাটা কত বড়। মন চায় চায় হাত দিয়ে টিপে দেই।

রয়ান এবার রেগে গেল বলল, চুপ কর সুয়োরের বাচ্চা। নয়তো আই ওইল কিক ওন ইউর এ্যাস।

নিয়ামত ভয়ে বলল, ওকে চুপ করলাম।


অবশেষে প্রায় ১২ ঘন্টা পর। তারা বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা এসে পৌছালো।

নিয়ামত বলল, দোস্ত যখন প্লেনে উঠি। তখন দুপুর ১২টা।  এখন প্লেন থেকে নেমেও দুপুর ১২টা। কিন্তু এখন তো রাত হওয়ার কথা। দিন কেন?

রয়ান বলল, এসব দাঘীমা রেখার কারনে।

নিয়ামত বলল, দাঘীমা রেখা কি?

রয়ান বলল,  চুপ কর ভাই। কখন থেকে বক বক করেই যাচ্ছিস।


একটা গাড়ি নিয়ে রয়ান ও তার বন্ধু এসে পড়লো লিনাদের বাসার সামনে। তারপর রয়ান কলিংবেল টিপলো। তার বুক ধ্বুক ধ্বুক করছে।



দরজা খুলতে দেরি নেই আর রয়ান কিছু না ভেবে কিছু না দেখেই ঝাপিয়ে পড়লো দরজার ওপর আর তাকে ঠোটে কিস করলো। রয়ান চোখ বন্ধ করে জড়িয়ে ধরে তার ঠোটে চুমু খাচ্ছে। সেও সাড়া দিচ্ছে। কিন্তু চোখ খুলেই রয়ান ভুত দেখার মতো চমকে উঠলো। এটা তো লিনা না। একটা বুড়ো মহিলা তার সামনে দাড়িয়ে আছে।


নিয়ামত হেসে কুটিকুটি। নিয়ামত বলল,

 'এই তোর লিনা? হাহাহা! যার জন্য সাত সমুদ্র।  তেরো নদী পাড়ি দিয়ে এসেছিছ।'


রয়ান হতভম্ভ। মহিলাটা হেসে ইংরেজিতে  বলল, আজ অনেকদিন পর কেউ আমাকে এতো ভালোবাসলো। আই লাভ ইউ জান।

রয়ান থু থু ফেলল মাটিতে। লিনা ভেবে সে কাকে চুৃমু দিয়ে বসলো?

রয়ান মহিলাকে জিজ্ঞাস করলো করলো, এটা কি লিনা এন্ডারসন এর বাসা?

মহিলা বলল, হ্যা। তবে লিনা এখন স্কুলে গিয়েছে। তুমি কে?

রয়ান বলল, আপনও তার কি হন?

মহিলা বলল, আমি এই বাসাতে কাজ করি।

রয়ান বলল, আপনি কি আমাকে লিনার স্কুলের ঠিকানা দিতে পারবেন?


মহিলা লিনার স্কুলের ঠিকানা দিল। রয়ান আর নিয়ামত বেরিয়ে পড়লো সেই ঠিকানা অনুযায়ী। তারা রাস্তায় হাটতে।


নিয়ামত ফান করার চেষ্টা করছে। নিয়ামত বলল, সব ছাড়া কাজের বুয়াকে চুমা দিলি? হাহাহা। আর কাউকে পেলি না।


নিয়ামতের কথাগুলো রয়ানের কানে যাচ্ছে না। সে লিনার চিন্তায় ব্যস্ত। অবশেষে তারা পৌছালো লিনার স্কুলে। বিশাল বড় মাঠ। মাঠ পেরোলেই স্কুল। কিন্তু এতো বড় স্কুলের কত তলায় কত নাম্বার কক্ষে আছে। তা তো সে জানে না। 


মাঠের মধ্যে থাকা একটা মেয়ে কে রয়ান জিজ্ঞাসা করে লিনা এন্ডারসন কোথায়?

মেয়েটি রসিকতা করে ল্যাডিস টয়লেট এর পথ দেখিয়ে দেয়। রয়ান ছুটে চলে সেইদিকে। তার পেছন পেছন ছুটে নিয়ামত। অবশেষে তারা বাথরুমের সামনে দাড়ায়। আর দরজা ধাক্কা মেরে খুলে দেয়। আর যা দেখে তা দেখার জন্য রয়ান প্রস্তুত ছিল না। 


রয়ান দেখে লিনা আর একটি ছেলে একে অপরকে চোখ বন্ধ করে চুৃমু খাচ্ছে। এটা দেখে রয়ানের মন ভেঙ্গে যায়। আর রয়ান এটা বুঝে যায় যে লিনা এখন নতুন কাউকে পেয়ে তাকে ভুলে গেছে।


♠(সমাপ্ত)♠


[ যেকোন প্রশ্ন থাকলে করতে পারেন। আমি উত্তর দিব। ]

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পিচ্চি বউ - পর্ব ২৯

 আমি জেরিনকে বললাম, আবারো তুমি প্যন্টে হিসু করে দিয়েছো?  জেরিন ঘুমঘুম চোখে বলল, এটা হিসু না। লাইট অন করেন। আমি লাইট অন করলাম। আর অবাক হয়ে তার সাদা পাজামার দিকে তাকালাম। তার সাদা পাজামা পুরো লাল হয়ে আছে। আমার  আন্ডারওয়ারেও কিছু লাল দাগ লেগেছে।  আমি ভয়ে আতংকিত হয়ে জেরিনের গালে দুহাত হাত রেখে  বললাম , ও মাই গড। তোমার রক্ত বের হচ্ছে কেন? জেরিন বলল, এমন নাটক করতাসেন কেন? ড্রয়ার থেকে প্যাড এনে দেন।  আমি ড্রয়ার থেকে প্যাড এনে দিলাম।  আমি বললাম, তোমার কি কোথাও কেটে গেছে। না হলে রক্ত বের হচ্ছে কেন? জেরিন রেগে বলল, ফাজিল কোথাকার বুঝেন না আমার পিরিয়ড হচ্ছে। এই কথা শুনে আমি জেরিনকে জড়িয়ে ধরলাম। তারপর কানে কানে বললাম, তোমার কি খুব কষ্ট হচ্ছে? পেট ব্যথা করছে?  <amp-auto-ads type="adsense"         data-ad-client="ca-pub-9645388120151436"> </amp-auto-ads> এদিকে জেরিন দেখি খুব নরমাল আছে। যেন কিছুই হচ্ছে না তার। ইরা যখন বলেছিল তার মিন্স হচ্ছে। তখনই ইন্টারনেটে সার্চ দিয়েছিলাম যে মিন্স হলে মেয়েদের কেমন ফিল হয়। সেখানে পড়লাম মিন্স হলে মে...

খালাতো বোনের সাথে প্রেম / রোমান্টিক প্রেমের গল্প / Rudro Siyam

মা যখন বললেন যে আমার বিয়ে হবে আমার খালাতো বোনের সাথে। সে কথা শুনেই আমি ভয়ে বাসে করে কক্সবাজার চলে আসলাম। এখানে একটি হোটেলে উঠেছি নিজেকে লুকিয়ে রাখার জন্য।  আমাকে পেলেই মা-খালা মিলে বিয়ে দিয়ে দিবে। তাই কয়েকদিন লুকিয়ে থাকি। যখন সুরভীর বিয়ে হয়ে যাবে। তখন আমি আবার বাড়ি চলে যাবো। হ্যা! সুরভী ই আমার খালাতো বোনের নাম। এবার ক্লাস টেনে উঠেছে আর তাকে বিয়ে দিয়ে আমার ঘাড়ে চাপানোর প্লান করছে আমার মা আর খালা।  হোটেল রুমে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ কলিংবেলের শব্দে তড়াক করে উঠে। দরজা খুলতেই দেখি একটা ফুলের তোড়া হাতে কে যেন দাড়িয়ে আছে। ফুলটার গন্ধ নিতেই আমি অজ্ঞান হয়ে গেলাম। জ্ঞান ফিরলে দেখি আমার হাত,পা বাধা করে আমাকে গাড়িতে করে কোথায়ও যেন নিজে যাওয়া হচ্ছে। তার মানে কি আমাকে কিডন্যাপ করা হয়েছে। গাড়ি যে চালাচ্ছে। সে রাকিব। আমার বন্ধু! রাকিব: দোস্ত! টেনসন করিস না! লাইফে একবার না। একবার তো বিয়ে করতেই হবে। বিয়ে থেকে পালালে হবে?  আমাদের ধর্মে তো বিয়ে করা ফরজ। তাহলে তুই পালিয়ে বেড়াচ্ছিছ কেন? আমি: তুই কিভাবে জানলি যে আমি কক্সবাজারের হোটেলে আছি? তোকে কে খবর দিল? রাকিব: আরে! বেটা! এখন ইন্টারনেটের যুগ। তুই...

প্লেবয় লাভ স্টোরী) রোমান্টিক প্রেমের গল্প/ রুদ্র সিয়াম

শামীম: রুদ্র। তুই একটা প্লেবয়। তুই এতো মেয়েকে কিভাবে পটিয়ে ফেলিস বুঝি না। যেখানে আমাকে কোন মেয়েই পাট্টা দেয় না। দোস্ত। মেয়ে পটানোর টিপস গুলো আমাকে একটু বল। আমিও তোর মতো প্লে বয় হতে চাই। আমি মোবাইলের স্ক্রিন থেকে চোখ সড়িয়ে তাকালাম শামীমের দিকে। বেচারা এতোবার রিজেক্ট খেয়েছে। এখন আমার কাছ থেকে মেয়ে পটানো শিখতে চায়। আমি: দেখ একটা মেয়ের পেছনে কম হলেও ৪/৫ টা ছেলে ঘোরে। এখন যদি তুইও ঘুরিস। তাহলে সেই ৪টা ছেলে আর তোর মধ্যে কি তফাত থাকলো? তোকে হতে হবে স্পেশাল। তাহলেই দেখবি মেয়েরা তোর প্রতি আগ্রহ দেখাবে আর তোর পেছন পেছন ঘুরবে। বুঝলি? শামীম: আচ্ছা। চেষ্টা করে দেখব। আর কোন টিপস নাই।  আমি: মেয়েদের পাট্টা দিবি না। তাহলে মেয়েরা তোকে পাট্টা দিবে। যত সুন্দর মেয়েই হোক। এমন ভান করবি তোর সামনে কিছুই না। শামীম: কিন্তু আমার তো মেয়েদের সামনে গেলেই হাত পা কাপে। আর টয়লেট লাগে বার বার।  আমি: এরকম হলে তুই কখনই মেয়ে পটাতে পারবি না। আজীবন সিঙেল ই থাকবি। এরকম সময় আমাকে সুনেরাহ কল দিল। আমি কল রিসিভ করলাম। আমি: (ধমক দিয়ে) এই সময়ে কল দিয়েছো কেন? জানো না আমি ব্যস্ত থাকি। তোমাকে বলেছি রাত ১২ টার পর কল দিবা। কত ম...