"পরীর সাথে প্রেম"
(১ম পর্ব)
রাতে কয়েকবার কারেন্ট চলে গেল। আর তখনই বাড়ির সামনে গাছের ওপর বর্জ্যপাত পড়লো। রাজের ঘুম ভেঙ্গে গেল। এই গরমে ঘুমানো যায় না। তাই সে ঘুম থেকে উঠে একটা সিগারেট ধরালো। জানালার কাছে এসে জানালার পর্দা সরিয়ে বাইরে তাকালো। চারিদিকে নীরবতা। সকাল হতে শুরু করেছে।
রাজ ঘড়ির দিকে তাকালো সকাল ৪ টা বেজে ৪৫ মিনিট। সিগারেট শেষে রাজের চা খেতে ইচ্ছে হলো। এই গরমে আর ঘুমানো যাবে না। তাই সময় পার করার জন্য রাজ রান্না ঘরে ঢুকে চা বানালো।
চা হাতে যখন সে ঘরে ঢুকলো। তখন দেখলো ঘরের এক কোণায় বসে আছে এক নগ্ন মেয়ে। অন্ধকারেও তার শরীর থেকে অল্প আলো বের হচ্ছে। এতো ফর্সা মেয়ে রাজ আগে কখনও দেখেনি। মেয়েটা ভয়ে ঘরের এক কোনায় নিজেকে লুকানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু মেয়েটা ঘরে ঢুকলো কিভাবে? মেইন দরজা তো বন্ধ। এটা ভেবে রাজ মেইন দরজার দিকে তাকালে দেখে দরজা খোলা। রাজ মেইন দরজা বন্ধ করে মেয়েটার সামনে আসলো।
রাজকে দেখে মেয়ে তার দিকে তাকালো। তখনই রাজের মনে হলো এটা কোন সাধারন মেয়ে না। একটা মেয়ে কখনই এতো ফর্সা হতে পারে না। এটা কি তাহলে ভুত নাকি তার বিভ্রম হচ্ছে। রাজ কিছু বোঝার আগেই মেয়েটা বলল, আমি একটা পরী। আর বর্জ্যপাতে আমার ডানা দুটো ভেঙ্গে গেছে। আপনি কি আমাকে সাহায্য করবেন?
রাজ কি বলবে বুঝতে পারছে না, সে তার একটা শার্ট মেয়েটাকে দিল। মেয়েটা সেই শার্ট টা গায়ে দিল। রাজ মেয়েটার জন্য কফি বানিয়ে আনলো।
মেয়েটা কফিতে চুমুক দিয়ে রাজকে ধন্যবাদ জানালো।
সকালে ঘুম থেকে উঠে রাজ দেখে যে তার পাশে মেয়েটা নেই। পরী টা কি তাহলে স্বপ্ন ছিল? এটা ভাবতে ভাবতেই রাজ শুনতে পেল বাথরুম থেকে ঝর্ণার শব্দ আসছে।
বাথরুম থেকে পরী'টা গোসল করে বের হয়েছে। তার শরীরে কোন কাপড় নেই। তার চুল থেকে পানি বেয়ে মেঝেতে পড়ছে। রাজ মুগ্ধ হয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে। তারপর রাজ কিছুটা লজ্জা পেয়ে নিজের চোখ নামিয়ে ফেলল। আর একটা তোয়াল দিয়ে পরীর শরীর ঢেকে দিল।
গতকাল রাজ লক্ষ্য করেছে। যে পরীর পিঠে দুটো বড় দাগ। যেন কেউ তার ডানাগুলো কেটে দিয়েছে। সেই দাগ থেকে কিছুটা রক্ত তার শার্টেও লেগেছে। যেই শার্ট সে পরী কে পড়তে দিয়েছিল। যার ক্ষত স্থানে মলম দেওয়ার জন্য ফার্মেসি থেকে মলম কিনে নিয়ে আসলো।
বাসায় এসে যখন রাজ পরীটাকে মলম লাগিয়ে দিচ্ছিল। তখন পরীটা বার বার ব্যথায় নড়ে উঠছিল। আর সেই ব্যথা রাজের অন্তরে গিয়েও লাগে।
পিছে মলম লাগাতে লাগাতে রাজ বলল, আপনার দেশ কোথায়?
পরীটা এই কথা শুনে ওপরের দিকে তাকালো। রাজ ভাবলো হয়তো ওপর তলার ফ্লাটে তার দেশ।
রাজ বলল, আপনি উপর তলায় থাকেন?
পরীটা মাথা নেড়ে "না" জানালো।
রাজ বলল, তাহলে কোথায় থাকেন?
পরী কোন কথা বলল না। পেছন ফিরে রাজের মাথা ধরে তার ঠোঁটে চুমু খেল। তারপর পরীটা বলল, আপনাদের ভাষায় আমাকে বলে এলিয়েন।
রাজ কথাটা শুনে ২পা পিছালো। তারপর বলল, এলিয়েন তো শুনেছি মানুষ খায়। এখন কী আপনি আমাকে খেয়ে ফেলবেন?
পরীটা এবার দু হাত দিয়ে মুখ চেপে হাসতে লাগলো। তারপর বলল, হ্যা! আসুন! আপনার ঘাড় মটকাই।
পরীর কথা শুনে রাজ লুঙ্গি খুলেই দৌড় দিল। ঘরের বাইরে বের হয়ে গেট বন্ধ করলো।
শামীম পর্ন ভিডিও দেখছে। দেখার পর সে বাথরুমে গেল। তারপর নিজের এনার্জি শেষ করে ঘরে ফিরে এলো। আর তখনই রাজ তাকে কল করলো।
রাজ: দোস্ত! বিপদে পড়েছি। আমার ঘরে পরী। সরি! এলিয়েন এসে বসে আছে।
শামীম: তাহলে! তুই এখন কই?
রাজ: আমি ঘরের বাইরে।
( তাদের কথা বলার ফাকে এক মেয়ে সিড়ি বেয়ে নিচে নেমে গেল। রাজকে দেখে মেয়ে মুচকি হাসলো। আর বলল, এতো ছোট কেন? রাজ তার কথা বুঝলো না, যে মেয়েটা কিসের কথা বলবো। এদিকে যে রাজ লুঙ্গি ভেতরে ফেলে রেখে আসছে। এটা সে নিজেও জানে না)
শামীম: তুই কোন চিন্তা করিস না! আমি এখনই আসছি।
১০ মিনিট পর শামীম আসলো। এসে দেখে রাজের ওপরে কাপড় আছে। নিচে কোন কাপড় নেই।
শামীম বলল, কিরে! তোর লুঙ্গি কই?
রাজ এবার দেখলো। যে সে লুঙ্গি ছাড়া আর তখনই তার মনে পড়লো। যে লুঙ্গি তো ভেতরে।
শামীম বলল, এটা দেখানোর জন্য ডাক দিছোস?
রাজ বলল, আরে না! সত্যি সত্যি ই ঘরে একটা পরী আসে। বিশ্বাস না হলে তুই ঘরে ঢুকে দেখ।
শামীম বলল, ওকে!
কথাটা বলে শামীম ঘরে ঢুকলো। সে দেখলো একটা মেয়ে নগ্ন হয়ে বসে আছে। শামীমের গলা শুকিয়ে গেল। তার হাত পা অবশ হয়ে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেল। যখন তার জ্ঞান ফিরলো। তখন দেখে সে পরীর কোলের ওপর শুয়ে আছে। পরীটা তাকে গান গেয়ে শোনাচ্ছে। শামীম বলল, আপা! ভুল হয়েছে মাফ করে দেন।
পরীটা বলল, তুমি কি আমাকে ভালোবাসা দিবে?
শামীম বলল, ভালোবাসা ক্যামনে দেয়?
পরীটা বলল, স্বামি যেভাবে স্ত্রীকে ভালোবাসে।
একে তো শামীম ছিল লুইচ্চা এদিকে পরীর একথা শুনে শামীম এর মুখ থেকে লালা পড়তে লাগলো।
শামীম নিজের জামা খুলে ফেলল। তারপর শামীম আর পরীটা মিলিত হলো।
রাজ অনেকক্ষন ধরে বাইরে দাড়িয়ে থাকার পরও যখন দেখলো যে শামীম বাইরে বের হচ্ছে না। তখন রাজের সন্দেহ হলো। তাই সে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করলো। আর সে যা দেখলো তা দেখে রাজ অনেক ভয় পেয়ে গেল।
রাজ দেখলো মেঝেতে শামীম পড়ে আছে, তার শরীর নড়ছে না। যেন সে পাথর হয়ে গেছে। তার জানালার একপাশে কোনায় আলমারির পাশে বসে আছে সেই পরী'টি। পরীটার দৃষ্টি জানালার বাইরে। দেখে মনে হয় সে এক দৃষ্টিতে জানালার বাইরে তাকিয়ে কি যেন ভাবছে। রাজ যে ঘরে প্রবেশ করেছে। এদিকে তার কোন ভ্রুক্ষেপ নেই।
রাজ শামীমের কাছে আসে। শামীমের শরীর টাচ করতেই রাজ ভয় পেয়ে গেল। শামীমের শরীর প্রচন্ড ঠান্ডা। যেন তাকে ফ্রিজে রাখা হয়েছিল। আর শামীম নিঃশ্বাস নিচ্ছে না। যার মানে শামীম মারা গেছে। কিন্তু কিভাবে?
এসব কথাই রাজ ভাবছে আর তখনই রাজের দিকে না তাকিয়েই পরী টি কথা বলতে শুরু করলো। যেন সে রাজের মনের কথাগুলো কোন এক উপায়ে জেনে গেছে। সেরকম ভাবেই উত্তর দিতে লাগলো। পরী টা বলল, তুমি হয়তো ভাবছো। শামীম মারা গেছে কিভাবে? আমি ওকে মেরে ফেলেছি কি না? আসলে আমাদের গ্রহে। আমরা নারী প্রধান। মানে সেখানে নারীরাই সব কাজ করে। জিবীকা নির্বাহ শুরু থেকে রানী। সবই মেয়েরা হয়। আমি ছিলাম সেই গ্রহের প্রিন্সেস। আর সেখানে পুরুষদের কোন কাজ নেই। তাদের কাজ শুধু বাচ্চা জন্মে সাহায্য করা। কিন্তু!
রাজ বলল, কিন্তু কী?
পরী টা আবার বলতে লাগলো, কিন্তু আমাদের সাথে যারা মিলিত হবেই তারাই মারা যায়। কারন মিলিত হওয়ার সময় তাদের শরীরে আমাদের বিষ ঢুকে যায়। আর তারা মারা যায়।
রাজ বলল, শামীম কি তোমার সাথে মিলিত হয়েছিল?
পরী টা বলল, হ্যা! সে নিজের মিলিত হওয়ার লোভ সামলাতে পারেনি। আর এখন শামীমের বাচ্চা আমার পেটে।
কথাটা বলে পরী নিজের পেটে হাত রাখলো। রাজ দেখলো পরীর পেট টা আস্তে আস্তে ফুলে উঠছে।
পরীটা বলল, আমাদের গ্রহ আর তোমাদের গ্রহের সময় এক ভাবে ও এক নিয়মে চলে না, তাই ৭দিনের মধ্যে আমার বাচ্চা এই দুনিয়াতে আসবে। আর আমি এই পৃথিবীর সাথে খাপ খাওয়াতে পারছি না। আমার নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে আমি মারা যাবো। তুমি কি আমাদের বাচ্চার দেখভাল করবে?"
৭ দিন পর:
রাজের কোলে সেই পরীটার বাচ্চা। রাজ বাচ্চাটাকে তোয়ালে পেচিয়ে নিজের কোলে নিয়েছে। অসম্ভব ফর্সা একটা মেয়ে শিশু। রাজ বাচ্চাটার কপালে চুমু খেল। এ বাচ্চাটা তার নিজের না, তারপরও রাজ পরীকে ভালোবেসে এ কে নিজের মতো মানুষ করবে। কিন্তু শিশুটি তো অর্ধেক মানুষ, অর্ধেক এলিয়েন। তাতে কি হয়েছে?
রাজ দেখলো পরীটা এখন অসুস্থ হয়ে পড়েছে। দেখে মনে হচ্ছে ওর নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা হচ্ছে। পরীটা রাজের হাত ধরলো। তারপর বলল, আমার বাচ্চাটাকে দেখে রেখো। কথাটা বলেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলো। আর তখনই রাজের কোলে থাকা শিশু হাউ মাউ করে জোরে জোরে কান্না করতে শুরু করলো। রাজ দেখলো পরীর দেহ তার সামনেই যেন ধুলোয় মিলিয়ে গেল।
রাজ কিছুক্ষনের জন্য জানালার বাইরে তাকালো আর ভাবলো যে আজ হয়তো এই শিশুটা তার হতো। কিন্তু সেটা হলো সে আর এই পৃথিবীতে থাকতো না। এসব ভাবছে আর তখন ই দরজায় কে যেন জোরে জোরে শব্দ করতে লাগলো। রাজ লুকিং গ্লাস দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখলো। দরজার বাইরে দুইটা পরী। যাদের পেছনে সাদা ডানার বদলে কালো ডানা। যার মানে এরা শয়তান পরী। আর এরা এসেছে শিশুটাকে মেরে ফেলতে।
রাজ বাইরে থাকা দুইটা পরীকে দেখেই তা বুঝতে পারলো। তাই সে জানালার কাচ ভেঙ্গে শিশুটাকে কোলে জড়িয়ে নিয়ে ২য় তলা থেকে রাস্তায় ঝাপ দিলো। আর সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় এসে পড়লো। তার তেমন কোন ক্ষতি হলো না। একবার তোয়ালে জড়ানো বাচ্চাটাকে দেখে নিয়ে রাজ দৌড়াতে শুরু করলো। আর পেছনে তাকিয়ে দেখে যে সেই ইভিল পরী দুটো ভাঙ্গা জানালার সামনে দাড়িয়ে আছে। হয়তো দরজা ভেঙ্গে তারা ভেতরে ঢুকেছে। এখন রাজের চোখ তাদের ওপর পড়তেই ইভিল পরী দুটোর চোখ ও রাজের দিকে। মানে তারা রাজ কে দেখতে পেয়েছে।
কালো ডানার পরীগুলো রাজের পেছন পেছন তাড়া করছে, হন্যে হয়ে খুজছে তাকে। কিন্তু রাজ এখন কোথায়?
রাজ একটি ময়লার ডাস্টবিনে লুকিয়ে আছে, তার কোলে সেই পরীর বাচ্চাটা। রাজ বাচ্চাটার নাম দিয়েছে হেনা। রাজ হেনাকে নিজের বুকের সাথে জড়িয়ে রেখেছে। যাতে শিশুটার গায়ে কোন ময়লা না লাগে। এরকম সময় ই সে শুনতে পেল তাদের পায়ের শব্দ। শব্দটা আস্তে আস্তে তার সামনে চলে আসছে। রাজ নিজের বুকের ওপর একটা চাপ অনুভব করলো। আর এরকম সময় ই হেনা চেচিয়ে কান্না করা শুরু করলো। কান্নার সময় বাইরেও চলে আসছে।
কালো ডানার দুটা পরী রাজকে খুজতে খুজতে একটা ডাস্টবিনের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। প্রথমে তাদের সন্দেহ হয়নি, যে ডাস্টবিনে রাজ লুকাতে পারে। কিন্তু যখন ই তারা ডাস্টবিনের থেকে একটু গেল। তখন একটি শিশুর কান্নার শব্দ পেল ডাস্টবিন থেকে। আর তারা বুঝে গেল। যে সেখানেই রাজ লুকিয়ে আছে। তাই এক এক পা করে সেই ডাস্টবিন এর সামনে এগোতে লাগলো।
রাজ ধরা পড়ে গেল সেই কালো ডানা পরী দুটোর কাছে, রাজকে তারা একটি স্পেস শিপ এ করে অন্যএকটি গ্রহে নিয়ে যাচ্ছে তারা। সেখানে পরীরা বসবাস করে। যে গ্রহ সম্পর্কে মানুষেরা এখনও কিছু জানে না।
স্পেসশিপ থেকে নামতেই রাজ দেখলো। তার সামনে বিশাল বড় ভুমি। যেখানে শুধু বালি ছড়াছড়ি। আকাশে দিকে তাকিয়ে দেখলো। সেখানে চাদ হচ্ছে ২টা। আর চারিদিকে কেমন লাল আলো ছড়িয়ে রয়েছে। কিছু পরী ডানা মেলে আকাশে উড়ছে। তাদের কারো শরীর ই জামা নেই। তারা মুক্ত, স্বাধীন।
রাজপর পেছনে একধরনের অস্ত্র ধরে আছে দুজন কালো ডানার পরী। এই অস্ত্রটা দেখতে বন্দুকের মতো। অবশেষে তারা রাজকে নিয়ে হাজির হলো বিশাল এক প্রাসাদে। রাজের কোলে এখনও হেনা ঘুমিয়ে আছে। রাজকে নিয়ে প্রাসাদে ঢুকলো তারা।
রাজকে দেখে সেখানকার রানী উঠে দাড়িয়ে বলল, ওয়েলকাম, আমাদের পরীদের গ্রহে তোমায় স্বাগতম । রাজ লক্ষ্য করলো এখানকার রানী পরীটার ডানার রং টাও কালো। তার মানে এরা শয়তানী পরী?
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন