Bad Boy
(Rudro Soyam)
রনির হাতে ছুড়ি। সে ছুড়ি বেড়ে টপ টপ করে রক্ত মাটিতে পড়ছে। সে ছুড়ি হাতে জেলখানায় ঢুকলো। সব পুলিশ তার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে।
রনি টেবিলে টেবিলে ছুড়িটা রাখলো। তারপর টেয়ার টেনে বসলো। টেবিলের ওপাশে আসে আছে পুলিশ।
রনি গম্ভীর গলায় বলল, আমি খুন করেছি।
আমাকে ফাসি দেন।
পুলিশ লোকটা এমন লোক আগে কখনো দেখেনি। যে খুনি খুন করে থানায় এসে ফাসি চায়।
পুলিশ লোকটা বলল, তুমি কে? আর কাকে খুন করেছো?
রনি বলল, সব ই বলবো। আগে আমার জন্য ১টা চা আর ১টা সাদা রয়েল নিয়ে আসুন।
পুলিশ মনে মনে ভাবছে ছেলেটা কি পাগল নাকি?দেখে তো তা মনে হয় না। আর সে যে খুন করেছে। তার প্রমানও নিয়ে এসেছে। ব্যাপারটা কি জানতে হবে।
রনির সামনে চা সিগারেট। সে সিগারেটে টান দিয়ে ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বলল, ঘটনা হচ্ছে আমি যাকে ভালোবাসি সে মেয়েটাকে ভালোবাসি। সে মেয়েটা আমাকে ভালোবাসে না।
কথাটা শেষ করে চায়ে চুমুক দিল।
পুলিশ বলল, এজন্য তুমি খুন করবে?
Bad Boy "
PART - 2
( প্রেমের গল্পঃ )
(Namor Redkis)
অবন্তি জানালা খুলে বাইরে তাকালো ! বাইরে রাস্তা দেখা দেখছে ! বৃষ্টি পড়ছে ! বৃষ্টি পড়লে অতীতের কথা মনে পড়ে যায় ! অবন্তির মনে পড়ে গেল ১ বছর আগের কথা !
আগে বৃষ্টি পড়তে অবন্তি যখন জানালার সামনে দাড়িয়ে বৃষ্টি দেখতো ! তখন সে দেখতো একটি কিশোর বৃষ্টিতে ভিজছে আর গান গাইতে গাইতে হেটে চলে যাচ্ছে তার সামনে দিয়ে ! সবচেয়ে ভয়ংকর কথা হচ্ছে ছেলেটি তার দিকে নিললর্জের মতো তাকিয়ে থাকতো!
আজ সেই ছেলেটি তার খুব দেখতে ইচ্ছে করছে । অবন্তি রান্নাঘরে তার মাকে রান্নার কাজে সাহায্য করছিল! হঠাৎ সে তার বহুপরিচিত শব্দে চমকে ওঠে বুক ধ্বর_ভর করতে থাকে তার ! তার মানে কী?
সেই কিশোর ছেলেটা ফিরে এসেছে?
সে শুনতে পায় কে যেন তাদের রান্নাঘরের পাশ দিয়ে হেটে গেল আর গান গাইলো ! গানটা হচ্ছে:
"যো ওয়াদা কিয়া ও নিভানা পারেগা! রোকে জামানা চাহে রোতে খুদাই তুমকো আনা পারেগা!"
অবন্তি হাতের কাজ ফেলে উঠে দাড়ায় ! এক দৌড়ে চলে আসে আমগাছ তলায় ! যেখানে সেই কিশোর ছেলেটা দাড়িয়ে স্মোকিং করছিল! ছেলেটিকে দেখে তার বুক ধ্বুক ধ্বুক করে ওঠে !
অবন্তি ছেলেটির কাছে এগিয়ে গেল! অবশেষে ছেলেটির সামনে এসে দাড়ালো অবন্তি! ছেলেটি তার হাতের সিগারেট নিচে ফেলে পা দিয়ে সিগারেটের আগুন নেভালো!
অবন্তি বলল, আমি আপনাকে একটা কথা বলতে চাই!
ছেলেটি বলল,বলো!
অবন্তি বলল, আমি আপনাকে ভালোবাসি! আপনিও কি আমাকে ভালোবাসেন?
ছেলেটি চুপ করে কিছুক্ষন দাড়িয়ে থাকার পর অবন্তিকে জড়িয়ে ধরলো! তারপর অবন্তির কানের কাছে মুখ রেখে ফিসফিস করে বলল, আমার ক্যানসার ধরা পড়েছে! ডক্তর বলেছে ৬মাস বাচব!
কথাটা বলে অবন্তিকে ছেড়ে আরেকটা সিগারেট ধরালো!
অবন্তি বলল, তাহলে সিগারেট খাওয়া ছেড়ে দিন!
ছেলেটি বলল, তা আমি পারব না অবন্তি!
অবন্তি বলল,কেন?
ছেলেটি বলল, যেকটা দিন বেচে আছি,এই সিগারেটের সাহায্যেই তো! তোমরা মেয়েরা ধোকা দাও ! সিগারেট কখনও ধোকা দেয় না
আপনার কাপড় খুলেন । নয়তো ছিড়ে ফেলবো । কথাটা শেষ না হতেই শাড়ি ধরে টানাটানি করতে লাগলো রনি ।
মেয়েটা বলবো, এই টানাটানি করছেন কেনো? আমি খুলছি তো। কোনো ধৈর্য সর্য নাই । কথাটা বলে নিজের ব্লাউজ খুলতে লাগলো ।
এরকম সময় দরজার গেট এ কে যেনো ঠক ঠক করতে লাগবো । রনি বিরক্ত হয়ে ভেতর থেকে জবাব দিল, কোন খান*** পোলায় ডিস্টার্ব করে ।
বাইরে থেকে জবাব আসলো, দোস্ত । তাড়াতাড়ি বের হয় । পুলিশ আসতেছে ।
রনি বলল, আসলে আসুক । আমার কি ।
বাইরে থেকে শামীম (রনির বন্ধু) বলল, ' পাগলামি করিস না দোস্ত , বের হয়ে আয় ।
শার্ট এর বোতাম লাগাতে লাগাতে দরজা খুললো রনি । চোখে মুখে বিরক্ত ছাপ ।
' চল ! তাড়াতাড়ি এই জায়গা থেকে চলে যায় ' । তারা ওই জায়গা থেকে চলে এলো । জায়গাটা ছিল একটা বেশ্যা পল্লী ।
রনি আর শামীম ছোট বেলার বন্ধু । তারা একটা চায়ের দোকানে বসলো । রনি সিগারেট এ টান দিয়ে বললো, দেখ । আগে আমিও ভালো ছেলে ছিলাম । কিন্তু এখন যে আমার জীবনটা এমন হয়ে যাবে বুঝতে পারিনি ।
শামীম কাধে হাত দিয়ে সান্তনা দিয়ে বলল, কোনো ব্যাপার না । সব ঠিক হয়ে যাবে ।
এমন সময় এক পিচ্চি মেয়ে রনির সামনে এসে বলল, ভাইয়া আমি গত তিনদিন ধরে না খেয়ে আছি । আমাকে কিছু টাকা দাও।
শামীম পিচ্চি টাকে বলল, যা ভাগ ।
রনি বলল, থাম । শামীম । কথাটা বলার পর নিজের পকেট থেকে 50 টাকা বের করে পিচ্চিটাকে দিল ।
তারপর তারা একটা রিক্সা নিল । রিক্সা তে বসে রনি সিগারেট ধরালো । তারপর গম্ভীর ভাবে বললো, দোস্ত, আজকে মদ না খেলে আমার হবে না, সাথে সবজি ও থাকতে হবে । তুই সব ব্যবস্থা কর । শামীম বলল, ওকে ।
রাত 12 টা । রনি মদ খেয়ে বাসায় ফিরলো । রনি চেষ্টা করছে নিজেকে সামলে রাখতে যাতে বাসায় কেউ কিছু না বুঝে । কিন্তু সে হাঁটতে পারছে না । বার বার মাটিতে পড়ে যাচ্ছে। এরকম ভাবে কোনো মতে বাসায় আসলো। দরজায় নক করতেই তার বাবা খুলে দিল ।
রনি বলল, ভালো আছো ।
তার বাবা রনির মুখের গন্ধ তেই বুঝে ফেললো যে সে মদ খেয়ে আসছে । রনি তার রুমে এসে ঘুমিয়ে পড়লো ।
বর্তমানের ঘটনা: (১মপর্ব পড়ে আসুন)
পুলিশ: তো। খুন করার কারন তো এখন ও বুজলাম না । আসল ঘটনায় আসো।
রনি: পুরো ঘটনা না শুনলে আপনি কিছুই বুঝতে পারবেন না ।
পুলিশ: এখন ও কিছু বুঝতে পারছি না । একবার বললে যে প্রেমের গল্প । এবার বললে খারাপ হওয়ার পরের গল্প । আসল ঘটনা কি?
রাত 12 টা । এমন সময় গ্রামের সব মানুষ ঘুমিয়ে পড়ে । আমগাছ তলায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে রনি । চারিদিকে অন্ধকার ঝিঁঝিঁ পোকাদের শব্দ । রনি আকাশে তাকালো আজ জোছনার রাত । চারিদিকে জোছনার আলো পড়েছে ।
এমন সময় অবন্তী আসলো সেখানে । এসেই বিরক্ত হয়ে বললো , এতো রাতে কেনো ডেকেছেন?
রনি কথা নেই বার্তা নেই । অবন্তীর ঠোঁটে চুমু খেল আর তার হাত দিয়ে অবন্তী নরম স্তন চেপে ধরলো ।
অবন্তী ভয় পেয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে নিল । আর বললো, কি করছেন এসব?
রনি বলল, তুমি না বললে তুমি আমাকে ভালোবাসো?
অবন্তী বলল, হা । তবে ভালোবাসা মানে তো এই নয় যে আপনি আমার শরীর এ হাত দিবেন ।
রনি রেগে যাচ্ছে । রনি পকেট থেকে সিগারেট বের করে ধরালো । তারপর বলল, আমার কাছে ভালোবাসা মানে......(কথাটা শেষ না হতেই কে যেনো তাদের ওপর টর্চের আলো ফেলে রাগী ভাবে চেঁচিয়ে বলল , ওই এতো রাতে কে ওখানে ? )
কাহিনী এখন বর্তমানে......
পুলিশ( লম্বা শ্বাস নিয়ে): তারপর?
রনি: আরেকটা সিগারেট খাওয়ান । তারপর বাকি গল্প বলছি ।
পুলিশ: তুমি কি সত্যি ই খুন করেছো ? নাকি বানিয়ে বানিয়ে গল্প বলছো? আর খুনটা করলে কাকে? অবন্তী কে?
(এমন সময় একজন পুলিশ কনস্টেবল এসে বলল, স্যার। একটা মার্ডার হয়েছে । আপনাকে যেতে হবে)
রনি বলল, ওই মার্ডার টা আমি ই করেছি ।
পুলিশ : ও আই সি।
মার্ডার স্পট এ রনি আর সেই পুলিশ টা একসাথে দাড়িয়ে আছে । তারা দাড়িয়ে আছে পাট ক্ষেতের ওপর । তাদের সামনে একটি নগ্ন মেয়ের লাশ পড়ে আছে ।
রনি আকাশের দিকে তাকিয়ে সিগারেট এর ধোয়া ছাড়লো। পুলিশ তার দিকে বন্দুক তাক করে আছে। রনি হাসলো। তারপর বলল, ১টা ছেলে শুধু শুধু খারাপ হয় না। আপনি যদি ১টা খারাপ ছেলের গল্প শোনেন। তাহলে বুঝবেন যে, ১টা ছেলের খারাপ হওয়ার পেছনে ১টা মেয়ের হাত থাকে।
পুলিশ বলল, কেন খুন করলি অবন্তী কে?
রনি চুপ করে আছে। রনিকে আবার থানায় নিয়ে আসা হলো। তাকে জেলখানাতে ঢুকিয়ে দেওয়া হলো।
অবন্তীর পোস্ট-মর্টাম রিপোর্ট থেকে জানা গেল। প্রথমে রেপ। তারপর চাকু দিকে খুন করা হয়েছে তাকে। আর রনি যে চাকুটা নিয়ে থানায় প্রবেশ করেছিল। এটাই সেই চাকু।
রনিকে কোর্টে নেওয়া হলো। আর তাকে আদালত ফাসির রায় ঘোষণা দেওয়া হলো।
পরেরদিন যখন একজন পুলিশ রনিকে ঘুম থেকে তুলতে গেল। তখন হাজার ডাকার পর ও রনি ঘুম থেকে ওঠলো না। কারন সে চিরকালের জন্য ঘুমিয়ে গেছে।
অতীত: (খুনের কারন)
'আমরা মাটি খুড়ে অবন্তীর ঘরের ভেতর ঢুকবো । আর এই কাজটা করব। যখন বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে যাবে।'
কথাটা বলে বিজয়ির হাসি হাসলো রাহাত। যেন তারা এখনই অবন্তী কে উদ্ধার করে ফেলেছে। কিন্তু বাস্তবে আমরা যা ভাবি হয় তার ঠিক উল্টো।
রাহাত বাইক স্টাট দিলো। তার সাথে রনিও আছে। তাদের গন্তব্য এখন গ্রামের দিকে।
যখন তারা গ্রামে পৌছালো। তখন রাত ১০টা। গ্রামের মানুষ সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। রনি বলল, এতো রাতে কুড়াল পাবো কোথায়?
রাহাত বলল, অবন্তী দের বাসার থেকে নে।
রনি একটা সিগারেট ধরালো। তারপর অবন্তী দের পাকের ঘর থেকে কুড়াল নিল আর বাড়ির পেছনে গিয়ে যে ঘরটায় অবন্তি থাকে। সে ঘরটা খুড়তে লাগলো। মাটির ঘর হওয়ায় রনির খুড়তে তেমন অসুবিধা হলো না। প্রায় ৩০মিনিট পর। অনেক বড় একটা গর্ত হলো। যা দিয়ে ঘরের ভেতরের সব দেখা যায়। অবন্তির ঘরটা অন্ধকার। কিন্তু ডিমবাতি জালানোর কারনে সবকিছু ঝাপছা দেখা যাচ্ছে। রনি গর্ত দিয়ে ঘরের ভেতর ঢুকলো। তার জন্য রাহাত বাইরে অপেক্ষা করছে।
রনি ঘরে ঢুকে দেখলো শাড়ি পড়ে শুয়ে অবন্তি ইমোতে চ্যাটিং করছে। সে একটি ছেলেকে লিখছে, জান। এতো রাতে ঘুমাওনি? আমাকে একটা কিস দাও।
এসব দেখে রনি কোন রিয়েক্ট করে না।সরাসররি চলে আসে রাহাতের কাছে। তারপর রাহাতকে বলে, ১টা সিগারেট দে। রাহাত সিগারেট বের করে দেয়। সিগারেট ধরিয়ে আবার ভেতরে ঢুকে রনি। আর অবন্তির মুখ চেপে ধরে তাকে অজ্ঞান করে দেয়। তারপর কাধে তুলে নেয়। আর তাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে ঘর থেকে।
(সমাপ্ত)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন